Saturday, July 7, 2018

দমিনাস, জাফর ইকবাল এবং 'বাচপানা'!

ড. জাফর ইকবাল হালে একটি লেখা লিখেছেন। ‘ওয়ার্ল্ড কাপ’ [১]। সেখানে তিনি এক জায়গায় লিখেছেন, “…জাতীয় সঙ্গীত যে রকম শুধু কিছু শব্দ আর কিছু বাক্য নয় আরও অনেক বড় কিছু; জাতীয় পতাকাও সে রকম শুধু সেলাই করা দুই টুকরো কাপড় নয়, আরও অনেক বড় কিছু…”।

স্যার, আপনার তো অনেক বুদ্ধি-বলেন তো এ্ই ছবিতে আমাদের জাতীয় পতাকা কোনটা? আচ্ছা, আরও সহজ করে দেই। লাল বৃত্তটা যে দেখতে পারছেন ওই বৃত্তের ভেতরটাই আমাদের পতাকা। আপনার জন্য একটা কুইজ ওই পতাকাটা কিসে বাঁধা, বলেন তো? ইশশ রে, পারলে না, রুমকি- পারলেন না জাফর ইকবাল। 
আহা, পতাকা যে দু টুকরো সেলাই করা কাপড় নয় এটা আমরা এই প্রজন্ম আগেই জেনেছি বলেই তো যখন অন্য দেশের ঢাউস পতাকার সঙ্গে হেলাফেলা ভঙ্গিতে আমাদের জাতীয় পতাকা বেঁধে দেওয়া হয় তখন আমরা ক্ষোভে ধিক্কার জানিয়ে বলি, “…আহা, দেশপ্রেমিক একেকটা” [২]!

কী কান্ড, আমি আরও হতভম্ব হয়ে ভাবছিলাম এই আইডিয়া কার মাথা থেকে বেরিয়েছে! ওহ, এটা তাহলে আপনার আইডিয়া, হের জাফর ইকবাল?! আপনি এই লেখারই অন্যত্র লিখেছেন, “…আমার ধারণা তারপরও যদি কেউ তার প্রিয় ফুটবল টিমের দেশটির পতাকা টানাতে চায় তাহলে তার ওপর বাংলাদেশের একটি ফ্ল্যাগ টানিয়ে রাখতে পারে…।

খেলুড়েদের কল্যাণে আমি লম্বা ঝাড়ুর হাতলেও জাতীয় পতাকা বাঁধতে দেখেছি। অন্য পতাকার বেলায় রঙকরা বাঁশ আর আমাদের পতাকার বেলায় ঝাড়ুর হাতল! দিন নেই রাত নেই- রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে একেকটা জাতীয় পতাকা আর জাতীয় পতাকা রইল কই! অল্পবয়স্ক, লেখাপড়া কমজানা ছেলেপুলেদের কাছ থেকে আর কী আশা করা যাবে ডমিনাস, জাফর ইকবাল?
কিন্তু আপনি সেনর জাফর ইকবাল আপনি তো জানেন জাতীয় পতাকা ওড়াবার বেশ কিছু নিয়ম-কানুন আছে। বাড়ির জন্য এক হিসাব, গাড়ির জন্য অন্য মাপ। সূর্য ডুবে যাওয়ার সাথে-সাথে…ইত্যাদি ইত্যাদি।এই সব বিষয়ে আপনাকে জ্ঞান দেওয়াটা বাতুলতা মাত্র।

আবেগে, জ্ঞানের অভাবে কেউ-কেউ দুম করে একটা কান্ড করে বসে আমরা কখনও-কখনও দেখেও না-দেখার ভান করি। জনান্তিকে বলি, আরে ধুর, পোলাপাইনের কাজকারবার…। কিন্তু আপনি তো একেবারে চার-কোণা চাকা গড়গড় করে চালিয়ে দিলেন, কেউ চাইলে “…তাহলে তার ওপর বাংলাদেশের একটি ফ্ল্যাগ টানিয়ে রাখতে পারে…”।

আর আপনি যে লিখলেন, “…সেদিন আর্জেন্টিনা এবং ফ্রান্সের মাঝে খেলা হচ্ছে- আমার বাসায় টেলেভিশন নেই তাই খেলা দেখতে পাচ্ছি না…”।
আহারে-আহারে! বিষণ্নতায় আক্রান্ত হলাম, বুঝলেন মঁশিয়ে জাফর ইকবাল, পূর্বেও আপনি তোতাপাখির মত বহুবার এই কথাটা বলেছেন অামার টেলিভেশন নাই। আপনার এই কথা শুনে-শুনে আপনার সাদা গোঁফের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আমাদের নিজেরই চুল সাদা হয়ে যাচ্ছে! আপনার সমস্যাটা কী, মশায়! আপনার কি টেলিভিশন কেনার টাকা নাই? না-থাকলে স্পষ্ট করে বলেন। আমরা চাঁদা করে আপনাকে একটা টেলিভিশন কিনে দেব নে ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট না কালার। না-না, সনি (একটা বিয়েতে যৌতুক নিয়ে ঝামেলা হয়েছিল। মেয়েপক্ষ বলেছিল কালার টেলিভিশন দেবে কিন্তু বরপক্ষ হইচই শুরু করল, না-না, কালার না সনি টেলিভিশন!)। ফান না, সত্যি-সত্যি আপনাকে কিনে দেওয়া হবে। আপনার গোঁফের শপথ।

নাকি ওসব কিছু না, আপনার কি ধারণা টেলিভিশন থাকাটা একটা ক্রাইমের পর্যায়ে পড়ে? বা এটা অতি কুৎসিত একটা তরল পদার্থ! যারা টেলিভিশন দিয়ে খবর চালায় তারা বড় বেতমিজ? আপনার এমনটা মনে হলে দোষ দেওয়া যায় না কিন্তু বারবার আপনি এটা ঘটা করে বলেন কেন?
দেখুন মহতারাম, আমাদের কারও বদনা নাই, কারও এসি নাই। এটা নিয়ে ইয়ের মত চর্বিতচর্বন করে জনে-জনে বলার তো কোন মানে হয় না। পরিশেষে পরিতাপের সঙ্গে বলি মেঘে-মেঘে বেলা হচ্ছে কিন্তু আপনার ভাবনার চরমোৎকর্ষ আর হচ্ছে না। আফসোস, বড়ই আফসোস! যেমনটা আপনি এই লেখায় আরও যোগ করেছেন, (ভিন দেশের পতাকার অাধিক্যের কারণে)“…হঠাৎ করে কেউ এ দেশে হাজির হলে এটি কোন দেশ সেটি নিয়ে বিভ্রান্ত হতে পারে”।

অন্য দেশ থেকে বাংলাদেশে যে মানুষটা প্লেনে দাঁড়িয়ে আসবে এবং প্লেনের জানালা খুলে শোঁ শোঁ বাতাসে ঘুমিয়ে-ঘুমিয়ে সময়টা পার করে আমাদের এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়ে দেখল টিকেট-পাসপোর্টের সব লেখা পালিয়ে গেছে। পতাকার ছড়াছড়ি দেখে হড়হড় করে বমি করে ভাববে, কোন দেশে এলুম রে, বাপ।
ওয়েল, ওই লোকটার দায়িত্ব আপনার, আমাদের না…।

সহায়ক সূত্র:
http://www.banglatribune.com/columns/opinion/340083/%E0%A6%93%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%A1-%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%AA
২. জরু-গরু...http://www.ali-mahmed.com/2018/06/blog-post_29.html

No comments: