Thursday, June 25, 2015

সৈয়দ মহসীন আলী, মন্ত্রীমহোদয়, করকমলেষু।

আমাদের মন্ত্রীমহোদয় একে-ওকে এন্তার কথা বলেন আমাদের জানার উপায় নেই কিন্তু সাংবাদিক মহোদয়কে 'চরিত্রহীন, লম্পট' বলেছিলেন, সাংবাদিক মহোদয়গণ চটে গেলেন।

ফাঁকতালে আমরাও জেনে গেলুম।



হালে সংসদভবনে মন্ত্রীমহোদয় গান গাইলেন। এমনিতে এই সরকারী ভবনটার তো ভাড়া-টাড়ার বালাই নেই! সরকারীভবনে বিদ্যুতবিল দেওয়া লাগে না, ক্যান্টিন ফ্রি- খরচ তেমন আর কীই-বা! তো, এখানে কেউ গান গাইলে সমস্যা কোথায়?
এমনিতে আমি বিভিন্ন সময় লিখে থাকি, প্রত্যেক জায়গার একটা নিজস্ব ভাষা আছে। গুরুগম্ভীর কোনও আলোচনায় কেউ টেবিলে উঠে ‘ধুম মাচা দে’ গেয়ে উঠলে ভাল দেখায় না ...। এখন আর এটা লেখার যো রইল না, বুঝলেন? কেবল ভালই দেখায় না, অতি উত্তম দেখায়। কেন বলছি।
স্পিকার মহোদয়কে দেখলাম সমাজকল্যাণমন্ত্রী অন্য মন্ত্রীদেরকে ভাই বলায় এই ‘ভাই’ শব্দটা এক্সপাঞ্জ করেছেন অথচ গান এক্সপাঞ্জ করেননি কারণ এটা এক্সপাঞ্জ করার মত বিষয় না। আমাদের দূর্ভাগ্য, সংসদসদস্যদের মধ্যে কোনও নৃত্যশিল্পী নেই!

অল্প দিন পূর্বে সমাজকল্যাণমন্ত্রী নাকি এক সভায় বলছিলেন তাঁর ‘সিগারেট খাওয়া’ প্রসঙ্গে। মুক্তিযুদ্ধের সময় ‘তাঁর পোয়া’ পাকবাহিনীর হাতে ধরা পড়ে কিন্তু মুখ খুলেনি বলে তিনিসহ প্রচুর মুক্তিযোদ্ধা প্রাণে বেঁচে যান। পরে সেই পোয়াটাকে পাকবাহিনী মেরে ফেলে। এই বেদনায় সেই যে তিনি সিগারেট খাওয়া ধরলেন আজও স্টিম ইঞ্জিনের মত ভকভক করে ধোঁয়া ছাড়ছেন যত্রতত্র।
এখন আজেবাজে নিউজপোর্টালে এই ভুবনটা ভরে গেছে। তাই এমনই এক পোর্টাল থেকে আগত এই খবরটা নিয়ে গা করার কিছু ছিল না। এরিমধ্যে কেউ-কেউ বিস্তর আঁক কষে দেখিয়ে দিলেন যখন মুক্তিযুদ্ধ চলছিল তখন আমাদের সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলীর বয়স ছিল তেইশ বছর! অতএব...।

এদিকে এই তথ্যে আবার অনেক স্থানে কান্নার রোল পড়ে গেল। আহা-আহা, মানুষটা বুকে পাথর বেঁধে সিগারেটের উপরই বেঁচে আছেন। একজন তো এমন একটা লেখা লিখলেন তিনি মন্ত্রী মহোদয়ের বিভিন্ন অসঙ্গতি নিয়ে পূর্বে যেসমস্ত লেখাগুলো লিখেছেন তা লিখে ভারী অন্যায় করেছেন ভবিষ্যতে আর এমন অন্যায় করবেন না। ওই ভদ্রলোকের লেখা পড়ে মনে হচ্ছিল পারলে তিনি উড়োজাহাজের চাকার নীচে হাত রেখে বিচ্ছিন্ন করে ফেললে খানিকটা আরাম পাবেন।
পরে অবশ্য মন্ত্রীমহোদয়ের বিষয়টা ‘কিলিয়ার’ হলো! তিনি তাঁর পোয়া বলতে সহযোদ্ধার কথা বলেছেন। যে সহযোদ্ধাকে তিনি বড়ো ‘ছেনেহ’ করতেন।

যাই হোক, মন্ত্রীমহোদয়ের প্রসঙ্গ থাকুক। এবার অন্য প্রসঙ্গ-‘একালের কলম মুক্তিযোদ্ধাদের’ সঙ্গে আমার খানিকটা দ্বিমত আছে। আমার বক্তব্য ১৯৭১ এবং ২০১৫ এক না- যেটা আমি এক লেখায় লিখেছি, '১৯৭১ সাল এবং ২০১৪ এক না' [১]
আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করি, এই দুর্ধর্ষ মুক্তিযোদ্ধা কী অবলীলায়ই-না অন্যের জমি অন্যায় ভাবে নিজ দখলে রাখেন।
এখন এই নিরেট সত্যটা কি আমরা চেপে যাব? কোনও মুক্তিযোদ্ধা অন্যায়-অপরাধ করলে সেটা কি আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ বলে গণ্য হবে না? আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা ফ্যাক্ট, ফ্যাক্টের সঙ্গে ফ্যান্টাসি মেশাব কেন আমরা?

সালটা সম্ভবত ২০০৬ হবে। ব্লগস্ফিয়ারে তখন মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন প্রসঙ্গ নিয়ে লিখি। মুক্তিযুদ্ধে একজনের কথা লিখতে গিয়ে সব লিখলাম কেবল এই জায়গাটা চেপে গেলাম, পাকবাহিনীর ভয়ে তিনি বাথরুমে লুকিয়েছিলেন। কিন্তু অরূপ কামাল ঠিকই চেপে যাওয়া অংশটা তুলে দিলেন। সেই দিনই এটা শিখলাম সত্যকে সত্যের মতই থাকতে দিতে হয়, এটাই সত্যের জোর- প্রকারান্তরে সত্যকে গোপন করাটাও এক প্রকারের অন্যায়। সত্যের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করলে সত্যের জোরটা নড়বড়ে হয়ে যায়।

* আজ পত্রিকা থেকে জানলাম (বাংলাদেশ প্রতিদিন, ২৬ জুন ২০১৫, পৃ: ১১), "...সর্বশেষ ১০ জুন জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় তাকে বীর মুক্তিযোদ্ধা বলে সম্বোধন না করায় মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন...।" 

সহায়ক সূত্র:
১. ১৯৭১ সাল এবং ২০১৪ এক না: http://www.ali-mahmed.com/2014/03/blog-post_7.html