Thursday, July 12, 2018

ট্রাম্প, তুই ল্যাংটা!

এক ইতরকে অন্য একজন পাদুকাঘাত করার পর সেই ইতর বলছে, আরেকটা দিয়া দেখ…। ইতিমধ্যে সেই ইতরকে দু-দশ চপেটাঘাত-পাদুকাঘাত করার পরও তার সেই একই রা, আরেকটা দিয়া দেখ মার্ডার হয়া যাইবি কিন্তু। পরে একজন সেই ইতরকে জিজ্ঞেস করল, মিয়া ঘটনা কী! তোমারে এত্তোগুলা জুতা মারল আর তুমি বা…! সেই ইতরের সাফ উত্তর, জুতায় তো আর গু লাগায়া মারে নেই, মারলে…।

ট্রাম্পের নামের মানুষটাকে আমি কখনও রাস্তাঘাটে পেয়ে গেলে পা ধরে সালাম করব। কারণ? এই মানুষটা অজান্তেই আমার যে কী নিদারুণ উপকার করেছে তা আর বলতে। এই গ্রহে সম্ভবত এমন কোনও অমানবিকতা নাই যেখানে আমেরিকার ‘ছেনেহের’ হাত না আছে।
কেবল ছোট্ট এই ভিডিওটা দেখলে খানিকটা আঁচ করা যাবে আমেরিকার নৃশংসতা!।

অথচ দেখো কান্ড গ্রহের ভাষা বলতে আমরা বুঝি আমেরিকার ভাষা, সাহিত্য বলতে আমেরিকার সাহিত্য, মুভি মানে হলিউডের মুভি। এমনকি ঘটা করে বিভিন্ন সেমিনার করে আমেরিকা আমাদেরকে মানবতা শেখায়। কেবল তাই না লেখালেখিও শেখায় আমেরিকা! আমাদের দেশের যে সমস্ত লেখক আমেরিকায় সাহিত্যসফর না-করেছেন তারা লেখক (!) হতে পারেননি।
আমাদের দেশের কিছু ‘বুড্ডিজীবী’, এই তালিকা দীর্ঘ। কেউ আছেন ভয়ে প্লেনের ‘জানালা’ বন্ধই করেন না কারণ খোদা-না-খাস্তা প্লেন ভুলেক্রমে পাকিস্তানের উপর দিয়ে চলে গেলে খোলা জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়বেন। অথচ যে আমেরিকা আমাদের এই যুদ্ধের কলকাঠি নেড়েছে পাকিস্তানের পশ্চাদদেশে হাত বুলিয়ে দিয়েছে সেই আমেরিকায় ‘ভরমন’ হোক বা ‘ল্যাকাপড়া’ করতে যেতে আমাদের কোনও সমস্যা নেই। আমেরিকায় কোনও প্রকারে যেতে পারলে আত্মা বন্ধক রাখতেও কোনও সমস্যা নেই।

বলছিলাম ট্রাম্পের পা ছুঁয়ে সালাম করার কথা। কেন-কেন? যে আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্বের অহংকারের শেষ নেই সেই আমেরিকাকে চুতিয়া বানাতে আপ্রাণ সহায়তা করেছে যে মানুষটি সে ট্রাম্প ব্যতীত আর কে! এই মানুষটা গা থেকে যেভাবে একেক করে কাপড় খুলে নগ্ন হয়ে গেছে তা অভূতপূর্ব বটে! একটা মানুষ সে যত সুদর্শন বা সুদর্শনাই হোক না কেন নগ্নগাত্র মানুষটা আর নুরা পাগলা, ক্যাটরিনা বা জরিনার মধ্যে কোনও তফাত নেই। ঝুলেপড়া ইয়ে কাকও ঠোকর দেবে কিনা এই নিয়ে আমার ঘোর সন্দেহ আছে।

তো, ট্রাম্প স্যারের অজস্র কর্মকান্ড থেকে সামান্য কিছু বলি। এই লোকটা এক ‘চুতিয়া টুইটবাজ’- এই আধুনিক যুগে এটা খুব অবাক হওয়ার কিছু না। কিন্তু প্রেসিডেন্ট হয়েও এই মানুষটা যে প্রকারে টুইট করে তা একটা গুয়ে হামাগুড়ি দেওয়া বাচ্চাও করবে না। জানিস-জানিস আমার ইয়েটা না তার ইয়েটা থেকে বড়…!
এই মানুষটাকে (!) বলা হয় 'আনপ্রেডিক্টেবল ট্রাম্প'- এ কখন কি বলে বসবে বা করে বসবে তা আগাম আঁচ করা মুশকিল।

যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমান যাচ্ছিল সানফ্রান্সিসকো থেকে মেক্সিকো। যাত্রীরা ট্রাম্পকে নিয়ে তুমুল তর্কে জড়িয়ে পড়লে ঠিক তখনই বিমানের পাইলটের গলা ভেসে আসে, ‘ক্যাপ্টেন বলছি। দয়া করে আমার বিমানে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিয়ে তর্কে জড়াবেন না’।
তবে এই মানুষটা যে বদ্ধউম্মাদ বা ল্যাংটা পাগল এই একটা উদাহরণই যথেষ্ঠ! ট্রাম্প এক প্রসঙ্গে মন্তব্য করে, ‘ইভানকা আমার মেয়ে না-হলে আমি তার সঙ্গে ডেটিংয়ে যেতাম’। লোকটার লাজ-লজ্জার কোন বালাই নাই। নিজের জামাতাকে দুম করে উপদেষ্টা করে বসে।মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যরা নতুন খসড়া আইন নিয়ে আলোচনার শুরুটা করেছিলেন ট্রাম্পকে মাথায় রেখে, তার মানসিক সুস্থতা নিয়ে।

এমনিতে এ হচ্ছে বিশ্ব মিথ্যুক! মিথ্যা বলে ধরা পড়ে, ধরা পড়ে মিথ্যা বলে। নিজে কেবল এন্তার মিথ্যাই বলে না তার লোকজনকে দিয়েও বলায়। রাজনৈতিক পত্রিকা পলিটিকো লিখেছে, ‘ট্রাম্পের মুখপাত্র মাত্র পাঁচ মিনিটের এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে চারটি মিথ্যা কথা বলেন’।
এমনিতে এ কুটিলও কম না- আড়াই কোটি ডলারে তার বিরুদ্ধে করা ৩ মামলার সুরাহা করেছে!

হোয়াইট হাউসের খবর সংগ্রহকারী সাংবাদিকদের ‘ইউএস প্রেস কোর’ বলা হয়। তারা ট্রাম্পের উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি লেখেন কারণ ট্রাম্প প্রায়স টুইটারে ব্যক্তিগতভাবে কোনও-কোনও সাংবাদিককে উপহাস করেন, মামলার হুমকি দেন এমনকি শারীরিক প্রতিবন্ধিতার জন্য ব্যঙ্গও করেন।

এও এক অভূতপূর্ব! ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর ইয়েমেনে এক সামরিক অভিযানে নিহত হন নেভি সিলের কমান্ডো উইলিয়াম রায়ার ওয়েনস। তাঁর বাবার সঙ্গে দেখা করতে চান ট্রাম্প কিন্তু ওয়েনসের বাবা ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করতে রাজি হননি!
আর তার অভিষেকে যে সমস্ত বিক্ষোভ হয়েছে তা আমেরিকার জন্য এক বড় লজ্জা!

উন্নত বিশ্বে যে বিষয়টা খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয় বা ন্যাক্কারজনক মনে করা হয় সেটা হচ্ছে বর্ণবাদ। অথচ ট্রাম্প এক কট্টর বর্ণবাদী। মুসলমানদের প্রতি তার বিদ্বেষ সুপরিচিত। মেক্সিকানদের ধর্ষক, মাদক পাচারকারী বলে সম্বোধন করা, দেওয়াল তুলে দেওয়া নিয়ে গোঁ ধরা। হাইতির সবাই এইডস রোগে আক্রান্ত, নাইজেরিয়রা বস্তিতে বাস করে এই সব অনবরত বকেই যাচ্ছে।
ট্রাম্পের সব চাইতে শুয়রসুলভ আচরণ হচ্ছে, জিরো টলারেন্সের নামে হাজার-হাজার শিশু-কিশোরকে তাদের পরিবারের কাছ থেকে আলাদা করে ফেলা। কেবল তাই না অনেকের সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে তা অমানবিকই না রোমহর্ষকও বটে। ভার্জিনিয়ার কিশোর আটককেন্দ্র শেনানদোহ ভ্যালে জুভেনাইল সেন্টারে অভিবাসী কিশোরদের জবানবন্দি থেকে জানা যায়, তাদের নিয়ম করে মারা হয়। উলঙ্গ করে ঠান্ডা ঘরে আটকে রাখা হয়। কালো ব্যাগে মুখ ঢেকে নির্যাতনও চালানো হয়।
যুক্তরাজ্য সফরের পূর্বে লোকজন ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে ঢাউস পুতুল উড়ালে যথারীতি ট্রাম্পের ইতরসুলভ উত্তর, 'আ ডোন্ড কেয়া'!
এ নতুন না রাতৈনিক নেতাদের প্রতি বিক্ষোভ জানাতে গিয়ে পচা ডিম-টিম ছুড়ে মারা হয়। কিন্তু পেশাবের কী কাজ! এই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে ২০০ গ্যালন পেশাব জমিয়েছে ট্রাম্পের জন্য।

খারাপ খবরের মিছিলের মধ্যে আনন্দদায়ক খবর। পর্নো তারকা স্টর্মি। এই ভদ্রমহিলাকে পেলে কদমবুসি করতাম। কারণ স্টর্মি সেই মহিলা যে ট্রাম্পের উদোম পশ্চাদ্দেশে আচ্ছা করে কয়েক ঘা লাগিয়েছিলেন। এই গ্রহের গ্রহবাবার ইয়েতে। ভাবা যায়!

ট্রাম্প জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস উদ্বোধন করে যখন উল্লাসে ফেটে পড়ছিল তখন ফিলিস্তিনে একের-পর-এক মানব সন্তান মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছিল। এর ফল সুদূরপ্রসারী! আমেরিকা-ইসরাইল মিলে মুছে ফেলার চেষ্টা করছে ফিলিস্তিনিদের পরিচয়! আমি ফিলিস্তিনি কবি মাহমুদ দারবিশের ‘আইডেনটিটি কার্ড’ কবিতার কয়েকটা লাইন এখানে জুড়ে দিচ্ছি: “লিখে রাখ প্রথম পৃষ্ঠার একেবারে ওপরে:
আমি মানুষকে করি না ঘৃণা …
কিন্তু যদি আমি ক্ষুধার্ত হই
দখলদারের মাংশও হতে পারে খাদ্য আমার
অতএব, সাবধান… 
সাবধান…
সাবধান…
আমার ক্ষুধা থেকে এবং আমার ক্ষোভ থেকে।“

কাউকে-কাউকে দুম করে বলতে শুনি, ট্রাম্প মেথরেরও অধম! দুঃখিত, আমি মেথর নামের এইসব মানুষদের কাছে ক্ষমাপূর্বক নতশিরে ক্ষমা চাচ্ছি। আমি আমার সমস্ত জীবনে যত ইতর মানুষ দেখেছি তাদের মধ্যে ট্রাম্প ইতরেরও অধম। কয়েক বছর ধরে আমি ‘মেথরপট্টির’ একটা স্কুল পরিচালনার সঙ্গে জড়িত থাকার সুবাদে ওই হরিজন পল্লিতে দেখেছি ওখানকার লোকজনকেও বিব্রত হয়ে বলতে, ‘বাবু, হামাদেরও একটা ইজ্জত আছে…’।

মি. প্রেসিডেন্ট, স্যার পরিতাপের সঙ্গে আপনাকে বলি, ট্রাম্প, তুই ল্যাংটা!
ভিডিও ঋণ: Indecline 'GINGER'

No comments: