Saturday, July 2, 2016

আ হিউম্যান বম্ব!

জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “…পরে তাকে নিয়ে আরও লোকজন ধরতে গেলে সে (ফাহিম)ক্রসফায়ারে বা যেকোনো কারণে হোক মৃত্যুবরণ করেছে। …ফাহিমের জন্য খালেদার এত মায়াকান্না কেন?...” (প্রথম আলো, ৩০ জুন ২০১৬)

ক্রসফায়ার বা যেকোনো কারণে…”। ‘যেকোনো কারণ’ নিয়ে খানিকটা সংশয় তাঁর মধ্যে কাজ করলেও আমার ক্ষীণ ধারণা ছিল ক্রসফায়ারের বিষয়টা হয়তো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জানা নেই কিন্তু ধারণাটা ভুল। তিনি বিলক্ষণ জানেন।
হায় রাজনীতি- খালেদা জিয়াকে পরাস্ত করার জন্য তিনি এই কথাটা বলতে গিয়ে এর ভয়াবহতা উপেক্ষা করলেন! এমনিতে ফাহিমের জন্য খালেদা জিয়ার দয়ার্দ্র মনোভাব নিয়ে আমার বিশেষ কাতরতা নেই। এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখানে জরুরি না।


খালেদা জিয়া কতটা ঘায়েল হলেন জানি না কিন্তু প্রধানমন্ত্রী প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য যে পথ বেছে নিলেন তা আমাদেরকে ভীত আতঙ্কিত করে। সরকারী পোশাক গায়ে থাকলেই কাউকে হত্যা করা যায় না। এই এখতিয়ার কেবল আইনের তাও যথাযথ নিয়ম পালন করে। ফাহিম জঘন্য অপরাধ করেছে এটা নিয়ে কারও দ্বিমত নাই যেমনটা অমত নাই তার প্রাপ্য শাস্তি দেওয়া নিয়েও। কিন্তু কোনও প্রকারেই এটা বিস্মৃত হওয়ার সুযোগ নাই যে ফয়জুল্লাহ ফাহিমের মৃত্যু হয়েছে সরকারী হেফাজতে। সেটা ক্রসফায়ার নাকি এঙ্গেলফায়ার সেটা মূখ্য না। তাকে রক্ষা করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে যেমনটা কোনও সরকারের হেফাজতে জেলখানায় থাকা কাউকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হওয়াও।
ছবি ঋণ: নিউজসময়
এমনিতেও ফাহিমকে বাঁচিয়ে রাখাটা অসম্ভব জরুরি ছিল কারণ ফাহিমকে নিয়ে বিস্তর কাজ করার সুযোগ ছিল। এমন একটা ছেলের মনোজগৎ এলোমেলো হয়ে যায় কেমন করে? এই কাজের ক্ষেত্র গবেষক, মনোবিদ, লেখকের। ফাহিমের মত অল্পবয়সের মেধাবী ঘোরপ্যাঁচ নেই এমন একটা ছেলে কেমন করে ক্রমশ দানব হয়ে উঠে!পরিণত হয় একটা চলমান হিউম্যান বম্ব! জানাটা অতীব জরুরি, তার মনোজগত বদলে যাওয়ার কী সে রহস্য। তার মগজের খাঁজে খাঁজে উঁকি দিয়ে এটা দেখার প্রয়োজন ছিল।
শত-হাজার ফাহিমের আগমণের পথ খোলা রেখে একজন ফাহিমকে নিচিহ্ন করে দিলেই কী না দিলেই কী…!