Search

Tuesday, September 8, 2026

জেনা-বলাৎকার, পার্থক্য কি?

জেনা-বলাৎকারে পার্থক্য আছে—জেনার চেয়ে বলাৎকার শত হাজার গুণ ভয়াবহ! একটা শিশুর মনোজগৎ পুরোপুরি এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে—মৃত্যুর আগ-পর্যন্ত সে এই ট্রমা থেকে বের হতে পারবে না!

জেনার বিষয়ে সরব, বলাৎকারের বিষয়ে নীরব, কারণ কি হে মোল্লা? আমাদের দেশের মোল্লারা বলাৎকারের বিষয়ে বড় আলাভোলা [] অবস্থান নিয়েছেন। 

মাদ্রাসায়-মাদ্রাসায় যেন মহোৎসব চলছে বলাৎকারের। রোজার মাসে, ভিকটিমকে কোরানের দোহাই দিয়ে থেমে নেই বলাৎকার—বড় শিক্ষার্থী করছে ছোট শিক্ষার্থীকে, শিক্ষক করছে ছাত্রকে। 

আমার নিজস্ব মত হচ্ছে, মাদ্রাসা-বিদ্বেষে এ নিয়ে উল্লসিত হওয়ার পূর্বে বিভিন্ন আঙ্গিকে এই বিষয়ে কয়েকটা পিএইচডি করা প্রয়োজন। ধর্মের দোহাই দিয়ে কেমন করে এটা সম্ভব? এই ভয়ংকর অপরাধ নিয়ে কোরবানির  পশু জবাইয়ের মত উল্লাস করার কারণটা কী! এরা এটাকে সওয়াবের কাজ ভাবছে না তো আবার!

খুব অল্পই সংবাদমাধ্যমে আসছে তদুপরি খুব একটা বিকার নাই আমাদের! বিকার নেই আমাদের সুশীল সমাজেরও! কারণ মাদ্রাসার বাচ্চাগুলো গরীব ঘরের। আগা খান স্কুলের মাসে লাখ টাকা ফি-দেওয়া বাচ্চা না এরা!

কেবল একটা ঘটনা এর ভয়াবহতা বুঝতে খানিকটা সহজ হবে।

কী ভয়ংকর-কী ভয়াবহ!

আপনি কল্পনা করতে পারেন, যে ৬ জন সিনিয়র ছাত্র-শিক্ষক মিলে এই বাচ্চা ছেলেটাকে দিনের-পর-দিন চরম নির্যাতন করেছে।
৫ জনকে ধরা হয়েছে—এদের মধ্যে এরা ২জন!
আপনি জাস্ট চোখ বন্ধ করে একটু কল্পনা করুন এই দৃশ্যটা দেখে, এদেরকে দেখে! ছোট্ট একটা বাচ্চা, দিনের-পর-দিন, মাসের-পর-মাস! অন্য ভুবনের কষ্ট ভোগ করছে এদের দ্বারা!

একটা মাদ্রাসা খুলতে কোন অনুমোদন দূরের কথা কাউকে জিজ্ঞেস করা লাগে না, কোন জবাবদিহি করতে হয় না। মসজিদকে যেমন আল্লাহর ঘর বলা হয় তেমনি মাদ্রাসাকেও কাছাকাছি সম্মান দেওয়া হয়। মাদ্রাসার রমরমা ব্যবসার উত্থানের পেছনে আমাদের দেশের মোল্লাদের ওয়াজ অনেকখানি অবদান রাখে। ওয়াজের নামে গা দুলিয়ে-দুলিয়ে এরা বকে যান, বাচ্চাকে মাদ্রাসায় দেন কয়েক পুরুষ বেহেশতে চলে যান, ডাইরেক্ট! ইন্টারেস্টিং পার্ট হচ্ছে, ওয়াজের এই রমরমা ব্যবসা কেবল আমাদের দেশেই দেখবেন।

এদিকে আমাদের মোল্লা সাহেবরা আবার ওয়াজে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে কথা বলতে পারেন না! এই চিল্লানোর অভ্যাসটা এরা কোত্থেকে রপ্ত করেছেন কে জানে! কোন সুস্থ মানুষ এভাবে চিৎকার করে কথা বলতে পারে এদের না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন! আর কী বিচিত্রসব ওয়াজ []!

আহা, যায় যদি যাক গলা, থাকুক তবুও প্রাণ!

ওয়াজ নামের জিনিসটা কেবল আমাদের দেশেই সম্ভব অন্য-কোন দেশে এর নামগন্ধও নেই। মোল্লারা শিক্ষাকতা করে জীবনযাপন করতে পারেন—খেজুর বেচতে পারেন, মুড়ি বেচতে পারেন; কিন্তু না, টাকা ছাড়া ওয়াজের নামে মুখ দিয়ে একটা শব্দও বের হয় না। হেলিকপ্টার না-হলে যে এদের আবার চলেই না!

মাদ্রাসা উত্থানের পেছনে একটু শেকড়ে যেতে হবে। গ্রামের লোকজনকে বিভিন্ন কারণে শহরে নিয়ে এসেছেন। কৃষককে বানিয়েছেন সিএনজি চালক, গার্মেন্টস কর্মী! বাসা যখন ফাঁকা থাকে ইশকুলে এবং ইশকুল থেকে ফিরলে বাচ্চাটাকে পাহারা দেবে কে, সামলাবে কে, খোঁজ রাখবে কে? আবাসিক মাদ্রাসায় দিয়ে দিলে একেবারে নিশ্চিত। অন্তত শাসন-অনুশাসনের ভেতর থাকবে! 
আরেক দল আছে, নিজে গা ভাসিয়ে চলবে, বউ মার্কেটে-মার্কেটে দরদাম করে বেড়াবে আর শিশুটাকে মাদ্রাসায় দিয়ে দেবে আল্লাহর ওয়াস্তে...!

রাত ৩টায় মাসুম বাচ্চাগুলোকে উঠিয়ে দেবে:

মামুনুল হকের মত [] মোল্লা সাহেবরা শরিয়া আইন খুব করে চাচ্ছেন।
বেশ, তবে তাই হোক। 'রজম'! আগে বলাৎকারীদের দিয়ে শুরু হোক। পাথর ছুড়ে না, পাথরে এদের ছুড়ে শাস্তি কার্যকর করা হোক।

সূত্র:
২. বিচিত্রসব ওয়াজhttps://www.ali-mahmed.com/2019/04/blog-post.html?m=1




No comments:

WhatsApp