Search

Tuesday, January 28, 2014

১৯৭১ সাল এবং ‘চাইর আনা’!



১৯৭১ সালের বাংলার মুখ নামের এই পত্রিকাটি সম্বন্ধে বিস্তারিত জানা সম্ভব হয়নি। এটা বের হতো মুজিবনগর থেকে। সম্পাদক ছিলেন, ছিদ্দিকুর রহমান আশরাফী। দাম ২৫ পয়সা! আরও সহজ করে বললে চাইর আনা!

স্ক্যান করতে গিয়ে দেখি কাগজগুলো ঝুরঝুরে হয়ে গেছে। এতোই সাবধানে নাড়াচাড়া করছিলাম যেন ডিমের খোসার ন্যায় ভঙ্কুর। সামান্য চাপেই গুঁড়ো হয়ে যাবে। আমি আমার নিজের কর্কশ আঙ্গুলগুলোকে ক্রমাগত নির্দেশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, বাপু রে, সাবধান, খুব সাবধান। একটু এদিক-সেদিক হলেই কিন্তু সোজা মার...।

Monday, January 27, 2014

১৯৭১ এবং...।



পুরন জিনিস সংগ্রহ করার বাতিক আছে আমারএর সঙ্গে যোগ হয়েছে ১৯৭১ সালের যুদ্ধকালীন জিনিসপত্র সংগ্রহ করার দুর্দান্ত ইচ্ছাটুকটুক করে অনেক কিছুই সংগ্রহে চলে এসেছেমুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কাজ করার সুবাদে, তাঁদের সঙ্গে সম্পর্কটা খানিক গাঢ় হলেই আমি নির্লজ্জের মত জানতে চাই ১৯৭১ সালের কি আছে আপনার কাছে? একটা সুতার টুকরো হলেও তাই সইকেউ-কেউ ভারী অবাকও হনসম্ভবত নিশ্চিত হতে চান আমার মাথায় গোলমাল আছে কী না এই সম্পর্কেআমার মাথায় গোলমাল আছে এই নিয়ে অন্য কারো সন্দেহ থাকলেও অন্তত আমার নিজের নাই
আমি কচ্ছপ-মানবের মত লেগে থাকিনিতান্তই বাধ্য হয়ে, খুশিমনেই, এটা-সেটা এঁরা আমাকে উপহার দেন

এই যেমন জব্বার ভাই [], যিনি ১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে আস্ত একটা ট্যাংক চালিয়ে পালিয়ে এসে যুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেনতিনি আমাকে উপহার দিয়েছিলেন গুলির বাক্সজং ধরা, তাতে কী! আহা, আমার আনন্দের সীমা মাপার মেশিন কই!
আগরতলার বিকচ চৌধুরির কাছ থেকে দুলাল ঘোষ আমাকে সংগ্রহ করে দিয়েছিলেন ১৯৭১ সালের দূর্লভ কিছু পত্রিকা

সম্প্রতি একজন মুক্তিযোদ্ধা মো. জমশিদ শাহ উপহার দিয়েছেন ৭১ সালের একটা ফুল প্যান্ট এবং ক্যাপতাঁর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাইএই প্যান্টটা দেখ আমার অন্য রকম অনুভূতি হয়েছেএটার কাপড় এতোটাই খসখসে, রুক্ষ যে আজ কাউকে এমন একটা প্যান্ট বিনে পয়সায় দিলেও পরতে চাইবে নাকেউ শখ করে পরলেও গা কুটকুট করবেঅথচ তখন এটা পরেই এঁরা দিনের-পর-দিন, মাসের-পর-মাস পার করে যুদ্ধ করেছেন

এই অতি খসখসে কাপড়টায় যখন আমি হাত বুলাই তখন দুম করে ২০১৪ থেকে ফিরে যাই ১৯৭১ সালে! এই অনুভূতি লিখে বোঝাবার মত ক্ষমতা আমার কই! তারচেয়ে আমার ভাল লাগায় মাখামাখি হয়ে থাকি সেই ভালো...

. মুক্তিযুদ্ধে, একজন ট্যাংক-মানব! : http://www.ali-mahmed.com/2010/03/blog-post_03.html     

Sunday, January 26, 2014

সোনার বাংলা!

সহায়ক সূত্র:
১. ও কমান্ডো, এ দিনও দেখার ছিল!: http://www.ali-mahmed.com/2014/01/blog-post_6827.html

Friday, January 24, 2014

ও কমান্ডো, এ দিনও দেখার ছিল!



নৌ-কমান্ডো ফজলুল হক ভূঁইয়ার ঘরে আগুন দেওয়ার পর তাঁকে  নিয়ে গতকালই লিখেছিলাম, কমান্ডো, খবরদার, তোমার এক ফোঁটা চোখের জল যেন গড়িয়ে না-পড়ে... [১]। শপথ আমার লেখালেখির, আমি কল্পনাও করিনি যে আজ আমাকে এ লেখাটা লিখতে হবে! মাদকসন্ত্রাসীরা আজ কুপিয়েছে এই কমান্ডোকে।

ও কমান্ডো, আমরা ভুলিনি ১৯৭১ সালে যুদ্ধের পর সবাই যেখানে জমা দিয়েছিল, থ্রি-নট-থ্রি রাইফেল, মেশিনগান সেখানে তুমি জমা দিয়েছিলে চার-চারটা লিমপেট মাইন! কেবল এমন একটা মাইন দিয়েই উড়িয়ে দেয়া সম্ভব ছিল গোটা এই পৌরসভাকে।
ও কমান্ডো, একটা মাইন বাঁচিয়ে রাখতে পারলে না? তাহলে সব কিছুর সঙ্গে উড়ে যেতাম আমিও। অন্তত তোমার এভাবে এই পড়ে থাকার দৃশ্যটা অন্তত আমাকে দেখতে হতো না। জমা দেওয়া যে কমান্ডো-নাইফটা দিয়ে পেট চিরে ফেলেছিলে হাঙ্গরের সেই কমান্ডো নাইফ দিয়ে ফালা-ফালা করে ফেলতে পারতে এই সমস্ত সন্ত্রাসীদেরকে।

আধপোড়া কাগজগুলো থেকে উদ্ধার হওয়া আরও কিছু কাগজ:
গতকাল তাঁর বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার পর আবারও এফআইআর এবং ইউএনওকে লেখা তাঁর কাগজ:
সহায়ক সূত্র:

১. ‘কমান্ডো, খবরদার, তোমার একফোঁটা চোখের জল যেন গড়িয়ে না-পড়ে...’: http://www.ali-mahmed.com/2014/01/blog-post_24.html  

...ইনবক্সে, মেইলে অনেকে আলাদা করে জানতে চেয়েছেন এই কমান্ডোর বর্তমান অবস্থা, এই সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য।
তাদেরকে সবিনয়ে বলি, এই বিষয়টা পোস্টের মন্তব্যে জানতে চাইলে আমার জন্য সুবিধা হতো। কারণ জনে জনে আলাদা করউত্তর দেওয়াটা আমার জন্য অনেকখানি সমস্যা হয়ে পড়ে।


সবার অবগতির জন্য জানাচ্ছি, এই কমান্ডো এখনও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন।  তাঁকে এখনও পুরোপুরি আশঙ্কামুক্ত বলা যাবে না। কারণ তাঁর শরীরের প্রচুর ছুঁরির ক্ষত রয়ে গেছে। তবে ক্রমশ অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।

তাঁর যে-সমস্ত জরুরি কাগজপত্র পুড়ে গেছে- বিশেষ করে ১৯৭১ সালের দলিলপত্র তা তো আর ফিরে পাওয়া সম্ভব না। তবে বাঁচোয়া, পূর্বেই তাঁকে নিয়ে প্রচুর লেখালেখির সূত্রে বেশ কিছু কাগজ আমার ব্লগসাইটে রয়ে গেছে।

তাঁর ঘরের অনেকটা অংশ পুড়ে গেছে। এর আশু সংস্কার প্রয়োজন। সবটার কোনো গতি আপাতত না-হলেও খানিকটা চেষ্টা চলছে।
এবং আশার কথা হচ্ছে, প্রশাসন এখন নড়েচড়ে বসেছে। যারা তাঁর এবং তাঁর পরিবারের উপর হামলা করেছিল তাদের কাউকে-কাউকে ধরে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
আমি বিশেষ করে এখানকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ধন্যবাদ জানাই যিনি খবর পাওয়ামাত্র ঘটনাস্থলে এবং পরের দিন তাঁকে দেখার জন্য হাসপাতালে ছুটে গিয়েছিলেন।

...

আমি পূর্বেই উল্লেখ করেছিলাম, গোটা এই দেশের কোথাও এই কমান্ডোর নিজস্ব এক ইঞ্চি জায়গাও নেই। তিনি যে সরকারি জায়গায় ছাপরা তুলে থাকেন সেটার বন্দোবস্তের জন্য আবেদন করেছিলেন। সেটা ২০১১ সালের কথা, এখন ২০১৪ চলছে- এখনও কিছুই হয়নি! এই দেশে অনেকগুলো বাড়ি থাকার পরও সাংসদ-মন্ত্রীরা চোখের পলকে বাড়ি-প্লট পেয়ে যান কিন্তু এক টুকরো জায়গার ব্যবস্থা হয় না এই অগ্নিপুরুষের জন্য।
...
২৬ জানুয়ারি: 
তাঁর মত একজন কমান্ডোকে শুইয়ে ফেলা এত্তো সোজা! ঠিক-ঠিক তিনি ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন, এখনও হাসপাতালে ভর্তি কিন্তু ক্রমশ সেরে উঠছেন...।