Thursday, August 1, 2013

নোবেল জটিলতা!

আগ বাড়িয়ে জানিয়ে রাখা: (লেখাটা একটা ফিকশন। এই গ্রহ, গ্রহের বাইরে, কোনো গলিত শব, এমন কি তোতলা কোনো লাশের সঙ্গে মিলে গেলেও সেটা হবে নিছক কাকতালীয়।)

দেশটা নিয়ে [১] আগেও একটা লেখা দিয়েছিলাম। চিংগুরা দেশের [২, দেশটা কোথায় এটা বিস্তারিত বলা আছে এখানে] মহান সংসদের কথাবার্তার নমুনা শুনে নোবেল কমিটি স্বয়ং চলে এসেছেন। এর আরেকটা কারণও আছে অবশ্য, এরা এই দেশে এসে প্রচুর ওয়াইন এবং স্যান্ডুইচ গিলে পণ করেছেন যাওয়ার পূর্বে তারা একটা নোবেল গছিয়ে যাবেন, যাবেনই...।

সংসদে তুমুল বচসা হচ্ছিল। বিরাট হাউকাউ, কিছুই বোঝা যাচ্ছিল না! স্পিকার দমাদম হাতুড়ি পেটাচ্ছেন, হাতুড়ির মাথা খুলে একজন সামান্য আহতও হয়েছেন। মাইক বন্ধ করেও কোনো তারতম্য হচ্ছিল না। সংসদ সদস্যরা খালি গলায় যে গলাবাজী করছেন এতে করে মাইক না-থাকলেও কী আসে যায়!

সমস্যাটার উদ্ভব হয়েছে নোবেলটা আসলে কোন দল (কোন্দল না) পাবে এই নিয়ে! সমস্ত দলই দাবী করছেন তাদের কৃতিত্বের কারণে এটা কেবল তাদেরই পাওনা! কোনো ভাবেই এ বিতর্কের মিমাংসা হচ্ছিল না!
সবচেয়ে বেশী হইচই করছিলেন প্রধান দুইটা দল। এরাই বহু বছর ধরে দেশটার চাকা ঘুরাচ্ছেন বনবন করে, নইলে কবে দেশটার চাকা চারকোনা হয়ে যেত! ভাগ্যিস, দেশ চালাবার জন্য এরা ছিলেন নইলে ঈশ্বরও সম্ভবত এই দেশের হাল ধরতেন না!

প্রথম দলের প্রধানকে বলা হয়েছিল 'পয়েন্ট অভ অর্ডারে' দাঁড়িয়ে তাঁর বক্তব্য বলার জন্য। প্রথম দলের প্রধান বললেন চিলকন্ঠে, 'আমি দাঁড়ামু না। এই অর্ডার আমি মানতে পারুম না, আমার পায়ে বিষ, ব্যথায় অস্থির। তো, আমার বক্তব্য হইল, নোবেলের কেরতিত্ব আমাদের। কালো টাকা সাদা করার সময় কালো টাকা দিয়া দিছি বইল্যা নোবেলও দিয়া দিমু, কাভি নেহি (হিন্দি সিরিয়াল দেখার ফল)! জান দিমু কিন্তু আমরা এই নুবেলের এক কুনাও দিমু না। আমি এক কথার মানুষ, আপোষহীন!'

দ্বিতীয় দলের প্রধান মুহাহা করে হেসে বললেন, 'তাইলে আমিও পয়েন্ট অভ অর্ডারে দাঁড়ামু না, মিডল অভ অর্ডারে বইসা বলমু। আমি স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, আমার অনেকগুলা ডিগ্রি। আমি এই নুবেল ডিগ্রিটা নিতে রাজী হই নাই বইলাই নোবেল কোম্পানির লুকজন চিংগুরা দেশে চইলা আসছে। কারেন্টে অনেক ছাড় দিছি, আর দিমু না। আর নুবেলও দিমু না।'

তৃতীয় দলের প্রধান বললেন, 'সয়্যার অন মাই বলস', (এটা বলেই তিনি মাথা ছুঁয়ে কেন শপথ করলেন এটা ঠিক বোঝা গেল না!) আর্মিতে ছিলাম বইলা বন্দুক চালানের পাশাপাশি দেশ সেবায় পিছায়া আছিলাম না। আমার মত বড়ো মুক্তিযোদ্ধা দ্যাশে নাই কারণ সবাই যুদ্ধ করছে দেশে থাইক্যা আর আমি করছি শত্রু গো দ্যাশে থাইকা।
ভিতরের খবর কেউ রাখে না। নোবেল আমিই পামু। ইয়ের নল আর বন্দুকের নলই সমস্ত ক্ষমতার উৎস...।'

চতুর্থ দলের প্রধান হাক-মাওলা বলে উঠে দাঁড়ালেন, 'নোবেল জিনিসটা আবিষ্কার করছে নাসারা। নাসারাদের কুনু কিছু আমরা বেবহার করি না, ধর্মে নিষেধ আছে। কুলুপ করার লিগ্যা দরকার হইলে টিলা-পর্বত উঠায়া নিয়া আসুম কিন্তু টিস্যু বেবহার করুম না।
নারী নেতৃত্ব হারাম কিন্তু আমাগো ম্যাডাম যখন বলছে, তাইলে ঠিকাছে। এইটা আমাদেরই পাওনা। 'জাযাকুল্লাহ খায়রুন'!'

নোবেলটা আসলে কোন দলকে দেয়া হবে এর কোনো সুরাহা হলো না। নোবেল কোম্পানির কর্তা দুঃখের শ্বাস ফেললেন কোন কুক্ষণে যে এদের দেশের ওই লুকটার সঙ্গে ওয়াইন আর স্যান্ডুইচ খেতে গেলাম। হিক...।

১. চিংগুরা দেশ এবং হেলিকপ্টার: https://www.facebook.com/723002334/posts/10151403135592335

২. চিংগুরা দেশের সঠিক অবস্থান: আফসোস, আমার হাতে এখন যে ম্যাপটা আছে ওটার অবস্থা এমন জরাজীর্ণ যে স্ক্যান করা গেল না নইলে আমি চিংগুরা দেশটা কোথায় তা দেখিয়ে দিতে পারতুম।