Friday, May 16, 2014

ঘোর কলিকাল...।



ভারাত বহোত বাড়া গণতান্ত্রিক কান্ট্রি হ্যায়, এর নমুনা আমরা আবারও দেখলাম। গণতান্ত্রিক উপায়েই মোদি বাবু ভারতের ঘাড়ে সওয়ার হলেন এই নিয়ে কোনও দ্বিমত নাই। অভিনন্দন জানালেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া। ধর্মবক এরশাদ সাহেব আবার এক কাঠি সরেস- তিনি মোদির দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন। এই সব একপাশে সরিয়ে আমাকে যেটা চমৎকৃত করেছে সেটা হচ্ছে জামাতে ইসলামির ভূমিকা।

মোদিকে অভিনন্দন জানাতে গিয়ে জামাতের ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমাদ বলেন, ...বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করায় আমি নরেন্দ্র মোদিকে ও বিজেপি জোটের নেতৃবৃন্দকে অভিনন্দন জানাচ্ছি...

আমাদের দেশের অনেকেই জামাতে ইসলামি এবং ইসলামকে  গুলিয়ে ফেলেন। এর কারণ স্পষ্ট। এই রাজনৈতিক দলটি রাজনৈতি কারণে ইসলাম ধর্মকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে আসছে জন্মলগ্ন থেকেই। যদিও এরা এর সরল একরারনামা-স্বীকারোক্তির ধারেকাছেও নেই। ভাবখানা এমন কেবল ধর্মের ঝান্ডা সমুন্নত রাখতেই এই ধরাধামে এদের আগমন। প্রজন্মের-পর-প্রজন্মকে ধর্মের মোড়কে লেবেনচুষ ধরিয়ে দিচ্ছে, এ থেকে যেন নিস্তার নেই। ইসলাম-ইসলাম করে এরা মুখে ফেনা তুলে ফেলে।

এই দলটির প্রতিষ্ঠাতা মওদুদী যুক্ত নির্বাচন? পুস্তিকায় লেখেন, ...একথা যেন আমরা ভুলিয়া না যাই যে পাক ভারত উপমহাদেশ নিছক ধর্মীয় ভিক্তিতে বিভক্ত হইয়াছিল, এবং এই বিভাগ-ভিত্তির দরুণই উপমহাদেশের এমন দুইটি ভুখন্ডের সমন্বয়ে পাকিস্তান গঠিত হইয়াছে, যাহার মধ্যে দীর্ঘ এক সহস্র মাইলের ব্যবধান রহিয়াছে। এই দুইটি ভুখন্ডের মধ্যে ঐক্যের ভিত্তি আঞ্চলিকতা নয়, বংশ নয়, ভাষা নয়, জীবন যাত্রা পদ্ধতির সামঞ্জস্য ন। কেবল একটি মাত্র জিনিষই এ দুইটি বিভিন্ন ভুখন্ডকে যুক্ত করিয়া রাখিয়াছে, তাহা হইতেছে দুই ভুখন্ডের অধিকাংশ অধিবাসীদের ধর্মীয় ঐক্য।...
এই ধর্মীয় ঐক্য টিকিয়ে রাখার জন্য তিনি যে কী আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন সে তো আমরা সবাই জানি।

মওদুদীর কিছু পুস্তিকার নাম, ১. ইসলামের হাকীকত, ২. ইসলামের জীবন পদ্ধতি, ৩. মুসলমানদের অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যতের কার্যসূচী, ৪. ইসলামী বিপ্লবের পথ, ৫. ইসলামী শাসনতন্ত্রের মূলনীতি, ৬. ইসলামী শাসনতন্ত্র প্রণয়ন, ৭. ইসলামী আদর্শে নির্বাচন, ৮. ইসলামী আন্দোলনের নৈতিক ভিত্তি, ৯, জিহাদের হাকীকত, ১০. আল্লাহর পথে জিহাদ, ১১. একমাত্র ইসলামী শাসনতন্ত্র কেন চাই ইত্যাদি
এই দলের গুরু-চ্যালারা ইসলামের প্রতি কেমন নিবেদিত প্রাণ এর অজস্র নমুনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রেখেছেন এরা। এই সুরে সুর মিলিয়ে, মুসলমানদের প্রতি এদের আবেগ আকাশ-পাতাল ছাড়িয়ে যাবে এতে তো সন্দেহ থাকার কথা না।
মোদি নামের দানবটার কেবল হাত নয় সমস্ত শরীর যে মুসলমানদের রক্তে রঞ্জিত এটা তো জামাতে ইসলামী নামের দলটার অজানা থাকার কথা নয়। মোদি কর্তৃক হাজারের উপর মানুষেকে খুন করার অভিযোগ আছে যাদের মধ্যে অধিকাংশই মুসলমান। মোদি নামের সেই মানুষটাকে যখন জামাত ঝড়ের গতিতে অভিনন্দন জানায় তখন শব্দের অপচয় না-করে কেবল এটাই বলা চলে, ঘোর কলিকাল, ছাগল চাটে বাঘের গাল
...
এ সত্য, মোদি গুজরাটের ভোল পাল্টে দিয়েছেন। ভারতের লোকজনেরা যদি এমনটা ভেবে থাকেন যে ইনি গোটা ভারতের ভোল পাল্টে দেবেন তাহলে তাদেরকে কঠিন দোষ দেওয়া চলে না।

এর উপর ছিল দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতাশীন দলের একটা পরিবর্তন আসা।

মোদি দাদুর একটা জরুরি বিষয় এই লেখায় লিখতে ভুলে গেছি! ইনি যে বক্তব্য দিয়েছেন, আপনারা এটা লিখে রাখতে পারেন ১৬ মের পর অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীরা স্যুটকেস গুছয়ে তৈরি হয়ে থাকলেই ভাল করবে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে দেরি না করে সব দেশান্তরী বাংলাদেশিকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে। কোনও ছাড় দেওয়া হবে না...
ক্ষমতায় আসার পূর্বেই এমন বক্তব্যের পর মোদি কয়টা পাশ দিয়েছেন, না চা বিক্রি করতেন নাকি আনপড়-গামাড় সেসব জানার খুব একটা প্রয়োজন পড়ে না।

সব মিলিয়ে এটা আমার নিজস্ব মত, মোদি কেবল ভারতের না এই গোটা গ্রহের অধিপতি হলেও আমি বলব, রাজনীতির বইয়ে নিয়ম করে চুমু খান বটে কিন্তু এই বইয়ের একটা অক্ষরও পড়ে দেখেননি! আদৌ এই ক্ষমতাটাই নাই...।

*মওদুদী ১: 


মওদুদী ২:

https://www.facebook.com/723002334/posts/10151311129192335