Sunday, November 30, 2014

সব্ই পণ্য, বিক্রির জন্য।

‘জননী’ [১] লেখাটায় লিখেছিলাম, “...আর এই মহিলাটির কথাও ঘুরে ঘুরে আসে, তার এই মমতার উৎস কী? এই মহিলার সঙ্গে কখনও বাচ্চাকাচ্চা দেখিনি-তবে কী অদেখা সন্তানের মায়া ঝপ করে নেমে আসে!।”

মাত্র ২৪ ঘন্টার মধ্যে আজ আমাকে এই লেখাটা লিখতে হবে এটা আমার কল্পনাতেও ছিল না! আমার জন্য এ বেদনার, বড় কষ্টের। কখনও-কখনও বাস্তবতাকে মেনে নিতে মন সায় দেয় না। চোখের দেখা তথ্য গ্রহণে মস্তিষ্ক আগ্রহ দেখায় না। এটাও মনে হয়েছিল, থাক, এই বেদনার কথা পাঠককে জানিয়ে কাজ নেই। কিন্তু এই ভাবনা থেকে সরে আসতে হলো কারণ আনন্দের গল্প শেয়ার করলে বেদনার কেন নয়?

‘জননী’ লেখাটা যাকে নিয়ে সেই মহিলাকে আজ দেখা গেল অতি ব্যস্ত রাস্তায় চট বিছিয়ে রোদে এই শিশুটিকে ফেলে রেখে চিকিৎসার নাম করে টাকা উঠাতে। ভঙ্গি একই কেবল লোক বদলেছে! আসলে শারীরিক অসুবিধাসম্পন্ন এই শিশুটি কেবল একটা লাভজনক পণ্য। মানুষ বদলায় কিন্তু শিশুটির নিয়তির কোনও হেরফের হয় না।
এবার জরুরি আলাপটা সারি, এই শিশুটির জন্য একটা নিরাপদ আশ্রয়ের প্রয়োজন, ‘শেল্টার হোম’ টাইপের কিছু একটা। এই বিষয়ে সহায়তা চাচ্ছি। কারও কি জানা আছে এমন কোনও শেল্টার হোমের খোঁজ। দয়া করে কোনও একটা ব্যবস্থা কি করে দিতে পারেন কেউ?

১. জননী: http://www.ali-mahmed.com/2014/11/blog-post_45.html 

Saturday, November 29, 2014

জননী।

স্টেশনে শারীরিক অসুবিধাসম্পন্ন এই শিশুটিকে পূর্বে কখনও দেখেছিলাম সম্ভবত, খুব ভাল খেয়াল নেই! এর সঙ্গের লোকজন চিকিৎসার নাম করে টাকাপয়সা উঠাতো। চিকিৎসার নাম করে টাকাপয়সা উঠিয়ে কারও-কারও রুজিরোজগার মন্দ হয় না।
সোজা কথায় শিশুটি একটি পণ্য, লাভজনক পণ্য। সবই পণ্য, বিক্রির জন্য।

আজ একে দেখলাম প্ল্যাটফর্মে পড়ে আছে, গায়ে একটা সুতোও নেই। ভাতবিক্রেতা মহিলাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানালেন এই শিশুটির বাবা একে ফেলে গেছে, উধাও! স্টেশনেরই একজন রোগা-রোগা কালোমতন মহিলা নাকি একে গোসল করিয়েছেন, ভাত খাইয়েছেন। আমার বিস্ময়ের শেষ নেই কারণ এই মহিলাকে আমি প্রায়ই দেখি, এর তো নিজেরই থাকা-খাওয়ার ঠিকঠিকানা নেই। অথচ এই মানুষটাই শিশুটির দায়িত্ব নিয়েছেন এটা সমস্ত অংক এলোমেলো করে দেয়। এই মহিলা আমাকে বারবার এটা বলতে লাগলেন এর দায়িত্ব নিয়ে তিনি না কোনো প্রকারের ঝামেলায় পড়েন।

স্টেশনে তখন আমি একজন দায়িত্বশীল মানুষের দেখা পেয়ে গেলাম। রেলওয়ের গোয়েন্দা কর্মকর্তা। মানুষটা অন্য একজনের সঙ্গে দাঁড়িয়ে যেখানটায় চা খাচ্ছেন, এই শিশুটির কাছ থেকে সামান্যই দূরে। আমি তাকে বললাম একটু এসে এই শিশুটিকে দেখে যেতে। বিস্তর চাপাচাপি করেও এই ভদ্রলোকটার (!) পা ফাঁক করানো গেল না! যদি শিশুটিকে দেখে ফেললে বাড়তি কোনও দায়িত্ব চাপে, তাই। আমাকে পরামর্শ দিলেন জিআরপি ওসির কাছে লিখিত আকারে জানাতে। এই বিষয়ে আমার পূর্ব অভিজ্ঞতা বড়ই তিক্ত। একবার ও-রাস্তা মাড়ালে জীবনটা ভাজা-ভাজা হয়ে যাবে। এমন সব প্রশ্ন করা হবে যেটা আমি তো দূরের কথা শিশুটির বাপও জানে কিনা সন্দেহ।
এই গোয়েন্দাপ্রবরকে দেখে কেবল এই ভাবনাটাই কাজ করছিল রেলওয়ে এদের পোষে কোন কাজে? এরপর আমি অন্য রাস্তা ধরলাম। সেই রাস্তার অলিগলির খোঁজ দিতে চাই না, ‘অসুবিদা’ আছে।

এই সমস্যা সমাধানের পর চটজলদি এই শিশুটির জন্য কিছু গরম কাপড়-টাপড়ের প্রয়োজন দেখা দিল। এহ রে, খানিক ঝামেলা হয়ে গেল। মাসের শেষ, টানাটানি চলছে। উপায় একটা বের হয়, কাজ তো থেমে থাকে না। নাদুসনুদুস একজনকে গড়িয়ে গড়িয়ে আসতে দেখে স্বস্তির শ্বাস ফেললাম। এই মানুষটার সঙ্গে আমার হৃদ্যতা আছে এবং পূর্বের কিছু ঘটনাও আছে, সে অন্য প্রসঙ্গ।
আমি ঝলমলে মুখে বললাম, ‘আরে-আরে, কি খবর- আমি তো আপনাকেই খুঁজছি’। মানুষটা মুখ একহাত লম্বা করে কষ্টার্জিত হাসি হাসলেন কারণ তিনি এটা বিলক্ষণ জানেন তাকে খোঁজাখুঁজি করার পেছনে আমার কোনও-না-কোনও একটা ঝামেলা জড়িয়ে আছে। আমি আবারও বললাম, ‘আরে-আরে, কী কান্ড, আপনার স্বাস্থ্য যেহারে বাড়ছে...’।
তিনি আমাকে কথা শেষ করতে দিলেন না হাত তুলে থামিয়ে বিরস মুখে বললেন, ‘ব্যস-ব্যস, আর বলতে হবে না। রাস্তাঘাটে চলতে গিয়ে চট করে সরতে পরব না, কোনও একটা গাড়ি চাপা দিয়ে চলে যাবে, এইসব তো। তা আপনার কত টাকা দরকার’?

আমি বিষম চিন্তায় পড়ে গেলাম। জনে-জনে লোকজন যেভাবে আমার চাল বুঝে ফেলছে এ তো বিরাট সমস্যা,ভবিষ্যৎ অন্ধকার! যাই হোক, মানুষটার কল্যাণে এই শিশুটির জন্য কম্বল, গরম কাপড়ের ব্যবস্থা হয়। স্টেশনে যে মহিলা ভাত বিক্রি করেন তাকে বলে নিয়মিত ভাত খাওয়ার একটা ব্যবস্থাও হলো। ফিরে আসতে আসতে আমার মাথায় যেটা ঘুরপাক খাচ্ছিল সব মিলিয়ে নড়বড়ে একটা ব্যবস্থা হলো বটে কিন্তু এটা তো কোনও স্থায়ী সমাধান না। আর এই মহিলাটির কথাও ঘুরে ঘুরে আসে, তার এই মমতার উৎস কী?
এই মহিলার সঙ্গে কখনও বাচ্চাকাচ্চা দেখিনি-তবে কী অদেখা সন্তানের মায়া ঝপ করে নেমে আসে!।

আমাগো জুতাওয়ালা!

ছবি সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন, ২৬ নভেম্বর, ২০১৪
যে ভঙ্গিতে মিডিয়াগুলোয় জুতা এবং বিস্তৃত দন্তরাজিসহ যে ছবি এসেছে, দেখে মনে হচ্ছে, এরা উঠেপড়ে লেগে গেছেন এটা প্রমাণ করতে নিজেদের জুতার কারখানা থেকে যে জুতা প্রস্তুত করেছেন তা বড়ই টেকসই, বিশ্বমানের...।

লতিফ সিদ্দিকীকে আদালতে আইনজীবীরা জুতা দেখিয়েছেন এটাকে কিছু মিডিয়া আবার অনাবশ্যক ভাবে তাদের করা প্রতিবেদনের ঢুকিয়ে দিয়েছে আবার কেউ-কেউ খুব ‘শাবাসী’ দিয়ে ছাপিয়েছে। ভাবখানা এমন, খুব একটা কাজের কাজ হয়েছে, যাহোক! এই সমস্ত মিডিয়ার যুক্তি হয়তো এমন, কোনও পেশার আচরণবিধির কোনও বালাই থাকতে নেই। তাই তো, সন্তানহারা মার মুখের সামনে ‘বুম’ ধরে এরা অবলীলায় জিজ্ঞেস করতে পারেন, আপনার অনুভূতি কেমন?
কে জানে, এরা হয়তো কোনও একদিন অফিসের টেবিলে গামলায় করে বাথরুম থেকে এক খাবলা ‘হলুদ ফুল’ এনে রেখে দেবেন এই যুক্তিতে, আহা, শরীরসংক্রান্ত বিষয় যে ফেলতে বড়ই মায়া লাগে। আমাদের সবচেয়ে আস্থার জায়গাটায় যখন জুতা প্রদর্শনের এমন ঘটনা ঘটে তখন বিমর্ষ হই কিন্তু মিডিয়া যখন এটাকে পজিটিভ ভাবে দেখাবার চেষ্টা করে তখন আতংকিত হই!

এ আর বলার অপেক্ষা রাখে না আদালতে এহেন ঘটনা কোনো প্রকারেই কাম্য না। সাধারণ মানুষ যখন এটা করে তখন আমরা খানিকটা অবহেলার দৃষ্টিতে দেখার চেষ্টা করি কিন্তু যখন কতিপয় আইনজীবী আদালতে প্রকাশ্যে এই কান্ড করেন তখন দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলি, শেষ পর্যন্ত ‘আইনজীবীট্রাস’, তুমিও! আদালতের মর্যাদা সমুন্নত রাখাই যাদের কাজ, তাঁরা কেমন করে সচেষ্ট হন আদালতকে এমন অমর্যাদায় ভাসিয়ে দিতে? আমরা ভুলিনি এদের অগ্রজরাই যে সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতির দরোজায় লাথি মেরেছিলেন? আদালত অন্ধ- এই আইজীবীরাই হাত ধরে ধরে আদালতকে চেনান এটা আলো, এটা অন্ধকার, এটা সত্য এটা অসত্য। অন্ধ আদালত ক্রমশ চোখ মেলে তাকায়। তদুপরি এই আইনজীবীরা কেমন সহজেই বিস্মৃত হলেন তাঁদের শপথের কথা? THE BANGLADESH LEGAL PRACTITIONERS AND BAR COUNCIL ORDER AND RULES, 1972-এর 62(2) এর শপথনামায় বলা হচ্ছে, OATH OF ADVOCATE:
“I, … … … … … … … … … … … … ... DO HEREBY SOLEMNLY TAKE THE OATH OF AN ADVOCATE AS I UNDERTAKE TO UPHOLD AT ALL TIMES THE DIGNITY AND HIGH STANDING OF MY PROFESSION, ... ...I WILL NOT COLLABORATE IN ANY ACTION WHICH VIOLATES THE CONSTITUTION. I WILL ALWAYS BE VIGILANT IN THE PROTECTION OF HUMAN RIGHTS AND THUS WORK TOWARDS BUILDING “A SOCIETY IN WHICH THE RULE OF LAW, FUNDAMENTAL HUMAN RIGHTS AND FREEDOM, EQUALITY AND JUSTICE, POLITICAL, ECONOMIC AND SOCIAL WILL BE SECURED FOR ALL CITIZENS.”[1]
1. Subs. by Gazette Notification dt June 3, 1999

এডভোকেট আচরণবিধি হিসেবে অধ্যায় ১-এ আইনজীবীদের প্রতি আচরণ ১-১১ দফার:
“৭] এডভোকেট নন, মামলা করেন মক্কেলগণ। মামলার পক্ষভুক্ত বাদী-বিবাদীর মধ্যে যত খারাপ সম্পর্কই থাকুক না কেন তা যেন মামলা পরিচালনার সময় আইনজীবীগণের আচরণের ওপর কোনো প্রভাব বিস্তার না করে। আইনজীবীদের মধ্যে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব বৈশিষ্টের দিকে ইঙ্গিত করে বক্তব্য রাখা শিষ্টাচারের লংঘন। মামলা নিস্পত্তিতে বিলম্ব ঘটায় ও আদালতে অশালীন বিশৃঙ্খলা জন্ম দেয় এমন কথাবার্তা আইনজীবীদের সচেতনভাবে পরিহার করে চলতে হবে।

আমরা ভুলে গেলেও আইনজীবী মহোদয়গণের এটা ভোলার কিন্তু কোনও উপায় নেই যে লতিফ সিদ্দিকী কিন্তু এখনও অভিযুক্ত, অভিযোগ প্রমাণ হয়ানি। বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে তাঁর বিচার হবে, সমস্যা তো নেই তারপরও আদালতে জুতা দেখিয়ে আমাদের আইনজীবী মহোদয়গণ কী প্রমাণ করতে চাইছেন? আপনারা কী আপনাদের শপথের প্রতি, আপনাদের আচরণবিধির প্রতি সুবিচার করেছেন, ডিয়ার 'ফাজিল দোস্ত (হিন্দি)' ওরফে বিজ্ঞ আইনজীবী?

Sunday, November 23, 2014

আসমান ভাইঙ্গা...


দৈন্য...।

রেললাইনের সংস্কার হচ্ছে। ঠিকাদার সাহেব রেলমন্ত্রীকে দাওয়াত দিয়ে নিয়ে এসেছেন। স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম জুড়ে সামিয়ানা টাঙ্গিয়ে মঞ্চ করে অসংখ্য চেয়ার সাজিয়ে বিশাল আয়োজন করা হয়েছে।

স্টেশনেই ঠিক বাইরেই কিন্তু সুবিশাল পার্কিং-লট যেটার অধিকাংশ অংশ খালিই পড়ে থাকে। এই মঞ্চটা সেখানে করলে কোনও সমস্যা ছিল না। এমন-না যে বর্ষাকাল যে বৃষ্টিতে সব ভিজে একশা হবে। তবুও ঘটা করে আয়োজনটা স্টেশনের ভেতরেই।

২৪ ঘন্টা চালু একটা স্টেশনে এমন আয়োজন, অতিরিক্ত বিপুল লোকের সমাগম- মাথায় মাথায় গিজগিজ, এটা যে কোনও প্রকারেই সমীচীন না এটা নিয়ে দ্বিতীয়বার ভাবার সময় কোথায় আমাদের! তাছাড়া যেখানে রেলমন্ত্রী উপস্থিত থাকেন সেখানে এই নিয়ে ভাবাভাবির সুযোগই-বা কোথায়? আর সঙ্গে যখন আইনমন্ত্রীও উপস্থিত থাকেন সেখানে এই বিষয়ে আইনের ন্যুনতম প্রশ্ন উত্থাপন করাটাও বাতুলতা মাত্র...।

Wednesday, November 19, 2014

হলুদ টাকা।

বিভিন্ন রঙের হয় টাকা কিন্তু কিছু টাকার রঙ হলুদ- উঠে আসে হলুদ আবর্জনা থেকে। হলুদ টাকায় সবই শস্তায় বিক্রি হয়। মিডিয়ার সুশীতল ছায়ায় বিক্রি হয়ে যান মিলন- একজন লেখক, একজন সম্পাদক তখন জমি বিক্রির দালালের সঙ্গে দাঁত প্রদর্শন করে ফিতা ধরে দাঁড়িয়ে থাকেন। বিক্রি হয়ে যায় খেলাও- তখন খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত একজনের বাবা যিনি আবার এই খুন ধামাচাপা দেওয়ার জন্য বিস্তর কলকাঠি নাড়েন। তাদের লোকজনেরা মধ্যমনি হয়ে থাকেন খেলার মাঠেও। সর্বত্রই হলুদের জয়জয়কার!
ছবি সূত্র: দৈনিক কালের কন্ঠ, ১৭.১১.২০১৪
প্রথম পাতায় বিজয়ীদের উল্লাসের বিজয় উৎসবে শামিল হয়েছেন বসুন্ধরা গ্রুপের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাফওয়ান সোবহান। আমাদের মত নির্বোধ পাঠকের জন্য বাড়তি তথ্যও এখানে সংযুক্ত হয়। ‘পেছনের সারিতে মাঝে’, অর্থাৎ পেছনের সারিতে মাঝের যে মানুষটা তিনিই সাফওয়ান সোবহান। আমাদের নির্বুদ্ধিতা নিয়ে কালের কন্ঠ পত্রিকাটির বিস্তর সংশয় কাজ করে বলে এখানে অতিরিক্ত আরও তথ্য যোগ হয়, ‘সানগ্লাস পরা’। ভাগ্যিস, এখানে অন্য কেউ আর সানগ্লাস পরেননি কেবল একজন চশমা পরেছেন নইলে আরও একটা ভজকট হয়ে যেত। তখন আমাদেরকে চেনাবার জন্য অন্য উপায় খুঁজতে হতো। হয়তো লিখতে হতো, গোলাপি কোট’ বা দাঁত গুণে ফেলতে হতো।

কাউকে চেনার সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে সুপারম্যান হয়ে যাওয়া। না, সুপারম্যান হয়ে যাওয়া না- সুপারম্যানের মত পোশাক পরা। সুপারম্যানের মত প্যান্টের উপর অন্তর্বাস পড়লে না-চেনার প্রশ্নই আসে না...।

Tuesday, November 18, 2014

দুই নয়ন!

এক নয়নে বাস তাঁদের, অন্য নয়নে আমার- বড় কাছাকাছি, তবুও কেউ কাউকে দেখতে পায় না!

নয়ন প্রসঙ্গে পরে আসছি। একটু মামার কথা বলি। আমাদের এক কমন মামা আছেন। গুগলমামা! ভাগিনাদের প্রতি তিনি বড়ই উদারহস্ত, না-হক পক্ষপাতিত্ব তার। কিন্তু কখনও কখনও গুগলমামা বিকট ভজকটও করে ফেলেন। তিনি আমার মত নিরীহ মানুষকে গালও খাওয়ান। বিষয়টা একটু বুঝিয়ে বলি। কেউ কেউ গুগলে রগরগে লেখা দিয়ে সার্চ দেন। দুধ লিখে কেউ সার্চ দিলেন। মানে কেবল দুধ না এর আগেপিছনে আরও কিছু শব্দ যুক্ত থাকে। পাঠককে আমি আমার চেয়েও বুদ্ধিমান মনে করি বিধায় আপাতত ‘...দুধ’ লিখেই কাজ সারছি।
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আমার একটা লেখা আছে। জনাব, দুলা মিয়াকে নিয়ে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে দুলা মিয়ার মত অসমসাহসী আগুনমানুষ খুব একটা আছেন বলে আমার মনে হয় না। তাঁর সাহসের কথা রূপকথাকেও হার মানায়! অথচ এমন একজন মানুষের শেষশয্যা যেখানটায় হয়েছিল তার চিহ্ণও আমরা রাখিনি। অথচ দুলা মিয়ার কবরের পাশেই একজন অখ্যাত ফকিরের সমাধিকে পারলে আমরা মখমল দিয়ে মুড়িয়ে রাখি! এই নিয়ে একটা লেখা ছিল আমার, ‘আমরা দুধ বিক্রি করে শুটকি খাওয়া জাতি’ [১]

তো, গুগলমামা, বদ-মামা সোজা আমার এই লেখাটা দেখিয়ে দেন। এখন চিন্তা করে দেখুন, বিশেষ কারণে উত্তেজিত লোকজন যখন ‘ইয়ের দুধ’ লিখে সার্চ দিয়ে এই লেখাটা পড়া শুরু করল তখন সে তো আর আমাকে গালি না দিয়ে ‘শাবাসি’ দেবে না। মামার কারণে নিরীহ ভাগিনা বিনাদোষে গালি খায়। কী আর করা, কপাল! মামা বলে কথা!

আমি যে ওয়েব সাইটটাতে লিখি (ali-mahmed.com) গুটিগুটি পায়ে সেটার পেজ-ভিউ ৪ লক্ষ ছাড়াল।
অনেকে তাচ্ছিল্যের দেখনহাসি হাসবেন। হয়তো-বা এদের কাছে বিষয়টা হাসিকা। এদের দোষ দেই না কারণ এখন সময়টা বড় অস্থির, সব কিছুই বড়ো দ্রুত। আমার মত মানুষের পক্ষে তাল মেলানো বড়ো কঠিন। উদাহরণ দেই, এখন ফেসবুকের কল্যাণে কারও কারও ফলোয়ারের সংখ্যা লাখের উপর! অনুগত বাহিনী লেলিয়ে দিলে এরা মাত্র চার দিনেই ৪ লক্ষ পেজ-ভিউয়ের কাজটা করে ফেলতে পারবেন এতে আর সন্দেহ কী! কিন্তু আমার কাছে যে ‘সির আঁখো পে’। আঁজলাভরা শিউলি ফুল কোথায় রাখি!

এমনিতে কখনও কখনও আমি আমার নিজের লেখা নিয়ে বড়ো হতাশ হই। প্রায়শ একটা ভাবনা কাবু করে, কী লিখি, ছাই! কী হয় এই সব লেখালেখি করে, ঘন্টা। এমন মুহূর্তে আয়নার সামনে দুই নয়নের চোখাচোখি হয়। রে, নয়ন চকোর...।

১. আমরা দুধ বিক্রি করে শুটকি খাওয়া জাতি: http://www.ali-mahmed.com/2009/08/blog-post_05.html

Sunday, November 16, 2014

আহ, জী-ব-ন!

কোনও এক লেখায় লিখেছিলাম, “জীবনকে দেখতে হয় মৃত্যুপথযাত্রী একজন মানুষের চোখ দিয়ে। তখন ধূসর পাতা কী চকচকেই না মনে হয়। কুৎসিত মুখখানাও মায়া-মায়া, ঢলঢলে। পাঁজরে আটকে থাকা ছোট্ট শ্বাসটাও রাবারের মত টেনে টেনে লম্বা করার কী এক প্রয়াস!"
এই যে মানুষটা শাহেনশার (!) মত পায়ের উপর পা তুলে অঘোরে শুয়ে আছেন। ভাল করে লক্ষ করতে বোঝা যাবে বাঁ পায়ের পাতা নেই কিন্তু ‘কুচ পারোয়া নেহি’!
আমার ইচ্ছা করছিল এই মানুষটার করোটিতে উঁকি দিয়ে দেখি এর কাছে জীবনের অর্থ কী!

Saturday, November 15, 2014

এক পাল পশু।

'কাঠগড়ায় দাঁড়াও, লালন-নজরুল!' [১], নিজের অজান্তেই অসতর্কতার কারণে এই লেখাটায় ভয়াবহ একটা ভুল হয়ে গেল! একজন ভুলটা ধরিয়ে না-দিলে হয়তো চোখের আড়ালেই থেকে যেত। যতটা না বিব্রত হয়েছি তারচেয়ে বিরক্ত হয়েছি নিজের উপর। বিরক্ত হওয়ার কারণটা বলছি।

'কাঠগড়ায় দাঁড়াও, লালন-নজরুল!' লেখাটা যখন লিখছিলাম তখন স্থির করেছিলাম যে-বিষয়টা সামনে নিয়ে আসব অথচ লেখার সময় সেটা বেমালুম ভুলে গেলাম। বিষয়টা এমন:
একজনের করা অন্যায়ের কারণে যারা অন্য ধর্মের লোকজনের উপাসনালয়ে আগুন দেন, ভাংচুর চালান এদের প্রকৃত পড়াশোনা, সহনশীলতার যথেষ্ট ঘাটতি আছে এতে সন্দেহের অবকাশ নেই। আমার দৃষ্টিতে এরা এক পাল পশু। এরা বুঝতে চান না কোনও একজনের জন্য সবাইকে দায়ী করা চলে না, যেমনটা চলে না একজনের দোষে অন্যের উপাসনালয় গুড়িয়ে দেওয়া।
এদের ভাবভঙ্গি দেখে মনে হয়, ধর্ম যেন একটা কাঁচের বাসন এটা হাত থেকে পড়ামাত্র খানখান হয়ে যাবে। এই যদি হয় নিজ ধর্মের প্রতি আস্থা তাহলে তো সর্বনাশ!

কিন্তু এই একপাল পশুর চেয়েও এককাঠি সরেস লোকজনও আছেন। এরা শিক্ষাদীক্ষায় অনেককে ছাড়িয়ে যান। প্রভাবিত করা যায় এমন অনেক স্তরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকেন। যথারীতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও। আইডিও বাছেন বিচিত্র, কখনও ‘সাধু’ নামে আবার কখনও ‘পাজি’ নামে! এদের অন্য আর কোনও কাজ নেই। খুঁজে খুঁজে এমন সব ঘটনা বের করবেন এবং লেখার মাধ্যমে চিবিয়ে চিবিয়ে বলবেন, তো , মুসলিম ভাইলোগ, দেখলেন, এই হচ্ছে আপনাদের ইসলাম ধর্ম, ছ্যা-ছ্যা-ছ্যা। বা, এই হচ্ছে হিন্দু ধর্ম, ছি-ছি-ছি!

দেবাশীষের ঘটনার পর মন্দির ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এর রেশ ধরে একজন তো বাংলাদেশে আলাদা হিন্দুস্থান পয়দা করার স্বপ্নও দেখা শুরু করে দিলেন। সাবাশ স্বপ্নপুরুষ! স্বপ্ন দেখে দেখে আপনার না-আবার স্বপ্ন... হয়ে যায়! বুঝলেন মশায়, ঝামেলা হয়ে যাবে শেষে।

আমার স্পষ্ট বক্তব্য, কোনও জাতি একটা নিরেট পাথরখন্ডকে ঈশ্বর জ্ঞান করলে ওই পাথরখন্ডে পদাঘাত করার প্রয়োজন কী? এই গ্রহে কী লাত্থালাত্থি করার জন্য পাথরের অভাব পড়েছে নাকি! নাকি ফুটবল চারকোনা হয়ে গেছে!
কেউ অন্য ধর্মে বিশ্বাসী বা কারও ঈশ্বরে বিশ্বাস নেই, বেশ। তা থাকুন না তিনি তার মত করে, সমস্যা কোথায়। ঈশ্বরবিশ্বাসী মানুষের পেছন অনবরত লেগে থাকা কেন! আর ঈশ্বরবিশ্বাসী মানুষগুলোরই বা কী সমস্যা যে ঈশ্বরঅবিশ্বাসী মানুষের পেছনে গন্ধ শুঁকে বেড়ানো?

এরা দুই-ই, একটা বৃত্তে আটকা পড়ে অনবরত ঘুরপাক খান। এরা অবলীলায় বিস্মৃত হন, একই বৃত্তে ঘুরপাক খাওয়াটা জ্ঞানের পরিচায়ক হতে পারে না। জ্ঞান হচ্ছে সরলরেখা- কেবল এগিয়ে যাওয়া...।

১. কাঠগড়ায় দাঁড়াও, লালন-নজরুল!: http://www.ali-mahmed.com/2014/11/blog-post_78.html   

Friday, November 14, 2014

কাঠগড়ায় দাঁড়াও, লালন-নজরুল!

বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ছেয়ে গেল দেবাশীষ দাস নামের একজন ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করেছেন এবং তাকে গ্রেফতার করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। পত্রিকার একটা লিংক: (http://www.jugantor.com/bangla-face/2014/11/06/169648)

এরই রেশ ধরে দেবাশীষের বাড়ি যেটার নাম, ‘দয়াময় শান্তি নীড়’ ভাংচুর করা হয়েছে এবং হিন্দু ধর্মাম্বলীদের লোকনাথ মন্দির, কালীমন্দির, রামঠাকুরের মন্দির, দয়াময় মন্দির, অনুকুল ঠাকুর মন্দিরসহ পাঁচটি মন্দিরে হামলাও করা হয়েছে। রামঠাকুর, দয়াময় এরা কেউই দেবাশীষকে বলেননি, যাও, বেটা মুসলমানদেরকে উসকে দিয়ে এসো কিন্তু ঠিকই এদের মন্দিরে আঘাত এসেছে।

দেবাশীষ অন্যায় করে থাকলে বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের আওতায় আসবে কিন্তু জোশভরা মুসলিম ভাইয়েরা যে আচরণ করলেন এটার উত্তর খোঁজা বাতুলতা মাত্র। বা এই জোশিলা ভাইজানদের আইনের আওতায় আনা হবে এই আশাবাদ ব্যক্ত করাও! ‘সংখ্যলঘু’ নামে একটা চলমান দানব আছে যার কাঁধে ভর দিয়ে বাংলাদেশে অনায়াসে মন্দির ভেঙ্গে ফেলা যায় আবার ভারতেও ঈদের জামাতে শুয়োরের পাল ছেড়ে দেয়া যায়। বিভিন্ন ছলাকলায় আইন এদের কেশাগ্রও স্পর্শ করার সুযোগ পায় না।

দেবাশীষকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে...আপাততদৃষ্টিতে সব্‌ই সোজাসাপটা। কিন্তু এটা জানা প্রয়োজন যে দেবাশীষ অন্যায়টা করেছিলেন কি? তিনি লালনের একটি গান ফেসবুকে শেযার করেছিলেন। যেটা মোশতাক আহমেদ সম্পাদিত ‘লালন বেদের গোপন খবর’- বইয়ের ১৪১ নম্বরে আছে। লালনের এই গানটি কি বাংলাদেশে নিষিদ্ধ? উত্তর হচ্ছে, না। তাহলে এটা শেয়ার করে দেবাশীষ কি এমন গুরুতর অপরাধ করেছেন।

তদুপরি ফেসবুকে এই গানটি শেয়ার করার পর ফেসবুকে অনেকে আপত্তি জানালে দেবাশীষ দুঃখপ্রকাশও করেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, “আমি (ইসলাম ধর্মকে) নিয়ে কোনও খারাপ কথা লিখিনি। আমি একজন নিরাকার উপাসক। আমি লালনের একটি গান শেয়ার করেছি। এতে কোনও ভাই কষ্ট পেলে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থী”।

দেবাশীষ সাধক মহর্ষি মনমোহন দত্তের অনুসারি। বাড়ির নামের সঙ্গে যেমন দয়াময় যুক্ত আছে তেমনি তিনি নিজের নামের সঙ্গে দয়াময় যুক্ত করেছেন, ‘দেবাশীষ দয়াময়’।
( Masuk Hridoy )  বিভিন্ন লোকজনের সঙ্গে কথা বলে যেটা জেনেছেন সেটা এখানে তুলে দেই,
চরলালপুর এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ি মাসুদ রানা বলেন, দেবাশিষ একেশ্বরবাদে বিশ্বাসী। তাকে এলাকার মানুষ ভাল ছেলে ও নিরীহ প্রকৃতির হিসেবেই চেনে ও জানে। কোন ধরণের উসকানির উদ্দেশ্যে সে এমন কাজ করেনি।
লালপুর বাজারের একাধিক ব্যবসায়ি বলেন, এলাকার কিছু টেটনা (বদ) দেবাশিষকে ঘায়েল করতে অপপ্রচার চালিয়ে সাধারণ মানুষকে ক্ষিপ্ত করেছে।“
দেবাশীষের মামলার আইনজীবি অ্যাডভোকেট নাসির মিয়া বলেন, ... আর যদি দিয়েও থাকে (লালনের গান) তাহলে এটা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে দন্ডনীয় অপরাধ নয়। যেহেতু লালনের গানটি বাংলাদেশে নিষিদ্ধ নয়, সেহেতু এটা অবিকৃত অবস্থায় প্রচার করলে তথ্য প্রযুক্তি আইনে এটা অপরাধ নয়। আর যদি এতে ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত আসে তাহলে সরকারেরই উচিত এটা নিষিদ্ধ করা। তিনি (আরও) বলেন, ছাত্রলীগের কমিটি সংক্রান্ত বিরোধে স্থানীয় প্রতিপক্ষের কিছু নেতা কথিত ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার ছুতোয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় তাকে আসামি করেছে। শুধু তা-ই নয়, তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে জানালার কাঁচ ও মন্দির ভেঙ্গে ফেলা হয়। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের অপব্যবহারের একটি দৃষ্টান্ত বলে মন্তব্য করেন তিনি।“ 

এই গান লেখার অপরাধে লালনকে অবিলম্বে তথ্য ও যোগাযোগ আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য জোর দাবী জানাই পাশাপাশি ‘আমি বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান বুকে এঁকে দেবো পদ-চিহ্ন!’, এটা লেখার জন্য কাজী নজরুল ইসলামকেও।

* ছবি এবং বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন, Masuk Hridoy। তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।

**লেখাটা ফেসবুকে শেয়ার করার পর আমার একটা গুরুতর ভুল ধরিয়ে দেন প্রজন্ম ছিয়াশি। ওখানে তিনি মন্তব্য করেন,
"জোশভরা মুসলিম ভাইদের উল্লেখ না করলেই ভাল হতো, কারণ দেবাশিসের আইনজীবী কি বলেছে?

"
...'তিনি (আরও) বলেন, ছাত্রলীগের কমিটি সংক্রান্ত বিরোধে স্থানীয় প্রতিপক্ষের কিছু নেতা কথিত ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার ছুতোয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় তাকে আসামি করেছেশুধু তা-ই নয়, তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে জানালার কাঁচ ও মন্দির ভেঙ্গে ফেলা হয়তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের অপব্যবহারের একটি দৃষ্টান্ত বলে মন্তব্য করেন তিনি'।

মানে কমিটি নিয়ে ছাত্রলীগের আভ্যন্তরীণ ক্যাচাল এটা জোশভরা মুসলিম ভাইদের কথা না বলে ষড়যন্ত্রকারী জোশভরা ছাত্রলীগ ভাইদের কথা বলুন
।"

আমার উত্তর ছিল:
"এই লেখার সঙ্গে জোশভরা মুসলিম ভাইয়েরাথাকাটা কেবল অসামঞ্জস্যই না, অপরাধও বটেএখানে জোশভরা মানুষলেখাই সমীচীন ছিল

এটা আমার অনিচ্ছাকৃত ভুলতদুপরি এর দায়-দায়িত্ব আমার উপরই বর্তায়দায়টা আমার কাঁধে নিয়ে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করিএবং ভুলটা ধরিয়ে দেওয়ার জন্য আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতাধন্যবাদ, ভাল থাকুন
"

বড় লোভ হে...।

‘আমাদের ইশকুল’ গুটিগুটি পায়ে প্রায় পাঁচ বছরে পড়ল। ২০১০ সালের শুরুতে আমি এবং আমার এক বন্ধু, শুরু হয় এই স্কুলের যাত্রা। করতে চেয়েছিলাম বৃদ্ধাশ্রম। করতে না-পেয়ে শুরু করেছিলাম স্কুল। তখন একসঙ্গে তিনটা স্কুলের কাজ চলত। একটা হরিজনপল্লী যেটার চালু নাম মেথরপট্টি সেখানকার শিশুদের জন্য। অন্যটা ছিল চোখে দেখতে পান না সেইসব মানুষদের সন্তানদের জন্য এবং তৃতীয়টা ছিল স্টেশনের শিশুদের জন্য যাদের অধিকাংশই ছিল পিতা-মাতাহীন।

স্কুলগুলো পরিচালনার জন্য অর্থের যোগানের ব্যবস্থা করতেন তিনি মানে আমার বন্ধু আর অন্য সমস্ত কাজ দেখার দায়িত্ব ছিল আমার। এক বছরের মাথায় কোনও প্রকার আগাম সতর্কতা না-দিয়েই তিনি অর্থের যোগান বন্ধ করে দিলেন। হয়তো কোনও প্রকারের সীমাবদ্ধতা হবে কিন্তু আমাকে না-জানানোটা মোটেও ভাল কাজ হয়নি! আমি পড়লাম পানিতে। এখন কী করি, কোথায় যাই কার কাছে যাই? তিন তিনটা স্কুলের তিনজন টিচারের সম্মানী, তিন তিনটা ঘর ভাড়া তো চাট্টিখানি কথা না আমার জন্য। তখন আবার আমার মাথার উপর বিপদ, ভীষণ বিপদ। বহুজাতিক এক কোম্পানির সঙ্গে লড়াই শুরু করেছি মাত্র। অসম এক লড়াই- যেটা কেবল আমার মত বোকা মানুষের পক্ষেই সম্ভব। গুলতি নিয়ে ডায়নোসরের বিরুদ্ধে লড়াই। আসলে আমি ওই বহুজাতিক কোম্পানিকে বোঝতে চেয়েছিলাম, শ্লা, তোমরা ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি না আর আমিও ব্লাডি নেটিভ না। দিস ইজ মাই ল্যান্ড, নো কাউবয় রাইডস হিয়ার।

আমার তখন টাকা-পয়সার বড়ো টানাটানি। কী কষ্টের সেইসব দিন- আহ, একেকটা দিন! এহেন অবস্থায় মাথায় চা চামচের এক চামচ ঘিলু থাকলে আমার যেটা করা প্রয়োজন ছিল সেটা হচ্ছে অতি দ্রুত স্কুলগুলো বন্ধ করে দেওয়া। পরিচিত লোকজনেরা জানেন ঘিলু জিনিসটা আমার নাই। তবে যেটা অনেকে জানেন না সেটা হচ্ছে মানুষটা আমি বড়ো ‘জিদ্দি’ টাইপের। আমি হাল ছাড়লাম না। আমার অপার সৌভাগ্য আমার কিছু সুহৃদ বিভিন্ন সময়ে এগিয়ে এসেছিলেন। এঁদের নাম প্রকাশ করলে এঁরা ভারী বিরক্ত হন বিধায় সেপথ মাড়ালাম না। খামাখা পাগল ক্ষেপিয়ে দেওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ না। আজ এবেলা তাঁদের প্রতি গভীর প্রকাশ করি। পেছনের এই হৃদয়বান মানুষগুলো কেবল ছায়াই হয়ে থাকেন। এ যে অন্যায়, বড়ো অন্যায়!

পরে অবশ্য কৌশল খানিকটা পরিবর্তন করলাম। একেক জায়গার নির্দিষ্ট সময়ে ওখানকার শিশুদেরকে ন্যূনতম শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা। তো, চার নম্বর যে স্কুলটা- যেখানে স্কুলটা চলছিল ওখানকার কাজ শেষ হলো কিন্তু স্কুলটা স্থানান্তর করা যাচ্ছিল না। আমি খুব প্রয়োজন বোধ করছিলাম স্টেশনের কাছাকাছি নতুন স্কুলটা খুলতে কিন্তু জায়গা পাওয়া যাচ্ছিল না। রেলওয়ের কতশত জায়গা লোকজনেরা দখল করে রেখেছে অথচ বৈধ কোনও পন্থায় দশ ফিট বাই দশ ফিট একটা ঘরও পাওয়া গেল না!
অবশেষে স্টেশনের কাছে যেটা পাওয়া গেল নড়বড়ে আহামরি কিছু না সেটার জন্য আবার একগাদা টাকা সেলামিও দেওয়া লাগল। তবুও আমার আনন্দের শেষ নেই কারণ ফি-রোজ স্টেশনের চক্কর লাগাবার কারণে আমি এখানকার শিশুদেরকে নিজের হাতের তালুর মত চিনি। কে ড্যান্ডিতে আসক্ত, কার বাপ-মা নেই বিশদ জানার বাকী নেই। এদের সঙ্গে কাজ করাটা যে কতটা জরুরি সেটা বুঝতাম বলেই এখানে স্কুল করার কাতরতা প্রবল ছিল। এখানকার শিশুরা কেউ নিয়মিত ক্লাশ না-করলেও কেবল একদিনের জন্য কাউকে পেলেও কম না। মাথায় যতটা নাড়া দেওয়া যায় আর কী!

কিন্তু শুরুতেই আমি বিপত্তিতে পড়লাম স্কুলের জন্য যে ঘরটা নেওয়া হয়েছিল স্টেশনের শিশুদের জন্য যথেষ্ঠ হওয়ার কথা ছিল কিন্তু জায়গার টানাটানি! স্টেশনের এই বাচ্চাগুলো পড়তে এতোটা আগ্রহ দেখাবে এটা আমার জন্য অনেকখানি অবাক হওয়ার মত। অবশ্য এখানে এরা যে কেবল পড়তে আসে এমন না, নিয়ম অনুযায়ী পড়ার আগে আধ-ঘন্টা খেলাও।

একজন রাখালবালক থেকে ড. আতিউর রহমান হতে পারলে আমি কেন এই স্বপ্ন দেখব না এই শিশুগুলোর মধ্যে থেকে কেউ একজন বের হয়েআসবে? বড় লোভ হে, বড় লোভ...।

* ’বড় লোভ হে’, কথাটা নাজমুল আলবাবের কাছ থেকে ধার করা। তিনি কোত্থেকে ধার করেছেন এটা আর জিজ্ঞেস করা হয়নি!

Thursday, November 13, 2014

চুতিয়া কখনই মানুষ হয় না!

হালে একজন আমার সঙ্গে না-হক রাগারাগি করলেন। তিনি একদা একটা ওয়েব-সাইটে লেখার জন্য বলেছিলেন। তখন আমি সবিনয়ে না করেছিলাম। এবং এটাও বলেছিলাম, 'ভাইরে, আমি তো আমার নিজের ওয়েব-সাইট ব্যতীত অন্য কোথাও লিখি না'।
সবটা তখন মানুষটাকে বলা হয়নি যে কেন লিখি না। এ বিষয়ে অতীত অভিজ্ঞতা আমার খু্বই তিক্ত। লোকজনের সঙ্গে আমার বনিবনা হয় না। দলবাজী, দলাদলি জিনিসটা আমার একেবারেই পছন্দ না। এদিকে এই সমস্ত কর্মকান্ড না-করলে অনেকের আবার পেটের ভাত আস্ত চাউল হয়ে পড়ে। বড়ই সমস্যা! তো, এই নিয়ে কারও সঙ্গে কুতর্কে না-জড়িয়ে সানন্দে স্বীকার করে নেই বাপু রে, সমস্যাটা আমার নিজের মধ্যেই। 'খুশ'! তবুও জগতের সবাই সুখী হোক। কিন্তু ক্ষতি যা হওয়ার তা হয়েই পড়ে। নিঃসঙ্গ সারথি- ব্যাটলফিল্ডে একা‍, অরক্ষিত! অন্য একটা ছোট্ উদাহরণ দেই । 

একটা ওয়েব-সাইটে বাংলায় যখন প্রথম লেখালেখির সুযোগ এলো (সেটা ২০০৫ সালের কথা) সেখানে 'শুভ' নামে আমি চুটিয়ে লেখালেখি করা শুরু করলাম। অন্য লেখার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সেখানে আমার শত-শত লেখা ছিল। ওই সাইটের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমার মতের মিল না-হওয়ার ওখান থেকে লম্বা দিলাম। নিজের সাইটে লেখা শুরু করলাম। জনৈক চোদরি সাহাব (ইনিও ওখানে আমার সঙ্গে 'ল্যাকতেন')।

চোদরি সাহাব যখন মুক্তিযুদ্ধের ব্লগ ইতিহাস লিখলেন তখন পাশের বাড়ির জরিনার নামও নিলেন কিন্তু সেখানকার কোনও প্রসঙ্গেই 'শুভ' নামটা লিখলেন না। অনেকে বলবেন, বেচারা বাম থেকে ভাম হয়ে মস্তিষ্ক জ্যাম হয়ে গেছে। তা হওয়াটা বিচিত্র না কারণ দেশের গাওয়া ঘিয়ের বদলে বৈদেশের পুরু বাটার খেয়ে মস্তিষ্কে চর্বি জমাটা অস্বাভাবিক কিছু না। অথচ আমার অসংখ্য লেখায় এই 'ভদ্দনোকের' সহৃদয় মন্তব্য ছিল। সবগুলোর প্রিন্ট-আউটই আমার কাছে এখনও বর্তমান। তা, তিনি কেন এমনটা করলেন? কারণ আমি যে তাদের দলের কেউ নই। এদের ভাবখানা এমন, স্যারদের কাছ থেকে সনদ না-নিলে সবই বৃথা। বেচারা আমি আর কী করি, নিজেই লিখে মনিটরে পা তুলে নিজের লেখা আয়েশ করে পড়ি। ইশ-শ, যদি চোদরি সাহাবদের দলে থাকতুম তাহলে ফাটিয়ে ফেলতুম। 

যাই হোক, প্রসঙ্গ থেকে সরে এসেছি। তো, রাগারাগি করা মানুষটা একটা লিংক আমাকে ধরিয়ে দিলেন। ওই লিংক ধরে http://www.bengalinews24.com/opinion-bangla/2013/07/13/10601 -এ গিয়ে আমি তো হাঁ! অ আল্লা, মানুষটা তো ঠিকই বলেছেন। এখানে তো দেখতে পাচ্ছি ব্যাটা আলী মাহমেদ ঝাঁপিয়ে পড়ে লিখছে কিন্তু আমি যে বিন্দুবিসর্গও জানি না! bengalinews24.com- এখন এই একটা ঢং হয়েছে সব কিছুর মধ্যে 'টোয়েনন্টি ফোর' লাগিয়ে দাও। অবশ্য্ এরা 'টোয়েনন্টি ফোর'-এর স্থলে 'ফোর টোয়ান্টি' লাগালে ভাল করতেন- মানাত বেশ। ওরে, এখানে তো অনেক 'লুকজন' দেখতে পাচ্ছি!
[অ্যাডভাইজার: দেওয়ান নজরুল, এডিটর: পারভেজ খান, হেড অবস্ট্রাটেজি: কর্ণেল আমিনুল হক (অব:), ম্যানেজিং এডিটর: শাহ আরিফ বিন হাবিব, ম্যানেজিং এডিটর (ইংলিশ) আবদুল্লাহ আল মুরাদ, কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স এডিটর: শামীম বিল্লাহ, ফটো এডিটর: মেজর হামীম চৌধুরী (অব:)]
ওয়াল্লা, এখানে দিকি দুইজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর লোকও আছে! একজন তো আবার 'হেড অবস্ট্রাটেজি'! কী আনন্দ আকাশে-বাতাসে, এরা আমার লেখা ছেপেছেন, এই আনন্দ কোথায় রাখি? দাঁড়ি-কমাসহ এরা হুবহু লেখাটা ছাপিয়ে দিয়েছেন, কিছুই বাদ পড়েনি- তসলিমার ছবি ব্যতীত। আহা, তসলিমার ছবি তোলার সুযোগ কোথায় আমার! 

তা, বেশ-বেশ। কিন্তু এই আমিই যে আমার সাইটে স্পষ্ট করে লিখে রেখেছি, "আমার লিখিত অনুমতি ব্যতীত আমার কোনও লেখা কোনও মাধ্যমেই প্রকাশ করা যাবে না"। লেখার অংশবিশেষ হলে না-হয় কথা ছিল না, কিন্তু দাঁড়ি-কমাসহ...। এখন আমার কী হবে গো? আনন্দে লাফালাফি করার সুযোগ কোথায় আমার? বিষাদের সঙ্গে বলতেই হয়, bengalinews24.com-কে চোর বলছি না অবশ্য, কারণ এরা দয়া করে আমার নামটা যে রেখেছেন। কিন্তু চুতিয়া না-বললে অন্যায় হয়...।

Wednesday, November 12, 2014

“ফান্দে পড়িয়া বগা...।”

আমাদের মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করা হয় যেখানে দেবতাও কোন ছার! এই সব করে-করে আমাদের এই অতি গৌরবের জায়গাটা এই প্রজন্মের কাছে কালে কালে হাস্যকর হয়ে পড়ে। ছোট্ট একটা উদাহরণ দেই: 
একজন মুক্তিযাদ্ধাকে নিয়ে কাজ করার সুবাদে তাঁর সম্বন্ধে আমার প্রচুর জানা হলো। যেটা জানা হয়নি সেটা জেনেছিলাম পত্রিকা পড়ে। পত্রিকা বলে কথা! যেটা আমি জানতে পারিনি সেটা আমি পত্রিকায় পড়লাম, কি পড়লাম? ওই ভদ্রলোককে নিয়ে ‘দৈনিক ইত্তেফাক’ দুর্ধর্ষ এক লেখা ছাপল, ইনি নাকি যুদ্ধের সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন বোনাস হিসাবে হাবিজাবি আরও অনেক কিছু। ইত্তেফাক জানাল, ১৯৭১ সালে তিনি পড়াশোনা ফেলে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। অথচ এই ভদ্রলোক নিরক্ষর [১]। নিরক্ষর একজন মানুষ মুক্তিযোদ্ধা হলে সমস্যা কোথায়? কারও কোনও সমস্যা নেই। সমস্যা মিডিয়ার। সত্যের সঙ্গে বিস্তর কল্পনা না-মেশালে এদের বাথরুমে সমস্যা হয়। বাথরুম তখন হলুদ না-হয়ে কালো হয়। আসলে হলুদ জিনিসটা মিডিয়া দেখতে পারে না কারণ হলুদের সঙ্গে মিশে আছে ‘হলুদ সাংবাদিকতা’। 

প্রথম আলো কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায়ের পরই তড়িঘড়ি করে ছাপাল, “...সোহাগপুরের বিধবারা...”। এরা বিধবাদের যে ছবি ছাপিয়েছে এটা যে আয়োজন করে, অনেক দু-নম্বুরি করে তোলা ছবি এটা একটা শিশুরও অবোধ্য থাকার কথা না। এই ফটোসেশন করতে গিয়ে যে এরা বিস্তর পরিশ্রম করেছে এটা বোঝার জন্য রকেটবিজ্ঞানী হওয়া লাগে না। সবাইকে জড়ো করেছে, একই রঙের শাড়ি পরিয়েছে তারপর দেশবাসীর কাছে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। একই রঙের শাড়ির শানে-নযুল কী! এমনটা না-করলে কী সমস্যা ছিল! কোনও সমস্যা ছিল না বরং এটা করতে গিয়ে এদের এই প্রতিবেদনের উপর ভরসা করতে ভরসা হয় না।
ছবি ঋণ: প্রথম আলো
প্রথম আলোর এই কর্মকান্ডকে আমার কাছে মনে হয়েছে স্রেফ একটা চরম অপদার্থগিরি। এরা ওই গ্রামের সহজ-সরল বয়স্ক মানুষদের নিয়ে যে আচরণটা করেছে এটা স্রেফ একটা কদর্য আচরণ। ছোটলোকের আচরণ! একটা অন্যায়, বিকট অন্যায়।
গ্রামের সহজ-সরল এই বয়স্ক মানুষদেরকে না-হক দোষ দিয়ে লাভ নেই কারণ প্রথম আলো এমন হলুদ সাংবাদিকতা যে এবারই করেছে এমন না। এবং এতে সানন্দে যোগ দেন ঝুলেপড়া গোঁফ এবং ঝুলেপড়া ইয়ের... আমাদের দেশের বুদ্ধিবাজ মহোদয়গণ। এমন অজস্র উদাহরণ আছে। আমি কেবল একটা উদাহরণ দেই। শপথবাজির খেলা দেখাতে গিয়ে এরা শিক্ষাবিদ আনিসুজ্জামানকে সঙ্গে নিয়ে আমাদেরকে বোকা বানিয়েছ [২]

প্রথম আলো গংদের ধারণা পাঠক তাদের ব্রেন এদের আপিসে জমা রেখে পত্রিকা পড়তে বসে! ভাবখানা এমন, এরা চামুচে করে আলকাতরা খাওয়ালে পাঠক সেটাও বিমল আনন্দে চপচপ করে খাবে! প্রথম আলো তাদের ওয়েব ভার্সান পত্রিকায় এই প্রতিবেদনটা ছাপালে, “কামারুজ্জামানের ফাঁসি দ্রুত কার্যকর চান সোহাগপুরের বিধবারা” (http://m.prothom-alo.com/bangladesh/article/362062 ) সেখানে পাঠক এদের পছন্দমতই মন্তব্য করেছেন কিন্তু এই প্রতিবেদনটাই ফেসবুকে শেয়ার করার পর ( https://m.facebook.com/DailyProthomAlo/photos/a.215619841804443.61850.163059227060505/874860285880392/ ) পাঠক নির্দয় ধোপার ভঙ্গিতে আচ্ছা করে ধুয়েছেন (মন্তব্য দ্রষ্টব্য)- সাবান, সোডা কোনটারই কমতি ছিল না।

মুক্তিযুদ্ধ এখন অনেকের কাছে একটা ব্যবসা, স্রেফ ব্যবসা। আসল মুক্তিযোদ্ধারা ক্রমশ একেক করে দেহত্যাগ করছেন। আফসোস, এঁরা মরেও শান্তি পাবেন না। এটা অনুমান করাটা দোষের হবে না, মাটি খুঁড়ে এদের লাশ উধাও হয়ে যাবে। একদা এদের হাড়গোড় নিয়েও চমৎকার ব্যবসা হবে। 

১. http://www.ali-mahmed.com/2011/03/blog-post_26.html
২. http://www.ali-mahmed.com/2010/01/blog-post_03.html

Tuesday, November 4, 2014

দ্বিতীয় নয়ন