Wednesday, June 10, 2015

মোদি এবং গদি!

গদি জিনিসটা বড়োই বিচিত্র! কী অবলীলায়ই না বদলে ফেলে মানুষকে, কালে-কালে নরাধম হয়ে উঠে অধম থেকে উত্তম। আবার শিশু হয়ে যায় পশু, পশু হয় শিশু। আজ ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আমাদের দেশে যে জয়জয়কার এ কেবল তিন উল্লাস না, তেত্রিশ উল্লাস অথচ এই মানুষটারই হাতে লেগে আছে গুজরাট দাঙ্গায় বড়ো অবহেলায় ভেসে যাওয়া কতশত গ্যালন রক্ত! যথারীতি সেই রক্ত পশুর না, মানুষের! রক্তের দাগ মুছে ফেলা যায় নাআর আমরা কী ভুলে গেছি মোদির হামবড়া সেইসব কথা [১]!

এমনিতে অবশ্য আমরা বড়ো বিস্মৃতপরায়ণ জাতি- গোল্ডফিসের ন্যায় অতি দ্রুত ভুলে যাওয়ার রোগ আছে আমাদের- গোল্ডফিস জাতি! কেবল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীই প্রোটোকল তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেন না- আমাদের মিডিয়া তো হাত না পায়ের নাটবল্টু খুলে লিখছে, এলেন, দেখলেন, জয় করলেন। প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকাটা জরুরি কিন্তু এই জন্য হাত-পার জয়েন্ট খুলে ফেলার প্রয়োজন পড়ে না।

সুপার পাওয়ার- প্রচন্ড ক্ষমতাধর একজন বুদ্ধিমান মানুষ, যার দৃষ্টি বহু দূরে সে দুবলাপাতলা মানুষদের সঙ্গে খিটিমিটি এড়িয়ে চলবে এটাই স্বাভাবিক। তবুও...। ছিটমহল সমস্যার সমাধানের জন্য এই মানুষটা লম্বা এক সেলামের হকদার। কেবল এই একটা কারণে যদি রক্তের দাগটা ফিকে হয়। আর বাকীসব...? এক হাজার ওয়াট বিদ্যুৎ তো আর ভারত মাগনা দেবে না। ত্রিপুরায় বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সময় আমাদের তিতাস নদী, রাস্তাঘাট লন্ডভন্ড হয়েছিল [২] এটা আমাদের চেয়ে বেশী কে জানে।

যাই হোক, নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে, তার অজানা কর্মকান্ড নিয়ে লিখেছেন প্রথিতযশা সাংবাদিক, আরাফাতুল ইসলাম
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টুইটার, ফেসবুকে বেশ তৎপর। তিনি কোন দেশ সফরে যাওয়ার আগেই সেদেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর বিভিন্ন পোস্ট ট্রেন্ড করতে শুরু করেন। আর এজন্য শুধু জনতার উপর ঠিক ভরসা করেন না তিনি। মাঝে মাঝে বড় অংকের অর্থও খরচ করেন।

কয়েক মাস আগে জার্মানি সফর করেছিলেন মোদি। সেসময় ফেসবুকে তাঁর পাতা থেকে করা জার্মানি সফর সংক্রান্ত পোস্টটি মোটামুটি জার্মানির সকল ফেসবুক ব্যবহারকারী দেখেছেন। পোস্টটি বিপুল অর্থ খরচ করে স্পন্সর করা হয়েছিল মোদীর পাতা থেকে। টুইটারে তখন তাঁকে ঘিরে একটি ‘হ্যাশট্যাগ’-ও স্পন্সর করা হয়েছিল ভারতের জনগণের করের টাকা খরচ করে।

জার্মানিতে কিছুটা কেলেঙ্কারির মুখেও পড়েছিলেন তিনি। দেখা যেতো, মোদি যে শহরেই যান, সেই শহরেই কিছু মানুষ তাঁকে ঘিরে জটলা তৈরি করে এবং তাঁর পক্ষে স্লোগান দেয়। জার্মান গোয়েন্দারা সেসব জটলায় বেশ কিছু কমন ফেস আবিষ্কার করেছিল। সহজেই বোধগম্য, সেসবও ছিল খানিকটা তৈরি করা। দেখানো যে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়।

এমনকি জার্মান চ্যান্সেলরও এসব দেখে বিরক্ত হয়েছেন বলে আমাকে জানিয়েছিলেন সেই সফর কভার করা এক সাংবাদিক। মোদীর আনুষ্ঠানিক টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে বাংলা ভাষায় করা টুইটও নতুন কিছু নয়। বিশ্বের আরো অনেক ভাষায় এই অ্যাকাউন্ট থেকে টুইট করা হয়েছে। উদ্দেশ্য সেসব ভাষাভাষী মানুষের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করা। বাঙালি সহজ-সরল জাতি। তাই বাংলা টুইটে তারা যারপরনাই মুগ্ধ হয়ে যাচ্ছেন। আমাদের মিডিয়াও কোন রকম ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই ছাড়া সেসব প্রকাশ করে মোদীকে সহায়তা করছেন। তাই বাংলাদেশে এখন টপ ট্রেন্ড ‪#‎ModiInBangladesh‬।

বিষয়টি মন্দ কিছু নয়। তবে আমি ঠিক মুগ্ধ হতে পারছি না, মোদীর এসব কৌশল জানি বলে। আসলে, মোদি দেখাতে চান তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয়। সেটা শুধু ভারত নয়, গোটা বিশ্বে। এজন্য তাঁর অনলাইন টিম নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। তাতে অবশ্য মাঝেমাঝে বাগড়া দেয় ভারতের জনগণই। ‪#‎ModiInsultsIndia‬ সেরকম এক বাগড়ার ফসল।“ -আরাফাতুল ইসলাম 

সহায়ক সূত্র:
১. ঘোর কলিকাল: http://www.ali-mahmed.com/2014/05/blog-post_16.html
১. তিতাস একটি...এর নাম: http://www.ali-mahmed.com/2011/12/blog-post_23.html