এটা বলে আসলে নিজেকে প্রবোধ দিলাম। আসলেই এই দেশের অধিকাংশ ডাক্তার...। থাক, আজ এদের নিয়ে উচ্চবাচ্য করব না, কটু কথা বলব না। তবে... নরক এদের দিয়ে পূর্ণ হওয়ার পর অন্য পেশার লোকজনের প্রতি নজর দেয়া হবে :) ।
তো যেটা বলছিলাম, ডাক্তার নামের একজন মানুষ আমার দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে বাধ্য করলেন (আমার চশমা পাল্টাতে ভাল লাগে কিন্তু দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে না) । সত্যি বলতে কি আমি এতো তাড়াতাড়ি এই মানুষটাকে নিয়ে লিখতে চাইনি। এই মানুষটার কর্মকান্ড প্রচুর সময় নিয়ে না-লিখলে বলাটা অসমাপ্ত থেকে যায়।
সব বাদ দিলেও এই মানুষটা, আমি যে তিনটা স্কুল দেখভাল করি [২] ওই স্কুলগুলোর বাচ্চাগুলোকে অসংখ্যবার দেখে দিয়েছেন, চিকিৎসা করেছেন, বিনামূল্যে ওষুধের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। হরিজনপল্লীর চাটাইয়ে বসে বাচ্চাগুলোকে দেখে দিতে তাঁর মধ্যে কোন সংকোচ আমি দেখিনি। কেবল বাচ্চাদেরই কেন বাচ্চাদের অভিভাবক। যখনই প্রয়োজন হয়েছে তখনই।
একজন মুক্তিযোদ্ধাকে পাঁজাকোলা করে আনা হয়েছে। হাঁটুতে যে ইঞ্জেকশন দিতে একজন ডাক্তার ৭০০ টাকা নেন সেই ইঞ্জেকশন কেবল বিনামূল্যে দেননি তাঁর দরিদ্রফান্ড থেকে বেরিয়ে গেছে ৬০০ টাকা!
আমি নিজেই কতশত অসহায় মানুষকে নিয়ে এই মানুষটার কাছে ছুটে গিয়েছি। ওই অসহায় মানুষগুলো যথার্থ চিকিৎসা পেয়েছেন। তাঁরা আরামের শ্বাস ফেলেছেন। তাঁদের ছেড়ে দেয়া কার্বন-ডাই অক্সাইড কোন এক বিচিত্র কারণে আমার জন্য অক্সিজেনের কাজ করে। আমি বুক ভরে শ্বাস নেই। আমার জাগতিক অসংখ্য জটিলতার মধ্যে এই অক্সিজেনের ভান্ডার সম্ভবত আমাকে বাঁচিয়ে রাখে নইলে কবেই মরে ভূত হয়ে যেতাম!
অনেক রোগীর মধ্যে কেবল একজনের কথা বলি।
এর নাম হালিমা। এ অন্ধপল্লীর স্কুলে পড়ে। আগুনে পুড়ে গিয়েছিল। কবিরাজি চিকিৎসা চলছিল। ভয়ংকর সে চিকিৎসা। এই দগদগে পোড়া ঘায়ের উপর কাপড় আটকে সেই কাপড়ে লেপ্টে কবিরাজি ওষুধ লাগানো হতো। প্রতিদিন এই কাপড় খুলে আবার লাগিয়ে দেয়া হতো!
এইটুকুন বাচ্চাটাকে কী অবর্ণনীয় কষ্টই না সহ্য করতে হয়েছে তা কেবল অনুমান করা সম্ভব!
এই ডাক্তার নামের মানুষটার কল্যাণে এই বাচ্চাটার চিকিৎসা চলছে। হাসপাতালে আজও দেখে এসেছি। এর ঘা শুকাচ্ছে। এই গতিতে সেরে উঠলে এই সপ্তাহে অভাগা এই মেয়েটি বাড়ি ফিরে যাবে।
কেবল কি চিকিৎসা? ন্যানো ক্রেডিট [৩] এবং বিভিন্ন কারনে যখনই আমার টাকার প্রয়োজন হয়েছে তখনই মানুষটাকে অবলীলায় বলেছি। হপ্তাখানেক হবে, ন্যানো ক্রেডিটের আওতায় একজন মহিলাকে ২০০০ টাকা দিতে হবে অথচ টাকা নাই। আহা, আমার সমস্যা কী, ডাক্তার নামের এই মানুষটা আছে না! এই কারণে তিনি কাকে কাকে ধরে টাকাটার যোগাড়যন্ত্র করেছেন সে খবরে আমার কী কাজ!
অথচ ওই মাটার পান্ডুর মুখ এখনও আমাকে তাড়া করে [৪]। আহা, ওদিন যদি একটা ডাক্তার পেতাম। আমি জানি না ওই মাটা কোথায়? নাকি তাঁর অদেখা বাবুটা আমাদের উপর অভিমান করে অন্য ভুবনে তার মাকে নিয়ে গেছে। জানি না, জানি না আমি।
যাই হোক, তবলার ঠুকঠাক থাকুক। এই ডাক্তার নামের মানুষটা হপ্তা দুয়েক আগে আমাকে কাতর হয়ে বলেছিলেন একজন সিস্টারের (নার্স) কিডনির সমস্যার কথা। আমি যদি এই সিস্টারকে নিয়ে দুকলম লিখি। এই সিস্টারের কথা আগেও তাঁর মুখে শুনতাম। এই দেশে নিরন্তর সমস্যা, কয়টার কথা মনে করে বসে থাকব? কিন্তু এই প্রসঙ্গ নিয়ে আমার আর লেখা হয়ে উঠে না। কেন? আমি জানি না। হয়তো কেউ কোন প্রসঙ্গ নিয়ে লিখতে বললে আমি লিখতে পারি না। বা ইউনূস সাহেবদের মত শ্বেতহস্তী বিষয়ক লেখার ভিড়ে ওই লেখাটা চাপা পড়ে গেল!
অন্য একটা সাইটে এই ডাক্তার নামের মানুষটা এই সিস্টারকে নিয়ে লিখেছেন [৫]। মার্জিয়া নামের এই সিস্টারকে আপাতত ডায়ালাইসিস দিয়ে বাঁচিয়ে রাখতে হবে, এর জন্যও টাকা প্রয়োজন। প্রতি সপ্তাহে ডায়ালাইসিস করতে অন্তত হাজার দুয়েক টাকা লাগার কথা।
আর পুরোপুরি সুস্থ করে তুলতে চাইলে কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করতে হলে ৫ লাখ টাকার প্রয়োজন। আমি জানি ৫ লাখ টাকা অনেক টাকা। কিন্তু এতো বেশি টাকাও না যে আমার মত একজন মানুষ এই টাকাটার যোগাড় হচ্ছে এমন স্বপ্নও দেখতে পারবে না।
একজন ১০ হাজার টাকা করে দিলেও তো ১ লাখ টাকা হয়ে যায়। যুদ্ধের পরিণাম পূর্বেই ভেবে বসাটা তো কোন কাজের কাজ না।
এই গ্রহের কেউ-না-কেউ, কোথাও-না-কোথাও, না-থেকে পারেই না। আমি বিশ্বাস করি কেউ-না-কেউ এগিয়ে আসবেন। এই বিষয়ে কেউ যোগাযোগ করতে চাইলে আমার সঙ্গে যোগাযোগ না-করে সরাসরি এই ডাক্তার নামের মানুষটার সঙ্গে যোগাযোগ করলে ভাল হয়।
তাঁর ফোন নাম্বার: 01913 500726
ইমেইল: omio.ujjal@gmail.com
গুড লাক, ডাক্তার নামের মানুষ! মাঝ পথে হাল ছেড়ে দেবেন না যেন। মার্জিয়া নামের অল্পবয়সী ছটফটে একটা মেয়ে বিনাচিকিৎসায় মারা যাবে আর আমি বুড়া হাবড়া বেঁচে থাকব, এ অন্যায়-এ অন্যায়! এই অভাগা মেয়েটির পাশে আর কেউ না-থাকুক, আমি আছি...।
সহায়ক সূত্র:
১. ডাক্তার নামের খুনিটা: http://www.ali-mahmed.com/2010/08/blog-post_24.html
২. আমাদের ইশকুল: http://tinyurl.com/39egrtn
৩. ন্যানো ক্রেডিট: http://tinyurl.com/39dkbhh
৪. মা এবং তার অদেখা সন্তান: http://www.ali-mahmed.com/2010/02/blog-post_10.html
৫. ডাক্তার নামের মানুষটার লেখা: http://www.somewhereinblog.net/blog/omio_ujjal/29364725

ali bhai,
ReplyDeletemy heartiest congratulations for your doctor. may Allah bless him all time.