Tuesday, September 30, 2014

১ লক্ষ ইরাকি, একজন মেথর এবং মিডিয়া!

অতি পুরনো একটা কৌতুক। তখনকার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী কলিন পাওয়েল জরুরি বৈঠকে বসেছেন। বসেছেন তো বসেছেনই আর দাঁড়াবার নাম নেই! বাইরে অপেক্ষায় থাকা ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনি ভেতরে গিয়ে বুশকে তিতিবিরক্ত হয়ে অপ্রাকশ্যে বললেন, বা..., মিটিং না মেটিং করছে! প্রকাশ্যে যেটা বললেন সেটা হচ্ছে, ‘মি. প্রেসিডেন্ট, ঘটনা কী, দয়া করে বলবেন কী নিয়ে আপনাদের এই ম্যারাথন মিটিং’?

বুশ আলাদা গাম্ভীর্য এনে বললেন, ‘বিষয়টা জরুরি। আমরা শলা করছি কেমন করে ১ লক্ষ ইরাকি এবং একজন আমেরিকান মেথরকে খুন করা যায়’।
চেনি অবাক হয়ে বললেন, ‘সে তো ভাল কথা কিন্তু মেথরকে খুন করতে হবে কেন’!
বুশ এবার হলুদ দাঁত বের করে পাউয়েলকে বললেন, ‘দেখলা পাওয়েল, তোমাকে বলেছিলাম না ১ লক্ষ ইরাকিকে খুন করলে এটা নিয়ে কেউ দ্বিতীয়বারও ভাববে না'।

এটা হচ্ছে কৌতুক- বাস্তবতাটা অনেকটা এমনই। আইএস নামের একদঙ্গল দানবকে রোখার নামে আমেরিকা অভিযান শুরু করেছে। এবার পূর্বের মত বোকামি করেনি। পারলে এই গ্রহের সমস্ত দেশকেই দাওয়াত দিয়ে বসে। যথারীতি এরমধ্যে বাংলাদেশ নামের দুবলা-পাতলা, লিকলিকে দেশটিও আছে।

যাই হোক, এই দমন করার খবরটা পশ্চিমা মিডিয়া যথারীতি তাদের মত করেই ছাপিয়েছে। এমনকী আমাদের মিডিয়াও! উদাহরণ দেই? 'বাংলাদেশ প্রতিদিন' নামের দৈনিক পত্রিকাটি (২৪. ০৯.১৪) লিখেছে, “...দুই মার্কিন এবং এক ব্রিটিশ নাগরিকের শিরচ্ছেদের ভিডিও প্রকাশ করে বিশ্ববাসীকে হতবাক করে দিয়েছে সংগঠনটি (আইএস)। এএফপি, রয়টার্স, বিবিসি...।“

এই হচ্ছে আমাদের চুতিয়া মিডিয়া! আইএস নামের এই সংগঠনটি একদিনে ১৫০০ মানুষকে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে গুলি করে হত্যা করেছে। শিরচ্ছেদের সহজ বাংলা গা কেটে অসংখ্য মানুষের মুন্ডু স্টেডিয়ামে ঝুলিয়ে দিয়েছে। এই সব ভিডিও কিন্তু বিশ্ববাসী দেখেছে। কিন্তু মানুষগুলো কেউই আমেরিকা, ব্রিটেনের নাগরিক না। অতএব পশ্চিমা মিডিয়ার কাছে এর কোনও গুরুত্বই নেই। নেই আমাদের মিডিয়ার কাছে। কারণ আমাদের এই সমস্ত মিডিয়াও পশ্চিমা মিডিয়ার অবৈধ সন্তান!