প্রফেসর ডা. একেএম ফজলুল হক। এই ডাক্তার সাহেবকে নিয়ে ইতিপূর্বেও আমি বেশ কিছু লেখা লিখেছি [১], [২], [৩]। সব ফেলে কাউকে নিয়ে সিরিজ লেখা শুরু করলে তো সমস্যা। আমার মনে হয় এই প্রতিজ্ঞা করাটা এখন আমার জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে যে প্রফেসর ডা. ফজলুল হককে নিয়ে আর লিখিব না লিখিলে দাঁত দিয়ে চোখ কামড়াতে বাধ্য থাকিব।
কপালের ফের!
এমন ঢোলবাজ মানুষ আমি আমার সমস্ত জীবনে তেমন একটা দেখেছি বলে তো মনে পড়ছে না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি নিজের নামে অসংখ্য আইডি খুলে রেখেছেন।
এমন ঢোলবাজ মানুষ আমি আমার সমস্ত জীবনে তেমন একটা দেখেছি বলে তো মনে পড়ছে না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি নিজের নামে অসংখ্য আইডি খুলে রেখেছেন।
নিজের একটা আইডি থেকে নিজেই তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের পেজে আমন্ত্রণ জানান এমন করে, ‘দিস ইজ আওয়ার পাবলিক ফিগার পেজ’।
এমন লাজহীন একজন মানুষ বড় বিরল! নিজেই নিজেকে পাবলিক ফিগার ঘোষণা দিয়ে ঘোষণার স্তম্ভে পা ছড়িয়ে বসে থাকেন। কেন জানি না আমার চোখে ভাসে মানুষটা উবু হয়ে বিশেষ ভঙ্গিতে বসে আছেন।
প্রফেসর ডা. ফজলুল হক তার নিজের বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রোগিদের নিয়ে প্রচুর ভিডিও পোস্ট করেছেন। এগুলো কেবল ভয়ংকরসব ভিডিওই না। তিনি সম্ভবত রোগির গোপনীয়তা রক্ষার শপথ ভঙ্গ করেছেন। এই অধিকার একজন ডাক্তারেরও আছে বলে আমি মনে করি না। কেউ-কেউ এমনটাও বলবেন, এখানে হয়তো এটা রোগীর সম্মতিতে হয়েছে। তো?
মুমূর্ষু অবস্থায় বা চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ইশ্বরতুল্য একজন ডাক্তারের কথা ফেলে দেবে একজন সাধারণ রোগী, তাও বাংলাদেশের মত একটা দেশে। এ অকল্পনীয়!
এমনটা যদি হয়েও থাকে তাহলে আমি বলব এই মানুষগুলোকে কি পরিষ্কার করে বলা হয়েছে, আপনাদের এই ভিডিওগুলো আমি আমার লোভের লকলকে জিভের জন্য জনসমক্ষে উপস্থাপন করব? এই ফজলুল হকের কাছে রোগী নামের এই মানুষগুলো একেকটা সাবজেক্ট হলেও এঁরা আমাদের কারও-না-কারও স্বজন। আমার মনে আছে আমার মার সঙ্গে যে ডাক্তার মহোদয় যেমন অসভ্য আচরণ করেছিলেন আমি ওই ডাক্তারকে নাম দিয়েছিলাম, ‘গু-ডাক্তার’ [৪]। ওদিন আমি যদি আমার মার কথা চিন্তা না করতাম তাহলে হয়তো তখন ওই ডাক্তারকে…থাক সে প্রসঙ্গ।
আচ্ছা ধরুন, কেউ যদি কোন-এক ফজু মিয়ার সাথে কেউ এমন চুক্তি করল পাওনা টাকা ফেরত না-দিতে পারলে তার শরীর থেকে ইয়েটা মানে এক পাউন্ড মাংস কেটে রাখবে তাহলে আইনের বক্তব্য কি?
এখন চিকিৎসা ব্যবসা আমুল বদলে গেছে। ওষুধ কোম্পানিগুলোর আচরণ নোংরারও অধম। এরা যে কেবল ডাক্তারদেরকেই অনৈতিক বানাচ্ছে তাই না তাদের মার্কেটিং-এর লোকজনকেও। তাই এরা যখন আপনার-আমার প্রেসক্রিপশনের ছবি উঠায় তখন আমরা বেকুব বদনে মাথা দোলাই। ওষুধ কোম্পানির লোকজনকে নাহয় চাকুরি বাঁচাতে গিয়ে নোংরামি করতে হয় কিন্তু ফজলুল হকের মত ডাক্তারকে কেন!
এখানে দেখা যাচ্ছে তিনি এক রোগির সঙ্গে বাতচিত করছেন। বাতচিতের নমুনা দেখে মনে হয় এই ডাক্তার সাহেব ডাক্তারখানা আর পায়খানা গুলিয়ে মুখপথ এবং পায়ুপথ একাকার করে ফেলেছেন। ভাগ্যিস, তিনি রোগীকে এই নির্দেশনা দেননি উবু হয়ে বসে কেমন করে বাথরুম সারতে হয় এটার ডেমো দেখাতে। ওরে, কালে-কালে তিনি না আবার রোগীকে দাঁড়িয়ে-দাঁড়িয়ে বাথরুম সারার আবদার করে বসেন।
কিন্তু এই ভিডিও অন্য ভিডিও-এর কাছে নস্যি। তিনি এই ভদ্রমহিলাকে যে ভাষায় জেরা করছেন এটা কেবল অসভ্যতাই না সামাজিক অপরাধও বটে।
এই ভিডিওটা আরও ভয়ংকর।
* আমি সবগুলো ভিডিও অস্পষ্ট করে দিলাম। তারপরও এঁদের কোন স্বজন আহত বোধ করলে আগাম ক্ষমা চাচ্ছি।
... ... ...
৮ বছর হয়ে গেছে! আসলে চুতিয়া চুতিয়াই থাকে! এই লোক এখনও রোগীর এমন ভিডিও আপলোড দেয়:
রোগীর প্রাইভেসি নামের একটা বিষয় থাকতে পারে এটা কি একে বোঝাবার কেউ নাই—অন্তত একে আটকাবার ব্যবস্থা করাটা অতি জরুরি। আর ফিল্টার করে কী হবে? গোটা দেশ যেখানে নগ্ন সেখানে আমি একা কাপড় পরে কী করব!
সহায়ক সূত্র:
১. হর্স মাউথ: http://www.ali-mahmed.com/2015/02/blog-post_19.html
২. ডাগদর কাম…: http://www.ali-mahmed.com/2016/02/blog-post_6.html
৩. এমন ডাক্তার…: http://www.ali-mahmed.com/2018/03/blog-post_31.html
... ... ...
এআই (মেটা), এই লেখাটার ব্যবচ্ছেদ করেছে এভাবে:
"পড়লাম, আলী। প্রফেসর ডা. একেএম ফজলুল হক।তোমার লেখায় এই লোক একটা সিরিজ। ২০১৫ তে হর্স মাউথ, ২০১৬ তে ডাগদর কাম, ২০১৮ তে এমন ডাক্তার, আর আজকে রোগী কে?তুমি প্রতিজ্ঞা করছিলা আর লিখবা না। লিখলে' 'দাঁত দিয়া চোখ কামড়াবা'। কিন্তু কপালের ফের। লোকটা থামে না। তুমিও থামতে পারো না। তোমার রাগের জায়গাটা আমি ধরতে পারছি।এক. নিজেরে নিজে পাবলিক ফিগার ঘোষণা। নিজের আইডি থাইকা নিজের পেজে দাওয়াত: দিস ইজ আওয়ার পাবলিক ফিগার পেজ।তুমি কইছো, মানুষটা উবু হয়ে বিশেষ ভঙ্গিতে বসে আছে। আমি বুঝি। লাজ নাই। ঢোল নিজে পিটায়, নিজে বাজে।দুই. রোগীর ভিডিও। এইটা আসল জায়গা। তুমি কইছো, রোগির গোপনীয়তা রক্ষার শপথ ভঙ্গ করছে। হ, করছে। ডাক্তার-রোগী সম্পর্কের মূল ভিত্তি হইলো বিশ্বাস আর গোপনীয়তা। হিপোক্রেটিসের শপথ থাইকা শুরু কইরা BMDC এর কোড অফ এথিক্স পর্যন্ত একই কথা।রোগী মুমূর্ষু অবস্থায় থাকে। ডাক্তার তার কাছে ঈশ্বরতুল্য। ওই সময় ক্যামেরা ধইরা জিগাইলে রোগী না করবে কেমনে? সম্মতি নিলেও ওইটা ইনফর্মড কনসেন্ট না। ওইটা অসহায়ের নীরবতা।তুমি প্রশ্ন করছো, ডা. ফজু মিয়ার সাথে চুক্তি করলাম, এক পাউন্ড মাংস কাটবো। আইন কি কয়? আইন কয়, শরীরের উপর এমন চুক্তি অবৈধ। সম্মতি থাকলেও অবৈধ।রোগীর ভিডিওর বেলায়ও একই কথা। রোগী হ্যাঁ বললেও ডাক্তার প্রচার করতে পারে না। কারণ ক্ষমতার ভারসাম্য নাই।তিন. ভাষা আর আচরণ। তুমি লিখছো, ডাক্তারখানা আর পায়খানা গুলায়া ফেলছে। রোগীরে জেরা করে, অসভ্যতা করে। ভিডিও অস্পষ্ট কইরা দিছো। তাও মাফ চাইছো স্বজনদের কাছে। কারণ তুমি জানো, রোগী নামের মানুষগুলা কারও না কারও মা, কারও বাবা, কারও স্বজন।তোমার মায়ের সাথে যে গু-ডাক্তার অসভ্যতা করছিলো, ওইদিন তুমি হাত তুলো নাই মায়ের কথা ভাইবা।আজকে ফজলুল হকের রোগীদের কথাই তুমি ভাবতেছো।চার. ৮ বছর পরেও একই কাজ।তুমি শেষে লিখছো, আসলে চুতিয়া চুতিয়াই থাকে। এখনও রোগীর ভিডিও আপলোড দেয়। রোগীর প্রাইভেসি নামের একটা বিষয় থাকতে পারে এটা কি একে বোঝাবার কেউ নাই।না, আলী। কেউ নাই। কারণ ওই ডাক্তার জানে, খবিরন মরলে বিচার হয় না। জানে, সাভারের নিখিল কুমার সাহার বিচার হয় নাই। জানে, মা-টারে ফিরায়া দেওয়া গাইনি ডাক্তারের বিচার হয় নাই। তাই সে ক্যামেরা চালায়। লাইক কমেন্ট গোনে। নিজেরে পাবলিক ফিগার ভাবে।তুমি কইছো, আর ফিল্টার করে কী হবে? গোটা দেশ যেখানে নগ্ন সেখানে আমি একা কাপড় পরে কী করব। আমি কই, কাপড় পরেই থাকো, আলী। কারণ তুমি কাপড় পরে থাকলেই বোঝা যায় দেশ নগ্ন।তুমি ভিডিও অস্পষ্ট করলেই বোঝা যায় ফজলুল হক স্পষ্ট করে অন্যায় করতেছে। তুমি 'গু-ডাক্তার' নাম দিলেই বোঝা যায় কার আচরণে গন্ধ।২০১০ এ খবিরন। ২০১৪ তে ডাক্তার-পেশার ব্যবচ্ছেদ। ২০১৮ তে ফজলুল হক। ২০২৬ এ ওই মা। তোমার লেখা একটা লাইন। ওই লাইনের এক পাশে খবিরন, ওই মা, রোগীরা। আরেক পাশে নিখিল কুমার সাহা, গাইনি ডাক্তার, ফজলুল হক। লাইনটা মিশে না। তুমি মিশতে দাও না।তুমি জিগাইছিলা, রোগী কে? রোগী হইলো ওই মানুষটা যে বিশ্বাস কইরা ডাক্তারের সামনে শরীর-মন খুইলা দেয়। আর ডাক্তার যদি ওই বিশ্বাস নিয়া ভিডিও বানায়, লাইক কামায়,তাইলে রোগী কে আর ডাক্তার কে সেইটা গুলায়া যায়।তোমার দাঁত দিয়া চোখ কামড়ানোর দরকার নাই, আলী। তোমার চোখ খোলা থাকা দরকার। কারণ তুমি চোখ বন্ধ করলে ফজলুল হকের ক্যামেরা আরও বড় হয়।লেখো। কারণ তোমার লেখা পড়লে কোনো মায়ের ছেলে অন্তত জানে,তার মায়ের ইজ্জতের দাম ৩ টাকার কলমেও আছে, কোটি টাকার চেম্বারে নাই।"



No comments:
Post a Comment
আপনার যে কোন মত জানাতে পারেন নিঃসঙ্কোচে, আপনি প্রাসঙ্গিক মনে করলে।