Saturday, June 2, 2018

ক্রসফায়ার বনাম বন্দুকযুদ্ধ।

দেশ এখন যুদ্ধাবস্থায় আছে। তুমুল 'বন্দুকযুদ্ধ' (চালু মিডিয়া সম্ভবত ক্রসফায়ার বলে-বলে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে তাই এই নতুন সংযোজন চালু করেছে।) চলছে! বন্দুকের গুলি সবগুলোই একের-পর-এক ক্রস করছে। এ এক ‘অমায়িক ক্রসফায়ার’ - যাদের গা ছুঁয়ে যাচ্ছে তারা বেজায় খুশি বেঁচে যাওয়ার আনন্দে! কিন্তু ‘খোদা-না-খাস্তা’ কোনও একটা গুলি যদি ক্রস না-করে সোজা খুশিমুখের কারও দিকে চলে এলে তো বিপদ, মহাবিপদ! মরলে কী আর কারও বাঁচার যো আছে রে, পাগল! তাই কোদালের বদলে ‘বদিস্ত্র বা বদাস্ত্র’ দিয়ে ট্রেন্চ খোঁড়াটা অতি জরুরি। বদিকে বাঁচাবার জন্য অন্যত্র দৃষ্টি ফেরানোটা জরুরি, খুব জরুরি!
...
ক্রসফায়ার না (যেখানে ডান্ডাবেড়ি নিয়েও লোকজন গুলি ক্রস করত [১] [২]), একরাম 'বন্দুকযুদ্ধে' যুদ্ধ করে, হত্যা হয়ে সরকারকে বেকায়দা ফেলার চেষ্টা করেছেন। এবং মিডিয়ার তথ্য ভান্ডারের উৎসে খানিকটা ব্যাঘাত ঘটিয়েছেন। এ তো হওয়ারই ছিল! আমরা এই সমস্ত হত্যার মিছিল নিয়ে কী উল্লসিত! চা খেতে খেতে একজন অন্যজনকে জিজ্ঞেস করছি, ‘আজ কয়টা রে’? কারণ মাদকব্যবসায়ি মারা যাচ্ছে এই মাদকে আমরা নিজেরাই বুঁদ!
তার উপর আমাদের চেয়ে তথ্য-জ্ঞানে এগিয়ে থাকা গোলাম সারওয়ারের মত বয়স্ক একজন মিডিয়াবাজ মানুষের এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে যখন তেলতেলে চেহারার তেল গড়িয়ে পড়ে তখন দিগম্বর এই মানুষটাকে দেখে আমরা চোখ ফিরিয়ে নেই না। আনন্দের সঙ্গে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখি।

একরামকে হত্যা করার অডিওটা শোনার পর কেবলই মনে হচ্ছে যে সমস্ত মানুষ এই সমস্ত হত্যাযজ্ঞের সঙ্গে জড়িত, রোজাভঙ্গে প্রথম ফোঁটায় চুমুক দেওয়ার পূর্বে, ছুটতে ছুটতে নামাজে দাঁড়িয়ে, শখের বশে বিরিয়ানি রান্না করতে করতে, বেনি দোলানো মেয়েদেরকে হলুদ সন্ধ্যায় বেড়াতে নিয়ে গিয়ে বা শিল্পসাহিত্যের ভুবনে দাপিয়ে বেড়িয়ে এই ভাবনা মাথায় এলো যে একরামের বিষয়ে ভুল হয়েছে। ভুল হতেই পারে, এ তো আর চিত্র-বিচিত্র না। এই ভুল শোধরানোর উপায়ও কঠিন কিছু না। খুব সিম্পল।
একরামকে ফিরিয়ে দিলেই হয়…[৩]

সহায়ক সূত্র
১. ডান্ডাবেড়ি নিয়ে ক্রসফায়ার: http://www.ali-mahmed.com/2009/10/blog-post_03.html
২. ক্রসফায়ার এক মহা আবিষ্কারhttp://www.ali-mahmed.com/2008/07/blog-post_29.html
৩. মৃত্যুদন্ড...http://www.ali-mahmed.com/2009/06/blog-post_07.html

No comments: