এক-এগারো'র প্রয়োজন ছিল, কি ছিল না; এখানে এই আলোচনা জরুরি না। ওই সময়ের আলোচিত এক নাম 'জেনারেল মাসুদ'। এই নামেই মুখে-মুখে চালু ছিল নামটি। এটাও বলা হয়ে থাকে, সেনাপ্রধান মইনের স্থলে জেনারেল মাসুদ হলে এই দেশের ইতিহাস অন্য ভাবে লেখা হত! এই তর্কও থাকুক আপাতত।
এক-এগারো বা এর পরবর্তীতে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেনেন্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে হালে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালত রিমান্ডও মঞ্জুর করেছেন। তিনি কি অপরাধ করেছেন সেটা আদালতের বিচার্য বিষয়! ফায়ারিং স্কোয়াডে তিন-নলা বন্দুকে বিচার করা হবে নাকি মুক্তি দিয়ে হালুয়া-পুরি খাওয়ানো হবে, এই নিয়েও কোন সমস্যা নাই।
তো, ওসময়ও একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খেত, আদালতে উত্থাপন করার সময় যে অনাচারগুলো করা হতো, পুলিশ কী করে? আচ্ছা, ভিয়েতকং গেরিলার মত ওরা কী পুলিশের চোখে ধূলো দিয়ে এই সমস্ত অনাচার করে নিমিষেই উধাও হয়ে যায়!
ওয়াল্লা, এরা তো ভিয়েতকং গেরিলা না! কী চমৎকার করে কোর্ট-চত্বরে মিডিয়ার সামনে দাঁড়িয়ে এই লোক সাক্ষাৎকার দিচ্ছে, মাসুদকে কয়টা পচা ডিম মেরেছে, কোন এঙ্গেলে মেরেছে, কোন হাত দিয়ে...!
অনেকে নাক ঝেড়ে বলবেন, সমস্যা কোথায়? সমস্যা আছে, ভয়াবহ সমস্যা! কারণ জেনারেল মাসুদ, এই মানুষটা রাষ্ট্রের কাস্টডিতে ছিলেন। বিচারে শাস্তি দেওয়ার আগ-পর্যন্ত এই দেশের সমস্ত অস্ত্র, সব শক্তি এঁকে বা তার স্থলে অন্য যে-কাউকে রক্ষা করবে।
আমাদের এক অন্ধকার দিক, জেলহত্যা—ওই জেলহত্যা এবং জেনারেল মাসুদ বা অন্য কারো এমন হেনস্তা একই ধরনের অপরাধ! কতটুকু কম-বেশী সে ভিন্ন আলোচনার বিষয়!
আপনাদের কি মনে আছে গোলাম আজমের বিচার-ফাঁসির জন্য লক্ষ-লক্ষ মানুষ শাহবাগে জড়ো হয়েছিল। উত্তাল সমুদ্রের মত মানুষ!
বেশ-বেশ! তা গোলাম আজম তখন কোথায় ছিলেন? এই লক্ষ-লক্ষ মানুষের কাছ থেকে মাত্র পঞ্চাশ কদম দূরে। শাহবাগেই, হাসপাতালে। একটা করে পানির বোতল ছুড়ে মারলে গোটা হাসপাতাল ভেসে যেত!
এই পঞ্চাশ কদম কিন্তু কেউ অতিক্রম করার কথা কল্পনাও করেননি! এই পঞ্চাশ কদমের মাঝেই কিন্তু গোটা বাংলাদেশ হিমালয়ের মত দাঁড়িয়ে ছিল।

No comments:
Post a Comment
আপনার যে কোন মত জানাতে পারেন নিঃসঙ্কোচে, আপনি প্রাসঙ্গিক মনে করলে।