Thursday, February 18, 2016

গুডবাই ওল্ড ম্যান, গুডবাই।

নায়কোচিত [১] লেখাটায় লিখেছিলাম, এই বয়স্ক মানুষটা স্টেশনে ছিলেন যখন, তাকানো যায় না এমন এক হাহাকারকরা ভঙ্গিতে। এই মানুষটির শেকড় কোথায়, স্বজন কারা? জানা নেই। কোথায় তিনি তিলে তিলে গড়ে তুলেছিলেন কুঁড়েঘর বা অট্টালিকা। অট্টালিকার কথা শুনে কেউ-কেউ হয়তো হাসি গোপন করছেন।
এই স্টেশনেই আমি এমন মানুষকেও [২] [৩] দিনের-পর-দিন বিনা চিকিৎসায় পড়ে থাকতে দেখেছি পরবর্তীতে যার চিকিৎসা হয়েছে স্কয়ারের মত হাসপাতালে তারপর ইংল্যান্ডে।

যাই হোক, ওই লেখায় লিখেছিলাম মানুষটার চিকিৎসা চলছে। হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীন যে সমস্যাটা প্রকট আকার ধারণ করেছিল যেটা পূর্বেও বলেছিলাম সেটা হচ্ছে যেহেতু মানুষটা চলৎশক্তিহীন তাই তিনি পরিধেয় কাপড় নষ্ট করে ফেলতেন। পরিষ্কার রাখাটাই কঠিন হয়ে পড়ত। তাই বলে চিকিৎসা থেমে ছিল না। ডা. সাইফুল ইসলাম নামের মানুষটা এঁর চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আমি প্রায় নির্ভার।

গতকালই আমার যে বন্ধু, প্রদীপ কুমার সাহা মাত্র অস্ট্রেলিয়া থেকে এসেছে ল্যাগজেটের ঘোর যার এখনও কাটেনি তাকে প্রায় উড়িয়ে নিয়ে চললাম হাসপাতালে। আমার সাফ কথা, কে দেখেছে নেক্সট সামার কে দেখেছে নেক্সট উইন্টার। পরদিন গেলে মানুষটার দেখা পাওয়া যাবে এর নিশ্চয়তা কোথায়?
তখন সন্ধ্যা হয়-হয়। মানুষটা তখনও অঘোর ঘুমে। আমরা ফিরে আসি।

আজ যখন এই মানুষটার সামনে দাঁড়ালাম। সেই ম্যাজিক, সেই পুরনো ম্যাজিক! এই মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড়ো ম্যাজিশিয়ানের ম্যাজিক। ম্যাজিকের ঘোর যখন কাটে তখন কেবল লাশ উঠাও লাশ নামাও। এই লাশটার মুখ চাদর দিয়ে ঢেকে দাও।
এই মানুষটা কিছুই জানা সম্ভব হয়নি, এমনকি নামও। তাই তিনি হাসপাতালে ভর্তিও হয়েছিলেন 'অজ্ঞাত' নামে। যাক, অজ্ঞাত মানুষটার নামের একটা গতি হয় নতুন একটা নামে পরিচিত হন তিনি, লাশ…।

১. নায়কোচিত: http://www.ali-mahmed.com/2016/02/blog-post_13.html
২. ঘরের ছেলে…: http://www.ali-mahmed.com/2014/01/blog-post.html
৩. অপেক্ষা: http://www.ali-mahmed.com/2013/11/blog-post_730.html

Wednesday, February 17, 2016

মাহফুজ আনাম, কতিপয় পদ্মা সেতু এবং …!

আমাদের দেশে ভুল স্বীকার করার চল নাই- যে দেশের যে চল! আমরা বৃত্তে ঘুরপাক খেতে পছন্দ করি।
এমনিতে কারও কোনও প্রকারের ভুলের কারণে তার নিজের ভুলের মাশুল বা কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে, কোন প্রকারে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষটির ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে সেটার বিভিন্ন উপায় আছে।
video
জরুরি অবস্থার সময় যাচাই না-করেই মাহফুজ আনাম তাঁর পত্রিকা ডেইলি স্টারে শেখ হাসিনার যে সংবাদটা ছাপিয়েছিলেন সেটা ডিজিএফআই দ্বারা সরবরাহকৃত ছিল। এটা তাঁর সম্পাদক জীবনের বড়ো একটা ভুল এটা মাহফুজ আনাম স্বীকার করার পর ঝড় উঠল। তাঁর বিরুদ্ধে একের-পর-এক মামলা হলো।
কিন্তু যে-বিষয় নিয়ে উচ্চবাচ্য করা হচ্ছে না সেটা হচ্ছে ডিজিএফআই দ্বারা সরবরাহকৃত সেই সংবাদটিই তখনকার অধিকাংশ পত্রিকাই ছাপিয়েছিল। ওই সমস্ত পত্রিকাগুলো এখনও চালু আছে। কিন্তু সেটা নিয়ে আমাদের বিশেষ কাতরতা নেই। সবচেয়ে বড়ো কথা হচ্ছে, যে ডিজিএফআই ওই সংবাদ সরবরাহ করেছিল তাদের বিরুদ্ধে টুঁ-শব্দ নাই।

যাই হোক, এখন পর্যন্ত মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে গত সাত দিনে ৩৫টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে আছে রাষ্ট্রদ্রেহিতার মামলা এবং মানহানির মামলা। আমার বোধগম্য হচ্ছে না এটা, সংবাদটা ছিল বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পরের কথা কিন্তু তখন তো তিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না তাহলে এখানে রাষ্ট্রদ্রোহিতার বিষয়টা আসে কেমন করে? বা যারা মামলাগুলো করেছেন শেখ হাসিনার স্থলে তাদের মানহানি কেমন করে হয় সেটাও আমার বোধের বাইরে। কী জানি, এই সব আইনের দিক, আদালতের বিচার্য বিষয় সেটা মাননীয় আদালতই ভাল বুঝবেন।

সব মন্দেরই একটা ভাল দিক থাকে। এখন পর্যন্ত ৬০ হাজার কোটি টাকার মানহানির অভিযোগ করা হয়েছে। ৬০ হাজার কোটি টাকায় অনায়াসে কয়েকটা পদ্মা সেতু হয়। আমাদের দেশে যত বড় বড় সেতু-টেতু আছে আশা করছি অচিরেই কাজ শুরু হবে কারণ সরকারী কোষাগারে টাকার অভাব হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নাই।
জ্যোতি-পদার্থবিজ্ঞানী গ্রেগ লাফলিনের মতে, গোটা পৃথিবীর মূল্য তিন হাজার ট্রিলিয়ন পাউন্ড (উইকির মতে, Earth is worth at least $195 quadrillion)।

মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে যে-হারে মামলা হচ্ছে এই অংক আমরা জমিয়ে গোটা গ্রহটা কিনে ফেললে আটকাচ্ছে কে…!

Saturday, February 13, 2016

নায়কোচিত।

এঁরা নায়ক নন। ‘নায়ক’ মারাত্মত জিনিস! নায়কদের অতি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে যথাসময়ে ভিলেনের হাত থেকে নায়িকাকে বাঁচানো- এখানে ‘দিরং’ করার কোনও প্রকারের সুযোগ নাই তাহলে যে নায়িকার সর্বনাশ হয়ে যায়। কি সর্বনাশ হবে? আহা, সেটা বুদ্ধিমান পাঠকের কাছে বলে বোকামী করার আদৌ কোনও প্রয়োজন নাই।
এঁদেরকে বড় জোর নায়কোচিত বা চালু কথায় নায়কের মত মত বলা চলে।

এমনই একজন পুলিশম্যান যার সঙ্গে পূর্বেও কাজ করার সুযোগ হয়েছে আমার। ষ্টেশনে হরদম বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখিন হতে হয় আমাকে। তখন এর-ওর সহায়তার প্রয়োজন দেখা দেয়। স্টেশনের দায়িত্বে থাকা এই পুলিশম্যানকে আমি বললাম, ‘আমাকে একজন মেথরের খোঁজ দিতে পারেন’?
ভাগ্যিস, তিনি এটা শোনার পর পিস্তল নাচিয়ে আমাকে এটা বলে বসেননি, আমি কী মেথরের ‘বিজিনিস’ করি!
এই মানুষটা স্টেশনে পড়ে ছিলেন দুদিন ধরে। প্রথম-প্রথম অল্পস্বল্প খাবার খেলেও পরে আর খেতে পারতেন না। সম্ভবত বার্ধক্যজনিত সমস্যা। চলনশক্তিহীন এই মানুষটার পরিচ্ছন্ন হওয়ার সুযোগ নাই বিধায় কাপড়চোপড় নষ্ট করে ফেলেন। আমার অভ্যস্ত নাকও সইতে পারে না, সামনে গিয়ে দাঁড়ালে মনে হয় পেটের ভেতরের সব বেরিয়ে আসবে। কিন্তু পরিচ্ছন্নকর্মী পাব কোথায়! পরিচ্ছন্নকর্মীর এমন আকাল হলো কেমন করে, খুঁজে খুঁজে হয়রান‍!
যাই হোক, শেষপর্যন্ত একজনকে রাজি করানো গেল। রাজি করাতে গিয়ে ওই মানুষটার সঙ্গে কেমনতরো 'বাতচিত' করতে হয়েছিল সেটার উল্লেখ এখানে অপ্রয়োজনীয়। ওই মানুষটার কাছে আমি কৃতজ্ঞ কারণ বড়ো দরদ দিয়ে তিনি সাফসুতরো করেছিলেন। সত্য বলতে কি এই সমস্ত মানুষের সামনে নিজেকে বড়ো তুচ্ছ মনে হয়!
এবেলা চুপিচুপি এটাও বলে রাখি। এখন আমার নিজেরই সমস্যার অন্ত নেই এই সমস্ত জটিলতা এড়াতে পারলে বেঁচে যাই। লম্বা-লম্বা পা ফেলে এই সব স্থান থেকে সরে পড়তে পারলে বেশ হয়, কিন্তু…! একটা কিন্তু রয়ে যায়। হায়, পায়ের গতি যে স্লথ হয়ে আসে। পা চলে না কেন, এর হয়তো উঁচু দরের ব্যাখ্যা রয়েছে সেটা জেনে আমার কাজ নেই। নিচু স্তরের আলাপটা হচ্ছে এই রকম আমার পায়ের জুতো বেঢপ, ভারী। তাই চট করে সরে পড়াটা মুশকিল হয়ে যায়।

পরদিন গিয়ে দেখি স্থানটা শূন্য, মানুষটা নেই। আমি ধারণা করলাম স্টেশনের দায়িত্বে থাকা কেউ মানুষটাকে কোনও-একটা ট্রেনে তুলে দিয়েছে। ট্রেন এই সমস্ত অসহায় মানুষকে যেখানে খুশি নিয়ে চলে যাক, এখানকার পর্ব তো চুকে গেল। আপাতত এই স্টেশন সমস্যামুক্ত! আমরা এমনটাই করে অভ্যস্থ। যেমন আশেপাশের দুনিয়ার আবর্জনা আমরা রাস্তায় ফেলি নিজের দোকান-বাসা পরিচ্ছন্ন রেখে; এটাই আমাদের সুখ!
তখন আবার সেই রাস্তা পরিষ্কার করার জন্য বিখ্যাত ঝাড়ুদার [১] কারিনা কাপুর, অনন্ত জলিলদের তকলিফ দেওয়া লাগে। বেচারাদের কী কষ্ট-কী কষ্ট!

কিন্তু এখনকার ঘটনাটা এমন ছিল না। এই পুলিশম্যান অন্যদের সহায়তা নিয়ে কাতর এই মানুষটাকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দিয়েছেন। এমন অজ্ঞাত পরিচয়ের মানুষকে হাসপাতালে ভর্তি করার হুজ্জতও কিন্তু কম না। হাসপাতালে স্টেশন মাস্টারের আনুষ্ঠানিক অনুমতিপত্র জমা দেওয়াটা বাধ্যতামূলক।
মানুষটার চিকিৎসা চলছে…।
আমি পূর্বেও কোনও-এক লেখায় বলেছিলাম, ম্যান হোক বা পুলিশম্যান আমরা আসলে ভাল হতে চাই কেবল ‘ভালগাড়িটাকে’ রেললাইনে তুলে দিতে হয়। এরপর, এরপর থামাথামি নাই গাড়ি আপনাআপনিই চলে…।

সূত্র: ১. বিশিষ্ট ঝাড়ুদার: http://www.ali-mahmed.com/2016/02/blog-post_11.html 

Thursday, February 11, 2016

বিশিষ্ট ঝাড়ুদার!

ঝাড়ুদারচুঞ্চু বা বিশিষ্ট ঝাড়ুদারের বড়ো আকাল এখন! তাই অনেক যন্ত্রণা করে গুচ্ছের টাকা কবুল করে এদের জড়ো করা হয়। আগামীকাল এরই এক নমুনা দেখব আমরা। ‘ঢাকা ক্লিন’ ওরফে ঢাকা সাফ করার জন্য ‘ক্লিন ঢাকা কনসার্টের’ নামে কারিনা কাপুররা আসছেন। এটা জেনে যারপর নাই আনন্দিত গোটা ঢাকাবাসী। ঢাক বাজে ঢাকডুম-ঢাকডুম।
গোটা আয়োজনটার পেছনে আছে ‘ঢাকা সাউথ সিটি কর্পোরেশন’।

আফসোস, অন্য আর কোনও উপায় ছিল না। সচেনতা বৃদ্ধির জন্য স্কুলের প্রতিটি ক্লাসে একটা করে বিন-ডাস্টবিন দিলে বা স্কুলের রাস্তায় একটা ইট রেখে লুকানো ক্যামেরায় কোন শিশুটা ইটটা সরালো এটা নিশ্চিত হওয়ামাত্র সেদিন গোটা স্কুলে ওই শিশুটিই হলো নায়ক। এই নিয়ে একটা বিষম হুল্লোড় করা হলো- পত্রিকাওয়ালারা ঢাউস আকারের ছবি ছাপালো এমন কতশত উপায় করা যায়। ওরে, এই সব যে হাবড়াহাটি-আজেবাজে কথা!

উহুঁ, এইসবে হবে না। আমাদের দেশে সমস্যা শিশুদের নিয়ে না, সমস্যা বুড়ো-হাবড়াদের নিয়ে। বুড়ো হাবড়াদের সচেতন করার জন্য প্রয়োজন বিশিষ্ট ঝাড়ুদারের। কনসার্টে এই সমস্ত কলাকৌশল শেখার জন্য আবার ১৫০০/৩০০০ টাকা খরচও করতে হবে! বসার জায়গা না-পেলে ‘হাপ্পা’-উপুড় হয়ে মেঝেতে বসে পড়তেও কোনও সমস্যা নাই আমাদের, এমনকি মন্ত্রী হলেও।

এই একটা চল হয়েছে। গরিব-গুরবাদের জন্য ‘কুমিরকান্না’ পায় তো চলো গরিবদের মত স্বল্প-অল্প পোশাকের একটা কনসার্টের আয়োজন করি। আচ্ছা, কাল এরা কীভাবে আমাদেরকে শেখাবেন? কারিনা কাপুর কী লেহেংগার ঝুল ঝুলিয়ে আবর্জনা সাফ করবেন? আহা, এই সাফ করতে গিয়ে শরীর আগুপিছু হলে সেটাকে তো দোষ দেওয়া চলে না। এমনিতে এখানে আমাদের কৌতুক অভিনেতা অনন্ত জলিল ভাইয়ার কাজ কি? যতটুকু জানি কৌতুক অভিনেতাদের লেহেংগা পরার চল নাই। তাহলে আমাদের ঝাড়ু দেওয়ার কী হবে এটা ভেবে একচোখে জল অন্য চোখে পানি চলে আসে।

ওহো, বুঝেছি ঘটনাটা এবার। ‘বেলবটম’ বাহে, বেলবটম। আগেকার আমলের বেলবটম প্যান্টের ঘের আড়াই ফিটের কম হতো না। অনন্ত জলিল ভাইয়া বেলবটম প্যান্ট পরে হাঁটাহাঁটি করলেই তো সব জঞ্জাল সাফ।
আহা, এরা যেটা পারবেন সেটা সুপরম্যানেরও পারার যো নেই কারণ সুপারম্যান লেহেংগাও পরে না বেলবটমও না, পরে কেবল প্যান্টের উপর আন্ডারওয়্যার…।

Saturday, February 6, 2016

‘ডাগদর কাম ল্যাকক’।

শ্রীলংকায় জন্ম নেওয়া স্যার স্ট্যানলি ডেভিডসনের ‘মেডিসিন’ কিতাবখানা কয় কোটি বিক্রি হয়েছিল জানি না তবে বাংলায় জন্ম নেওয়া অধ্যাপক এ কে এম ডা. ফজলুল হকের এই কিতাবখানা ৫০ কোটির কম বিক্রি হয়েছে বলে অন্তত আমি বিশ্বাস করি না!
অনেকেই অবিশ্বাসে মাথা নাড়ছেন এটা আমি মনশ্চক্ষে দেখতে পাচ্ছি কিন্তু আমি আঁক কষে বলে দিতে পারি।

২৩ কোটি মানুষ বাংলায় কথা বলে। প্রত্যেকে মাথাপিছু ৪-৫টা করে এই কিতাব ক্রয় করলে ৫০ কোটি কী খুব একটা বড় অংক, একশ কোটি ছাড়িয়ে যাওয়াও বিচিত্র কিছু না। কামানের গোলার ন্যায় কেউ-কেউ এই প্রশ্নটা ছুড়ে দেবেন ডা. ফজলুল হকের এই কিতাব কেন প্রত্যেকে ৫ কপি করিয়া খরিদ করিবে?

আহা, এও আমাকে বলে দিতে হবে বুঝি! একটা থাকবে স্টাডিতে সাজিয়ে রাখার জন্য। আরেকটা শোয়ার ঘরে। এই কপিখানা পেটের উপর পা রেখে, না-না, ভুল বললাম; পেট ভাসিয়ে দেওয়ালের উপর পা রেখে পড়ার জন্য। অন্যটা সঙ্গের ঝোলায় সর্বদা থাকবে, বাসে-ট্রামে-যানজটে পড়ার জন্য।
বইটার নাম যেহেতু ‘পাইলস, ফিস্টুলা, কোষ্ঠকাঠিন্য, আমাশয় ও ক্যান্সার’ তাই টাট্টিখানায় একটা বই থাকবে না তা কী হয়! আরেকটা বই কেউ ‘হুদাহুদি’ কিনলে আটকাচ্ছে কে? এই কারণে বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক মহোদয় ‘উস্কানি কিতাব’ ক্রয় করার অপরাধে সিপাহি লেলিয়ে দেবেন এমনটা শত্রুও বলবে না।
এমনিতে এই সমস্ত বইকে বই বলার নিয়ম নেই সম্ভবত, গ্রন্থ বলাটাই সমীচীন।
এই ডাগদর সাহেবের ‘পাইলস, ফিস্টুলা, কোষ্ঠকাঠিন্য, আমাশয় ও ক্যান্সার’ গ্রন্থখানার বিজ্ঞাপন আমাদের দেশের বহুল প্রচারিত দৈনিকগুলোতে বছরজুড়ে প্রকাশিত হয় ডাগদর সাহেবের ছবি-মোবারক, কালো গোঁফসহ। দিনের-পর-দিন নিয়ম করে যে-হারে বিজ্ঞাপন ছাপা হয় এতে করে এই ধারণাটা দোষের হবে না যে এপার-ওপার বাংলা মিলিয়ে এমন বইয়ের বিক্রির রেকর্ড অন্য আর কারও নাই।

