Saturday, July 6, 2013

রক্তের দাগ...।

আমি এক লেখায় লিখেছিলাম, ৭১, ৮১, ৯১, ২০০১, ২০১১ সালে কে খুন, অপরাধ করেছে এখানে সালটা মূখ্য না, আলোচ্য বিষয় হচ্ছে সেই অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে প্রচলিত আইনে শাস্তি দেওয়া হয়েছে কি না?

এক নব্য মুক্তিযোদ্ধা এটা নিয়ে অনেক 'ত্যানা' জড়ালেন। আমি নাকি বিচার চাই না বলেই ৭৫-এর কথা উল্লেখ করিনি! শোনো কথা, এদের ব্রেন কী সময়ে-সময়ে ড্রেন হয়ে যায়!
এখানে লম্বা একটা সময় বোঝাবার জন্য ১০ বছর পরপর একটা টাইম-ফ্রেম দাঁড় করানো হয়েছিল। সময়টা এখন ২০২১ হলে, ২০২১-ও এখানে চলে আসত। দাঁড়াত এমন: ৭১, ৮১, ৯১, ২০০১, ২০১১, ২০২১...।

এদিকে আবার অন্য এক মুক্তিযোদ্ধা গবেষক ওই নব্য মুক্তিযোদ্ধার সেই লেখার 'ত্যানা' ধরে অনেক টানাটানি করলেন- একবার জড়ালেন, একবার খুললেন, আবার জড়ালেন...। তাদের দলবল কেউ-কেউ সেই লেখায় পঞ্চতারকাও প্রদান করলেন। কেউ-বা আবার দাঁত কেলিয়ে হায়েনার হাসিও উপহার দিলেন!
আমি আর কী করব! আমার মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যে অল্প জ্ঞান, ওটার উপর ভরসা করে আর বাহাসে গেলাম না। তাছাড়া এদের যে অনেক অলৌকিক ক্ষমতা! নিমিষেই এরা মানুষকে ছাগলে, ছাগলকে মানুষে রূপান্তরিত করার বিচিত্র ক্ষমতা রাখেন!

যাই হোক, জার্মানিতে কোনো শিশুর নাম 'হিটলার' রাখা আইনত শাস্তিযোগ্য অপরাধ। নাৎসি বাহিনী যে ওখানেই কেবল নিষিদ্ধ তাই না, পৃথিবীর যেখানেই নাৎসি বাহিনীর সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো মানুষকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে তাকে ধরে এনে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। কারণ সে অপরাধী- কত বছর পূর্বে অপরাধ করেছিল এটা এখানে জরুরি বিষয় না। অপরাধ করেছে, শাস্তি পাবে- এই নিয়ে কারো বাড়তি কোনো কথা নাই।

অথচ আমাদের দেশে ৭১-এ খুন করে দিব্যি যে এরা ঘুরে বেড়িয়েছে এমনই না, কালে-কালে এদের গাড়িতে পতপত করে আমাদের পতাকাও উড়েছে। আফসোস, আমাদের দেশে এখনও পাকিস্তানের পতাকা নিয়ে মিছিল হয়, বড়ো বিচিত্র এ দেশ!
কখনও এরা বলে, ক্ষমা করা তো হয়ে গেছে। যদিও আমরা জানি সবাইকে ক্ষমা করা হয়নি। তারপরও যে কথাটা থেকে যায়, কে কাকে ক্ষমা করার অধিকার রাখে?

এমনিতে এরা কথায় কথায় ইসলাম ধর্মের বুলি কপচায় কিন্তু ইসলাম ধর্মে নরহত্যা বিষয়ে কোথায় ছাড় দেওয়া হয়েছে, এ নিয়ে টুঁ-শব্দও করে না!
"...কেউ অন্যায়ভাবে নিহত হলে তার উত্তরাধিকারীকে আমি প্রতিশোধ গ্রহনের অধিকার দিয়েছি...। (১৭ সুরা বনি-ইসরাইলঃ ৩৩)
"নরহত্যার ব্যাপারে তোমাদের জন্য বদলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে...।" (২ সুরা বাকারাঃ ১৭৮-১৭৯)
মোদ্দা কথা, যাকে খুন করা হলো তার উত্তরাধিকারীর উপরই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এই সিদ্ধান্তটা, কোনো রাজা-বাদশার উপর না।

১৯৭১ সালে সাদি মহাম্মদের পরিবারের ২৫ জন মানুষকে খুন করা হয়েছিল। যার বর্ণনা তিনি চ্যানেল আইয়ের একটা অনুষ্ঠানে বলেছিলেন। কেমন করে একেক করে তাঁর স্বজনদের জবাই করা হয়েছে, কোপানো হয়েছে। কেমন করে বাবাকে ফেলে তিনি পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন...। এই সমস্ত তীব্র কষ্টের কথা তিনি বুকে পাথর বেঁধে বলে গেছেন...।
ইচ্ছা ছিল এই লেখাটার সঙ্গে ওই ভিডিও ফুটেজটা এখানে জুড়ে দেওয়ার কিন্তু এটা কোনো কারণে আপলোড করতে পারছি না । এমন একটা ফুটেজ দেখার জন্য যে বুকের সাহস প্রয়োজন তা আমার নাই। আমি পুরোটা দেখতে পারিনি, এ বর্ণনাতীত!

হতাশায় আমরা নাহয় সব দেখেশুনে মুখ ফস্কে বলে বসি, ওই সব পুরনো জিনিস নিয়ে আর কত...। কিন্তু খুনের বিচার না-হলে আইন কোন কাজের? আইন তো কোনো খুনেরই বৈধতা দেয় না। ৭১ সালের খুন আমরা বিস্মৃত হলে ২০১৩ সালের খুন কী দোষ করল?
আর একজন সাদি মহাম্মদ কেমন করে বিস্মৃত হবেন তাঁর সেই অন্য ভুবনের কষ্ট! তিনি ব্যতীত কার এই ক্ষমতা আছে তাঁর স্বজনের খুনিকে ক্ষমা করার?

আমি যেটা মনে করি, ৪২ বছর গেল নাকি ৪২০ বছর তাতে কী- রক্তের দাগ মুছে ফেলা যায় না...।

1 comment:

Ripon Majumder said...

আপলোড করতে না পারেন, ভিডিও ফুটেজটার লিঙ্ক অন্ততঃ দেন, প্লিজ!