'জীবন বড় সুন্দর' নিয়ে একটা লেখা লিখেছিলাম, ২০২০ সালে। সাগরকে নিয়ে [১]। দেখা হয়েছিল ঠিক এই অবস্থায়! ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায়। তখন তার জন্য একটা হুইল-চেয়ারের ব্যবস্থা করা গিয়েছিল।
এয়ারপোর্ট রেল-স্টেশনে আমি ট্রেন ধরব। ট্রেনের অপেক্ষায় আছি। জাগতিক কষ্টে খানিকটা অন্যমনস্ক ছিলাম সম্ভবত! আক্ষরিকভাবেই আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। পা আটকে আছে—জোর করে কেউ ধরে রেখেছে। তাকিয়ে দেখি বড়সড় একটা বাচ্চা ছেলে। ছোট-ছোট বাচ্চারা অনেক সময় কিছু টাকা না-দিলে পা ছাড়ে না!
অনেক সময় এরা নেশার টাকার জন্য এই কাজ করে। এই ছেলেটি কিন্তু টাকা চাচ্ছে না। হাসি-হাসি মুখ করে বলছে, 'স্যা..., আপনে ভাল আছেন'?
আমার স্মৃতিশক্তি ভয়াবহ কিন্তু আমি চিনতে পারলাম, 'তুমি সাগর না'? এরপরই এ আমাকে বলছে, 'স্যা..., কি খাইবেন? আপনে একটা-কিছু খান'?
আমার চেহারায় কঠিন-কঠিন একটা ভাব আছে। মানুষটাও আমি কঠিন টাইপের কিন্তু আমার চোখ ভরে এসেছে!
ট্রেন আসার আগ-পর্যন্ত এর সাথে কথা হয়, অনেক। তার সেই ভাই ভাসানী, সেও তাকে ফেলে চলে গিয়েছে। এখন এক পৃথিবী—এক সাগর! মাঝামাঝি আর কিছু নেই! কিচ্ছু না...।
আমার পুরনো কষ্ট ফিরে আসে। মেঘে-মেঘে বেলা হয়ে যাচ্ছে বিদায়বেলা ঘনিয়ে আসছে কিন্তু এদের জন্য একটা নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে পারলাম না। একটা পাইপমানুষ হয়েই রয়ে গেলাম—এই গ্রহে এসেছি কেবল খেতে আর বর্জ্যত্যাগে!
ট্রেন ঢুকছে। যাওয়ার সময় তাকে বলি, 'দাঁড়াও, তোমার একটা ছবি তুলি'।
সূত্র:
১. জীবন বড় সুন্দর: https://www.ali-mahmed.com/2020/03/blog-post.html?m=1




No comments:
Post a Comment
আপনার যে কোন মত জানাতে পারেন নিঃসঙ্কোচে, আপনি প্রাসঙ্গিক মনে করলে।