এমনিতে বছরজুড়ে দূরের কথা হাতে গোনা কয়েক প্রকাশনী ব্যতীত অন্যরা ফেব্রুয়ারির বইমেলা ব্যতীত বই প্রকাশ করেন না! বইমেলা এলেই বই ছাপার হিড়িক শুরু হয় এবং তথাকথিত জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিকগণ অমার্যাদার সঙ্গে নিজেদের বইয়ের বিজ্ঞাপন নিজেরাই দেন [১]। ওরে, এটা তো কথাসাহিত্যিকদের বেলায় ইনি তো কথাসাহিত্যিক নন যে নিজের বইয়ের বিজ্ঞাপন নিজেই দেবেন।
অবশ্য ডাগদর সাহেবের লেখা চটি টাইপের এই জিনিষ কোন প্রকাশনী প্রকাশ করেছে এটা আমি বিস্তর চেষ্টা করেও উদ্ধার করতে পারিনি। নিজের চেম্বার নামের টাকার খনির বিজ্ঞাপনের ভাল একটা উপায় বের করেছেন যাহোক!
(এই ডাগদর সাহেবকে নিয়ে পূর্বেও লিখেছিলাম [২]। এমন বিচিত্র ডাগদর আমাদের দেশে বিরল)

সহায়ক সূত্র:
১. সবই পেশা কিন্তু…: http://www.ali-mahmed.com/2011/02/blog-post_12.html
২. হর্স-মাউথ: http://www.ali-mahmed.com/2015/02/blog-post_19.html

Thursday, February 4, 2016

একালের খেলোয়াড়, মহোদয়গণ!

একজন কবি জীর্ণ ছালের আড়ালে ‘কায়কাউসের ছেলে’ নামে কেবল বিস্তর আবর্জনাই উৎপন্ন করেননি এক ধরনের সামাজিক অপরাধও করেছিলেন। কী জানি, বা হতে পারে এর মাথায় গোলমাল ছিল!
নইলে এই লোক কবিতার নামে এটা লেখে কেমন করে “…রবীন্দ্রনাথকে থাপড়াইলাম…তার ওপর মূত্র বিসর্জন করিলাম…।“ এ আবর্জনা-মাস্টারের সঙ্গে আমার মতো মানুষের জানাশোনা হতো না যদি-না প্রথম আলো ‘জীবনানন্দ দাশ পুরস্কার’-এর নামে একে জন্তু থেকে মানুষের ভুবনে নিয়ে আসত।
অন্যত্র এক লেখায় যেটা আমি লিখেছিলাম:
"আচ্ছা, এই ইতর যেভাবে রবীন্দ্রনাথের নাম ব্যবহার করেছে সেই নামের স্থলে প্রথম আলোর সর্দারদের কারও নাম বসিয়ে দিলে কেমন হয়"?
এই সব স্যারদের কে বোঝাবে সব আবেগ নিয়ে খেলা করা চলে না, যা-ইচ্ছা তা লেখা যায় না। লিখলে সেটা হয় ‘কুতুয়াসাহিত্য’!

সম্প্রতি একজনের বদৌলতে আরিফ আর হোসেন নামে একজনের একটা ‘ইসটাটাস’ পড়ার দূর্ভাগ্য হয়েছে আমার। এক জায়গায় তিনি লিখেছেন, “হাতের ঝাড়ুই হবে অস্ত্র...এখন লাগবে কিছু মুক্তিবাহিনী…।”
লেখাটায় ভাল একটা উদ্যোগের কথা তিনি লিখেছেন সে ভাল কথা কিন্তু ঝাড়ু হবে অস্ত্র…এখন লাগবে কিছু মুক্তিবাহিনী, এই সব লিখতে হবে কেন?

এখন এই একটা নতুন ফ্যাশন চালু হয়েছে প্রয়োজন থাকুক বা না-থাকুক আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধাদেরকে যে-কোনও প্রসঙ্গে নিয়ে আসতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর কথা বলে লাভ নাই কারণ এদের ভাব দেখে মনে হয় সমস্ত মুক্তিযোদ্ধাই কোনও-না-কোনও দলের সঙ্গে জড়িত! এর বাইরে কেউ নাই, কিচ্ছু নাই।

তো, স্যারদের বিনীত ভঙ্গিতে বলি, মুক্তিযুদ্ধ কোনও খেলা ছিল না! এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের স্বজনদের অবিরাম রক্তের স্রোত। অন্য ভুবনের সহ্যাতীত যন্ত্রণা! দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করা যায় না এমনসব কষ্ট! একটা পরিবারের ২৫ জনকে খুন করা হয়েছে ওই দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে সাদী মহাম্মদ [১] নামের যে শিশুটি বেঁচে গিয়েছিল তাঁর চোখে চোখ রাখার ক্ষমতা আমাদের কোথায়?

একজন মশিহুর রহমানকে [২] পাকিস্তানিদের স্বপক্ষে সই করাবার জন্য চাবুক মেরে মেরে গায়ের চামড়া খুলে ফেলা হয়েছিল। একে-একে কেটে ফেলা হয়েছিল হাত-পা তবুও তিনি সই করেননি! আমরা, এই প্রজন্মের এই ত্যাগ বোঝার মত মগজ কোথায়?  
ঠিক ১৬ ডিসেম্বরেই মুক্তিযোদ্ধা সুরুয মিয়া [৩] আত্মহত্যা করেছিলেন, কেন? এটা জানার আগ্রহ কোথায় আমাদের!

একজন উক্য চিং [৪]। যিনি ১৯৭১ সালে পাকআর্মির দ্বারা আমাদের নারীদের সম্ভ্রমহানীর প্রতিবাদে পাক-কমান্ডারসহ তার সহযোগীদের পুরুষাঙ্গ কেটে প্রকাশ্য রাস্তায় ফেলে রেখেছিলেন। এমন বীরকে আমাদের শিশুদের সামনে উপস্থাপন করার সদিচ্ছাই বা কোথায় আমাদের?
ইতিহাসের পাতায় বড়ো ম্লান ভাগিরথী [৫], রীনা [৬], প্রিনছা খেঁ [৭]। একজন দুলা মিয়ার [৮] শেষশয্যার খোঁজও আমরা পাই না। এমন কতশত উদাহরণ লিখে শেষ করাও যে যো নেই।

অথচ এখন এদের কাছে মুক্তিযুদ্ধ-মুক্তিযোদ্ধা যেন একটা খেলার বিষয় হয়ে গেছে। যে যেমন করে পারছে, ইচ্ছা করছে...। এরা এটা বুঝতে চাইছে না যে-সমস্ত আবেগে আমরা থরথর করে কাঁপি সেই সমস্ত আবেগ নিয়ে খেলা করা চলে না।
আজ কেউ খেলাচ্ছলে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে ঝাড়ু ধরিয়ে দিচ্ছে কাল অন্য কেউ দু-চার জন বেঁচে থাকা মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে কাঠের থ্রি-নট-থ্রি রাইফেলের ডামি ধরিয়ে প্রদর্শনীর আয়োজন করবে। সাহেবসুবোরা দেদারসে লাল পানি গিলে এসে উল্লাসভরে সেই প্রদর্শনী দেখবেন। হলুদ দাঁত বের করে পেটকাঁপানো হাসির উল্লাসে বলবেন, "ওয়াও, হোয়াড আ মুক্টিজুড্ডা..."।

সহায়ক সূত্র:
১. সাদী মহাম্মদ: http://www.ali-mahmed.com/2013/07/1971.html
২. মশিহুর রহমান: http://www.ali-mahmed.com/2009/10/blog-post_06.html
৩. সুরুয মিয়া: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_28.html
৪. উক্য চিং: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_8752.html
৫. ভাগিরথী: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_6057.html
৬. রীনা: http://www.ali-mahmed.com/2007/06/blog-post_7644.html
৭. প্রিনছা খেঁ: http://www.ali-mahmed.com/2009/01/blog-post_27.html
৮. দুলা মিয়া: http://www.ali-mahmed.com/2009/04/blog-post_08.html