Wednesday, November 12, 2014

“ফান্দে পড়িয়া বগা...।”

আমাদের মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করা হয় যেখানে দেবতাও কোন ছার! এই সব করে-করে আমাদের এই অতি গৌরবের জায়গাটা এই প্রজন্মের কাছে কালে কালে হাস্যকর হয়ে পড়ে। ছোট্ট একটা উদাহরণ দেই: 
একজন মুক্তিযাদ্ধাকে নিয়ে কাজ করার সুবাদে তাঁর সম্বন্ধে আমার প্রচুর জানা হলো। যেটা জানা হয়নি সেটা জেনেছিলাম পত্রিকা পড়ে। পত্রিকা বলে কথা! যেটা আমি জানতে পারিনি সেটা আমি পত্রিকায় পড়লাম, কি পড়লাম? ওই ভদ্রলোককে নিয়ে ‘দৈনিক ইত্তেফাক’ দুর্ধর্ষ এক লেখা ছাপল, ইনি নাকি যুদ্ধের সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন বোনাস হিসাবে হাবিজাবি আরও অনেক কিছু। ইত্তেফাক জানাল, ১৯৭১ সালে তিনি পড়াশোনা ফেলে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। অথচ এই ভদ্রলোক নিরক্ষর [১]। নিরক্ষর একজন মানুষ মুক্তিযোদ্ধা হলে সমস্যা কোথায়? কারও কোনও সমস্যা নেই। সমস্যা মিডিয়ার। সত্যের সঙ্গে বিস্তর কল্পনা না-মেশালে এদের বাথরুমে সমস্যা হয়। বাথরুম তখন হলুদ না-হয়ে কালো হয়। আসলে হলুদ জিনিসটা মিডিয়া দেখতে পারে না কারণ হলুদের সঙ্গে মিশে আছে ‘হলুদ সাংবাদিকতা’। 

প্রথম আলো কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায়ের পরই তড়িঘড়ি করে ছাপাল, “...সোহাগপুরের বিধবারা...”। এরা বিধবাদের যে ছবি ছাপিয়েছে এটা যে আয়োজন করে, অনেক দু-নম্বুরি করে তোলা ছবি এটা একটা শিশুরও অবোধ্য থাকার কথা না। এই ফটোসেশন করতে গিয়ে যে এরা বিস্তর পরিশ্রম করেছে এটা বোঝার জন্য রকেটবিজ্ঞানী হওয়া লাগে না। সবাইকে জড়ো করেছে, একই রঙের শাড়ি পরিয়েছে তারপর দেশবাসীর কাছে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। একই রঙের শাড়ির শানে-নযুল কী! এমনটা না-করলে কী সমস্যা ছিল! কোনও সমস্যা ছিল না বরং এটা করতে গিয়ে এদের এই প্রতিবেদনের উপর ভরসা করতে ভরসা হয় না।
ছবি ঋণ: প্রথম আলো
প্রথম আলোর এই কর্মকান্ডকে আমার কাছে মনে হয়েছে স্রেফ একটা চরম অপদার্থগিরি। এরা ওই গ্রামের সহজ-সরল বয়স্ক মানুষদের নিয়ে যে আচরণটা করেছে এটা স্রেফ একটা কদর্য আচরণ। ছোটলোকের আচরণ! একটা অন্যায়, বিকট অন্যায়।
গ্রামের সহজ-সরল এই বয়স্ক মানুষদেরকে না-হক দোষ দিয়ে লাভ নেই কারণ প্রথম আলো এমন হলুদ সাংবাদিকতা যে এবারই করেছে এমন না। এবং এতে সানন্দে যোগ দেন ঝুলেপড়া গোঁফ এবং ঝুলেপড়া ইয়ের... আমাদের দেশের বুদ্ধিবাজ মহোদয়গণ। এমন অজস্র উদাহরণ আছে। আমি কেবল একটা উদাহরণ দেই। শপথবাজির খেলা দেখাতে গিয়ে এরা শিক্ষাবিদ আনিসুজ্জামানকে সঙ্গে নিয়ে আমাদেরকে বোকা বানিয়েছ [২]

প্রথম আলো গংদের ধারণা পাঠক তাদের ব্রেন এদের আপিসে জমা রেখে পত্রিকা পড়তে বসে! ভাবখানা এমন, এরা চামুচে করে আলকাতরা খাওয়ালে পাঠক সেটাও বিমল আনন্দে চপচপ করে খাবে! প্রথম আলো তাদের ওয়েব ভার্সান পত্রিকায় এই প্রতিবেদনটা ছাপালে, “কামারুজ্জামানের ফাঁসি দ্রুত কার্যকর চান সোহাগপুরের বিধবারা” (http://m.prothom-alo.com/bangladesh/article/362062 ) সেখানে পাঠক এদের পছন্দমতই মন্তব্য করেছেন কিন্তু এই প্রতিবেদনটাই ফেসবুকে শেয়ার করার পর ( https://m.facebook.com/DailyProthomAlo/photos/a.215619841804443.61850.163059227060505/874860285880392/ ) পাঠক নির্দয় ধোপার ভঙ্গিতে আচ্ছা করে ধুয়েছেন (মন্তব্য দ্রষ্টব্য)- সাবান, সোডা কোনটারই কমতি ছিল না।

মুক্তিযুদ্ধ এখন অনেকের কাছে একটা ব্যবসা, স্রেফ ব্যবসা। আসল মুক্তিযোদ্ধারা ক্রমশ একেক করে দেহত্যাগ করছেন। আফসোস, এঁরা মরেও শান্তি পাবেন না। এটা অনুমান করাটা দোষের হবে না, মাটি খুঁড়ে এদের লাশ উধাও হয়ে যাবে। একদা এদের হাড়গোড় নিয়েও চমৎকার ব্যবসা হবে। 

১. http://www.ali-mahmed.com/2011/03/blog-post_26.html
২. http://www.ali-mahmed.com/2010/01/blog-post_03.html

No comments: