Sunday, March 8, 2015

ভালোবাসা।

এই শব্দটা বহুল ব্যবহারে ব্যবহৃত। একে অপরের প্রতি, সন্তান, মানুষ, জন্তু-জানোয়ার, গ্রহের তাবৎ জিনিসপত্র মায় কারও কারও নিকট গোটা গ্রহটার প্রতিই। এইসবের প্রতি এই টান, আকর্ষণ হয়তোবা উপেক্ষা করা যায় কিন্তু একটা জায়গায় মানুষ বড়ো অসহায়।

খাবার! খাবারের প্রতি ভালোবাসা। পেট- হায়, পেট! এই খাবার-পেটের জন্যই মা তার সন্তানকে বিক্রি করে দেয়, বাবা তার সন্তানকে ফেলে দেয়। একপেট আগুন নিয়ে দেশ-ধর্ম-নৈতিকতা দূরের কথা এই গোটা গ্রহটাকেই উড়িয়ে দিলেই কী আসে যায়! এই-ই জগদ্বিধান। খাবারের এই অমোঘ টান উপেক্ষা করার ক্ষমতাটা মানুষকে দেওয়া হয়নি। বা সব মস্তিষ্ককে যদি এই নির্দেশ দেওয়া হত এই বর্জ্যগুলো অতি সুস্বাদু। ব্যস, কেল্লা ফতে! (এই জায়গায় কয়েক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে আমার মনে হচ্ছিল পেটের ভেতর যা আছে সেইসবই সূর্যের আলো না দেখে ছাড়বে না।)

এটা প্রকৃতির ইচ্ছা না সম্ভবত। পেটের এই সমস্যাটার সমাধান হয়ে গেলে কার দায় পড়েছে নড়াচড়া করার। এক জায়গায় ঝিম মেরে মাস-বছর ধরে পড়ে থাকলে আটকাত কে- শরীরে শ্যাওলা জমে জমে একেজন 'শ্যাওলাকুমার'! বা দূর থেকে বল্মীক বলে ভ্রম হতো।
না, আটকাত না কেউই, এ সত্য কিন্তু স্থির দেহের দেহঘড়ি অকালে থেমে যেত একেক করে। অর্গানগুলো অকেজো হতো অতি দ্রুত।

যাই হোক, এই মানুষগুলোকে দেখে এইসব চিন্তা আবারও মাথায় ঘুরপাক খায়। এদের অনেকেরই বাহ্যেজ্ঞান নাই। গায়ে কাপড় থাকল কি থাকল না, আপনজনকে চিনল কি চিনল না কে পরোয়া করে।
কিন্তু...। সেই তো খাবারের নিকট পরাভূত। ‘পাগলে টাকা চেনে’, বলে একটা কথা খুব প্রচলিত আছে ঘুরিয়ে বললে পাগলে খাবার চেনে, খাবারের প্রতি ভালবাসা...।