Sunday, August 18, 2013

বুড়ো খোকা এবং খোকা!

আমার পরিচিত লোকজনেরা এটা বিলক্ষণ জানেন, ভুলে যাওয়ার জন্য আমার কুখ্যাতির কথা। এই নিয়ে এরা বিস্তর হাসাহাসি করেন। এই সব রসিকতা সহ্য না-করে উপায় নেই আমার কারণ কপালের ফের, এটা আমার হাতে নাই! উপর থেকে আমাকে পাঠাবার সময় কিছু একটা ভজকট হয়েছিল কোথাও!

কিন্তু এও সত্য, এই নিয়ে আমার মনখারাপ-করা শ্বাসে বাতাস ভারী হয়। কিন্তু এই বেদনা অনেকখানি লাঘব হয় যখন দেখি আমি যে একা নই।
ওয়াল্লা, বেগম খালেদা জিয়া দেখি আরও ভুলোমনা! অনেকটা কাল তিনি তার জন্মতারিখ বেমালুম ভুলে বসে ছিলেন। স্কুলবেলায় মনে হলো এটা, বিবাহবেলায় মনে হলো ওটা- আবার ভোটার আইডির সময় মনে হলো, দূর ছাই, এটা-ওটা না, সেটা!

কিন্তু অবশেষে, একদা..., হঠাৎ একদিন মনে হলো, ১৫ আগস্ট তার জন্মদিন! এরপর থেকে ভুলে যাওয়ার মাশুলের কারণে কিনা কে জানে ঘটা করে ইয়া বড়-বড় কেক কাটা শুরু করলেন! কালে-কালে এই কেক ৬৯ পাউন্ডে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। এটা কোথায় গিয়ে ঠেকে কে জানে! এখন ছুঁরি দিয়ে কাটা যাচ্ছে পরে তরবারির প্রয়োজন হবে কিনা এটাও আগাম বলা মুশকিল! এর জন্য হয়তো কোনো অতি বলশালী লোকের প্রয়োজন হবে যিনি কিনা ইয়ালি বলে এক কোপে কেকটা দু-টুকরা করে ফেলবেন...।

তো, খালেদা জিয়াকে ভুলে যাওয়ার জন্য দোষ দিয়ে আর কী হবে, কপালের ফের! ভুলে যাওয়ার জন্য দোষ দেয়া যেতে পারে না।

কিন্তু এখন এই ৬৯ পাউন্ডের কেক কাটার জন্য আমাদের এই সব বুড়ো-খোকাদের কর্মকান্ড দেখলে বেচারাদের জন্য বুকের ভেতর থেকে অদেখা কষ্ট পাক খেয়ে উঠে, আহারে, দলবাজি করার জন্য কত কিছুই না করতে হয়। প্রয়োজনে ভাঁড়ের মত আচরণও করতে হয়। এই দলে কে আছে এটা না-বলে বলা প্রয়োজন কে নেই? 'বারিস্টার' সাহেব, দুর্ধর্ষ মুক্তিযোদ্ধা থেকে শুরু করে কে আর বাদ আছে!
এটা বাস্তবে হচ্ছে কিন্তু আমার তো মনে হয়, বাংলা ছবিতেও এমন দৃশ্য সংযোজন করার পূর্বে দেলোয়ার জাহান ঝন্টুও তিন বার ভাববে।

এই বুড়ো-খোকাদের দেখে-দেখে খোকারাও শেখে। খোকারা কেক কাটতে গিয়ে নিজেরাই নিজেদের মধ্যে খানিক খুনসুটি করে। খোকাদের এই খুনসুটির নমুনা দেখে অবশ্য অনেকে ভারী রাগ করেছেন। আহা, কেন? খোকারা যে এই সব বুড়ো-খোকাদের যোগ্য শিষ্য...।


*২য় এবং ৩য় ছবিটি নেয়া হয়েছে: http://www.somewhereinblog.net/blog/celtic/28878485 থেকে।