Monday, December 22, 2014

Howdy radish



Friday, December 19, 2014

একজন ‘নুলা মুসা’ এবং আমাদের মিডিয়া।

মুসা বিন শমসেরকে নিয়ে প্রথম লিখেছিলাম, সালটা সম্ভবত ২০০৬ হবে। তখন অমি রহমান পিয়াল মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখালেখির সহযোদ্ধা। পিয়াল আমাকে সতর্ক করেছিলেন, ‘শুভ, এই পাবলিক কিন্তু খতরনাক। তাকে নিয়ে যারা লেখালেখি করেছেন তারাই ভয়াবহ বিপদে পড়েছেন’
প্রমাণিত না কিন্তু ফরিদপুরের যুদ্ধাপরাধিদের নিয়ে লেখালেখি করার কারণে প্রবীর শিকদার [১] বিপদে পড়েছিলেন। আমাদের মুসাও ফরিদপুরের! প্রবীর শিকদার এখনও বেঁচে আছেন কিন্তু বোমায় তার এক পা, চাপাতির আঘাতে এক হাত উড়ে গেছে।

তো, মুসা আবারও সামনে চলে এসেছেন দুদকে হাজিরা দিতে গিয়ে। দুদক অফিসে তিনি হাজিরা দিয়েছেন রাজা-বাদশার মত। একপাল দেহরক্ষী এবং চেলা-চামুন্ডা নিয়ে। এরমধ্যে অধিকাংশ মিডিয়া আবার খুব মজা পেয়েছে নারী দেহরক্ষী নিয়ে। কোথাও ছাপা হয়েছে, “মহিলা বডিগার্ড নিয়ে দুদকে সেই মুসা বিন শমসের”। বা কোথাও “সুন্দরী দেহরক্ষী নিয়ে...।”
বিশদ বর্ণনা দেওয়া হয়েছে মুসা কোন রঙের ব্লেজার পরেছেন, কোন ঘড়ি, কোন ব্রান্ডের গাড়ি ইত্যাদি। ভাগ্যিস, গাড়ির কয়টা চাকা বা মুসার কোন ব্রান্ডের আন্ডারওয়্যার পরেছেন ওই দিকে আর মিডিয়া দৃষ্টিপাত করেনি।

এখনকার মিডিয়া পারে না এইসবও দিয়ে দিতে। যেমন আজকের ‘দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনে’ ছাপা হয়েছে, শোবিজের হ্যাপী এবং ক্রিকেট খোলোয়াড় রুবেলের ফোনালাপ। আমারা ছোট্ট একটা অনুসন্ধান ছিল। ফোনের এই কথোপকথনের উৎস কি? এই দুইজনের কেউ একজন কি কথোপকথন রেকর্ড করে রেখেছিল নাকি ফোন কোম্পানি এই অডিও ট্র্যাক সরবরাহ করেছে। নাকি কোনও গোয়েন্দা সংস্থা? একজন পাঠক এটা জানার অধিকার ফলাতেই পারে। আর সরবরাহ করলেই মিডিয়া ছেপে দেবে? “একদম ঠোঁট কামড়াইয়া ধরব কিন্তু...” এটা ছাপিয়ে পাঠকের কাছে চুতিয়া মিডিয়ার এটাই কী দায়? আবার ঢং করে লিখেছে, “[প্রকাশ অযোগ্য শব্দ।]”
এদের “[প্রকাশ অযোগ্য শব্দ।]”, এটা পড়ে দুষ্ট ছেলেদের কথাটাই মনে হলো, ‘মুহাহা, যেন সানি লিওন বলছে, আমি ভার্জিন’।

আচ্ছা, মিডিয়া কি এখন টাট্টিখানা হালের ওয়শরুমেও ক্যামেরা তাক করে ‘বুম’ ধরে রাখবে? ভাল, তাহলে এই পত্রিকার সম্পাদক নঈম নিজামকে দিয়েই শুরু হোক। পরে পত্রিকার প্রথম পাতায় ছবিটা ছেপে দিয়ে মোহনীয় একটা ক্যাপশন দেওয়া যেতে পারে, একদলা হলুদ ফুল বা এক টাল হলুদ ফুলের মাঝখানে নঈম ভাইয়া।

যাই হোক, মুসাকে নিয়ে আমার বেশ কিছু লেখার মধ্যে একটা ছিল যাত্রার প্রিন্স [২]। ওখান থেকে কিছু অংশ শেয়ার করা যাক:
"ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকার মেয়ে কমলা ঘোষ। সবে বিয়ে হয়েছে তার। বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসে আটকা পড়ে যান কমলা! একদিন পাকিস্তানি মেজর কোরায়শী ও তিন জন সৈন্যসহ কমলাদের বাড়িতে আসে নুলা মুসা। এরপর যা হওয়ার তাই হয়, পাকিস্তানি সৈন্যরা চরম শারিরীক নির্যাতন করে কমলাকে। ...পরে কমলার স্বামী কমলাকে আর কখনই ঘরে ফিরিয়ে নেয়নি।

...ফরিদপুর শহরের মহিম স্কুলের সঙ্গে এক ধর্মশালা দেখাশোনা করতেন কেষ্টমন্ডল। কেষ্টমন্ডলের চার মেয়ে: ননী, বেলী, সোহাগী ও লতা। নুলা মুসার তত্ত্বাবধানে এই বেলী ও ননী মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময় পাকিস্তানি সৈন্যদের মনোরঞ্জনে বাধ্য হয়েছিলেন। পরে এই চার বোন এবং তাদের মা-র ঠাঁই হয়েছিল ফরিদপুরের পতিতাপল্লীতে।
...কেবল ননী, বেলীই নয় পাকিস্তানি সেনাদের হাতে অর্ধশতাধিক বাঙালি মা-বোনের সন্ভ্রম লুটের প্রধান নায়ক এই নুলা মুসা।

এখন তার নাম ড. মুসা বিন শমশের হলেও সার্টিফিকেটের নাম এডিএম মুসা। কিন্তু একটা হাত খানিকটা বিকলাঙ্গ থাকায় তার ব্যাপক পরিচিতি ছিল, 'নুলা মুসা' হিসাবেই। নিজেকে ডক্টর বলে দাবী করলেও, ১৯৬৮ সালে ঈশান স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করে রাজেন্দ্র কলেজে ভর্তি হয়েছিল মুসা। ১৯৮৬ সালে মুসার নামের আগে ডক্টর যুক্ত হলেও উচ্চ-মাধ্যমিক পাসের কোনো প্রমাণ মেলেনি কোথাও!

অভিযোগ আছে, একাত্তরের ২১ এপ্রিল পাকিস্তানি সৈন্যদের ফরিদপুরে ঢোকার ব্যাপারে মানচিত্র এবং পথনির্দেশনা দিয়ে সহযোগিতা করেছে এই মুসা। মেজর আকরাম কোরায়শীর সঙ্গে মুসার গভীর ঘনিষ্ঠতা ছিল! ফরিদপুরে পাকিস্তানি সৈন্য ঢোকার পরদিনই (একাত্তরের ২২ এপ্রিল) ফরিদপুর সার্কিট হাউজে মুসা এবং মেজর কোরায়শীকে খুবই অন্তরঙ্গ পরিবেশে দেখেন, মুক্তিযোদ্ধা একেএম আবু ইউসুফ সিদ্দিক পাখী।
একাত্তরে মুসা ছিল ফরিদপুরের এক মূর্তিমান আতঙ্ক। তার প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সহায়তায় পাকিস্তানি সেনারা অসংখ্য মানুষকে হত্যা, নারী নির্যাতন একং লুটতরাজ করেছে। ফরিদপুরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ শহরের সমস্ত শহীদ মিনার মুসা পাকিস্তানি সেনাদের সহায়তায় ভেঙ্গে ফেলে! মেজর কোরায়শীসহ অনেক পাকিস্তানি সেনা-সদস্যের অবাধ যাতায়াত ছিল মুসার বাড়িতে।
মুসার পিতা তথাকথিত পীর শমসের মোল্লা পাকিস্তানি সেনাদের মনোবল বাড়াতে তাদের গায়ে ফুঁ দিত আর বলত, 'ইন্ডিয়া পাকিস্তান বন যায়েগা'

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ডিসেম্বরেই মুসা মুক্তিযোদ্ধাদের ভয়ে ফরিদপুর থেকে পালিয়ে চলে যায় পাবনায়। সেখানে বড় ভাইয়ের শ্যালিকাকে বিয়ে করে ঢাকা-চট্টগ্রামে ছুটাছুটি করে। ঢাকার এক অবাঙ্গালিকে পাকিস্তানে পাঠাবার নাম করে তাঁর সহায়সম্পত্তি আত্মসাতের মাধ্যমে একপর্যায়ে ঢাকায় 'শাহবাজ ইন্টারন্যাশনাল' নামে আদম ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলে। এরপর বিদেশে লোক পাঠাবার নাম করে উত্তরবঙ্গের কয়েকশ' লোকের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে বিদেশে উধাও হয়ে যায়। বছর তিনেক পর ঢাকায় ফিরে 'ড্যাটকো' নামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে আবারও শুরু করে আদম ব্যবসা! এরশাদ আমলে শুরু হয় তার উত্থান। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি মুসাকে...।" 

সেই মুসা আজ দম্ভের সঙ্গে বলেন, “...আমার বিষয়ে যা বলা হয়, আমি সাত বিলিয়ন ডলার বা ৫১ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছি। কেউ কোনো দিন এতো টাকা দেশে আয় করতে পারেনি, পারবেও না। আমি এই টাকা বিদেশে উপার্জন করেছি...। ...সুইস ব্যাংকে আটকে থাকা ওই টাকা উদ্ধার করা গেলে পদ্মা সেতু, দুস্থ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী, শিক্ষকসহ সামাজিক গঠনমূলক কর্মকান্ডে অবদান রাখব।...

ডিয়ার স্যার, বলেন কী! 'ভূতের মুখে রাম নাম'- পূর্বে কখনও এই দেশের জন্য একটি আধুলিও খরচ করেছেন এমনটা তো জানি না! নুলা মুসা মহোদয়ের কাছে আরও জিজ্ঞাসা বিদেশে উপার্জন করেছেন, বেশ; তা কোন ব্যবসায় এই টাকা উপার্জন করেছেন? আর আপনি এই দেশে অবদান রাখবেন জেনে ভাল লাগছে। সবই তো বললেন কিন্তু আপনি ১৯৭১ সালে যে পাপগুলো করেছেন সেই পাপের বিষয়ে মুখ খোলেননি কিন্তু!
যতক্ষণ পর্যন্ত আপনার পাপের শাস্তি না-হবে ততক্ষণ পর্যন্ত এই দেশের ঝুলেপড়া কাঁধের পাপমোচন হবে না।

সহায়ক সূত্র:
১. প্রবীর শিকদার: http://www.ali-mahmed.com/2013/07/blog-post_4.html  
২. যাত্রার প্রিন্স: http://www.ali-mahmed.com/2013/07/blog-post_2395.html

Thursday, December 18, 2014

মহাপুরুষ-‘মহাউলুস’!

মহাপুরুষরা আজকাল ‘মহাউলুস’ হয়ে গেছেন। ‘উলুস’ অভিধানে কেবল পাওয়া যেতে পারে জীবিত হলে। আঞ্চলিক ভাষায় ‘উলুস’ হরদম বলা হলেও এর ভাল নাম ছারপোকা।
বসুন্ধরা গ্রুপের পত্রিকায় ঢাউস যে ছবিটা আমরা দেখতে পাচ্ছি এটায় বসুন্ধরার মালিকপক্ষ। এরা দুস্হদের মাঝে কম্বল বিতরণ করছেন। সাধু-সাধু! ওই আসে মহাপুরুষ...।
ছবি সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৪
চমৎকার একটা একটা ছবি বটে! বাংলা সিনেমায় যেমন পুলিশের লম্বা চুল দেখে আমরা হাসি চাপি তেমনি এই ছবিটা দেখেও হাসি চাপা মুশকিল হয়ে পড়ে। হোয়াট আ পোজ! কই হাত কই মাথা! ভাব দেখে মনে হচ্ছে, ক্যামেরাবন্দি না-হওয়া পর্যন্ত কম্বল ছাড়াছাড়ি নাই। মহতরমা কম্বল ছেড়ে দিলে কী হবে কম্বল তো ছাড়ে না! আহা, ছবির সঙ্গে তথ্যগুলো মিলিয়েও পাঠক যদি বুঝতে না পারেন ঠিক কে কম্বল দিল তখন কী উপায় হবে গো। পাঠক বেচারাকে তো আর এই তকলিফ দেওয়া চলে না।

যাই হোক, কম্বল বিতরণ করছেন আহমেদ সোকহানের সহধর্মিণী আফরোজা বেগম তার সঙ্গে আছেন ওগো বিদেশীনি পুত্রবধু বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাফায়েত সোবহান সানভিরের ইস্তারি সাহেবা এভলিনা সোবহান। সাফায়েত সোবহান সানভির সাহেবও আছেন।
ওহো, আমার স্মৃতিবিভ্রম না-হয়ে থাকলে ইনিই তো সেই সানবির যিনি সাব্বির খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন?
...২০০৬ সালের ৪ জুলাই রাতে গুলশানের একটি বাড়িতে সাব্বির খুন হন। সানবীর এই হত্যা মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত প্রধান আসামি ছিল। একপর্যায়ে সানবীর বিদেশে পালিয়ে যান। তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর তাঁকে দেশত্যাগে সহায়তা করেছিলেন । সানবীরকে মামলা থেকে রক্ষা করতে বসুন্ধরা গ্রুপ থেকে বাবরকে ২১ কোটি টাকা ঘুষ দেওয়া হয়েছিল, যা তিনি গ্রেপ্তারের পর স্বীকার করেছিলেন।...

ভাল কথা, তা এই সানবীর মহোদয় কি খুনের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন? উত্তর যদি না হয় তাহলে এই দেশের তো উফর-ফাঁফর, দমবন্ধ অবস্থা। বেচারা দেশ, শ্বাস নেয় কেমন করে?

Wednesday, December 17, 2014

আমাদের ইশকুল- আমাদের মুক্তিযুদ্ধ- আমাদের মুক্তিযোদ্ধা।

পথশিশু সংগঠনের সঙ্গে জড়িত একজনের সঙ্গে আমার কথা হচ্ছিল। কথাপ্রসঙ্গে তিনি জানতে চাইলেন স্কুলে (আমাদের ইশকুল) আমি পড়াবার জন্য কোন পদ্ধতি অনুসরণ করি। তিনি এটাও জানালেন তারা ‘ইব্রাহিম মেথড’ (দুর্বল স্মৃতি থেকে লিখছি ইব্রাহিম নামটা ভুল হওয়ারা সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না) অনুসরণ করেন।
আমি সলাজে বললাম, আমি তো কোন পদ্ধতি অনুসরণ করি না। ধারণা করি, তিনি তাচ্ছিল্যের হাসি গোপন করেছিলেন।

যে শিক্ষক এই স্কুলে পড়ান তাকে আমি আগেভাগেই বলে দিয়েছিলাম, এই বাচ্চাদেরকে প্রচলিত পদ্ধতিতে আমি পড়াতে চাই না। স্কুলে আধ-ঘন্টা এরা বিভিন্ন খেলা খেলবে এরপর আধ-ঘন্টা পড়া। পড়ার সময়টা আমি খুব বেশি সময় রাখতে চাইনি। কারণ তাহলে এরা মনোযোগ ধরে রাখতে পারবে না।
স্টেশনের অধিকাংশ বাচ্চাকে আমি হাতের তালুর মত চিনি- আমি জানি কে আজ দুপুরে খেয়ে আসেনি, কে ড্যান্ডিতে আসক্ত! অভুক্ত, স্বপ্নহীন বাচ্চাদের মনোযোগ ধরে রাখা কতোটা কঠিন এটা আমি বিলক্ষণ বুঝতে পারি।

একদিন এদেরকে বাংলা পড়ানো হয় তো অন্যদিন ইংরাজি। একদিন কেবল গল্প। শিক্ষামূলক কিছু গল্পের সঙ্গে ছোট্ট একটা গল্প আমি এদেরকে শিখিয়েছি। বড়ো সহজ-সরল একটা গল্প:
এক দেশে এক রাজা ছিল। রাজার ছেলে রাজকুমার। রাজকুমার খুব দুষ্ট ছিল। সে চুরি করত, মিথ্যা কথা বলত। মা-বাবার কথা শুনত না। স্কুলের যেত না। আল্লাহ একদিন তাকে শাস্তি দিলেন। তার গায়ের রঙ কালো হতে থাকত। কালো হতে হতে সে একদিন কাক হয়ে গেল। সে আর মানুষ হতে পারল না। 
গল্পের যে জায়গাটায় কাকের কথা আসে তখন বাচ্চারা কা-কা করে চিৎকার জুড়ে দেয়। এ বলার অপেক্ষা রাখে না এই গল্পটা এদের শেখাবার পেছনে আমার বিশেষ উদ্দেশ্য আছে। 

ওহ, একদিন ধর্ম পড়ানো হয়। একজন স্কুল দেখতে এসে আমাকে নাহক কথা শুনিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি শ্লেষভরা কন্ঠে বলছিলেন, 'মিয়া, তুমি তো বিশেষ ধর্মকর্ম পালন করো না তাহলে আরবি পড়াবার ব্যবস্থা রেখেছো কেন'?
আমি বিরক্ত হয়ে বলেছিলাম, 'আরবি না, একদিন ধর্ম পড়াবার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এখানে মুসলমান ব্যতীত অন্য কোন ধর্মের শিশু নাই থাকলে সে ধর্ম পড়াবারও ব্যবস্থা থাকত'।
ওরে শ্লা...শোনো কথা, এই গ্রহের সবচেয়ে বড়ো নির্বোধ আমি [১]- আমি স্মোক করি বলে কী এদেরকেও স্মোক করা শেখাব!

তো, একদিন থাকে আঁকাআঁকি। আমি দেখেছি বাচ্চাদের সবচেয়ে বেশি উৎসাহ আঁকাআঁকিতে। ওদিন স্কুলে উপস্থিতির হারও থাকে বেশি। আঁকাআঁকির কোনও নির্দিষ্ট বিষয় নেই। যার যেটা খুশি আঁকে। স্কুলে আমি উপস্থিত থাকলে বলি, ভূতের ছবি আঁকো। বাচ্চারা ভূতের ছবি আঁকে। বাচ্চারা অবলীলায় হাস্যকর ভূতের ছবি আঁকে। কারণ একদিন এদেরকে বলে দিয়েছিলাম, ভূত বলে কিছু নেই।

এখানকার শিশুরা হাবিজাবি অনেক কিছুর সঙ্গে এটাও জানে পৃথিবী গোল, তিন ভাগ পানি এক ভাগ মাটি। পৃথিবী স্থির না, কেমন করে দিন-রাত হয়। এরা এটাও জানে কলার খোসার ভেতরের পিচ্ছিল অংশ দিয়ে জুতা চমৎকার পরিষ্কার হয়, চকচক করে। কলার খোসার ভেতরের পিচ্ছিল অংশ দিয়ে নিমিষেই দাঁতও পরিষ্কার, ঝকঝক হয়।

স্কুলে মাস্টার মশাইয়ের জন্য আমার তৈরি করা একটা তালিকা আছে। এই তালিকা ধরে-ধরে এদেরকে শেখানো হয়। পড়ান মাস্টার সাহেব- কিন্তু প্রায় প্রতিদিনই হুটহাট করে আমি হাজির হয়ে যাই। অল্প সময়ে হাবিজাবি বলে আমি উধাও।
দু-দিন পূর্বে মাস্টার মশাই পড়াচ্ছেন মুক্তিযুদ্ধ, বিজয় দিবস নিয়ে। আমাদের কাছে শুনতে যত সহজ মনে হোক বিষয়টা এদের কাছে অতি কঠিন। যে বাচ্চাগুলো তীব্র শীতে ঘুমায় স্টেশনে অধিকাংশ সময় অভুক্ত থাকে এদের কাছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়টা খুব একটা বোধগম্য বিষয় এটা আমি বিশ্বাস করি না। তো, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়টা বোঝাতে গিয়ে মাস্টার মশাইকে দেখলাম শীতেও গলদঘর্ম হতে। শিক্ষক-ছাত্র কাউকে দোষ দেওয়া চলে না।

আমি অন্য পথ ধরলাম। এদেরকে বললাম, দেখো, স্বাধীনতা মানে হচ্ছে, অনেকটা নিজের বাড়ি আর পরের বাড়ির মত। তুমি তোমার নিজের বাড়িতে যা খুশি করতে পারবে কিন্তু পরের বাড়িতে পারবে না। যেমন ধরো, তোমাদের অনেকেই স্টেশনে থাকো। সরকারি লোকজন যখন খুশি তোমাদেরকে এখান থেকে সরিয়ে দিতে পারবে কিন্তু নিজের বাড়িতে কেউ তোমাকে কিচ্ছু বলতে পারবে না। আলাপচারিতায় মুক্তিযোদ্ধাদের প্রসঙ্গ আসল কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা সম্বন্ধে কোন প্রকারেই এদেরকে ভাল করে বোঝানো গেল না।

পরের দিন। স্কুলের বাচ্চারা খেলছে। একজন খর্বাকৃতি মানুষ আসলেন বগলে একটা ছোট্ট ব্যাগ নিয়ে। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন কান পরিষ্কার করব কি না। আমি বিরক্ত। তাচ্ছিল্যের হাসি হাসতে গিয়ে জমে গেলাম। মানুষটার বুকে ছোট্ট একটা ব্যাজ- আমার বোঝার বাকী রইল না মানুষটা একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমি সটান দাঁড়িয়ে গেলাম। বাচ্চাদেরকে বললাম, 'সবাই দাঁড়াও। আমাদের মাঝে একজন মুক্তিযোদ্ধা আছেন। একজন মুক্তিযোদ্ধা দাঁড়িয়ে থাকলে আমরা বসে থাকতে পারি না। যিনি অস্ত্র হাতে প্রাণ বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলেন বলেই আমরা একটা পতাকা পেয়েছি, একটা দেশ পেয়েছি। আমাদের মা যে ভাষায় কথা বলেন আমরা সেই ভাষায় অনায়াসে কথা বলতে পারি'। তোমরা মুক্তিযোদ্ধা সম্বন্ধে জানতে চেয়েছিলে। ইনি একজন মুক্তিযোদ্ধা।
স্কুল থেকে বেরিয়ে আলি আহমেদ নামের এই মানুষটার সঙ্গে কথা হয়। খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে যখন তিনি যুদ্ধে ছিলেন তখন তাঁর বয়স মাত্র ১৯! যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার পূর্বে মোজাহিদ ছিলেন। তাঁর এলাকা ছিল সালদানদী, কসবা। ছোটখাটো এই মানুষটাই অবলীলায় গুলি ছুড়েছেন ২০ রাউন্ডের এসএলআর দিয়ে। যুদ্ধে তিনি ভয়ংকর রকমের আহত হন। আর্টিলারি শেল দিয়ে সমস্ত শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়। এখনও তিনি বহন করে চলেছেন শরীরে শুকিয়ে যাওয়া ক্ষত। মানুষটাকে নিয়ে অন্য একদিন বিশদ লেখা ইচ্ছা রইল। তাঁর তাড়া, আমারও।

কিন্তু আমি বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করেছি, বাচ্চাদের সঙ্গে ছবি তোলার জন্য অনুরোধ করলে তিনি বারবার সংকোচের সঙ্গে এড়িয়ে যেতে চাইলেন। না-কামানো দাঁড়িভরা মুখটা নেড়ে নেড়ে বলছিলেন, 'আরে না, কী বলেন, আমি কেন'!
আমার অনুরোধ ফেলতে না-পেরে বড়ো সংকোচ নিয়ে দাঁড়ালেন।

আমাদের মুক্তিযোদ্ধা, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ছিনতাই হয়ে গেছে সেই কবেই, দলবাজির বৃত্তে ঘুরপাক খেয়ে। তাই কী, এঁর মতো মুক্তিযোদ্ধা তুচ্ছ সম্মান পেয়ে বিদায় নেওয়ার সময় তাঁর চোখ ভরে আসে...!

সহায়ক সূত্র:
১. নিবোর্ধ মানুষ: http://www.ali-mahmed.com/2014/12/blog-post_7.html 

ম্টেশনে বাচ্চা আর কয়জন পড়বে এটা ভেবে ছোট্ট একটা কামরা ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই অনুমান ভুল ছিল। এমনিতে সবাই একই দিনে উপস্থিত থাকে না কিন্তু তারপরও জায়গার সংকুলান হয় না। এর উপর যেদিন আঁকাআঁকি থাকে সেদিন আমরা বিপদে পড়ে যাই কারণ তখন অতিরিক্ত জায়গার প্রয়োজন হয়। তখন আমাদের দাঁড়াবার জায়গা থাকে না। তবুও সুখ রে সুখ...!
  

Saturday, December 13, 2014

‘যৌবনযাত্রা’ নামের কারখানা!

একদা ‘যৌবনযাত্রা’ নামের অতি চালু একটা সাইট, হুড়মুড়, হঠাৎ করেই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে হইচই করা শুরু করল।
এমনিতে এই ধরনের একটা সাইট ‘এডাল্ট সাইট’ হিসাবে চালু থাকবে কি থাকবে না সেটা ভিন্ন তর্কের বিষয়! কিন্তু হিডেন ক্যামেরায় ধারণকৃত বা অনুমতি ব্যতীত কারও ভিডিও কোনও সাইটে আপলোড করে দেয়াটা যে চরম অনৈতিক কাজ এটা এই সমস্ত ইতরদের কে বোঝাবে। এতে করে একজন মানুষের জীবনে কেমন বিপর্যয় নেমে আসতে পারে এটা বোঝার ক্ষমতা ডায়াপারপরা এই ইতরদের নাই। তাদের অনৈতিক আচরণের কারণে কেউ যদি তার প্রাণ নষ্ট করে ফেলে তাহলে আমি এদের বিরুদ্ধে পরোক্ষ খুনের অভিযোগ আনতে চাই।

মজার ছলে কত প্রকারের যে চরম অন্যায় হয় তার ছোট্ট একটা নমুনা দেই: একজন ডাক্তার, একজন ভদ্রমহিলা আমাকে বেদনার সঙ্গে বলছিলেন, ‘দেখেন, বিভিন্ন নাম্বার থেকে আমার কাছে এন্তার কল দিয়ে জিজ্ঞেস করা হয়, আমার রেট কত’?
পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করে একটা সাইট পওয়া গেল যেখানে একটা মেয়ের নামে এই নাম্বারটা দিয়ে বলা হয়েছে, ‘আমি কলগার্ল, আমাকে কল করুন’। এখন একজন ডাক্তারের ফোন নাম্বার পাওয়া তো জটিল কিছু না। প্রেসক্রিপশনে, চেম্বারে, সাইনবোর্ডে থাকে। যে এই নাম্বারটা এমন করে ছড়িয়ে দিল সেই কাপুরুষটা নিজেকে বড়ো বীরপুরুষ ভাবল!

যাই হোক, ‘যৌবনযাত্রায় ‘বাণী’ লিখে-টিখে কেউ-কেউ আবার মুক্তিযুদ্ধের দুর্ধর্ষ গবেষকও বনে গেলেন! মুক্তিযুদ্ধের গবেষক হওযার মত যোগ্যতা আমার ছিল না কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখালেখির কারণেই কিনা জানি না অন্য উপায়ে ‘যৌবনযাত্রা’ আমাকেও তাদের সাইটে লেখার সুযোগ করে দিল। সুযোগ করে দিল মানে আমার লেখা ছাপিয়ে দিল। আমার লেখা ছাপিয়ে দিল, আমার অনুমতি না-নিয়ে! এই বিরল সৌভাগ্যে আমার আনন্দিত হওয়ার কথা কিন্তু নিরানন্দ আমি আমার সাইটে একটা লেখা লিখলাম, ‘অন-লাইনে লেখালেখি হচ্ছে গণিমতের মাল।‘ [১]
বিনা অনুমতিতে আমার লেখাটা যৌবনযাত্রায় ছাপা হওয়ার করণে ‘বাঘমামা’ নামের একজন এসে আমার ওই পোস্টে দুঃখপ্রকাশ করেছিলেন। বাঘমামা সম্ভবত যৌবনযাত্রার কর্তাগোছের কেউ হবেন। কারণ যৌবন যাত্রায় যে আমার লেখাটা পোস্ট করেছিল তাকে আচ্ছা করে বকা দিয়েছিলেন এবং এর একটা সদুত্তর চেয়েছিলেন। পোস্টদাতা বেচারা একটা টুঁশব্দও করেনি। করার কথা না। এই দেশে দুঃখপ্রকাশের চল নাই বিধায় আমি মুগ্ধ হয়ে ছিলাম।

বিনা অনুতিতে লেখাটা প্রকাশ করা ব্যতীত এখানে অন্য একটি বিষয় আমাকে প্রচন্ড ক্রদ্ধ করেছিল। সেটা হচ্ছে, ‘খোদাজার অংশবিশেষ‘, লেখাটি আমার একটা উপন্যাস ‘খোদেজা’ থেকে নেওয়া। মূল ঘটনা সত্য। খোদেজা নামের একটা শিশুর প্রতি চরম শারীরিক অন্যায় করা হয়েছিল। যে দু-জন যুবক এর জন্য দায়ী তারা যে কেবল খোদেজাকে চরম শারীরিক অত্যাচার করেছিল এই না; খোদেজা যখন চিৎকার করছিল তখন তার মুখে মুঠো মুঠো বালি গুঁজে দিয়েছিল। খোদেজার মৃত্যুর পর এই দু-জন আবার খোদেজার জানাজায়ও অংশগ্রহণ করেছিল। জানাজায় অংশগ্রহণের বিষয়টি আমাকে প্রচন্ড নাড়া দিয়েছিল কারণ এমনটা আমি পূর্বে কখনও শুনিনি! ‘খোদেজা’ উপন্যাসটা লেখার পেছনের কথা এটাই।

ওই ইতরামির পর সেটা নিয়ে আরেকটি লেখা লিখেছিলাম, ‘হাজামের হাতে সার্জনের ছুঁরি [২]। ওই লেখায় যেটা লিখেছিলাম:
...যৌবনযাত্রায় ওই লেখাটা পড়তে গিয়ে মজার এই বিষয়টা লক্ষ করলাম। আমার লেখাটার সবটুকুই হুবহু কপি-পেস্ট করা হয়েছে কিন্তু এই প্যারায় এসে গালিগুলো সেন্সর করা হয়েছে।...
‘খোদেজা’ উপন্যাসে কেন গালির প্রসঙ্গ এসেছিল সেটা আমি পূর্বের লেখায় ব্যাখ্যা করেছি আবারও চর্বিতচর্বণ করি না।

তো, ‘যৌবনযাত্রা’ লেখাটা পাবলিশ হয়ে যে অন্যায়টা হয়েছে সেটা হচ্ছে খোদেজা উপন্যাসের অতি কষ্টের দিকটাকে রগরগে করে পাঠকের কাছে তুলে দেওয়া। এরা এবং এখানে পাঠকও যুক্ত, একটা শিশুর জান্তব চিৎকারকে উপভোগ করার চেষ্টা করেছে! খোদেজার উপর ঝাঁপিয়েপড়া ওই দুজন যুবকের সঙ্গে এদের খুব একটা তফাত নেই। কেবল সুযোগের অপেক্ষা।

এই সমস্ত ঘটনা ২০০৯ সালের। সব চুকেবুকে যাওয়ার পর এই প্রসঙ্গ নিয়ে আবারও কেন লিখছি? হালে একজন পাঠক আমাকে মেইল করলেন। ইনি আমার খুব পছন্দের মানুষ কিন্তু ভারী দুষ্ট। মেইলে লিখলেন, “...আপনাকে যৌবনযাত্রায় দেখা গেছে...”। সঙ্গে আবার ফিচেল হাসির ইমো। আমি আতংকিত হলাম, কী সর্বনাশ! এরা কী আমার কোনও ভিডিও আপলোড করে দিল না তো আবার!
যাই হোক, যৌবনযাত্রার কোনও অদলবদল হয়েছে কিনা আমি জানি না কিন্তু আমি বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করলাম আমার ওই লেখাটা আবারও পোস্ট করা হয়েছে, হুবহু [৩]। কেবল পোস্টদাতা অন্য একজন। আবার ঘটা করে লিখেছে, “অরিজিনালি পোস্টেট বাই অমুক”। এবারের কাজটা আরও গর্হিত কারণ এই পোস্টদাতা যৌবনযাত্রার যেখান থেকে এটা কপি পোস্ট করেছে সেখানে আমার আপত্তির প্রেক্ষিতে বাঘমামার বিরক্তিভরা উক্তি নিশ্চয়ই লক্ষ করেছে। তারপরও লেখাটা রি-পোস্ট করেছে।
এই মানুষটা যে একটা অমায়িক চুতিয়া এতে অন্তত আমার কোনও সন্দেহ নাই।

সহায়ক সূত্র:
১. অন-লাইনে লেখালেখি হচ্ছে গণিমতের মাল: http://www.ali-mahmed.com/2009/01/blog-post_9376.html
২. হাজামের হাতে সার্জনের ছুরি: http://www.ali-mahmed.com/2009/09/blog-post_9089.html
৩. যৌবনযাত্রার লেখাটা:

Thursday, December 11, 2014

মিডিয়ার মুখে ছাই...।

‘শত্রুর মুখে ছাই’, বাংলা ভাষায় চালু একটা বাক্য। এই বাক্যটা ধার করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিল। তবে খানিকটা বদলে, মিডিয়ার মুখে ছাই...
সুরুয মিয়া মৃত্যুর অপেক্ষায় নামের লেখাটায় [১] আমি লিখেছিলাম: “...এই দীর্ঘ এক মাস পার হওয়ার পরও পত্রিকার লোকজন কোনও প্রকারেই এটা নিয়ে কাজ করার বিন্দুমাত্র আগ্রহ বোধ করেননি। কেন? তারা কী সুরুযের মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছেন? আচ্ছা,সুরুযের মৃত্যু কি তাকে পত্রিকায় স্থান দেবে? আশা করছি দেবে। তাহলে এটা হবে সুরুযের জন্য অতি আনন্দের একটা সংবাদ নিঃসন্দেহে। সুরুয মরিয়া প্রমাণ করিল সে পত্রিকায় চেহারা দেখাবার যোগ্য।...”

কিন্তু আজ আমি অতি দুঃখের সঙ্গে মিডিয়াকে জানাচ্ছি যে সুরুয বাঁচিয়া প্রমাণ করিলেন তিনি মরেন নাই। আফসোস, না-মরে তিনি মিডিয়াকে অনেকখানি বেকায়দায় ফেলে দিয়েছেন। ছি! সুরুয নামের লোকটার বিবেক বলে কিছু আছে বলে তো মনে হয় না! কেননা, সুরুয মিয়া না-মরা পর্যন্ত তো তাকে নিয়ে নিউজ করার কোনও সুযোগ নাই। আর সেটা তো মারা য্ওয়ার পরই কেবল সম্ভব। তখন নিউজ মানে লাইনেজ হিসাবে টাকা। পাল্লা দিয়ে নিউজের লাইন বাড়বে টাকাও বাড়বে। আর যদি অফিস ছবি ধরে ফেলে তাহলে ছবির জন্য আলাদ থোক টাকা।

এ সত্য, সুরুয মিয়ার মৃতদেহের ছবি ছাপাবার কোনও সুযোগ এখানে নাই, এটা তো অপঘাতে মৃত্যু না। এখানে ভিন্ন পথ ধরতে হবে। ক্যামেরা তাক করে রাখতে হবে সুরুয মিয়ার স্ত্রী এবং মার দিকে। মার ছবি তুলতে হয়তো অনেকে আগ্রহ বোধ করবেন না কারণ কোঁচকানো চামড়ার ছবি ভাল আসবে না। ওহো, ক্যামেরা তাক করে বসে থাকলেই তো হবে না বুকফাটা কান্নার ছবি যে বড়ো প্রয়োজন। না-হলে তো পাবলিক খাবে না। কী উপায় তাহলে? মহিলাকে কাঁদাবার চেষ্টা করতে হবে, সবিরাম। প্রশ্নের পর প্রশ্ন ছুড়ে দিতে হবে। চালু প্রশ্ন, ‘স্বামী হারিয়ে আপনার অনুভূতি কি এখন’? এই সব।

পূর্বের লেখায় আমি লিখেছিলাম [১], বিনাকারণে পুলিশ নির্যাতন করে সুরুযের কেল হাড়ই (কলার বৌণ) ভেঙ্গে দেয়নি, কিছুদিন পূর্বে অপারেশনের জায়গাটার পেছনে অমানুষিক শক্তিতে মারার কারণে সুরুয মিয়ার মলদ্বার দিয়ে অনবরত রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। রক্তশূণ্যতায় তার মারা যাওয়ার উপক্রম।
সুরুয মিয়াকে পাঠানো হয়েছিল জেলার নামকরা সার্জন আমানুল্লাহ আমানের কাছে। প্রেসক্রিপশনে একগাদা ওষুধের সঙ্গে তিনি পরিষ্কার লিখে দিলেন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অপারেশন করতে হবে। এর কোনও বিকল্প নাই। ডাক্তার তো বলে খালাস কিন্তু অপারেশনের টাকা আসবে কোত্থেকে?
এই নিয়ে আমি লেখা দিতে গিয়েও দিলাম না কারণ এখন পাঠক আমার লেখা নিয়ে আতংকে থাকেন। এই রে, ব্যাটা বুঝি আবার ‘ট্যাকাটুকা’ চাইবে।

যাই হোক, দু-দিন পূর্বে সফল ভাবে আমানুল্লাহ আমান সুরুয মিয়ার অপারেশন করেন। এই সার্জনের কাছে আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি কারণ তিনি সুরুযের প্রতি মমতার হাত অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছেন। অপারেশনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে, ওষুধে ছাড় দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। আমি গভঅর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি এই প্রজন্মের একজন জহরলাল সাহার প্রতি যে যুবকটি না-থাকলে হয়তো সুরুযকে বাঁচানো যেত না।

সব কিছুর শেষে সুরুয এখন ভাল আছেন। হায়, ভাল নেই যে মিডিয়া- ওরে, সব আয়োজন যে মাঠে মারা গেল! মিডিয়ার জন্য আমার অমায়িক সমবেদনা রইল।

সহায়ক সূত্র:
১. সুরুয মিয়ার মৃত্যুর অপেক্ষা: http://www.ali-mahmed.com/2014/12/blog-post.html
...
আপডেট (১২.১২.১৪)
সফল অপারেশনের পর আজ হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন সুরুয মিয়া। তার কর্মস্থলের সামনে...।
 

Tuesday, December 9, 2014

গুন্ডামি!

ছবি সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো
কাল (৮ ডিসেম্বর ২০১৪) প্রথম আলোর প্রথম পৃষ্ঠায় ছাপা হয়েছে শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত ) হাবিল হোসেন বিক্ষোভরত এক ছাত্রীকে পেছন থেকে লাথি মেরে ফেলে দিয়েছেন।

এমন কিছু দৃশ্য পূর্বে যে দেখিনি এমন না কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কনস্টেবল টাইপের লোকজনকেই দেখতাম। অল্প শিক্ষিত ওই সমস্ত লোকজনের শিক্ষায় বিস্তর গলদ থাকে কেবল এই-ই না এদের আরও অনেক সমস্যাও আছে। আমি এদের দোষ কাটাবার চেষ্টা করছি না- কনস্টেবলদের অনেককে ১৮ ঘন্টা ডিউটিও করতে হয় তারপর অনেকে ঘুমাবার জায়গা নিয়েও সমস্যায় ভোগেন। একজন ঘুম থেকে উঠলে সেই জায়গা খালি হলে অন্যজন ঘুমাবে। তো, মেজাজ থাকে টং- ব্যস, সুযোগ পেলাম সমস্ত ক্ষোভ উগরে দিলাম।

কিন্তু আমাদের এই অফিসার সাহেবকে দেখে তো মনে হচ্ছে অভিজাত টাইপের একজন মানুষ! এমন একজন মানুষ গুন্ডামি-মাস্তানি করবেন এটা তার পেশা, চেহারার সঙ্গে মোটেও মিশ খায় না। আমি কেবল চোখ বন্ধ করে কল্পনা করার চেষ্টা করে শিউরে উঠি; শত-শত মানুষ, অসংখ্য মিডিয়ার সামনে দিনের বেলায় যদি পুলিশ এমন আচরণ করতে পারে তাহলে লোকচক্ষুর অন্তরালে, রাতের অন্ধকারে পুলিশ কী না করতে পারে! 

ওয়েল, এমন এটা অসভ্য আচরণ করার পরও এই মানুষটাকে চাকুরিচ্যুত করে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে সমস্যা কোথায়? হুমম, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বেতনভুক্ত কর্মচারি হলে সমস্যা নেই কিন্তু দলীয় লোক হলে সমস্যা আছে।
ছবি সূত্র: দৈনিক কালের কন্ঠ
যেমনটা আমরা দেখেছি, গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি এ কে এম নাসির উল্লাহ-এর বেলায়। তিনি পোশাক পরেছেন বাংলাদেশ সরকারের কিন্তু শ্লোগান দিচ্ছেন আওয়ামী লীগের।

Sunday, December 7, 2014

এই গ্রহের সবচেয়ে নির্বোধ যে মানুষটা...।

কখনও-কখনও আমাকে এই প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়, নিজের সম্বন্ধে আপনার কি ধারণা?
যেটা সত্য আমি সেটাই বলি, এই গ্রহের সবচেয়ে নির্বোধ মানুষটা আমি নিজে। কারণ আমি স্মোক করি।

Saturday, December 6, 2014

চিংগুরা দেশের শিক্ষামন্ত্রী!!

‘চিংগুরা’ দেশ নিয়ে পূর্বেও কিছু লেখা লিখেছিলাম। চিংগুরা দেশটা ঠিক কোথায় এটা কেউ-কেউ জানতে চেয়েছিলেন। আগেও বলেছি ম্যাপটা জরাজীর্ণ হএয়ার কারণে স্পষ্ট করে বলতে পারিনি তবে যতটুকু মনে পড়ে এটা ‘বাংগুরা’ দেশের পাশেই।
চিংগুরা দেশটা জ্ঞান-বিজ্ঞান, সভ্যতায় পৃথিবীর অন্যান্য দেশ থেকে অনেকটা এগিয়ে ছিল। না, ভুল বললাম। সমস্ত দিক দিয়ে গোটা গ্রহের সমস্ত দেশ মিলিয়েও চিংগুরার ধারেকাছেও ছিল না।

আর চিংগুরা দেশের একেকটা আইডিয়া- আহা, কী অতুলনীয়, অভূতপূর্ব! কেবল শিক্ষাব্যবস্থার কথাই যদি বলি...। ১০০ জন পরীক্ষা দিলে ১০২ জন পাশ করত! পাশ দিতে দিতে চিংগুরা দেশে পাশ দেওয়ার ছেলেপেলের বিকট অভাব দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিল। ওই দেশের শিক্ষামন্ত্রীর মন্ত্রীত্ব যায় যায় অবস্থা। না-গিয়ে উপায় কী! শিক্ষা দেওয়ার মত ছেলেপেলে না-থাকলে মন্ত্রী কোন কাজের? চিন্তায়-চিন্তায় কেশ হয় পগারপার! অনেক মাথা খাটিয়ে জটিল আঁক কষে শিক্ষামন্ত্রী একটা উপায় বের করলেন। পরীক্ষার সময় মোবাইল ফোন এবং ফেসবুক বন্ধ করে দেওয়া সিদ্ধান্ত নিলেন।
পাঠকের বোঝার সুবিধার্থে মোবাইল ফোন এবং ফেসবুক শব্দটা ব্যবহার করেছি। সত্যি বলতে কি, চিংগুরা দেশে মোবাইল ফোন নামের কোনও জিনিস ছিল না- মোবাইল ফোনের বদলে ‘কবুতরফোন’ ব্যবহার করা হতো। কবুতরের পায়ে একটা জমাট দুধের খালি চোঙা বেঁধে দেওয়া হতো। কবুতর প্রেরকের ওই চোঙা নিয়ে প্রাপকের কাছে উড়ে যেত। এরপর প্রাপক ওই চোঙায় মুখ লাগিয়ে...। এটা একটা জটিল প্রক্রিয়া এর বিশদ বুঝিয়ে বলার সাধ্য আমার নাই। আর সেদেশে ফেসবুকও ছিল না। রোদে বসে একজন অন্যজনের মাথার উকুন বাছতে বাছতে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করত। ওটারনাম ছিল ‘ফ্রেসমুখ’।

যাই হোক, এ তো কেবল তবলার ঠুকঠাক, কেবল শুরু। ক্রমশ যে পরীক্ষার সময় আপিস-আদালত বন্ধই না কারফিউ ঘোষণা করা হবে এ তো আর সাধারণ মানুষের জানার কথা না। পরীক্ষা চলাকালীন ক্রমশ কারফিউ ঘোষণা করা হবে, কারও ঘর থেকে বেরুবার যো থাকবে না। তখন কেবল একটাই কাজ...।

কেন এই সমস্ত উদ্যোগ? এই নিয়ে চিংগুরা দেশের লোকজনেরা একে অপরের মাথার উকুন বাছার সময় সামাজিক আলোচনায় মগ্ন হয়ে চুল ছিঁড়বে কিন্তু কোনও সমাধানে পৌঁছতে পারবে না। কিন্তু কোনও এক বিচিত্র কারণে সেই দেশের জনসংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়বে। নিয়ম করে পরীক্ষা দেওয়ার চেলেপেলেদের অভাব আর থাকবে না। সেই দেশে আনন্দই আনন্দ।

Thursday, December 4, 2014

হ্যাপি ফ্যামেলি।

মাহবুবকে হুইল -চেয়ার [১], [২] দেওয়ার পর-পরই একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সহৃদয় মানুষ, মাহবুব এবং তার বোন তানিয়ার জন্য এক বছরের পড়ার খরচ পাঠিয়েছিলেন। অতি সুখের বিষয় আজকাল নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মানুষের সংখ্যা ক্রমশ বেড়ে যাচ্ছে :) ।
তানিয়ার ঘটনাটা পূর্বের লেখায় বলেছিলাম ওর এক ক্লাস উপরে থাকার কথা কিন্তু ভাইয়ের জন্য সে একই ক্লাসে রয়ে গেছে!

যাই হোক, ওই সহৃদয় মানুষের কাছে আমি বড়ই সরমিন্দা কারণ পুরো প্রক্রিয়াটা শেষ করতে সময় লেগে গেল। আমি টাকাটা এই পরিবারের হাতে দিতে চাচ্ছিলাম না কারণ এদের অভাবের সংসার, দেখা গেল টাকাটা খরচ হয়ে গেল। এদিকে স্কুলের আবার নিয়ম বার্ষিক পরীক্ষার পূর্বে এরা সমস্ত হিসেব-নিকেষ করতে বসে। ডিসেম্বরের জন্য অপেক্ষা করা ব্যতীত উপায় রইল না। তো, এই ডিসেম্বরে বার্ষিক পরীক্ষার পূর্বে স্কুলের যাবতীয় খরচ পরিশোধ করার পর মাহবুব এবং তানিয়ার আর পরীক্ষা দিতে কোনও সমস্যা রইল না। পরীক্ষা শুরু হয়েছে। সুখের বিষয় মাহবুব এবং তানিয়া পরীক্ষা দিচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই মানুষটার প্রতি কেমন করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি?
‘হ্যাপি ফ্যামেলি’ নামটা সম্ভবত ঠিক মানানসই হলো না। কারণ ছবিতে এই পরিবারের বাবাটাকে দেখে মনে হবে ভারী বিষণ্ণ, বুকে পাথর চেপে আছেন। বা ছেলে-মেয়েরা পরীক্ষা দিতে পারছে এটা তার কাছে বড়ই নিরানন্দ ঘটনা! খবরের পেছনে যেমন খবর থাকে তেমনি ঘটনার পেছনে ঘটনা। সেই ঘটনাটা বলাটা আমার জন্য খানিকটা বিব্রতকর। অসমীচীন ও অন্যায়ও বটে। জীবনে কতো বড়-বড় অন্যায় করে ফেলেছি ছোট্ট একটা অন্যায় নাহয় করলামই।
ভদ্রলোকের সামনের পাটির দাঁত নাই...।

সহায়ক সূত্র:
১. ডানা-ভাঙ্গা পাখি: http://www.ali-mahmed.com/2014/09/blog-post_20.html
২. আলোর পথে গুহামানব: http://www.ali-mahmed.com/2014/09/blog-post_24.html  

Monday, December 1, 2014

সুরুয মিয়ার মৃত্যুর অপেক্ষা!

সুরুয মিয়া অতি তুচ্ছ (!) একজন মানুষ। চাকরি করেন টেকনিকাল মাদ্রাসায় নৈশ প্রহরীর। এই সব মানুষদের ক-পয়সাই বা দাম আর এই সমস্ত মানুষদের নিয়ে যারা লেখেন তাদেরই বা ক-টাকা দাম?

৩ নভেম্বর রাত। সুরুয মিয়া মাদ্রসায় দায়িত্বরত। গভীর রাতে মাদ্রাসার দেয়াল টপকে সাদা পোশাকে কয়েকজন প্রবেশ করে জোর করে সুরুয মিয়াকে কলাপসিবল গেট খুলতে বাধ্য করে। বাইরে দাঁড়ানো একজন এস, আইয়ের সঙ্গে কয়েকজন পুলিশ। শুরু হয় সুরুয মিয়াকে বেধড়ক মার। পুলিশের বক্তব্য সুরুয মিয়া চুরি করেছে। যেটা পরে প্রমাণিত হয় সবুজ নামের অন্য একজন চুরি করেছে। এদিকে সবুজের সঙ্গে সুরুয নাম গুলিয়ে সুরুযকে পুলিশ ধরেছে।

সুরুযকে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়। সঙ্গে নিয়ে যায় সুরুযের মোবাইল ফোন, ৪৮০ টাকা এবং তার তার ছোট্ট মেয়ে পায়ের নুপুর! নিয়ে যাওয়ার সময় এলাকার লোকজন বাধা দিলে পুলিশ গুলি করারও হুমকি দেয়। থানায় সুরুযকে নির্মম ভাবে প্রহার করে ভেঙ্গে দেওয়া হয় তার ‘কলার-বৌন’। সুরুযকে যখন নিতম্বে মারা হচ্ছিল তখন সুরুয কাতর কন্ঠে অনুরোধ করেছিলেন এটা জানিয়ে যে মাত্র অল্প দিন পূর্বে তার পাইলসের অপারেশন হয়েছে। পুলিশ শোনেনি তার অনুরোধ। সুরুযের এই অনুরোধের পরও তার নিতম্বে প্রচন্ড শক্তিতে প্রহার করা হয়।

এই মাদ্রসার অধ্যক্ষকে পুলিশ জামাতের সঙ্গে জড়িয়ে বিদায় করে দেয়। অবশেষে প্রভাবশালী সহৃদয় একজন মানুষের কারণে সকালে সুরুযকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কারণ ছেড়ে না-দিয়ে পুলিশের উপায় ছিল না। যে চোর ধরা পড়েছিল সে এবং মামলার বাদিও একবাক্যে বলে যে এই চুরির সঙ্গে সুরুয জড়িত না, চুরি করেছে সবুজ। ছেড়ে দেওয়ার সময় সুরুযের মা যখন সুরুযকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছিলেন তখন পুলিশ সুরুযের মাকে বলে, তুমি একটা চোরের জন্য কাঁদছ!
(এই ঘটনার সমস্ত তথ্য-উপাত্ত নেওয়া হয়েছে সুরুয মিয়া এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের লিখিত এবং ধারণকৃত বক্তব্য থেকে। )

সহজ-সরল একটা ঘটনা কারণ এটা আমাদের দেশে অভূতপূর্ব কোনও ঘটনা না। কিন্তু ঘটনা যেটা সেটা হচেছ এখানে প্রায় সমস্ত পত্রিকার সংবাদদাতারা রয়েছেন কিন্তু কেউই এই বিষয়ে গা করেননি। প্রভাবশালী একটি পত্রিকার প্রতিনিধি আমাকে জানালেন, এরইমধ্যে চার-পাঁচ দিন চলে গেছে এখন তো আর পত্রিকা এ নিউজ ধরবে না। সঙ্গে মাগনা এই তথ্যও দিলেন যে সুরুয লোক হিসাবে মন্দ।
বেশ-বেশ, অতি উত্তম। তা এই দেশে কে কতটা ভাল? শ্লা, আমিই কী ভাল মানুষ! তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম সুরুয লোক ভাল না, তো? দেখার বিষয় এই ঘটনায় সুরুয সম্পৃক্ত কি না এবং তার প্রতি অন্যায় হয়েছে কি না? উত্তরটা যদি হ্যাঁ হয় তাহলে সুরুয মন্দ নাকি গন্ধ সেটা এখানে আলোচ্য বিষয় না।

যাই হোক, সুরুয মিয়া তিন-তিনবার হাসপাতালে ভর্তি হন। ৩ নভেম্বরে ২০১৪-এ একবার। অবস্থার অবনতি হলে এই মাসেরই ১৬ নভেম্বরে আরেকবার। সর্বশেষ হাসপাতালে ভর্তি হলেন ২৭ নভেম্বর। শেষবার তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন মুমূর্ষু অবস্থায় কারণ পাইলসের অপারেশনের পরই তার নিতম্বে অমানুষিক শক্তিতে আঘাত করার কারণে তার মলদ্বার দিয়ে অনবরত রক্ত পড়া শুরু হয়। রক্তশূন্যতার কারণে রক্ত দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও দেখা দেয়।
 
এই দীর্ঘ এক মাস পার হওয়ার পরও পত্রিকার লোকজন কোনও প্রকারেই এটা নিয়ে কাজ করার বিন্দুমাত্র আগ্রহ বোধ করেননি। কেন? তারা কী সুরুযের মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছেন? আচ্ছা,সুরুযের মৃত্যু কি তাকে পত্রিকায় স্থান দেবে? আশা করছি দেবে। তাহলে এটা হবে সুরুযের জন্য অতি আনন্দের একটা সংবাদ নিঃসন্দেহে। সুরুয মরিয়া প্রমাণ করিল সে পত্রিকায় চেহারা দেখাবার যোগ্য।

এই দেশটা এখন হয়ে গেছে একটা মগের মুল্লুক! আমিও মগের মুল্লুকেরই অধিবাসী একজন ‘মগা’ বিধায় অপেক্ষা করছি সুরুযের মৃত্যুর জন্য। তখন হয়তো একটা রগরগে, অতি আবেগপ্রবণ একটা লেখা লিখে ফেলব...।
...
04.12.14: আপডেট
অনবরত রক্তক্ষরণ বন্ধ না-হওয়ার কারণে সুরুয মিয়া ২রা ডিসেম্বর আবারও হাসপাতালে দারস্থ হন কিন্তু তাকে এখানে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়নি। উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।