Tuesday, April 8, 2014

ম্যাজিক-অন্য ভুবন-কতিপয় রাগী যুবক



আমি ম্যাজিক দেখে মুগ্ধ হই। কিন্তু জোর করে যখন কেউ ম্যাজিক দেখান তখন মুগ্ধতা ছাপিয়ে যায় তীব্র বেদনায়। এ মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড়ো ম্যাজিশিয়ান যখন ম্যাজিক দেখান তখন সেটা না-দেখে উপায় নেই, কোনও উপায় নেই!

এই ম্যাজিকের কল্যাণে যে মানুষটার একটা নাম ছিল, ছিল পিতা, স্বামী, সন্তানের সূত্রে যে পরিচয় তা ছাড়িয়ে কেবল একটা পরিচয়ই সামনে চলে আসে, লাশ। এই লাশ উঠাও, লাশ নামাও। এই লাশকে গোসল করাও, লাশকে কফিনে ঢোকাও।
যথারীতি লাশ নামের মানুষটাকে কবরস্থ করতে হয়। কবর খোঁড়ার প্রয়োজনও দেখা দেয়। এটা যান্ত্রিক শহর না যে এখানে টাকা দিলে কবর খোঁড়ার লোক পাওয়া যাবে। লোকজনেরা আবার গালভরা একটা নামও দিয়েছে, গোরখোদক।
কিন্তু এখানে টাকার বিনিময়ে কেউ কবর খুঁড়বে না। এখানকার মানুষেরা এখনও এতোটা যান্ত্রিক হয়নি। তাহলে কারা করেন এই কাজটা? এই রাগী যুবকদের মত লোকজনেরা। কেন এরা এই কাজটা করেন?

সম্প্রতি পরিবারের এক সদস্যের মৃত্যুর কারণে খুব কাছ থেকে এটা দেখার সুযোগ হয়েছিল। কবর খোঁড়ার জন্য যে জায়গাটা এটা পাথুরে। এমন পাথরভর্তি মাটি খোঁড়ার জন্য অমানুষিক শক্তির প্রয়োজন। তার উপর সূর্য মনে হয় দু-হাত নীচে নেমে এসেছিল। এই মানুষগুলো দরদর করে ঘামছিলেন তারপরও বিন্দুমাত্র বিরক্তি প্রকাশ করতে দেখিনি!
কেবল একবার এরা চাবুকের মত ঝলসে উঠেছিলেন। এক মোল্লা সাহেব এসেই হইচই শুরু করলেন- কবরের পাশটা নাকি কম হয়েছে। বলার ভঙ্গিটা ছিল আপত্তিকর, অমানবিক। তিনি একবারও এটা ভাবলেন না যে এই মানুষগুলো টানা তিন ঘন্টা ধরে এই কবরটা খুঁড়েছেন চাঁদি ফাটানো রোদ উপেক্ষা করে। এরা মোল্লার মুখের উপর বললেন, পাশ কম হইলে অসুবিধা কী, মুর্দা কি এপাশ-ওপাশ ফিরব? ব্যস, মোল্লা সাহেব পাজামা গুটিয়ে লাফাতে লাগলেন। মোল্লার লাল চোখকে এরা থোড়াই কেয়ার করেন।

যাই হোক, ওসময় কথা বলার সুযোগ ছিল না। পরের দিন এদের সঙ্গে কথা হয়। কথা বলে আমি তো হাঁ! এদের মধ্যে কেউ-কেউ একশোর উপর কবর খুঁড়েছেন! প্রায় সবারই গোপন ইচ্ছা থাকে তার সংখ্যাটা যেন ১০০ ছাড়িয়ে যায়। এই সংখ্যার পেছনে ছুটতে গিয়ে দিন যায়, মাস, বছরের পর বছর গড়ায়। কুছ পারোয়া নেহি। শাহআলম, পিটন, এরশাদ, পাভেল, জুবায়ের, ওমর ফারুক নামের এই যুবকেরা সবাই কোনও-না-কোনও কাজে জড়িত কিন্তু যত কাজই থাকুক কোনও কবর খোঁড়ার প্রয়োজন দেখা দিলে এঁরা ঠিক-ঠিক হাজির।
সম্ভব হলে আমি এদের মস্তিষ্কে উঁকি দিয়ে নিতল আলোটা দেখার চেষ্টা করতাম কিন্তু সেই ক্ষমতা আমার নাই- থাকলে ভাল হতো..।