Wednesday, July 11, 2018

রোগী কে?

প্রফেসর ডা. একেএম ফজলুল হক। এই ডাক্তার সাহেবকে নিয়ে ইতিপূর্বেও আমি বেশ কিছু লেখা লিখেছি [১], [২], [৩]। সব ফেলে কাউকে নিয়ে সিরিজ লেখা শুরু করলে তো সমস্যা। আমার মনে হয় এই প্রতিজ্ঞা করাটা এখন আমার জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে যে প্রফেসর ডা. ফজলুল হককে নিয়ে আর লিখিব না লিখিলে দাঁত দিয়ে চোখ কামড়াতে বাধ্য থাকিব।

কপালের ফের! এমন ঢোলবাজ মানুষ আমি আমার সমস্ত জীবনে তেমন একটা দেখেছি বলে তো মনে পড়ছে না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি নিজের নামে অসংখ্য আইডি খুলে রেখেছেন।
নিজের একটা আইডি থেকে নিজেই তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের পেজে আমন্ত্রণ জানান এমন করে, ‘দিস ইজ আওয়ার পাবলিক ফিগার পেজ’।
এমন লাজহীন একজন মানুষ বড় বিরল! নিজেই নিজেকে পাবলিক ফিগার ঘোষণা দিয়ে ঘোষণার স্তম্ভে পা ছড়িয়ে বসে থাকেন। কেন জানি না আমার চোখে ভাসে মানুষটা উবু হয়ে বিশেষ ভঙ্গিতে বসে আছেন।

প্রফেসর ডা. ফজলুল হক তার নিজের বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রোগিদের নিয়ে প্রচুর ভিডিও পোস্ট করেছেন। এগুলো কেবল ভয়ংকরসব ভিডিওই না। তিনি সম্ভবত রোগির গোপনীয়তা রক্ষার শপথ ভঙ্গ করেছেন। এই অধিকার একজন ডাক্তারেরও আছে বলে আমি মনে করি না। কেউ-কেউ এমনটাও বলবেন, এখানে হয়তো এটা রোগীর সম্মতিতে হয়েছে। তো?
মুমূর্ষু অবস্থায় বা চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ইশ্বরতুল্য একজন ডাক্তারের কথা ফেলে দেবে একজন সাধারণ রোগী, তাও বাংলাদেশের মত একটা দেশে। এ অকল্পনীয়!

এমনটা যদি হয়েও থাকে তাহলে আমি বলব এই মানুষগুলোকে কি পরিষ্কার করে বলা হয়েছে, আপনাদের এই ভিডিওগুলো আমি আমার লোভের লকলকে জিভের জন্য জনসমক্ষে উপস্থাপন করব? এই ফজলুল হকের কাছে রোগী নামের এই মানুষগুলো একেকটা সাবজেক্ট হলেও এঁরা আমাদের কারও-না-কারও স্বজন। আমার মনে আছে আমার মার সঙ্গে যে ডাক্তার মহোদয় যেমন অসভ্য আচরণ করেছিলেন আমি ওই ডাক্তারকে নাম দিয়েছিলাম, ‘গু-ডাক্তার’ [৪]। ওদিন আমি যদি আমার মার কথা চিন্তা না করতাম তাহলে হয়তো তখন ওই ডাক্তারকে…থাক সে প্রসঙ্গ।

আচ্ছা ধরুন, কেউ যদি কোন-এক ফজু মিয়ার সাথে কেউ এমন চুক্তি করল পাওনা টাকা ফেরত না-দিতে পারলে তার শরীর থেকে ইয়েটা মানে এক পাউন্ড মাংস কেটে রাখবে তাহলে আইনের বক্তব্য কি?
এখন চিকিৎসা ব্যবসা আমুল বদলে গেছে। ওষুধ কোম্পানিগুলোর আচরণ নোংরারও অধম। এরা যে কেবল ডাক্তারদেরকেই অনৈতিক বানাচ্ছে তাই না তাদের মার্কেটিং-এর লোকজনকেও। তাই এরা যখন আপনার-আমার প্রেসক্রিপশনের ছবি উঠায় তখন আমরা বেকুব বদনে মাথা দোলাই। ওষুধ কোম্পানির লোকজনকে নাহয় চাকুরি বাঁচাতে গিয়ে নোংরামি করতে হয় কিন্তু ফজলুল হকের মত ডাক্তারকে কেন!
এখানে দেখা যাচ্ছে তিনি এক রোগির সঙ্গে বাতচিত করছেন। বাতচিতের নমুনা দেখে মনে হয় এই ডাক্তার সাহেব ডাক্তারখানা আর পায়খানা গুলিয়ে মুখপথ এবং পায়ুপথ একাকার করে ফেলেছেন। ভাগ্যিস, তিনি রোগীকে এই নির্দেশনা দেননি উবু হয়ে বসে কেমন করে বাথরুম সারতে হয় এটার ডেমো দেখাতে। ওরে, কালে-কালে তিনি না আবার রোগীকে দাঁড়িয়ে-দাঁড়িয়ে বাথরুম সারার আবদার করে বসেন।

কিন্তু এই ভিডিও অন্য ভিডিও-এর কাছে নস্যি। তিনি এই ভদ্রমহিলাকে যে ভাষায় জেরা করছেন এটা কেবল অসভ্যতাই না সামাজিক অপরাধও বটে।
এই ভিডিওটা আরও ভয়ংকর। 
* আমি সবগুলো ভিডিও অস্পষ্ট করে দিলাম। তারপরও এঁদের কোন স্বজন আহত বোধ করলে আগাম ক্ষমা চাচ্ছি।

সহায়ক সূত্র:
১. হর্স মাউথ: http://www.ali-mahmed.com/2015/02/blog-post_19.html
২. ডাগদর কাম…: http://www.ali-mahmed.com/2016/02/blog-post_6.html
৩. এমন ডাক্তার…: http://www.ali-mahmed.com/2018/03/blog-post_31.html 
৪. গু ডাক্তার: http://www.ali-mahmed.com/2011/08/blog-post_27.html

No comments: