Search

Friday, March 7, 2014

১৯৭১ সাল এবং ২০১৪ এক না…


১৯৭১ সালের এক অসমসাহসী মুক্তিযোদ্ধা জনাব, ফজলুল হক ভূঁইয়া- তাঁকে নিয়ে প্রচুর লেখালেখি করেছি। অবদান, সাহসিকতার জন্য এটা তাঁর পাওনা।
অনেক পূর্বের লেখায় উল্লেখ করেছিলাম, তিনি যে জায়গাটায় ঘর তুলে থাকেন এটা সরকারি জায়গা। আমার এই জানার উৎস ছিল জনাব, ফজলুল হক ভূঁইয়ার বক্তব্য। কিন্তু আমার এই জানায় ভুল ছিল। সচরাচর লেখার সময় আমি তথ্য-উপাত্ত যতটা সম্ভব যাচাই করে লেখার চেষ্টা করি কিন্তু যেখানে জনাব, ফজলুল হক ভূইয়া নিশ্চিত করেছিলেন তাই এই বিষয়টা অবহেলার দৃষ্টিতে দেখেছিলাম।
পরে সমস্ত কাগজপত্র দেখে নিশ্চিত হয়েছিলাম এই জায়গাটা সরকারি জায়গা না, ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গা। এর পক্ষে ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে হালের সমস্ত কাগজপত্র তাই বলে।
এটা জানার পরও উদাসীন দৃষ্টিতে ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করেছিললাম...।

তাঁর ঘরের লাগোয়া যে জায়গাটা মাদকব্যবসায়ীদের আয়ত্তে ছিল [১] ওটাও একই মালিকের। ওই জায়গাটা খালি হওয়ার পর যে সমস্ত ব্যক্তির এই জায়গাটা, তাদেরকে আমরা সবাই মিলে অনুরোধ করেছিলাম যে জনাব, ফজলুল হক ভূঁইয়ার জন্য একটা জায়গার ব্যবস্থা করার জন্য আমরা চেষ্টা করছি। যতদিন পর্যন্ত এর একটা ব্যবস্থা না-হয় ততদিন পর্যন্ত যেন জনাব, ফজলুল হক ভূঁইয়াকে এখানে থাকতে দেওয়া হয়। জায়গাটার বৈধ মালিকেরা আমাদের অনুরোধ রেখেছিলেন। আমরা তাদেরকে আরও অনুরোধ করেছিলাম, যে জায়গাটা মাদকব্যবসায়ীদের আয়ত্তে ছিল সেটাও যেন আপাতত জনাব, ফজলুল হক ভূঁইয়ার কাছেই রাখা হয়। তিনি যেন এটার চারিদিকে চট বা পলিথিনের পর্দা দিয়ে ওখানে শাক-সব্জী চাষাবাদ করে কিছু আয় করতে পারেন। ওই সদাশয় মানুষেরা আমাদের দিকে তাকিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে এতেও সায় দিয়েছিলেন।

এখন জায়গার বৈধ মালিকেরা কঠিন অভিযোগ করেছেন তাদের অনুমতি ব্যতীত জনাব, ফজলুল হক ভূঁইয়া অনাবশ্যক কারণে ওখানে একটা ঘর তুলেছেন। ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলরসহ ওখানে গিয়ে এর সত্যতা পাওয়া গেল। এই বিষয়ে জনাব, ফজলুল হক ভূঁইয়া জায়গাটা যে সরকারি জায়গা না এবং বৈধ মালিক যে ওরা এটা স্বীকার করেন কিন্তু এখানে ঘর তোলার বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। আমরা করজোড়ে জনাব, ফজলুল হক ভূঁইয়াকে কাতর অনুরোধ করেছি এই ঘরটা এখান থেকে সরিয়ে নিতে কারণটাও বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করেছি যে এমন অন্যায় করলে আমরা এই প্রজন্ম অসহায় হয়ে পড়ি। বিস্তর অনুরেধেও এর কোনো সুরাহা হলো না। তিনি ঘরটা সরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানালেন। কোনো যুক্তির ধার ধারলেন না- এর পক্ষে ছোট্ট একটা যুক্তিও যদি দেখাতে পারতেন তাহলেও মনটাকে প্রবোধ দিতে পারতাম, ভাল লাগত।

আমি স্বপ্নেও ভাবিনি যে এটা নিয়ে আমাকে লিখতে হবে। আমি খানিকটা বোঝার চেষ্টা করি অনেক সময় একজন মানুষ নিরুপায় হয়ে অপরাধ করেন। অনেক বড়-বড় ব্যক্তিত্বও ইনসুলিন কেনার টাকা না-থাকলে অন্যের পায়ে কলম ফেলে দেন, এ সত্য। কিন্তু যেখানে আমরা জনাব, ফজলুল হক ভূঁইয়ার জন্য নিজস্ব জায়গার বন্দোবস্ত করে দেওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, যতদিন পর্যন্ত এর সুরাহা না-হয় ততদিন পর্যন্ত তিনি যেন এখানে নির্বিঘ্নে থাকতে পারেন সেই ব্যবস্থাও করা হয়েছিল সেখানে তাঁর এই উদ্যোগ আমার কাছে স্রেফ একটা ঘৃণ্য অপরাধ মনে হয়।

জনাব, ফজলুল হক ভূঁইয়া, বিষাদে, অতি বিষাদে আপনাকে বলি: ১৯৭১ সালে আপনার অবদানের জন্য আমি আপনাকে স্যালুট করি কিন্তু আজ ২০১৪ সালে আপনার ভূমিকার জন্য তীব্র নিন্দা জানাই। এই প্রজন্মকে একটা দুঃস্বপ্নের মুখোমুখি করে দিলেন- এ আমাদের পাওনা ছিল না।
অতীব দুঃখের সঙ্গে কেবল আমার স্পষ্ট বক্তব্যটা বলি, আমি অন্তত আপনার অপরাধের সহযাত্রী হতে চাই না...।

১. https://www.facebook.com/photo.php?fbid=10151915025317335&set=a.10151298132117335.465193.723002334&type=1&stream_ref=10
...
জনাব ফজলুল হক ভূঁইয়া, যেখানে ঘর তুলে বসবাস করেন এবং এখন যেখানে অনাবশ্যক, অহেতুক আরেকটি ঘর তুলেছেন সেটা ৩ দাগের জায়গা। এই জায়গার ক্রয়সূত্রে বৈধ মালিকদের আরওআর-আর,এস এবং নামজারির এবং আপত্তির কাগজপত্র:
 

Thursday, March 6, 2014

ফাজিল, তোর জন্য...।


আমি যে প্রাইমারি স্কুলে পড়াশোনা করেছি এখন সেই স্কুলের হেড-টিচার, জাকির আমার ক্লাশ-ফেলো। স্বভাবতই এই স্কুলের জন্য আমার আছে অন্য রকম তীব্র টান। মাঝে-মধ্যে যাওয়া পড়ে।
আমার মধ্যে কিছু ঝামেলা আছে। আমি এক জায়গায় স্থির হয়ে বসতে পারি না। হেড-টিচার নামের মানুষটার মাথায় কিছু পোকা আলগোছে ঢুকিয়ে দেই। আচ্ছা জাকির, স্কুলে একটা বাগান করলে কেমন হয়? ফুল-ফল সবই থাকবে। জাকির নামের মানুষটা স্বল্পভাষী। সংক্ষিপ্ত উত্তর, হ, ভালই হয়
তো, বাগান হয়। টিচারের সঙ্গে শিক্ষার্থীরাও মাটি কোপায়। ভাল লাগে।

একদিন জাকিরকে বললাম, স্কুলটাকে কাগজ-টাগজ ফেলে বাচ্চারা খুব নোংরা করে। প্রতিটা ক্লাশরুমে একটা করে ময়লা ফেলার ঝুড়ি থাকলে কেমন হয়? জাকির বলে, হ, ভালই হয়
স্কুলটা আগের চেয়ে অনেক পরিচ্ছন্ন থাকে। দেখতে ভালই লাগে।

মুর্দা বলে তো কাফান ফাড় কে বলে- ওয়াল্লা, জাকির নামের মানুষটার দেখি মুখে খই ফোটে। তিন দিন পূর্বে যখন জাকির বলল, স্কুলে কিছু বাচ্চা আছে। এদের অনেকের বাবা-মা অতি দরিদ্র বা কারো বাবা নেই। এদের স্কুল ড্রেস বানাবার সামর্থ্য নেই। এরা খুব মন ছোট করে থাকে
আমি খানিকটা থমকে যাই। কারণ আপাতত এটা আমার জন্য ক্ষমতাবহির্ভূত একটা ব্যাপার। মিইয়ে গিয়ে চিঁ চিঁ করে বলি, ক-ক্ক-কত জন?
জাকির সবগুলো দাঁত বের করে বলে, বেশি না, পঁচিশ-ত্রিশ হবে

আমি ভাবছিলাম সায়েরা বেগমের অপারেশন এই রবিবারেই, এখন ওটাই আমার কাছে জরুরি। কী করা যায়? আমার এক বন্ধু তার কাপড়ের দোকানে খুব করে যাওয়ার জন্য বলেছিল। এটাও ঘটা করে বলেছিল: তোর কাপড় লাগলে নিয়ে আসিস, তোর জন্য ফ্রি। যাব-যাব করেও যাওয়া হয়ে উঠেনি। পরশু ওর দোকানে পায়ের ধুলি ছড়িয়ে সোজাসাপটা বললাম, আমার মাগনা কিছু কাপড় দরকার
ও হেলাফেলা ভঙ্গিতে বলল, ক-গজ লাগবে, বল?
আমি অমায়িক ভঙ্গিতে বললাম, শতেক গজ লাগবে। পারবি না?
ব্যাটা ফাজিল বলল, তুই তো পড়িস ফতুয়া এটার জন্য তো এতো কাপড় লাগার কথা না। আর তোর কাফনের কাপড় হলেও তো...।
আমি বিড়বিড় করছি দেখে এ বলল, কী বলছিস! আমি বললাম, ফাজিল-ফাজিল-ফাজিল। তুই একটা ফাজিল। তাই দশবার ফাজিল বলছি

ঝুলাঝুলি করে শেষ পর্যন্ত এই ফাজিল মানুষটাকেই পঞ্চাশ গজ কাপড়ে রাজি করাতে সমর্থ হই। আসার সময় ফাজিলটা চিড়বিড় করে বলল, শোন, তোর সব খবরই আমি রাখি। তুই ছাতাফাতা লেখালেখি করিস এটা আমার অজানা না। ভুলেও আমার নাম নিবি না- খবরদার কিন্তু খবারদার। তোর মত সন্ত্রাসী এসে লাইন ধরুক এটা আমি চাই না
আমি সুবোধ বালকের মত মাথা দুলিয়ে বলি, আইচ্ছা

হেড-টিচার জাকিরকে বললাম, ছেলে-মেয়ে সবার তো হবে না। এক কাজ করো, মেয়েদেরকে আমরা দেই আপাতত। ছেলেদেরটা পরে দেখা যাবে। মাস্টার মানুষ তবুও আমি জ্ঞান দিতে ছাড়ি না, বুঝলা, একজন ছেলেকে শিক্ষিত করা মানে কেবল একজন ছেলেকে শিক্ষিত করা কিন্তু একজন মেয়েকে শিক্ষিত করার মানে গোটা একটা পরিবারকে শিক্ষিত করা। জাকিরের অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর,
অবশেষে এটাই ঠিক হলো আপাতত মেয়েদের ড্রেসের ব্যবস্থা করা হবে। ছেলেদেরটা দেয়ার চেষ্টা করা হবে পরে সুযোগ করে। দুই সেশনে এই প্রাইমারি স্কুলটা চলে বিধায় সব মেয়েদেরকে পাওয়া গেল না, আমার আবার অন্য এক অকাজের তাড়া। জাকির ১৫ জন মেয়েকে ড্রেসের জন্য বের বেছে-বেছে বের করল যাদের স্কুলের ড্রেস নেই, নিজেরা বানাবার কোনো সুযোগ নেই। একজন সেলাই-মাস্টারকে দায়িত্ব দেওয়া হলো স্কুল থেকেই মাপ নিয়ে যাবেন।
জ সেই পর্বটার একটা গতি হলো। এবেলা এটা বলে রাখি ওহে ফাজিল, লেখাটা উৎসর্গ করছি তোর জন্য...। 
...   ...   ...

আমার অজান্তেই কুৎসিত একট ভুল হয়ে গেছে। সচরাচর এমন একটা কাপড় সেলাই করা জন্য সেলাই-মাস্টাররা নেন অন্তত ১৫০ টাকা। এই কর্মকান্ডে অংশগ্রহন করার জন্য এই মানুষটা, মো. মনির ৭৫ টাকা করে কাপড়গুলো সেলাই করে দিয়েছেন। লেখায় তাঁর এই অবদান পুরোপুরি বিস্মৃত হয়েছি। এ অন্যায়! অনিচ্ছাকৃত এই ভুলের কারণে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করি।
   

Wednesday, March 5, 2014

Tuesday, March 4, 2014

বেজন্মার দল!



আজ বাংলাদেশ পাকিস্তানের ক্রিকেট খেলা এটা এই দেশের একটা বাচ্চাও জানে। খেলা চলছে। এখন পাকিস্তানের ব্যাটিং। থেকে থেকে বাজি ফুটছে। কিন্তু আমি বিষম খেলাম কারণ যে মুহুর্তে বাজি ফুটেছে ঠিক তখনই পাকিস্তানের এক খেলোয়াড় ছক্কা মেরেছে।

ঘটনা কী! আমি খোঁজ নিয়ে যেটা জানতে পারলাম সেটা আমার মত অতি সাধারণ একজন মানুষের জন্য বুকে ধাক্কা খাওয়ার মত। অনেকেই এই খেলা নিয়ে বাজি ধরেছে। বাজির কায়দা-কানুন আমার মাথায় ঠিক ঢোকে না। অনেক কেরামতি করে যেটা বুঝলাম সেটা হচ্ছে এরা বাজিটা ধরেছে এমন, পাকিস্তান জিতলে তারা এক হাজার টাকা পাবে, হারলে তাদেরকে দুই হাজার টাকা দিতে হবে। পাকিস্তানকে হারতে দেওয়া যায় না বিধায় বাংলাদেশকে হারতে হবে। এই কারণে পাকিস্তান ভাল করলেই উল্লাসের এমন প্রকাশ। আমিও তিন উল্লাসি করে বলি, ওরে বেজন্মার দল...।

আহ, ঘটনাটা তাহলে টাকা-পয়সা নিয়ে। এখানে দেশ-আবেগ-মা এই সব কোনো বিষয় না। আচ্ছা, এরাই তাহলে সেইসব মানুষ (!) যারা টাকার জন্য অবলীলায় মার কিডনি,  লিভার, ফুসফুস বিক্রি করে দেয়। ভাল! কিন্তু এরা কোত্থেকে এমন বেনিয়া বুদ্ধি করায়ত্ত করল? এদের রক্তে কী এমন মিশে গেল!  

Monday, March 3, 2014

যেমন নৌকা তেমন গাঙ!



আমাদের দেশটা বড়ো বিচিত্র ততোধিক বিচিত্র এদেশের মাঝি ওরফে কান্ডারিরা। এই দেশের চাঁদে সাইদীকে দেখা যায়। এর আবার বর্ষপূর্তিও হয়। শোনো কথা, ছাতার মিডিয়া আর কাকে বলে!

বিরোধীদল নেত্রী যখন বলেন, দেশ কোথায় গোপালি? প্রধানমন্ত্রী নিমিষেই তাকে ছাড়িয়ে যান। ফট করে বলেন, গোলাপি, ট্রেন মিস করলি..., গোলাপি এখন উপজেলা ট্রেনে
শেখ হাসিনা বলেন, একচুল নড়া হবে না, তখন বিরোধিদল নেত্রী বলেন, আন্দোলনের বাতাসে চুল থাকবে না। মোহাম্মদ নাসিম, হাছান মাহমুদ, এই মন্ত্রীরা পিছিয়ে থাকবেন বুঝি! তারা আর দির করেন না। খালেদা জিয়াকে ইঙ্গিত করে তাদের চটজলদি জবাব, নকল চুলই উড়ে যাবে

আজ আবার শেখ সেলিম বললেন, নাশকতা করলে হাত-পা কেটে দেওয়া হবে। নাশকতা ভাল জিনিস এটা কেউ বলছে না। এর জন্য দেশের প্রচলিত আইন আছে। কিন্তু একজন আইনপ্রণেতা হয়েও শেখ সেলিম যখন এটা বলেন তখন বিষয়টা হালকা দৃষ্টিতে দেখার কোনো অবকাশ নেই।
ভাল কথা, এটা আমাদের জানা ছিল না যে শেখ সেলিম কাটাকাটিতে ওস্তাদ মানুষ। এটাও আমাদের জানা ছিল না যে দেশে আইনের কোনো বালাই নেই। কোনো বিচার-টিচারের হ্যাপা নেই। নাশকতার তকমা লাগিয়ে হাত-পা কেটে দিলেই হবে।
পুলিশ কি এটা শোনোনি? নইলে তাদের বিরুদ্ধে কাটাকাটি না-করে সাংবাদিককে থানার ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করার অভিযোগ উঠবে কেন?

আমাদের মত সাধারণ মানুষদের হয়েছে জ্বালা- আমরা কোথায় যাই, কার কাছে যাই; আমাদের যাওয়ার যে জায়গা নাই। বিচিত্র দেশ বিধায় এদেশে গাঙের মাপে নৌকা চলে না, নৌকার মাপে গাঙ চলে। কপাল...!

Sunday, March 2, 2014

রে পামর, পতাকা কী তোদের বাপ-দাদার!



এই বাসায় অনেক দিন ধরেই পতাকা উড়তে দেখেছি। শনি-সোম, বুধ-মঙ্গল, বিশেষ কোনো দিবসের বালাই নেই; পতাকা উড়ছে তো উড়ছেই। এই বাড়ির কর্তার নাগাল পাই না বিধায় পাশের একজনকে বলেছিলাম ঘটনাটা কি জানার জন্য। তিনি আলাপ করে জানালেন, এই লোকের বক্তব্য, দেশ কী ঘুমায়, তাহলে পতাকা ঘুমাবে কেন?
ভাল! একে গারদের পেছনে রাখাটা আবশ্যক- এটা পাগলাগারদ নাকি আইনের গারদ সেটা নিয়ে বিস্তর তর্ক-বিতর্ক চলতে পারে। কিন্তু এমন একজন জ্ঞানী মানুষকে উম্মুক্ত ঘুরতে দেয়াটা অসমীচীন।
এই ছবিটা উঠিযেছিলাম চলন্ত গাড়ি থেকে। ওই সময় বা ফেরার সময় থেমে ছবি তোলার সুযোগ ছিল না। অনেক দূর থেকে ছবিটা তোলা তবুও পতাকাটা দেখা যাচ্ছে। এখানে একটা নির্মাণ কাজ চলছে। কোন আহাম্মকের মাথা থেকে এই ভাবনাটা বেরিয়েছে কে জানে। এখানে পতাকা উড়াবার মানে কী!

এদের ভাব দেখে মনে হয় পতাকা এদের কাছে স্রেফ একটা কাপড়ের টুকরো। বা বাপ-দাদার তালুক- যখন খুশি যেভাবে খুশি উড়িয়ে দিলেই হলো। এই ... ভাইদের ডান্ডা ব্যতীত কে বোঝাবে যে একটি পতাকা কেবল এক টুকরো কাপড় না...।

Friday, February 28, 2014

নসিহত


আমাদের মৌলভি সাহেবরা ওয়াজ মাহফিলের মাধ্যমে অনবরত আমাদেরকে নসিহত করেন, শুনিবেক আলেমের পন্দ নসিহত। আট-দশটা চোঙ্গা (যার প্রচলিত নাম মাইক) লাগিয়ে মৌলভি সাহেবরা মধ্যরাত পর্যন্ত তোতাপাখির মত বকে যান, বাবারা লাইনে থাকিস।

বে-লাইনের আমরা লাইনে থাকার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করি, ভাল তো। মধ্যরাতের বিষয়ে অনেকে বলবেন, জোশ চলে আসে বিধায় রাত গড়ায়। বটে! ওয়াজের পূর্বেই মাইকিং করে যে ঘোষণা দেওয়া হয়, ওয়াজ হবে মধ্যরাত পর্যন্ত এর সহিহ ব্যাখ্যা কী! এরা কি ধরে নেন মধ্যরাত (আমি রাতভর ধরে এই কর্মকান্ড করতেও দেখেছি) পর্যন্ত সমস্ত মানুষ জেগে বসে আছে, এমনকি খেটেখাওয়া মানুষও যাকে ভোরে অমানুষিক কাজে যেতে হবে? বা কোনো মানুষের অসুস্থ থাকার উপায় নেই! অথবা অন্য কোনো ধর্মের লোকজনের ওই এলাকায় থাকার যো নেই?

ইসলামের ঝান্ডাধারী সৌদির মত দেশগুলোর মৌলভি সাহেবরা আট-দশটা চোঙ্গা লাগিয়ে ওদের দেশে এমন নসিহত করার চেষ্টা করেছেন এমনটা আমার জানা নাই। নাকি ওইসব দেশের লোকজনকে লাইনে রাখার কোনো প্রয়োজন নাই?
ছবিতে আমরা যে দৃশ্য দেখছি এটাও একটা ওয়াজ-মাহফিলের। ভাল করে লক্ষ করলে দেখা যাবে এখানে একটি চালু রাস্তা বন্ধ করে ওয়াজ মাহফিলের নামে নসিহত করা হচ্ছে। অনেকে বলবেন, এটা তো আয়োজকদের কান্ড- মৌলভি সাহেবদের উপর তো এ দোষ বর্তায় না। হুম, তা বটে! তা মৌলভি সাহেবরা কী চোখ বন্ধ করে রাখেন যে এটা তাদের চোখে পড়ার কোনো উপায় নেই? সবাইকে যেভাবে এঁরা লাইনে থাকার বিস্তর উপদেশ দেন সেখানে নিজেদের গাড়ির ব্রেক না-থাকলে তো সমস্যা।

আসলে টোলের পন্ডিত, মৌলভি সাহেবদের শেখা তো সেই কবেই শেষ- এরা কেবল আমাদেরকে শেখান।

Thursday, February 27, 2014

ব্যাটন, হাতবদল হয় মাত্র



সায়েরা বেগমকে [১] নিয়ে লেখার পর মমতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন কেউ কেউ। এঁদের মধ্যে একজন ভদ্রমহিলাও আছেন বিধায় তাঁর নাম প্রকাশে অনুমতির একটা বিষয় জরুরি হয়ে পড়ে। অনুমতি চাওয়ার পর তিনি সাফ না করে দেন। নাম প্রকাশে তিনি ইচ্ছুক নন।
Muquit Mohammad-এর কাছে আর অনুমতি চাওয়ার চেষ্টা করিনি কারণ আমি নিশ্চিত ছিলাম তিনিও একই পথে হাঁটবেন। তাই Muquit Mohammad-এর অনুমতির আর তোয়াক্কা করিনি। বেচারা সাগর পারে বসে দাঁতে দাঁত ঘষবেন। এই নিয়ে আমি কাতর না কারণ তিনি তো নিজের দাঁতই ঘষবেন- খুলে আসলে তাঁরটা খুলে আসবে, আমার সমস্যা কোথায়!

সায়েরা বেগমের অপারেশনের পূর্বে এবং পরে যে টাকার প্রয়োজন হবে সেটার পুরোটার ব্যবস্থা হয়নি বলে আমি অনেকখানি চিন্তিত ছিলাম। যা হোক একটা ব্যবস্থা হবে, হবেই এই দুর্দান্ত আস্থাটা ছিল বলেই আমি এবং Dulal Ghose তাঁকে নিয়ে জেলা সদর হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম। আমি আর দুলালকে এটা বলিনি যে পুরো টাকার ব্যবস্থা হয়নি।

সম্ভবত এরা দুলালের কাছে এই সম্বন্ধে শুনে থাকবে। পৌঁছার পর একে একে এই বান্দারা হাজির হয় লিমন ভূঁইয়া, রুবেল, সাহাদাত হোসেন। এরা মুঠ করে আমাকে টাকা এগিয়ে দেয়। আমি গুণে দেখার প্রয়োজন বোধ করি না কারণ এই স্বপ্নযাত্রায় আসলে টাকার অংকটা মূখ্য না, মমতা, একগাদা মমতাই কেবল, আর কিছু না।
এক পলকে আমি এটাও লক্ষ করি এরা যে টাকাটা আমাকে দিয়েছে এর মধ্যে অনেক খুচরো টাকাও আছে। আমি অনুমান করার চেষ্টা করি এই পাগলাগুলো কেমন কেমন করে টাকাগুলো যোগাড় করেছে।

এই ছেলেগুলোর সঙ্গে আমার এই প্রথম দেখা। এক ফাঁকে আমি লক্ষ করি লিমন দুলালের কানে কীসব যেন বলছে। আমি খানিকটা চিন্তায় পড়ে যাই, কী কথা তাহাদের মধ্যে? Limon Bhuiyan দুলালকে কী বলছে? আমার কান বড়ো বড়ো, এটা? অজান্তেই আমার হাত নিজের কানে চলে যায়।
আমি এবার রাশভারী গলায় দুলালকে বলি, ঘটনা কি?
দুলাল একগাল হেসে বলে, ঘটনা অন্য কিছু না। লিমন বলছে, ওর রক্তের গ্রুপ এ-পজেটিভ, সায়েরা বেগমের রক্তের প্রয়োজন হলে, গ্রুপ মিললে ও রক্ত দেবে।
আমি ভেজা চোখ আড়াল করে অন্য দিকে তাকিয়ে বলি, এহ-হ, বললেই হলো, মামাবাড়ির আবদার নাকি! আমার এবি-পজেটিভ, দেখবা ঠিক ঠিক আমারটা ম্যাচ করবে

আমার চেয়ে হয়তো লিমনের আবেগটা বেশি তাই সায়েরা বেগমের সঙ্গে তার রক্তের গ্রুপ ম্যাচ করে। এখানে এসে অনায়াসে লিমন আমাকে হারিয়ে দেয়। কিছু-কিছু পরাজয়েও বড়ো সুখ।
যে গাইনি ডা. ফাউজিয়ার কাছে সায়েরা বেগমকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল প্রথম দিকে তিনি খুব একটা সহযোগিতা করছিলেন না। দুলালের মুখ ক্রমশ লম্বা হয়, অন্ধকারে ছেয়ে যায়! আমি এবার ডা. ফাউজিয়াকে বললাম, আপনি সম্ভবত সায়েরা খাতুনের সম্বন্ধে শুনে থাকবেন, তিনি এই-এই-এই...
এবার ডা. ফাউজিয়া ঝলমলে মুখে বললেন, আরে বলেন কী, চিনি তো খুব ভাল করে চিনি। আমি এঁর অপারেশন নিজে করব। এ তো আমার জন্য গর্বের
আমি আটকে রাখা শ্বাস ফেলি, যাক, একটা গতি হলো। দুলালের মুখের আধার ক্রমশ কেটে গেল।

এখন থেকে বেরিয়ে আমার নির্ভার লাগছিল। এই ছেলেগুলো আলগোছে সব দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছে। এরা ডানে গেলে আমিও ডানে যাই, বাঁয়ে গেলে বাঁয়ে। উপর-নীচে গেলে আমি কেবল অনুসরণ করি মাত্র। আসলে এরপর আর আমার করার কিছুই থাকে না। সায়েরা বেগমের একগাদা টেস্ট করানো হলো, কিছু টেস্ট ঢাকা থেকে করিয়ে আনতে হবে। অপারেশন হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
এই স্বপ্নযাত্রা একটা লম্বা দৌড়- এখানে থামাথামির কোনো স্থান নেই। এখানে ব্যাটন বদল হয় কেবল...।

Wednesday, February 26, 2014

একটি স্বপ্নের অপমৃত্যু!

আমার একটি স্বপ্ন নিয়ে লিখেছিলাম, একটি স্বপ্ন এবং... [১]। অনেকে হয়তো খানিক অবাক হয়েছিলেন, খবরের খোঁজে নামের লোকাল একটা পত্রিকা নিয়ে ব্যাটা আবার স্বপ্নও দেখে! আমি তো লোকাল ইন্টারসিটি নিয়ে মাথা ঘামাই না। পত্রিকাটি আসল আমি পত্রিকা হিসাবে দেখছিলাম না, দেখছিলাম...।
এটার মাধ্যমে ছোট-ছোট স্বপ্নকে ছোঁয়ার চেষ্টা। যেমন ছোট্ট একটা উদাহরণ দেই, স্কুলের হাজার-হাজার শিক্ষার্থিকে বিনামূল্যে সৌজন্য কপি দেওয়া এই কারণে যাতে করে এদের মধ্যে পাঠের অভ্যাস গড়ে উঠে।

সম্প্রতি এই পত্রিকার কিছু কর্মকান্ড আমার পছন্দ হচ্ছিল না বিশেষ করে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠা। এই পত্রিকার প্রধান হিসাবে এর দায় আমার উপরই বর্তায়।
কিন্তু এই দায় আমি কেন দিনের-পর-দিন, মাসের-পর-মাস, বছরের-পর-বছর ধরে বহন করব? আমার কী দায় পড়েছে?

এই পত্রিকার স্বপ্নদ্রষ্টা আমরা দুজনের মধ্যে একজন, যিনি পত্রিকার পুরো দায়িত্ব আমাকে দিয়েছিলেন বলেই আমার রাজি হওয়া। কাগজ-পত্রে যার বিপুল ক্ষমতা, আসল ক্ষমতা। এই ক্ষমতার গন্ধ পত্রিকার অন্য লোকজনের তো অজানা থাকার কথা না তাই তাদের উদ্ধত আচরণ এমন সীমা ছাড়ায় যে এরা আমাকে না-জানিয়ে পত্রিকার ওয়েব-সাইট, ইমেইল আইডি পরিবর্তন করে ফেলার দুঃসাহস দেখায়!

কী আশ্চর্য, এরপরও তিনি আশা করেন আমি এদের সঙ্গে বসে সমঝোতার কথা বলব? বাদাম খাব? আহা, এটা বিস্মৃত হলে চলবে না তো যে আমি নদীর পানি- নদীর পানিতে লোকজন আবর্জনা ফেলে, মলত্যাগ করে, তাতে কী! নদীর পানি তো নদীর পানিই- একে আটকায় এই সাধ্য কার! আমার তো পুকুরের ঝকঝকে পানি হওয়ার কোনো প্রকারের গোপন ইচ্ছা নাই।

স্বপ্নগুলো ভিড় করে, খিলখিল করে হাসে, পা ছড়িয়ে কাঁদতে বসে- স্বপ্ন ভেঙ্গে যায়। গতকালই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া শেষ। আজ ফলাও করে জানিয়ে দিচ্ছি, এই পত্রিকার সঙ্গে আমি আর থাকছি না। এখন থেকে এই পত্রিকার কোনো দায়-দায়িত্ব আর আমার উপর বর্তাবে না।
আমি মহাপুরুষ নই বলেই প্রিয় জিনিস ছেড়ে দিতে কষ্ট হয়। আমারও হচ্ছে, স্বপ্ন ভেঙ্গে খানখান হচ্ছে। হোক। কঠিন মানুষের কাছে জীবনের কঠিন দাবী- এভাবেই প্রিয় জিনিস জীর্ণ বস্তুর মত ত্যাগ করতে হয়। এভাবেই শুরু করার নিয়ম- ক্রমশ এই গ্রহের সবচেয়ে বড়ো রহস্য সবচেয়ে প্রিয় জীবনকেও, ছোট্ট একটা হাসি ঝুলিয়ে ময়লা শার্টের মত ছুড়ে ফেলতে হয়...।

১. একটি স্বপ্ন এবং...: http://www.ali-mahmed.com/2013/10/blog-post.html

Tuesday, February 25, 2014

যেখানে দেখিবে ছাই।



ভরসা করা যা না এমন একজন মানুষ যখন আমাকে বললেন, আমার কাছে পুরান পরতিকা আছে, তখন আমি হেলাফেলা ভঙ্গিতে বললাম, কত পুরনো? তিনি যখন বললেন, অনেক পুরান
আমি এবার রসিকতা করি, কত পুরনো- যখন বড়ো তুফানটা হইছিল, তখনকার?

আমি আর কথা বাড়াই না কারণ এই সব কথার কথা। এর কাছে কাজের জিনিস থাকার প্রশ্নই আসে না। কারণ অনেক ভরসার মানুষকেও যখন সালাম-কালাম শেষ হওয়ার পরই বলেছি, আপনার কাছে পুরনো কি আছে? তিনি আলোকিত মুখে বলেছেন, আছে তো। তখন আমি লজ্জার মাথা খেয়ে কাতর হয়ে বলি, দেন না আমাকে। তখন মানুষটা অম্লানবদনে বলেছেন, ছিল তো, সংগ্রামে লুট হইয়া গেছে। শোনো কথা ব্যাটার।

যাই হোক, পরের দিন এই মানুষটা ঠিক ঠিক বগলে করে একগাদা বিবর্ণ পত্রিকা নিয়ে হাজির হন। ওয়াল্লা, এ তো দেখি সোনার খনি! আমার লোভের চকচকে চোখ লুকিয়ে রাখি যদি মানুষটা এটা দেখে উল্টো হাঁটা দেন, তাহলে উপায়! যাগ গে, এমনটা কিছুই ঘটে না। মানুষটা পত্রিকাগুলো আমার হাতে দিয়ে উদাস হয়ে বলেন, নেন, আরও লাগলে দিমু নে। ওরে মানুষ, যদি জানতে আমার নিরানন্দ জীবনে এমন আনন্দময় ঘটনা কোথায়?

অধিকাংশ পত্রিকাই ১৯৫৫/ ১৯৫৬ সালের। পত্রিকার নাম, তওহীদ। জামাতে ইসলামের সাপ্তাহিক পত্রিকা। দাম? এটা বুঝতে আমার ঘাম বেরিয়ে গেছে। ১০ পয়সা বোঝা যায় কিন্তু এর পূর্বে এই চিহ্নটা কী! অনেক কায়দা-কানুন করে জানা গেল, এটা দুই আনার চিহ্ন। দুই আনা মানে ১২ পয়সা, এর সঙ্গে যোগ হবে ১০ পয়সা। মোট ২২ পয়সা!

মাওলানা ভাসানিকে নিয়ে একটা প্রতিবেদন দেখছি, জনাব ভাসানীর সাহস হইবে কি? বটে রে, জনাব ভাসানীর সাহস হবে কেমন করে! জামাতে ইসলামীর আসল কর্তা এই মওদুদী সাহেবই তো মাওলানা ভাসানীর দাড়ি ছিড়ে ফেলেছিলেন। এটা আমার কথা না, এটা বলেছিলেন, মওদুদীর আপন সন্তান [১]। তিনি আরও বলেছিলেন, কেমন করে লাইনে দাঁড় করিয়ে বাঙ্গালিদেরকে পাখির মত গুলি করা হয়েছিল। ...মওদুদী তার কোনো সন্তানকে জামাতে ইসলামীর রাজনীতি করতে দেননি। মওদুদীর ভঙ্গিটা ছিল এমন, যেমন কোনো ড্রাগ স্মাগলার ড্রাগের পোঁটলাটা বাইরে রেখে আসে, ঘরে প্রবেশ করতে দেয় না, এমন।
বলিহারি...।

 ১. জামাতে ইসলাম এবং ইসলাম!: http://www.ali-mahmed.com/2013/07/blog-post_5646.html