Thursday, June 19, 2014

দ্রুত আরোগ্য কামনায়!



'সিক পিপল [১] নিয়ে লেখাটায় লিখেছিলাম, ...আবার অনেক নির্বোধ অতি চালাকি করতে গিয়ে অন্য দেশের পতাকার সঙ্গে বাংলাদেশের পতাকা লাগিয়ে দিলরোদ-বৃষ্টি-বিবর্ণতা, সকাল-সন্ধ্যা-রাত উপেক্ষা করে আমাদের পতাকা উড়তে থাকল।...

ঝড়-বৃষ্টি-রোদে বিবর্ণ, ছেঁড়া পতাকা যখন সুউচ্চ ইমারতের গ্রিলে আটকে থাকে বা মাটিতে গড়াগড়ি খায়- কার দায় পড়েছে গ্রিল থেকে বা মাটিতে পড়ে থাকা ছেঁড়া পতাকা নামাবার, সরাবার?

সে ভিন্ন প্রসঙ্গ। প্রকাশ্যে বিদেশি পতাকা উড়ানোর শাস্তি ১ বছরের জেল অথবা ৫ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ড!
তর্কের খাতিরে বিষয়টা একপাশে সরিয়ে রাখলেও বিদেশি পতাকার লেজ ক্রমশ ছাড়িয়ে যাচ্ছে হনুমানের লেজকেও। এই বিষয়টা এখন আবেগকে ছাড়িয়ে অহেতুক শস্তা সম্মান রক্ষার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে! কেউ ২০০ ফিট পতাকা ঝুলিয়েছে তো চলো আমরা ২৫০ ফিট পতাকা ঝোলাই। এরপর ২৫০...৩০০...৫০০। খেলা চলছে। বাড়ছে পতাকার দৈর্ঘ্য। প্রায় সবই ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনার।, বিশেষ করে মফঃস্বলে। চুলায় বেড়াল ঘুমায়, তাতে কী! এ এক অসুস্থ প্রতিযোগীতা। যারা হতে পারত ধ্বান্তারি, অথচ এরা কালে-কালে পরিণত হয় ধ্বান্ত থেকে উঠে আসা ধ্বান্তোন্মেষে।

আমার তো মনে হচ্ছে ব্রাজিল যদি প্রতিপক্ষের ১১ জন খোলোয়াড়ের ২২টির স্থলে ৪৪টা পা করে দেয় বা আর্জেন্টিনা প্রতিপক্ষের ২২টি হাতের স্থলে ৪৪টা হাত উপহার দেয়- কুছ পারোয়া নেহি! এ সত্য, এরা জন্মান্ধ না তবে অন্ধ! এমন অন্ধদের করুণা করতেও করুণা হয়।

এখনই সময়, ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা খেলা থেকে বিদায় নিক। অন্ধ উম্মাদনা থিতু হয়ে কেবল চমৎকার খেলার বিমল আনন্দ- ভালো খেললে ঘানা বা হ্ন্ডুরাস হতে সমস্যা কোথায়! খেলা খেলায় ফিরে আসুক।
আ-মি-ন। 

গরু চোরেরও অধম!


চোর-চোট্টারও কিছু তরীকা আছে। যেমন চোর নাকি নিজের বাড়ির আশেপাশে চুরি করে না। আবার  চুরি করতে না-পারলে ওই বাড়িতে বাথরুম সেরে আসে। তবে চোরদের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট হচ্ছে গরু চোর। একেবারেই ইজ্জত নাই! জেলখানার কয়েদিরা গরুচোরকে দু-চোখে দেখতে পারে না। ওখানে নাকি গরুচোরের কাজ হচ্ছে এর-ওর পা টেপা, শরীর বানিয়ে দেওয়া।

ইমরান হোসেন মামুন নামের চোস্ত কাপড়পরা এই মানুষটাকে দেখে আমার বিগলিত হওয়ার কথা কিন্তু বেদনার সঙ্গে বলি, একে আমার গরু চোরেরও অধম মনে হচ্ছে। এই মানুষটা আবার ফ্রান্সে থাকেন। এই মানুষটার আগ্রহসমূহ হচ্ছে, সৎ পথে থাকা। বেজায় পাজি এই লোকটা যে সৎ এটা অন্তত আমি স্বীকার যাই‌ না। কারণ...।

১৯৭১ সালের ছবি নিয়ে 71photogun নামে একটা ওয়েবসাইট  আছে আমার ( http://71photogun.blogspot.com )। এই লোকটা আমার ওই ওয়েব সাইট থেকে হুবহু কপি-পেস্ট করে নিজের সাইটে চালিয়ে দিয়েছেন ( http://mihmsm.blogspot.com/2011/01/blog-post_4431.html )। নীচে আবার ঘটা করে লিখেছেন, লেখাটি পোস্ট করেছেন ইমরান হোসেন মামুন। বটে রে!

মুক্তিযুদ্ধের ছবি কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি না। কিন্তু ই মানুষটা আমার সাইট থেকে দাঁড়ি, কমা, মন্তব্য সবই অবিকল ছাপিয়ে দিয়েছেন। আবার বুদ্ধি করে আমি যাদের ঋণ স্বীকার করেছি তাদের নামও ছাঁটাই করে দিয়েছেন।

রাগে আমার গা জ্বলে যাচ্ছে। একেকটা ছবি খুঁজতে দিনের-পর-দিন গেছে, রাতের-পর-রাত জেগে কাজগুলো করেছি আর এই ব্যাটা পাজি, নচ্ছার, গরুচোরেরও অধম এক নিমিষেই সব নিজের বলে চালিয়ে দিলেন। ইচ্ছা করছে একে আট-দশটা গান্ধিপোকা বেটে খাইয়ে দিতে পারলে খানিকটা আরাম পাওয়া যেত...!