Saturday, December 28, 2013

আমরা এই প্রজন্ম আছি এঁদের হাত ধরে।

সায়েরা বেগম নামের এক অসম্ভব দুর্ধর্ষ মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে একটা লেখা দিয়েছিলাম [১]- যার কারণে কেবল বিশাল এক এলাকা মুক্তই হয়নি নিচিহ্ন হয়ে গিয়েছিল সেখানকার পাকিস্তানি আর্মি!
ওই লেখায় এটাও উল্লেখ করেছিলাম, তিনি জানাতে চাননি কিন্তু কথাপ্রসঙ্গে আমরা জেনে গিয়েছিলাম, এই অসমসাহসী মানুষটার অনুমান তাঁর পেটে টিউমার!

আমরা অপেক্ষা করছিলাম একজন ডাক্তার, @Gulzar Hossain Ujjal জন্য যিনি শুক্রবারে ঢাকা থেকে এখানে আসেন। যে মানুষটার মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আছে সীমাহীন মমতা- তিনি যে কেবল কখনই কোনো মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে ফি নেন না এমনই না, ওষুধ বা প্রয়োজনীয় যথাসম্ভব সহায়তার ব্যবস্থাও করে দেন। অবরোধ-হরতালের কারণে দু-সপ্তাহ ধরে আসতে পারছিলেন না। আজ আমি এবং @Dulal Ghose সকাল থেকে অপেক্ষায়, উৎকন্ঠায়।

রেলের এখন যা তা অবস্থা- সকালের ট্রেন রাতে আসে, রাতের ট্রেন সকালে। অবশেষে বাসে, অটোতে করে ডা. গুলজার যখন পৌঁছান তখন বেলা অনেকটাই গড়িয়ে গেছে। lদুলাল ঘোষ ঠিকই সায়েরা বেগমকে নিয়ে এসেছিলেন, সঙ্গে তাঁর স্বামী। ডাক্তারের দেরি দেখে আমি ছল করে মানুষগুলোকে বাসায় নিয়ে আসি- কারো বাসায় হুট করে যেতে মানুষগুলোর কী সংকোচ! আহারে, এই মানুষগুলো কেমন করে বুঝবেন, আমরা এই প্রজন্ম তাঁদের জন্য কতটা আবেগ লালন করি! তাঁদের একটু স্পর্শের জন্য কতটা কাতর হয়ে থাকি।


সায়েরা বেগম এবং তার স্বামী ঘুরে ঘুরে বাসার সামনের খোলা জায়গায় আমার লাগানো গাছগুলো খুঁটিয়ে-খুঁটিয়ে দেখেন। বেচারা গাছদের বড়ো করুণ অবস্থা! আমি তাঁদের পরামর্শগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনি কারণ গাছের বিষয়ে তাঁদের জ্ঞান অপরিসীম! কিন্তু আমি জানি এই সব পরামর্শ বাস্তবে বিফলে যাবে- আজকাল গাছগুলোর তেমন পরিচর্যা করা হয় না। সময় কোথায়, দিনভর যে আমার কেবল অকাজ আর অকাজ!

আমি যখন বললাম, দাঁড়ান আপনাদের দু-জনের একটা ছবি তুলে দেই। ওয়াল্লা, মানুষগুলোর কী লজ্জা। অবশ্য সায়েরা বেগম স্বামীকে কপট ধমকও দেন, ‘হইছে শরম করতে হইব না এ তো আমাগো পুলার মতনই’। আমার চোখ অহেতুক ভরে আসে। অবশ্য আমি এটাও জানি যে এঁদের ছেলে দূরের কথা, এঁদের কোনো সন্তানই নেই।

যাই হোক, ডা. গুলজার সায়েরা বেগমকে দেখে অনেকটাই আঁচ করেছেন এই ভদ্রমহিলার টিউমার থাকার আশংকা প্রবল। কিছু আলট্রাসনোগ্রাম এবং আরও পরীক্ষা দিয়েছেন যেগুলো করে নিশ্চিত হতে চান অপারেশন সম্বন্ধে। যেগুলো করে আগামী সপ্তাহে তিনি নিশ্চিত করবেন।
একজন সহৃদয় সার্জন ডা. মামুনের সঙ্গেও আমার কথা হয়েছে তিনি আমাকে কথা দিয়েছেন, অপারেশনের প্রয়োজন দেখা দিলে তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন।
এখনও একেবারেই নিশ্চিত না যে অপারেশন লাগবেই। অপরেশন লাগুক আর নাই লাগুক, সরকার এদের স্বীকার করুক আর নাই করুক আমরা আছি- আমরা এই প্রজন্ম আছি এঁদের হাত ধরে। কার সাধ্য এ হাত ছাড়ায়...।

১. এক অসামান্য মুক্তিযোদ্ধা: https://www.facebook.com/ali.mahmed1971/posts/10151826798192335

No comments: