Saturday, February 7, 2015

চুতিয়া।

কেউ-কেউ কখনও-কখনও যে এটা বলেননি এমন না আমার লেখায় ‘চুতিয়া’ শব্দটার রিপিটেশন হচ্ছে। এটা নাকি আমার লেখার মান কমিয়ে দিচ্ছে। বাপু রে, যার লেখার কোনও মানই নেই তার মান কমে যায় কেমন করে আবার!
একবার জমাটি এক আড্ডায় বেমাক্কা এক প্রশ্ন ছিল এমন, 'আচ্ছা, চুতিয়া দেখতে কেমন হয়'?
আমি দিশামিশা না-পেয়ে বলেছিলাম, ‘চুতিয়া তো চুতিয়াই এ আবার দেখতে কেমন হবে? অন্য গ্রহের লোকজনেরা দেখতে কেমন হয় এর কোনও উত্তর হয় নাকি আবার’! এটা আসলে পাশ কাটানো উত্তর। আসলেই তো চুতিয়ার কোনও ছবি থাকলে বড়ো সুবিধে হত। ছবি দেখিয়ে বলা যেত দেখো, চুতিয়া দেখতে এমন হয়।

পত্রিকায় একটা খবর পড়ে পুরনো প্রসঙ্গটা আবারও সামনে চলে এলো। একটি দৈনিক পেছনের পাতায় সিঙ্গেল কলামে ছাপিয়েছে ‘চোখে গ্লিসারিন লাগিয়ে বার্ন ইউনিটে শুটিং’। পত্রিকা থেকে হুবহু তুলে দেই এখানে:
...মডেল বেশে ঢুকলেন এক নারী। সঙ্গে আরও দুজন। একজনের হাতে বড়ো ভিডিও ক্যামেরা। আরেকজন ডিরেকশন দিচ্ছেন। মডেলকে বললেন, ‘চোখে গ্লিসারিন লাগিয়ে নাও’।... (এদের মধ্যে একজন, রফিকুল ইসলাম বুলবুল নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘বার্ন ইউনিটে দগ্ধদের নিয়ে গান তৈরি করতে চান’...।” (দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫)

আমার মধ্যে একটা হাহাকার পাক খেয়ে উঠে। আফসোস, এই বুলবুল এবং তার সঙ্গের লোকজনের ছবি ছাপা হলো না। কেন-কেন-কেন? তাহলে তো আমার কাজ কমে যেত। ওই ছবি দেখিয়ে বিমল আনন্দে বলতে পারতাম, এই, এই-ই তো চুতিয়া।

রাজনীতিবিদসহ আমাদের অনেকের কাছে পুড়ে যাওয়া মানুষগুলো খেলার একটা উপাদান মনে হচ্ছে। অনেক পূর্বে এক লেখায় আমি বলেছিলাম, হরতাল মানি তবে যিনি হরতাল ডাকবেন তার শরীরে কেবল একটা, একটা ম্যাচের কাঠি জ্বালিয়ে ধরে রাখব। আহা, একটাই তো, কতক্ষণের আর মামলা, দেখতে দেখতেই তো সময়টা কেটে যাবে। যারা আগুনে পুড়ছেন তাদের কারও-কারও শরীরের পঁচিশ, ত্রিশ, চল্লিশ, ষাট শতাংশ পুড়ে যাচ্ছে। ওই তুলনায় একটা ম্যাচের কাঠি কিসসু না, বুঝলেন। এতে করে শরীরের এক শতাংশও পুড়বে না। লাগবেন বাজি? আই বেট, জিরো পয়েন্ট সামথিং হতে পারে।

আমরা কেবল মৃতের সংখ্যা হিসেব করছি। আগুনে পুড়ে যাদের মৃত্যু হয়েছে তাঁরা মরে বেঁচে যাচ্ছেন। আর যারা বেঁচে আছেন...। বার্ন ইউনিটে কাজ করেন এমন একজন ডাক্তারের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। তিনি থেতে থেমে বলছিলেন, ‘জানেন, জানেন আমার কি ইচ্ছা করে? বিষাক্ত ইঞ্জেকশন দিয়ে এদেরকে মেরে ফেলি। এ সহ্য হয় না, চোখে দেখা যায় না’।

বারবার যেটা আমি বলে আসছি, হরতাল-অবরোধ হলে এর পেছনে পেছনে এই সব নৃশংসতাও চলে আসবে। কারণ সাধারণ লোকজন হরতাল করবে কোন দুঃখে। এক মাসে হরতাল-অবরোধে ক্ষতি মাত্র ৭১ হাজার কোটি টাকা। তো, সেই হরতাল-অবরোধকে মিডিয়া লিখবে, ঢিলেঢালা হরতাল বা নিরতাপ অবরোধ [১]
আচ্ছা, আপনারাই বলুন, এমনটা মিডিয়ায় আসলে যিনি হরতাল-অবরোধ ডেকেছেন তার ইজ্জত বা চামড়ার চকচকে ভাব থাকে কেমন করে? তখন নিরুপায় হয়েই আমাদের মত সাধারণ মানুষের শরীরের চামড়া খসিয়ে তৈরি হয় তাদের ইজ্জতের চাদর।

এখন আর এটা আলোচনার বিষয় না কোন দল কতদিন হরতাল করেছে। বা এক দল হরতাল ডেকে হাসিমুখে টা-টা দিয়ে বিদেশ চলে গেছে তো অন্য দল ১৫ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রীর পরীক্ষা বন্ধ করে নিজের দুই নাতনিকে বিদেশ পাঠিয়ে দিয়েছে। সরকার আবার জাঁক করে বলছে, জরুরি অবস্থা জারির পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। শোনো কথা! আর কতটা শরীর পুড়লে জরুরি অবস্থা সৃষ্টি হবে?
ছবি সূত্র: দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫
সাংবাদিকরা এমন ছবি অবলীলায় তুলতে পারছেন একজন পেট্রোল বোমা ছুড়ে দিচ্ছে অথচ একে ধরা যাচ্ছে না। এ মনস্টার-দানব, একে থামাতে হবে যে-কোনও মূল্যে। প্রয়োজনে পায়ে গুলি করে। এ কোন দল করে, এর বয়স কত এই সব একপাশে সরিয়ে। যে-কোনও মূল্যে এদেরকে থামাতে হবে। আইন করে থামাতে হবে হরতাল-অবরোধ। যিনি বা যে দল হরতাল ডাকবেন তাকে গ্রেফতার করতে হবে সঙ্গে সঙ্গে।

অনেক পূর্বে লিখেছিলাম এটা। আমার সাফ কথা, আমি হরতাল-অবরোধ চাই না। এই দেশের ১৬ কোটি মানুষের এতে সায় থাকলেও। এর সঙ্গে যোগ করি, আমি হরতাল-অবরোধ চাই না, স্বয়ং ঈশ্বরের মৃত্যুতেও না...।

সহায়ক সূত্র:
১. ঢিলেঢালা হরতাল+নিরাতপ অবরোধ=বোমার উত্তা: http://www.ali-mahmed.com/2015/01/blog-post_30.html 

No comments: