Monday, July 25, 2016

বর্গি গেল, জামাত-শিবির এলো!

মারাঠা সৈন্যবাহিনীর দস্যুদেরকে বর্গি বলা হতো। এই বর্গিরা ছিল মহাপাজি! এরা অন্য রাজ্যের রাজস্বেও ‘চৌথ’ নাম দিয়ে ভাগ বসাত। করাত টাইপের লোকজন অনেকটা, যেতেও কাটে আসতেও। রাজস্ব দিলেও রাজস্বের নামে লুটতরাজ না-দিলেও লুটতরাজ। বঙ্গের মানুষকে তিতিবিরক্ত করে ফেলেছিল। অবস্থা এমন দাঁড়াল কাউকে জিজ্ঞেস করা হলো,‘ভাত খাইছেন’? তার উত্তর অনেকটা এই টাইপের, ‘কী ভাত খামু বর্গির জ্বালায় ভাত খাওয়ার উপায় আছে’!
'ইয়ে করছেন'? 'আরে, কেমনে ইয়ে করমু', ইত্যাদি।

দেশে এখন আর বর্গি নাই। তাতে কী! জামাত-শিবির তো আছে। ভাগ্যিস আছে নইলে আমাদের দেশের যে কী উপায়টা হতো! আহা, কাউকে ক্রসফায়ারের নামে মেরে ফেলা হয়েছে, তো?। ‘কুছ পারোয়া নেহি’, জামাত-শিবির বলে দিলে ‘অল কোয়ায়েট অন দ্য বঙ্গাল ফ্রন্ট’! পুলিশ কাউকে ‘দিন-দাহাড়ে’ শত-শত লোকজনের সামনে পেটাচ্ছে। কোনও সহৃদয় মানুষ অসহায় মানুষটাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলো বুঝি? ব্যস, বলে দাও ওরা জামাত শিবির দেখো, তার পায়ে অদৃশ্য পেরেক আটকে নড়াচড়ার যো থাকবে বুঝি- তখন তার একেকটা জুতার ওজন হবে কম-কম ১ টন।!
video
                              ভিডিও সূত্র: banglatribune.com
এই ভিডিওতে আমরা যে বীরপুঙ্গব সার্জেন্ট মহোদয়কে দেখতে পাচ্ছি তিনি একজন চালককে পেটাচ্ছেন, বুট দিয়ে পদদলিত করছেন। এদিকে পুলিশ বলছে, "... পুরো ঘটনার ভিডিও দেওয়া হয়নি। দেওয়া হয়েছে খন্ডিতাংশ। এতে পুলিশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। এটি পূর্ব পরিকল্পিত বলে মনে করেন তারা"...
বাপুরে, তোমাদের ভাবমূর্তির ভাব দেখে বাঁচি নে।
পরে সার্জেন্ট স্যার তার মোবাইল, ঘড়ি, চশমা এবং ইয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার জন্য ১০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণও আদায় করেন। এই প্রসঙ্গে সার্জেন্ট মেহেদীর কাছে ওই চালককে মাটিতে ফেলে পায়ের বুট দিয়ে আঘাত করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘আমি তাকে অ্যারেস্ট করতে চাইছিলাম। এটা আমাদের অ্যারেস্ট করার কৌশল’।
কারও গোপন কৌশল নিয়ে আমরা ট্যাক্সপেয়ি লোকজনেরা বেশি বাতচিত নাই-বা করলাম।
সার্জেন্ট মেহেদী বাংলা ট্রিবিউন ডট কমকে আরও বলেন, “…এ সময় কয়েকজন লোক এগিয়ে আসেন। যাদের পরনে কোর্ট-টাই পরা ছিলো। মুখে দাড়ি ছিলো। তাদের জামায়াত-শিবিরের লোক বলে মনে হয়েছে। …

কী সর্বনাশ-কী সর্বনাশ! আফসোস, গুলিস্তানের কামানটা সার্জেন্ট সাহেবের হাতের নাগালে ছিল না নইলে তোপ দাগিয়ে এগিয়ে আসা ওই জামাত-শিবির দুষ্টদেরকে উড়িয়ে দিতেন।

Saturday, July 16, 2016

রিপ, সুন্দরবন!

মানুষ খুন হয়, বন খুন হয় না? বেশ, মেনে নিলাম হয় না! আচ্ছা, সুন্দর অসুন্দর হয় না? কোনও সুদর্শনের মুখে এসিড ঢেলে দিলেও? কুৎসিত অবয়বটা নিয়ে বেঁচে থাকে বটে কিন্তু অজান্তে স্বজনেরও মুখ ফসকে বেরিয়ে যায়, আহ, মরে গেলেই ভাল ছিল। সত্যের মত বদমাশ আর নাই।
কাফকার মেটামরফোসিসের সেই চরিত্রটির কথা মনে আছে, গ্রেগর? "...One morning, when Gregor Samsa woke from troubled dreams, he found himself transformed in his bed into a horrible vermin..."
অসুন্দর-পোকায় রূপান্তরিত হওয়া, যার মৃত্যুতে তার মার সেই নির্দয় উক্তি, 'মরে গেছে'? গ্রেগরের বাবার হাঁপ ছাড়া সেই সংলাপ, 'যাক, ঈশ্বরকে অনেক ধন্যবাদ’।

কয়লাভিত্তিক বিদুৎকেন্দ্র নির্মাণের চুক্তির বিরোধীতা করেছিল ৫৩টি পরিবেশবাদী সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি। ফলাফল আ বিগ জিরো! যাহা ৫৩ তাহাই ৫৩০! এই সংগঠনের সংখ্যা ৫৩০ হলেও কী আসে যায় কারণ ফল তো একই। হুদাহুদি! কারণ বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী, নসরুল হামিদ মিডিয়ায় বলেছেন,’রামপাল চুক্তি নিয়ে যারা বিরোধীতা করছেন তারা বৈজ্ঞানিক তথ্যপ্রমাণ হাজির করতে পারেননি’।
আহা, পারবেন কেমন করে? আফসোস, বিরোধী দলে (এই চুক্তির) একজন বিজ্ঞানীও নাই! বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা না-করার ফল!

ইতিপূর্বে জ্বালানি সচিব মোজাম্মেল হক খান তো বলেই দিয়েছিলেন, 'এই প্লান্টটি আমাদের জন্য জরুরি, তাই পরিবেশের বিষয়গুলো আপোষযোগ্য' [১]। এরপর আর কথা চলে না। আপোষ না-করার তো প্রশ্নই আসে না কারণ আমাদের এতো-এত্তোগুলা সুন্দরবন, কোনটা রেখে কোনটা ফেলি! এই উন্নয়নের (!) হাত ধরে ওখানে যে অজস্র কংক্রিটের বস্তি গড়ে উঠবে এর রেশ ধরে বনের পশু-পাখি মায় গাছপালাও যে গলা ফাটিয়ে ‘ধুম মাচা দে’ বা ‘শিলাকি জাওয়ানি’ গান গাইবে এতে সন্দেহের কোনও অবকাশ নাই। সভ্যতার ছাল গায়ে চড়িয়ে ছাগল বাঘের গাল চাটবে-‘কাল কাল মাহাকাল ছাগল চাটে বাঘের গাল’।

গোটা গ্রহ হাঁ হয়ে যাবে, বাপস, কী সভ্য এরা- অসভ্য বনের পশুকেও সভ্য করে ফেলেছে! ‘গ্রহ বাঁচাও’ টাইপের কোনও একটা পুরষ্কার না-দিয়ে এরা আমাদেরকে ছাড়বে বুঝি! এতো সোজা…।
কিছু ছোটখাটো সমস্যা আছে বটে এই যেমন এই কেন্দ্র চালাবার জন্য প্রতিদিন লাগবে মাত্র ১০ হাজার মেট্রিক টন কয়লা! ব্যাপার না। আশা করছি এই সামান্য কাজটি করার জন্য আমাদের পশুর নদী ব্যবহৃত হবে না কারণ ভারতের সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার-মিগের সাহায্যই এই কর্মকান্ডের সমাধা হবে।

যাই হোক, আমাদের অর্জনও কিন্তু কম না রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র চুক্তি স্বাক্ষরের পর ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এই ভার বহিব কেমনে- ‘প্রাণে দাও মোর শকতি’।

১. সুন্দরবন রামপাল…: http://www.ali-mahmed.com/2013/04/blog-post_23.html

Thursday, July 14, 2016

শিবরামের শার্সি!

কী ভয়াবহ, কী ভয়ংকর! “তিন জঙ্গিনেতার বিচারের অনুমতি পাওয়া যাচ্ছে না” (প্রথম আলো, ১২ জুলাই, ২০১৬)। আমি আমার সমস্ত জীবনে যেসব হতবাক হওয়ার মত কথা শুনেছি এটা এর মধ্যে শীর্ষে থাকবে এতে অন্তত আমার কোনও সন্দেহ নেই। এই জঙ্গিনেতাদের মধ্যে আছে জেএমবি শীর্ষ নেতা মহতরম জনাবে-আলা মাওলানা সাইদুর রহমান, আনসারউল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান জসিম উদ্দিন রাহমানী আরও আছেন হিযবুল তাহরীরের প্রধান সমন্বয়ক মহিউদ্দিন আহমেদ।
এদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে কিন্তু বছরের-পর-বছর চলে যাচ্ছে কিন্তু মামলা শুরু করার জন্য অনুমোদন পাওয়া যাচ্ছে না। এরমধ্যে একজনের মামলার অনুমোদন ঝুলে আছে তা প্রায় ৬ বছর হলো।

এই বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জান খানের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন’।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এই বিষয়ে বলেন, ‘তিনি শিগগিরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন’।
এই হচ্ছে আমাদের দেশের খোঁজখবর রাখার নমুনা! আমাদের দেশের মন্ত্রীরা কেমন অকাজে জড়িয়ে থাকেন এর একটা নমুনা দেই। এক মন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার লোকজনেরা এলাকায় আনন্দ-মিছিল বের করলেন রং ছিটিয়ে ছিটাছিটি খেলা খেললেন। সামনে-পেছনে ১০-১২ জন পুলিশ। ঘটনা হচ্ছে এলাকার কলেজ নাকি মন্ত্রী মহোদয়ের সদয় হস্তক্ষেপে সরকারীকরণ করা হয়েছে। বিষয়টা সত্য হলেও ভাবখানা এমন মন্ত্রী সাহেব তালুক বিক্রি করে এই কর্মটা করেছেন। বাস্তবতা হচ্ছে দেশে কেবল এই কলেজই না প্রায় প্রত্যেক উপজেলায়ই একটা করে কলেজ এই আওতায় পড়েছে। পাবলিকও জানে মন্ত্রী মহোদয় কি পছন্দ করেন।

এদিকে ফ্যানাটিক খুনি নিবরাসকে ধরার জন্য পুলিশের বিশেষ উদ্যোগ ছিল না। যথাসময়ে তাকে ধরা হলে হয়তো গুলশানের ওই নারকীয় খুনগুলো এড়ানো যেত। যাই হোক, একজনকে ধরা হবে, অভিযোগপত্র দেওয়া হবে তার বিরুদ্ধে মামলা শুরু হবে এখানে চিঠি চালাচালির কী আছে সেটা আমাদের মত নির্বোধ ট্যাক্সপেয়ি লোকজনের বোঝা মুশকিল। অবশ্য বিবিসিকে এর একটা ব্যাখ্যা দিয়েছেন আইনমন্ত্রী, ”এটা আইনের একটি রক্ষাকবচ ছিল। সিরিয়াস ক্রাইমে দুটো জিনিস কাজ করে- একটা হচ্ছে অযথা কাউকে হয়রানি করলে…অপরদিকে এটার সিরিয়াসনেস বোঝার জন্য…সে কারণেই অনুমোদন প্রয়োজন”।
অতি উত্তম, না-জানলে আমরা বুঝব কেমন করে অধম!
কিন্তু এমতাবস্থায় এর অপব্যবহার কি হচ্ছে, এটা জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী আরও জানান, “এখন পর্যন্ত সরকার এর অপব্যবহার করেছে এ রকম নজির দেখানো যাবে না”।
এই অমৃতবাণী শুনে হাসব না কাঁদব বুঝে উঠতে পারছি না!

এমনিতে ক্রসফায়ার করে কাউকে মেরে জঙ্গি বলে দিলে হত্যাকারীর জবাবদিহি করা লাগে না। প্রতিপক্ষকে কাবু করারও এ এক অনন্য উপায়। কেবল আইএস আছে এটা স্বীকার করা চলবে না। আরে, আইএস আবার কবে এটা বলল, আমরা আদি-অকৃত্রিম আমাদের কোথায় কোনও শাখা নেই।
ঘুমকাতুরে লোকজনেরা চোখ কচলে সকালে যখন জানতে পারলেন অপারেশন ‘থান্ডার বোল্ডের’ ইতি টানার পর যে জিম্মিদের প্রায় সবাইকে খুন করা হয়েছে [১] অথচ আইএসের বরাতে ‘নিশাচর ড্রাকুলা’ টাইপের লোকজনেরা মধ্য-রাতেই জেনে গেছেন যে জিম্মিদেরকে খুন করা হয়েছে।
আফসোস, কে এদেরকে বোঝাবে আইএস কেবল একটা সংগঠনই না আইএস একটা মতাদর্শ-ভাবাদর্শ। এবং এটা এরা পৃথিবীময় ছড়িয়ে দিচ্ছে। অঝোর বৃষ্টিতে ছাতার খোঁজ না-করে বৃষ্টি যা যা, বলে গান গাইলে অন্তর্বাসও যে বৃষ্টিতে চুপচুপে হবে এতে সন্দেহ কী!

তো,‘জঙ্গি আইয়ে রে’,এটা শুনে-শুনে কানের পোকা তো পরের কথা কানের ময়লা পর্যন্ত সাফ। জঙ্গি দমনে সরকার নাকি জিরো টলারেন্স। যেখানে জঙ্গি শীর্ষ নেতাদের বিচারের অনুমোদন ৬ বছর লাগিয়ে পাওয়া যাচ্ছে না সেখানে মন্ত্রী মহোদয় বলছেন এর অপব্যবহার হচ্ছে না। তা জিরো টলারেন্সের পর কী ‘মাইনাস টলারেন্স’ যোগ হবে?
আমাদের এই বিচিত্র দেশের ড্রাইভার সাহেবরাও বড়ো বিচিত্র। অর্থমন্ত্রীর কাছে কোনও সমস্যাই সমস্যা না তাই তিনি যথারীতি মন্তব্য করেছেন, জঙ্গি হামলা এটা কোনও বিষয় না।
আর আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী বলেছেন, "জঙ্গি হামলায় দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়নি"। মন্ত্রী মহোদয় যেহেতু পাল্লা দিয়ে মেপে এটা বের করেছেন তাই এতে সন্দেহ পোষণ করা সমীচীন হবে না। আমরা আনন্দের সঙ্গে এটা বলতে পারি এতে করে দেশের মুখ ফকফকা হয়েছে। এই গ্রহে আমাদের মাথা এমন উঁচু হয়েছে যে তা ভাষায় প্রকাশ করে কে!  

এই প্রসঙ্গের এখানেই ইতি টানি। ভারী-ভারী বিষয় নাহয় থাকুক। শিবরাম চক্রবর্তীর ওই লেখাটা সবাই জানেন তবুও বলি। দুজন ট্রেনযাত্রী বেজায় ক্ষেপে গেলেন। সমস্যাটা মারাত্মক! একজনের ঠান্ডা লাগছে তাই তিনি চলন্ত ট্রেনের শার্সি নামিয়ে দিচ্ছেন। এদিকে অন্যজনের গরম লাগছে বিধায় তিনি শার্সিটা উঠিয়ে দিচ্ছেন। দুজনের ‘মুন্ডফাঁক’ হয়-হয়। ট্রেন থামলে গার্ড সাহেব পান চিবুতে চিবুতে হেলেদুলে এগিয়ে এসে বিস্ময় প্রকাশ করলেন, ট্রেনের বগির এই জানালার তো কাঁচই নেই! কোন-এক বখাটে ঢিল মেরে আস্ত কাঁচই হাপিস করে দিয়েছে। এখন বেচারা জানালাকে উঠবস করাবার অর্থ কী!

আসলে কাঁচবিহীন একটা জানালার আমাদের খুব প্রয়োজন তাহলে ‘গুছলেংটি’ দিয়ে 'হুদাহুদি' ঝগড়া করতে খুব সুবিধে হয়…।

১. শিরোনামহীন: http://www.ali-mahmed.com/2016/07/blog-post_8.html

Monday, July 11, 2016

বিচিত্র, বড়ো বিচিত্র!

গুলশানে যে নারকীয় তান্ডব চালায় দানবেরা এদের পরিবারের লোকজনরা তাঁদের সন্তানদের হাতে খুন হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। এটা যে অসাধারণ একটা উদ্যোগ এতে কোনও সন্দেহ নেই। স্যালুট। আলাভোলা ছেলেগুলো যেভাবে হুট করে দানব হয়ে যাচ্ছে একটা দেশ,পরিবারের জন্য এটা যে কী পরিমাণ কষ্টের এটা বোধের বাইরে কারণ আমাদের পরিবারও এই শঙ্কা থেকে মুক্ত না। কারও আদরের সন্তান বদলে যাবে না এটা কেউ জাঁক করে বলতে পারে না। যে বলে সে একটা নির্বোধ! যে সকাল-বিকাল হাওয়াইমিঠাই খায়,আকাশে নৌকা বায়।

এদের মধ্যে রোহান ইবনে ইমতিয়াজের বাবা এস এম ইমতিয়াজ খান ক্ষমতাশীন দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এবং পুলিশ প্রথমে মৃতদের যে ছবি আমাদেরকে দিয়েছিল সেখানে রোহানের ছবি ছিল না অথচ 'আইএস' কিন্তু ঠিকই রোহানের ছবি প্রকাশ করেছিল [১]। যাই হোক, সেটা এখন আলোচ্য বিষয় না।

তবে রোহানের বাবার ক্ষমা চাওয়া- দুঃখ প্রকাশের ভঙ্গি বিচিত্র, বড়ো বিচিত্র। তিনি গুলশান হত্যাকান্ডে নিহত ভারতীয় তরুণী তারুশি জৈনের মা-বাবার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি মিডিয়াকে বলেন,"এই আক্রমেণ একজন ভারতীয় নারীর মৃত্যু হয়েছে এ ঘটনায় আমি ভারত এবং ওই নারীর বাবা-মায়ের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি…।"
অথচ অন্যদের বেলায় তাঁর কোনও প্রকারের বক্তব্য আমরা পাই না! প্রত্যেকটা মৃত্যুই কষ্টের বিশেষ করে তাঁর স্বজন-পরিবারের কাছে। তিনি ভারতীয় ওই পরিবারের প্রতি সহমর্মীতা দেখিয়ে একটা দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছেন এটা সত্য। কিন্তু…।
সিমোনা মন্তি
ছবি উঃস : www.banglatribune.com
এই হামলায় সবচেয়ে বেশি নাগরিক খুন হয়েছেন ইতালির এরপর জাপান। পাশাপাশি আছেন আমাদের দেশের নাগরিকও। অথচ অন্যদের কথা রোহানের বাবা কেন বিস্মৃত হলেন এটা আমার কাছে বিস্ময়কর!
সব বাদ দিলেও এদের মধ্যে ছিলেন ইতালির এক নাগরিক সিমোনা মন্তি। সিমোনা মস্তিকে খুন করা হয়। ভুল! কেবল সিমোনা মন্তিকেই খুন করা হয়নি খুন করা হয়েছে তার গর্ভের সন্তানকেও। যার নাম ঠিক করা হয়েছিল মাইকেল অ্যাঞ্জেলোর নামে। এই অ্যাঞ্জেলকেও মরতে হয়েছে দানবদের হাতে। অতি নিষ্ঠুর প্রকৃতির মানুষও একটা গর্ভবতী সাপকে ঢিল মারতে গিয়েও হাত ফিরিয়ে নেয়।
আমি অন্যত্র এক লেখায় লিখেছিলাম,‘দানব তার মাকেও খেয়ে ফেলে’ অ্যাঞ্জেল কোন ছার! 

১. শিরোনামহীন: http://www.ali-mahmed.com/2016/07/blog-post_8.html

Friday, July 8, 2016

শিরোনামহীন।

[আজকের লেখার শিরোনাম খুঁজে পাচ্ছি না তাই শিরোনাম শিরোনামহীন! ]
গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে যে নারকীয় হামলা হয়ে গেল এর ভয়াবহতা গুছিয়ে লেখার ক্ষমতা আমার নাই। নারকীয় কর্মকান্ড করে যে পাঁচ জন সন্ত্রাসী মারা গেল এদের স্থান নরক ব্যতীত অন্যত্র কোথায় আর। এরা জঙ্গী না ঢঙ্গি এই বাহাসে যাওয়া অর্থহীন কারণ সন্ত্রাসী সন্ত্রাসীই তার আবার জাত-পাত কী, ভিন্ন নামই বা কী! এরা স্রেফ একটা চলমান দানব যে দানব যে তার মাকে খেয়ে ফেলে- ধর্ম, দেশ কোন ছার।
আই্এস থেকে হামলার পরই ‘আমাক নিউজের’ বরাতে যে পাঁচজন সন্ত্রাসীর ছবি ছাপা হয়েছিল এদের মধ্যে একজন নিয়ে ঘাপলা হলো সে হচ্ছে এখানকার শেফের সহকারী। এদিকে আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করলাম, আইএসপিআর ছয় জন হামলাকারীর মৃত্যুর কথা বললেও পুলিশ ৫ জন সন্ত্রাসীর ছবি প্রকাশ করে। এই পাঁচজন সন্ত্রাসীর মধ্যে ‘রোহান’ নামের সন্ত্রাসীর ছবি ছিল না, ছিল শেফের সহকারীর ছবি। অথচ আইএস যে পাঁচজনের ছবি প্রকাশ করেছিল ওখানে রোহানের ছবি ছিল। পরে আমরা জানলাম রোহানের বাবা হচ্ছেন ক্ষমতাশীন দলের লোক!

পুলিশ মৃত ওই পাঁচজন দানবের যে নাম আমাদেরকে জানায় তারা হচ্ছে আকাশ, বিকাশ, ডন, বাঁধন ও রিপন। তবে তখন তাদের বিশদ পরিচয় আর জানানো হয়নি। কিন্তু চৌকশ লোকজন ঠিকই এটা বের করে ফেলল এই পাঁচজনের নাম আকাশ-বাতাস, ফুল-ফল না এদের নাম হচ্ছে নিবরাস, রোহান, মোবাশ্বের, খায়রুল এবং উজ্জল। এবং এদের অধিকাংশই উচ্চবিত্ত পরিবারের এবং ভালই শিক্ষিত। এর মধ্যে খায়রুলের পরিবার হচ্ছে গরীব, দুবলাপাতলা। আর যায় কোথায়! তার পরিবারের লোকজনকে নিয়ে চলছে ডাকাডাকির নামে গ্রেফতার অথচ রোহান, নিবরাসের পরিবারের লোকজনকে ‘অমায়িক ডাকাডাকি’ করার কথা তো শুনিনি! এই সব করে-করে সরকারের সদিচ্ছার প্রতি আমাদের মধ্যে এক ধরনের আস্থাহীনতা এবং পাশাপাশি ক্ষোভমিশ্রিত ভয়ও কাজ করে।
যেমনটা তীব্র ক্ষোভে আমরা কাবু হয়ে হই যখন দেখি এই হামলার পরপরই প্রধানমন্ত্রীর ঘটা করে চার লেইনের সড়ক উদ্বোধনের নামে ঢাকঢোল পেটানো হয়। এই কাজটা ৪৮-৭২ ঘন্টা পিছিয়ে দিলে সূর্য ক-হাত নীচে নেমে আসত এমনটা মনে হয় না এমনিতে প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন করাতেই হবে এটা জরুরি কিছু না।

একটা খুব ইন্টরেস্টিং বিষয় লক্ষ করলাম, গুলশান ঘটনায় আমাদের দুইজন পুলিশ অফিসার মারা গেছেন অনেক পুলিশম্যান গুরুতর আহত হয়েছেন- পুলিশের লোকজনের প্রতি স্যালুট। অথচ জামাতে ইসলামী বিবৃতি দিল, “দুর্বৃত্তদের নিরস্ত্র করে জীবিতবস্থায় আটক করা উচিত ছিল…ব্লা-ব্লা-ব্লা”।
চুতিয়াগিরির একটা সীমা থাকা দরকার।

এই হামলার পর-পরই তিন দানবের এক ভিডিও বার্তায় ছড়িয়ে পড়ে (সঙ্গত কারণেই ভিডিও ক্লিপটা এখানে দিচ্ছি না।)। ওয়াল্লা, এই দানবগুলো দেখি আবার বাংলায় কথাও বলে! তিন দানবের মধ্যে এক দানব গুলশান হামলা প্রসঙ্গে বলছে,‘রামাদানের এই বরকতময় সময়ে খেলাফতের ভাইদের এতো চমৎকার একটি অপারেশনের খবর পড়ে আমি সত্যিই অভিভূত...’।

আমাদের দেশের চৌকশ লোকজন ঠিকই বের করে ফেলল এই তিন দানবের পরিচয়। আমাদের জন্য বিস্ময়ের-পর-বিস্ময় অপেক্ষা করে; এরাও প্রায় সবাই উচ্চবিত্ত পরিবার থেকে এসেছে এবং ভাল একাডেমিক শিক্ষা নিয়ে।
video
ভিডিও ঋণ: রুহুল কুদ্দুস রুহেল
ঈদের দিন শোলাকিয়ার অতি নিকটে যে হামলা হলো ওখানে পুলিশ যথাসময়ে এদেরকে আটকে না-দিলে কী ম্যাসাকার হতো তা আমি কল্পনাও করতে পারি না। একজন পুলিশ অফিসার মুর্শেদ জামান শেলাকিয়ায় নামায পড়তে গিয়েছিলেন। পরঞ্জাবি-পায়জামা পরা, কোথায় বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট কোথায় হেলমেট- লড়ে গেছেন বীরের মত। পুলিশের লোকজনের প্রতি আবারও স্যালুট। ওখানে হাতেনাতে যে জঙ্গিকে ধরা হয়েছে সে নাকি নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটির। এই নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটি তো দেখি দানব বানাবার কারখানা! একে নিয়ে পুলিশ অস্ত্র উদ্ধারে না-গেলেই হয় কারণ ইতিপূর্বে ফাহিমকে [১] নিয়ে পুলিশ অস্ত্রউদ্ধারে গেছে। এসপি বাবুল আকতারের স্ত্রী মিতু খুনের সন্দেহভাজন যে খুনি সেও ক্রসফায়ারে মারা গেছে।

আচ্ছা, পুলিশ এতো অস্ত্র উদ্ধারে যায় কেন! অন্যের অস্ত্রের প্রতি পুলিশের এহেন লালচ কেন! পুলিশের কী অস্ত্রের অভাব? আহা, এমনটা হয়ে থাকলে আমরা দেশবাসীরা নাহয় চাঁদা করে কিনে দেব নে...।
ঋণ: www.bdnews24.com

১. আ হিউম্যান বম্ব! : http://www.ali-mahmed.com/2016/07/blog-post.html

Saturday, July 2, 2016

আ হিউম্যান বম্ব!

জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “…পরে তাকে নিয়ে আরও লোকজন ধরতে গেলে সে (ফাহিম)ক্রসফায়ারে বা যেকোনো কারণে হোক মৃত্যুবরণ করেছে। …ফাহিমের জন্য খালেদার এত মায়াকান্না কেন?...” (প্রথম আলো, ৩০ জুন ২০১৬)

ক্রসফায়ার বা যেকোনো কারণে…”। ‘যেকোনো কারণ’ নিয়ে খানিকটা সংশয় তাঁর মধ্যে কাজ করলেও আমার ক্ষীণ ধারণা ছিল ক্রসফায়ারের বিষয়টা হয়তো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জানা নেই কিন্তু ধারণাটা ভুল। তিনি বিলক্ষণ জানেন।
হায় রাজনীতি- খালেদা জিয়াকে পরাস্ত করার জন্য তিনি এই কথাটা বলতে গিয়ে এর ভয়াবহতা উপেক্ষা করলেন! এমনিতে ফাহিমের জন্য খালেদা জিয়ার দয়ার্দ্র মনোভাব নিয়ে আমার বিশেষ কাতরতা নেই। এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখানে জরুরি না।


খালেদা জিয়া কতটা ঘায়েল হলেন জানি না কিন্তু প্রধানমন্ত্রী প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য যে পথ বেছে নিলেন তা আমাদেরকে ভীত আতঙ্কিত করে। সরকারী পোশাক গায়ে থাকলেই কাউকে হত্যা করা যায় না। এই এখতিয়ার কেবল আইনের তাও যথাযথ নিয়ম পালন করে। ফাহিম জঘন্য অপরাধ করেছে এটা নিয়ে কারও দ্বিমত নাই যেমনটা অমত নাই তার প্রাপ্য শাস্তি দেওয়া নিয়েও। কিন্তু কোনও প্রকারেই এটা বিস্মৃত হওয়ার সুযোগ নাই যে ফয়জুল্লাহ ফাহিমের মৃত্যু হয়েছে সরকারী হেফাজতে। সেটা ক্রসফায়ার নাকি এঙ্গেলফায়ার সেটা মূখ্য না। তাকে রক্ষা করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে যেমনটা কোনও সরকারের হেফাজতে জেলখানায় থাকা কাউকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হওয়াও।
ছবি ঋণ: নিউজসময়
এমনিতেও ফাহিমকে বাঁচিয়ে রাখাটা অসম্ভব জরুরি ছিল কারণ ফাহিমকে নিয়ে বিস্তর কাজ করার সুযোগ ছিল। এমন একটা ছেলের মনোজগৎ এলোমেলো হয়ে যায় কেমন করে? এই কাজের ক্ষেত্র গবেষক, মনোবিদ, লেখকের। ফাহিমের মত অল্পবয়সের মেধাবী ঘোরপ্যাঁচ নেই এমন একটা ছেলে কেমন করে ক্রমশ দানব হয়ে উঠে!পরিণত হয় একটা চলমান হিউম্যান বম্ব! জানাটা অতীব জরুরি, তার মনোজগত বদলে যাওয়ার কী সে রহস্য। তার মগজের খাঁজে খাঁজে উঁকি দিয়ে এটা দেখার প্রয়োজন ছিল।
শত-হাজার ফাহিমের আগমণের পথ খোলা রেখে একজন ফাহিমকে নিচিহ্ন করে দিলেই কী না দিলেই কী…!