Friday, March 7, 2014

১৯৭১ সাল এবং ২০১৪ এক না…


১৯৭১ সালের এক অসমসাহসী মুক্তিযোদ্ধা জনাব, ফজলুল হক ভূঁইয়া- তাঁকে নিয়ে প্রচুর লেখালেখি করেছি। অবদান, সাহসিকতার জন্য এটা তাঁর পাওনা।
অনেক পূর্বের লেখায় উল্লেখ করেছিলাম, তিনি যে জায়গাটায় ঘর তুলে থাকেন এটা সরকারি জায়গা। আমার এই জানার উৎস ছিল জনাব, ফজলুল হক ভূঁইয়ার বক্তব্য। কিন্তু আমার এই জানায় ভুল ছিল। সচরাচর লেখার সময় আমি তথ্য-উপাত্ত যতটা সম্ভব যাচাই করে লেখার চেষ্টা করি কিন্তু যেখানে জনাব, ফজলুল হক ভূইয়া নিশ্চিত করেছিলেন তাই এই বিষয়টা অবহেলার দৃষ্টিতে দেখেছিলাম।
পরে সমস্ত কাগজপত্র দেখে নিশ্চিত হয়েছিলাম এই জায়গাটা সরকারি জায়গা না, ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গা। এর পক্ষে ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে হালের সমস্ত কাগজপত্র তাই বলে।
এটা জানার পরও উদাসীন দৃষ্টিতে ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করেছিললাম...।

তাঁর ঘরের লাগোয়া যে জায়গাটা মাদকব্যবসায়ীদের আয়ত্তে ছিল [১] ওটাও একই মালিকের। ওই জায়গাটা খালি হওয়ার পর যে সমস্ত ব্যক্তির এই জায়গাটা, তাদেরকে আমরা সবাই মিলে অনুরোধ করেছিলাম যে জনাব, ফজলুল হক ভূঁইয়ার জন্য একটা জায়গার ব্যবস্থা করার জন্য আমরা চেষ্টা করছি। যতদিন পর্যন্ত এর একটা ব্যবস্থা না-হয় ততদিন পর্যন্ত যেন জনাব, ফজলুল হক ভূঁইয়াকে এখানে থাকতে দেওয়া হয়। জায়গাটার বৈধ মালিকেরা আমাদের অনুরোধ রেখেছিলেন। আমরা তাদেরকে আরও অনুরোধ করেছিলাম, যে জায়গাটা মাদকব্যবসায়ীদের আয়ত্তে ছিল সেটাও যেন আপাতত জনাব, ফজলুল হক ভূঁইয়ার কাছেই রাখা হয়। তিনি যেন এটার চারিদিকে চট বা পলিথিনের পর্দা দিয়ে ওখানে শাক-সব্জী চাষাবাদ করে কিছু আয় করতে পারেন। ওই সদাশয় মানুষেরা আমাদের দিকে তাকিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে এতেও সায় দিয়েছিলেন।

এখন জায়গার বৈধ মালিকেরা কঠিন অভিযোগ করেছেন তাদের অনুমতি ব্যতীত জনাব, ফজলুল হক ভূঁইয়া অনাবশ্যক কারণে ওখানে একটা ঘর তুলেছেন। ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলরসহ ওখানে গিয়ে এর সত্যতা পাওয়া গেল। এই বিষয়ে জনাব, ফজলুল হক ভূঁইয়া জায়গাটা যে সরকারি জায়গা না এবং বৈধ মালিক যে ওরা এটা স্বীকার করেন কিন্তু এখানে ঘর তোলার বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। আমরা করজোড়ে জনাব, ফজলুল হক ভূঁইয়াকে কাতর অনুরোধ করেছি এই ঘরটা এখান থেকে সরিয়ে নিতে কারণটাও বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করেছি যে এমন অন্যায় করলে আমরা এই প্রজন্ম অসহায় হয়ে পড়ি। বিস্তর অনুরেধেও এর কোনো সুরাহা হলো না। তিনি ঘরটা সরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানালেন। কোনো যুক্তির ধার ধারলেন না- এর পক্ষে ছোট্ট একটা যুক্তিও যদি দেখাতে পারতেন তাহলেও মনটাকে প্রবোধ দিতে পারতাম, ভাল লাগত।

আমি স্বপ্নেও ভাবিনি যে এটা নিয়ে আমাকে লিখতে হবে। আমি খানিকটা বোঝার চেষ্টা করি অনেক সময় একজন মানুষ নিরুপায় হয়ে অপরাধ করেন। অনেক বড়-বড় ব্যক্তিত্বও ইনসুলিন কেনার টাকা না-থাকলে অন্যের পায়ে কলম ফেলে দেন, এ সত্য। কিন্তু যেখানে আমরা জনাব, ফজলুল হক ভূঁইয়ার জন্য নিজস্ব জায়গার বন্দোবস্ত করে দেওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, যতদিন পর্যন্ত এর সুরাহা না-হয় ততদিন পর্যন্ত তিনি যেন এখানে নির্বিঘ্নে থাকতে পারেন সেই ব্যবস্থাও করা হয়েছিল সেখানে তাঁর এই উদ্যোগ আমার কাছে স্রেফ একটা ঘৃণ্য অপরাধ মনে হয়।

জনাব, ফজলুল হক ভূঁইয়া, বিষাদে, অতি বিষাদে আপনাকে বলি: ১৯৭১ সালে আপনার অবদানের জন্য আমি আপনাকে স্যালুট করি কিন্তু আজ ২০১৪ সালে আপনার ভূমিকার জন্য তীব্র নিন্দা জানাই। এই প্রজন্মকে একটা দুঃস্বপ্নের মুখোমুখি করে দিলেন- এ আমাদের পাওনা ছিল না।
অতীব দুঃখের সঙ্গে কেবল আমার স্পষ্ট বক্তব্যটা বলি, আমি অন্তত আপনার অপরাধের সহযাত্রী হতে চাই না...।

১. https://www.facebook.com/photo.php?fbid=10151915025317335&set=a.10151298132117335.465193.723002334&type=1&stream_ref=10
...
জনাব ফজলুল হক ভূঁইয়া, যেখানে ঘর তুলে বসবাস করেন এবং এখন যেখানে অনাবশ্যক, অহেতুক আরেকটি ঘর তুলেছেন সেটা ৩ দাগের জায়গা। এই জায়গার ক্রয়সূত্রে বৈধ মালিকদের আরওআর-আর,এস এবং নামজারির এবং আপত্তির কাগজপত্র: