Search

Wednesday, May 7, 2014

ফিরে দেখা এবং বিজ্ঞ বুদ্ধির খেলোয়াড়।



এই লেখাটা (https://www.facebook.com/ali.mahmed1971/posts/10151410352537335) লেখার পর আমি বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করেছিলাম, বন্ধুতালিকায় থাকা অনেক বুদ্ধিমান মানুষ আমার লেখালেখি নিয়ে আগ্রহ হারিয়ে ফেললেন। কারণ এরা মনে মনে ঠিক করলেন এই লুকটার লেখা পড়ার আর কোনও অর্থ হয় না! হুশ, সাদা পাতা আবার পড়ার কী আছে? কেউ-কেউ তালিকা থেকে ছাঁটাইও করে ফেললেন। এদের দাবী ছিল বুদ্ধিমানদের হ্যাঁ বলুন। এদের সুরে সুর মিলিয়ে হ্যাঁ বলতে না-পারার কারণে বড়ো ক্ষতি হয়ে গেল গো। 

অবশ্য এই নিয়ে আমার খুব একটা উদ্বিগ্নতা নাই কারণ এদেরকে কেমন করে বোঝাই জনপ্রিয় ফেসবুকার, জনপ্রিয় লেখক হওয়ার গোপন কোনও ইচ্ছা আমার নাই। জনপ্রিয় মানুষদের অনেক ধরনের সীমাবদ্ধতা থাকে, এর-ওর মন যুগিয়ে চলতে হয়, ফরমাইশ টাইপের লেখা লিখতে হয়।
স্যারদের বিনয়ের সঙ্গে বলি, যেটা ঠিক মনে হবে সেটাই লিখব বিকলাঙ্গ লেখা লিখব কোন দুঃখে!

যা্ হোক, ওই লেখার এক জায়গায় আমি বলেছিলাম, ...মাদ্রাসার ছাত্ররা কখনও জামায়েতে ইসলামীর পক্ষে, কখনও হেফাজতি ইসলামের ঢাল হিসাবে বা আগামীতে 'ইসলাম বাঁচাও' এমন কোনো সংগঠনের নামে ব্যবহৃত হবে, হতেই থাকবে...
হেফাজতের নামে অনেক শিশু কেমনতরো ব্যবহৃত হয়েছে তার নমুনা আমরা গত বছর শাপলা চত্বরের সমাবেশে দেখেছি। অসংখ্য শিশুর বাবা-মা জানতেনই না যে তার সন্তান ঢাকার এই সমাবেশে গেছে! হুজুর বলেছেন, যেতে হবেই, ধর্ম বিপন্ন ব্যস এরপর আর কোনও কথা চলে না। ওখানে আরেক ভুবন- হুজুরদেরর কথার উপর কোনও কথা বলার যো নেই। দূর-দূরান্ত থেকে ওই সমস্ত মাদ্রাসায় ভর্তি হওয়া শিশুগুলোর অসহায়ত্ব কাছ থেকে না-দেখলে আসলে বোঝা যাবে না।

ওই লেখায় মাদ্রাসা বিষয়ে অনেক কিছুই লেখা হয়েছে তারপরও কিছুটা বলি, এই শিশুগুলোর নিজ ইচ্ছায় এখানে ভর্তি হওয়ার উদাহরণ খুবই কম। এখানে পরিবার, বাবা-মার ইচ্ছাই প্রবল। আমি এমন অনেক উদাহরণ জানি বাচ্চা গর্ভে থাকাকালীনই বাবা-মা মানত প্রতিজ্ঞা করেন ছেলে-মেয়েকে মাদ্রাসায় দেবেন। নিজের সন্তানকে আল্লার রাস্তায় উৎসর্গ করে দিলেন অথচ নিজেরা কিন্তু উৎসর্গ হওয়া দূরের কথা এই বিষয়ে দিনে আধ-ঘন্টা সময়ও দেবেন না। মাদ্রাসায় পড়ুয়া এমন অনেক বাবা-মার সঙ্গে আমি কথা বলে দেখেছি ধর্ম পড়া নিয়ে এদের নিজেদের বিশেষ আগ্রহ নাই। অনেকে আমাকে বলেছেন, ছেলেই তো বেহেশতে নিয়েই যাবে...
এমতাবস্থায়, এমন দেশে কেউ যদি বলেন মাদ্রাসা তুলে দিতে হবে তাহলে তিনি অলীক স্বপ্ন দেখেন।

আমি এমন মাদ্রাসা পড়ুয়ার কথাও জানি যে ছেলেটি অসম্ভব প্রতিভাবান। এই ছেলেটির কম্পিউটারের প্রতি তীব্র আকর্ষণ। সুযোগ পেলে এ যে কম্পিউটারে  তাক লাগিয়ে দেবে এতে অন্তত আমার কোনও সন্দেহ নাই। তাহলে এ কেন মাদ্রাসায় পড়ছে? বাবা-মা চাচ্ছেন তাই। এই অবস্থা দেশের সর্বত্র।

এমনিতে একজন হযতো তার সন্তানকে কদাপি মাদ্রাসায় দেবেন না কিন্তু তার ভাগিনা, ভাতিজা দূর সম্পর্কে আত্মীয়কে কিন্তু তিনি আটকে রাখতে পারছেন না। বিষয়টা অতি স্পর্শকাতর হওয়ায় স্বজনকে থামাবার যৎসামন্য ক্ষমতাও কিন্তু তার নাই।
শাপলা চত্বরে শিশুদের মধ্যে আমাদের কারও কোনও স্বজন থাকবেই না এ যে প্রশ্নাতীত। বিভিন্ন সময়ে আমরা গণহারে এদেরকে গালি দিচ্ছি, রসিকতা করছি, তিন-উল্লাস করছি অথচ মাদ্রাসার রক্তাক্ত ছোট-ছোট বাচ্চাদেরকে এই অজানা শহরে ফেলে সেদিন হেফাজতের নেতারা কাপুরুষের মত পালিয়ে গিয়েছিলেন! অন্য নেতাদের মতই এই সমস্ত হেফাজতের নেতাদের কারণে রোষ থেকে  বাঁচতে পারছে না এই বাচ্চাগুলোও।

এ সত্য, হেফাজতের একজন রুহির মত দায়িত্বশীল মানুষ যখন রানা প্লাজায় হাজার মানুষের মৃত্যু নিয়ে অবলীলায় বলেন, রানা প্লাজার ৫ম তলায় বুধবার হেফাজত বিরোধী ২৭ এপ্রিল নারী সম্মেলন এবং আমাদের ঢাকা অবরোধ কর্মসূচী বানচাল করতে ভবনের মালিক, যুবলীগ নেতা সোহেল রানাবাছাইকৃতসন্ত্রাসীদের সঙ্গে মিটিং করছিলএর কিছুক্ষণ পরে আল্লাহর গজবেভবনটি ধসে পড়ে।" তখন মনে হয় এ স্রেফ একটা চলমান দানব!

শাপলা চত্বরের সমাবেশের নামে যে বিস্ময়কর উত্থান ওদিন এটা আমাকে খুব একটা বিস্মিত করেনি- আসলে বাস্তবতাই এমন। এটা ঢাকা বা বৈদেশে বসে উপলব্ধি করা কঠিন বৈকি।
এমনিতে শফী সাহেব কেন সেদিনই সমাবেশটা সমাপ্ত করলেন না এই নির্বোধ উত্তরটা সম্ভবত তিনি নিজেও দিতে পারবেন না। করলে... যেটা হতো- আগামীতে আর কখনও এর মহড়া না-দিয়েও এই অকল্পনীয় শক্তির লেশটা থেকেই যেত।

এদিকে বিভিন্ন সুবিধাবাদী দলগুলো তো মাথা ঢুকিয়েই ছিল এরা গোটা শরীর ঢোকাবার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। পাগলাপানিতে ডুবে থাকা (ক্ষমতা ছাড়ার পর এই লোকটার বাসা থেকে মাত্র ৪০ লিটার মদ উদ্ধার করা হয়ছিল) এরশাদের মত মানুষও পানি খাওয়াতে ঝাঁপিয়ে পড়লেন!
আর এখন যখন এটা পড়ি, ...প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগকে বন্ধু বললেন হেফাজতে ইসলামের সর্বোচ্চ নেতা আল্লামা শাহ আহমদ শফি... তখন এটাই মনে হয় অশ্লীলতার সংজ্ঞা কেবল মানুষের নগ্ন গাত্র না। অন্য দলগুলোর সঙ্গে পাল্লা না-দিলে চলবে কেন!  

এটা আমার নিজস্ব মত, হেফাজতের সমাবেশের নামে ঢাকায় যে তান্ডব শুরু হয়েছিল এটা দ্রুত না-থামিয়ে কোনও উপায় ছিল না। ঢাকার দেড় কোটি মানুষ তখন ছিলেন অরক্ষিত, আতংকিত।
থামাতে গিয়ে স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে দ্বিমত থাকতে পারে, থাকতে পারে অনেক অযৌক্তিক আচরণ নিয়ে বক্তব্য কিন্তু রাতের বেলা ব্যতীত এই কাজটা না-করে কোনও গত্যান্তর ছিল বলে আমি মনে করি না।
রাতে তো ঘোষণা দেওয়াই ছিল ভোর হতেই বিএনপির লোকজনেরা পিলপিল করে এখানে যোগ দিত। তখন হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ত এমনটাই আমি মনে করি।

আমার সেই সমস্ত বুদ্ধিমান বন্ধুদেরকে এই বলে লেখাটা শেষ করছি আপনারা নিজেদের মত সবাইকে বুদ্ধিমান ভাববেন না, অন্তত আমাকে তো অবশ্যই না...।

Sunday, May 4, 2014

রহস্যজট

' চিংগুরাদেশ' নিয়ে পূর্বেও কিছু লেখা লিখেছিলাম কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে হাতের নাগালে ম্যাপ, কম্পাস না-থাকায় দেশটা ঠিক কোথায় এর হদিস বের করতে পারিনি।
চিংগুরাদেশটা বড়ো বিচিত্র দেশ ততোধিক বিচিত্র ওই দেশের লোকজনের কর্মকান্ড! আজকাল স্বয়ং ঈশ্বরও হাল ছেড়ে দিয়েছেন।

দেশটার দায়িত্বশীল লোকজনেরা এটা বলে বলে মুখে ফেনা তুলে ফেললেন যে দেশে গুম-হত্যা নেই কিন্তু দেখো দিকি কান্ড ওই দেশের লোকজনেরা এটা মানতেই চাচেছ না। এই নিয়ে বেদম হইচই করেই যাচ্ছে। জীবিত তো জীবিত মৃত মানুষরাও এতে যোগ দিল। ডুবে গেলেই হয়! না, এরা একে একে  ভেসে উঠতে লাগল। কপাল!

গোয়েন্দা মাসুক নানা, কিরিটি, শার্লক হোমসের হকিকতনামা লিপিবদ্ধ করে যেমন একেক দেশ মাতানো হয়েছে তেমনি চিংগুরাদেশের দুঁদে গোয়েন্দা ব্রিগাঞ্জার। তমিজ করে লোকজন তাকে বলে মি. ব্রিগাঞ্জা। তিনি এগোহাখা গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান। সবাই যেখানে হাল ছেড়ে দেয় সেখান থেকে তিনি তার কাজ শুরু করেন।

একবার একটা ট্রেন দুর্ঘটনায় পতিত হওয়ায় বিস্তর লোক মারা গেলে তিনি আঁক কষে বলে দিলেন এই দুর্ঘটনাটা আসলে মিথ্যা কারণ বগিতে ৬৮ জন বসিবেক এভাবে হিসাব করে দেখলেন  মৃতের সংখ্যা এরচেয়ে অনেক বেশি তাই তার মতে এই মামলা ডিসমিস। আদৌ দুর্ঘটনাই ঘটেনি। লাশ দেখিয়ে সবাই মিলেও তাকে বোঝাতে পারলেন না যে এই দেশে স্থানাভাবে অনেকে দাঁড়িয়ে-দাঁড়িয়েও ভ্রমণ করেন। যেদিন বোঝানো গেল সেদিন থেকে আরেক হ্যাপা। প্লেন দুর্ঘটনায় পতিত হওয়ার পর তিনি অনেক বছর ধরে কস্তাকস্তি করে গবেষণা করলেন যে প্লেনের যাত্রীদের মধ্যে কারা কারা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করছিলেন এই নিয়ে।

যাই হোক, এবারও তিনি কাজ শুরু করলেন তরস্বান চিন্তা নিয়ে। সহকারীর মুন্ডুতে তলাভিঘাত করে বিড়বিড় করলেন, ছিইপা- ছিইপা! লাশগুলোকে ডোবাবার কাজে যে ইটগুলো ব্যবহৃত হয়েছিল সেই ইট নিয়ে পড়লেন। তিনি আতশ কাঁচ আগুপিছু করে অবশেষে এটা বের করতে সমর্থ হলেন ইটগুলোতে খোদাই করা, এমবিবি। ইটগুলো মামা-ভাগিনা ব্রান্ডের।

তিনি চোখের নিমিষিই রহস্যের কাছাকাছি চলে আসলেন। ঘোষণাটা দিয়েই দিয়েছেন কেবল হাতেনাতে ধরাটাই বাকী। দেশে গুম-খুন নেই যেহেতু তাই এই পেট চিরে ভেসে উঠার কর্মকান্ডের সঙ্গে মামা-ভাগিনা জড়িত। চিংগুরাদেশের যত মামা-ভাগিনা আছে সব্‌ই এখন মি. ব্রিগাঞ্জার সন্দেহের তালিকায়। আশার কথা, তিনি তার জাল ক্রমশ গুটিয়ে আনছেন। দেশের তাবৎ মামা-ভাগিনার মধ্যে থেকে আসল মামা-ভাগিনাকে ধরাটা এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা মাত্র...।
...
এ তো গেল ফিকশন এবার ফ্যাক্টস! বিচিত্র এই দেশ, বিচিত্র সরকারী সংস্থাগুলো, ততোধিক বিচিত্র আমাদের মিডিয়া। দৈনিক আমাদের সময়, ৪ মে ২০১৪

 

Thursday, May 1, 2014

বঙ্গদেশের রঙ্গ!



এই বঙ্গদেশে আমরা কী বিশ্বাস করি সেটা জরুরি না, হাল ধরে আছেন যারা তারা কী বিশ্বাস করেন সেটাই জরুরি।
এই যেমন আমি তিন ঘন্টা লোডশেডিং-এর পর এখন লিখতে বসেছি কারণ আমার লেখালেখির যন্ত্রটা দুর্ধর্ষ, এক সেকেন্ড ব্যাপআপও নেই। অতএব বিদ্যুৎ না-আসা পর্যন্ত আমার গতি নেই। নিয়ম করে প্রতিদিনই দু-তিন ঘন্টা লোডশেডিং হচ্ছে আর কত বার বিদ্যুৎ আসে-যায় এর হিসেব কে রাখে! কিন্তু বিশ্বাস করুন এই লোডশডিং-এর বিষয়টা আমি নিজেই বিশ্বাস করি না। কারণ...।

পাগল, বিশ্বস করব কোন দুঃখে!  প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানী বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেছেন, অতীত স্মরণ রাখার জন্য মাঝে-মাঝে কিছুটা লোডশেডিং হওয়া ভাল...এটাও আল্লাহর এক ধরনের রহমত। লোডশেডিং না হলে সময়ের সঙ্গে-সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে উন্নতি হয়েছে তা মানুষ ভুলে যাবে। (আমাদের সময়, ৩০ এপ্রিল ২০১৪)

আমরা ভুলে যাব? তাই তো!  খারাপ, খুব খারাপ- এটা তো কোনও কাজের কাজ না। অবশ্য এটা সত্য আমরা বড়ো বিস্মৃতপরায়ণ জাতি- গোল্ডফিশ জাতি!
শুকরিয়া-শুকরিয়া। কত প্রকারেই না আমাদেরকে সহায়তা করা হয়। অঘা-মঘার স্মৃতি বর্ধক টাইপের বোতল না-খেয়ে অটেকমেটিক পদ্ধতি রাখা হয়েছে যাতে করে ভুলে যাওয়ার কোনও যো নেই। আমরা এই কৃতজ্ঞতা কেমন করে প্রকাশ করব?

বিদ্যুৎ কোন ছার...।  বিদ্যুৎ ব্যবহার করারও কিছু কায়দা-কানুন আছে। কঠিন এক শর্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করার জন্য বেঁচে থাকাটা। মৃত মানুষের বিদ্যুৎ কোন কাজের! মৃত মানুষ বিদ্যুৎ নিয়ে লেখালেখি-হইচই করেছেন এমনটা অন্তত আমি শুনিনি।
এদিকে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, দেশে কোনও গুম-হত্যা নেই...। (আমাদের সময়, ২৮ এপ্রিল ২০১৪)
আলবত নেই, নেই-নেই-নেই। সাগর-রুনি বা ত্বকি এমন অসংখ্য মানুষ, এরা নিজেরাই নিজেদেরকে গুম করে খুন করেছেন এটা না-বলে কোনও উপায় নেই।

মাত্র গতকাল একে একে যে ৬টা লাশ ভেসে উঠল এগুলোকেও গুম-খুনের আলামত হিসাবে দেখাটা সমীচীন হবে না। কে বলতে পারে এরা নিজেরাই নিজেদের হাত পিঠমোড়া করে বেঁধেছেন, পা বেঁধেছেন, নিজের পেট নিজেই চিরে দিয়েছেন; এতে পারে না এমনটা, বেশ পারে। এই রঙ্গভরা দেশে সম্ভব, সবই সম্ভব...।

Monday, April 28, 2014

লেখার ব্যবচ্ছেদ


হালে ডাক্তারদের নিয়ে একটা লেখার কারণে আলাদা করে ইনবক্সে কেউ-কেউ লিখেছেন। একজন আমাকে ডাক্তার-বিদ্বেষী বলে চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছেন। তাঁর তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বোঝার বাকী থাকে না যে মানুষটা একজন ডাক্তার।

সব মিলিয়ে ওয়েবে বিচিত্রসব বিষয়, বিচিত্র পেশা, বিচিত্র মানুষ নিয়ে আমার কয়েক হাজার লেখা আছে যার মধ্যে ডাক্তারদের নিয়ে হবে সাকুল্যে বিশ-পঁচিশটা লেখা! এই লেখাগুলোর মধ্যে আবার বেশ কটা লেখা  বিভিন্ন ডাক্তারদের মহানুভবতা নিয়ে। এরপরও ডাক্তার-বিদ্বেষী তকমা পাওয়াটা আমার জন্য দূর্লভ এক অভিজ্ঞতা বটে।

পূর্বের লেখায় আমি বলেছিলাম, অন্য পেশার মতই ডাক্তাররাও এই দেশের, এই সমাজের অংশ। ডাক্তারী পেশায় আছেন বলেই এরা একেকজন চলমান দেবতা হয়ে যাবেন এমনটা আশা করাটা ভুল। আমাদের দেশে অন্য পেশায় যেমন ভাল-মন্দ তেমনি ডাক্তারি পেশায়ও।

অবশ্য আমার মতে গুরুত্ব বিবেচনায় এই পেশার গুরুত্ব অসম্ভব তীব্র। আগেও যেটা বলেছি, আধ-জবাই পশুর মত ছটফট করতে থাকা কোনও মুমূর্ষু রোগির কাছে একজন ডাক্তার হচ্ছেন দ্বিতীয় ঈশ্বর- এই মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড়ো ম্যাশিশিয়ান এবং ডাক্তার নামের নকল ম্যাজিশিয়ান, মাঝামাঝি আর কেউ নাই, কিচ্ছু না!

পেশার সুবিধার কথা বললে ডাক্তারদের আছে প্রাইভেট প্র্যাকটিসের নামে আলাদা পয়সা পাওয়ার অসাধারণ সুযোগ, অন্তত সৎ থেকেও। যা এই দেশে শিক্ষক এবং মামুলি দুচারটে পেশা ব্যতীত অন্য কোনও পেশায় নাই। যেমন একজন জাজ, একজন সেনাপ্রধান, একজন মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী কারও নাই। অসৎ হল সে ভিন্ন কথা। তারপরও অনেক ডাক্তার কেমন অনাচার করেন তার একটা ছোট্ট তালিকা করি:

১. অফিস আওয়ারে রোগির কাছ থেকে টাকা নেওয়া।

২. অহেতুক টেস্ট দিয়ে ল্যাবগুলো থেকে ৪০/৫০ পার্সেন্ট কমিশন খাওয়া।

৩. অখ্যাত ওষুধ কোম্পানিগুলোর নিম্নমানের ওষুধ চালিয়ে দেওয়ার নাম করে মাসোহারা হাতিয়ে নেওয়া।

৪. ওষুধ কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে অন্তর্বাস ব্যতীত সব ধরনের উপহার নেওয়া। (অন্তর্বাসের বিষয়ে দুইটা কারণ হতে পারে। প্রথমত মাপ নিয়ে ঝামেলা থাকতে পারে। দ্বিতীয়ত ওটায় ওষুধ কোম্পানির লোগো থাকলে দেখবেটা কে? ডাক্তার তো আর সুপারম্যান না যে জিনিসটা প্যান্টের উপর পরবেন।)

৫, অপ্রয়োজনে অপারেশনের নাম করে একগাদা টাকা ছিনিয়ে নেওয়া। আইসিউতে একটা রোগি যাওয়া মানে চান্দ-রাইত- ধুম মাচে দে। লাশ আনতে হলেও দু-চার-দশ লাখ টাকা না-দিয়ে উপায় নেই।

৬. রোগিদের সঙ্গে আচরণগত সমস্যা...।

এই সব তো গেল অন্ধকার দিকের কথা। এবার অন্য দিকের কথা বলি। হৃদয়বান অনেক ডাক্তার আছেন যাদের আুছে অন্যদের মতই দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি সীমাহীন আবেগ। কিন্তু এরা আছেন বড়ো কষ্টে। তাঁদের কারও বউ মাস্টারি করেন তো কেউ ডাক্তারি। ছুটি পান না, পেলেও...কোনও উপায় বের করে পোস্ট গ্রাজুয়েশন করার আপ্রাণ চেষ্টা। কিন্তু বছরের-পর-বছর ধরে ঝুলে থাকেন। বুড়া-বুড়া অধ্যাপক মহোদয়গণ পাস করতে দেবেন না কারণ এই বুড়ারা তাদের ট্যাকাটুকা, পায়ের নীচের মাটি নিয়ে খুবই চিন্তিত। এদের কারও কারও মাসিক আয় অকল্পনীয়!

অন্য দিকে এমন অসংখ্য উদাহরণ আছে কেবল একটার কথা বলি। ডা. সুমন নামের তরুণ একজন ডাক্তার আপ্রাণ চেষ্টা করেন চিকিৎসার মাধ্যমে মানুষকে যত প্রকারে সম্ভব আরাম দিতে। তাঁর অফিসে যে চেয়ারগুলো সেগুলো নড়বড়ে, কোনটায় গজ-ব্যান্ডেজ বাঁধা। আউটডোরের নামে ফি রোজ রোগি দেখেন ষাট, সত্তুর আশি... কখনও একশ ছাড়িয় যায়! সরকার থাকার জন্য যে আবাসিক ভবন দিয়েছে সেটার পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নেই। যথারীতি চুরি হয়। সে নাহয় গেল কিন্তু এরপর থেকে তাঁর পরিবারের লোকজনেরা রাতে থাকেন আতংকে। মুখে ফেনা তুলেও নিরাপত্তা দূরের কথা দরোজা-জানালাও ঠিক হয় না। বাধ্য হয়ে তিনি জেলা শহরে বাসা নেন। এই মানুষটাকেই টানা শতেক রোগি দেখে জরুরি বিভাগেও রাত জেগে কাজ করতে হয়। কাজ শেষ করে বিশ কিলোমিটার ঠেলে শহর যাওয়ার ধকল। আবার পরদিন সময়মতো কাজে ফেরার তাড়া। এই মানুষটার কাজ থেকেই সামান্য ব্যত্যয় দেখলেই আমরা ঝাঁপিয়ে পড়ব এতে সন্দেহ কী!

অনেকে বলেন সেবার জন্য রোগি বিদেশে চলে যান। এই সবটুকু দায় কী ডাক্তারদের? আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল থাকার পরও যে দেশের প্রেসিডেন্ট সামান্য চেকআপ করার জন্য সিঙ্গাপুর চলে যান সেই দেশের লোকজনকে এটা বোঝাবে এমন সাধ্য কার!

আর পুকুরে গোসল করতে গিয়ে কারও কানে পানি ঢুকেছে ব্যস প্রাণগোপাল দত্তকে দেখাও। তিন মাস পরে ডেট, প্রাণ বাবু দু-মিনিট দেখবেন কি না সন্দেহ কিন্তু কুছ পারোয়া নেহি, তাই সই।  জামাইরে প্রাণগোপাল দত্ত, দীন মোহাম্মদরে দেখাইছি, এটাও আজকাল জাঁক করে বলার মত বিষয় বটে।

এটা আমার কাছে স্রেফ একটা চুতিয়াগিরি মনে হয় লোকজনের কাছে এখন এমবিবিএস ডিগ্রিটা একটা বাদামের খোসা হয়ে গেছে। রোগিরা গাল চুলকাতে চুলকাতে জানতে চায়, তাইনে কি কান বিশেষজ্ঞ? একজন রোগি প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে সরাসরি একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারকে দেখাচ্ছে। এমবিবিএস ডাক্তাররা তাহলে আছেন কেন, ঘাস কাটতে? এরা বছরের-পর-বছর ধরে যে পড়াটা পড়েছেন এটা কী ঘন্টা বাজাবার জন্য? সরকারের হস্তক্ষেপ অতি জরুরি।

যাই হোক, তবলার ঠুকঠাক অনেক হলো এবার গান গাওয়ার পালা। আমার লেখায় কেউ ভুল ধরিয়ে দিলে আমি কৃতজ্ঞ হই কিন্তু যুক্তিহীন কথা আমার কাছে তরমুজের খোসা। এমননিতর অসঙ্গতি পেলে আমি লিখবই (https://www.facebook.com/723002334/posts/10151961018937335)। সে ডাক্তার-লেখক-মেথর তাতে কী। কারও কারও যুক্তি আমার মনে ধরেছে কিন্তু যে যুক্তিই দেখানো হোক না কেন ডাক্তারদের ধর্মঘট করাটাকে আমি কোনও প্রকারেই সমর্থন করব না, খুনের অভিযোগ আনব। এতে করে কে আমাকে ডাক্তার-বিদ্বেষী বললেন বা মানব-বিদ্বেষী তাতে আমার মোটেও কাতরতা নেই।          

Saturday, April 26, 2014

লাশের মিছিল: ফিরে দেখা



নড়বড়ে সাকোঁটা ধরে ধরে চলে গেল একটা বছর! হাজার মানুষের মৃত্যু, বিকলাঙ্গ হয়ে বেঁচে থাকাই কেবল না; মৃত্যু... অধিকাংশ মৃত্যুই হয়েছে...। এক ফোটা বাতাসের জন্য এক চুমুক পানির জন্য
মা তাঁর সন্তানের জন্মও দিয়েছেন ওখানে। যতটুকু জানি ওই সব মা এবং তাঁর ভূমিষ্ঠ সন্তান কেউই বাঁচেননি।
এই মা এবং তাঁদের সন্তানের কষ্ট বোঝার ক্ষমতা দূরের কথা এঁদের নিয়ে লিখে বোঝানোটা আমার মত লেখালেখির চেষ্টা করা মানুষের পক্ষে অসম্ভব। তবুও তখন মন কী মানে: https://www.facebook.com/723002334/posts/10151401293992335

ওখানকার কিছ দৃশ্য দেখে অনেকে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিলেন, আজও তাঁরা মানসিক সুস্থতা ফিরে পাননি। আদৌ তাঁরা কখনও সুস্থ হবেন এমনটা দুরাশা।
সেখানে কেউ কেউ নিজের ত্যাগ করা পেশাব পর্যন্ত খেয়েছেন। নিজের গায়ের রক্তও। এখনও কোনও মা-পিতা-ভাই-বোন-স্বজন হাতে ছবি নিয়ে এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়ান। মিছে আশা, যদি কোনও প্রকারে একটু খোঁজ পাওয়া যায়।

তখনকার কিছু ঘটনা সব কিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছিল। যেমন আমাদের ধর্মীয় শিক্ষক হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মাঈনুদ্দীন রুহী বলেছিলে,রানা প্লাজার ৫ম তলায় বুধবার হেফাজত বিরোধী ২৭ এপ্রিল নারী সম্মেলন এবং আমাদের ঢাকা অবরোধ কর্মসূচী বানচাল করতে ভবনের মালিক, যুবলীগ নেতা সোহেল রানা বাছাইকৃতসন্ত্রাসীদের সঙ্গে মিটিং করছিলএর কিছুক্ষণ পরে আল্লাহর গজবেভবনটি ধসে পড়ে।"

করুণা করো পরম করুণাময়- এই সমস্ত মানুষদের হাতে ইসলামকে রক্ষা করার দায়িত্ব!
দোষ করল সোহেল রানা যে ব্যাটা দিব্যি এখনও বেঁচে আর মরে গেলেন অন্তত এই ক্ষেত্রে নির্দোষ হাজারও মানুষ। বলিহারি!

এদিকে আমাদের এক ডক্টর মন্ত্রী মহোদয় তখন আবিষ্কার করেছিলেন এক অভূতপূর্ব তত্ত্ব। আমি যে লেখায় বারবার বলি হেন কোনও বিষয় নেই যা আমাদের মন্ত্রী বাহাদুররা জানেন না- কেউ এটা বিশ্বাসই করতে চান না। তো, বিবিসিকে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর জানিয়েছিলে, “..কিছু হরতাল সমর্থক ভবনটির ফাটল ধরা দেয়ালের বিভিন্ন স্তম্ভ এবং গেট ধরে নাড়াচাড়া করেছে বলে তিনি জানতে পেরেছেনতিনি বলেন, ভবনটি ধসে পড়ার পেছনে সেটাও একটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে"

মন্ত্রী মহোদয়ের এই বক্তব্যর পর আমি নিজে খুব সতর্কতা অবলম্বন করা শুরু করি। কারণ আমি নিজেও বসবাস করি ব্রিটিশদের করা প্রায় ১০০ বছর পুরনো এক ইমারতে। পূর্বে এই ইমারতে শখ করে খড়ম পরে হাঁটাহাঁটি করতাম সেটা তখনই বাদ দিয়েছিলাম কারণ ইমারত ধসে পড়লে তো আর বাঁচব না। এবং এর পাশাপাশি আমি এটাও বুঝতে পারলাম আমার পরিচিত লোকজনরা কেন এমুখো হন না কারণটা বুঝলুম বড়ো দেরিতে। কারণ আর কী, আমার এই ইমারতটা ধসে পড়ার ভয়।

এরপর যথারীতি চলে আসে আমাদের জাতীয় বিবেক পাহেলে রোশনি-পত্থম আলো ওরফে প্রথম আলোর দয়ার কথা। নাচাগানা করে  এরা কী খেলাই না দেখাল মাইরি। এই খেলার চোটে আমি খেলাই থুক্কু প্রথম আলো পড়াই বাদ দিয়ে দিলাম। এটা এখনও বহাল আছে।
অনেকে আমার এই নির্বোধ আচরণ দেখে বেদম হাসাহাসি করেছেন, বোকা রে, তোর একটা পরতিকা না-কিনলে...। আহা, জগতের সবাই বুদ্ধিমান হয়ে গেলে তো মুশকিল- এরা কাকে দেখিয়ে বলবেন, ওই দেখ, এক বেকুব যায়। 
আহা, এরা কেবল এই সবই দেখলেন আমার মানসিক আরামটা দেখলেন না! 

১. ভবন ঝাঁকাঝাঁকি:

২. ব্যাড-বাই, প্রথম আলো: https://www.facebook.com/723002334/posts/101513985598173 

৩. মাওলানা রুহি: https://www.facebook.com/723002334/posts/10151394916027335 

Wednesday, April 23, 2014

‘ডাগদর’ সাহেব


ভাবী ডাগদর সাহেবদের নিয়ে দেশ উত্তাল। এবার মিডিয়া জড়িয়ে গেছে যে তাই প্রথম পাতায় রক্তারক্তি ছবি না-এসে উপায়  আছে। অথচ গর্ভবতী মা যখন উঁচু পেট নিয়ে এই হাসপাতাল ওই হাসপাতালে একটু চিকিৎসার জন্য আধ-জবাই পশুর মত দৌড়ে দৌড়ে ওভারব্রিজ থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে পেট ফেটে মরে গেল তখন সেটা আসে ছোট্ট করে ভেতরের পাতায়। কারণ ওই হতভাগা মানুষটা মিডিয়ার কেউ না।
             
হালের এদের এই রক্তারক্তি কান্ড নিয়ে এতোটা উতলা হওয়ার কিছু নেই। এটাও মাথায় থাকা আবশ্যক এরা এই সমাজেরই অংশ। অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী গুন্ডামি করে, নিজের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করে, প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ ভাবে খুনের সঙ্গে যুক্ত থাকে, এরাও তাই করেছে। এ বিচিত্র কিছু না।
শিক্ষার্থীদের এই সব করতে হয়, নিয়ম। না-করলে শিক্ষা-জীবনটা অপূর্ণ থেকে যায়। ওখানেও মন্দ লোক এখানেও মন্দ লোক।

কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, মোটা দাগে বললে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পিতা- যিনি দলবাজি করে করেই এ পর্যন্ত এসেছেন। সন্তানরা দেখে পিতা কেমন করে মিনিটে মিনিটে লেজ নাড়াতে নাড়াতে লেজ সরু করে ফেলেছেন। এরা অপার বিস্ময়ে এও তাকিয়ে শেখে, ওযাল্লা, লেজ নাড়ালে দেখি সব সমস্যার সমাধান।

এরা দেখে ঝুলেপড়া সাদা গোঁফের পরফেসর সাহেব চকচকে জুতার নাক ঠেকিয়ে মৃতের হাড়গোড় পরীক্ষা করেন। কোনও-না-কোনও সন্তানের বাবা নামের এই হাড়গোড়গুলো এদের কাছে কেবল একটা সাবজেক্ট। পরফেসর সাহেব যখন কোনও রোগির কোলনোস্কপি করার সময় মনিটরে তাকিয়ে হইচই করে বলেন, 'এর পেটে গু ভরা'। তখন ওই রোগি লজ্জায় কুঁকড়ে যান। মা নামের সেই রোগির সামনে তার সন্তান নপুংসক হয়ে কেবল তাকিয়ে থাকে। এতে পরফেসর সাহেবের কিছুই যায় আসে না কারণ এই রোগি তার কাছে কেবলই একটা সাবজেক্ট।
কখনও পরফেসর সাহেব একপাল ভাবী শিক্ষার্থী ছেড়ে দেন রোগিতে গিজগিজ করতে থাকা ওয়ার্ডে। হাহা-হিহি-হোহো, ওখানে ওরা একজন অন্যজনের গায়ে ঢলে পড়ে। যেন পিকনিক করতে এসেছে। রোগি নামের সাবজেক্টের বিরক্তি, যন্ত্রণা দেখার সময় কোথায়।

কেউ কিসসু বলবে না। চরম অন্যায় করলেও সমস্যা নেই কারণ পেছনে দল আছে না। এর সঙ্গে বাড়তি পালক যোগ হয়- ডাকো ধর্মঘট। রাজনীতিবিদরা হরতাল ডেকে সব অচল করে দিতে পারলে ডাগদর সাহেবদের ধর্মঘট ডাকতে সমস্যা কোথায়! হরতালে কি লোক মারা যায় না? যায়। তাহলে ভাবী ডাগদর সাহেবদের ধর্মঘটেও লোক মারা গেলে অসুবিধা কোথায়!
এটাই বাস্তবতা এদের কাছে একটা প্রাণের আলাদা কোনও মূল্য নেই। একটা প্রাণ মানে একটা সাবজেক্ট, একটি সংখ্যা মাত্র।
...
ফেসবুকে এই লেখাটাই দেওয়ার পর Mohammad Safiullah Miah মন্তব্যে লিখেছেন, "...কিছু লোকের অন্যায় আচরণ দিয়ে পুরো একটা খাতকে দেখতে যাওয়াটা কি ন্যায্য হবে?!"
এই মন্তব্যে উত্তরে আমার বক্তব্য:
…কিছু লোকের অন্যায় আচরণ দিয়ে পুরো একটা খাতকে দেখতে যাওয়াটা কি ন্যায্য হবে?!...”

না, অবশ্যই এটা সমীচীন হবে না। এমনটা ভাবাটাও অন্যায়। এই লেখাটার বেলায় এমন ভাবনা আমার মধ্যে কাজ করেনি। তারপরও আমার লেখায় এমনটা মনে হয়ে থাকলে আগেভাগেই আমি ক্ষমা প্রার্থনা কর
ে রাখছি। সে ক্ষেত্রে সেটা আমার লেখার দুর্বলতা।

কোনও খাত বা পেশা বলতে...পেশা মানেই তো এর পেছনে কোনও-না কোনও মানুষ...। মানুষের মধ্যে যেমন ভাল-মন্দ তেমনি যে কোনও পেশায়ও ভাল-মন্দ থাকবে এটাই স্বাভাবিক। সেই পেশার পেছনের মানুষটা ডাক্তার নাকি লেখক এটা বিবেচ্য না।
সবিনয়ে বলি, বিভিন্ন সময়ে ডাক্তারদের অন্ধকার দিক নিয়ে যেমন লিখেছি তেমনই আলোকিত দিক নিয়েও। কেমন করে একজন ডাক্তার তার কষ্টার্জিত টাকা বিলিয়ে দেন বা নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ান।

দেখুন, লেখার সমস্ত অর্থ আক্ষরিক অর্থে নেওয়ার আবশ্যকতা কী! যখন এটা লেখা হয়, দেশটা চোর-চোট্টায় ভরে গেছে তখন এই লেখাটার অর্থ যদি দাঁড়ায় এমন যে এই দেশের ১৬ কোটি মানুষই চোর তাহলে তো মুশকিল। যে এটা লিখবে সে নিজেও চোর!

যখন পরিমল নামের একজন শিক্ষক পশুর ন্যায় আচরণ করে তখন আমি লিখেছি, ‘নষ্ট শিক্ষক’। এর অর্থ কিন্তু এটা না যে সমস্ত শিক্ষকই নষ্ট- পরিমলের মত মানুষেরাই নষ্ট। আবার শিক্ষকের এই পশুত্ব নিয়ে ইমদাদুল হক মিলনের মত একজন লেখক যখন অন্য রকম পশুত্ব দেখান তখন সেই মিলনকেও নিয়েও আমি লিখেছি, ‘নষ্ট লেখক’। এর অর্থও কিন্তু সব লেখক মন্দ এটা কিন্তু না।
অনেক হৃদয়বান শিক্ষক যেমন আছেন তেমনই হৃদয়বান লেখকও।

‘...আর কিছু লোক...’ এটা বলে এই অন্যায়কে উদাসীন দৃষ্টিতে দেখার অবকাশ নাই। ভাবী ডাক্তারদের ধর্মঘটে কিন্তু সিনিয়র ডাক্তাররাও সায় দিয়েছেন। ডাক্তারদের ধর্মঘট কিন্তু আট-দশটা ধর্মঘটের মত মামুলি না। আমি যতটুকু জানি এরিমধ্যে মারা গেছেন বেশ ক-জন রোগি। এটা স্রেফ খুন। যারা এই ধর্মঘটের সঙ্গে জড়িত এদেরকে আমি খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত করতে চাই- প্রত্যক্ষ না পরোক্ষ এটা আমার কাছে জরুরি বিষয় না। http://www.ali-mahmed.com/2011/07/blog-post_09.html
 

Monday, April 21, 2014

খোকা বলিল মাথায় ডায়াপার বাঁধিয়া


খোকাবাবুর নাম সুব্রক্ষণিয়ম স্বামী। খোকাবাবুর ডায়াপার মাথায় বাঁধার ফল হাতেনাতেই পাওয়া গেল। হলুদ-হলুদ পদার্থের মাঝে ঝাপলাঝাপলি করতে থাকা খোকাবাবু যখন-তখন ছড়া কাটে। অবশ্যই শিশুতোষ ছড়া। আমি এক বিজেপির ভূত/ পাশের বাড়ির বুড়ির সঙ্গে খেলি কুতকুত। (কুতকুত খেলাটা কেমন করে খেলতে হয় এর বিশদ আমি জানি না, খোকাবাবু জানে আর জানে ওই বুড়িটা।)

এদিকে খোকাবাবুর আবার বায়নাক্কারও শেষ নেই। খোকাবাবু হলুদ ফুলে মাখামাখি হয়ে বলল, তুনো-তুনো, আমা-ধের-কে না, বাংলাদেতের এক তি-তি-তি...দ-দ-দ তে-তে-তে দি-দি-দি হঅ-অ-অ...
খোকাবাবুর আধো-আধো স্বরের এই সব হাবিজাবির অর্থ করলে দাঁড়াবে, শোনো-শোনো, আমাদেরকে না বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ জমি ছেড়ে দিতে হবে।

কেন খোকাবাবু এমনটা বলছে? খোকাবাবু মনে করে, ধর্মের ভিক্তিতে বিভক্ত হয়েছিল ভারত ভূখন্ড। ...পাকিস্তান বা অধুনা বাংলাদেশ থেকে এদেশে (ভারত) যেসব মুসলমান প্রবেশ করেছে, তাদের ফিরিয়ে নিতে হবে বাংলাদেশকে। অন্যথায এদেরকে সংস্থাপনের জন্য জমি ছেড়ে দিতে হবে ঢাকাকে।... তার প্রস্তাব খুলনা থেকে সিলেট অবধি সমান্তরাল রেখা টেনে এই জমি ভারতের হাতে ছেড়ে দিক বাংলাদেশ।...

ধম্মো-ধম্মো কচ্চো, ধম্মের দোহাই দিচ্চ যে বড়ো, খোকাবাবু। রসো, জমি দেব বৈকি খোকাবাবু। তার আগে তুমি হলুদ ফুলে মাখামাখি হয়ে থাকা মুখ ধুয়ে এসে আঁক কষো দেখি। ১৩.৪ ভাগ মুসলমানের জন্য এক তৃতীয়াংশ জমি ছেড়ে দেওয়ার পূর্বে তোমার দেশের ২.৩ ভাগ খ্রীস্টানের বেলায় কী গতি, খোকাবাবু? বুঝলে, আমেরিকা বড়ো গণতান্ত্রিক দেশ- সুযোগ পেলেই সমস্ত বিশ্বকে গণতন্ত্র শেখায়। তা আমেরিকাকে বলো না খ্রীস্টানদের কারণে তাদের সবচেয়ে ছোট প্রদেশটা ছেড়ে দিতে।

আহারে-আহারে, স্বামী আমি খুব দুঃখিত, বুঝলে...। অজান্তেই কী অন্যায়ই না করলুম, বলো তো! বিশ্বাস করো, এটা বললে তোমার যে কোনও ডায়াপারেও কুলাবে না এমনটা জানলে আমেরিকার কথাটা কখনও বলতাম না, কক্ষণও না। তোমার ডায়াপারের শপথ...।      

Thursday, April 17, 2014

যুদ্ধ ডেকে সেনাপতি গেলেন হাওয়া খেতে



বিচিত্র এক সেনাপতি ঘোরতর যুদ্ধ বাঁধিয়ে হাওয়াই-জাহাজে চেপে চললেন হাওয়া খেতে। হাওয়াই-জাহাজের জানালায় মাথা বাড়িয়ে হাওয়া খান আর ছড়া কাটেন, যেখানে দেখিব হাওয়া, কপকপ করে চলবে খাওয়া। হাওয়া খেয়ে খেয়েহাওয়া-জল না, তর-জল।

সেনাপতি সাহেব কাঁধ ঝাঁকিয়ে জানালেন, যুদ্ধে সশরীরে থাকার আবশ্যকতা নাই। সবাই গোটা শরীর নাড়িয়ে বলল, আলবত নাই। সেনাপতির সঙ্গে তরকে মাওয়ালাত করার প্রশ্নই আসে না কারণ সেনাপতি সাহেব যুদ্ধের সমস্ত কলাকৌশল পূর্বেই বাতলে দিয়ে গেছেন। যুদ্ধ শুরুর পূর্বে প্রতিপক্ষ যখন বলবে, সাবধান, আরামে দাঁড়াও। তখন তুমিও বলবে, সাবধান, আরামে...। প্রতিপক্ষ যখন বললে পেটা গাইলা ফেলব তখন তুমিও বলবে, পেটা গাইলা ফেলব। প্রতিপক্ষ যখন তরবারি তোমার পেটে ঢুকিয়ে দেবে তখন তুমিও তার পেটে তরবরি ঢুকিয়ে দেবে। নো মার্সি- ছাড়াছাড়ি নাই।

আমাদের সিইসি মহোদয় প্রায় দেড় মাস আমেরিকা ভ্রমণ শেষে ফিরে এসে সহৃদয়তার সঙ্গে বলেছেন, উপজেলা নির্বাচনে যে অনিয়ম ও সহিংসতা হয়েছে আমি থাকলেও তা হত। সহিংসতা ও অনিযম স্রেফ বিচ্ছিন্ন ঘটনা।...এখন মানুষ যদি সহিংসতা করে তাহলে কমিশনের কী করার আছে। সবার মানসিকতা পরিবর্তন করে গণতন্ত্রের চর্চা করা দরকার
ঠিক, আলবত ঠিক। আমরাই খ্রাপ, খুব খ্রাপ। আমাদের বদলাতে হবে কারওয়ান মাথা কেনাবেচা করে।

তবে তিনি যে বললেন, ...তাকে কারও কাছে ছুটি চাইতে হয় না। নিজের ছুটি তিনি নিজেই নিয়েছেন...
এখানে যৎসামান্য বলার আছে। মানলাম আপনার প্রভূত ক্ষমতা- কারও কাছেই আপনাকে জবাবদিহি করতে হয় না। কিন্তু ছোট্ট্ একটা প্রশ্ন ছিল। আপনি যে দেড় মাস ইয়াংকিদের দেশে ঘুরে এলেন এটা কি আপনার নিজের টাকায় নাকি রাষ্ট্রের টাকায়? নিজের হলে এই বিষয়ে বিশেষ কথা নাই কিন্তু রাষ্ট্রের হলে কথা আছে।

ওহো, প্রভূত যে ক্ষমতার কথা বলছিলাম...। আমাদের দেশের প্রচলিত আইনে গান গাওয়া অপরাধ না, তবে...। যখন-তখন কেউ যদি টেবিলে দাঁড়িয়ে শুরু করে দেন, ধুম মাচা দে, ধুম মাচা দে, ধুম, ধু-ও-ও-ম-ম তাহলে খানিকটা গড়বড় হয়ে যায় বৈকি। অথবা কোনও মরণাপন্ন রোগির সামনে কেউ যদি গা দুলিয়ে কৌতুক বলা শুরু করে। ভাল দেখায় না, বুঝলেন...।

*সিইসি ছুটিত থাকাকালীন ভারপ্রাপ্ত সিইসির কথা শুনে মনে হচ্ছিল তিনি একটি বিশেষ দলে প্রতিনিধিত্ব করেন, সূত্র:
http://www.prothom-alo.com/bangladesh/article/180751/%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%87_%E0%A6%96%E0%A6%A4_%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%9B%E0%A7%87%E0%A6%A8_%E0%A6%A4%E0%A7%8B...%E0%A6%86%E0%A6%B0_%E0%A6%95%E0%A7%80_%E0%A6%95%E0%A6%A4%E0%A6%BE
 

Wednesday, April 16, 2014

ডক্টর অভ ছি-ছি!



আমাদের দেশটা বিচিত্র তারচেয়েও বিচিত্র এ দেশের লোকজন। একজন অন্য জনকে নীচু দেখাতে গিয়ে নিজেরা হাসিমুখে পাতালে নেমে যান। প্রচলিত একটা কথা আছে, কাউকে এক হাত নীচে নামাতে হলে নিজে দু-হাত নীচে নামতে হয়।

অনেকে অনেক কিছুই বলেন ওসব গুরুত্বের সঙ্গে দেখার অবকাশ নাই কিন্তু একজন ডক্টর যখন কোনও বক্তব্য দেন তখন সেটা উদাসীন দৃষ্টিতে দেখার কোনও সুযোগ নাই। কারণ ডক্টর ডিগ্রিটা এখনও পদ্মার ইলিশের মত সহজলভ্য হয়নি যে গুচ্ছের টাকা দিলেই ঝপ করে নোংরা বাজারের ব্যাগে চলে আসবে।

খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর জন্মপরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদতিনি বলেন, কোকো আসলে জিয়াউর রহমানের বৈধ সন্তান কি না- এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে (দৈনিক আমাদের সময়, ১৪ এপ্রিল ২০১৪) [১]

যতটুকু জানি, ডক্টর সাহেবরা মৌলিক ভাবনা নিয়ে কাজ করেন। কোেনও ডক্টর অন্যের ভাবনা নিজের বলে চালিয়ে দিলে রিসার্চ পেপারটা, যে অধ্যাপকের অধীনে কাজ করছেন তার কাজে লাগবে বাচ্চার ইয়ে পরিষ্কার করার জন্য এতে কোনও সন্দেহ নেই। 

ড. হাছান মাহমুদ কোথায় এই প্রশ্ন উত্থাপন করলেন? ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে। কেন এই প্রশ্ন উত্থাপন করলেন? 'হুদাহুদি'। সব যদি একপাশে সরিয়ে রাখি তারপরও এমন একজন দায়িত্বশীল মানুষ, ড. হাছান মাহমুদ যখন এমনটা বলেন তখন তিনি কী একবারও ভাবেন না যে এমনটা বলা প্রকারান্তরে এ দেশের সমস্ত বীরাঙ্গনাদেরকে অপমান করা?
হায়, কে বলে নগ্ন গাত্র অশ্লীল? এমন করে বলাটা যদি অশ্লীল না হয় তবে অশ্লীল বলে আদৌ কিছু নেই...।

Monday, April 14, 2014

নতুন বছর, তোমার কাছে...



পূর্বের লেখায় বলেছিলাম এর কথা পরে বলব [১]। এর নাম সুমাইয়া। এমন চমৎকার নাম কে রেখেছে কে জানে! এর খোঁজ আমাকে দিয়েছিলেন জসীমের মা। জসীমের মার নাম আমি জানি না! সবাই বলে জসীমের মা, আমিও বলি জসীমের মা।
জসীমের মা আমাকে জানিয়ে ছিলেন, এই মেয়েটা নাকি বিচিত্র। কুকুরের সঙ্গে এর সখ্যতা। কুকুরের উপর গড়াগড়ি খাচ্ছে, কুকুরকে জড়িয়ে ধরছে। সত্য-মিথ্যা বলতে পারব না কারণ আমি নিজের চোখে দেখিনি।


প্রায় ১০/১৫ দিন ধরে একে স্টেশনে দেখছি। বিস্তারিত জানতে ইচ্ছা করেনি। কেবল এটুকুই জানি এর বাবা-মা কেউ নেই! ৫/৬ বছরের এই মেয়েটা একা-একা থাকে।
প্রথম দিকে জসীমের মাকে বলে-কয়ে একে দেখে রাখার জন্য বলেছিলাম। জসীমের মার সঙ্গে এর হৃদ্যতা দেখে চোখ ভরে গিয়েছিল। জসীমের মার সঙ্গে লেখার ছবিটায় এর এক অংশও আসেনি! ক্যামেরা নামের যন্ত্রের সেই ক্ষমতা কই। যেদিন এর চুলের জন্য এটা-সেটা নিয়ে গিয়েছিলাম সেদিনই কে যেন এর মাথা কামিয়ে দিল। মনের দুঃখে জসীমের মা এর জন্য নিয়ে যাওয়া চুলের জিনিসপত্র নিজের মাথায় পরে নিয়েছিলেন।
কপাল, জসীমের মা এখন আর এই এলাকায় নেই। মেয়েটি আবারও একা হয়ে পড়ে।

এর দেখভালের জন্য যেমন-তেমন একটা উপায় খুব জরুরি হয়ে পড়ে। এই ছোট্ট মেয়েটার অন্ধকার ভুবন সম্বন্ধে বোঝার ক্ষমতা একেবারেই নেই। জসীমের মার কাছেই শুনেছিলাম এ ছেলেদের সঙ্গেও সমান তালে খেলে, মেলামেশা করে, ঘুম পেলে ঘুমিয়ে পড়ে। যা তার জন্য অসম্ভব ঝুকিপূর্ণ।

স্টেশনেরই এক মহিলা, জান্নাতের মা (জান্নাত, এদের এমন চমৎকার নাম রাখাটা আমাকে চমৎকৃত করে) অনেক বলে-কয়ে এটা-সেটার লোভ দেখিয়ে খানিকটা দাদাগিরি করে অন্তত এটুকু রফা করা গেল যে, এই মেয়েটি রাতে জান্নাতের মার কাছে ঘুমাবে। এই ব্যবস্থাটাই এখন পর্যন্ত চলে আসছে। কিন্তু এটা যে কোনো স্থায়ী সমাধান না এ আমি বিলক্ষণ জানি। আমার বুদ্ধিশুদ্ধি গুলিয়ে যায়, লজ্জায় নিজেকে পোকা-পোকা লাগে এরচেয়ে ভাল কোনো ব্যবস্থা করা যাচ্ছে না বলে।
এর জন্য আর্থিক সহায়তাটা এখন জরুরি না, যেটা জরুরি সেটা হচ্ছে একটা নিরাপদ আশ্রয়। নতুন বছরের কাছে আপাতত আমার এটাই চাওয়া...।

আমার বিরুদ্ধে কঠিন অভিযোগ আছে যে আমি বিভিন্ন জনের অন্ধকার দিক নিয়ে কথা বলি। হবে হয়তো! তবে আমি যে নিজের অন্ধকারের পশুটার গায়ের গন্ধটাও বেশ টের পাই। যেমন আমি প্রতিদিনই অপেক্ষায় থাকি সুমাইয়া নামের মেয়েটি কোথাও চলে গেলে দায় এড়িয়ে আরামের শ্বাস ফেলব। কিন্তু আমার মুখে ছাই দিয়ে সুমাইয়া দিব্যি আছে। এই যেমন আজ সকালে দেখি সুমাইয়া এবং জান্নাত কুড়িয়ে পাওয়া ছেঁড়া জুতা প্রাণপনে টানাটানি করে পরার চেষ্টা করছে। জান্নাতকে কে যেন দিয়েছে জামাটা ঢলঢলে জামাটা গায়ে দিয়ে দিব্যি খুশি। ঘটনা কিছুই না- পহেলা বৈশাখের ছোঁয়া লেগেছে এদের মাঝেও।

   
১. http://www.ali-mahmed.com/2014/04/normal-0-microsoftinternetexplorer4.html

Friday, April 11, 2014

ফিরে গেছে। ঘরের ছেলে, ঘরে...।


রেলপুলিশ এক নায়ককে নিয়ে লিখেছিলাম [১]। যথারীতি নায়কের পাশাপাশি হাত ধরাধরি করে চলে আসে খল নায়কের কথা।
মোস্তফা নামের যে মানুষটার কথা বলেছিলাম ওই মানুষটার দুর্গতির জন্যও দায়ী অন্য এক রেলপুলিশ।
ঘটনার আদ্যপ্রান্ত মোস্তফার মুখে পরে শুনেছিলাম। আমার ধারণা ছিল মোস্তফা নামের মানুষটার সেরে উঠতে অন্তত দু-তিন দিন সময় লাগবে অথচ আজ সকালেই এই মানুষটা হাসপাতাল থেকে আমার বাসায় এসে হাজির। খেটেখাওয়া শক্তপোক্ত মানুষ বলে কথা!

মোস্তফা আমাকে যেটা বললেন: টিকেট না-পেয়ে ট্রেনের ছাদে যাত্রা করছিলেন এ সত্য কিন্তু মাগনা না, রেলের লোকজনকে টাকা দিয়ে। গাড়ি এখানে থামামাত্র কোনও এক রেলপুলিশ স্টেশনে খেলতে থাকা ডাঙ্গর ছেলেপেলেদেরকে বলে, ট্রেনের ছাদের লোকজনকে নামাতে। ছেলেরা মহা উসাহে ক্রিকেটস্ট্যাম্প দিয়ে পিটিয়ে লোকজনকে নামায়। এদের কাছ থেকে কিছু টাকাও হাতিয়ে নেয়।

এমন সময় মোস্তফার ফোন বেজে উঠে। সঙ্গে সঙ্গে ওই রেলপুলিশ অশ্রাব্য গালি দিয়ে ওই ছেলেদেরকে বলে, একে ধর, এর কাছে টাকাপয়সা পাওয়া যাবে। ছেলেরা স্ট্যাম্প দিয়ে মোস্তফাকে পেটাতে থাকে। ছিনিয়ে নেয় মোবাইল ফোন। যেটা ওই পুলিশকে হস্তান্তর করে। এক পর্যায়ে মোস্তফাকে পেটাতে পেটাতে ট্রেনের ছাদ থেকে ফেলে দেয়। নীচে পড়ে যাওয়ার পরও এরা স্ট্যাম্প দিয়ে নির্দয় ভাবে মোস্তফাকে পেটাতে থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত না মোস্তফা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। জ্ঞান হারিয়ে ফেলার পর মোস্তফার কাছে থাকা ১৭০০ টাকাও এরা ছিনিয়ে নেয়।

বলি। পূর্বের লেখায় আমি অনুমান করে লিখেছিলাম, একটা মানুষ তো কেবল একটা সংখ্যা না- একজন মানুষের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে পরিবার নামের অনেকগুলো মানুষনথ-নাড়া গ্রাম্য বধু, ছোট্ট-ছোট্ট রেশমি চুড়ি পরা বালিকা, দুরন্ত বালক, খকখক করে কাশতে থাকা বুড়া-বুড়ি নামের বাবা-মা
বাস্তবেও মোস্তফার বউ, এক ছেলে, এক মেয়ে, আর বাবা-মা। ঝিনাইদহে কাজের বড়ো অভাব তাই অনেকের সঙ্গে লাঙ্গলকোটে গিয়ে দিনমজুরের কাজ করেন। একা যাত্রা করার কারণ হচ্ছে বাড়িতে অসুখ শুনে গিয়েছিলেন- এরপর ফিরছিলেন। এরপরওই এই ঘটনা।

যাই হোক, এই সব তো গেল অন্ধকারের কথা। আলোর কথাটাই বলি। বিকালে যখন মানুষটা পৌঁছে ফোন দেন, আমি ঠিকঠাক তো পৌঁছে গেছি, তখন আমি বিড়বিড় করি, ঘরের ছেলে...।

*বিষয়টা প্রাসঙ্গিক বলে খানিকটা শেয়ার করি। মোস্তফা ফিরে যাওয়ার পর ঘন্টায়-ঘন্টায় আমাকে ফোন করছেন। বারবার এটাও বলছেন, আপনারে বিরক্ত করতাছি...। এই লেখাটা যখন লিখছি তখনও ফোন, ভাইজান, ভাত খাইছেন...। অনেক দিন এমন মায়া করে কেউ বলে না! আমি অতি সাধারণ মানুষ বলেই স্বল্প শিক্ষিত এই মানুষটার আবেগ আমাকে স্পর্শ করে।

অথচ কামরুজ্জামান লিটন নামের এই মানুষটার কথা আমি ভুলে গিয়েছি সেই কবেই [২]। আজ আবারও মনে পড়ল। অন্য ভঙ্গিতে মোস্তফা মনে করিয়ে দিলেন। অতি শিক্ষিত কামরুজ্জামান লিটন নামের মানুষটা ফিরে গিয়ে আমার সঙ্গে আর কখনই যোগাযোগ করেননি, আজও না।


২. http://www.ali-mahmed.com/2011/08/blog-post_26.html

নায়ক



স্টেশন থেকে চলে এসেছিলাম মেজাজ খারাপ করে। সুমাইয়া নামের চার-পাঁচ বছরের মেয়েটাকে আজ পাইনি (একে নিয়ে পরে কোনও একদিন লিখব)। এই মেয়েটিকে এন্টিবায়োটিক খাওয়াবার আজ শেষ দিন। বেছে বেছে আমি প্রতিদিন একটা করে ক্যাপসুল খাওয়াতে হয় এমনটাই পছন্দ করেছিলাম। কারণ দিনে দু-বেলা তিন বেলা নিয়ম করে একে ওষুধ খাওয়ানো আমার পক্ষে সম্ভব না। আর একে ওষুধ দিয়ে এলে এ যে নিয়ম করে খাবে না এটা জানার বাকী নেই।

অন্য এক কাজে ব্যস্ত এমন সময় একজন হন্তদন্ত হয়ে তাড়া দিলেন।  ট্রেন থেকে নাকি একজনকে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তাড়া দেওয়া মানুষটার উপর বিরক্ত হইনি এটা বুকে হাত দিয়ে অস্বীকার করতে পারি না। কেন রে বাপু, এর একটা গতি করলে তোমাদের আটকাচ্ছে কে! আমি গদাইলস্করি চালে হেলেদুলে হাঁটছি। হাঁটব না কোন দুঃখে? আমার ভেতরের পশুটা সব সময় ঘুমায় বুঝি? এ জেগে উঠবে না এমন দিব্যি কে দিয়েছে! সে মানে, আমি চাচ্ছি কেউ-না-কেউ এর একটা সুরাহা করুক আর এই জটিলতা থেকে আমি বেঁচে যাই।

স্টেশনে গিয়ে যেটা দেখলাম ওয়াল্লা, এখানে দেখি ইশকুল খুইলাছে রে মাওলা-ইশকুল খুইলাছে টাইপের অবস্থা। শত-শত মানুষ গোল হয়ে দাঁড়িয়ে্ মানুষের মাথার জন্য পড়ে থাকা মানুষটাকে আমি ভাল করে দেখতে পাচ্ছি না। কেবল যেটা চোখে পড়ল রক্তে স্টেশেনর মেঝে ভেসে যাচ্ছে।
মাথা-মাথা একাকার। অবশ্য এটা আমাকে খুব একটা বিস্মিত করে না কারণ মাইক্রোফোন টেস্টিং ওয়ান, টু, থ্রি বললেই বিশ-পঞ্চাশ জন জমে যায় আর এখানে একজন জলজ্যান্ত মানুষ পড়ে আছে এমন তামাশা কী হররোজ দেখা মেলে?

যে মানুষটা আমাকে তাড়া দিয়েছিলেন তাকে আমি বিরক্ত হয়ে বললাম, একে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা না-করে আমাকে খবর দিলা কোন বুদ্ধিতে?
সে বলল, পাবলিক কেউ তো আগায় না
আমার পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে জানি পুলিশের সহায়তা ব্যতীত এমন কারও জন্য কিছু করার চেষ্টা পরবর্তীতে অনেক জটিলতা দেখা দেওয়ার সমূহ সম্ভাবনা।
ওখানে অন্যদের সঙ্গে আনসাররাও (এরা রেলপুলিশের সঙ্গেই কাজ করেন) ছিলেন। এদের একজনকে বললাম, আমি একটা রিকশা প্ল্যাটফর্মের ভেতর নিয়ে আসছি আপিনি একে নিয়ে হাসপাতালের ইমারজেন্সিতে নিয়ে যান
ওই আনসার বললেন, হাসপাতালে নিলে ভর্তি করবে তো?
আমি হড়বড় করে বললাম, আপনি একে নিয়ে কেবল হাসপাতালে পৌঁছে দেন বাকীটা আমি দেখছি
ওই আনসার এবং আরেকজন সদাশয় মানুষকে পাওয়া গেল যিনি মাটিতে পড়ে থাকা মানুষটাকে পাঁজাকোলা করে উঠিয়ে রিকশায় ওই আনসারের সঙ্গে হাসপাতালে গেলেন। পরে অবশ্য ওই সদাশয় মানুষটাকে পাইনি!

যাই হোক, হাসপাতারের জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর মানুষটার চিকিসা শুরু হয়।
তাড়াহুড়োর মধ্যে মানুষটার ঘটনাটা শুনতে পারিনি এখন ছাড়া-ছাড়া ভাবে জানলাম। এই মানুষটা ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করছিলেন। দিন-দুপুরে কয়েকজন এর মোবাইল ফোন কেড়ে একে ছাদ থেকে ফেলে দেয়।
আমি যেটা নিয়ে আতংকিত ছিলাম ট্রেনের ছাদ থেকে ফেলে দেওয়ার কারণে এই‌ মানুষটার কোনও-না-কোনও হাড় ভেঙ্গেছে এতে কোনও সন্দেহ নেই। এটা নিশ্চিত হএয়ার জন্য একটা এক্স-রে করা আবশ্যক। এই হাসপাতালে বিগত বিশ বছর ধরে এক্স-রে মেশিন নষ্ট। এমন একজন মানুষকে নিয়ে বাইরে থেকে এক্স-রে করাটা যে কতটা কঠিন এটা ভুক্তভোগী ব্যতীত অন্য কেউ বুঝবে না। যাক গে, সেটাও হলো। আমার বিস্ময়ের শেষ নেই- মানুষটার অপার সৌভাগ্য হাড় ভাঙ্গা দুরের কথা একটু চিড়ও ধরেনি! খেটে খাওয়া মানুষের শক্তপোক্ত শরীর।

মোস্তফা নামের এই মানুষটার বাড়ি ঝিনাইদহ। এই মানুষটার ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে তবুও আমি আশাবাদী কোনও-না-কোনও সূত্র ধরে এই মানুষটার একটা গতি হবে। হতেই হবে। ফাজলামী নাকি! একটা মানুষ তো কেবল একটা সংখ্যা না- একজন মানুষের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে পরিবার নামের অনেকগুলো মানুষ। নথ-নাড়া গ্রাম্য বধু, ছোট্ট-ছোট্ট রেশমি চুড়ি পরা বালিকা, দুরন্ত বালক, খকখক করে কাশতে থাকা বুড়া-বুড়ি নামের বাবা-মা।

পুরো সময়টা মোস্তাফিজ নামের এই আনসার সদস্য গোটা প্রক্রিয়ার সঙ্গে স্বতঃস্ফুর্ত ভঙ্গিতে জড়িত ছিলেন যেটা আমাকে অভিভূত করেছে। আসলে আমাদের সবার মধ্যে ভাল হওয়ার ইচ্ছাটা প্রবল কেবল খানিকটা সুযোগের অপেক্ষা। আর এভাবেই সবাইকে ছাড়িয়ে একজন মোস্তাফিজ হযে যান নায়ক।