Tuesday, January 27, 2015

কুতুয়া রে!

হালে এক ‘অসুস্থ রোগি’ পাড়া থেকে দেশ মাতাচ্ছে। এ অবশ্য এতোটা কাল নিজেকে 'কবি' (!) বলে দাবী করে এসেছে। এতে আমাদের মত সাধারণ মানুষের গা করার কিছু ছিল না। কিন্তু..., কিন্তুটা পরে বলছি...।

অন্য একটা ঘটনার কথা বলি। আজও আমি অসুস্থ এক রোগিকে দেখেছি যার ‘আপার চেম্বারে’ বিকট সমস্য। এ রেললাইনে শুয়ে ছিল। ধরাধরি করে একে নিরাপদ দূরত্বে নিয়ে আসা হলো। বিস্তর টানাটানি করেও এই ‘মস্তিষ্কজট’ রোগিকে ভাত খাওয়াতে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হলো না। নিরুপায় হয়ে পাউরুটি কিনে দেওয়ার পর এ পাউরুটি শুঁকে ছুড়ে ফেলে দিল।
এর সম্ভবত মস্তিষ্কের তথ্য যাচাই-বাছাই করার ক্ষমতা লোপ পেয়েছে। কে জানে, মস্তিষ্ক হয়তো একে এই তথ্যটাই দিচ্ছে, ব্যাটা এটা পাউরুটি না, এক খাবলা গু! মস্তিষ্ক বলে কথা- মস্তিষ্কের কথা শুনে এ তখন ঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছে, পাউরুটি ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। এটাও বলা মুশকিল এর মস্তিষ্ক টাটকা গু-কে পরম ধন বলে রায় দিলে এ সেই আবর্জনা বুকে তুলে নেবে নাকি মুখে, সেটা আগাম বলা মুশকিল।

পূর্বের প্রসঙ্গে ফিরে আসি। সাইয়েদ জামিল নামের ‘আপার চেম্বার’ অসুস্থ যে রোগিটা নিজেকে ‘কবি’(!) বলে দাবী করছিল প্রথম আলো ‘জীবনানন্দ দাশ পুরস্কার’ দিয়ে রোগিটাকে তুমুল আলোচনায় নিয়ে এলো।
রয়েসয়ে এই কাজটা প্রথম আলো করে থাকে, সবিরাম- থেমে থেমে। বাচ্চু ভাইয়ের এতে কী সুখ এটা আঁচ করা মুশকিল। যেমনটা আমি সেই মানুষটার সুখটাও আঁচ করতে পারিনি। সেই মানুষটা এমনিতে ভালই থাকতেন। দুম করে নাঙ্গাপাঙ্গা হয়ে যেতেন। একবার তাকে আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘আচ্ছা, আপনি নগ্ন হয়ে যান কেন’?
তার সাফ উত্তর ছিল, ‘তুই কী বুঝবি, কাপুড়ে শইল ভার-ভার লাগে’।
ওই মানুষটার আচরণের মর্ম যেমন বুঝিনি তেমনি মতিউর রহমান ওরফে বাচ্চু ভাইয়েরটাও।

যাই হোক, জামিল স্যারের প্রসঙ্গে আসি। তার লেখা নিয়ে অনেকে শ্লীল-অশ্লীল ব্যবচ্ছেদ করছেন। আমি সেদিকে যাচ্ছি না। কোনও পাবে (যেখানে মদ বিক্রি হয়) গিয়ে দুধ চাওয়াটাও নাকি অশ্লীলতার কাতারে পড়ে তাই অশ্লীলতার ব্যাখ্যার শেষ নেই।
এমনিতে গান গাওয়া নিষেধ না কিন্তু জরুরি একটা অনুষ্ঠানে কেউ যদি টেবিলে উঠে ‘ধুম মাচা দে’ গান গাইতে শুরু করে দেয় লোকজনের এতে যদি কোনও আপত্তি না থাকে আমি আপত্তি করব কোন দুঃখে!
কিন্তু এই আবর্জনাগুলো পড়ে একে আমি বদ্ধউম্মাদ বলতে পারলে খানিকটা আরাম পেতাম কিন্তু এ তো বাহ্যজ্ঞান লোপ পাওয়া প্রাণী বা জন্তু না। কোনও কারণ ব্যতিরেকে এ যেভাবে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে অতি কুৎসিত কথা লিখেছে একে আমি ‘অসুস্থ রোগি’ হিসাবেও মেনে নিতে পারছি না যে এ চিকিৎসার বাইরে। কারণ এ যে সম্পূর্ণ সচেতন- যে জেগে জেগে ঘুমাবার ভান করছে। এর আশু চিকিৎসার প্রয়োজন এটা বলতে পারলেও ভাল লাগত।
কিন্তু, হায়...! বাধ্য হয়ে অপ্রচলিত শব্দভান্ডার থেকে ধার করে বলি, কুতুয়া রে...।

সদয় অবগতি:
*আমি অতি বিষাদের সঙ্গে জানাচ্ছি, এর আবর্জনাগুলো টাইপ করতে আমার কী-বোর্ডকে কোনও প্রকারেই রাজি করানো গেল না বিধায় নিরুপায় হয়ে ইমেজ আকারে দিতে হলো। 
 **এই নিয়েও দুঃখ প্রকাশ করি অতি অপ্রচলিত বিধায় ‘কুতুয়া’ শব্দের অর্থ আমি জানি না।