Thursday, May 1, 2014

বঙ্গদেশের রঙ্গ!



এই বঙ্গদেশে আমরা কী বিশ্বাস করি সেটা জরুরি না, হাল ধরে আছেন যারা তারা কী বিশ্বাস করেন সেটাই জরুরি।
এই যেমন আমি তিন ঘন্টা লোডশেডিং-এর পর এখন লিখতে বসেছি কারণ আমার লেখালেখির যন্ত্রটা দুর্ধর্ষ, এক সেকেন্ড ব্যাপআপও নেই। অতএব বিদ্যুৎ না-আসা পর্যন্ত আমার গতি নেই। নিয়ম করে প্রতিদিনই দু-তিন ঘন্টা লোডশেডিং হচ্ছে আর কত বার বিদ্যুৎ আসে-যায় এর হিসেব কে রাখে! কিন্তু বিশ্বাস করুন এই লোডশডিং-এর বিষয়টা আমি নিজেই বিশ্বাস করি না। কারণ...।

পাগল, বিশ্বস করব কোন দুঃখে!  প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানী বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেছেন, অতীত স্মরণ রাখার জন্য মাঝে-মাঝে কিছুটা লোডশেডিং হওয়া ভাল...এটাও আল্লাহর এক ধরনের রহমত। লোডশেডিং না হলে সময়ের সঙ্গে-সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে উন্নতি হয়েছে তা মানুষ ভুলে যাবে। (আমাদের সময়, ৩০ এপ্রিল ২০১৪)

আমরা ভুলে যাব? তাই তো!  খারাপ, খুব খারাপ- এটা তো কোনও কাজের কাজ না। অবশ্য এটা সত্য আমরা বড়ো বিস্মৃতপরায়ণ জাতি- গোল্ডফিশ জাতি!
শুকরিয়া-শুকরিয়া। কত প্রকারেই না আমাদেরকে সহায়তা করা হয়। অঘা-মঘার স্মৃতি বর্ধক টাইপের বোতল না-খেয়ে অটেকমেটিক পদ্ধতি রাখা হয়েছে যাতে করে ভুলে যাওয়ার কোনও যো নেই। আমরা এই কৃতজ্ঞতা কেমন করে প্রকাশ করব?

বিদ্যুৎ কোন ছার...।  বিদ্যুৎ ব্যবহার করারও কিছু কায়দা-কানুন আছে। কঠিন এক শর্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করার জন্য বেঁচে থাকাটা। মৃত মানুষের বিদ্যুৎ কোন কাজের! মৃত মানুষ বিদ্যুৎ নিয়ে লেখালেখি-হইচই করেছেন এমনটা অন্তত আমি শুনিনি।
এদিকে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, দেশে কোনও গুম-হত্যা নেই...। (আমাদের সময়, ২৮ এপ্রিল ২০১৪)
আলবত নেই, নেই-নেই-নেই। সাগর-রুনি বা ত্বকি এমন অসংখ্য মানুষ, এরা নিজেরাই নিজেদেরকে গুম করে খুন করেছেন এটা না-বলে কোনও উপায় নেই।

মাত্র গতকাল একে একে যে ৬টা লাশ ভেসে উঠল এগুলোকেও গুম-খুনের আলামত হিসাবে দেখাটা সমীচীন হবে না। কে বলতে পারে এরা নিজেরাই নিজেদের হাত পিঠমোড়া করে বেঁধেছেন, পা বেঁধেছেন, নিজের পেট নিজেই চিরে দিয়েছেন; এতে পারে না এমনটা, বেশ পারে। এই রঙ্গভরা দেশে সম্ভব, সবই সম্ভব...।