Saturday, October 11, 2014

হা!

এই মানুষটার একটা নাম আছে বটে তবে কারও কারও নামে কী আসে যায়! কিছু-কিছু মানুষ আছেন যাদের নিয়ে আস্ত একটা উপন্যাস নামিয়ে ফেলা যায় কিন্তু এঁদের নিয়ে লেখা হয়ে উঠে না, জানি না কেন! আজও লেখা হতো না হয়তো। কিন্তু...।

কর্পোরেট ভুবনের দুঁদে এই মানুষটাকে দেখে আমার বড়ো দুঃখ হতো। মনে হতো কী অভাগা এই মানুষটা! অদৃশ্য এক জালে আটকা পড়ে আছেন। আটকা পড়ে আছে শিশুর মতো একটা মন।
স্বপ্ন তো দেখে সবাই কিন্তু স্বপ্ন দেখাতে পারেন ক-জন! সেই অল্প কিছু দুর্লভ মানুষদের একজন। এই মানুষটা যে বুক-পকেটে স্বপ্নের 'পোকা' নিয়ে ঘুরে বেড়ান। পকেটে নিয়ে ঘুরে বেড়ালে সমস্যা ছিল না কিন্তু কতবারই না মানুষটা আমার মাথায় আলগোছে স্বপ্নের পোকা' ছেড়ে দিয়ে সটকে পড়েছেন।

ঢাকা নামের কংক্রিটের বস্তিতে মানুষটার বাস অথচ যে মানুষটার মন পড়ে থাকে জ্যোৎস্নায় ভেসে যওয়া ধ্যানরত সেই মুনির সংস্পর্শে। মানুষটার সঙ্গে আমার দেখা হয় কালেভদ্রে। কারণ বছর গড়িয়ে যায় ঢাকা যাওয়া হয় না আমার।
তিতিবিরক্ত হয়ে আজ সেই মানুষটাই আমার এখানে চলে আসেন। হিজিবিজি-হাবিজাবি কত কথা। সময় গড়ায় দ্রুত। আমি আধ-হাত লম্বা চুরুটটা ত্যক্ত হয়ে ফেলে দেই- ধুর, আমি তো চার্চিল, চে না যে ভকভক করে স্টিম-লোকোমোটিভের মত ধোঁয়া উগরে দেব।

আমার সংগ্রহের রাজ্যের আবর্জনা থেকে বের হয় মরচেধরা তির-ধনুক। আমি টার্গেটের কাছাকাছি যেতে পেরেছিলাম, ঢাউস টার্গেটটার পাশ ঘেঁসে- লাগেইনি! এমনিতে আমি ছবি সম্বন্ধে কিছু না-বুঝেও ফটাফট ছবি তুলি সেল-ফোনে, অন্যদের ছবি তোলার যন্ত্র নামের কামানগুলোর পাশে দাঁড়িয়েও। সার্জন থেকে নাপিতের যেমন সাহস থাকে বেশি, তেমনি। 

মানুষটার ছবি দেখে আমি হাঁ। এই ছবিটা ভাল করে লক্ষ করে দেখলাম তিনি যখন তির ছুড়েছেন তিরের ছুটে যাওয়ার প্রায় পুরোটাই ধরা পড়েছে। কামানওয়ালারা এটা দেখে দ্বিতীয়বার তাকাবেন না এটা আমি নিশ্চিত কিন্তু আমি বিমুগ্ধ। পুরো কৃতিত্ব ক্যামেরা নামের এই জিনিসটার। আফসোস, ক্যামেরা নামের এই জিনিসটা যদি পুরুষ হতো তাহলে তিন উল্লাসে বলতাম, মরদ বটে একখান। আর মহিলা হলে...।