Monday, April 21, 2014

খোকা বলিল মাথায় ডায়াপার বাঁধিয়া


খোকাবাবুর নাম সুব্রক্ষণিয়ম স্বামী। খোকাবাবুর ডায়াপার মাথায় বাঁধার ফল হাতেনাতেই পাওয়া গেল। হলুদ-হলুদ পদার্থের মাঝে ঝাপলাঝাপলি করতে থাকা খোকাবাবু যখন-তখন ছড়া কাটে। অবশ্যই শিশুতোষ ছড়া। আমি এক বিজেপির ভূত/ পাশের বাড়ির বুড়ির সঙ্গে খেলি কুতকুত। (কুতকুত খেলাটা কেমন করে খেলতে হয় এর বিশদ আমি জানি না, খোকাবাবু জানে আর জানে ওই বুড়িটা।)

এদিকে খোকাবাবুর আবার বায়নাক্কারও শেষ নেই। খোকাবাবু হলুদ ফুলে মাখামাখি হয়ে বলল, তুনো-তুনো, আমা-ধের-কে না, বাংলাদেতের এক তি-তি-তি...দ-দ-দ তে-তে-তে দি-দি-দি হঅ-অ-অ...
খোকাবাবুর আধো-আধো স্বরের এই সব হাবিজাবির অর্থ করলে দাঁড়াবে, শোনো-শোনো, আমাদেরকে না বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ জমি ছেড়ে দিতে হবে।

কেন খোকাবাবু এমনটা বলছে? খোকাবাবু মনে করে, ধর্মের ভিক্তিতে বিভক্ত হয়েছিল ভারত ভূখন্ড। ...পাকিস্তান বা অধুনা বাংলাদেশ থেকে এদেশে (ভারত) যেসব মুসলমান প্রবেশ করেছে, তাদের ফিরিয়ে নিতে হবে বাংলাদেশকে। অন্যথায এদেরকে সংস্থাপনের জন্য জমি ছেড়ে দিতে হবে ঢাকাকে।... তার প্রস্তাব খুলনা থেকে সিলেট অবধি সমান্তরাল রেখা টেনে এই জমি ভারতের হাতে ছেড়ে দিক বাংলাদেশ।...

ধম্মো-ধম্মো কচ্চো, ধম্মের দোহাই দিচ্চ যে বড়ো, খোকাবাবু। রসো, জমি দেব বৈকি খোকাবাবু। তার আগে তুমি হলুদ ফুলে মাখামাখি হয়ে থাকা মুখ ধুয়ে এসে আঁক কষো দেখি। ১৩.৪ ভাগ মুসলমানের জন্য এক তৃতীয়াংশ জমি ছেড়ে দেওয়ার পূর্বে তোমার দেশের ২.৩ ভাগ খ্রীস্টানের বেলায় কী গতি, খোকাবাবু? বুঝলে, আমেরিকা বড়ো গণতান্ত্রিক দেশ- সুযোগ পেলেই সমস্ত বিশ্বকে গণতন্ত্র শেখায়। তা আমেরিকাকে বলো না খ্রীস্টানদের কারণে তাদের সবচেয়ে ছোট প্রদেশটা ছেড়ে দিতে।

আহারে-আহারে, স্বামী আমি খুব দুঃখিত, বুঝলে...। অজান্তেই কী অন্যায়ই না করলুম, বলো তো! বিশ্বাস করো, এটা বললে তোমার যে কোনও ডায়াপারেও কুলাবে না এমনটা জানলে আমেরিকার কথাটা কখনও বলতাম না, কক্ষণও না। তোমার ডায়াপারের শপথ...।