কারামাত আলীর কেরামতিতে এই হিসাব জাস্ট ওলটপালট হয়ে যায়। মুসলমান হয়ে যায় ৭০ ভাগ আর হিন্দু ৩০ ভাগ।
এনায়েতুল্লা আব্বাসির পূর্বপুরুষ কারামাত আলীর হাত ধরে নাকি প্রায় ২ কোটি মুসলমান হয়েছিল!
এর রেশ ধরে বা এর ফলে এনায়েতুল্লাহ আব্বাসি দ্বিজাতিতত্ত্ব-এর একটা সুফল দাঁড় করিয়েছেন। নইলে নাকি আমরা আসাম বা আগরতলায় অমুসলিম হয়ে থাকতাম!
যাই হোক, এনায়েতুল্লা আব্বাসি এর কঠিন রেফারেন্স হিসাবে উল্লেখ করেন ডব্লিউ ডব্লিউ হান্টারের 'দি ইন্ডিয়ান মুসলমান'স নামের একটি গ্রন্থ! আমরা একটু দেখি হান্টার সাহেব এই বিষয়ে কী লিখেছেন?
হান্টারের এই বইয়ে সব মিলিয়ে ৫ জায়গায় মৌলভি কারামাত আলীর উল্লেখ আছে।
ব্যস, এই-ই! এই কিতাবে তৎকালীন অনেক ধর্মীয় শিক্ষকের নামের সঙ্গে মৌলভি কারামাত আলীর নামও এসেছে। কিন্তু এই যে ২ কোটি মুসলমান হওয়ার তথ্যটা কিন্তু ব্যাটা ফিরিঙ্গি হান্টার চেপে গেছে। কিন্তু নন-ফিরিঙ্গি বা অন্য আর-কেউ এমন অভাবনীয় তথ্য প্রকাশ করল না কেন এ-ও এক বিস্ময়!
এদিকে আবার এনায়েতউল্লাহ আব্বাসি 'এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকায়ও নাকি এটার আলোচনা আছে বলে উল্লেখ করেছেন।
কিন্তু, আফসোস, 'এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকায়' খুঁজে শাহ কারামাত আলীকে নিয়ে কোন প্রকার তথ্যই পাওয়া গেল না!
এমনিতে এনায়েতুল্লা আব্বাসি নিজের নামের পূর্বে ডক্টরেট ডিগ্রি লাগান। এর সপক্ষে দাবী করছেন,
'(তার ভাষায়) লিবিয়ার এক সাহিত্যিকের উপর ডক্টর নিয়েছেন...'।
তিনি নিজেকে বাংলাদেশের গ্রান্ড মুফতি দাবী করেন এবং নবীর বংশধর বলেও:
কিন্তু এখন দেখছি এনায়েতুল্লা আব্বাসিকে নিয়ে আলোচনা করাটাই আমার লেখালেখির ভাষায় 'শব্দের অপচয়', কারণ:
এই ভিডিও ক্লিপে গুইসাপ বিষয়ে, হাইড্রোজেন-অক্সিজেন নিয়ে এক মহা 'গভেষণা' করেছেন আমাদের এই 'বি-রা-ট গভেষক'। আমি সেই গবেষণার বিস্তারিত নিয়ে ফিযুল আলোচনায় গেলাম না কিন্তু তিনি দাবি করছেন:
"...গুইসাপ নাকি বাঁচে ৭৫০ বছর...!"
গুইসাপ কেন, এতো বছর পৃথিবীতে কোন প্রাণী বাঁচে এটা আমার জানা নাই। অন্য গ্রহের কথা অবশ্য জানি না কারণ অন্য গ্রহের কারও সঙ্গে আমার বাতচিত করার সুযোগ হয়নি! না-হওয়ার এটাও একটা কারণ আমি বাঙলা ব্যতীত অন্য ভাষা জানি না।
... ... ...
এই মানুষটার(!) হালের একটা ভিডিও ক্লিপ দেখলাম:
এখানে তিনি বলছেন:
"খামেনির মৃত্যুতে ইন্না-লিল্লাহ... বলা যাবে না। বললে, যে বলবে তার ইমান থাকবে না...এবং (খামেনির মৃত্যুতে) ইরান এবং শিয়াদের ফেতনা নির্মূল হয়েছে!"
আহা, আমার এখন সিংহ এবং গিধড়ের গল্প মনে পড়ে যাচ্ছে। আহারে, খামেনির মত সিংহকে নিয়ে আলাপ করছে এই নিম্নশ্রেণীর এক প্রাণী, যার কাজ হচ্ছে কথায়-কথায় মানুষকে কাফের উপাধি দেওয়া:
এবং হেলিকপ্টারে ঘুরে-ঘুরে (লোকজন নাম দিয়েছে 'হেলিকপ্টার হুজুর') ওয়াজ করে টাকা কামানো আর খানকায় বসা ব্যতীত এর তো আর কোন কাজ নেই!







No comments:
Post a Comment