Tuesday, March 24, 2026

আন্টাঘর মাঠ—ভিক্টোরিয়া পার্ক—বাহাদুর শাহ পার্ক।

আর্মেনিয়ানদের বিলিয়ার্ড (আন্টা) খেলার জায়গা সংলগ্ন মাঠ ছিল বলে এর নাম ছিল 'আন্টাঘর'! কালে-কালে এর নাম হলো ভিক্টোরিয়া পার্ক থেকে বাহাদুর শাহ পার্ক!

১৮৫৭ সালে সিপাহি বিদ্রোহের পর প্রহসনমূলক বিচারে ইংরেজ শাসকেরা আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে খুন করে। এরপর এই মাঠে তাঁদেরকে গাছে-গাছে ঝুলিয়ে দেয়! কাক ঠুকরিয়েছে, ঈগল চোখ গলিয়ে দিয়েছে কিন্তু কেউ লাশ নামাতে সাহস করেনি!

প্রায় একশো বছর পর এই নৃশংসতার স্মরণে এখানে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করা হয়:


এখানে যে শত-হাজার মানুষ এসেছে বাহাদুর শাহ পার্ক দর্শনের জন্য না কিন্তু
আমার ধারণা, এখানকার অধিকাংশ মানুষই জানেন না কেন এই জায়গাটা কুখ্যাত-বিখ্যাত! বিশেষ করে এই প্রজন্ম। ওদিন হাজার-হাজার শিক্ষার্থী এসেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে। এরা জানেই না এদের পূর্বপুরুষদের সঙ্গে কী নৃশংস-অমানবিক-অভূতপূর্ব আচরণ করা হয়েছিল!
মনুমেন্টে কি লেখা আছে এটা বোঝা সাধ্য কার!
আহা! যেটা করা যেত বিশাল একটা বিলবোর্ডে এই অভূতপূর্ব ঘটনা বড়-অক্ষরে লিখে, আমাদের সিপাহিরা গাছে-গাছে ঝুলছে এর প্রতীকী ছবি এঁকে রাখা।
এই যে হাজার-হাজার বাচ্চারা এখানে এসেছে পরীক্ষা দেওয়ার নাম করে—এর সামনে দাঁড়িয়ে চোখ বড়-বড় করে তাকিয়ে থাকত। অন্য রকম আবেগে কাঁপত! এটাও জানত, খুনি-চোর-ডাকু-লুটেরা ইংরেজ [], মানবতার ফেরিওয়ালারা কেমন হিংস্র-অমানুষ ছিল! 
আফসোস, এই প্রজন্ম কিছু না-জেনেই বড় হচ্ছে। আসলে এদের জানাবার দায়-ইচ্ছা আমাদের নেই...।

সূত্র:
১. খুনি-চোর-ডাকু-লুটেরাhttps://www.ali-mahmed.com/2022/09/blog-post_10.html?m=1

No comments:

Post a Comment

আপনার যে কোন মত জানাতে পারেন নিঃসঙ্কোচে, আপনি প্রাসঙ্গিক মনে করলে।