Thursday, October 29, 2015

ডাকাতচুঞ্চু!

কারও গাছ থেকে যখন কেউ না-বলে লুকিয়ে ফল নিয়ে যায় তখন আমরা কেউ-কেউ উদাস দৃষ্টিতে দেখি, দেখি না? আহা-আহা, খাক, খাক না। ফলবান গাছের ফল তো কেবল গাছের মালিকই খাবে না চোর-চোট্টা, পশু-পাখিও খায়। কিন্তু ওই মানুষটাই যখন এসে নীতির কথা শোনায় তখন তাকে ডাকাতচুঞ্চু বা বিশিষ্ট ডাকাত না-বলে উপায় থাকে না।

‘কনক পুরুষ’ নামে একটা উপন্যাস আছে আমার- এটাকে নভেল বলা হবে নাকি নভেলা সেই তর্ক এখন থাক। বইটা ছাপিয়ে ছিলেন কাজী আনোয়ার হোসেন, আমার দেখা অসাধারণ একজন মানুষ [১]!
বইটা ছাপা হয়েছিল ৯৫ সালে। রিপ্রিন্ট আর হয়নি। পরের বছর থেকেই বইটা বাজারে নেই। সহৃদয় পাঠক বইটার খোঁজ করলে দুইটা কারণে আমি ভারী বিব্রত হতাম। এক, এটার প্রচ্ছদ। প্রচ্ছদটা দেখে ইচ্ছা করত উঁচু কোনও দালান থেকে দেই একটা লাফ। আফসোস, প্রচ্ছদের উপর আমার কোনও হাত ছিল না। প্রচ্ছদটা আমি দেখেছিলাম ছাপা হওয়ার পর। ভূমিষ্ট সন্তান দর্শনীয় না-হলে তাকে তো আর ফেলে দেওয়া চলে না, কপাল!
দুই, বইটার কোনও খোঁজ কাউকে দিতে পারি না। একবার ভেবেছিলাম পিডিএফ ফরম্যাটে আমার সাইটে যুক্ত করে দেব। কিন্তু আমার ‘অকাজেই’ যে সমস্ত দিন যায়- সময় কোথায়!

একজন পাঠকের অযাচিত উল্লাসভরা একটা মেইল পেলাম লিংকসহ, ‘...জিনিস পাইছি’। এই লিংক [২] ধরে গিয়ে দেখি ওয়াল্লা, এখানে যে বাজার জমে গেছে। আর আস্ত বইটা এরা পিডিএফ করে ফেলেছে। ওখান থেকে লোকজনরা ডাউনলোড করে পড়ছেও। পূর্বেই উল্লেখ করেছি অনেক বছর ধরে বইটা বাজারে নেই তাই ভাবলাম লোকজনরা পড়ছে যখন তা পড়ুক না। কিন্তু ডাউনলেোড করার পদ্ধতি দেখে আমি বিরক্ত হলাম। ‘হিডেন কনটেন্ট’ তখনই দৃশ্যমান হবে যখন ‘লাইক’ দেওয়া হবে নইলে কোনও প্রকারেই ডাউনলোড করা যাবে না। যেন গান পয়েন্টে রেখে- এক ধরনের বাধ্য করা। এই বাধ্যতামুলক লাইক দেওয়ার বিষয়টা আমার মোটেও ভাল লাগল না।

এই এক চুতিয়াগিরি শুরু হয়েছে এখন, লাইক ভিক্ষা। আমাদের দেশের প্রথম শ্রেণির দৈনিকগুলো যখন লাইক-ভিক্ষা [৩] করে তা এরা কোন ছার! যাই হোক, মন্তব্য করতে গিয়ে দেখা গেল এদের এখানে ‘সাইন আপ’ করতে হয়। কী যন্ত্রণা! এই ঝামেলা চুকিয়ে আমি ওখানে মন্তব্য করলাম,
পরে আর ছাপা না-হওয়ার কারণে প্রজাপতির এই বইটি অনেক বছর ধরেই পাঠকের নাগালে নেই! বইটি এখনও পাঠকের ভাল লাগে জেনে মনটা অন্য রকম হয়ে। সলাজে বলি, এই ভাল লাগার তীব্রতা আমাকে স্পর্শ করে...। তবে বিষাদের সঙ্গে এ-ও বলি, বই ডাউনলোড করার জন্য 'লাইক' বাধ্যতামূলক করাটা ভাল লাগল না!”

'আপনার মন্তব্যটি বিবেচনার অপেক্ষায় আছে'। বেশ, আমি অপেক্ষায় থাকলাম। কিন্তু মন্তব্যটা পাবলিশ করা হলো না। আমার মনে হলো এই সব ভূমিকুষ্মান্ডদের সত্য শোনার বিন্দুমাত্র সহনশীলতা নেই। তাই এদের এই সমস্ত হালকামি অনেকটা ‘হালকা দেহের জন্য বলকা দুধ’। আমি আবারও মন্তব্যে লিখলাম,
"প্রিয় মহোদয়, গতকালের এই মন্তব্য পাবলিশ করেন নাই কেন দয়া করে এটা কি একটু জানাবেন?" এরপর মন্তব্যে লিখলাম, "লেখকের অনুমতি ব্যতীত আস্ত বইটা যে পাবলিশ করে দিলেন বিষয়টা কী অনৈতিক না?! "

‘মুর্দা বলে না, বলে তো কাফান ফাড়কে বলে’, প্রিয় মহোদয় ওরফে এডমিন একেবারে কাঁপিয়ে দিলেন। তিনি লিখলেন,
নৈতিক অনৈতিকতার কাদা ছুড়াছুড়ি না করে, মুল কথায় আসুন। আপনি কি চান না বইটি সাইটে থাকুক? আপনি যদি কোনভাবে লেখক বা প্রকাশনার সাথে জড়িত থাকেন, তাহলে উপযুক্ত প্রমানসহ আমাকে মেসেজ করুন, সাথে সাথে লিঙ্ক রিমুভ করা হবে। পূর্বেও এমন বহু লিঙ্ক রিমুভ করা হয়েছে, ভবিষ্যতেও হবে।
### একটা কথা না বলে পারছি না, আপনার এই বই নীলখেতে সেকেন্ডহ্যন্ড পাওয়া যাচ্ছে। যার বিক্রির ১ পয়সাও আপনি পাবেন না। আশা করি এই বিষয়ে কোন একটা ব্যাবস্থা নিবেন। যদিও কিছু করতে পারবেন কিনা বা করবেন কিনা সেই বিষয়ে সন্দেহ আছে। আজ পর্যন্ত কাউকে তো করতে দেখলাম না। সবাই খালি অনলাইন সাইট গুলার পিছনেই লেগে থাকতে ব্যস্ত।

ওরে ‘সূর্যের চেয়ে যে বালির উত্তাপ বেশি’ কথাটা শুনেছিলাম, শুনেছিলাম ‘দারোগার নায়ের (নৌকার) মাঝির শালা'র কথা। ‘চোরের মার বড়ো গলা’, এটা আমাদের ভাষায় বহুল ব্যবহারে জীর্ণ বিধায় এর কথা এখানে উল্লেখ করলাম না। এমনিতে আমি এদের জন্য একটা কথা ব্যবহার করি, ‘এক কাপ চায়ে দু-কাপ চিনি'।
জাকারিয়া স্বপনের মত প্রতিভাবান মানুষ যখন ‘দিন দাহাড়ে’ লেখা চুরি-চামারি করেন [৪] তখন এই সমস্ত ‘জুম্মা জুম্মা সাতদিন’ টাইপের লোকজনকে অল্প কথাই বলি…।

নৈতিক অনৈতিকতার কাদা ছুড়াছুড়ি না করে, মুল কথায় আসুন…’
জ্বী, মূল কথাতেই আসছি। আমার অনুমতি ব্যতীত বইটা পাবলিশ করে আপনি অপরাধ করেছেন তাই আপনি একজন অপরাধী। 

‘আপনি যদি কোনভাবে লেখক বা প্রকাশনার সাথে জড়িত থাকেন…’
প্রকাশনার বিষয়টা আমার কাছে গুরুত্বহীন কারণ বই-এ পরিষ্কার করে লেখা আছে, ‘গ্রন্থস্বত্ব লেখকের’।

'তাহলে উপযুক্ত প্রমানসহ আমাকে মেসেজ করুন, সাথে সাথে লিঙ্ক রিমুভ করা হবে...’
আপনি একজন অপরাধী- একজন অপরাধীর কাছে প্রমাণ দিতে আমার বয়েই গেছে।

‘পূর্বেও এমন বহু লিঙ্ক রিমুভ করা হয়েছে, ভবিষ্যতেও হবে...’। বাহ, কী-সোন্দর কথা! পূর্বেও চুরি করে বমাল ধরা পড়ার পর মাল ফেরত দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও চুরি করা হবে ধরা পড়লে তখনও মাল ফেরত দেওয়া হবে।

### একটা কথা না বলে পারছি না...’
আমিও একটা কথা না-বলে পারছি না সেটা হচ্ছে একজন অপরাধীর সঙ্গে আর বাতচিত করাটা আমার কাছে কেবল ক্লান্তিকরই না শব্দের অপচয়ও বটে।

সহায়ক সূত্র:
১. কাজীদা: একজন লেখক বানাবার মেশিন!: http://www.ali-mahmed.com/2009/10/blog-post_13.html
২. http://banglapdf.net/threads/kanok-purush%E0%A5%A4%E0%A5%A4ali-mahmed-sheba-uponyas.2771/
৩. জাতীয় ফকির: আল্লার ওয়াস্তে একটা পইসা...: http://www.ali-mahmed.com/2014/07/blog-post_22.html
৪. priyo.com: ডিয়ার, তোমাকে কি ডাকাত বলতে পারি?: http://www.ali-mahmed.com/2015_02_16_archive.html






Thursday, October 22, 2015

ভুলে-ভরা জীবন এবং গুছিয়ে রাখা ব্যাগ।

রাজুর [১, ২] বয়স পাঁচ এবং মৌসুমির বয়স চার [৩, ৪], এরা ভাই-বোন। এদেরকে আমি চিনতাম ‘আমাদের ইশকুলে’ পড়ার সুবাদে। এদের বাবা মারা যাওয়ার পর আক্ষরিক অর্থেই এরা ভেসে গেল কারণ অপ্রকৃতিস্থ মা থেকেও নেই। যেদিন এদের মা একেবারেই উধাও হয়ে গেল সেদিন আমিও ভেসে গেলাম কারণ এই দুইটা বাচ্চার স্রোতে ভেসে যাওয়া তাকিয়ে তাকিয়ে দেখার জন্য যে কঠিন হৃদয়ের প্রয়োজন তা আমার ছিল না।

একদা মৌসুমি মেয়েটার একটা গতি হয়। সহৃদয় একটি পরিবার এই বাচ্চাটির দায়িত্ব নিলে আমি হাঁপ ছেড়ে বাঁচলাম। কিন্তু ওর ভাই রাজু নামের এই পাজিটার কোনো গতি হবে এমনটা আমি কল্পনাও করিনি কারণ ৫/৬ বছরের এই শিশুটির খোঁজ নিতে গিয়ে সকালে যদি শুনতাম চট্টগ্রামে তো বিকালে জানা যেত পাজিটা ঢাকায়। বেশ কিছুদিন ধরে রাজু উধাও ফিরে আসার পর জানা গেল একা-একা এ ভারতের আগরতলাতে চলে গিয়েছিল। রাজু নামের এই ছেলেটি যে একালের রাম এতে শরৎবাবুর সন্দেহ থাকলেও আমার মোটেও সন্দেহ ছিল না। 
আমি নিশ্চিত,‘রামের সুমতি’ হলেও রাজুর সুমতি হবে না। কালে-কালে এ যে ‘বাইট্টা ছগির’ পেটকাটা রমজানের স্থলে ‘কাইল্যা রাজু’ হয়ে উঠবে না এটা কে বলতে পারে।

আমি হাল ছেড়ে দিলেও আমাদের ইশকুলের শিক্ষক আলী আজ্জম অপু হাল ছাড়ে না।
যে পরিবারের সঙ্গে এখন রাজু আছে সেই পরিবারের লোকজনের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই এঁরা কেবল যে রাজুকে পরম মমতায় নিজের করে নিয়েছেন এমনই না এরা আমার দীর্ঘ সময় ধরে কষ্ট করে চেপে রাখা শ্বাস ফেলার সুযোগ করে দিয়েছেন। আমাকে পোকামানব হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করেছেন।
ছবি ঋণ: আলী আজ্জম অপু
রাজুর মাঝে যে পরিবর্তন আমি দেখেছি তা আমার চিন্তারও বাইরে! কখনও কখনও এ এই পরিবারের লোকজনকে হুমকি দেয়, ‘আমি কিন্তুক চইলা যামু’। ওরা হাসি গোপন করে বলে, ‘চইলা যা’, তখন রাজু মনখারাপ করা শ্বাস ফেলে বলে, ‘তাইলে আমারে আদর করব কেডা’? আমার কেবল মনে হয় যেন এটা নিয়ে একটা গল্প, একটা উপন্যাস একটা মহাকাব্য লিখে ফেলা চলে।

ভুল! এখন হচ্ছে অগল্প-অপন্যাস-অপকাব্য-অন্ধকারের যুগ। ‘মজার স্কুল’-এর সঙ্গে জড়িত আরিফুর রহমান, জাকিয়া সুলতানা, ফিরোজ আলম খান এবং হাসিবুল হাসানকে পুলিশ মানবপাচারের অভিযোগে গ্রেফতার করল, রিমান্ডে নেওয়া হলো। এই নিয়ে বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র নিন্দা-ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ল। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে ফেসবুকে স্ট্যাটাসও দেওয়া হলো। প্রধানমন্ত্রী দপ্তরের লোকজনের অবগতির বিষয়টা নিশ্চিত হওয়ার পর আমরা উল্লসিতও হলাম- যাক, এবার তাহলে একটা সুরাহা হচ্ছে।
আমরা পত্রিকায় পড়লাম,‘অবশেষে মুক্তি পেলেন অদম্য বাংলাদেশের চার তরুণ-তরুণী’। বাহ, এই দেশের সমস্ত বিষয়ে যদি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হয় তাহলে গুচ্ছের টাকা খরচ করে বিপুল বাহিনীর প্রয়োজন কী!

বেশ, কিন্তু আমাদের এটা জানা হলো না সরকার বাহাদুরের চৌকশ গোয়ান্দা এদেরকে গ্রেফতারের পূর্বে এদের বিরুদ্ধে মানবপাচারের কোনো প্রকারের গন্ধ-দুর্গন্ধও পেল না। মানব তো আর বাদাম না যে পকেটে লুকিয়ে পাচার হয়ে গেল। এই মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড়ো ম্যাজিশিয়ানও তো চোখের পলকে একজন মানবকে উধাও করে ফেলার পদ্ধতি রাখেননি! একটা লাশ পচে-গলে যেতেও তো বছর দুয়েক সময় লাগে। তারপরও কোনও-না-কোনও ছাপ থেকেই যায়।
আমাদের এটাও জানা হলো না এক শিশুর চাচা যিনি এই অভিযোগ এনেছিলেন তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হলো বা যেসমস্ত আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা এর সঙ্গে জড়িত তাদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হলো কিনা?

পত্রিকায় আমরা এটাও পড়লাম, পুলিশ দীর্ঘ এক মাস তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে পাচারের অভিযোগের কোনো প্রমাণ পায়নি। …এরপর আদালত তাদের জামিন দেন। এর পূর্বে পুলিশ বলেছিল, এদের কোনো নিবন্ধন নেই, সমাজসেবা অধিদপ্তরের কোনো সনদও তারা নেয়নি।
খারাপ, খুব খারাপ কথা। ‘আমাদের ইশকুল’ শুরু হয়েছিল ২০১০ সালে। তা বছর পাঁচেক তো হয়েই গেল। এই সুদীর্ঘ বছরেও সমাজসেবা অধিদপ্তরের কোনো প্রকার অনুমতি নেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি। আচ্ছা, সমাজসেবা অধিদপ্তরের অনুমতি পাওয়ার জন্য যে-সমস্ত কাগজপত্রের প্রয়োজন হয় তার কোনো প্রকার ধারণা কি আছে কারও? দয়া করে কেউ ফরমটা যোগাড় করে খানিকটা চোখ বুলিয়ে নিলে ভাল করবেন। চার পাতার আবেদনপত্রে যে অসংখ্য চাহিদার কথা উল্লেখ আছে তা সাধারণ কোনো মানুষের পক্ষে যোগাড় করা অসম্ভব! এটা তাদের পক্ষেই সম্ভব যাদের হাতি-ঘোড়া, লাওলস্কর আছে। যারা বৈদেশ থেকে মোটা অংকের ডোনেশন বাগিয়ে চকচকে গাড়ি হাঁকিয়ে এখানে-সেখানে ঘুরে বেড়িয়ে সমাজ উদ্ধার করেন।

একটি শিশুর লেখাপড়া,নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করার জন্য সরকার বাধ্য। এর অন্যথা হলে এর দায়ভাগ সরকার নিজের কাঁধে নিয়ে লজ্জিত হবেন। সরকার যেখানে ব্যর্থ সেখানে সাধারণ লোকজন এগিয়ে আসবে এটাই স্বাভাবিক হওয়ার কথা ছিল। এখন রাস্তায় পড়ে থাকা কলার খোসা সরাবার জন্যও যদি মেয়র মহোদয়ের বরাবর পিটিশন লিখতে হয়, স্যার, হাম্বল রিকোয়েস্ট… তাহলে তো ভারী মুশকিল।
সব মিলিয়ে এখন মনে হচ্ছে একটি শিশুকে পড়াবার, আশ্রয় দেওয়ার চেষ্টা করাটা ভুল। যেদিন এদেরকে পুলিশ হিড়হিড় করে টেনে নিয়ে গেল সেদিনই আমি ছোট্ট একটা ব্যাগ গুছিয়ে রেখেছি, মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। কোনো একদিন শিশু পাচারের অভিযোগে কোমড়ে দড়ি বেঁধে পুলিশ আমাকে ধরে নিয়ে গেলে কেউ-কেউ অবাক হলেও আমি হবো না। ভুল করলে খেসারত দিতে হবে এ আর বিচিত্র কী! আগেভাগেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখলে সমস্যা তো নেই।
তবুও আমি এমন ভুল করব, বারবার। কপাল আমার, ভুলে-ভরা যে এ জীবন…!

সহায়ক সূত্র:
১. দু-পেয়ে পশু: http://www.ali-mahmed.com/2015/03/blog-post_27.html
২. পশুর জন্য কেবল জঙ্গলের আইন: http://www.ali-mahmed.com/2015/05/blog-post_28.html
৩. একজন দুর্বল মানুষ: http://www.ali-mahmed.com/2015/09/blog-post.htmls
৪. হর্ষ-বিষাদ, বিষাদ-হর্ষ: http://www.ali-mahmed.com/2015/09/blog-post_20.html

Wednesday, October 7, 2015

ধারা ৫৭।

হালের খবর হচ্ছে, ‘ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে স্কুলছাত্র গ্রেফতার’! [] ছাত্রটি নবম শ্রেণির এক বালক। এ দেশের আইনমতে শিশু। অবশ্য ড. জাফর ইকবালের মতে এ নিশ্চিত দুগ্ধপোষ্য শিশু। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ইয়া ধামড়া-ধামড়া যুবকরা যদি জাফর ইকবালের দৃষ্টিতে ‘বাচ্চা ছেলে’ হয়ে থাকে তাহলে নবম শ্রেণি পড়ুয়াকে আমরা অবলীলায় দুগ্ধপোষ্য শিশু বলতে পারি।

যাই হোক, এর বয়স বিবেচনা করে একে এবং এর পরিবারকে সতর্ক করে ছাড় দিলে মঙ্গল গ্রহের পানি শুকিয়ে যেত বলে আমি মনে করি না। কিন্তু আইন সম্বন্ধে আমার ভাল জ্ঞান নেই বিধায় এই বিষয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত রইলাম। বিষয়টা আইনজ্ঞদের জন্য তোলা রইল।

video
(ভিডিও সূত্র: ইউটিউব: https://www.youtube.com/watch?v=5str8--rVyQ
)
দেওয়ানবাগির এই ভিডিও ক্লিপটি বছর দুয়েক পুরনো কিন্তু সম্প্রতি আমার দেখার দূর্ভাগ্য হয়েছে। দেখার পর আমি অনেকটা সময় বাকরুদ্ধ হয়ে ভাবছিলাম এই দেশেরই একজন মানুষ এমনসব ভয়ংকর কথা প্রকাশ্যে বলে পার পেয়ে যেতে পারে এ তো অকল্পনীয়, অসম্ভব, অবাস্তব। এমন না যে অপরিচিত কেউ-একজন যা-তা বলে গা ঢাকা দিল। এই মানুষটা তার অসংখ্য মুরিদের কাছে এমনতরো ভয়াবহ বক্তব্য প্রকাশ্যে বলে আসছে, দিনের-পর-দিন ধরে! এবং এই কারণে এই মানুষটাকে বিন্দুমাত্রও কোনও প্রকারের জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হয়েছে এমনটা আমরা জানি না। বরং আমরা ৩০০ পাউন্ডের কেক কেটে মানুষটার জন্মদিন পালন করতে দেখেছি। ঠিক ৩০০ পাউন্ড কেক কেন কে জানে এই মানুষটার ওজন কী ৩০০ পাউন্ড!

আচ্ছা, এই মানুষটা-এই মানুষটা বলছি কেন?! একে কী বলব? পরমপুরুষ? পরম ক্ষমতাধর! অসীম ক্ষমতাবান? দূর-দূর, আমার মত মানুষের পক্ষে এটা নির্ধারণ করা কী সম্ভব! আহা, কী পরম ক্ষমতাধর রে আমার! নিজের চোখের দৃষ্টি ঠিক করার মত সামান্য ব্যবস্থা যার সাধ্যের বাইরে, চশমাই ভরসা! বেলুনের মত ফুলে যাওয়া রোধ করার ক্ষমতা নাই যার- আফসোস, ফেটে যাওয়া আটকাচ্ছে কে!

তথ্যপ্রযুক্তির এই ধারা ৫৭ একটি কালো আইন। কিন্তু যেহেতু এখন পর্যন্ত এটা বহাল আছে তাহলে এই মানুষটার বক্তব্যগুলো কী ধর্মীয় অবমাননার পর্যায়ে পড়ে না? নাকি দেওয়ানবাগির মত লোকজনেরা দেশের প্রচলিত আইনের উর্ধ্বে?
এই গ্রহে তো ঈশ্বরের বিরুদ্ধেও মামলা হয়। রুমানিয়ার পাভেল মির্চা ঈশ্বরের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। কেন করেছিলেন সে এক লম্বা কাহিনী। আদালত এই মামলা গ্রহনও করেছিলেন। মামলা শুরু করার পূর্বে বিবাদীকে সমন জারী করতে হয়। উকিল বিবাদী ঈশ্বরের বিরুদ্ধে সমন জারি করতে পারছিলেন না কারণ...। কারণ ঈশ্বরের আবাসিক ঠিকানার খোঁজ কারও জানা নেই! ঈশ্বর পার পেয়ে যান কেবল এই কারণে যে তাঁর আবাসিক ঠিকানা নেই। অতএব মামলা ডিসমিস।
কিন্তু দেওয়ানবাগির আবাসিক ঠিকানা আছে বলেই জানি...।

সহায়ক সূত্র:
১. ফেইসবুকে ধর্মাবমাননার অভিযোগে স্কুলছাত্র গ্রেপ্তার, মামলা: http://m.bdnews24.com/bn/detail/bangladesh/1033133
*ভিডিওটি Jun 23, 2013 সালে ইউটিউবে আপলোড করেছিলেন thinkbd. তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি।