Search

Monday, June 1, 2026

বলাৎকার এবং শরীয়া আইন!

'সালমান মুক্তাদির' নামের ছোকরাকে নিয়ে আমাকে লিখতে হলো, কপাল—আমার ভাষায়, শব্দের অপচয়! কিন্তু ওর উদাহরণটা জরুরি কারণ এই দেশের অধিকাংশ মানুষই ওর মত হিপোক্রেট!

বড় বিচিত্র এই দেশ! এই দেশে সালমান শরীয়া আইন চাচ্ছে! মরণ, এ চাচ্ছে! এই ছোকরা যে কতবড় মাওলানা যারা এর সচিত্র ছায়াছবি দেখেছেন তারা খানিকটা বিশ্বাস করবেন! আমি দুঃখ প্রকাশ করছি, এখানে সালমানের ওই সমস্ত ফুটেজগুলো দিতে পারছি না বলে। খুব নিরীহ একটা ভিডিও ক্লিপ দিচ্ছি এখানে:

ধর্ষণ, বলাৎকার এই শব্দগুলো পারতপক্ষে আমি লিখি না, লিখতে চাই না! কিন্তু এই লেখার জন্য 'এটা' লেখাটা জরুরি। ধর্ষণ নিয়ে ধর্মীয় শিক্ষক আহমাদুল্লাহ বলছেন, 'শরীয়া আইনে ধর্ষণের শাস্তি 'যিনা-প্লাস' মানে যিনার চেয়েও ভয়াবহ'! 

বেশ, তা যিনার শাস্তি কি? বিবাহিত হলে 'রজম' ওরফে মৃত্যুদন্ড—ততক্ষণ পর্যন্ত পাথর মারা হবে যতক্ষণ পর্যন্ত তার মৃত্যু না হয়। অবিবাহিত হলে ১০০ দোররা এবং ১ বছর নির্বাসন!
তো, শায়েখ সাহেব, এই যে ধর্মীয় শিক্ষকদের দ্বারা ছোট-ছোট বাচ্চারা বলাৎকার হচ্ছে, এই বিষয়ে আপনার ফতোয়া কী! বেশ-বেশ, তা বলাৎকার নিয়ে ফতোয়া দিচ্ছেন না যে বড়...!









মসজিদ মাদ্রাসার শত-হাজার ঘটনা থেকে অল্প কিছু ঘটনাই এখানে উল্লেখ করা হলো! সবগুলোই ধর্মীয় শিক্ষক দ্বারা। এবং অধিকাংশই শরীয়া আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ!
এখন অনেকে প্রশ্ন করবেন, কেবল কী এরাই করছেন? না, কাছের লোকজন-নিকট আত্মীয়, প্রতিবেশী এমন-কি নির্মলেন্দু গুণের মতো আলোকিত মানুষও আছেন। গুণ আবার এটা বই আকারে ছাপার অক্ষরে বলেছেন []।

মাদ্রাসায় এই বলাৎকার ক্রমশ শিল্পের পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। বড় হুজুর থেকে ছোট হুজুর, ছোট হুজুর থেকে ছোট বাচ্চা, ওই ছোট বাচ্চা বড় হলে; ওই বড় বাচ্চা থেকে আরেক ছোট বাচ্চা। এটা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে—এ যেন এক মহামারি!
এই যে মাদ্রাসার ছাত্ররা বলছে, 'বলাৎকার  দ্বীনের কাজ'! 

এদিকে আবার আহমাদুল্লাহর মত শায়েখরা বলছেন, ক্রীতদাসী বিষয়ে। ক্রীতদাসী স্ত্রীর মতই। তবে একটু পার্থক্য আছে, স্ত্রীকে বিবাহ করতে হয় কিন্তু ক্রীতদাসীকে বিবাহ করার প্রয়োজন নাই! করলে হয়তো দোষ হয়ে যায়!
ভাগ্যিস, বাংলাদেশ কোন যুদ্ধের মধ্যে নাই নইলে হুজুরদেরকে আর বাচ্চাদের উপর ঝাপিয়ে পড়তে হতো না! যুদ্ধে জয় করে লক্ষ-লক্ষ দাসী নিয়ে আসতেন।
যেমনটা এই ধর্মীয় শিক্ষক বলছেন, 
"আমরা নিজেরাই নিজেদের কপালে আঘাত করেছি...!"  
ড. এনায়েত উল্লাহ আব্বাসী, ইনিও শরিয়া আইন নিয়ে বলছেন। এরা ধর্ষণ, যিনা নিয়ে খুব উচ্চকিত কিন্তু বলাৎকার নিয়ে কোন টুঁশব্দ নাই। ইনি আবার বি-রা-ট মাওলানা। শরীরে জোশ নিয়ে বলছেন, ৪জন সাক্ষীর মাধ্যমে ধর্ষণ হতে পারে কারণ জানালা খোলা থাকতে পারে। সেটা ত্রিশ তলায় নাকি চৌত্রিশ সেটা জরুরি না—৪জন দেখার জন্য পাইপ বেয়ে উঠে পড়েছে!  এই মাওলানা আবার দেশের প্রচলিত কোন বিষয়ই মানেন না, না জাতীয় সংগীত, না সংবিধান, না গণতন্ত্র, না প্রচলিত আইন, কিছুই না!

যাই হোক, সালমান মুক্তাদিরের মত মানুষ যখন শরীয়া আইন চাচ্ছে এটা একটা টার্নিং পয়েন্ট! প্র, ইউনূসের মত টুপি লাগিয়ে একে, সালমানকে বক্তৃতা করতে দেখলে আমি অন্তত অবাক হবো না!
শোনেন, হে 'শরীয়া-চাওয়া-সালমান', শরীয়া আইন সৌদি আরবে চালু আছে। আমরা বোঝার সুবিধার জন্য সৌদির উদাহরণ ধরি। যিনার যে শাস্তি, তার জন্য ৪ জন সাক্ষীর প্র‍য়োজন হয়। হে-হে-হে, কেউ তো আর দরোজা-জানালা খুলে ওই কাজ করে না! তাই 'হুদ' শাস্তির মাধ্যমে তাকে পাথর মেরে-মেরে, মেরে  ফেলা যাবে না। এই ক্ষেত্রে আপনি সালমান বিরাট সুবিধা পাবেন।

কিন্তু স্যার, আপনার যে সচিত্র ছায়াছবিগুলো বাজারে ছড়িয়ে পড়েছিল সেটা নিয়ে ঝামেলা, মানে ডাইরেক্ট প্রাণ খোয়াতে পারেন। স্যার, একটু বুঝিয়ে বলি! শরীয়া আইন, 'তাজির'-এ ভিডিও কিন্তু স্ট্রং এভিডেন্স! বিচারক এটাকে স্পষ্ট প্রমাণ ধরে জেল-বেত্রাঘাত-মৃত্যুদন্ড দিতে পারেন! তো, স্যার, আপনার একটা ভিডিওই কিন্তু যথেষ্ট! ইয়ে, একটু মাথায় রাখবেন, ১০০ দোররা! ৮-১০টা দোররা মারলেই বাহ্যজ্ঞান লোপ পায় আর ১০০!

কেবল মসজিদ-মাদ্রাসায় বলাৎকার লিখে সার্চ দিয়েছিলাম।








এডভোকেট ফজলুর রহমানের সাথে আমি একমত। এই সমস্ত বলাৎকারের বিচার শরীয়া আইন দিয়ে শুরু হোক।

যাক, এরা যখন এত করে শরীয়া আইন চাচ্ছেন তবে তাই হোক। শুরু হোক, হুজুরদের বলাৎকারের বিচার দিয়ে। সৌদি আরবে বলাৎকারকে 'লিওয়াত বিল ইকরাহ' মানে জোর করে পায়ুপথে যৌন নির্যাতন বলা হয়। যার মূল শাস্তি মৃত্যুদণ্ড!

সৌদি শরীয়া কোর্টে এটাকে ধর্ষণ এবং সমকামিতা দুই অপরাধ একসাথে ধরা হয়। তাই শিরচ্ছেদের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ডই কার্যকর রায়। 

না-না, হুজুরদের বিরুদ্ধে 'হুদ' ৪ জন সাক্ষী লাগবে না। এখানে প্রযোজ্য হবে, 'তাজির'। মেডিকেল রিপোর্ট, DNA, ভিকটিমের জবানবন্দি, আসামির স্বীকারোক্তি, বিশেষ করে সিসিটিভি, যেকোনো শক্ত প্রমাণেই বিচারক 'তাজির' হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দিতে পারবেন।

বেশ! শুরু হোক তবে এই সব হুজুরদেরকে দিয়ে। কারণ এঁরা শ্রদ্ধেয় ধর্মীয় শিক্ষক এবং আমাদের ছোট-ছোট বাচ্চাদেরকে এঁদের কাছে আমরা রেখেছিলাম আমানত হিসাবে। অনেকে রেখেছিলেন বেহেস্তে যাওয়ার সিড়ি হিসাবে...! 

* ICJ রিপোর্ট। এখানে লেখা আছে: 

"Shari’a law... allows sentences ranging from imprisonment and flogging to death for deviant sexual behavior"

১. সৌদি কোর্ট 'বলাৎকার' শব্দ ব্যবহার করে না। (কিন্তু আমরা আনন্দের সঙ্গে যুক্ত করব) SPA তে 'homosexual acts' লিখে। শরীয়া ফিকহ এবং আন্তর্জাতিক রিপোর্টে এটাকে 'sodomy/ লিওয়াত' বলা হয়।  

২. জোরপূর্বক বলাৎকার হলে, নীচে উল্লেখিত ১ ও ২ নং কেসের মতো মৃত্যুদণ্ডই স্ট্যান্ডার্ড শাস্তি। এটাকে 'হিরাবাহ' ধারায় ফেলে।  

৩. ২০২০-এর পর সৌদিতে বেত্রাঘাত বাতিল হলেও লিওয়াত/বলাৎকারের মৃত্যুদণ্ড আইনে আছে।

সৌদি আরবে বলাৎকার/লিওয়াতের বিচার কেসের লিস্ট: ১. ২০০২ আবহা কেস, মৃত্যুদণ্ড!  অপরাধ: ৩ জন সৌদি নাগরিকের বিরুদ্ধে 'sodomy অভিযোগ। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টেটমেন্টে 'sodomy, same-sex marriage and incitement to paedophilia' লেখা ছিল।  

শাস্তি: ১ জানুয়ারি ২০০২-এ আবহা, আসির প্রদেশে প্রকাশ্যে শিরচ্ছেদ করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর।  -রেফারেন্স: European Parliament H-0033/2002, Amnesty International UK, 2015

২. জুলাই ২০০০ আবহা কেস, মৃত্যুদণ্ড! অপরাধ: ৬ জন পুরুষের বিরুদ্ধে 'লিওয়াত/ সমকামিতা' অভিযোগ। Amnesty এর ভাষায় 'charges partly relating to their sexual orientation"। শরীয়া ফিকহে এটা বলাৎকার/ লিওয়াত।

শাস্তি: জুলাই ২০০০-এ আবহা, আসির প্রদেশে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর।  -রেফারেন্স: Amnesty International UK  

সূত্র: ১. নির্মলেন্দু গুণhttps://www.ali-mahmed.com/2009/12/blog-post_3336.html?m=1





 

No comments:

WhatsApp