Search

Monday, September 25, 2017

বিপদ!



এই মানুষটাকে নিয়ে বড় বিপদে আছি। অতীতে এহেন সমস্যার সম্মুখিন যে হইনি এমন না কিন্তু এবারের বিষয়টা ভিন্ন!
আজ  ক-দিন ধরে একে দেখছি।এই মানুষটা কিছুই চেনে না। না খাবার, না পানি! এক জায়গায় একে আমি টানা সাত ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি। পা ফুলে ঢোল তাতেও এর কোনও বিকার নেই। 

অতীতে এমন বাহ্যজ্ঞানহীন মানুষকে নিয়ে কাজ করার সুবাদে এটা বিলক্ষণ জানি শুকনো খাবারই ভরসা। কিন্তু শুকনো খাবার তো আর দিনের-পর-দিন বাথরুম আটকে রাখতে পারে না। কোন এক ফাঁকে লাগোয়া স্কুলের রাস্তার সামনে বাথরুম সারার কারণে স্কুলের দপ্তরি একে বেধড়ক পিটিয়েছে।
ওই দপ্তরি মানুষটার শাস্তির ব্যবস্থা করা গেছে, সে ভিন্ন প্রসঙ্গ। আলোকিত প্রসঙ্গ হচ্ছে সেই দপ্তরি নামের মানুষটা তার ভুল বুঝতে পেরেছে। কেউ বলে দেয়নি কিন্তু এই মানুষটার কাছে নাকি ক্ষমা চেয়েছে। হায়, এই মানুষটা যে ক্ষমা করারও ঊর্ধ্বে! 

যাই হোক, এখানে প্রকট যে সমস্যাটা এই ক-দিনে এই মানুষটার মুখে একটা কথাও শুনিনি। একটা টুঁশব্দও না! অসহায় এই মানুষটার চেয়ে নিজেকে বড় অসহায় মনে হচ্ছে- মানুষটা স্বজনের কাছে ফেরত পাঠাবার কোনও উপায় নেই। কোথায় যাই কার কাছে যাই- এই মানুষটার একটা গতি হওয়া যে বড়ো প্রয়োজন। একটা মানুষ তার স্বজনের কাছ থেকে, তার শেকড়ের কাছ থেকে এমন করে হারিয়ে যাবে এটা কী করে হয়! 

টানেলের শেষ মাথায় কোথাও-না-কোথাও আলো থাকে, থাকতেই হয়। আমি আশাবাদী মানুষ- আমার এটা আশা করতে দোষ কি তার স্বজনের কেউ-না-কেউ তার ছবি দেখে জলভরা চোখে বুকে জাপটে ধরে তাকে তার শেকড়ের কাছে নিয়ে যাবে। এমন অসাধারণ একটা দৃশ্য কেবল কল্পনা করতেই অদেখা এক ভাললাগা পাক খেয়ে উঠে   

Wednesday, May 3, 2017

আপনার জন্য, কেবল আপনারই জন্য...।

আপনি আপনার ব্যক্তিগত কারণে স্কুলের জন্য আর টাকা পাঠাতে পারছেন না, এটার উত্তর লিখব-লিখব করে আর লেখা হয়ে উঠছে না- অমানুষ একটা, আমি, বুঝলেন!
ভাইরে, দেরিতে উত্তর লেখার জন্য সলাজে ক্ষমা চাচ্ছি্- হাঁটু ভেঙে। অন্তত দুঃখের একটা চিহ্ন :( লিখে দিয়েও দায় এড়াতে পারতাম- আসলে আপনাকে কেবল এক লাইনে লিখে দিলে বড়ো অন্যায় হয়।

যে মানুষটা বছরের-পর-বছর ধরে পরম মমতায় স্কুলের খরচ চালিয়ে গেছেন তাঁকে দু-চার লাইনে কেবল এটা লিখে দিলাম, ’ওকে বা না ভাই, কোনও সমস্যা নাই, আচ্ছা…’ বলে হাঁই তুললাম। এ হয় না। কিন্তু কী করব বলেন, এখন যে লিখতে বড়ো আলসেমী লাগে রে, ভাই।
আপনি হয়তো লক্ষ করেছেন কয়েক মাস ধরে কিছুই লেখা হয়ে উঠেনি! যে আমি এক রাতে ‘কনকপুরুষ’ নামে গোটা একটা উপন্যাস লিখে ফেলেছিলাম সেই আমার এক লাইনও লিখতে ইচ্ছা করে না, কী আজব যন্ত্রণা একটা! নষ্ট স্রোতের নষ্ট আঙ্গুল! আমার সম্ভবত আঙ্গুলে পচন ধরেছে। বলা হয়ে থাকে মানুষের পচন শুরু হয় মস্তিষ্ক থেকে আর লেখকের আঙ্গুল থেকে।

আচ্ছা থাকুক এইসব হাবিজাবি কথা…। এটা কিন্তু ঠিক আপনার সহৃদয়তা ব্যতীত সামনের দিনগুলোতে বিকট সমস্যা হবে কিন্তু আমি বিশ্বাস করি টানেলের কোথাও-না-কোথাও আলো থাকে, থাকতেই হয়; এর বিকল্প নেই। এই সংকটেরও একটা সমাধান হবে। নইলে এই ‘হতভাগা’ (!) বাচ্চাগুলোর গতি কী!
আচ্ছা বলেন তো এই দীর্ঘ সময় আপনার মমতার কথা কেমন করে বিস্মৃত হই! স্কুলের নাম করে আপনি যে টাকা পাঠাতেন কেবল কী স্কুলের খরচেরই যোগান হতো? ওখান থেকেই খানিকটা এদিক-ওদিক করে কত কিছুই না করা হতো। আপনি কখনও নাম প্রকাশ করার অনুমতি দেননি আজও আমি সেপথ মাড়ালাম না। কিন্তু আজ এই সব আপনার খানিকটা জানা প্রয়োজন।
ছোট্ট একটা উদাহরণ দেই। এই ছেলেটার নাম আকাশ। বাহ, কী চমৎকার নাম, না? 
এক হাত এক পা নাই এই ছেলেটাকে যখন আমি স্টেশনে পাই তখন এ ভাত খাচ্ছিল।
নিরাপদ দুরত্বে থেকে এর খাওয়া দেখি। কিন্তু খাওয়া শেষ করে এই ছেলেটি যখন প্রায় হামাগুড়ি দিয়ে যাচ্ছিল তখন আমি কাতর হয়ে এর কাছে জানতে চাই, ‘তুমি ক্রাচ দিয়ে হাঁটতে পারো না’? ছেলেটি উদাস হয়ে বলে, ‘ক্রাচ পামু কই’?

আপনার পাঠানো স্কুলের টাকা থেকে কষ্টেসৃষ্টে বাঁচিয়ে কিছু ক্রাচ আমার কাছে সবসময়ই মজুত থাকে। তাই আমি অনায়াসেই তাকে বলি, ‘আচ্ছা, আমি তোমাকে ক্রাচ যোগাড় করে দেব’।
আপনি জেনে অবাক হবেন আকাশ নামের এই ছেলেটার কিন্তু এক জোড়া না কেবল একটাই ক্রাচেরই প্রয়োজন, যার দাম মাত্র দুশো টাকা! একজোড়া ক্রাচের দাম ৪০০ হলে একটার দাম তাই হয়। কিন্তু এখানেও খানিকটা গল্প আছে। আজ গল্পের ঝাঁপিটা খানিকটা উপুড় করে দেই। ঢাকা ব্যতীত ক্রাচ নামের এই জিনিসটা পাওয়া যায় না, ঢাকার আবার সব জায়গায় না। নির্দিষ্ট জায়গা থেকে কিনতে হয়। অথচ আমার তেমন-একটা ঢাকা যাওয়া পড়ে না- শেষ আমি ঢাকা গেছি বছর দুয়েক পূর্বে! তাহলে? উপায়!

আসলে এটা একটা টিম-ওয়র্ক, আমার ভূমিকা এখানে একেবারেই গৌণ। এখানে আমি কেউ না, কিছু না- মিছরির পুতুল। সব তো আপনারাই করে ফেলেন! যেমন একজন অ্যাম্বুলেন্সচালক আছেন। কালো-কালো মায়াভরা দুবলাপাতলা এই মানুষটাকে বলে দিলেই তিনি ঢাকা থেকে ক্রাচ নিয়ে আসেন। অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে যাওয়ার সময় যন্ত্রণাকাতর রোগী নিয়ে যান শুইয়ে আর আসার সময় শুয়ে থাকে ক্রাচ, চুপচাপ, পাশাপাশি। এখানে চারশো টাকায়ই হয়ে যায় বাড়তি কোনো টাকার প্রয়োজনই হয় না!

যাই হোক, টাকা না-পাঠাবার কারণে আপনি মনোকষ্টে ভুগবেন না অস্থির হবেন না, প্লিজ। আমি ঠিক-ঠিক কোনও-না-কোনও একটা উপায় বের করব। এবং এটাও আমার প্রবল বিশ্বাস, আমার মৃত্যুর পূর্বে একটা ‘হোম’ করে যাব, যাবই। স্কুল চালু করার পূর্বে এটাই আমার স্বপ্ন ছিল; আমি সেই স্বপ্নটা লালন করি, আজও, এখনও।
আফসোস, ছোট্ট করে হলেও একটা হোম চালু করার জন্য নামকরা কত মানুষের হাতেপায়ে ধরেছি কিন্তু ফল 'আ বিগ জিরো'। এখন ঠিক করেছি এই বিষয়ে কক্ষণও কারও কাছে আর কোনও সহায়তা চাইব না। শোনেন, কেবল আপনাকে চুপিচুপি বলি একতাল মাটি বেচে দেওয়ার তালে আছি চালবাজ লোকজনেরা যার নাম দিয়েছে সম্পত্তি! কাজটা হয়ে গেলে ইয়ালি বলে লাফিয়ে পড়ব।
কেবল মনে হয় এটা এই স্কুলে যে বাচ্চারা পড়ে এদের দু-পাতা পড়িয়ে কী লাভ? যখন এই স্কুলেই পড়ে এমন একটা উঠতি বয়সের মেয়েকে স্টেশনে ঘুমাতে হয়, অরক্ষিত। বা যখন এই ‘রাজিব’ নামের ছেলেটি অবলীলায় বলে, ’মা একদিকে বাইর হয়া গেল আর আমি একদিকে...,’ তখন এই 'দু-পাতা পড়া' এদের কী কাজে লাগবে?
এদের জন্য একটা হোম নামের আশ্রয়স্থল না-করে আমার কোনও উপায় নেই, বাহে।

এই গ্রহের যেখানেই থাকুন না কেন এই শিশুগুলোর ব্লেসিংস আপনাকে তাড়া করবে...। ভাল থাকুন, অনেক।

Sunday, December 4, 2016

শান্তিদেবী কহিলেন, অবশেষে!

১৪ লাখ ২৪ হাজার রোহিঙ্গার মধ্যে মায়ানমারের আরাকান রাজ্যে (রাখাইন) আনুমানিক ৮ লাখ রোহিঙ্গার বাস। এরমধ্যে বাংলাদেশেই রোহিঙ্গাদের বসবাস ৩ লাখের উপর!

জাতিসংঘের সাফ কথা, রোহিঙ্গারা হচ্ছে এই গ্রহের সবচেয়ে নির্যাতিত জনগোষ্ঠি। ভূতপূর্ব রোসাং হালের মায়ানমার, যে জমিনে এদের হাজার বছরের বাস সেই জমিনের সরকার এদেরকে স্বীকার পর্যন্ত করে না। এর শুরুটা বৃটিশদের হাত ধরে। তৎকালীন শাসক বৃটিশরা মায়ানমারের ১৩৯টি জাতিগোষ্ঠির তালিকায় রোহিঙ্গা শব্দটি বাদ দিয়েছিল।
রাজায় কইছে চু...ভাই আনন্দের আর সীম নাই- ব্যস, রাজায় কয়া গেছে আর ছাড়াছাড়ি নাই।

১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইনের ফলে রোহিঙ্গারা ওই দেশের নাগরিক না। এমনকি তাঁরা ওই দেশের জমির মালিকও নন। সরকারের অনুমতি ব্যতীত তাঁদের বিদেশ ভ্রমণ করারও উপায় নেই। কেবল তাই না দুইটির বেশি সন্তান না-নেওয়ার অঙ্গিকারনামায়ও রোহিঙ্গাদেরকে সই করতে হয়। একটা সভ্য দেশে এমনটা সম্ভব এটা অকল্পনীয়!

অং সান সু চি প্রায় দুই দশক ধরে গৃহবন্দী ও কারাগারে ছিলেন। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের জন্য তিনি ১৯৯১ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান। শান্তিতে পুরস্কার- সামরিকজান্তার বিরুদ্ধে অহিংস আন্দোলন করেছিলেন নাকি!
এমনিতে শান্তিদেব বারাক ওবামা [১] এবং আরেক শান্তিদেব প্রফেসর ইউনূস সাহেবও [২, ৩] শান্তিতে নোবেল পেয়েছিলেন। হুদাহুদি!
ছবি ঋণ: প্রথম আলো ২৭ নভেম্বর ২০১৬
(ছবির রোহিঙ্গা নামের সাবজেক্টের নাম নুর বেগম। তাঁর স্বামী-সন্তান মারা গেছে। সন্তানের লাশ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে দাফনের জন্য...)

যাই হোক, ওই দেশের সেনাবাহিনী যখন রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের উপর এহেন কোনও অন্যায় নেই যেটা করছে না। বেসামরিক লোকজনের ওপর হত্যা, গণধর্ষণ এবং বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে এদের বিরুদ্ধে অথচ সেই দেশের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টাপ্রধান সু চি মুখ সেলাই করে ফেললেন। আফসোস, খাওয়া ব্যতীত মুখই খোলেন না! অবশেষে শান্তিদেবী সু চি মুখ খুললেন। সিঙ্গাপুরে চ্যানেল নিউজএশিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বলেন, ”…আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছি।…আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি সারাক্ষণ নেতিবাচক কথা না বলে…”। ব্লা, ব্লা, ব্লা।

তবে জর্জ বুশ শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার পেলে আমি অন্তত অবাক হতাম না। বেচারা লোকটা নাকি রোগী মানুষ! রোগটার নামও লম্বা, 'অ্যাটেনশন ডেফেশিট হাইপার অ্যাকটিভিটি ডিজঅর্ডার'। বুশকে যদি বলা হয় সারফেস উঁচু করার জন্য এ সমস্ত লোকজনকে মেরে কবর বানিয়ে সারফেস উঁচু করে ফেলবে।
আমাদের শান্তিদেবী অং সান সু চি-ও সম্ভবত সেই পথই ধরেছেন রোহিঙ্গাদের মেরে সাফ করে ফেললেই তো ল্যাঠা চুকে যায়। ‘না রাহেঙ্গা বাস না রাহেঙ্গা রোহিঙ্গা…’। 

সহায়কসূত্র:
১. সাদা বাড়িতে...: http://www.ali-mahmed.com/2008/11/blog-post_06.html
১. লাইফ, এচিভমেন্ট, সেক্রিফাইস: http://www.ali-mahmed.com/2008/07/blog-post_3333.html
২. প্রফেসর ইউনূস, আপনার জন্য...: http://www.ali-mahmed.com/2011/03/blog-post_03.html 

Thursday, November 24, 2016

পাপ!

ছবি ঋণ: প্রথম আলো
রাষ্ট্রের কিছু পাপ থাকে । যেমন লিমন। লিমনকে অপরাধী প্রমাণ করতে গিয়ে রাষ্ট্র তার অধিকাংশ শক্তি প্রয়োগ করেছিল। আবার দলেরও কিছু পাপ থাকে, বিশেষ করে ক্ষমতাশীন দলের। প্রত্যক্ষ না-হলেও পরোক্ষ এই দায় এড়াবার উপায় নেই। কারণ আমাদের মাঝে প্রবল আকারে এই বিশ্বাসটা জন্মায় যে দল করলে সাত খুন মাফ। ফাঁসির আসামীও রাষ্ট্রপতির ক্ষমা পেয়ে যায়।

যেমন, সম্প্রতি যে নৃশংস ঘটনাটা ঘটে গেল ঝিনাইদহে। শাহানুর বিশ্বাসের মেয়েকে উত্যক্ত করা হচ্ছিল। তিনি এর প্রতিবাদ করায় তাকে এমন নৃশংস ভঙ্গিতে নির্যাতন করা হয়েছে যে তাঁর হাঁটুর উপর থেকে দুই পা কেটে ফেলতে হয়েছে। যথারীতি পুলিশ মামলা নিতে চায়নি। অনেক ঝামেলা করে শাহানুর মামলা করতে পেরেছেন বটে কিন্তু এক নাম্বার আসামীসহ অধিকাংশ আসামীকেই পুলিশ ধরতে পারেনি। কেন? কেন আবার! আহা, এক নাম্বার আসামী মো.কামাল হোসেন যে ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক গো। আজব একটা দেশ এটা এই দেশে পুলিশ-ডাক্তার-শিক্ষক সবারই দল আছে। লাল দল-নীল দল! [১]ফরেন অ্যাকসেন্ট সিনড্রোম’ নামের একটা রোগ আছে ওই রোগে লোকজনেরা বিচিত্র কারণে বিজাতীয় ভাষায় কথা বলে যেমনটা আমাদের দেশের প্রতিভাবান মানুষরাও নিজ-নিজ দলের পক্ষে বিচিত্র ভাষায় কথা বলে!

তো, ওখানকার ওসি মহোদয় মিডিয়ার কাছে বলেছেন, “…শাহানূর, কামাল দুজনের বিরুদ্ধেই অনেকগুলো মামলা আছে”। 
ব্যস, আর কী! শাহানূরের বিরুদ্ধে অনেকগুলো মামলা আছে এটা জানিয়ে প্রকারান্তরে তিনি বুঝিয়ে দিলেন ‘এই লুক অতিশয় খ্রাপ’ তাই এর দু-চারটা ঠ্যাং কেটে ফেললে কিচ্ছু যায় আসে না।
আচ্ছা, এই ওসিদের সমস্যা কী! এরা ‘বাইট্টারা’ টাইপের কথা কেন বলে? যেমন এক প্রসঙ্গে দাউদকান্দি থানার ওসি বলেন,বিষয়টি পুলিশের জানা ছিল না। কেউ অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে’। [২]

অন্য আরেক প্রসঙ্গে ওসি মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, বাদী মামলা করতে দেরী করায় আসামীরা গা ঢাকা দিয়েছে”[৩]

আবার হালের যে ঘটনাটা সাঁওতালদের সেখানকার ওসি সুব্রত সরকারও বলেন, ঘরে আগুন লুটপাটের ঘটনায় সাঁওতালদের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। কারা আগুন দিয়েছে আমরা জানি না”। [৪] 

বেশ-বেশ, নদীতীরে বসে কবিতা লেখার কারণে পুলিশের চারপাশের সবই অজানা থেকে যায় এবং কেউ অভিযোগ না-করলে পুলিশের পক্ষ থেকে ‘লেগস আপ’ দূরের কথা ‘হ্যান্ডস আপ’ বলারও সুযোগ থাকে না। আচ্ছা, ধরুন আমি কোনো এতিমের কল্লা উড়িয়ে দিলাম। অবাক হবেন না এই খুনের জন্য পুলিশ আমাকে ধরবে না কারণ অভিযোগ করার জন্য কেউ তো আর বেঁচে নাই। কেবল জবাবদিহিতা করতে হবে নাপিতের কাছে কারণ কল্লার সঙ্গে এতিমের চুলও উড়ে গেছে বলে, বেচারা একটা খদ্দের হারালো কেবল এই কারণে।
আমি নিশ্চিত কামাল গংদের টিকির খোঁজও পুলিশ করত না যদি-না হাইকোর্ট ৭২ ঘন্টার মধ্যে এদেরকে আটক করার নির্দেশ দিতেন। কী আশ্চর্য, তাও পুলিশ আটক করতে পারেনি। কামাল হোসেন গংদের দয়ার শরীর, এরা মোট ১৩জন নিজেরাই আত্মসমর্পণ করেছে।

আফসোস, একটা রাষ্ট্রের স্তম্ভ কতটা নড়বড়ে হলে, কী পরিমাণ ফরমালিনে চুবানো থাকলে ক্ষণে ক্ষণে হাইকোর্টকে রুল জারি করতে হয়!

*এখানে এটাও উল্লেখ করা প্রয়োজন মনে করছি বাল্যবিবাহ নিয়ে আমাদের অর্থমন্ত্রীর মহোদয়ের চুল যায়-যায় অবস্থা। জাতীয় দৈনিকের ফলাও করে একটা লেখা লিখেছেন যার শিরোনাম, "বাল্যবিবাহ নিয়ে খুবই চিন্তিত"।
অথচ আমরা শাহানূরের মেয়েদের কাতরতা জানছি যে এরা স্কুলে যেতে পারছে না। এমন পরিবারগুলোর সিদ্ধান্তের শেষ পরিণাম যে 'অকাল বিবাহ' এটা জানার জন্য মাথার চুল 'বিকল' করার আদৌ কোনো প্রয়োজন আছে বলে তো আমার মনে হয় না। 

সহায়ক সূত্র: 
১. হরেক রকম জামা: http://www.ali-mahmed.com/2010/07/blog-post_09.html
২. তালেবানদের কী দোষ: http://www.ali-mahmed.com/2009/05/blog-post_24.html
৩. বেচারা এতিমদের উপায় কি: http://www.ali-mahmed.com/2010/10/blog-post_11.html

৪. বেচারা বোংগা: http://www.ali-mahmed.com/2016/11/blog-post.html 

Saturday, November 19, 2016

বেচারা 'বোংগা'!

সাঁওতালরা তাদের ভাষায় দেবতাকে বলে 'বোংগা'। বেচারা বোংগা, এঁরা এদেরকে কেবল তির চালাবার বর-ই দিয়েছেন আমাদের মত আধুনিক মারণাস্ত্র চালাতে, কারও বসতভিটায় আগুন লাগাতে শেখাননি।
দেখো দিকি কান্ড, সাঁওতালরা আবার নিজেদেরকে একলব্যের বংশধর বলে দাবী করে থাকেন। একলব্যকে তাদের আদিপুরুষ, এই বিশ্বাসে (একলব্য গুরুদক্ষিণায় নিজের বৃদ্ধাঙ্গুলি দান করেছিলেন বিধায়) সাঁওতালরা বৃদ্ধাঙ্গুলির ব্যবহার করেন না।
এমনিতে সাধু কানু, কানু মাঝি, মাতলা সাওতাল এঁদের নিয়ে গল্প করতে আমরা খুব পছন্দ করি কিন্তু তাঁদের সন্তানদেরকে একবিন্দু ছাড় দিতে আগ্রহ বোধ করি না।
ছবি ঋণ: বিবিসি, বাংলা
একটা সভ্য দেশে এভাবে শত-শত লোকজনকে উচ্ছেদ করা যায় আগুন লাগিয়ে দেয়া যায় এ কেবল অকল্পনীয়ই না, অভাবনীয়!
ওরে, কেউ দেখি কিসসু জানে না! ভাগ্যিস, দেশে সম্ভবত তখন শাহরিয়ার কবির ছিলেন না নইলে তিনি ঠিকই বের করে ফেলতেন যে এটায় একাত্তরের মৌলবাদী গোষ্ঠীর হাত আছে। সম্প্রতী নাসিরনগরের ঘটনায় তিনি এটা আবিষ্কার করেছেন যদিও মিডিয়া বলছিল এটা পরিষ্কার দৃশ্যমান যে এখানে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণেই এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটা ঘটেছে। তখন তিনি পাঞ্জাবীর পকেট থেকে কামানের গোলাটা ছুড়ে দেন এই বলে, "আওয়ামী লীগে ঢুকে (জামায়াত) নিজেদের অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে"।

যাই হোক, আমাদের মত সাঁওতালদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ লোকজন কোথায়? যেমন শিল্পসচিব মো. মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, “৬ নভেম্বর চিনিকলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গিয়েছিলেন পাশের একখন্ড জমিতে আখের বীজ কাটতে, উচ্ছেদ অভিযানে নয়। কিন্তু অবৈধ দখলদারেরা তাতে বাধা দেন। তির-ধনুক নিয়ে তারা আক্রমণ করেন”।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি সুব্রত সরকার বলেন, ”ঘরে আগুন লুটপাটের ঘটনায় সাঁওতালদের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। কারা আগুন দিয়েছে আমরা জানি না”।
এই হচ্ছে আমাদের বেতনভুক্ত কর্মচারীদের কথার নমুনা। নমুনা এমনটা হবেই-বা না কেন কারণ এদের কখনই বেতন বন্ধ হবে না প্রকারান্তরে চাকরি যাবে না! এই দেশে এর তেমন চল নাই।

যে জমি নিয়ে এই হুজ্জত সেই জমি প্রসঙ্গে জমি উদ্ধার সংহতি কমিটির সহসভাপতি ফিলিমন বাস্কে বলেন, ”১৯৪৮ সালের অধিগ্রহণ আইন অনুসারে যে চুক্তি হয় তাতে বলা হয়েছে, জমিতে আখ ছাড়া অন্য ফসলের চাষ হলে প্রকৃত মালিকদের জমি ফেরত দিতে হবে”।
এমনিতে অধ্যাপক বারাকাতের সংশয় যথার্থ বলে আমি মনে করি। অধিগ্রহনের সময় তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছিল এমন তথ্য তিনি এখনো কোনো কাগজে পাননি। আমার ধারণা ভুল হতে পারে কিন্তু পূর্বে এঁদের ক্ষতিপূরণ না-পাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
সে প্রসঙ্গ থাকুক। এর সঙ্গে খানিকটা তথ্য যোগ করি। সর্বশেষ যে আইনটি অধিগ্রহণের, এখানেও ব্যত্যয় হয়েছে। স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল অধ্যাদেশ, ১৯৮২ (১৯৮২ সালের ২নং অধ্যাদেশ)তাতে বলা হয়েছে, ধারা ১৭ (অধিগ্রহণকৃত সম্পত্তির ব্যবহার):
১. এ অধ্যায়ের অধীন অধিগ্রহণকৃত কোনো সম্পত্তি, যে উদ্দেশ্যে অধিগ্রহণ করা হয়েছে, তা ভিন্ন অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সরকারের পূর্বানুমোদন ব্যতীত ব্যবহার করা যাবে না। 
২. যদি কোনো প্রত্যাশী সংস্থা (যাদের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়েছে) অধিগ্রহণকৃত সম্পত্তি উপধারা (১) এর বিধান উপেক্ষা করে ব্যবহার করেন অথবা যে উদ্দেশ্যে অধিগ্রহণ করা হয়েছে সে উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করেন তাহলে তিনি জেলা প্রশাসকের নিকট তার নির্দেশে উক্ত সম্পত্তি সমর্পণ করতে দায়ী থাকবেন। 

আমি পূর্বের কোনো-এক লেখায় লিখেছিলাম দেশ হচ্ছে মা, রাষ্ট্র পিতা। একজন পিতা তার সব সন্তানের বেলায়ই সমান মমতা বোধ করবেন, এটা না-হওয়াটাই অসমীচীন, অন্যায়। পাশের রাষ্ট্র ভারত নিয়ে আমরা বিস্তর রসিকতা করি। এদের এতো শতাংশ লোকজনের টাট্টিখানা নেই এতো শতাংশ লোকজন খোলা আকাশের নীচে হাগে ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্ত এঁদের রাষ্ট্র নামের পিতা তাঁর সন্তানদের বেলায় কোনো প্রকারের ছাড় দেয় না। উদাহরণ দেই?
আগরতলা-আখাউড়া ১৫ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণকাজ শুরু হচ্ছে। বাংলাদেশের মধ্যে ১০ কিলোমিটারের জন্য বাংলাদেশ নষ্ট করছে তার সন্তানদের বসতভিটা, ফসলি জমি, পানির আধার, পূর্বপুরুষের পুরনো হাড়! অন্যদিকে ভারত তার অংশের ৫ কিলোমিটারের মধ্যে ৪ কিলোমিটারই করছে আকাশে- উড়ালরেল!

আপডেট:
* আজ মিডিয়ায় এটা পড়ছি, "ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পংকজ ভট্টাচার্য বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন, 'আমি সাঁওতালদের উচ্ছেদ চাই'। তাঁর কন্ঠে আইযুব খানের কন্ঠস্বর শুনছি। এটা সাম্প্রদায়িক দম্ভোক্তি।" (প্রথম আলো ২০ নভেম্বর ২০১৬, পৃষ্ঠা: ২)

Saturday, September 24, 2016

নেমন্তন্ন!

এখানকার থানাভবন উদ্বোধন হবে, পুলিশ সুপার মহোদয় এই কাজটা করলে সমস্যা ছিল না কিন্তু স্বয়ং আইজিপি মহোদয় তকলীফ করে চলে এসেছেন। উদ্বোধন বড়ো কঠিন জিনিস এই এলাকাতেই একবার ফায়ার ফাইটিং স্টেশন উদ্বোধন করার জন্য  নাসিম সাহেব হেলিকপ্টারে করে উড়ে চলে এসেছিলেন- তিনি তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

যাই হোক, তিন টাকা দামের কলমবাজ আমি 'দাওয়াতিয়া' টাইপের মানুষ না যে ঘটা করে দাওয়াত দেওয়া হবে আর জেনে বসে থাকব। কিন্তু না-জেনে উপায় কী! জেলা শহর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গেছি জরুরি একটা কাজে। আমার নিজস্ব কোনও গাড়ি নাই পা-ই লোটাকম্বল, এই-ই সম্বল। যেখানে পা চলে না সেখানে ত্রিচক্রযানই ভরসা যার চালু নাম সিএনজি। ওয়াল্লা, আজ কোনও সিএনজি আখাউড়া পর্যন্ত যাচ্ছে না। কেন রে বাপু? তখন গিয়ে জানলুম ঘটনা! একজনকে ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, বাপ, বিষয় কী? সে আবার পুলিশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানাল, হাইওয়েতে সিএনজি ওরফে স্কুটার চলাচল নিষেধ। বেশ-বেশ, জেনে ভাল লাগল কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞাটা কেবল আজই জানা গেল, পালন করা হলো! তা ভালই, রাস্তা ফাঁকা!

আমার দাওয়াত না-পেয়ে মন খারাপ করার সুযোগ নেই কারণ স্কুলের ছেলেমেয়েরা তো নিমন্ত্রণ পেয়েছে। আজ স্কুল অলিখিত ছুটি- আনন্দই আনন্দ। আনন্দ ঝরনা!

আপডেট:
দু-দিন পরে ডা. সাইফুল ইসলাম আমাকে জানিয়েছিলেন এখানে উপস্থিত একজন ছাত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার কারণে। 

Tuesday, August 30, 2016

ঠান্ডা মাথার খুনি!

স্কুলছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিসাকে মেরে ফেলা হয়েছে। ওবায়দুল নামের এক দরজি ব্যাটার ছুরিকাঘাতে রিসার মৃত্যু হয়। ঘটনাটা সবার জানা। দরজি ব্যাটা রিসার ফোন নাম্বার পাওয়ার পর রিসাকে উত্ত্যক্ত করত। এই করে-করে রিসাকে এক সময় ছুরিই মেরে বসে।
এই খুনের জন্য আইনে তার যে শাস্তি পাওনা তা নিয়ে কোনও প্রকার দ্বিমত নাই। রাষ্ট্রকে কখনও কখনও নিষ্ঠুর হতে হয়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কাউকে-কাউকে মেরে ফেলা ব্যতীত উপায় থাকে না।
এই দরজি ব্যাটার লেখাপড়ার দৌড় খুব একটা নাই এমনটাই প্রতীয়মান হয়। সিনেমায় যখন শিক্ষিত নায়িকাকে অশিক্ষিত নায়ক বা নায়িকাকে নায়ক উত্ত্যক্ত করে গায়ের জোরে উঠিয়ে নিয়ে আসে তখন আমরা যে বেদম হাততালি দিতে গিয়ে এমনই মশগুল থাকি যে পেছনে দাঁড়ানো ওবায়দুলকে লক্ষ করি না! বা ‘টিনের চালে ঢিল মারবেন কেন মিসকল দিন', বলে ফোন কোম্পানিগুলো ঘটা করে বিজ্ঞাপন দেয় তখন আমরা পরিবারের সবাইকে নিয়ে বিমল আনন্দে আনন্দিত হই। ভ্যালুজের তো আর এখন কোনও বালাই-ই নেই…।

এমনিতে যখন কেউ এখানে-সেখানে রাস্তায় কোনও মেয়েকে উত্ত্যক্ত করে তখন আমরা না-দেখার ভান করে সরে পড়ি। বাই এনি চান্স,কেউ অভিযোগ করলেও আইনের লোকজনেরা খুব সূক্ষ ভাবে খেয়াল রাখেন সেই বীরপুঙ্গব ক্ষমতাশীন দলের পোলাপানরা কি না? ফল যা হওয়ার তাই হয় যে-কোনও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা রাজপথ বেছে নেই। রাজপথে না-গিয়ে আমরা খুব একটা আরাম পাই না। সেটা খুনের বিচার হউক বা হলের দাবী অথবা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন খুনের বিচার!

চিকিৎসাবিজ্ঞানের সঙ্গে জড়িত লোকজনেরা জানেন রক্তক্ষরণে সময় কতটা মূল্যবান। সেখানে রিসার বেলায় আমি কেবল চোখ বন্ধ করে ভাবছি এখানে কত,কতটা অমূল্য সময়েরই না-অপচয় হয়েছে! বাংলা ট্রিবিউন নামের নিউজ পোর্টাল জানাচ্ছে:
…সেখানে উপস্থিত ছিলেন রিশার বাবা মো. রমজান হোসেন, মা তানিয়া হোসেনসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা। রিশার অভিভাবকরা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রিশা ছুরিকাহত হয় স্কুলের সামনের ফুটওভার ব্রিজে। সেখান থেকে সে রক্তাক্ত অবস্থায় এসে দাঁড়ায় স্কুলের ভেতরে, তখন তার পেটের বাম দিক থেকে রক্ত পড়ছিল। কিন্তু তখন স্কুলের গাড়িটা পাশেই ছিল, কর্তৃপক্ষ তাকে গাড়িটা দেয়নি। কোনও শিক্ষক এগিয়ে আসেননি।
…স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল বলেছেন, মামলা হবে, ধরা যাবে না।’ রিশার মা বিলাপ করে বলেন, ‘আমার বাচ্চার রক্ত পড়তেছিল, কিন্তু ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপালসহ কেউ এগিয়ে আসেননি। শিক্ষার্থীরা কোলে করে হাসপাতালে নিয়ে গেছে, পেটের ভেতর থেকে নাড়ি বের হয়ে গিয়েছিল।’ এ সময় তিনি স্কুল কম্পাউন্ডে থাকা গাড়ি দেখিয়ে বলেন, ‘ওই যে কতগুলো গাড়ি, কিন্তু আমার বাচ্চাকে কেউ একটা গাড়ি দেননি। দিলে আমার বাচ্চা বাঁচতো, ওরে তাড়াতাড়ি নেওয়া যেত হাসপাতালে।’…” (সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন: http://tinyurl.com/z9p3bfq)

বাবারা যখন মাঠে-ঘাটে-আপিসে থাকেন তখন তার সন্তান থাকে স্কুল নামের এমন-এক প্রতিষ্ঠানে যেখানে শিক্ষক নামের অন্য এক পিতা। যিনি হাত ধরে-ধরে শেখান…। নামকরা স্কুল যেহেতু তাই অনুমান করছি আমাদের এই ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল মহোদয়ের অফিসরুম ঠান্ডা-ঠান্ডা কুল-কুল। যথারীতি তার মাথাও ঠান্ডা থাকার কথা ওবায়দুলের মত গরম হওয়ার কথা না। রিসার পরিবারের অভিযোগ যদি সত্য হয়ে থাকে তিনি যে কাজটা করলেন এটাকে কেন ঠান্ডা মাথার খুন বলা হবে না?

Tuesday, August 9, 2016

তথ্যসেবা!

গুলশান হামলায় হাসনাত রেজা করিম এবং তাহমিদ হাসিব খান জড়িত থাকলে তাদের অপরাধ অনুযায়ী শাস্তি হউক এতে কোনও দ্বিমত নাই। তবে হাসনাত অপরাধী চিহ্নিত হলে আমার চেয়ে হতবাক আর কেউ হবে না কারণ অতি নিকৃষ্ট কোনও অপরাধীও এমন নির্বোধ, কল্পনাতীত আচরণ করবে না।
আমার মত বোকাসোকা মানুষের মাথায় এটা আসে না যে এমন একটা দক্ষযজ্ঞে, এমন একটা ভয়ংকর কর্মকান্ডে হাসনাতের সশরীরে উপস্থিত থাকার আদৌ প্রয়োজন কী! তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম তার উপস্থিতি ব্যতীত উপায় ছিল না। বেশ, কিন্তু এমন একটা স্থান, যেখানে পুলিশ-আর্মি-জঙ্গির ফসকে যাওয়া গুলিতে যে-কারও মারা যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল সেখানে প্রিয়মানুষকে, স্ত্রী-সন্তানকে রাখতে হবে কেন? এটা তো রগরগে কোনও থ্রিলারকেও হার মানায়। এই সব গুছিয়ে যদি হাসনাত এই প্ল্যানটা করে থাকে তাহলে বলতে হবে হাসনাতের মত মানুষ কেবল এই দেশেই না এই গ্রহেও বিরল! এমন একটা মানুষের পদোদক, পা চুবনেো পানি না-খেয়ে সকালে ব্রেকফাস্ট করাটা সমীচীন হবে না।

এমন একটা দেশে বসবাস করি যেখানে নিজের উপরই আস্থা হারিয়ে ফেলি সেখানে কার কথায় বিশ্বাস করব সেটাই তো বুঝে উঠতে পারি না! কী বিচিত্র এই দেশ! ৩২ দিন পর হাসনাত রেজা করিম এবং তাহমিদ হাসিব খানের খোঁজ পাওয়া গেল! কী খোঁজ, কেমনতরো খোঁজ? ৩২ দিন পর ফৌজদারি ৫৪ ধারায় পুলিশ তাদেরকে আটক করেছে। ৫৪ ধারা নামের কালো আইন নিয়ে এখানে আলোচনা করি না। তা এই ৩২ দিন ধরে এই দু-জন মানুষ কোথায় ছিলেন? এই নিয়ে ইঁদুর-বেড়াল টাইপের একটা খেলা চলছিল। পুলিশ বলে আসছিল গুলশান হামলার পর এদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের পর-পরই ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল কিন্তু এদের পরিবারের লোকজন ক্রমাগত বলে আসছিলেন যে এরা তাদের কাছে নাই।
প্রকারান্তরে বলা এরা পুলিশের কাছে বা সরকারের হেফাজতে আছেন। আমার মত কমবুদ্ধির লোকজনরা পড়লাম গিয়ে বিপদে- সোজা গাড্ডায়। কার কথা বিশ্বাস করব? আর সরকার তো এর দায় এড়াতে পারে না। এদের কার কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল? কোনও আইনজীবী, খুব কাছের কোনও স্বজনের কাছে তাহলে তো আর তাদের পরিবারের এই নিয়ে উচ্চবাচ্য করার সুযোগ থাকত না আমরাও দু-কথা শুনিয়ে দিতে পারতাম না।

তা ৩২ দিন ধরে এই মানুষগুলো ছিলেন কোথায়? পালিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন? না আকাশ পাড়ি দিয়েছিলেন নাকি পাতালে সেঁধিয়ে গিয়েছিলেন? সরকার ব্যতীত এই সমস্ত তথ্যসেবা পাওয়ার তো কোনও যো নাই। আহা, সরকার বেচারা কী করবে, কত করবে- আমাদের স্বল্প করের টাকায় কত আর তথ্যসেবা দেবে? এই তো সেদিন আমাদের অর্থমন্ত্রী মহোদয় বেসরকারি খাত প্রসঙ্গে বলছিলেন, “সরকারের সহায়তা পাওয়ার জন্য বেসরকারি খাতকে আরও রাজস্বের যোগান দিতে হবে, বর্তমান রাজস্ব দিয়ে হবে না।
এ-ই এলো বলে, সরকারের তথ্যসেবা পাওয়ার জন্য সাধারণ জনগণকে আরও করের টাকার যোগান দিতে হবে, বর্তমান করের টাকায় হবে না…।

Tuesday, August 2, 2016

ধারাবাহিক 'ফারাজকাহিনি' এবং মিথ্যাবাদি মিডিয়াবালক!

কিছু বিষয় নিয়ে লিখতে ভাল লাগে না যেমন শবের ব্যবচ্ছেদ! ফারাজের বিষয়টা নিয়েও লেখার ইচ্ছা ছিল না। মানুষের যেমন বয়স হলে পরিপক্কতা বাড়ে তেমনি পত্রিকারও বয়স হলে তার দায়িত্বশীলতা বাড়ে। কিন্তু প্রথম আলোর মত পত্রিকার সম্ভবত এই বোধের উন্নতি হবে না কখনও, আফসোস! এরা লেবু চিপে হালুয়া বানিয়ে ফেলে! কাউকে-কাউকে কোলে করে কেমন করে এভারেস্টে উঠাতে হয় এর নমুনা আমরা মুসা ইব্রাহিমের বেলায় দেখেছি [১]। যেমনটা এখন দেখছি ফারাজের বেলায়।

পত্রিকাটিতে এটা এখন সিরিজ আকারে ছাপা হচ্ছে, ক্রমশ মেগা-সিরিজে রূপ নেবে এতে কোনও সন্দেহ নেই। যথারীতি আনিস ভাইয়া লিখেছেন, হাত-পা খুলে! আনিসুল হকের লেখাটার কথা যদি উহ্যও রাখি (কেন?সেটা বিস্তারিত লিখে শব্দের অপচয় করতে চাচ্ছি না কারণ এই ভদ্রলোক ফারাজকে নিয়ে “পৃথিবী জেনে রাখো, ফারাজই বাংলাদেশ” শিরোনামে ৪ জুলাই, ২০১৬ লেখায় লিখেছেন,…"যে জিম্মিরা মুক্তি পেয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন তারা বারবার বলছিলেন, ফারাজ, তুমি চলো, তুমি চলো। ফারাজ বলেন, বন্ধুদের ছেড়ে আমি যাব না"। 
লেখাটা পড়ে আমার মত নির্বোধ পাঠকের মনে হবে স্বয়ং আনিসুল হক ওখানে উপস্থিত ছিলেন যেমনটা মুসাকে নিয়ে লেখার সময়ও মনে হয়েছিল এভারেস্টের চুড়ায় লেখক মহোদয়ও উপস্থিত ছিলেন।)

যাই হোক, প্রথম আলো পত্রিকায় ৩০ জুলাই ছাপা হয়েছে, 'জঙ্গিবাদ নয়,‘ফারাজই বাংলাদেশ'; ৩১ জুলাই 'ফারাজের বন্ধুত্বই জঙ্গিবাদ হটাবে বিপথগামীদের ফিরিয়ে আনবে’। আজকের পত্রিকাতেও ফারাজকাহিনী। প্রবল আশা, আগামীকালও থাকবে। কারণটা আমাদের মত বুরবাকদেরও বোঝার বাকি নেই। টংকার ঝনঝনানি! প্রথম আলো-ডেইলি স্টার গং ফারাজদের পারিবারিক ব্যবসা...।

পূর্বে লিখতে ইচ্ছা হয়নি কিন্তু তখনও আমার মনে ছোট্ট একটা প্রশ্ন ছিল। সেটা হচ্ছে, আচ্ছা, ফারাজ যে আত্মদান বা বলিদান দিলেন এটার খবর কী কেবল 'নিউইয়র্ক টাইমস'-ই পেল! এই পত্রিকাটিই প্রথমে ছাপে এরপর অন্যরা এই পত্রিকার বারত নিয়ে ছাপতে থাকে-ছাপতে থাকে। এর শেষ যেন নেই! তা বেশ কিন্তু নিউইয়র্ক টাইমস এই তথ্যটা কোথায় পেল? ফারাজের চাচার কাছে! ফারাজের চাচা কোথায় পেলেন? ছাড়াপাওয়া জিম্মিদের কাছ থেকে? ছাড়া পাওয়া কোন জিম্মির কাছ থেকে তিনি তথ্যটা পেলেন তার আর কিন্তু হদিশ নেই! কিন্তু জানতে পারলে আমরা বেকুবরা খানিকটা আরাম পেতাম।

(নিউইয়র্ক টাইম যেটা লিখেছিল,“ফারাজ হোসেনকে ছেড়ে দিয়েছিল বলে জানান ফারাজের নিকটাত্মীয় হিশাম হোসেন। হিশাম ছাড়া পাওয়া এক জিম্মির কাছ থেকে ঘটনাটি শুনেছেন”।)
এরপর আমাদের অধিকাংশ মিডিয়া দায় সেরেছে এভাবে, “বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছেন ফারাজ। …ফারাজের স্বজনদের সঙ্গে আলাপের ভিত্তিতে তৈরি করা মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে এসব কথা উঠে এসেছে” (বাংলা ট্রিবিউন, ৩ জুলাই ২০১৬)
সে তো বুঝলুম রে বাপ কিন্তু ফারাজের স্বজনরা কোন দেশে থাকে যে বেচারা তুমি তাদের সঙ্গে দু-চারটা আলাপ করে আমরা বেকুবদের জানাতে পারলে না! দুম করে অন্যের খাবার চেয়ে নিয়ে জাবর কাটতে থাকলে! বাপু রে, নিজের খাবার নিজের মুখে খেলেই তো উত্তম!
 
“নিজের প্রাণ দিলেও বন্ধুদের সঙ্গ ছাড়েননি ফারাজ। …দুই বন্ধুকে জঙ্গিদের মাঝে ফেলে রেখে প্রাণ বাঁচানোর সযেোগ নেননি ফারাজ আইয়াজ হোসেন”। (ইত্তেফাক ৩ জুলাই ২০১৬)
এই তথ্য ইত্তেফাক কোথায় পেল এর কোনও সূত্রের উল্লেখ নেই! আচ্ছা, বাংলাদেশের মিডিয়া ভাত খায় কী ইয়র্কারদের হাত দিয়ে খায়? মানে নিউইয়র্ক টাইমসের চামুচ নামের হাতা দিয়ে!
অন্য আরও কিছু মিডিয়ার কথা এখানে উল্লেখ করি। সবার তথ্যের উৎস নিউইয়র্ক টাইমস! :

...

...

...

বেশ-বেশ! আচ্ছা, জিম্মিদের সঙ্গে ফারাজকে ছাড়তে চেয়েছিল সন্ত্রাসীরা, কখন? কমান্ডো অভিযান শুরু হওয়ার আগে সকাল ছয়টার দিকে সন্ত্রাসীরা তাদের টেবিলে থাকা আটজনকে ছেড়ে দেয়”। (প্রথম আলো ০৭ জুলাই, ২০১৬)
এর কাছাকাছি সময়ে তাহলে ফারাজকে এবং তার বন্ধুদেরকে হত্যা করা হয়? অথচ বিভিন্ন জায়গায় এটা উঠে এসেছে জিম্মি করার আধা ঘন্টার মধ্যেই দেশি-বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে ২০ জনকে প্রথমে গুলি করে এরপর ছুরিকাঘাতে তাঁদের মৃত্যু নিশ্চিত করে। তার মানে ফারাজের বন্ধুদেরকে এই সময়ই মেরে ফেলার কথা।
এমনিতে সকালে এরা ছিল ফুরফুরে মেজাজে। প্রথম আলোর ভাষ্যমতে, (আকাশ খানকে) "...এরপর হাসতে হাসতে জঙ্গিরা বলতে থাকে, আমরা যাই জান্নাতে দেখা হবে তোমাদের সঙ্গে। তুমি চলে যাও। কিছুক্ষণ পরে এখানে গুলি আসবে। সেই গুলি তোমাকেও লাগতে পারে। যাও যাও বলে আমাকে তাড়িয়ে দেয় তারা"... (প্রথম আলো ১ আগস্ট, ২০০৬)

তারপরও তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নেই ফারাজ তার বন্ধুদেরকে ফেলে আসবে না আর ওরাও তার বন্ধুদেরকে ছাড়বে না। বেশ, ফারাজের বন্ধুদেরকে নাহয় মেরে ফেলল কিন্তু ফারাজকে মারতে যাবে কেন?
                            ভিডিও সূত্র: ডি কে হং


সহায়ক সূত্র:

১. প্রথম সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী...: http://www.ali-mahmed.com/2010/05/blog-post_27.html
 
...
আপডেট ২৬.০১.২৩:
'ফারাজ' নামে একটা ভারতে একটা মুভি করা নিয়ে আবারও তর্কটা সামনে চলে এসেছে। যে সাংবাদিক খুব কাছ থেকে দেখেছেন তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ফারাজকে নিয়ে হিরোগিরির যে গাল-গল্প মিডিয়া ছড়াচ্ছে- বিশেষ করে প্রথম আলো গংরা বলছে তা মিথ্যা!

ফা
রাজ যে বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছে তাদের মধ্যে একজন অবিন্তার মার-ও তীব্র বিশ্বাস এর কোনও ভিত্তি নেই।
আমার সাফ কথা, ফারাজের জন্য আমাদের আছে অন্য যারা মারা গেছেন তাদের মতই নিতল বেদনা কিন্তু সত্যের সঙ্গে মিথ্যা মিশিয়ে আমাদের মত সাধারণ মানুষের সঙ্গে চালবাজি করার কোন প্রয়োজন ছিল না। প্রথম আলো গংরা জেনেশুনে যে মিথ্যার ঝাঁপি খুলে বসেছেন এটা এক প্রকারের অপরাধ, কঠিন অপরাধ!

Monday, July 25, 2016

বর্গি গেল, জামাত-শিবির এলো!

মারাঠা সৈন্যবাহিনীর দস্যুদেরকে বর্গি বলা হতো। এই বর্গিরা ছিল মহাপাজি! এরা অন্য রাজ্যের রাজস্বেও ‘চৌথ’ নাম দিয়ে ভাগ বসাত। করাত টাইপের লোকজন অনেকটা, যেতেও কাটে আসতেও। রাজস্ব দিলেও রাজস্বের নামে লুটতরাজ না-দিলেও লুটতরাজ। বঙ্গের মানুষকে তিতিবিরক্ত করে ফেলেছিল। অবস্থা এমন দাঁড়াল কাউকে জিজ্ঞেস করা হলো,‘ভাত খাইছেন’? তার উত্তর অনেকটা এই টাইপের, ‘কী ভাত খামু বর্গির জ্বালায় ভাত খাওয়ার উপায় আছে’!
'ইয়ে করছেন'? 'আরে, কেমনে ইয়ে করমু', ইত্যাদি।

দেশে এখন আর বর্গি নাই। তাতে কী! জামাত-শিবির তো আছে। ভাগ্যিস আছে নইলে আমাদের দেশের যে কী উপায়টা হতো! আহা, কাউকে ক্রসফায়ারের নামে মেরে ফেলা হয়েছে, তো?। ‘কুছ পারোয়া নেহি’, জামাত-শিবির বলে দিলে ‘অল কোয়ায়েট অন দ্য বঙ্গাল ফ্রন্ট’! পুলিশ কাউকে ‘দিন-দাহাড়ে’ শত-শত লোকজনের সামনে পেটাচ্ছে। কোনও সহৃদয় মানুষ অসহায় মানুষটাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলো বুঝি? ব্যস, বলে দাও ওরা জামাত শিবির দেখো, তার পায়ে অদৃশ্য পেরেক আটকে নড়াচড়ার যো থাকবে বুঝি- তখন তার একেকটা জুতার ওজন হবে কম-কম ১ টন।!
                              ভিডিও সূত্র: banglatribune.com
এই ভিডিওতে আমরা যে বীরপুঙ্গব সার্জেন্ট মহোদয়কে দেখতে পাচ্ছি তিনি একজন চালককে পেটাচ্ছেন, বুট দিয়ে পদদলিত করছেন। এদিকে পুলিশ বলছে, "... পুরো ঘটনার ভিডিও দেওয়া হয়নি। দেওয়া হয়েছে খন্ডিতাংশ। এতে পুলিশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। এটি পূর্ব পরিকল্পিত বলে মনে করেন তারা"...
বাপুরে, তোমাদের ভাবমূর্তির ভাব দেখে বাঁচি নে।
পরে সার্জেন্ট স্যার তার মোবাইল, ঘড়ি, চশমা এবং ইয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার জন্য ১০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণও আদায় করেন। এই প্রসঙ্গে সার্জেন্ট মেহেদীর কাছে ওই চালককে মাটিতে ফেলে পায়ের বুট দিয়ে আঘাত করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘আমি তাকে অ্যারেস্ট করতে চাইছিলাম। এটা আমাদের অ্যারেস্ট করার কৌশল’।
কারও গোপন কৌশল নিয়ে আমরা ট্যাক্সপেয়ি লোকজনেরা বেশি বাতচিত নাই-বা করলাম।
সার্জেন্ট মেহেদী বাংলা ট্রিবিউন ডট কমকে আরও বলেন, “…এ সময় কয়েকজন লোক এগিয়ে আসেন। যাদের পরনে কোর্ট-টাই পরা ছিলো। মুখে দাড়ি ছিলো। তাদের জামায়াত-শিবিরের লোক বলে মনে হয়েছে। …

কী সর্বনাশ-কী সর্বনাশ! আফসোস, গুলিস্তানের কামানটা সার্জেন্ট সাহেবের হাতের নাগালে ছিল না নইলে তোপ দাগিয়ে এগিয়ে আসা ওই জামাত-শিবির দুষ্টদেরকে উড়িয়ে দিতেন।

Saturday, July 16, 2016

রিপ, সুন্দরবন!

মানুষ খুন হয়, বন খুন হয় না? বেশ, মেনে নিলাম হয় না! আচ্ছা, সুন্দর অসুন্দর হয় না? কোনও সুদর্শনের মুখে এসিড ঢেলে দিলেও? কুৎসিত অবয়বটা নিয়ে বেঁচে থাকে বটে কিন্তু অজান্তে স্বজনেরও মুখ ফসকে বেরিয়ে যায়, আহ, মরে গেলেই ভাল ছিল। সত্যের মত বদমাশ আর নাই।
কাফকার মেটামরফোসিসের সেই চরিত্রটির কথা মনে আছে, গ্রেগর? "...One morning, when Gregor Samsa woke from troubled dreams, he found himself transformed in his bed into a horrible vermin..."
অসুন্দর-পোকায় রূপান্তরিত হওয়া, যার মৃত্যুতে তার মার সেই নির্দয় উক্তি, 'মরে গেছে'? গ্রেগরের বাবার হাঁপ ছাড়া সেই সংলাপ, 'যাক, ঈশ্বরকে অনেক ধন্যবাদ’।

কয়লাভিত্তিক বিদুৎকেন্দ্র নির্মাণের চুক্তির বিরোধীতা করেছিল ৫৩টি পরিবেশবাদী সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি। ফলাফল আ বিগ জিরো! যাহা ৫৩ তাহাই ৫৩০! এই সংগঠনের সংখ্যা ৫৩০ হলেও কী আসে যায় কারণ ফল তো একই। হুদাহুদি! কারণ বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী, নসরুল হামিদ মিডিয়ায় বলেছেন,’রামপাল চুক্তি নিয়ে যারা বিরোধীতা করছেন তারা বৈজ্ঞানিক তথ্যপ্রমাণ হাজির করতে পারেননি’।
আহা, পারবেন কেমন করে? আফসোস, বিরোধী দলে (এই চুক্তির) একজন বিজ্ঞানীও নাই! বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা না-করার ফল!

ইতিপূর্বে জ্বালানি সচিব মোজাম্মেল হক খান তো বলেই দিয়েছিলেন, 'এই প্লান্টটি আমাদের জন্য জরুরি, তাই পরিবেশের বিষয়গুলো আপোষযোগ্য' [১]। এরপর আর কথা চলে না। আপোষ না-করার তো প্রশ্নই আসে না কারণ আমাদের এতো-এত্তোগুলা সুন্দরবন, কোনটা রেখে কোনটা ফেলি! এই উন্নয়নের (!) হাত ধরে ওখানে যে অজস্র কংক্রিটের বস্তি গড়ে উঠবে এর রেশ ধরে বনের পশু-পাখি মায় গাছপালাও যে গলা ফাটিয়ে ‘ধুম মাচা দে’ বা ‘শিলাকি জাওয়ানি’ গান গাইবে এতে সন্দেহের কোনও অবকাশ নাই। সভ্যতার ছাল গায়ে চড়িয়ে ছাগল বাঘের গাল চাটবে-‘কাল কাল মাহাকাল ছাগল চাটে বাঘের গাল’।

গোটা গ্রহ হাঁ হয়ে যাবে, বাপস, কী সভ্য এরা- অসভ্য বনের পশুকেও সভ্য করে ফেলেছে! ‘গ্রহ বাঁচাও’ টাইপের কোনও একটা পুরষ্কার না-দিয়ে এরা আমাদেরকে ছাড়বে বুঝি! এতো সোজা…।
কিছু ছোটখাটো সমস্যা আছে বটে এই যেমন এই কেন্দ্র চালাবার জন্য প্রতিদিন লাগবে মাত্র ১০ হাজার মেট্রিক টন কয়লা! ব্যাপার না। আশা করছি এই সামান্য কাজটি করার জন্য আমাদের পশুর নদী ব্যবহৃত হবে না কারণ ভারতের সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার-মিগের সাহায্যই এই কর্মকান্ডের সমাধা হবে।

যাই হোক, আমাদের অর্জনও কিন্তু কম না রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র চুক্তি স্বাক্ষরের পর ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এই ভার বহিব কেমনে- ‘প্রাণে দাও মোর শকতি’।

১. সুন্দরবন রামপাল…: http://www.ali-mahmed.com/2013/04/blog-post_23.html

Thursday, July 14, 2016

শিবরামের শার্সি!

কী ভয়াবহ, কী ভয়ংকর! “তিন জঙ্গিনেতার বিচারের অনুমতি পাওয়া যাচ্ছে না” (প্রথম আলো, ১২ জুলাই, ২০১৬)। আমি আমার সমস্ত জীবনে যেসব হতবাক হওয়ার মত কথা শুনেছি এটা এর মধ্যে শীর্ষে থাকবে এতে অন্তত আমার কোনও সন্দেহ নেই। এই জঙ্গিনেতাদের মধ্যে আছে জেএমবি শীর্ষ নেতা মহতরম জনাবে-আলা মাওলানা সাইদুর রহমান, আনসারউল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান জসিম উদ্দিন রাহমানী আরও আছেন হিযবুল তাহরীরের প্রধান সমন্বয়ক মহিউদ্দিন আহমেদ।
এদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে কিন্তু বছরের-পর-বছর চলে যাচ্ছে কিন্তু মামলা শুরু করার জন্য অনুমোদন পাওয়া যাচ্ছে না। এরমধ্যে একজনের মামলার অনুমোদন ঝুলে আছে তা প্রায় ৬ বছর হলো।

এই বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জান খানের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন’।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এই বিষয়ে বলেন, ‘তিনি শিগগিরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন’।
এই হচ্ছে আমাদের দেশের খোঁজখবর রাখার নমুনা! আমাদের দেশের মন্ত্রীরা কেমন অকাজে জড়িয়ে থাকেন এর একটা নমুনা দেই। এক মন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার লোকজনেরা এলাকায় আনন্দ-মিছিল বের করলেন রং ছিটিয়ে ছিটাছিটি খেলা খেললেন। সামনে-পেছনে ১০-১২ জন পুলিশ। ঘটনা হচ্ছে এলাকার কলেজ নাকি মন্ত্রী মহোদয়ের সদয় হস্তক্ষেপে সরকারীকরণ করা হয়েছে। বিষয়টা সত্য হলেও ভাবখানা এমন মন্ত্রী সাহেব তালুক বিক্রি করে এই কর্মটা করেছেন। বাস্তবতা হচ্ছে দেশে কেবল এই কলেজই না প্রায় প্রত্যেক উপজেলায়ই একটা করে কলেজ এই আওতায় পড়েছে। পাবলিকও জানে মন্ত্রী মহোদয় কি পছন্দ করেন।

এদিকে ফ্যানাটিক খুনি নিবরাসকে ধরার জন্য পুলিশের বিশেষ উদ্যোগ ছিল না। যথাসময়ে তাকে ধরা হলে হয়তো গুলশানের ওই নারকীয় খুনগুলো এড়ানো যেত। যাই হোক, একজনকে ধরা হবে, অভিযোগপত্র দেওয়া হবে তার বিরুদ্ধে মামলা শুরু হবে এখানে চিঠি চালাচালির কী আছে সেটা আমাদের মত নির্বোধ ট্যাক্সপেয়ি লোকজনের বোঝা মুশকিল। অবশ্য বিবিসিকে এর একটা ব্যাখ্যা দিয়েছেন আইনমন্ত্রী, ”এটা আইনের একটি রক্ষাকবচ ছিল। সিরিয়াস ক্রাইমে দুটো জিনিস কাজ করে- একটা হচ্ছে অযথা কাউকে হয়রানি করলে…অপরদিকে এটার সিরিয়াসনেস বোঝার জন্য…সে কারণেই অনুমোদন প্রয়োজন”।
অতি উত্তম, না-জানলে আমরা বুঝব কেমন করে অধম!
কিন্তু এমতাবস্থায় এর অপব্যবহার কি হচ্ছে, এটা জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী আরও জানান, “এখন পর্যন্ত সরকার এর অপব্যবহার করেছে এ রকম নজির দেখানো যাবে না”।
এই অমৃতবাণী শুনে হাসব না কাঁদব বুঝে উঠতে পারছি না!

এমনিতে ক্রসফায়ার করে কাউকে মেরে জঙ্গি বলে দিলে হত্যাকারীর জবাবদিহি করা লাগে না। প্রতিপক্ষকে কাবু করারও এ এক অনন্য উপায়। কেবল আইএস আছে এটা স্বীকার করা চলবে না। আরে, আইএস আবার কবে এটা বলল, আমরা আদি-অকৃত্রিম আমাদের কোথায় কোনও শাখা নেই।
ঘুমকাতুরে লোকজনেরা চোখ কচলে সকালে যখন জানতে পারলেন অপারেশন ‘থান্ডার বোল্ডের’ ইতি টানার পর যে জিম্মিদের প্রায় সবাইকে খুন করা হয়েছে [১] অথচ আইএসের বরাতে ‘নিশাচর ড্রাকুলা’ টাইপের লোকজনেরা মধ্য-রাতেই জেনে গেছেন যে জিম্মিদেরকে খুন করা হয়েছে।
আফসোস, কে এদেরকে বোঝাবে আইএস কেবল একটা সংগঠনই না আইএস একটা মতাদর্শ-ভাবাদর্শ। এবং এটা এরা পৃথিবীময় ছড়িয়ে দিচ্ছে। অঝোর বৃষ্টিতে ছাতার খোঁজ না-করে বৃষ্টি যা যা, বলে গান গাইলে অন্তর্বাসও যে বৃষ্টিতে চুপচুপে হবে এতে সন্দেহ কী!

তো,‘জঙ্গি আইয়ে রে’,এটা শুনে-শুনে কানের পোকা তো পরের কথা কানের ময়লা পর্যন্ত সাফ। জঙ্গি দমনে সরকার নাকি জিরো টলারেন্স। যেখানে জঙ্গি শীর্ষ নেতাদের বিচারের অনুমোদন ৬ বছর লাগিয়ে পাওয়া যাচ্ছে না সেখানে মন্ত্রী মহোদয় বলছেন এর অপব্যবহার হচ্ছে না। তা জিরো টলারেন্সের পর কী ‘মাইনাস টলারেন্স’ যোগ হবে?
আমাদের এই বিচিত্র দেশের ড্রাইভার সাহেবরাও বড়ো বিচিত্র। অর্থমন্ত্রীর কাছে কোনও সমস্যাই সমস্যা না তাই তিনি যথারীতি মন্তব্য করেছেন, জঙ্গি হামলা এটা কোনও বিষয় না।
আর আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী বলেছেন, "জঙ্গি হামলায় দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়নি"। মন্ত্রী মহোদয় যেহেতু পাল্লা দিয়ে মেপে এটা বের করেছেন তাই এতে সন্দেহ পোষণ করা সমীচীন হবে না। আমরা আনন্দের সঙ্গে এটা বলতে পারি এতে করে দেশের মুখ ফকফকা হয়েছে। এই গ্রহে আমাদের মাথা এমন উঁচু হয়েছে যে তা ভাষায় প্রকাশ করে কে!  

এই প্রসঙ্গের এখানেই ইতি টানি। ভারী-ভারী বিষয় নাহয় থাকুক। শিবরাম চক্রবর্তীর ওই লেখাটা সবাই জানেন তবুও বলি। দুজন ট্রেনযাত্রী বেজায় ক্ষেপে গেলেন। সমস্যাটা মারাত্মক! একজনের ঠান্ডা লাগছে তাই তিনি চলন্ত ট্রেনের শার্সি নামিয়ে দিচ্ছেন। এদিকে অন্যজনের গরম লাগছে বিধায় তিনি শার্সিটা উঠিয়ে দিচ্ছেন। দুজনের ‘মুন্ডফাঁক’ হয়-হয়। ট্রেন থামলে গার্ড সাহেব পান চিবুতে চিবুতে হেলেদুলে এগিয়ে এসে বিস্ময় প্রকাশ করলেন, ট্রেনের বগির এই জানালার তো কাঁচই নেই! কোন-এক বখাটে ঢিল মেরে আস্ত কাঁচই হাপিস করে দিয়েছে। এখন বেচারা জানালাকে উঠবস করাবার অর্থ কী!

আসলে কাঁচবিহীন একটা জানালার আমাদের খুব প্রয়োজন তাহলে ‘গুছলেংটি’ দিয়ে 'হুদাহুদি' ঝগড়া করতে খুব সুবিধে হয়…।

১. শিরোনামহীন: http://www.ali-mahmed.com/2016/07/blog-post_8.html

Monday, July 11, 2016

বিচিত্র, বড়ো বিচিত্র!

গুলশানে যে নারকীয় তান্ডব চালায় দানবেরা এদের পরিবারের লোকজনরা তাঁদের সন্তানদের হাতে খুন হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। এটা যে অসাধারণ একটা উদ্যোগ এতে কোনও সন্দেহ নেই। স্যালুট। আলাভোলা ছেলেগুলো যেভাবে হুট করে দানব হয়ে যাচ্ছে একটা দেশ,পরিবারের জন্য এটা যে কী পরিমাণ কষ্টের এটা বোধের বাইরে কারণ আমাদের পরিবারও এই শঙ্কা থেকে মুক্ত না। কারও আদরের সন্তান বদলে যাবে না এটা কেউ জাঁক করে বলতে পারে না। যে বলে সে একটা নির্বোধ! যে সকাল-বিকাল হাওয়াইমিঠাই খায়,আকাশে নৌকা বায়।

এদের মধ্যে রোহান ইবনে ইমতিয়াজের বাবা এস এম ইমতিয়াজ খান ক্ষমতাশীন দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এবং পুলিশ প্রথমে মৃতদের যে ছবি আমাদেরকে দিয়েছিল সেখানে রোহানের ছবি ছিল না অথচ 'আইএস' কিন্তু ঠিকই রোহানের ছবি প্রকাশ করেছিল [১]। যাই হোক, সেটা এখন আলোচ্য বিষয় না।

তবে রোহানের বাবার ক্ষমা চাওয়া- দুঃখ প্রকাশের ভঙ্গি বিচিত্র, বড়ো বিচিত্র। তিনি গুলশান হত্যাকান্ডে নিহত ভারতীয় তরুণী তারুশি জৈনের মা-বাবার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি মিডিয়াকে বলেন,"এই আক্রমেণ একজন ভারতীয় নারীর মৃত্যু হয়েছে এ ঘটনায় আমি ভারত এবং ওই নারীর বাবা-মায়ের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি…।"
অথচ অন্যদের বেলায় তাঁর কোনও প্রকারের বক্তব্য আমরা পাই না! প্রত্যেকটা মৃত্যুই কষ্টের বিশেষ করে তাঁর স্বজন-পরিবারের কাছে। তিনি ভারতীয় ওই পরিবারের প্রতি সহমর্মীতা দেখিয়ে একটা দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছেন এটা সত্য। কিন্তু…।
সিমোনা মন্তি
ছবি উঃস : www.banglatribune.com
এই হামলায় সবচেয়ে বেশি নাগরিক খুন হয়েছেন ইতালির এরপর জাপান। পাশাপাশি আছেন আমাদের দেশের নাগরিকও। অথচ অন্যদের কথা রোহানের বাবা কেন বিস্মৃত হলেন এটা আমার কাছে বিস্ময়কর!
সব বাদ দিলেও এদের মধ্যে ছিলেন ইতালির এক নাগরিক সিমোনা মন্তি। সিমোনা মস্তিকে খুন করা হয়। ভুল! কেবল সিমোনা মন্তিকেই খুন করা হয়নি খুন করা হয়েছে তার গর্ভের সন্তানকেও। যার নাম ঠিক করা হয়েছিল মাইকেল অ্যাঞ্জেলোর নামে। এই অ্যাঞ্জেলকেও মরতে হয়েছে দানবদের হাতে। অতি নিষ্ঠুর প্রকৃতির মানুষও একটা গর্ভবতী সাপকে ঢিল মারতে গিয়েও হাত ফিরিয়ে নেয়।
আমি অন্যত্র এক লেখায় লিখেছিলাম,‘দানব তার মাকেও খেয়ে ফেলে’ অ্যাঞ্জেল কোন ছার! 

১. শিরোনামহীন: http://www.ali-mahmed.com/2016/07/blog-post_8.html

Friday, July 8, 2016

শিরোনামহীন।

[আজকের লেখার শিরোনাম খুঁজে পাচ্ছি না তাই শিরোনাম শিরোনামহীন! ]
গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে যে নারকীয় হামলা হয়ে গেল এর ভয়াবহতা গুছিয়ে লেখার ক্ষমতা আমার নাই। নারকীয় কর্মকান্ড করে যে পাঁচ জন সন্ত্রাসী মারা গেল এদের স্থান নরক ব্যতীত অন্যত্র কোথায় আর। এরা জঙ্গী না ঢঙ্গি এই বাহাসে যাওয়া অর্থহীন কারণ সন্ত্রাসী সন্ত্রাসীই তার আবার জাত-পাত কী, ভিন্ন নামই বা কী! এরা স্রেফ একটা চলমান দানব যে দানব যে তার মাকে খেয়ে ফেলে- ধর্ম, দেশ কোন ছার।
আই্এস থেকে হামলার পরই ‘আমাক নিউজের’ বরাতে যে পাঁচজন সন্ত্রাসীর ছবি ছাপা হয়েছিল এদের মধ্যে একজন নিয়ে ঘাপলা হলো সে হচ্ছে এখানকার শেফের সহকারী। এদিকে আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করলাম, আইএসপিআর ছয় জন হামলাকারীর মৃত্যুর কথা বললেও পুলিশ ৫ জন সন্ত্রাসীর ছবি প্রকাশ করে। এই পাঁচজন সন্ত্রাসীর মধ্যে ‘রোহান’ নামের সন্ত্রাসীর ছবি ছিল না, ছিল শেফের সহকারীর ছবি। অথচ আইএস যে পাঁচজনের ছবি প্রকাশ করেছিল ওখানে রোহানের ছবি ছিল। পরে আমরা জানলাম রোহানের বাবা হচ্ছেন ক্ষমতাশীন দলের লোক!

পুলিশ মৃত ওই পাঁচজন দানবের যে নাম আমাদেরকে জানায় তারা হচ্ছে আকাশ, বিকাশ, ডন, বাঁধন ও রিপন। তবে তখন তাদের বিশদ পরিচয় আর জানানো হয়নি। কিন্তু চৌকশ লোকজন ঠিকই এটা বের করে ফেলল এই পাঁচজনের নাম আকাশ-বাতাস, ফুল-ফল না এদের নাম হচ্ছে নিবরাস, রোহান, মোবাশ্বের, খায়রুল এবং উজ্জল। এবং এদের অধিকাংশই উচ্চবিত্ত পরিবারের এবং ভালই শিক্ষিত। এর মধ্যে খায়রুলের পরিবার হচ্ছে গরীব, দুবলাপাতলা। আর যায় কোথায়! তার পরিবারের লোকজনকে নিয়ে চলছে ডাকাডাকির নামে গ্রেফতার অথচ রোহান, নিবরাসের পরিবারের লোকজনকে ‘অমায়িক ডাকাডাকি’ করার কথা তো শুনিনি! এই সব করে-করে সরকারের সদিচ্ছার প্রতি আমাদের মধ্যে এক ধরনের আস্থাহীনতা এবং পাশাপাশি ক্ষোভমিশ্রিত ভয়ও কাজ করে।
যেমনটা তীব্র ক্ষোভে আমরা কাবু হয়ে হই যখন দেখি এই হামলার পরপরই প্রধানমন্ত্রীর ঘটা করে চার লেইনের সড়ক উদ্বোধনের নামে ঢাকঢোল পেটানো হয়। এই কাজটা ৪৮-৭২ ঘন্টা পিছিয়ে দিলে সূর্য ক-হাত নীচে নেমে আসত এমনটা মনে হয় না এমনিতে প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন করাতেই হবে এটা জরুরি কিছু না।

একটা খুব ইন্টরেস্টিং বিষয় লক্ষ করলাম, গুলশান ঘটনায় আমাদের দুইজন পুলিশ অফিসার মারা গেছেন অনেক পুলিশম্যান গুরুতর আহত হয়েছেন- পুলিশের লোকজনের প্রতি স্যালুট। অথচ জামাতে ইসলামী বিবৃতি দিল, “দুর্বৃত্তদের নিরস্ত্র করে জীবিতবস্থায় আটক করা উচিত ছিল…ব্লা-ব্লা-ব্লা”।
চুতিয়াগিরির একটা সীমা থাকা দরকার।

এই হামলার পর-পরই তিন দানবের এক ভিডিও বার্তায় ছড়িয়ে পড়ে (সঙ্গত কারণেই ভিডিও ক্লিপটা এখানে দিচ্ছি না।)। ওয়াল্লা, এই দানবগুলো দেখি আবার বাংলায় কথাও বলে! তিন দানবের মধ্যে এক দানব গুলশান হামলা প্রসঙ্গে বলছে,‘রামাদানের এই বরকতময় সময়ে খেলাফতের ভাইদের এতো চমৎকার একটি অপারেশনের খবর পড়ে আমি সত্যিই অভিভূত...’।

আমাদের দেশের চৌকশ লোকজন ঠিকই বের করে ফেলল এই তিন দানবের পরিচয়। আমাদের জন্য বিস্ময়ের-পর-বিস্ময় অপেক্ষা করে; এরাও প্রায় সবাই উচ্চবিত্ত পরিবার থেকে এসেছে এবং ভাল একাডেমিক শিক্ষা নিয়ে।
ভিডিও ঋণ: রুহুল কুদ্দুস রুহেল
ঈদের দিন শোলাকিয়ার অতি নিকটে যে হামলা হলো ওখানে পুলিশ যথাসময়ে এদেরকে আটকে না-দিলে কী ম্যাসাকার হতো তা আমি কল্পনাও করতে পারি না। একজন পুলিশ অফিসার মুর্শেদ জামান শেলাকিয়ায় নামায পড়তে গিয়েছিলেন। পরঞ্জাবি-পায়জামা পরা, কোথায় বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট কোথায় হেলমেট- লড়ে গেছেন বীরের মত। পুলিশের লোকজনের প্রতি আবারও স্যালুট। ওখানে হাতেনাতে যে জঙ্গিকে ধরা হয়েছে সে নাকি নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটির। এই নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটি তো দেখি দানব বানাবার কারখানা! একে নিয়ে পুলিশ অস্ত্র উদ্ধারে না-গেলেই হয় কারণ ইতিপূর্বে ফাহিমকে [১] নিয়ে পুলিশ অস্ত্রউদ্ধারে গেছে। এসপি বাবুল আকতারের স্ত্রী মিতু খুনের সন্দেহভাজন যে খুনি সেও ক্রসফায়ারে মারা গেছে।

আচ্ছা, পুলিশ এতো অস্ত্র উদ্ধারে যায় কেন! অন্যের অস্ত্রের প্রতি পুলিশের এহেন লালচ কেন! পুলিশের কী অস্ত্রের অভাব? আহা, এমনটা হয়ে থাকলে আমরা দেশবাসীরা নাহয় চাঁদা করে কিনে দেব নে...।
ঋণ: www.bdnews24.com

১. আ হিউম্যান বম্ব! : http://www.ali-mahmed.com/2016/07/blog-post.html

Saturday, July 2, 2016

আ হিউম্যান বম্ব!

জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “…পরে তাকে নিয়ে আরও লোকজন ধরতে গেলে সে (ফাহিম)ক্রসফায়ারে বা যেকোনো কারণে হোক মৃত্যুবরণ করেছে। …ফাহিমের জন্য খালেদার এত মায়াকান্না কেন?...” (প্রথম আলো, ৩০ জুন ২০১৬)

ক্রসফায়ার বা যেকোনো কারণে…”। ‘যেকোনো কারণ’ নিয়ে খানিকটা সংশয় তাঁর মধ্যে কাজ করলেও আমার ক্ষীণ ধারণা ছিল ক্রসফায়ারের বিষয়টা হয়তো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জানা নেই কিন্তু ধারণাটা ভুল। তিনি বিলক্ষণ জানেন।
হায় রাজনীতি- খালেদা জিয়াকে পরাস্ত করার জন্য তিনি এই কথাটা বলতে গিয়ে এর ভয়াবহতা উপেক্ষা করলেন! এমনিতে ফাহিমের জন্য খালেদা জিয়ার দয়ার্দ্র মনোভাব নিয়ে আমার বিশেষ কাতরতা নেই। এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখানে জরুরি না।


খালেদা জিয়া কতটা ঘায়েল হলেন জানি না কিন্তু প্রধানমন্ত্রী প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য যে পথ বেছে নিলেন তা আমাদেরকে ভীত আতঙ্কিত করে। সরকারী পোশাক গায়ে থাকলেই কাউকে হত্যা করা যায় না। এই এখতিয়ার কেবল আইনের তাও যথাযথ নিয়ম পালন করে। ফাহিম জঘন্য অপরাধ করেছে এটা নিয়ে কারও দ্বিমত নাই যেমনটা অমত নাই তার প্রাপ্য শাস্তি দেওয়া নিয়েও। কিন্তু কোনও প্রকারেই এটা বিস্মৃত হওয়ার সুযোগ নাই যে ফয়জুল্লাহ ফাহিমের মৃত্যু হয়েছে সরকারী হেফাজতে। সেটা ক্রসফায়ার নাকি এঙ্গেলফায়ার সেটা মূখ্য না। তাকে রক্ষা করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে যেমনটা কোনও সরকারের হেফাজতে জেলখানায় থাকা কাউকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হওয়াও।
ছবি ঋণ: নিউজসময়
এমনিতেও ফাহিমকে বাঁচিয়ে রাখাটা অসম্ভব জরুরি ছিল কারণ ফাহিমকে নিয়ে বিস্তর কাজ করার সুযোগ ছিল। এমন একটা ছেলের মনোজগৎ এলোমেলো হয়ে যায় কেমন করে? এই কাজের ক্ষেত্র গবেষক, মনোবিদ, লেখকের। ফাহিমের মত অল্পবয়সের মেধাবী ঘোরপ্যাঁচ নেই এমন একটা ছেলে কেমন করে ক্রমশ দানব হয়ে উঠে!পরিণত হয় একটা চলমান হিউম্যান বম্ব! জানাটা অতীব জরুরি, তার মনোজগত বদলে যাওয়ার কী সে রহস্য। তার মগজের খাঁজে খাঁজে উঁকি দিয়ে এটা দেখার প্রয়োজন ছিল।
শত-হাজার ফাহিমের আগমণের পথ খোলা রেখে একজন ফাহিমকে নিচিহ্ন করে দিলেই কী না দিলেই কী…!

Thursday, June 30, 2016

‘কোল্ড ব্লাডেড মার্ডারার’ এবং কতিপয় গা ঘিনঘিনে কৃমি’!

খুন করার ভঙ্গিও আইনের কাছে বিবেচ্য বিষয়। রাগের মাথায় একজন একটা খুন করে করে ফেলল- আইন খানিকটা হলেও নরোম ভঙ্গিতে দেখার চেষ্টা করে। কিন্তু যে মানুষটা রসিয়ে-রসিয়ে খুন করে তার বেলায় কোনও প্রকারের ছাড় থাকার অবকাশ নাই।
বাবুল আক্তারের স্ত্রীকে খুন করার পর এক লেখায় লিখেছিলাম [১], "সন্তানের সামনে তার মাকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। যে খুনি হচ্ছে চরম কাপুরুষ এবং এই গ্রহের অতি নিকৃষ্ট সৃষ্টি- গা ঘিনঘিনে কৃমির চেয়েও। যে রাজনীতির কৌশল হিসাবে বেছে নিয়েছে একজন নারীকে, একজন মাকে! একটা শিশুর সামনে তার মাকে কোপানো হচ্ছে সেই মাটা পড়ে থাকেন থই থই রক্তের মাঝে…"।

পূর্বে খুব জোর গলায় বলা হচ্ছিল এটা জঙ্গিদের কাজ। আমাদের দেশে এখন এই কাজটা খুবই সোজা একটা মানুষকে মেরে ফেলো তারপর বলে দাও এ জঙ্গি ছিল। ব্যস, মামলা ডিসমিস। এমনিতে খুন হতে দেরি হয় না তদন্ত থাকুক কাজির গোয়ালে; যে-কোনও বিভাগের (তিনি পানি বন্টনের দায়িত্বে নাকি আকাশ তাতে কী আসে যায়) একজন ফস করে বলে বসেন, এটা জঙ্গির কাজ। এরপর আর কথা চলে না কারণ এই বাহাদুরগণ সব জানেন। ইহার পর আর কী- আমরা সুখে শান্তিতে বসবাস করিতে লাগিলাম, থাকিলাম!

কিন্তু এখানে খানিকটা ব্যতিক্রম ঘটল। দানবের মাঝেও খানিকটা মানবের দেখা মিলল। এই হত্যাকাণ্ডের দায় জঙ্গি সংগঠন ‘আনসার আল ইসলাম’ সাফ অস্বীকার করে যে এই কাপুরুষিত খুন আমাদের না।
যাই হোক, এরপর খুনি সন্দেহে আনোয়ার এবং ওয়াসিম দুজনকে ধরা হয়। এরপরই শুরু হলো ‘হাশ-হাশ’। লুকোচুরি! বাদীর সঙ্গে কথা বলার নিয়ম আছে এই অমায়িক বক্তব্য জেনে আমরা বিমল আনন্দ বোধ করি বটে কিন্তু বাস্তবে যেটা জানা গেল রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে মামলার বাদী এসপি বাবুল আকতারকে পুলিশ নিয়ে গেল। রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ। ‘রাতভর’ মিডিয়ার খুব পছন্দের একটা শব্দ। 'চুতিয়া' মিডিয়া নারীদের প্রতি চরম শারীরিক নির্যাতনের বেলায়ও এটা হামেশা ব্যবহার করে, রাতভর…।

তো, এই কর্মকান্ড চলে ঝাড়া ১৫ ঘন্টা! অবশ্য পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার মিডিয়ার কাছে বলেন, "বাবুল আকতার মামলার বাদী। তাঁর সঙ্গে আলোচনা করতে তাঁকে আনা হয়েছে…।"
ওহো, এটা তাহলে আলোচনা ছিল! বেশ-বেশ, আলোচনার জন্য গভীর রাত উপযোগীই বটে। তবে এটাকে কেবল আলোচনা বলাটা খানিকটা অমর্যাদার হয়ে উঠে, ‘ম্যারাথন আলোচনা’ বলাটাই সমীচীন- ১৫ মাইলের স্থলে হবে ১৫ ঘন্টা।
ছবি ঋণ: ব্লগার ও এনটিভির সাংবাদিক সন্দীপন বসু
এরিমধ্যে কিছু 'অমায়িক চুতিয়া' টাইপের মিডিয়া বিভিন্ন গল্পগুজব ফেঁদে বসল। এই সমস্ত কৃমি টাইপ নিউজ পোর্টালগুলোর বাইরেও আছে ‘বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর’, দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর মত মিডিয়াও। ভাল কথা, মালিকের খুনিপুত্রের সর্বশেষ আপডেট কি?
সেসব অদায়িত্বশীল ছাতাফাতা মিডিয়ার কথা থাকুক। দায়িত্বশীল দৈনিক পত্রিকা প্রথম আলো (২৭ জুন ২০১৬) লিখেছে, "বাবুলকে জিজ্ঞাসাবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন পুলিশ কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, জিজ্ঞাসাবাদ থেকে তারা এমন সব তথ্য পেয়েছেন, যা শুনে নিজেরাই বিস্মিত হয়েছেন। কিন্তু পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তির কারণে তাঁরা সেসব তথ্য প্রকাশ করতে পারছেন না।"

এটা পড়ে আমার মত বেকুব পাঠকও আঁতকে উঠে, কী সর্বনাশ, পুলিশ বাহিনীর লোক এর সঙ্গে জড়িত? ক-কে-ক্কে? মনের অজান্তেই যে অস্পষ্ট মুখটা ভেসে উঠে সেই মুখটা বাবুল আকতারের! না, তা কী করে হয়? এই মানুষটা নিজের স্ত্রীকে? আহা,প্রথম আলো যেহেতু বলছে তাতে সন্দেহের অবকাশ কোথায়। কিন্তু, একটা কিন্তু থেকেই যায়। এতোশত উপায় থাকতে বাবুল আকতার সন্তানের সামনে লোক লাগিয়ে কোপাকোপি করতে গেলেন কেন! স্ত্রীকে অপছন্দের কারণ সে নাহয় বুঝলুম কিন্তু নিজ সন্তানের সামনে? আর বাবুল আকতারের মত চৌকশ লোক সোর্সকে ব্যবহার করবে এই খুনে! আর এমনটা হলে নিয়ম হচ্ছে খুন করার পর সোর্সকেও খুন করে ফেলা। আরে নাহ, তা কী করে হয়?

কিন্তু প্রথম আলো (২৮ জুন ২০১৬) যে জানাচ্ছে, "…তিনি আর চাকরিতে ফিরছেন না বলে অসমর্থিত একটি সূত্র জানিয়েছে। …একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেছেন…। …নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পুলিশ কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, …ওই সময় তাঁকে দুটি শর্ত দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। বলা হয়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সব তথ্য-প্রমাণ তাঁদের হাতে রয়েছে। তাকে জেলে যেতে হবে অথবা বাহিনী থেকে সরে যেতে হবে। বাহিনী থেকে সরে যাওয়ার ব্যাপারে বাবুল সম্মতি দেন বলে জানা গেছে।"

প্রথম আলো এই সমস্ত লেখা পড়ে এখন আর খুনির চেহারা অস্পষ্ট না, দিনের আলোর মত ঝকঝকে। বাবুল আকতার খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত। এই খুনাখুনি আপাতত থাকুক। আমার প্রশ্ন অন্যত্র। অসমর্থিত সূত্রের উল্লেখ করে তাহলে যা-কিছু বলা যায়? আচ্ছা, ধরা যাক, আমি লিখলাম, একটি অসমর্থিত সূত্র থেকে জানা যায় আমাদের মতিউর রহমান ওরফে মতি ভাইয়া আপন মাকে মাসের-পর-মাস হাসপাতালে ফেলে রেখেছিলেন। দেখতে বিশেষ যাননি! এটা আমি এক আর্মি অফিসারের মুখে শুনেছিলাম। কিন্তু এটা লিখলে মতি ভাইয়া আহত হবেন না নিশ্চয়ই।

আমাদের দেশে সত্য-মিথ্যা, মিথ্যা-সত্য, মিথ্যামিথ্যা-সত্যসত্য; এইসবের ঘোরপ্যাঁচে আমার বোধশক্তি লোপ পেয়েছে সেই কবে তাই কে খুনি,কে খুনি না এই কুতর্কে আর যাই না। এই দেশে সবই সম্ভব। পূর্বের লেখার রেশ ধরে বলি, যে-ই এই খুনটা করেছে সে যদি বাবুল আকতারও হন এটা একটা ঠান্ডা মাথার খুন কোনও প্রকারেই এর দায় থেকে অব্যহতির সুযোগ নেই। তাঁকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে দাঁড়াতেই হবে। কিন্তু…।
কিন্তু বাবুল আকতার যদি খুনি না-হয়ে থাকেন তাহলে প্রথম আলো গংদেরকে ঠান্ডা মাথায় খুন করার অপরাধে বিচারের সম্মুখিন করা হোক। এ-ও একপ্রকার খুন, ঠান্ডা মাথার খুন। আর যে-ই খুনি হোক সে একটা গুয়েভাসা গা ঘিনঘিনে কৃমি। কৃমি থেকে মুক্তি চাই…।

সহায়ক সূত্র
১. আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম: http://www.ali-mahmed.com/2016/06/blog-post_13.html
WhatsApp