আমাদের দেশের মিডিয়াগুলো খুব কিউট! এরা সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ দেন না, এরা সাংবাদিকদের টাকা দেন না—দুম করে মাঠে নামিয়ে দেন। খুব কম পত্রিকারই মফস্বলের সাংবাদিক পত্রিকা-অফিস থেকে টাকা পান! এরা কেমন করে চলেন? নয়ছয় করে যেমন চলা যায় তেমন করেই চলেন! অধিকাংশই দুনম্বরি করে!
এখনকার সাংবাদিক গাড়িকে পেছনে ফেলে দেন। এদের সঙ্গে উসাইন বোল্ট পারবে কি না এতে আমার খানিকটা সন্দেহ আছে।
আমার ধারণা ছিল অন্তত শহরে যারা সংবাদ কাভার করেন এদের সাংবাদিকতা নিয়ে ন্যূনতম ধারণা আছে। কিন্তু আমি ভুল জানতাম!
এই বাবাটার ছোট্ট ৭ বছর বয়সি মেয়েটা, রামিসা; যাকে শারিরীক চরম নির্যাতন করে নৃশংস ভাবে মেরে ফেলা হয়েছে!
এই ভিডিও ক্লিপের ২ মিনিট ১৫ সেকেন্ডে চুতিয়া সাংবাদিক সাহেব এমতাবস্থায় একজন বাবাকে যে প্রশ্ন করলেন তা চরম অমানবিক!
অন্য ভুবনের কষ্ট একপাশে সরিয়ে বাবাটা কী ঠান্ডা মাথায়ই না উত্তর দিলেন!
মানুষটা যে কী অসাধারণ করে কথা বলেন! রাষ্ট্র আমাদেরকে কোন পর্যায়ে নিয়ে গেলে একটা বাবা বলেন,
আমি বিচার চাই না। বিচার আপনারা করতে পারবেন না। এই রকম রেকর্ড আপনাদের নাই!
আহারে, একটা বাবা তাঁর সন্তানকে বড় করতে কী অমানুষিক ত্যাগই না করেন! তারপর সেই সন্তান বড় হয়ে দুম করে বলে বসে: 'আমার জন্য কী করছো'?
অথচ এই বাবাটা তাঁর মেয়ের শখ- আহ্লাদ পূরণ করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন অথচ নিজের স্যান্ডেলটা ৩ বছর ধরে পালটান না—তালি মেরে-মেরে চালিয়ে নেন!
আমাদের দেশে কী পরিমাণ ইতর আছে তার নমুনা:
এমনিতে পুলিশ নিয়ে আমাদের ভেতরে এন্তার ক্ষোভ কাজ করে। এখানে পুলিশ মাত্র ৭ ঘন্টায় অভিযুক্তকে আটক করে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে! এবং বাবাটা কৃতজ্ঞচিত্তে এই মমতার কথা স্মরণ করছেন!
তিনি তাঁর মেয়েকে আর ফেরত পাবেন না কিন্তু পুলিশ বিভাগের এই মমতা আজীবন মনে রাখবেন। পুলিশের কাজ বিচার করা না এটা বিচার বিভাগের এখতিয়ার। এবং আমাদের বিচার বিভাগ নিয়ে খুব একটা আস্থা আমাদের নাই!
কিন্তু পুলিশ রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ একটা টুলস—পুলিশ ইচ্ছা করলেই ফিরিয়ে আনতে পারে রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা..।
পূর্বে যেটা বলেছি, রামিসার বাবা তাঁর মেয়েকে ফিরে পাবেন না এ সত্য কিন্তু স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি আস্থা তৈরি করে, যেটা একটা রাষ্ট্রের জন্য অতীব জরুরি। কিন্তু এটাও সত্য, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আরও ঘটবে প্রত্যেক ক্ষেত্রে একজন প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি সম্ভব না।
তাই যেটা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে প্রয়োজনে আইন সংশোধন করে হলেও যথাসম্ভব ধ্রুত বিচার নিশ্চিত করা।
নইলে এমন ঘটনা যে ঘটবে না এমনটা জোর দিয়ে বলা চলে না!
একজন মায়ের ৭ বছরের মেয়ে চরম নির্যাতিত হয়। বিচার ব্যবস্থার উপর বীতশ্রদ্ধ হয়ে কোর্ট-রুমের সবার সামনে নির্বিকার ভঙ্গিতে গুলি করে তিনি ধর্ষককে মেরে ফেলেন! তাঁর অভিব্যক্তি...চোখের চাহনি... এই চোখে চোখ রাখার ক্ষমতা স্বয়ং রাষ্ট্রের নাই!

No comments:
Post a Comment