Sunday, March 9, 2014

যাত্রা শুরু


পূর্বের লেখায় বলেছিলাম ব্যাটন পরিবর্তন হয় মাত্র [১]। যাত্রায় থামাথামির কোনো স্থান নেই কিন্তু যাত্রার শুরুতেই আমরা হোঁচট খেলাম। সকালেই আমি এবং দুলাল চলে গেছি জেলা শহরে। সাহাদাতও চলে আসে। একে একে অন্যরাও আসে। সায়েরা বেগমের অপারেশন হওয়ার কথা ছিল আগামীকাল। আজ কেবল ভর্তিপর্ব। তাঁর সমস্ত টেস্টই ভাল এসেছে কিন্তু আজ অকস্মাৎ বলা হলো তাঁর হিমোগ্লবিন কম বিধায় রক্তের প্রয়োজন। তাঁর রক্তের গ্রুপ এ পজেটিভ- আমাদের কারো সঙ্গেই তাঁর রক্তের মিল নেই।

বেশ পূর্বে এক শিশু আমাকে বোকা বানিয়েছিল এটা জিজ্ঞেস করে, কোন ব্যাংকে টাকা নাই? যথারীতি আমি পারিনি! শিশুটি হি হি করে উত্তরও দিয়েছিল, ব্লাড ব্যাংকে টাকা নাই। ওর কাছেই এটা জেনেছিলাম, ব্লাড ব্যাংকে টাকা নাই। আজ এই হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে এসে জানলাম, এখানে রক্তও নাই।
এই হাসপাতালে এক ফোঁটা রক্তের বড়ো অভাব কিন্তু মটর সাইকেলের অভাব নেই! ছবিতে যে সমস্ত মটর সাইকেলগুলো দেখা যাচ্ছে তা কেবল হাসপাতালের এক অংশেরই তোলা। এই সমস্ত মটর সাইকেল সবই ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের। এদের কাজ কী এখানে! ডাক্তার সাহেবদেরকে অন্তর্বাস ব্যতীত সবই দেওয়া। নাকি এটাও দেওয়া শুরু হয়ে গেছে ইতিমধ্যে?
জানি অনেকে বলবেন অন্য কথা। তা ফি-রোজ নতুন নতুন ওষুধ বের হয় নাকি যে ডাক্তার সাহেবদেরকে গুণাগুণ অবহিত করতে হবে? আমাদের দেশে আইন করে দেওয়া আবশ্যক যে কোম্পানির ওষুধের গুণাগুণ লেখা লিফলেটগুলো ডাক্তার সাহেবদের কাছে কেবল ডাকে পাঠাবার ব্যবস্থা রাখা। আর যেসব ডাক্তারের ওই সমস্ত লিফলেট পড়ার যোগ্যতা নাই তাদের সনদ কেড়ে নেওয়া।  

রক্ত নেই-এখন আমরা কী করি, কোথায় যাই? যাদের রক্ত দেওয়ার কথা তারা তো সবাই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। রক্ত দেওয়ার কথা যার, লিমনের আজ ডেন্টলের কি এক পরীক্ষা।
সাহাদাত একে-ওকে ফোন করে। ঠিক-ঠিক একটা ব্যবস্থা হয়। অতি দ্রুত চলে আসে জেবা নামের ফুটফুটে এই মেয়েটি, প্রথম এই-ই রক্ত দেয় সায়েরা বেগমকে-

সায়েরা বেগমকে জড়িয়ে ধরে এর কী অপার আনন্দ! । সন্ধ্যায় দেবে লিমনের ভাই। আগামীকালের অপারেশনের জন্য যে দু-চার ব্যাগ রক্ত লাগবে এটা নিয়ে আমার দুঃশ্চিন্তা নেই কারণ এই ছেলে-মেয়েরাই ঠিক-ঠিক একটা উপায় বের করে ফেলবে। আসলে এখানে আমার তেমন বিশেষ কোনো কাজ নেই কেবল গায়ে বাতাস লাগিয়ে ঘুরে বেড়ানো ছাড়া।


আমি নিয়মিত ওখানে অন্য কারণে। সায়েরা বেগম আমার কাছ থেকে এই প্রতিশ্রুতি আদায় করে নিয়েছেন তাঁর অপারেশন পর্বে আমি যেন অবশ্য অবশ্যই উপস্থিত থাকি। আমি জানি না আমি উপস্থিত থাকলে কী তারতম্য হবে কেবল জানি এই মনিহার আমার মত বাঁদরের গলায় শোভা পায় না।  
১.ব্যাটন, হাতবদল হয় মাত্র: http://www.ali-mahmed.com/2014/02/blog-post_4053.html