Sunday, May 18, 2014

কাজীর দরবারে সেলাম জানাই গো।



শেষ পর্যন্ত গতকাল ১৭ মে RAB ১১-এর সাবেক যে তিন কর্মকর্তাকে হাইকোর্ট গ্রেফতার করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তাদের মধ্যে দুই জন কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে। হাইকোর্ট এই আদেশ দিয়েছিলেন ১১ মে। এবং এই আদেশের কপি ওই দিন রাতেই পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছিল ফ্যাক্স করে।

বলা যেতে পারে হাইকোর্ট অসম্ভব গুরুত্ব দিয়ে দেখেছেন বিষয়টাকে। মোটেও কালবিলম্ব করার অবকাশ রাখেননি। এমনকি প্রয়োজনে ৫৪ ধারায় গ্রেফতারের নির্দেশও দেওয়া ছিল। অবশ্য অবশেষে ৫৪ ধারাতেই এদেরকে গ্রেফতার করা হয়
ছে। কেন?
আপাতত সমস্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ এদের বিরুদ্ধে তাহলে ৫৪ ধারায় (সন্দেহভাজন) গ্রেফতার কেন? এদিকে এরিমধ্যে পেরিয়ে গেছে বেশ ক-টা দিন, এই ডিজিটাল যুগেও! কেন? বিলম্বের হেতুটা বোঝার জন্য অবশ্য সাবমেরিনবিজ্ঞানী হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।

পত্রিকার মাধ্যমে আমরা জেনেছিলাম তিন কর্মকর্তকেই সেনাবাহিনীর লগ এরিয়ায় নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। কিন্তু এখন আমরা শুনতে পাই নৌবাহিনীর কর্মকর্তা লে. কমান্ডার এমএম রানাকে নাকি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। শোনো কথা! 
ছবি ঋণ: দৈনিক আমাদের সময়
গতকাল যখন লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ এবং মেজর আরিফ হোসেনকে কোর্টে আনা হয় তখন কোর্টে অবস্থানকালের অধিকাংশ সময়ই লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ কেবল নির্বিকারই ছিলেন না অবজ্ঞা-ব্যঙ্গের হাসিও হেসেছেন। আহা, কেন হাসবেন না? এ সত্য তিনি এটা পূর্বে মোটেও ভাবেননি যে তাকে কোর্টের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে-অনায়াসেই তো পার পেয়ে যাবেন। আর দাঁড়ালেই কী! এ তো তার অজানা থাকা কথা না যে আমাদের দেশে প্রলম্বিত বিচার শেষ হওয়াটা অনেক পরের কথা।

এ সত্য, গণশুনানিতে সমস্ত প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য এদের বিরুদ্ধে গেছে। উদ্ধার হওয়া সমস্ত আলামতও! লাশের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া ইটগুলো যেগুলো এদের কার্যালয়ের নির্মণাধীন ভবনের। যে রশি দিয়ে বাঁধা হয়েছিল সেগুলোও! এমনকি রশিতে গিট্টু দেওয়া, খুন করার ভঙ্গিতে যে ছাপ, সবই প্রফেশনাল।
পাবলিক প্রসিকিউটর এদের বিরুদ্ধে যে খুনের অভিযোগ এনেছেন আইনের ফাঁকফোকর গলে খুনের অভিযোগ প্রমাণ করাটা তো চাট্টিখানি কথা না। আর প্রমাণ হলোই বা, কোর্ট কর্তৃক চরম শাস্তি প্রদান করলেনই...। এই দেশে ফাঁসির আসামীকে হৃদয়বান প্রেসিডেন্ট ক্ষমা করে দেন। সাঈদ উপহাসের হাসি হাসবে না তো কে হাসবে, ছলিমুদ্দিন-কলিমুদ্দিন?

এটা বলার অপেক্ষা রাখে না এই অভিজাত বাহিনীর কিছু কার্যকলাপ এদের অজস্র অর্জনকে খাটো করে দিয়েছে। কেবল একটা উদাহরণই যথেষ্ঠ, লিমন [১], [২], [৩] নামের শিশুটির বিরুদ্ধে যা করা হলো এটাকে আমি হিংস্রতা-বর্বরতাই বলব না, বলব বোকামী, চরম বোকামী।
পৃথিবীর অন্য কোনও দেশের সরকারী সংস্থাগুলো কি ভুল করে না, করে। কিন্তু যার আবর্জনা তাকেই মাথায় নিতে হয়, অন্য-কেউ মরে গেলেও এই দায়িত্ব নেবে না। কিন্তু আমাদের দেশটা বিচিত্র, লোকজনের আচরণ বিচিত্র হবে এতে সন্দেহ কী! অপরাধীর অন্যায়গুলো নামের এই আবর্জনার গাট্টিটা নিজেদের কাঁধে নেওয়ার জন্য জনে-জনে মুখিয়ে থাকেন। কপাল!

আমি আশাবাদী মানুষ। তাই আমি বলব, এই যে এদেরকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো গেছে এ এক অসাধারণ কাজ হয়েছে। আমাদের শেষ ভরসাস্থল আদালতের প্রতি আমার মুগ্ধতার শেষ নেই। নতজানু হই...।

... 
অবশেষে গতকাল (১৮ মে) এমএম রানাকেও গ্রেফতার করে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে।

৫৪ ধারায় কেন গ্রেফতার করা হলো এটার জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তাকে শোকজ করেছেন হাইকোর্ট। আবারও সেলাম...। 

*ছবি ঋণ: দৈনিক আমাদের সময়

No comments: