Wednesday, October 23, 2019

আসিফার জন্মটা যদি আটকে দেওয়া যেত...!






আসিফা- আট বছরের শিশুটিকে প্রথমে অপহরণ করা হয়। তারপর ঘুমের ইঞ্জেকশন দিয়ে একসপ্তাহ বেঁহুশ করে টানা ধর্ষন করে গেল কয়েকজন মিলে, মন্দিরে! মিরাট থেকে আত্মীয় গেল ধর্ষন-উৎসবে শরীক হতে। পুলিশ অফিসারই বা বাদ যায় কেন? উত্থিত লিঙ্গ নিয়ে সেও চড়াও হলো। হ্যাঁ ততক্ষণে শিশুটি আর বেঁচে নেই। তাও লিঙ্গসুখ মেটানো হলো শেষবারের মতো। তাও... তাও!

আচ্ছা, একটা আট বছরের মেয়ে শিশুর যোনির ছিদ্র কতটুকু থাকে জানেন? বড়জোর একটা কাঠি ঢুকানোর মতো। সেখানে দিনের-পর-দিন, ঘন্টার-পর-ঘন্টা মেয়েটাকে ধর্ষণ করে গেছে শুয়োরের বাচ্চারা। রাষ্ট্রযন্ত্র নির্বিকার। সিস্টেম ধর্ষন উৎসবে সামিল।
ঘটনা গত জানুয়ারী মাসের। কিন্তু পুরো দেশ ঘটনার খবর পায় এপ্রিলে। হ্যাঁ, মেয়েটার নাম আসিফা বানু। আপনারা জানেন। তারপরও এখানে কিছু বিষয় খুব পরিষ্কার করে বলা প্রয়োজন। আপনারা কেউ কেউ বলছেন, 'ধর্ষকের কোনো ধর্ম হয় না'। অনেকে আরো কিছু পাশবিক ধর্ষণের ঘটনাকে তুলে এনে বলছেন এক্ষেত্রে চুপ কেন!

হ্যাঁ, সত্যি ধর্ষকের কোনো ধর্ম নেই। তার একটাই পরিচয় সে পুরুষ। অন্যান্য পাশবিক ধর্ষণ ও ততটাই পাশবিক যতটা আসিফা কেসের ক্ষেত্রে। গণধর্ষণও নতুন নয়। নির্ভয়া থেকে শুরু করে কামধুনী, বিহার থেকে হাইলাকান্দি হয়ে নগাও, সর্বত্র একই ঘটনা দিনের-পর-দিন হচ্ছে। হয়েই চলেছে। পুরো দেশ জুড়ে ধর্ষণের মহৌৎসব চলছে। কিন্তু তা সত্বেও বলব, আসিফা কেস আলাদা। আলাদা কারণ এর আগে অব্দি কোনো কেসে সিস্টেম, পুলিশ, সরকার, সাধারণ মানুষ এভাবে ধর্ষকদের বাঁচানোর চেষ্ঠা করেনি! এবং ধর্ষককে এই বাঁচানোর প্রয়াসটা, ট্রেন্ডটা সুস্থ সমাজের ক্ষেত্রে ভয়ঙ্কর। আর এখানেই আসিফার খুন এবং ধর্ষণ আলাদা। কিভাবে সেটা একে একে বলি -
ক) ইতিপূর্বে কোনো ধর্ষণের কেসে জাতীয় পতাকা হাতে ধর্ষকদের সাপোর্টে মিছিল বেরোয়নি। হ্যাঁ জাতীয় পতাকা। তেরাঙগা!
খ) এর আগে কোনো রেপ কেসে কেউ বলেনি ধর্ষকদের এরেস্ট করলে গায়ে আগুন দেব।
গ) এর আগে কোনো রেপ কেসে, উকিলেরা দলবদ্ধ ভাবে পুলিশকে কোর্টে চার্জশিট জমা দিতে বাধা দেয়নি, তাও 'জয় শ্রীরাম' ধ্বনি দিয়ে।
ঘ) এর আগে মন্দিরে পুরোহিত, সিস্টেম (পুলিশ) এবং অন্যান্যরা এইভাবে ধর্ষণযজ্ঞে মেতে ওঠেনি।

পুলিশ তার চার্জশিটে লিখেছে ওই অঞ্চলে ভয় এবং ত্রাস সৃষ্টি করার লক্ষ্যে এবং ওই যাযাবরগোষ্ঠীকে অঞ্চল ছাড়া করতে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে এবং আসিফা ছিলো সহজ শিকার!! একটা ধর্মের, একটা কমিউনিটির, বিধর্মীদের প্রতি কতটুকু ঘৃণা, বিদ্ধেষ থাকলে এরকম ঘটনা ঘটানো যায়? আসিফার ধর্ষণও অন্যান্য ধর্ষণের মতোই ধর্ষণ কিন্তু একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে আতঙ্কিত করার জন্য এই পরিকল্পিত ধর্ষণ ঘটানো হয়েছে।
তারপরও যেসব সিউডো সেকুলার এবং সিউডো নারীবাদীগণ বলছেন যে ধর্ম জড়াবেন না, তাদের কাছে প্রশ্ন ধর্ম কারা জড়াচ্ছে? যারা ধর্ষকদের ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে তাদের সমর্থনে মিছিল মোর্চা মিটিং করছে তারা, নাকি আমরা? যারা হিন্দু একতা মঞ্চ তৈরি করছে তারা, নাকি আমরা? যে মহিলারা ধর্ষকদের সমর্থনে গায়ে আগুন দেওয়ার হুমকি দিলো তারা, নাকি আমরা? যে হিন্দু একতা মঞ্চ জাতীয় পতাকা নিয়ে মিছিল করলো, তারা নাকি আমরা?

যখন কোর্টে চার্জশীট ফাইল করতে গেলো পুলিশ, তখন জম্মু বার এসোশিয়েশনের উকিলরা অবরোধ করে স্লোগান দিলো 'জয় শ্রী রাম'। তারও পরে কোর্টের বিচারপতিরা পুলিশকে ৬ ঘন্টা অপেক্ষা করাল। চার্জশিট তারা নেবে না। ৬ ঘন্টা অপেক্ষারত পুলিশের থেকে শেষমেষ চার্জশিট গ্রহণ করা হলো। এই গোটা সার্কাসটা যারা করলো তারা, নাকি আমরা? বলুন হে শুয়োরের অবৈধ ছানাগণ, বলুন! শুনতে চাই আমি। আপনাদের হিপোক্রেসীর লেভেলটা বুঝতে চাই!!
আর যে অবৈধ শূকরছানাগণ ক্রমাগত অমুক জায়গার তমুক ঘটনার কথা কেন বলা হচ্ছে না, ইত্যাদি-প্রভৃতি বলে জাস্টিফাই করে চলেছেন এই অপরাধের তারা আসলে এক একেকটা আস্ত কুত্তার বাচ্চা। মনে মনে এই চুড়ান্ত পাশবিক অপরাধের সমর্থক। এবং সময় সুযোগ পেলে তারাও যে এই একই ঘটনা ঘটাবে না তা নিশ্চিতরূপে বলা যায় না।

আর যে ইন্টেলেকচুয়াল পাবলিকগণ, 'All Rapist Should Be Punished' বলে সাইনবোর্ড ঝোলাচ্ছেন তাদের বলছি, অবশ্যই সব ধর্ষক শাস্তি পাক, আন্দোলন হোক, প্রতিবাদ প্রতিরোধ হোক এবং আপনিও প্রতিটা ধর্ষণের প্রতিবাদ করুন, কিন্তু আসিফা খুন এবং ধর্ষণের যে ধর্মীয়-রাজনৈতিক চরিত্র সেটা মুছে দেওয়ার জন্যে যদি আপনার 'অল রেপিস্ট শুড বি পানিশড' সাইনবোর্ড ঝুলে তাহলে আপনিও কিন্তু প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ দুইভাবেই ধর্মীয় মৌলবাদের গোড়ায় জল ঢালছেন। আপনার জানার কথা ছিলো যুগে যুগে ধর্ম, যুদ্ধ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় ধর্ষণকে রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় আধিপত্যের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে। যে গুজরাটের বিলকিস বানুই হোক বা কাশ্মীরের আসিফা। তাই ভারত নামক রাষ্ট্রে ধর্ষকের ধর্ম হয়না কিন্তু রাজনীতির ধর্ম হয়। আর আসিফা ধর্ষণটি একটি রাজনৈতিক ধর্ষণ।
আখলাক, পেহলু খান, জুনেদ, আফরাজুল হয়ে আসিফা...। একটা কমিউনিটিকে ক্রমাগত ভয় দেখিয়ে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্ঠা করা হচ্ছে। তাই এখানে ধর্ম নেই হলে এড়িয়ে যাওয়া মানে নিজেকে 'বুদ্ধিবিচি' নামক জন্তুতে পরিণত করা।

ভাবা যায়, ধর্ষকদের পক্ষে একটা দেশের জাতীয় পতাকা মিছিলে হাঁটছে...!

বিবিসি এই প্রতিবেদনে বলছে, "...two ministers from the Hindu nationalist Bharatiya Janata Party (BJP) attended a rally in support of the accused." (The party’s MLAs from Kathua and Hiranagar constituencies, Rajeev Jasrotia and Kuldip Raj, were also present at the rally, reported The Indian Express.) কল্পনা করা যায়, একটা দেশের  দুইজন মন্ত্রী ধর্ষকদের পক্ষ নিয়ে কথা বলছেন:



আহা, কল্পনা করতে চাইলে একটু চোখ বন্ধ করে কল্পনা করুন না যে এই মেয়েটি আপনার-আমারও হতে পারত...।
... ... ...
অবশেষে অপরাধিদের বিচারে সাজা হয়...