Wednesday, August 28, 2013

জিয়ার শুদ্ধি অভিযান!

লে. কর্নেল এম এ হামিদ ছিলেন জেনারেল জিয়ার কোর্স-মেট এবং খুবই ঘনিষ্ঠ বন্ধৃ। জনাব, হামিদ তখন ঢাকার স্টেশন কমান্ডার। খুব কাছ থেকে তিনি তখনকার ক্ষমতার পট পরিবর্তন দেখেছেন, দেখেছেন জিয়াউর রহমানকে, জিয়ার উত্থান-পতন, কূট-কৌশল, সবই...। 'তিনটি অভ্যুত্থান ও কিছু না বলা কথা'য় তিনি লিখেছেন:

"...এবার শুরু হলো জিয়ার শুদ্ধি অভিযান। বিদ্রোহী বিমান ও সৈনিকদের পাকড়াও করে তাদের নির্মমভাবে ঢালাও শাস্তি প্রদানের ব্যবস্থা করা হলো। সংক্ষিপ্ত বিচারের সুবিধার্থে 'মার্শাল ল' আইন করা হয়। বিশেষ সামরিক আইন করে বিশেষ সামরিক আদালত গঠন করা হলো। এই সময় লে. জেনারেল এরশাদ ছিলেন ডেপুটি চিফ। তারই তত্ত্বাবধানে এসব সংক্ষিপ্ত ট্রায়ালের নামে শুরু হলো অতি দ্রুত গতিতে বিচারের নামে প্রহসনের পালা।
মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে কয়েক শত সৈনিক ও বিমান সেনাদের ফাঁসির আদেশ দেওয়া হলো। তখন সেনা বা বিমান বাহিনীর কোনো প্রতিষ্ঠিত আইন-কানুন এই ক্ষেত্রে মেনে চলা হয়নি!

পাঁচটি কারাগারে এক সঙ্গে ৮/১০ জনকে পর্যায়ক্রমে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়। ফাঁসি ছাড়াও এলোপাথাড়ি ফায়ারিং-এ মারা যায় শত-শত সেনা। ফায়ারিং স্কোয়াডেও বহু সেনাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এছাড়া ঢালাওভাবে গ্রেফতারের পর বহু সৈনিকের মৃত্যু ঘটে অমানবিক নির্যাতনে। ৩ থেকে ৫ সেপ্টেম্বরের পর্যন্ত প্রতি রাতে সেনা ও বিমান বাহিনীর ব্যরাক থেকে সৈনিকদের ধরে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় নির্যাতন ক্যাম্পে, তাঁরা আর কখনই ফিরে আসেননি।

সারা ক্যান্টনমেন্ট জুড়ে হাহাকার। কান্নার রোল। কত সৈনিক, বিমানসেনা ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুললো, কতজন প্রাণ হারালো, কতজন গুপ্তহত্যার শিকার হলো এর কোনো হিসাব নেই।...
সরকারী হিসাব মতেই শুধুমাত্র দুই মাসে ফাঁসিতে লটকানো হয় ১১৪৩ জন সৈন্যকে। হতভাগ্য সৈনিকদের লাশ পর্যন্ত তাঁদের আত্মীয়স্বজনকে দেওয়া হয়নি! তাঁরা আজও খুঁজে ফেরেন তাঁদের প্রিয়জনকে।

কোথায় যে এতো লাশ গুম করা হলো এও এক রহস্য! ... অনেকের ধারণা, এটা ছিল পূর্ব-পরিকল্পিত এক নিধনযজ্ঞ। মধ্যরাতে সিগন্যাল লাইনস ও কুর্মিটোলা এয়ারফোর্স ব্যারাকে কে বা কারা শ্লোগান দিয়ে আহ্বান জানিয়ে শুরু করে বিদ্রোহ, তা আজও রহস্য।

পাক-ভারত ইতিহাসে কোনো সামরিক অভ্যুত্থানে এতো লোকের ফাঁসি, হত্যা, প্রাণহানি, জেল আর কখনই ঘটেনি!
কী আশ্চর্য! এতো বড়ো মর্মান্তিক ঘটনার কখনও নিরপেক্ষ তদন্ত হয়নি। কেউ তদন্ত দাবীও করেনি! কী বিচিত্র এই দেশ...!"