Thursday, April 26, 2018

ধারা ৫৭...।

দেবতা তবুও ধরেছে মলিন ঝাঁটা
স্পর্শ বাঁচিয়ে পুণ্যের পথে হাঁটা” (অমিয় চক্রবর্তী)

লোকজন দেবতার হাতেও ঝাঁটা ধরিয়ে দেন। শোনো কান্ড, তাও মলিন ঝাঁটা। আহা, দেবতার যেখানে ছাড় নেই সেখানে মানুষ কোন ছাড়! হোমার সামটাইমস নডস- দেবতারও ভুল হয়। কিন্তু এ এক বিস্ময়, এই দেশের মানুষের ভুল হওয়ার চল কোথায়, হলেও স্বীকারের সততা নাই। শোনো কথা, যেন মানুষ চলে যাবে সমস্ত সমালোচনার উর্ধ্বে!
আচ্ছা, গেলে কী হয়! যা হওয়ার তাই হয়- ফল হাতেনাতে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সূচকে বাংলাদেশ তার দন্ডটা শক্ত হাতে ধরে রেখেছে- আগের অবস্থান থেকে একচুল নড়েনি। এই জগদ্দল পাথর সরাবার সাধ্যি কার? দেব জান তবুও দেব না মান- ছাড়াছাড়ি নাই। বিশ্বের ১৮০টি দেশের মধ্যে আমরা ১৪৬তম। পাকিস্তানের মত দেশও আমাদের চেয়ে ভাল অবস্থানে। হায় বাকস্বাধীনতা, হায়!
‘এক কাপ চায়ে দুই কাপ চিনি’ দিলে যা হয় তাই হচ্ছে। কার যে কেমন করে মান চলে যাচ্ছে এটা বোঝা খুব দুস্কর হয়ে যাচ্ছে। নিজ শিক্ষকের সঙ্গে বেয়াদবি করেন একজন সাংসদ আর মানহানী মামলা করলেন কিনা সাংসদের এক অনুচর। তিনি ১০০ কোটি টাকার মানহানীর মামলা করে দিলেন সাংসদের ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে [১]

হালে একজন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ৫৭ ধারায় মামলা করে দিলেন ফাহিম মাসরুরের বিরুদ্ধে। ব্যস, আর যায় কোথায়, পুলিশ ধরে নিয়ে গেল ফাহিম মাসরুরকে। পরে পুলিশ মাসরুরকে ছেড়ে দিয়েছে এ সত্য। কেন ছেড়ে দিয়েছে এটা বোঝার জন্য অবশ্য রকেটবিজ্ঞানী হওয়া লাগে না। তবে ছাড়ার পূর্বে মাসরুরের কাছ থেকে মুচলেকা রাখা হয়েছে। কেন, মুচলেকা কেন? একজন মর্যাদাশীল মানুষের জন্য এর চেয়ে অমর্যাদার কিছু নেই।
অবশ্য এর সদয় উত্তর দিয়েছেন এডিসি নাজমুল। তিনি জানিয়েছিলেন, “তার (মাসরুর) কাছ থেকে কিছু ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে…”। যাক বাঁচা গেল, বাজুকা-টাজুকা পাওয়া যায়নি। তিনি আরও বলেন, “পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হলে তাকে যাতে পাওয়া যায়, সেজন্য মুচলেকা রাখা হয়েছে”। (বিডিনিউজ২৪ডটকম, ২৫.০৪.২০১৮ ২১:৩৬:৫০ বিডি টাইম)।

যে মানুষটা আমাদের দেশে অতি পরিচিত, অতি সম্মানের এবং যে মানুষটার এই দেশের জন্য রয়েছে অসাধারণ-সব কাজ। সেই মানুষটা কী চোর-ছ্যাচ্ছড় যে ‘উঠল বাই দুম করে পালিয়ে যাই’…!

সহায়ক সূত্র:
১. খসে পড়ে...http://www.ali-mahmed.com/2018/03/blog-post_22.html

No comments: