Saturday, August 31, 2013

জোভান্নী বোক্কাচো এবং তাঁর ধর্ম কথা

জোভান্নী বোক্কাচো চতুর্দশ শতকের ইতালীয় কবি, লেখক। বিশেষ করে নভেলা গল্পরীতির প্রকৃত জনক বলা হয়ে থাকে তাঁকে। বোক্কাচো'র রচিত 'ডিকাম্যারন'-এ একেকজন কথক একেকটা গল্প বলেন। কথক ফিলোমেনা যে গল্পটা বলছেন:
সালাদিন ছিলেন দ্বাদশ শতাব্দীর একজন শ্রেষ্ঠ বীর, সুশাসক। অনেক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার কারণে তিনি আর্থিক সংকটে পড়ে যান। তাঁর বিপুল অংকের টাকার প্রয়োজন দেখা দেয় কিন্তু কোত্থেকে যোগাড় করবেন এটা ভেবে পাচ্ছিলেন না।
হঠাৎ তাঁর মনে পড়ল আলেকজান্দ্রিয়ার 'মেলচি জেডেক' নামের একজন ধনী ইহুদির কথা যিনি চড়া সুদে টাকা ধার দিয়ে থাকেন। কিন্তু মেলচির কাছ থেকে টাকা যোগাড় করাটা সহজ কাজ ছিল না কারণ মেলচি ছিলেন অসম্ভব ধুরন্ধর-ধূর্ত একজন মানুষ। এদিকে নীতিগত কারণে সালাদিন আবার মেলচির কাছ থেকে জোর করে টাকা নিতেও চাচ্ছিলেন না। অনেক চিন্তাভাবনা করে সালাদিন একটা বুদ্ধি বের করলেন।

সালাদিন মেলচিকে ডেকে পাঠালেন। যথেষ্ঠ সমাদরও করলেন। এরপর বললেন, 'মেলচি, আপনি একজন সৎ ব্যক্তি। শুনেছি, আপনি অত্যন্ত জ্ঞানী এবং ধর্মীয় বিষয়ে আপনার জ্ঞানের কোনো তুলনা নেই। তাই আমার ধারণা, ইহুদি, খ্রীস্টান এবং ইসলাম এই তিনটি ধর্মের মধ্যে কোনটা সঠিক এটা আপনি বলতে পারবেন'।

মেলচি দেখলেন এ তো ভারী বিপদ কারণ ওই সময়ে খ্রীস্টান এবং মুসলমানদের মধ্যে ধর্মযুদ্ধ চলছিল। এ কারণে মেলচি ভাবলেন, সালাদিন যেহেত মুসলমান তাই ইসলাম ব্যতীত অন্য ধর্মের কথা বললে সালাদিন তাকে আটক করবেন এতে কোনোই সন্দেহ নেই।
আবার তিনি নিজে যেহেতু একজন ইহুদি- তার নিজের ধর্ম সঠিক না এটাই-বা বলেন কেমন করে! তাই তিনি এই নিয়ে অনেক চিন্তা করে একটা বুদ্ধি বার করলেন।
মেলচি বললেন, 'মহোদয়, আপনার প্রশ্ন অতি গুরুত্বপূর্ণ বিধায় এটা নিয়ে সূক্ষ চিন্তার অবকাশ রয়ে গেছে। আমি এটা ব্যাখ্যা করার জন্য আপনাকে একটা গল্প বলাটা জরুরি মনে করছি'।
সালাদিন বললেন, 'আচ্ছা, বলুন তাহলে'।

মেলচি শুরু করলেন, 'এক ধনী ব্যক্তি ছিলেন। তার ছিল অতি মূল্যবান, দূর্লভ এক আংটি। তিনি মৃত্যুর পূর্বে লেখাপড়া করে দিয়ে যান, তার যে ছেলেকে এই আংটি দিয়ে যাবেন সেই ছেলেই হবে তার সমস্ত সম্পদের উত্তরাধিকারী এবং পরিবারের প্রধান।
সেই ব্যক্তির ছিল একটি মাত্র পুত্র অতএব সেই পেল আংটিটি। সেই ছেলেও যখন বৃদ্ধ হলো তখন একই রকম উইল করল যে তারও মৃত্যুর পর...। এভাবে কয়েক বংশ পার হওয়ার পর আসল জটিলতাটা দেখা দিল। এক বংশের ছেলে হয়ে গেল তিনজন! তাদের পিতার কাছে আবার তিনজনই সমান আদরের। এদিকে তার প্রত্যেক সন্তানদেনও বায়না আংটিটি যেন তাকেই দেয়া হয়।

ওই পিতা পড়লেন এক বিকট ঝামেলায়। তিনি গোপনে অবিকল আরও দুইটি আংটি তৈরি করলেন এবং প্রত্যেক পুত্রকে গোপনে একটা করে আংটি দিলেন। সেই পিতার মৃত্যুর পর মহা জটিলতা দেখা দিল। প্রত্যেক পুত্রই দাবী করল, তার আংটিটিই আসল। এখন কোনটা আসল আর কোনটা নকল এই নিয়ে কোনো মিমাংসা হলো না বিধায় তারা আইনের আশ্রয় নিল। তাদের সেই আইনি লড়াই এখনও চলছে...'।

এবার মেলচি বললেন, 'প্রভু আমাদের সকলের পিতা, মহান ঈশ্বর আমরা তিন জাতিকে যে ঐশী আইন মানে ধর্ম দিয়েছেন এই বিষয়টাও অনেকটা এমন। এখন প্রত্যেক জাতিই এটা বিশ্বাস করে তাদের ধর্মটাই আসল। কিন্তু ওই তিন আংটির মত এরও ফয়সালা হয়নি কারণ কেবল ঈশ্বরই জানেন কোনটা আসল আর কোনটা নকল'।

সালাদিন এই চতুর ইহুদির উত্তরে স্পষ্ট বুঝে গেলেন এই মানুষটিকে ফাঁদে ফেলা সম্ভব না। এরপর তিনি সেই ইহুদিকে এটাও বলে দিলেন বিশেষ কোনো ধর্ম নিয়ে মন্তব্য করলে তিনি কি ব্যবস্থা নিতেন। ইহুদিও সালাদিনের সরলতায় মুগ্ধ হলেন। তিনি বিনা স্বার্থে প্রয়োজনীয় অর্থ সালাদিনকে দিতে সম্মত হলেন।
সালাদিনও মেলচিকে বন্ধু হিসাবে বরণ করে নেন এবং রাজকীয় মর্যাদা প্রদান করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাঁদের এই বন্ধুত্ব অটুট ছিল।"

*এ তো গেল গল্প। বাস্তবেও অধিকাংশ ধর্মেরই বক্তব্য সেই ধর্মেই মুক্তি...:
https://www.facebook.com/723002334/posts/10151365990812335

Friday, August 30, 2013

চিফ অভ স্টাফ হাইজ্যাক!

"...ডালিম চিফ অভ স্টাফের কামরায় (বিনা অনুমতিতে ডালিম সেনাপ্রধানের কামরায় ঢুকে পড়েছে) । হাতে তার স্টেনগান।...তখন সেনাপ্রধানের কামরায় ছিলেন জেনারেল শফিউল্লাহ, জেনারেল জিয়া, ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশারফ, কর্নেল নাসিম।
...আমি (এম এ হামিদ) ততক্ষণে উঁকিঝুকি মেরে ঘটনাস্থলে ফিরে এসেছি। ...এমন সময় অফিসের দরোজা খুলে গেল। বেরিয়ে এলেন জেনারেল শফিউল্লাহ। তার পেছনে পেছনে স্টেনগান হাতে ডালিম। শফিউল্লার মুখ কালো, গম্ভীর। স্পষ্ট বোঝা গেল একান্ত অনিচ্ছায় তিনি ডালিমের সাখে বেরিয়ে আসছেন।
ডালিমের পেছনে জেনারেল জিয়া, ডেপুটি চিফ অভ স্টাফ।

শফিউল্লা নিজের স্টাফ কারেই উঠলেন। ডালিম পেছনে। জিয়া তাকে (ডালিমকে) সহাস্যে বললেন, 'Come on Dalim, in my car.'
'No sir, I don't go in General's car.' ডালিমের সুস্পষ্ট জবাব, বলেই স্টেনগান উঁচিয়ে তার সশস্ত্র জিপে উঠে বসল। ডালিমের পেছনে চললেন জেনারেল জিয়া। তার পেছনে ডালিমের দ্বিতীয় সশস্ত্র জিপ। শাঁ শাঁ করে বেরিয়ে গেল চারটি গাড়ি। রীতিমতো তোলপাড়। পুরো অপারেশন শেষ হতে সময় লাগল ৫ থেকে ৭ মিনিট!
খোদ আর্মি হেডকোয়ার্টার থেকে আর্মি চীফ অভ স্টাফ হাইজ্যাক! অবিশ্বাস্য নাটকীয় ঘটনা!

...সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত আর্মি হেডকোয়ার্টার ছিল সম্পূর্ণ অরক্ষিত। যেখানে এতো বড়ো একটা অভ্যুত্থানের ঘটনা ঘটেছে তখন সেনাপ্রধান শফিউল্লাহ'র আর্মি হেডকোয়ার্টারের সৈন্যদের সতর্ক অবস্থা (Stand to) রাখা উচিত ছিল।
...সতর্ক অবস্থায় থাকলে ট্রুপস আত্মরক্ষামূলক পজিশনে থাকত। অন্তত মেইন গেটটা বন্ধ রেখে সরাসরি ভিজিটারস অনুপ্রবেশ বন্ধ করা উচিত ছিল। ...ওই দিন সকালে আর্মি হেডকোয়ার্টারে সামান্যতমও নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করলে সশস্ত্র জিপ নিয়ে ডালিম সরাসরি হেডকোয়ার্টারে ঢুকে সেনাপ্রধান শফিউল্লাকে ধরে নিয়ে যেতে পারত না।"
(সূত্র: তৎকালীন ঢাকার স্টেশন কমান্ডার লে. কর্নেল এম এ হামিদ-এর লেখা থেকে)

* উচ্চ আদালতের মন্তব্য ছিল, '...তৎকালীন সেনাপ্রধান ছিলেন কাপুরুষ...'। আমি মনে করি, তিনি কেবল কাপুরুষই ছিলেন না তিনি একজন অযোগ্য, অথর্ব সেনাপ্রধানও ছিলেন। দিনের-পর-দিন, বছরের-পর-বছর ধরে একজন সৈনিককে এই ট্রেনিংই দেওয়া হয় সে যেন যে-কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারে। অথচ এর কোনো ছাপ আমরা এই মানুষটার মধ্যে দেখতে পাই না!
একজন সেনাপ্রধানকে খোদ আর্মি হেডকোয়ার্টার থেকে ডালিম নামের বেসামরিক একজন লোক ধরে নিয়ে যায় এই লজ্জা এই মানুষটাকে বিন্দুমাত্র স্পর্শ করেছে, এটা অন্তত আমি বিশ্বাস করি না! এরপরও এই মানুষটা রসিয়ে রসিয়ে খাবার খেয়েছেন, জনসমক্ষে বড়-বড় কথা বলেছেন। আমরা হাঁ করে তার কথাও শুনেছি...!


আমার মতে, অথর্ব একজন সেনাপ্রধান শফিউল্লাহ এর স্থলে একজন যোগ্য সেনাপ্রধান থাকলে, হয়তো, হয়তো-বা বাংলাদেশের ইতিহাস অন্য রকম হতো।

**আরেকটা কথা, তখন একটা গুজব উঠেছিল যে, ভারতীয় সেনাবাহিনী বাংলাদেশ দখল করে নিতে পারে।
"...পরবর্তীকালে শ্রীমতি গান্ধী স্বীকার করেন যে, যুক্তরাস্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিক্সন তাঁকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে নিষেধ করেন..."।
সূত্র: Ashok Raina-এর লেখা Inside RAW, the story of India's Secret Service

Thursday, August 29, 2013

ঢাকায় রহস্যময় বিমান-সেনা হামলা (অভ্যুত্থান)!

তৎকালীন ঢাকার স্টেশন কমান্ডার লে. কর্নেল এম এ হামিদ তাঁর 'তিনটি সেনা অভ্যুত্থান ও কিছু না বলা কথা' বইয়ে লিখেছেন:
"বগুড়া বিদ্রোহের একদিন পর ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে আবারও জ্বলে উঠে ভয়াবহ বিদ্রোহের আগুন। হঠাৎ করেই এই বিদ্রোহ শুরু হলেও জিয়া ছিলেন (পুরোপুরি) প্রস্তুত। বিদ্রেহের আগাম সংবাদ পেয়েই তিনি আগেভাগেই উপযুক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
...ঢাকা এয়ারপোর্টে সব সিনিয়ার অফিসার উপস্থিত। চলছে প্লেন হাইজ্যাক ড্রামা। সবাই জাগ্রত। ক্যান্টেনমেন্টের সবগুলো ইউনিট সতর্ক অবস্থায়। জাগ্রত ৪৬ ব্রিগেড। ...আর্মি হেডকোয়ার্টারে সবাই উপস্থিত। সব অফিসে জ্বলছে বাতি।...

...এরকম সতর্কতামূলক অবস্থার মধ্য দিয়েই শুরু করা হলো ক্যান্টনমেন্টের উত্তর প্রান্তে অবস্থিত এয়ারফোর্স কলোনি থেকে বিদ্রোহ। কে বা কারা এয়ারফোর্স কলোনিতে এয়ারম্যান কোয়ার্টারে গিয়ে ডাকাডাকি, শ্লোগান দেয়। তারপর এয়ারম্যানদের জড়ো করে গাড়িতে তুলে মিছিল। ধর্মঘটি শ্রমিকদের মতো। কিছুক্ষণের  মধ্যেই শ্লোগানমুখর বিদ্রোহীরা ৮ম বেঙ্গল এবং টু-ফিল্ডের পাতা মৃত্যুফাঁদে আটকা পড়ে। এরপর নিধনযজ্ঞ।
এই তো অক্টোবর বিদ্রোহ!

২রা অক্টোবর সৈনিক বিদ্রোহ ছিল স্বল্পস্থায়ী কিন্তু এর ফলাফল ছিল ভয়াবহ ও মর্মান্তিক! ...কিভাবে হঠাৎ করেই বিপ্লবটি শুরু হয়, এ নিয়ে যথেষ্ঠ বিভ্রান্তি ও গভীর সন্দেহের অবকাশ রয়েছে।
বিদ্রোহীরা দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে শ্লোগান দিতে দিতে কল্পিত টার্গেটের দিকে অগ্রসর হয়। কোনো প্ল্যান নেই, প্রোগ্রাম নেই, নেতা নেই, লক্ষ্য নেই- তারা এগিয়ে চললেন এয়ারপোর্ট রোড ধরে। শ্লোগান মুখর সৈনিক, 'সিপাই সিপাই ভাই ভাই, অফিসারের রক্ত চাই'।

...পথে বনানীতে অস্ত্রাগার (COD) ভেঙ্গে তারা অস্ত্রশস্ত্র লুটপাট করল। তখন মধ্যরাত তিনটা। তারা ফায়ার করতে করতে এয়ারপোর্ট রোড ধরে ২নং এমপি চেকপোস্টের কাছে গিয়ে হাজির হল। প্রথম তিনটি ট্রাক চেকপোস্টে ডিউটিরত এমপিরা (মিলিটারি পুলিশ) থামিয়ে দেয়। তখন বিদ্রোহী সৈনিক মিলিটারি পুলিশদের মধ্যে প্রবল বাদানুবাদ চলতে থাকে। শ্লোগানমুখর বিদ্রোহীরা মিলিটারি পুলিশদের বাঁথা অতিক্রম করে ৮ম বেঙ্গল লাইনের দিকে এগিয়ে গেল।

...এরপর যেন নরকের দরোজা খুলে গেল। তাদের উপর শুরু হলো স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দ্বারা অবিশ্রান্ত ধারায় গুলিবর্ষণ। ...প্রথম তিনটি শ্লোগানমুখর ট্রাকের সৈনিকরা একে একে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। ততক্ষণ পর্যন্ত গুলি চলল যতক্ষণ পর্যন্ত না প্রত্যেকটা সেনা মারা গেলেন!

...২য় গ্রুপটি ছিল প্রধানত এয়ারফোর্স সেনাদের। পথে স্টেশন হেডকোয়ার্টারের কাছে টু-ফিল্ডের আর্টিলারি সৈন্যরা তাদের জন্য ফাঁদ পেতে অপেক্ষা করতে থাকে। বিদ্রোহীদের গাড়িগুলো মেশিনগানের আওতায় আসা মাত্র তাদের উপরও শুরু হয় গুলিবর্ষণ। এখানেও অনেক সৈনিকের মৃত্যু হয়।

...এরপর একে একে সবাইকে ধরা হয়। ...এদের ধরে নিয়ে ৮ম বেঙ্গল লাইনে বন্দী শিবিরে আটকে রাখা হয়। এই সব ভাগ্যহত বন্দীদের ভাগ্যে কী ঘটেছিল তা বলা মুশকিল!
ব্যর্থ হয় অক্টোবর অভ্যুত্থান। স্পষ্ট বোঝা গেল, তাদের কোনো নির্দিষ্ট প্ল্যান-প্রোগ্রাম ছিল না, কোনো নেতা ছিল না। তাহলে কার প্ররোচনায় হঠাৎ করে তারা এই হুজুগে অভ্যুত্থানে বেরিয়েছিল?
তা আজও এক রহস্য!"    

Wednesday, August 28, 2013

জিয়ার শুদ্ধি অভিযান!

লে. কর্নেল এম এ হামিদ ছিলেন জেনারেল জিয়ার কোর্স-মেট এবং খুবই ঘনিষ্ঠ বন্ধৃ। জনাব, হামিদ তখন ঢাকার স্টেশন কমান্ডার। খুব কাছ থেকে তিনি তখনকার ক্ষমতার পট পরিবর্তন দেখেছেন, দেখেছেন জিয়াউর রহমানকে, জিয়ার উত্থান-পতন, কূট-কৌশল, সবই...। 'তিনটি অভ্যুত্থান ও কিছু না বলা কথা'য় তিনি লিখেছেন:

"...এবার শুরু হলো জিয়ার শুদ্ধি অভিযান। বিদ্রোহী বিমান ও সৈনিকদের পাকড়াও করে তাদের নির্মমভাবে ঢালাও শাস্তি প্রদানের ব্যবস্থা করা হলো। সংক্ষিপ্ত বিচারের সুবিধার্থে 'মার্শাল ল' আইন করা হয়। বিশেষ সামরিক আইন করে বিশেষ সামরিক আদালত গঠন করা হলো। এই সময় লে. জেনারেল এরশাদ ছিলেন ডেপুটি চিফ। তারই তত্ত্বাবধানে এসব সংক্ষিপ্ত ট্রায়ালের নামে শুরু হলো অতি দ্রুত গতিতে বিচারের নামে প্রহসনের পালা।
মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে কয়েক শত সৈনিক ও বিমান সেনাদের ফাঁসির আদেশ দেওয়া হলো। তখন সেনা বা বিমান বাহিনীর কোনো প্রতিষ্ঠিত আইন-কানুন এই ক্ষেত্রে মেনে চলা হয়নি!

পাঁচটি কারাগারে এক সঙ্গে ৮/১০ জনকে পর্যায়ক্রমে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়। ফাঁসি ছাড়াও এলোপাথাড়ি ফায়ারিং-এ মারা যায় শত-শত সেনা। ফায়ারিং স্কোয়াডেও বহু সেনাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এছাড়া ঢালাওভাবে গ্রেফতারের পর বহু সৈনিকের মৃত্যু ঘটে অমানবিক নির্যাতনে। ৩ থেকে ৫ সেপ্টেম্বরের পর্যন্ত প্রতি রাতে সেনা ও বিমান বাহিনীর ব্যরাক থেকে সৈনিকদের ধরে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় নির্যাতন ক্যাম্পে, তাঁরা আর কখনই ফিরে আসেননি।

সারা ক্যান্টনমেন্ট জুড়ে হাহাকার। কান্নার রোল। কত সৈনিক, বিমানসেনা ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুললো, কতজন প্রাণ হারালো, কতজন গুপ্তহত্যার শিকার হলো এর কোনো হিসাব নেই।...
সরকারী হিসাব মতেই শুধুমাত্র দুই মাসে ফাঁসিতে লটকানো হয় ১১৪৩ জন সৈন্যকে। হতভাগ্য সৈনিকদের লাশ পর্যন্ত তাঁদের আত্মীয়স্বজনকে দেওয়া হয়নি! তাঁরা আজও খুঁজে ফেরেন তাঁদের প্রিয়জনকে।

কোথায় যে এতো লাশ গুম করা হলো এও এক রহস্য! ... অনেকের ধারণা, এটা ছিল পূর্ব-পরিকল্পিত এক নিধনযজ্ঞ। মধ্যরাতে সিগন্যাল লাইনস ও কুর্মিটোলা এয়ারফোর্স ব্যারাকে কে বা কারা শ্লোগান দিয়ে আহ্বান জানিয়ে শুরু করে বিদ্রোহ, তা আজও রহস্য।

পাক-ভারত ইতিহাসে কোনো সামরিক অভ্যুত্থানে এতো লোকের ফাঁসি, হত্যা, প্রাণহানি, জেল আর কখনই ঘটেনি!
কী আশ্চর্য! এতো বড়ো মর্মান্তিক ঘটনার কখনও নিরপেক্ষ তদন্ত হয়নি। কেউ তদন্ত দাবীও করেনি! কী বিচিত্র এই দেশ...!"         

Tuesday, August 27, 2013

কৃতজ্ঞতা, মি. হামিদ!

ক্ষমতার পট পরিবর্তনের সঙ্গে নিয়ম করে যে নিষ্ঠুর, কাপুরুষোচিত কান্ডটা ঘটে, সেটা হচ্ছে, ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা মানুষটিকে মেরে ফেলা। এটাকে বাধা অপসারণের জন্য সবচেয়ে সহজ উপায় বলে মনে করা হয়। কিন্তু ১৯৭৫ সালে যে হত্যাকান্ডটা হয়েছিল তার উদাহরণ এই গ্রহের অন্যত্র আছে কিনা এটা আমার জানা নেই। পরিবারের প্রায় সবাইকে খুন করা, ছোট্ট একটি শিশুকেও।

যারা এই কাজটি করেছিল এরা সবাই সামরিক লোকজন ছিল, সৈনিক-যোদ্ধা! আমি মনে করি, এদেরকে কোনো প্রকারেই যোদ্ধা বলা চলে না। একজন যোদ্ধা কখনই মেয়ে এবং শিশুর গায়ে হাত তুলতে, খুন করতে পারে না।

এমনকি দুর্ধর্ষ যেসব সন্ত্রাসী থাকে, যারা প্রফেশনাল- যাদের কাজ হচ্ছে টাকার বিনিময়ে খুন করা; এরাও একটা অলিখিত নিয়ম মেনে চলে। খুনের তালিকায় শিশু-মেয়েমানুষ হলে চুক্তিবদ্ধ হওয়া যাবে না।

যাই হোক, আরেকটা বেদনার দিক হচ্ছে, তার স্বজনেরা কখনই জানতে পারবেন না তার প্রিয়মানুষকে ঠিক কোথায় কবর দেওয়া হয়েছে। যেমনটা আমরা দেখেছি, জেনারেল মঞ্জুরের বেলায়। একজন মুক্তিযোদ্ধা, একজন সেক্টর কমান্ডার, একজন জেনারেল- যার কবরের কোনো চিহ্ন পর্যন্ত নাই!

লে. কর্নেল (অবঃ) এম এ হামিদ ১৯৭৫ সালে, তিনি তখন ঢাকার স্টেশন কমান্ডার। আমরা তাঁর মুখ থেকে শুনি:
"...রাত তিনটা...ক্রমাগত ফোন বেজেই চলল। (এতো  রাতে...) আমার স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে ফোন ধরলে ওপাশ থেকে মেজর আবদুল মতিন (পরবর্তীতে ব্রিগেডিয়ার) বললেন, 'আমি বঙ্গভবন থেকে বলছি, নূতন রাষ্ট্রপতি, এবং সেনাবাহিনী ও অন্যান্য বাহিনীর প্রধানসহ অন্যান্য উচ্চপদস্ত কর্মকর্তাদের পক্ষে আপনাকে যে মেসেজ দিচ্ছি তা হচ্ছে, আগামীকাল সূর্য উঠার আগেই, শেখ সাহেবের বাসার সমস্ত লাশগুলো বনানী গোরস্তানে দাফন করার ব্যবস্থা নিতে হবে'।" 

তাঁর উপর এই দায়িত্ব বর্তাবার পর স্টেশন কমান্ডার হামিদ প্রাণান্তকর চেষ্টায়, যথাসম্ভব মর্যাদার সঙ্গে প্রত্যেকটা লাশের আলাদা-আলাদা ট্যাগ লাগিয়ে কেবল আলাদা-আলাদা কবরে দাফনের ব্যবস্থাই করেননি, তিনি তাঁর প্যাডে আলাদা করে লিখে রেখেছিলেন কার কবর কোনটা।
এই প্যাডের লেখা ব্যতীত অন্যত্র আর কোনো রেকর্ড রাখা হয়নি বা ছিল না। সেই সময় এই সব নিয়ে মাথা ঘামাবার মত বাড়তি সময় কারো ছিল না!
ওই প্যাডের ফটোকপি তিনি যুক্ত করেছিলেন তাঁর লেখা বই, 'তিনটি সেনা অভ্যুত্থান ও কিছু না বলা কথা'-য়।

ওখানে তিনি লিখেছিলেন, "প্রথম কবরটা বেগম মুজিবের। দ্বিতীয়টা শেখ নাসেরের। তৃতীয়টা শেখ কামালের। চতুর্থ কবর মিসেস কামালের। পঞ্চম কবর শেখ জামালের। ষষ্ঠ কবরে মিসেস জামাল এবং সপ্তম কবরে শায়িত আছে মাস্টার রাসেল।"

...
লে. কর্নেল হামিদ যখন সিএমএইচ-এ এসে পৌঁছান তখন ঘটনাচক্রে সঙ্গে আলোচিত্রি আফতাব আহমদও ছিলেন।
খালেদ মোশারফের লাশ হুদা এবং হায়দারের সঙ্গে মর্গে থাকার কথা কিন্তু হামিদ এসে দেখেন অন্য দুইটা লাশ মর্গে আছে ঠিকই কিন্তু খালেদ মোশারফের লাশ অতি অবহেলা ভরে মাঠে ফেলে রাখা হয়েছে। তখন আফতাব আহমদ জেনারেল খালেদের দুই-তিনটা ছবিও তোলেন।

মাঠে অনাদরে ফেলে রাখা খালেদ মোশারফের লাশ সৈনিকেরা দলে-দলে এসে দেখছে, কেউ-কেউ লাশের উপর থু থু-ও দিচ্ছে!
সিএমএইচে তখন কোনো অফিসার ছিলেন না কারণ সৈনিকরা তখন কোনো অফিসারকে পেলেই চরম অপমান করছে, হত্যা করছে। লে. কর্নেল হামিদ কোনো অফিসারকে না-পেয়ে তখন একজন সুবেদারকে ডেকে বললেন, খালেদ, একজন সিনিয়র অফিসার। তাঁর লাশকে এভাবে অসম্মান করাটা অন্যায় হচ্ছে। তাঁর লাশটা মর্গে উঠিয়ে রাখার জন্য।
সেই সুবেদার তখন একজন ডোমকে ডেকে খালেদ মোশারফের লাশ মর্গে রাখার ব্যবস্থা করেন।

জনাব হামিদ, আরেকটা অসাধারণ কাজ করেছিলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খালেদ মোশাররফের পরিবারের সঙ্গে নিজে উপস্থিত থেকে বনানী কবরস্থানে খালেদ মোশাররফের লাশ দাফন করার ব্যবস্থা করেছিলেন


*জনাব হামিদ, দাবাড়ু রানী হামিদের স্বামী, ফুটবলার কায়সার হামিদের বাবা।

Friday, August 23, 2013

অভিজ্ঞতা, ডয়চে ভেলে-Deutsche Welle (DW.DE)

আজকের অতিথি লেখক, Farzana Kabir Khan Snigdha (https://www.facebook.com/khansnigdha). তিনি লিখছেন (Deutsche Welle (DW.DE)-এ চাকুরি করার সুবাদে ওখানকার অভিজ্ঞতা নিয়ে:
"ডয়েচে ভেলেতে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অভিজ্ঞতা হলো, বর্তমান বিভাগীয় প্রধান (দেবারতী গুহ) আমার তৈরী ফিচার নিজের নামে চালিয়ে দিয়েছিলেন।

আমি তখন ডয়েচে ভেলেতে নতুন। আমাদের সাপ্তাহিক মিটিংয়ে সাউথ এশিয়ান প্রধান একটা ফিচার করার দায়িত্ব বর্তমান বিভাগীয় প্রধানকে দিয়েছিলেন। তিনি ফিচারটি নিলেন ঠিকই। কিন্তু তা নিয়ে কাজ করার তার সময় ছিল না। আমার কাছে এসে অনুরোধ করলেন, ফিচারটি তৈরী করতে। 'প্রতিবন্ধী বিষয়ক' প্রতিবেদন ও ফিচার। আমি সব তৈরী করলাম। এমনকি ইন্টারভিউ পার্টনারও। আমার জন্য তা সহজ ছিল কারণ আমি বাংলাদেশে একটি প্রতিবন্ধী সংস্থায় কিছুদিন কাজ করেছিলাম।
তিনি আমাকে বললেন, 'তুমিই সব করো'।

তখন নতুন ঢুকেছি ডয়েচে ভেলেতে, নিয়ম-কানুন কিছুই জানি না। বললাম, 'তুমি আমার সঙ্গে মডারেশনের কাজটা করো তাহলে দুজনে মিলে প্রোগ্রামটা ভালো দাঁড়াবে'।
বর্তমান প্রধান আমার সঙ্গে কাজটি করলেন। কিন্তু আমি জানতাম না যে এই কাজটা ডেইলি প্ল্যানারকে দেখাতে হয়। সেদিন প্ল্যানার ছিলেন আবদুস সাত্তার। তিনি দেবারতী অর্থ্যাৎ বর্তমান প্রধানের কাছে ফিচারের খসড়া দেখতে চাইলেন। সে দেখাতে পারলো না, কারণ তার কাছে কিছুই ছিল না। তিনি আবদুস সাত্তার সাহেবকে মিথ্যে বললেন, যে এই ফিচার নাকি আগেই তার বাপী ( আব্দুল্লাহ আল ফারুক) এপ্রুভ করেছেন। অথচ আব্দুল্লাহ আল ফারুক সেই মুহুর্তে ছুটিতে ছিলেন। অথচ তিনি একবারও বললেন না যে এই ফিচার আমার তৈরী। এমন-কি তিনি আবদুস সাত্তারকে বলেছিলেন, যে ফারজানা শুধু পড়ে গেছে। পুরো ফিচার আমার মানে তার নিজের তৈরী করা।

আর এরকমটি করতে তাকে যে প্রশ্রয় দিয়েছেন তিনি হলেন প্রাক্তন বাংলা বিভাগীয় প্রধান আব্দুল্লাহ আল ফারুক। এমনকি সেই ফিচারের শ্রোতাদের রেসপন্স আব্দুল্লাহ আল ফারুক সাউথ এশিয়া হেডকেও জানতে দেননি। একজন মহিলা যিনি অন্যের লেখা চুরি করে সাংবাদিকতা করেন, তিনি হলেন বাংলা ভাষার বর্তমান বিভাগীয় প্রধান।

বন ইউনিভার্সিটির অধীনে ডয়চে ভেলেতে যখন আবার সাংবাদিকতায় মাষ্টার্স শুরু করলাম, তখন ডয়েচে ভেলে বাংলার অনেকেই ডেকে জিজ্ঞ্যেস করলো, 'কি ব্যাপার এখানে মাষ্টার্স করছো কেন? আবার কি ডয়েচে ভেলে বাংলায় কাজ করার ইচ্ছা? তুমি কি ভেবেছো, ওখানে মাষ্টার্স করলে তোমায় আবার চাকুরীতে নেবে? আর জার্মানিতে থাকো বলে জার্মান সো কলড সিস্টেমকে মেনে নেবে কেন আর কেনই বা আবার পড়ালেখা করবে'?

আমার উত্তর: শোনো হে কুয়োর ব্যাঙ, এই পৃথিবীটা ডয়েচে ভেলেতে শুরু আর শেষ হয়ে যায় না। আমার পৃথিবীটা অনেক বড়। ডয়েচে ভেলের ওই ছোট্ট কুয়োর জল খেয়ে তোমরা তৃপ্ত থাকো, আমি সমুদ্রের নোনা জলে ভাসতে চাই। পড়ালেখা করলে শুধু ডয়েচে ভেলে না সমগ্র পৃথিবীটাই আমার জন্য খোলা, আর তুমি ডয়েচে ভেলের দুয়ার ধরেই টানতে থাকবে আজীবন। জ্বী হুজুর আর জ্বী হুজুরে মাতোয়ারা ভিক্ষুক হবে। চাকুরী চলে যাবার পরও আবার কবে ডাক পড়বে, সেই অপেক্ষায় থাকবে। আমি মুক্ত এবং স্বাধীন বিহঙ্গের মতো সামনের দিকে এগিয়ে যাবো। সঙ্গে আমার দেশের অধিকারের জন্য লড়াই করে যাবো। তুমি কুয়োর ব্যাঙ হয়ে জন্মগ্রহণ করেছিলে, বাংলাদেশের ওই দালালটাকে নিয়ে কুয়োতেই বাঁচবে এবং সেখানেই মরবে। ডয়েচে ভেলে ছাড়া তোমার অস্তিত্বই নেই।

এখানে উল্লেখ করাটা প্রাসঙ্গিক হবে, ডয়েচে ভেলে বাংলা রেডিও বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর জার্মান সরকারের পক্ষ থেকে স্বাধীনতার উপহার স্বরূপ। এটাই একমাত্র কারণ, আমি দেশের স্বার্থে আমাদের দেশের সম্পদ ডয়চে ভেলের বাংলা রেডিওকে ভারতীয় দখলদারিত্ব থেকে মুক্ত করতে কথা বলে যাবোই।

ডয়েচে ভেলের বাংলা বিভাগে আমার কোনো বন্ধু নেই। এমনকি সেখানকার কোন কর্মীর সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগও নেই। আমার একটাই দাবি, সেটি হলো- বাংলা বিভাগের প্রধান পদটি কোন যোগ্য, অভিজ্ঞ বাংলাদেশি সাংবাদিককে দিতে হবে। এছাড়া ডয়েচে ভেলের কাছে আমার ব্যক্তিগত কোন চাওয়া পাওয়া নেই। যা লিখছি তা দেশের স্বার্থেই লিখে যাচ্ছি।
বাংলাদেশে কোন যোগ্য সাংবাদিক নেই, এ কারণ দেখিয়ে ডয়েচে ভেলে বাংলা বিভাগের প্রধানের পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এক ভারতীয় বাঙালি ও বিতর্কিত নারী সাংবাদিককে।

ডয়েচে ভেলের গঠনতন্ত্রে স্পষ্ট লেখা আছে, এই পদটিতে অবশ্যই একজন বাংলাদেশি সাংবাদিককে নিয়োগ দিতে হবে। গত বছর এ পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির পর আমার জানা মতে, বাংলাদেশ থেকে ৩০ জনেরও বেশি যোগ্য ও অভিজ্ঞ সাংবাদিক আবেদন করেছিলেন। তাদের সবাইকে অযোগ্য ঘোষণা করে ব্যক্তিগত সুসম্পর্কের কারণে ভারতীয় এই ‘ভদ্রমহিলা’-কে চাকরিতে নিয়োগ দেন দক্ষিণ এশীয় বিভাগের প্রধান।

তার আগ পর্যন্ত বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান পদটিতে সব সময়ই নিয়োজিত ছিলেন বাংলাদেশি সাংবাদিক। তবে, এই পদটিতে ভারতীয় সেই নারীকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য শুধু দক্ষিণ এশীয় বিভাগের প্রধানকে দায়ী করা যাবে না। এ ব্যাপারে তাকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত ও প্রলুব্ধ করেছেন এবং নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বাংলা বিভাগের প্রাক্তন প্রধান, আব্দুল্লাহ আল ফারুক। তিনি বর্তমান বিভাগীয় প্রধানকে কন্যা সমতুল্য হিসেবেই দেখতেন।"
Farzana Kabir Khan Snigdha

*Deutsche Welle (DW.DE): brutal discriminatory organisation! : http://www.ali-mahmed.com/2013/07/deutsche-welle-dwde-brutal.html

**DW tells lies! Indian woman in disguise Bangladeshi : http://www.banglanews24.com/English/detailsnews.php?nssl=ac693c347ef0824c46c9aa1e374c25a0&nttl=0908201375129

Thursday, August 22, 2013

রাম গোপাল ভার্মাকে হার মানায় যে সত্য ঘটনা!

মিল্কিকে যেভাবে খুন করা হয়েছে বা মিল্কির হত্যাকারীকেও- এটা রাম গোপাল ভার্মার কোনো রগরগে মুভিকেও অনায়াসে ছাড়িয়ে যায়:

Wednesday, August 21, 2013

মন্ত্রী মহোদয়ের আগমণ, শুভেচ্ছা স্বাগতম!

রেল-মন্ত্রী আসবেন। ‘ডিজেল ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট’ বা 'ডেমো ট্রেন' উদ্বোধন করবেন! এই ডেমো-ট্রেন নিয়ে যাত্রীদের বিশেষ উচ্ছ্বাস নেই কারণ ট্রেনটা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত না, অথচ হওয়ার কথা। এমন না যে যাত্রীদের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ট্রেন ব্যতীত চলে না কিন্তু এই ট্রেনের ইঞ্জিন নীচে হওয়ার এবং এর কাঠামোর কারণে ভেতরে অত্যাধিক গরম থাকে। যাত্রা হয়ে উঠে অসহনীয়!
যারা এই ট্রেনগুলো কেনার জন্য দলবল সহকারে চৈনিক দেশে গিয়েছিলেন তারা নাকি পরে বলেছেন, তারা শীতকালে গিয়েছিলেন বলে বিষয়টা বুঝতে পারেননি!
যাই হোক, সে ভিন্ন প্রসঙ্গ!

তো, রেল-মন্ত্রী মহোদয় এই ট্রেন উদ্বোধন করবেন। চারদিকে সাজ-সাজ রব! ট্রেনটাকে সাজানো হয়েছে 'বিবাহ-কন্যার' মত। ভালই, সেটা বিষয় না। বিষয় হচ্ছে, পুরো জেলা শহরের যত 'আপসার' সাহেব আছেন তারা সবাই চলে এসেছেন এই ছোট্ট উপজেলায়।
গোটা জেলায় আজ অফিসের কোনো বড় কর্তাকে পাওয়া যাবে না। এখানকার খাদ্য নিয়ন্ত্রক জানালেন, 'ডিসি, ফুড' জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকও চলে এসেছেন। এখানে খাদ্য নিয়ে কী সমস্যা বুঝতে পারিনি কারণ এমন না যে যাত্রীদেরকে এক পোঁটলা করে খাদ্য দেওয়া হবে!
 

এখানকার হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সও চলে এসেছে। একজনই চালক অতএব আজ কোনো রোগীর মুমূর্ষু হওয়ার উচিত হবে না কারণ মন্ত্রী মহোদয় এখান থেকে না-যাওয়া পর্যন্ত কারো সাধ্য নেই অ্যাম্বুলেন্সের চাকা এক চুল নাড়ায়! নিয়ম ভেঙ্গে কেউ ভয়ানক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সের প্রয়োজন দেখা দিলে এর দায়-দায়িত্ব নীচে কারো উপর বর্তাবে এটা বলাটা সমীচীন হবে না। এই দায়িত্ব কেবল আকাশলোকের বাসিন্দার! 
 
আজ সমস্ত স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীও রেলস্টেশনে এই উদ্বোধন অনুষ্ঠানে চলে এসেছে। ক্লাশ ফেলে এখানে এদের কী কাজ কে জানে...!

Monday, August 19, 2013

বাকশাল, সেকাল-একাল!

ছবি ঋণ: আফতাব আহমদ
১৯৭৫ সালে দেশের সকল দলকে বিলুপ্ত করে বাকশাল গঠন করা হয় এবং দেশের সমস্ত সংবাদপত্র সীমিত করে সরকারের নিয়ন্ত্রণে মাত্র ৪টি দৈনিক চালু রাখা হয়েছিল। সাংবাদিকগণও সহাস্যে তাঁদের কলম ফেলে 'বাকশালি' কলম তুলে নিয়েছিলেন।

কে জানে, হয়তো বাঘও তখন ছালের বদলে শাল গায়ে দিয়ে ঘুরে বেড়াত। সবই বাকশাল- ভাগ্যিস, তখন এই গ্রহের অন্য দেশের লোকজনেরাও বাকশালি হয়ে যায়নি নইলে সর্বনাশ হয়ে যেত। এই গ্রহের সবই থাকত আপেল গাছ, বরই গাছ আর নাই!
ইটস আ লং লং টাইম এগো- সে তো অনেক কাল আগের কথা! তখনকার কথা এখন চর্বিতচর্বণ। আর সেই সব যে এনালগ যুগের কথা। তখন সবই এনালগ...।

এখন যে ডিজিটাল যুগ! এখনকার সবই ডিজিটাল স্টাইল।
"তথ্যপ্রযুক্তি আইন ২০০৬-এর ৫৭ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন যা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেউ পড়লে বা শুনলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হতে উদ্বুদ্ধ হতে পারে বা যার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র বা ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উস্কানি প্রদান করা হয়, তাহলে তার এই কাজ অপরাধ বলে গণ্য হবে। কোনো ব্যক্তি এ ধরনের অপরাধ করলে তিনি অনধিক ১০ বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন এবং অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।" [১]

এখন এর যে কঠিন প্রয়োগ- এরপর ওয়েবসাইটে কে আর লিখতে চাইবে? আর এমন ঘাড়ে তরবারি রেখে যে সমস্ত লেখা বেরুবে তা হবে বিকলাঙ্গ, পঙ্গু! পড়বেও মস্তিষ্কে বিকলাঙ্গ-পঙ্গু লোকজনেরা! বিচিত্র এ দেশ, এখানে কার যে কী ভূমিকা এটা কেউই জানে না! এই বিষয়ে আমাদের মন্ত্রী বাহাদুরদের বাতচিত শুনেই বোঝা যাচ্ছে ভবিষ্যতে এই আইনের পরিণতি কী হবে। এই বিষয়ে একজন বনমন্ত্রীও বাঘ্রগর্জন করে উঠেন। ভাবখানা এমন, যেন বাঘরাও আজকাল ওয়েবসাইটে লেখালেখি শুরু করেছে।
আরে বাবা, সবচেয়ে সহজ হচ্ছে, 'বিটিভি ওয়েবসাইট' নামে একটা ওয়েবসাইট চালু করে সমস্ত ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়া তাহলেই তো ল্যাঠা চুকে যায়।
এনালগ যুগে ছিল চারটা পত্রিকা আর এখন থাকবে একটা ওয়েবসাইট, 'বিটিভি ওয়েবসাইট'।

হায়রে, দেশের 'ডেরাইবারগণ'! ওয়েবসাইটে যারা লেখালেখি করেন এরা নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ান। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এখান থেকে এক পয়সা আয় তো দূরের কথা উল্টো আরও নিজের পকেট কাটা পড়ে! ভাতের কষ্ট তারপরও অনেকে লেখেন এবং লেখেন বলেই অনেক তথ্য আমরা নিমিষে জানতে পারি নইলে আমরা সেই এনালগ যুগেই যে পড়ে থাকতাম। সেই সময়, কবুতরগ্রাম, টেলিগ্রাম- টরে টক্কা। পত্রিকার পুরনো কপির জন্য পত্রিকা আপিসে ধর্ণা দেয়া।

এই সব বিষয় এদের মাথায় ঢুকবে না। অবশ্য শাসক পক্ষের কথা লিখলে কোনো সমস্যা নাই- আসতে আজ্ঞা হোক, বসতে আজ্ঞা হোক এই টাইপ লেখা। সরকারি দল নিয়ে জিন্দাবাদ-জিন্দাবাদ করলেই হয়। সমস্যা কেবল সরকারে সমালোচনা করলে, মুর্দাবাদ বললে। তাই চমৎকার বুদ্ধি বার করে কলমের নিব হালে কীবোর্ড ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে।
প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সঙ্গে এই আইনের পার্থক্যটা কেউ মিলিয়ে দেখলে অনায়াসে বুঝতে পারবেন।
প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক মিডিয়ার চেয়ে ওয়েবসাইট বা ইলেকট্রনিক বিন্যাসের উপর খড়গ নেমে আসার কারণ প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক মিডিয়ার পেটে চর্বি, মগজেও চর্বি, ভাবনাও চর্বিযুক্ত অথচ এখানকার লোকজনের যে একহারা, চর্বিহীন- নির্মেদ ভাবনা।

আর আইনে যে এক কোটি টাকা অর্থদন্ডের কথা বলা হচ্ছে, ওয়েবসাইটে যারা লেখালেখি করেন এদের কাছ থেকে এক কোটি টাকা আদায় করাটা বেশ মুশকিল হয়ে পড়বে! কারণ এদের পার্টসগুলো যদি খুলে-খুলে বিক্রি করা হয় তাহলেও পুরো বডির দামও এক কোটি হবে কি না এতে আমার ঘোর সন্দেহ আছে। আহা, কিডনি, লিভার, ফুসফুস ব্যতীত আর কীই-বা আছে বিক্রি করার? চোখ, বিক্রি হয়? চুল ধরছি না কারণ এটা আর ক-পয়সা হবে? আর নীচের দিকে নামছি না কারণ ওটা বেনাবেচা হয় কি না এটা আমার ভাল জানা নাই।

যে-কেউ ইচ্ছা করলেই যা-খুশি লিখে পার পেয়ে যাবে এটা আমার বক্তব্য না। জবাবদিহিতা থাকতে হবে কিন্তু যেভাবে এই আইন করা হয়েছে, এই আইনের প্রয়োগ করা হচ্ছে, এর যে অপব্যবহার হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। এর পূর্বেও আমরা দেখেছি ব্লগারদের ধরে ধরে গরুচোরের মত আচরণ করা হয়েছে। মিডিয়ার সামনে ল্যাপটপ, সিপিউ-মনিটর এর মত ভয়ংকর অস্ত্রের সামনে দাঁড় করিয়ে ছবি উঠানো হয়েছে!কারো চেহারা পছন্দ হলো না, ব্যস, দাও শালাকে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় আটকে। জেলে ভরে দাও। হায়, কেবল একটা লাইক দেয়ার অপরাধে পুলিশ লোকজনকে ধরে নিয়ে এসেছে।
এই আইনটা অনেকটা আমাদের অতি কুৎসিত কালো আইন ৫৪ ধারার মত। তোমাকে সন্দেহবশত আটক করলাম। যাও, নির্দোষ প্রমাণ করে আসো। আমাদের দেশে নির্দোষ প্রমাণ করতে গিয়ে মানুষের 'লাল সুতা' বেরিয়ে যায়!

আদিলুর রহমানকে যেভাবে গ্রেফতার করা হলো এটা নিয়ে আমার তীব্র-ঘোর আপত্তি আছে। আদিলুর 'বেহেশতের বড়ি পাতা' না যে তাঁর কেশও স্পর্শ করা যাবে না। বিশেষ করে তিনি একটি দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। আমাদের দেশে দল করা অধিকাংশ লোকজনের কর্মকান্ড নিয়ে আমার বিশেষ উচ্ছ্বাস নেই, শ্রদ্ধাও নেই কারণ এদের মতিগতি বোঝ ভার।
অতি বৃদ্ধ মানুষও নেত্রীর জন্মদিনের পারলে কেকের উপর উঠে বসে থাকেন [২] । বা নেত্রি যখন বলবেন, 'আমি নির্দেশ দিয়েছিলাম, দুই ঘন্টা লোডশেডিং দেয়ার জন্য যেন লোকজন বুঝতে পারে লোডশেডিং কাহাকে বলে, কত প্রকার ও কি কি...এখন বলে দিচ্ছি, লোডশেডিং যেন আরও বাড়িয়ে দেয়া হয়' [৩]
আর যায় কোথায়- দলের লোকজনের টেবিল চাপড়ে তিন উল্লাস! এটা যে কী ভয়াবহ কথা এটা কেউ নেত্রীকে বোঝাতে যাবেন না। কারণ এই দেশে এটার চল নাই!

তো, আদিলুরকে নিয়ে আমার বিশেষ আলাদা কাতরতা নাই কিন্তু তাঁকে যে ভঙ্গিতে আটক করা হয়েছে তাতে মনে হয় ডিজিটাল বাকশাল। ১০ আগস্ট রাতে বিনা গ্রেফতারী পরোয়ানায় তাঁকে সাদা পোশাকধারী পুলিশ আটক করে, তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা এবং ফৌজদারি ৫৪ ধারায়। এর মধ্যে ৫৪ ধারার কথা পূর্বেই বলেছি! ভাল কথা, তাঁর বেলায় ৫৪ ধারা কেন? একটি প্রথম সারির পত্রিকার সম্পাদককে আটক করার বেলায়ও কী ৫৪ ধারার প্রয়োজন দেখা দেবে? কারণ কী- তিনি কি সব ফেলে ভেগে যাবেন!

আদিলুর যদি ভুল তথ্য দিয়ে থাকেন অবশ্যই এর জন্য তাঁকে জবাবদিহি করতে হবে এই বিষয়ে আমার কোনো আলাদা বক্তব্য নাই। তবে এই কারণে মামলা দেয়া হলেও আদৌ গ্রেফতারের প্রয়োজন পড়ে না। তিনি লিখেছিলে ৫ই মে, ২০১৩ সালে মতিঝিলে হেফাজতের কর্মসূচিতে যৌথবাহিনীর অভিযানে ৬১ জন নিহত হয়েছেন:
"...Fact finding of Odhikar has, to date, found the names of 61 people who were killed and many more injured. However, actual numbers are very difficult to ascertain in the present repressive political situation. The international media, Aljazeera, reported that 50 people were killed..." [৪]
যে কারণে ৫৭ এবং ৫৪ ধারায় তাঁকে আটকানো হয়েছে।
"তাঁকে গ্রেফতার করার পূর্বে সরকার সংস্থাটির (অধিকার) কাছে নিহতদের নামধাম চায়। (অধিকার জানায়),‘তদন্ত কমিশন গঠিত হলে পরেই তার কাছে তালিকা দেয়া হবে। সরকার ওই তালিকা পেলে উল্টো সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে লাগবে বলে মনে করে সংস্থাটি।" [৫]
ওরা চেয়েছে বলেই না যেহেতু এই বিষয়টা নিয়ে পানি অনেক ঘোলা হয়েছে তা তদন্ত কমিশন গঠন করতে সরকারের সমস্যাটা কোথায়? ওই যে, স্বচ্ছতা অভাব...। নিজেদের কফিনে পেরেক ঠুকতে হবে না!

তারপরও...বেশ, তর্কের খাতিরে না-হয় ধরে নিলুম আদিলুরের কাজটা খুবই 'খ্রাপ' হয়েছে।
তা, অন্য দলের লোকজনেরা যে তোতা পাখির মত অনবরত বলে এসেছেন, এই অভিযানে হাজার-হাজার মানুষ মারা গেছেন! গায়েবানা জানাজাও করেছিলেন তারা। এসব দেখে সাধারণ মানুষ কেবল বিভ্রান্তই হয়নি, আতংকিতও হয়েছিল। তাদের কী শাস্তি দেয়া হয়েছে? এরা কী দেশে প্যানিক সৃষ্টি করেননি? নাকি এদেরকে ৫৭, ৫৪ ধারায় ফেলা যাচ্ছে না?

তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার এই আইনটা, এটা নিয়ে যে-রকম তুলকালাম কান্ড হওয়া প্রয়োজন ছিল তা হয়নি। প্রিন্ট মিডিয়ার তো সামনেও ছিপি এঁটে রেখেছে, পেছনেও।
একবার পড়েছিলাম, প্রিন্ট মিডিয়ার কারো বিরুদ্ধে মামলা হলে মামলা চলবে কিন্তু তাকে গ্রেফতার করা হবে না।
আচ্ছা, ভাল কথা, দেখা গেল সরকার যার বিরুদ্ধে এই আইনে মামলা করবে সেই মানুষটা নিরপরাধ প্রমাণিত হলে, তখন কী হবে! সরকার কি তাকে দুই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেবেন?

*ছবি ঋণ: আফতাব আহমদ। (ছবিতে গণভবনে সাংবাদিকদের বাকশালে আনুষ্ঠানিক যোগদান।)

**এবার ষোলো কলা পূর্ণ হলো! এখন কেউ আর ইন্টারনেটে লেখালেখি করার নামও নেবে না। পুলিশ এখন ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেফতার করতে পারবে!
এখন এখানে কি লেখা হবে তা নিকটস্থ থানায় দেখিয়ে নিতে হবে কিনা বিস্তারিত হয়তো পরে জানা যাবে...।  

"তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (সংশোধন)  অধ্যাদেশ-২০১৩-এ শাস্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করে ন্যূনতম ৭ বছর এবং সর্বোচ্চ ১৪ বছর কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। ২০০৬ সালে পাস হওয়া তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে সর্বোচ্চ ১০ বছর সাজার বিধান ছিল। এছাড়া ওয়ারেন্ট ছাড়াই পুলিশ এখন এ সংক্রান্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারবে। আগের আইনে এটি উল্লেখ ছিল না।" আমাদের সময়: http://dainikamadershomoy.com/archive_details.php?id=98426&&%20page_id=%205&issue_date=%202013-08-20 




সহায়ক সূত্র:
১. তথ্যপ্রযুক্তি আইন: http://www.kalerkantho.com/print_edition/print_news.php?pub_no=320&cat_id=3&menu_id=85&news_type_id=1&index=0
২. বুড়ো খোকারা...: https://www.facebook.com/photo.php?fbid=10151583307347335&set=a.10151298132117335.465193.723002334&type=1
৩. দুই ঘন্টা লোডশেডিং...: http://us.prothom-alo.com/detail/date/2012-09-05/news/286812
৪. অধিকার ওয়েবসাইট: http://odhikar.org/?p=5714
৫. bdnews24.com

Sunday, August 18, 2013

বুড়ো খোকা এবং খোকা!

আমার পরিচিত লোকজনেরা এটা বিলক্ষণ জানেন, ভুলে যাওয়ার জন্য আমার কুখ্যাতির কথা। এই নিয়ে এরা বিস্তর হাসাহাসি করেন। এই সব রসিকতা সহ্য না-করে উপায় নেই আমার কারণ কপালের ফের, এটা আমার হাতে নাই! উপর থেকে আমাকে পাঠাবার সময় কিছু একটা ভজকট হয়েছিল কোথাও!

কিন্তু এও সত্য, এই নিয়ে আমার মনখারাপ-করা শ্বাসে বাতাস ভারী হয়। কিন্তু এই বেদনা অনেকখানি লাঘব হয় যখন দেখি আমি যে একা নই।
ওয়াল্লা, বেগম খালেদা জিয়া দেখি আরও ভুলোমনা! অনেকটা কাল তিনি তার জন্মতারিখ বেমালুম ভুলে বসে ছিলেন। স্কুলবেলায় মনে হলো এটা, বিবাহবেলায় মনে হলো ওটা- আবার ভোটার আইডির সময় মনে হলো, দূর ছাই, এটা-ওটা না, সেটা!

কিন্তু অবশেষে, একদা..., হঠাৎ একদিন মনে হলো, ১৫ আগস্ট তার জন্মদিন! এরপর থেকে ভুলে যাওয়ার মাশুলের কারণে কিনা কে জানে ঘটা করে ইয়া বড়-বড় কেক কাটা শুরু করলেন! কালে-কালে এই কেক ৬৯ পাউন্ডে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। এটা কোথায় গিয়ে ঠেকে কে জানে! এখন ছুঁরি দিয়ে কাটা যাচ্ছে পরে তরবারির প্রয়োজন হবে কিনা এটাও আগাম বলা মুশকিল! এর জন্য হয়তো কোনো অতি বলশালী লোকের প্রয়োজন হবে যিনি কিনা ইয়ালি বলে এক কোপে কেকটা দু-টুকরা করে ফেলবেন...।

তো, খালেদা জিয়াকে ভুলে যাওয়ার জন্য দোষ দিয়ে আর কী হবে, কপালের ফের! ভুলে যাওয়ার জন্য দোষ দেয়া যেতে পারে না।

কিন্তু এখন এই ৬৯ পাউন্ডের কেক কাটার জন্য আমাদের এই সব বুড়ো-খোকাদের কর্মকান্ড দেখলে বেচারাদের জন্য বুকের ভেতর থেকে অদেখা কষ্ট পাক খেয়ে উঠে, আহারে, দলবাজি করার জন্য কত কিছুই না করতে হয়। প্রয়োজনে ভাঁড়ের মত আচরণও করতে হয়। এই দলে কে আছে এটা না-বলে বলা প্রয়োজন কে নেই? 'বারিস্টার' সাহেব, দুর্ধর্ষ মুক্তিযোদ্ধা থেকে শুরু করে কে আর বাদ আছে!
এটা বাস্তবে হচ্ছে কিন্তু আমার তো মনে হয়, বাংলা ছবিতেও এমন দৃশ্য সংযোজন করার পূর্বে দেলোয়ার জাহান ঝন্টুও তিন বার ভাববে।

এই বুড়ো-খোকাদের দেখে-দেখে খোকারাও শেখে। খোকারা কেক কাটতে গিয়ে নিজেরাই নিজেদের মধ্যে খানিক খুনসুটি করে। খোকাদের এই খুনসুটির নমুনা দেখে অবশ্য অনেকে ভারী রাগ করেছেন। আহা, কেন? খোকারা যে এই সব বুড়ো-খোকাদের যোগ্য শিষ্য...।


*২য় এবং ৩য় ছবিটি নেয়া হয়েছে: http://www.somewhereinblog.net/blog/celtic/28878485 থেকে।

Wednesday, August 14, 2013

তোয়ালে এবং হলুদ ফুল!

সিকি-আধুলি বা পুরা মন্ত্রী, আমলা-গামলা, পরফেসার(!), ম্যানেজার, যে স্যারই বলুন না কেন, অনেক স্যারই আছেন যিনি এই জিনিস অফিসের চেয়ারে রাখেন,  রাখেনই! যত বড় স্যার ততই চকচকে তার ওই নিত্য উপকরণটা। এটা ব্যতীত অফিসটা যেন কেমন বেমানান-বেমানান মনে হয়। জিনিসটা কি? আহা...।
ভলবিং(!) হোক বা রিভলবিং চেয়ারই হোক, এটায় নতুন-চকচকে বা তেল চিটচিটে একখানা তোয়ালে থাকবে, থাকবেই। চেয়ারখানা লেদারে মোড়া, না মখমলে, তাতে কী আসে যায়!

এর শানে নজুল কী? কেউ আমাকে অদ্যাবধি বোঝাতে পারেননি! চিঁ চিঁ করে কেউ-কেউ বোঝাবার চেষ্টা করেছেন যে চেয়ারটা ময়লা হয়ে যায়।
বেশ!
কিন্তু রেক্সিন-লেদারের চেয়ার ময়লা হয় কেমন করে! আগের যুগ তো এখন আর নাই যে স্যাররা মাথা চবচবে তেলে চুবিয়ে, তেল এবং মাথা দুই-ই নিয়ে অফিসে আসেন। এখন তো স্যাররা মাথায় একগাদা জেল মাখেন আর বাংরেজির খই ফোটান। এও আফসোস, তোয়ালে-স্যাররা বাংলাটাই শুদ্ধ করে বলতে পারেন না! বড়ই আফসোস- মায়ের ভাষা, আ মরি বাংলা ভাষা!

এই ছবিটার কথাই বলি। এটা একটা ঝাঁ-চকচকে অফিসের, এনসিসি ব্যাংক। সেন্ট্রাল এসি- স্ট্যান্ডবাই জেনারেটরও আছে। তর্কের খাতিরে ধরে নিলেও, স্যাররা যে দরদর করে ঘেমে মুখ-ঘাড় মুছবেন সে উপায়ও নাই। অবশ্য এদের ওয়শরুমেও দেখেছি চমৎকার একটা তোয়ালে ঝুলছে। তাহলে এই জিনিস অফিসের চেয়ারে কেন?

এটা আমার মোটেও বোধগম্য হয় না এই তোয়ালে অফিসের চেয়ারে জাঁক করে সাজিয়ে রাখা কেন, বাপু? এই জিনিস তো থাকবে পায়খানা, টাট্টিখানা, লেট্রিন, হালের বাথরুম, ওয়াশ-রুম বা রেস্টরুমে। নাকি অফিসের নিয়ম-কানুন সব বদলে যাচ্ছে? এখন-কী বদনাও অফিসের টেবিলে রেখে তাতে রজনিগন্ধা এনে সাজিয়ে রাখা হবে, ফ্লাওয়ার-ভাসের বিকল্প হিসাবে!

ভয়ে-ভয়ে আছি, কোনোদিন না দেখব স্যাররা টাট্টিখানার কমোড থেকে খাবলা-খাবলা হলুদ ফুল এনে গামলায় করে অফিসের টেবিলে সাজিয়ে রাখছেন। এবং ভারী অমায়িক, হাসিভরা মুখে ঝড়ের গতিতে অফিসের কাজ করে যাচ্ছেন। কে জানে, তখন কাজের গতি হয়তো বেড়েও যেতে পারে!

Monday, August 12, 2013

আমাগো দেশের বরেণ্য চিন্তক-সাহিত্যিক এবং ...সৈনিক।

দৈনিক সমকালের কালের খেয়ায় বই সম্বন্ধে আমাদেরকে নিয়মিত ওয়াকিবহাল করা হয়। একটি বইয়ের বিবরণ কেবল আমাকে টেনেছে বলব না- টেনে-টেনে লম্বা করে দিয়েছে! বইটির নাম হচ্ছে, 'শাহবাগ থেকে বলছি'। বইটির বিষয়ে লেখা হয়েছে এমন,
"...দেশের বরেণ্য চিন্তক-সাহিত্যিক এবং শাহবাগ গণজারণের সৈনিক ইমরান এইচ সরকারও লাকি আক্তারের রচনাসংবলিত এই আয়োজনের সম্পাদনা করেছেন আনোয়ারা সৈয়দ হক...।" (১৪ জুন ২০১৩)

ইমরান এইচ সরকার সাহেব যে দেশের একজন বিরাট বরেণ্য চিন্তক এবং সৈনিক এটা জানার জন্য রকেটবিজ্ঞানী হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। কারণ আমরা দেখেছি তিনি দেশ নিয়ে চিন্তায় এমন মশগুল থাকতেন যে তার কানের কাছে তোতাপাখি মত নাসিরুদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুর বিজবিজ করে কীসব-যেন বলার প্রয়োজন দেখা দিত!
আমরা আরোও দেখেছি, চিন্তক সাহেবের চিন্তার সূত্র ধরিয়ে দেওয়ার জন্য নিয়মিত একটি দলের পান্ডাদের বিকট উপস্থিতি!

অবশ্য পরে আমি ইমরান এইচ সরকার সাহেবের মধুবাণী শুনে মুগ্ধ হতাম। কী প্রলম্বিত ভয়েস, বেইবী! তিনি স্বাভাবিক করে বলতেন না। যেমন 'আমরা' বললে, প্রলম্বিত সুরে চিৎকার করে বলতেন এমন, 'আ-আ-আ ম-রা-রা-রা-আ-আ-আ...'।
কখনও এই চিন্তক সাহেবের কথা শুনে মনে হতো চিফ মার্শাল ল এডমিনিস্ট্রেটরের কথা শুনছি, 'আ-আ-আ-প-না-রা-রারা-হ এই করবেন, আ-আ-আ-প-না-রা-রারা-হ সেই করবেন...'।
অনুরোধ না, আদেশ। ওনার আদেশ শুনে তো ভয়ে আমার ইয়ে বন্ধ হয়ে যেত।
একবার তো বলে বসলেন, লোকজন বলে কে শক্তিশালী, শাহবাহ নাকি সরকার? আমি বলি, শাহবাগ। ভাগ্যিস, বলে বসেননি, আমি সরকার শক্তিশালী।

তো চিন্তক সাহেব, সৈনিক সাহেবের কথা তো আমরা জানিই। অবশ্য এখানে একটা অন্যায় হয়েছে তিনি যে একজন কঠিন 'অনলাইন এক্টিভিক্টিফিস্টিস' ('আংরেজি' আমি একটু কম বুঝি ঠিক শব্দটা বলতে পারছি না। ওই যে যারা অনলাইনে লেখালেখি করেন, কী বলে এঁদের কে!) এখানে এটার উল্লেখ করা হয়নি!

ওয়াল্লা, এখন তো দেখছি তিনি সাহিত্যিকও- কত অজানা রে! সলাজে বলি, বাংলাদেশের সাহিত্য ভুবনের সব জেনে তো আর বসে নাই আমি- ভদ্রলোকের সাহিত্য নিয়ে কারো কাছে কোনো তথ্য থাকলে, জানান না একটু, প্লিজ...।

Sunday, August 11, 2013

১০০০ পয়সা এবং...

আগের এক লেখায় লিখেছিলাম, আমাদের মতিউর রহমান একটা 'পরতিকা' চালান। কোন মতিউর রহমান? যুদ্ধাপরাধী নাকি শপথধারী, এটা পূর্বের লেখায় বিস্তারিত জানানো হয়েছিল [১]
এই 'পরতিকাটি' বিজ্ঞাপনসহ বিভিন্ন কেরামতিতে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে সেই কবে! জীবনটা একটা লম্বা দৌড় তেমনি এখানেও আছে দৌড়। আজকাল 'দৈনিক সমকাল' দেখি অন্তত বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে এই পরতিকাটিকেও অবলীলায় ছাড়িয়ে গেছে!
 

কে বলে নগ্নগাত্রই অশ্লীল- পাঠক হিসাবে আমার চোখে প্রথম পৃষ্ঠার এই দৃশ্যও অশ্লীল! কেউ এটা বলছে না যে বিজ্ঞাপন ছাপানো হবে না নইলে পত্রিকা চলবে কেমন করে কিন্তু তাই বলে এই অবস্থা! কেউ-কেউ বলবেন, সাহেবদের দেশেও এমন ঘটনা যে ঘটছে না এমন না- অশ্লীলতা অশ্লীলতাই সেটা সাহেবদের দ্বারাই হোক বা অ-সাহেবদের দ্বারা...।
আহা, এদের বিজ্ঞাপন নিয়ে সমস্যা হলে আরও দু-চার পাতা যোগ করে বিজ্ঞাপন ছাপাক না, আটকাচ্ছে কে? ওই পাতাগুলো না-হয় বাচ্চাদের ইয়ে ফেলতে কাজে লাগবে।

১০০০ পয়সা খরচ করে এই সমস্ত আবর্জনা রাখাটা অন্তত আমার কাছে অর্থহীন...।
আর আমি অপেক্ষায় আছি, সেই দিনের জন্য যেদিন পত্রিকার নামটাও কোম্পানিগুলো কিনে নেবে। হয়তো কুদ্দুস গ্রুপ অভ ইন্ড্রাস্টিজ-এর একটা পণ্য কমোডের ছবি পত্রিকার নামের উপর শোভা পাবে। যেহেতু পত্রিকার লোকজনেরা আমাদেরকে সবই শেখান তাই কমোড ব্যবহারটাও শিখিয়ে দেবেন।
ভাল টাকা পেলে সম্পাদক সাহেব নিজেই বড়দের পটিতে উবু হয়ে পোজ দেবেন...। এমন দৃশ্য না-দেখে মরার কোনো ইচ্ছা আমার নাই...! 

ছবিসূত্র: প্রথম পৃষ্ঠা/ দৈনিক সমকাল, ৬ আগস্ট. ২০১৩
১. এই মতিউর রহমান সেই মতিউর রহমান না: https://www.facebook.com/723002334/posts/10151372795362335

Saturday, August 10, 2013

লিমন, তোমার কাছে খোলা চিঠি!

আজকের অতিথি লেখক, আবারও Adil Abir (https://www.facebook.com/adil.abir.3)। এবার তিনি লিখছেন চিঠি: 
"লিমন,
জি পি এ ৪ পাওয়ার জন্যে তোমাকে অভিনন্দন। পরিস্থিতি সাপেক্ষে তোমার রেজাল্ট ভাল, তবে যথেষ্ট ভাল নয়। এই ফলাফল নিয়ে তুমি খুব ভালো কোনো জায়গায় ভর্তি হতে পারবে না। অবশ্য এ সত্য, তুমি এখন কোটি মানুষের চেনামুখ, অজস্র মানুষের স্নেহ, সহানুভুতি আর ভালবাসায় সিক্ত হয়ে আছ। পরিচিতির দিক দিয়ে তুমি সেলিব্রিটি স্ট্যাটাসের লোক, ভালো কোথাও ভর্তি হওয়া বা ভাল বেতনের একটা চাকুরি তোমার জন্যে কঠিন কোনো সমস্যা না।

তবে আমি তোমার সমস্যা দেখছি অন্য জায়গায়, এবং সেইটা গুরুতর আকার ধারণ করতে কতক্ষণ আর? ইতোমধ্যে মানবাধিকার সংস্থার মহামান্য অতিমানব আবেগের জলকামান নিয়া থরো থরো কম্পমান
প্যান্টালুন মিজান একদফা তোমার দরদাম নিয়ে আলাপ সেরে ফেলেছেন। তার দরাদরিতে না, গাজিপুরের লোকজনই তোমাকে মামলা থেকে অব্যহতির ব্যবস্থা করছে।

তুমি হয়তো এরই মধ্যে অনেক শিক্ষিত, ওজনদার , সুশীল মানুষের বিক্রি হয়ে যাওয়া দেখে ফেলছ। তুমি সংবাদ শিরোনামে ছিলে দিনের পর দিন- যাদের কল্যাণে ছিলে সেই "সাংঘাতিক" লোকদের অনেকের সঙ্গে হয়তো তোমার ব্যক্তিগত যোগাযোগও স্থাপিত হয়ে গেছে। তুমি আরও দেখেছো পলিটিক্যাল সিস্টেমের মাঠ-পর্যায়ের বিক্রয়-কর্মীরা
তোমাকে অনেক অনুনয় বিনয় করে মামলা-টামলা প্রত্যাহার করতে বলছে, তুমি আবার রাজী না-হওয়ায় সেই অতি বিনীত মাঠ-কর্মীরা কেমন দ্রুত দক্ষতায় হুমকি-ধামকী সহ হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়। আর আমাদের রাজনীতির কুশীলবরা সময়ে অসময়ে স্বান্তনার কুম্ভীরাশ্রু বিসর্জন পূর্বক পিঠে ভরসার হাত বুলিয়েছে। মনে রাখবে ওগুলো হাত ছিল না, ওগুলো আসলে থাবা। হয়তো তারা কেউ-কেউ এখনও 'থাবাফোনে' তোমাকে কাছে রাখার, কাছে থাকার নিমন্ত্রণ আমন্ত্রণও জানায়।

ও হ্যাঁ, তোমাকে বলাই হয় নাই সেইসব বিদেশী ব্যাগওয়ালা করপোরেট সুশীলদের কথা। যারা কথায় কথায় হয়তো তোমাকে পাকি টিনেজ সেন্সানশন উলালা-মালালার কাহিনী বিস্তর শুনিয়ে শুনিয়ে যাওয়ার সময় মাটির সানকিতে পান্তাভাত পেয়াজ-মরিচ মেখে চেটেপুটে খেয়ে গেছে। সেই উলালা সুশীলরা ভাঁজ না-ভাঙা সার্ট পরে, মাথার মাঝখানে সিঁথি করে। তবে মনে রাখবে তারা যতবার মালালারে নিয়ে আলাপ করে ততক্ষণ উহ, আহ, চুক-চুক শব্দ করে, সেই শব্দগুলোর আওয়াজ রাতের নিস্তব্ধতায় ভিন্ন রকম লাগে, আর শব্দগুলার মানেও বদলে যায়।

কোনো-কোনো আলুর ব্যাপারিরা, যারা কথায় কথায় তহবিল গঠন করে, তোমার মা-বাবা মরলেও দেখবা পূর্বনির্ধারিত গ্যাংনাম জারী রাখবে- আর এই বিষয়ে প্রস্ন করলে তোমার কান গরম করা সঙ্গমতত্ত্ব জাহির করবে, শেষে তোমাকে 'ক্যামেরার সামনের ছেলেটি' টাইপ ট্যাগ লাগিয়ে দেবে।

এই বার আসল কোথায় আসি, তোমার বয়স কম, লাইট ক্যামেরা এ্যাকশন এই সব তোমাকে বিমোহিত করবেই, সমাজের সব স্তরের ভারী ভারী লোকজনের সান্নিধ্য তোমাকে সম্মোহিত করবেই। সব লালাঝরা সুশীল, সাংঘাতিক, রাজনিতিক, অধিকারপল্লীর অধিপতিতারা, এন জি ও দালালরা তোমার মাথা খারাপ করে দেয়ার মত মন্ত্রণা দেবে, লোভ দেখাবে, অবান্তর অবাস্তব স্বপ্ন একেবারে প্যাকেট করে তোমার হাতে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেবে। বিনিময়ে তোমাকে এই অল্প কিছু কাজ করে দিতে হবে।
হয়তো নিজেকে হিরো হিরো মনে হবে, হতেই পারে। কিন্তু আসলেই কি তুমি হিরো ? এক ঠ্যাং অন্যায় ভাবে কাটা পড়লেই হিরো? আর যারা কাটা ঠ্যাং দিয়া শৃঙ্খলা বাহিনীকে আক্রমণ করতে গিয়া ক্রুশবিদ্ধ হয়ে পটল তুলছে তারা তো তাহলে সুপার হিরো!

এইসব অবাস্তব হাইপে গলে গেছো তো মরছো। তুমি কোন হিরো টিরো না! তুমি একটা গরীব ঘরের সন্তান- ভাগ্যবান আবার দুর্ভাগা। ঠ্যাং হারিয়েছ তাই দুর্ভাগা আর তোমার বন্ধুরা তোমাকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে ছিনাইয়া নিতে যায় নাই, তাই ভাগ্যবান। কেউ কেউ তোমার মধ্যে কোনো ব্যক্তি গোষ্ঠীর প্রতি প্রতিশোধ পরায়ণতা জাগিয়ে রাখার মন্ত্রণা দেবে কিন্তু মনে রাখবে সমস্যাটা ব্যাক্তির না, সমস্যাটা সিস্টেমের। আগে নিজেকে ভাল করে চিনতে শিখ।

তুমি এখন বিশাল এক বানিজ্য সম্ভাবনাময় পণ্য হয়ে গেছ। রাজনীতির আন্দোলন, পাঁচ-তারা হোটেল, এন জি ও-র অনুদান, পত্রিকার কাটতি এই সব ব্যবসার জন্যে তোমার মত পণ্যরা খুব উপকারি, এই যেমন ধর মালালা, রেশমা, ফেলানী, শবমেহের, হেনা আরও অসংখ্য চরিত্র। যারা তোমার পাশে ছায়ার মত লেগে আছে তারা কেউ লিমনদের
ভালবেসে আসে না। তারা ঘটনাচক্রে তোমার কাছে, ব্যবসায়িক প্রয়োজন ফুরালে কেউ পাশে থাকবে না।
পাশে থাকবে কেবল বাবা মা, পরিবার আর কাছের বন্ধুরা। তোমার কুঁড়ে ঘরেই তোমার সুখ ওয়েস্টিনের নরম স্যুটে না।
আত্মমর্যাদা নিয়ে বড় হও, সাফল্য তোমার পিছনেই ছুটবে। বাবা মাকে ছালাম দিও।

ইতি,
তোমার একান্ত, এক শুভাকাঙ্ক্ষী।"
Adil Abir (https://www.facebook.com/adil.abir.3)

টবের গাছ-নারকেল গাছ!

ঈদ নিয়ে বড়-বড় মানুষদের চমৎকার-চমৎকার অজস্র সব কথা আছে। আমি মোটা চিন্তার মানুষ, এই সব কঠিন-জটিল কথা বুঝি কম। আমি মোটা দাগে যেটা বুঝি, ঈদ বা অন্য পার্বনগুলো আমাদের একটা অহেতুক ভুল ধারণা ভেঙ্গে দেয়!

দিনের-পর-দিন, মাসের-পর-মাস, বছরের-পর-বছর ধরে এই ভ্রান্ত ধারণা থাকি, আমরা একটা টবের গাছ! কিন্তু এই পার্বনগুলো সেই সুদূর শেকড়ের কথা মনে করিয়ে দেয়- যে শেকড়ের কথা আমরা সুদীর্ঘ কাল বিস্মৃত হয়ে ছিলাম। সেই শেকড় ধরে-ধরে আমরা ঠিক ঠিক আমাদের মূলের কাছে ফিরে যাই- তখন হতভম্ব হয়ে দেখি, ওয়াল্লা, আমরা দেখি নারকেল গাছ!

এই শেকড়ের কাছে ফেরার জন্য আমরা আরেকবার আকুল চেষ্টা করি কিন্তু তখন সেই বোধ আর আমাদের মধ্যে কাজ করে না! কারণ তখন আর আমাদের কোনো নাম থাকে না। সবাই তখন বলে, এই লাশ উঠাও, লাশ নামাও...।

Wednesday, August 7, 2013

আ রিয়েল হিজড়া!

আমরা যাদেরকে হিজড়া-নপুংসক-ক্লীব বলি, তাঁদের দেখে আমরা বিস্তর আমোদিত হই, অন্য গ্রহের প্রাণীর মতো এঁদের সঙ্গে আচরণ করি- এঁদের কারো-কারো সঙ্গে কাজ করার সুযোগ আমার হয়েছিল। স্টেশনে যে স্কুলটা চালু ছিল ওটায় স্টেশনের অনেক বাচ্চারা স্কুলে যেতে না-চাইলে এঁদেরই একজন, বাচ্চাদেরকে জোর করে স্কুলে পাঠাতেন। এই মানুষটা বাচ্চাদের কানের কাছে অনবরত বকে যেতেন, 'মনা, পড়, পড়- পড়াল্যাহার কুনু বিকল্প নাই'।

ওই মানুষটার এই বিষয়টা আমাকে অসম্ভব মুগ্ধ করত। তাঁকে কাতর গলায় একদিন আমি বললাম, 'আপনার দাওয়াত। আপনাকে একবেলা খাওয়াতে চাই'।
তাঁর সাফ উত্তর, 'না, আমি একা খামু না। খাওয়াইলে আমার লগে যারা আছে হেরারেও খাওয়াইতে হইব'।
খোঁজ নিয়ে জানা গেল এঁরা মোট ১২ জন। লোকসংখ্যার কারণে টাকা সমস্যা ছিল না কারণ প্রবাসী একজন লোকজনকে খাওয়াবার জন্য বেশ কিছু টাকা আমার কাছে পাঠিয়েছিলেন। তবে বড়ো কুৎসিত একটা শর্ত ছিল, কেবল মুসলমানদেরকেই খাওয়াতে হবে। শোনো কথা, আমি কী শ্লা পাকিস্তান আর্মি যে ইয়ে খুলে দেখব কে মুসলমান! আমার যেটা প্রয়োজন ক্ষুধার্ত মানুষ- তাদের পাওয়া নিয়ে কথা...। যাই হোক, সবার  সব কথা শুনতে নাই। এর দায় আমার উপর বর্তালে কী আর করা...।

আমি বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করলাম, দাওয়াতের দিন এঁরা অনেক দূর দূরান্ত থেকে ১২ জনই চলে এলেন। একবেলা খাবারের যে দাম আর যে টাকা খরচ করে এঁরা এসেছেন তা খাওয়ার খরচের চেয়ে অনেক বেশিই হবে।
কিন্তু এখানেই ছিল আমার অপার বিস্ময়, আমার শিক্ষাটা- এঁদের একজনের প্রতি অন্যজনের যে মমতা, আবেগ..., এটা।
আরেকবার, ঠিক এই বিষয়টাই খু্‌ব কাছ থেকে লক্ষ করলাম। স্টেশনে জিআরপি এঁদের একজনকে খুব করে মেরে গাড়ি থেকে নামিয়ে দিল। পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে এঁরা সবাই দল বেঁধে আমার কাছে এসেছিলেন নালিশ জানাতে। কী অবাক কান্ড! যাকে মেরেছে তাঁর চেয়ে তাঁর সঙ্গে বরং অন্যরা কাঁদছিলেন বেশি।
এঁদের মধ্যে একজন ছিলেন এক আর্মি অফিসারের সন্তান। কিন্তু তাঁর বাবা-মা তাঁকে পরিত্যাগ করেছিল। আমি সেই অফিসারকেও খুঁজে বের করতে সক্ষম হয়েছিলাম। সে অন্য কাহিনী...।

কিন্তু হায়, এঁদের কেমন করে বোঝাই, আমার তো তিন পয়সারও ক্ষমতা নাই! এঁদের এই সব বিষয়টা নিয়ে কঠিন করে বলতে গেলে, জিআরপি ওসি উল্টা আমাকেই বেঁধে রাখবে। যাই হোক, মিডিয়ার সঙ্গে জড়িত কিছু ছেলেপেলে আছে যারা 'হুদিহুদি' আমাকে পছন্দ করে। এদের বলার পর এরা ঝড়ের গতিতে অসাধারণ কাজ দেখালো! জিআরপি ওসিকে বাধ্য করল, ওই অভিযুক্ত জিআরপিটাকে কঠিন শাস্তি দেয়ার ব্যবস্থা করতে।

তো, যেটা বলতে চাচ্ছিলাম, যাদেরকে আমরা আসলে হিজড়া বলি, কেন বলি, ভুল বলি। আমার ভাষায়, এঁরা হচ্ছেন, 'ঈশ্বরের বিশেষ সন্তান, ভালবাসার সন্তান'! যাদের চোখে চোখ রাখার ক্ষমতা স্বয়ং ঈশ্বরেরও নাই।
আমার মনে পড়ে যায় আকিতার মা'র সেই কথাটা [১], তিনি বলেছিলেন:
'তুমি একটা ঘটনার স্বীকার মাত্র। প্রকৃতি তোমার প্রতি অন্যায় করেছে, তাই তুমি এই রোগের সংস্পর্শে এসেছ, যাতে তোমার কোনো হাত নাই!
...এবং, যখন কারো সঙ্গে কথা বলবে, তার চোখে চোখ রেখে কথা বলবে, বিন্দুমাত্র বিব্রতবোধ করবে না! কারণ তোমার প্রতি অন্যায় করেছে প্রকৃতি, লজ্জিত-বিব্রত হলে সে হবে, তুমি কেন?'

তাহলে আসল হিজড়া কারা? আহা এরা, আর কারা; যারা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এই সমস্ত তামাশা দেখে। যখন প্রকাশ্যে রাস্তায় কোনো কিশোরীর গায়ে হাত দেয়া হয় আর আমরা যারা গোল হয়ে দাঁড়িয়ে তামাশা দেখি বা বয়স্ক একজন মানুষকে যখন অপদস্ত করা হয় তখন আমরা দুঃখের শ্বাস ফেলি, আহা, কেন এই দৃশ্য তার সন্তানকেও দেখানো গেল না। একজন যুবক যখন কোনো অন্যায়ের প্রতিবাদ করে তখন আমরা নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে বলি, পপকর্ন নিয়ে গ্যালারিতে বসলুম। আমরা পরিণত হচ্ছি একেকটা তামাশাবাজে...।

বাস্তব জীবনের এই ছাপ পড়েছে ভার্চুয়াল ভুবনেও! এখানেও একই দৃশ্য! যখন এখানে কাউকে অহেতুক বাপ-বাপান্ত করা হয় তখনও আমরা বিমল আনন্দ বোধ করি। যে গালি দেয় সে না-হয় অসুস্থ কিন্তু যারা এটা দেখেও পাশ কাটিয়ে নিরাপদ দূরত্বে থাকে তাকে হিজড়া না-বলে উপায় কী!
কিন্তু এই সব হিজড়াদের মধ্যে থেকেও 'মরদ' বেরিয়ে আসেন। সেই মহিলাটি, যিনি, থেঁতলে যাওয়া সেই পুলিশের মাথাটি পরম মমতায় নিজের কোলে তুলে নিয়েছিলেন, হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন।
ভার্চুয়াল ভুবনেও যখন এমন-কোনো সাধারণ গৃহিণী এগিয়ে আসার চেষ্টা করেন তখন তাকে ইচ্ছা করেই নিবৃত করা হয়। আহা, তাহলে যে এই সমস্ত 'তামাশাবাজ' হিজড়াদের হিজড়াগিরি করার যে তামাশা, তাদের দেখার যে সুখ- এ অন্যত্র কোথায়...!

১. ঈশ্বরের বিশেষ সন্তান, ভালবাসার সন্তান: https://www.facebook.com/723002334/posts/10151438990152335

Thursday, August 1, 2013

নোবেল জটিলতা!

আগ বাড়িয়ে জানিয়ে রাখা: (লেখাটা একটা ফিকশন। এই গ্রহ, গ্রহের বাইরে, কোনো গলিত শব, এমন কি তোতলা কোনো লাশের সঙ্গে মিলে গেলেও সেটা হবে নিছক কাকতালীয়।)

দেশটা নিয়ে [১] আগেও একটা লেখা দিয়েছিলাম। চিংগুরা দেশের [২, দেশটা কোথায় এটা বিস্তারিত বলা আছে এখানে] মহান সংসদের কথাবার্তার নমুনা শুনে নোবেল কমিটি স্বয়ং চলে এসেছেন। এর আরেকটা কারণও আছে অবশ্য, এরা এই দেশে এসে প্রচুর ওয়াইন এবং স্যান্ডুইচ গিলে পণ করেছেন যাওয়ার পূর্বে তারা একটা নোবেল গছিয়ে যাবেন, যাবেনই...।

সংসদে তুমুল বচসা হচ্ছিল। বিরাট হাউকাউ, কিছুই বোঝা যাচ্ছিল না! স্পিকার দমাদম হাতুড়ি পেটাচ্ছেন, হাতুড়ির মাথা খুলে একজন সামান্য আহতও হয়েছেন। মাইক বন্ধ করেও কোনো তারতম্য হচ্ছিল না। সংসদ সদস্যরা খালি গলায় যে গলাবাজী করছেন এতে করে মাইক না-থাকলেও কী আসে যায়!

সমস্যাটার উদ্ভব হয়েছে নোবেলটা আসলে কোন দল (কোন্দল না) পাবে এই নিয়ে! সমস্ত দলই দাবী করছেন তাদের কৃতিত্বের কারণে এটা কেবল তাদেরই পাওনা! কোনো ভাবেই এ বিতর্কের মিমাংসা হচ্ছিল না!
সবচেয়ে বেশী হইচই করছিলেন প্রধান দুইটা দল। এরাই বহু বছর ধরে দেশটার চাকা ঘুরাচ্ছেন বনবন করে, নইলে কবে দেশটার চাকা চারকোনা হয়ে যেত! ভাগ্যিস, দেশ চালাবার জন্য এরা ছিলেন নইলে ঈশ্বরও সম্ভবত এই দেশের হাল ধরতেন না!

প্রথম দলের প্রধানকে বলা হয়েছিল 'পয়েন্ট অভ অর্ডারে' দাঁড়িয়ে তাঁর বক্তব্য বলার জন্য। প্রথম দলের প্রধান বললেন চিলকন্ঠে, 'আমি দাঁড়ামু না। এই অর্ডার আমি মানতে পারুম না, আমার পায়ে বিষ, ব্যথায় অস্থির। তো, আমার বক্তব্য হইল, নোবেলের কেরতিত্ব আমাদের। কালো টাকা সাদা করার সময় কালো টাকা দিয়া দিছি বইল্যা নোবেলও দিয়া দিমু, কাভি নেহি (হিন্দি সিরিয়াল দেখার ফল)! জান দিমু কিন্তু আমরা এই নুবেলের এক কুনাও দিমু না। আমি এক কথার মানুষ, আপোষহীন!'

দ্বিতীয় দলের প্রধান মুহাহা করে হেসে বললেন, 'তাইলে আমিও পয়েন্ট অভ অর্ডারে দাঁড়ামু না, মিডল অভ অর্ডারে বইসা বলমু। আমি স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, আমার অনেকগুলা ডিগ্রি। আমি এই নুবেল ডিগ্রিটা নিতে রাজী হই নাই বইলাই নোবেল কোম্পানির লুকজন চিংগুরা দেশে চইলা আসছে। কারেন্টে অনেক ছাড় দিছি, আর দিমু না। আর নুবেলও দিমু না।'

তৃতীয় দলের প্রধান বললেন, 'সয়্যার অন মাই বলস', (এটা বলেই তিনি মাথা ছুঁয়ে কেন শপথ করলেন এটা ঠিক বোঝা গেল না!) আর্মিতে ছিলাম বইলা বন্দুক চালানের পাশাপাশি দেশ সেবায় পিছায়া আছিলাম না। আমার মত বড়ো মুক্তিযোদ্ধা দ্যাশে নাই কারণ সবাই যুদ্ধ করছে দেশে থাইক্যা আর আমি করছি শত্রু গো দ্যাশে থাইকা।
ভিতরের খবর কেউ রাখে না। নোবেল আমিই পামু। ইয়ের নল আর বন্দুকের নলই সমস্ত ক্ষমতার উৎস...।'

চতুর্থ দলের প্রধান হাক-মাওলা বলে উঠে দাঁড়ালেন, 'নোবেল জিনিসটা আবিষ্কার করছে নাসারা। নাসারাদের কুনু কিছু আমরা বেবহার করি না, ধর্মে নিষেধ আছে। কুলুপ করার লিগ্যা দরকার হইলে টিলা-পর্বত উঠায়া নিয়া আসুম কিন্তু টিস্যু বেবহার করুম না।
নারী নেতৃত্ব হারাম কিন্তু আমাগো ম্যাডাম যখন বলছে, তাইলে ঠিকাছে। এইটা আমাদেরই পাওনা। 'জাযাকুল্লাহ খায়রুন'!'

নোবেলটা আসলে কোন দলকে দেয়া হবে এর কোনো সুরাহা হলো না। নোবেল কোম্পানির কর্তা দুঃখের শ্বাস ফেললেন কোন কুক্ষণে যে এদের দেশের ওই লুকটার সঙ্গে ওয়াইন আর স্যান্ডুইচ খেতে গেলাম। হিক...।

১. চিংগুরা দেশ এবং হেলিকপ্টার: https://www.facebook.com/723002334/posts/10151403135592335

২. চিংগুরা দেশের সঠিক অবস্থান: আফসোস, আমার হাতে এখন যে ম্যাপটা আছে ওটার অবস্থা এমন জরাজীর্ণ যে স্ক্যান করা গেল না নইলে আমি চিংগুরা দেশটা কোথায় তা দেখিয়ে দিতে পারতুম।