Wednesday, July 31, 2013

রক্ষীবাহিনী

ছবি ঋণ: আফতাব আহমদ। তিনি ছবির সঙ্গে লিখেছেন, 'রক্ষীবাহিনীর কুচকাওয়াজে অভিবাদন গ্রহণ করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান'।
অ্যান্থনি মাসকারেনহাস রক্ষী বাহিনী সম্বন্ধে 'শেখ মুজিবের মিলিটারি ভীতি অধ্যায়'-এ লেখেন:
"...'১৯৭৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শেখ মুজিব নিজেই আমাকে বলেছিলেন যে তিনি একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী গঠনের বিরুদ্ধে। আমরা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মত একটা দানব সৃষ্টি করতে চাই না'।

...অক্টোবর, ১৯৭৩ সালে আরব-ইসরাইল যুদ্ধ চলছিল। আরবদের পক্ষে সমর্থনের নমুনা হিসাবে মিশরে বাংলাদেশের অতি উন্নতমানের চা পাঠানো হয় কারণ তখন বাংলাদেশের পক্ষে অস্ত্র বা টাকা দেয়ার সামর্থ্য ছিল না। মিশর এ উপহার অতি আনন্দের সঙ্গেই গ্রহন করে। ...
যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত বাংলাদেশের এই বদন্যতার কথা ভোলেননি! তিনি বাংলাদেশকে ৩০টি 'টি-৫৪' ট্যাংক উপহার দিতে চাইলেন।
...কিন্তু শেখ মুজিব এই ট্যাংক গ্রহনে আগ্রহী ছিলেন না।...পরে তাঁর পররাষ্ট্র দপ্তর এবং মন্ত্রীরা বোঝালেন এই উপহার ফিরিয়ে দেয়াটা শিষ্টাচার বহির্ভূত।
শেষ পর্যন্ত এই ট্যাংক বাংলাদেশে আনা হয়েছিল...।

...শেখ মুজিব সেনাবাহিনীর বিকল্প হিসাবে 'জাতীয় রক্ষীবাহিনী' নামে একটা প্যারা-মিলিটারি বাহিনী গঠন করলেন। ওই বাহিনীর সকল সদস্যই শেখ মুজিবের ব্যক্তিগত আনুগত্য স্বীকার করে শপথ গ্রহণ করত। এই বাহিনীর নামটা শুনতে চমৎকার শোনালেও, বাস্তবে এই বাহিনী ছিল এক ধরনের প্রাইভেট আর্মির মত এবং এদের সঙ্গে হিটলারের নাৎসি বাহিনীর খুব একটা পার্থক্য ছিল না।...
...শেখ মুজিবের বিরোধিতা দিন-দিন বাড়তে থাকলে এই সংখ্যা ৮ হাজার থেকে ক্রমশ ২৫ হাজার করা হয়। এদেরকে মিলিটারি ট্রেনিং, আর্মি স্টাইলের ইউনিফর্ম, আধুনিক স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রে সজ্জিত করা হয়। রক্ষী বাহিনীর অফিসারদের মধ্যে প্রায় সবাই ছিলেন রাজনৈতিক একই মতে বিশ্বাসী।

রক্ষীবাহিনী দ্বারা সংঘটিত হত্যা-খুন, নির্যাতনের অজস্র প্রমাণ রয়েছে।...একটি ১৭ বছরের বালককে ৪দিন নির্যাতন করার পর তার লাশ পাওয়া যায়। এই ঘটনায় সুপ্রিম কোর্ট রক্ষীবাহিনীকে দোষী রায় দিয়ে তিরস্কার করেন। সুপ্রিম কোর্ট দেখতে পান, রক্ষীবাহিনী কোনো প্রকারের আইনেরই তোয়াক্কা করছে না, এমনকি কাউকে গ্রেফতার বা জিজ্ঞাসাবাদের কোনো রেজিস্টার পর্যন্ত তাদের কাছে ছিল না।
সুপ্রিম কোর্টের এই তিরস্কারের পর শেখ মুজিব এই সমস্ত বিষয়ে হস্তক্ষেপ না-করার জন্য সুপ্রিমকোর্টের ক্ষমতা খর্ব করেন।...

(পাশাপাশি)...
ব্রিগেডিয়ার মঞ্জুর আমাকে (অ্যান্থনি মাসকারেনহাস) বলেছিলেন, '...আমাদের জোয়ানদের খাবার নেই, অস্ত্র নেই...তুমি শুনলে অবাক হবে, তাদের জার্সি নেই, গায়ের কোট নেই, পায়ে দেয়ার বুট পর্যন্ত নেই। শীদের রাতে তাদেরকে কম্বল গায়ে দিয়ে ডিউটি করতে হয়। আমাদের অনেক সিপাহী লুঙ্গি পরে কাজ করছে। তাদের কোনো ইউনিফর্ম নেই। পুলিশ আমাদের লোকদেরকে পেটাতো।
...একবার আমাদের কিছু ছেলেকে মেরে ফেলা হলো...। আমরা শেখ মুজিবের কাছে গেলাম এবং বললাম, কে তাদেরকে এমন শাস্তি দিল! তিনি কথা দিলেন, বিষয়টা দেখবেন। পরে তিনি আমাদেরকে জানালেন, ওরা কোলাবরেটর ছিল বলে তাদেরকে মেরে ফেলা হয়েছে'।..."

*এই লেখাটা নেয়া হয়েছে ,অ্যান্থনি মাসকারেনহাস-এর 'বাংলাদেশ: আ লিগেসি অব ব্লাড' থেকে।

Saturday, July 27, 2013

জামাতে ইসলাম এবং ইসলাম!

আমাদের দেশে অনেকের ধারণা জামাতে ইসলাম-ইসলামী দল-ইসলাম সমার্থক। এটা যখন অশিক্ষিত লোকজনেরা মনে করেন তখন আমরা খানিকটা উদাসীন দৃষ্টিতে দেখি কিন্তু...।

যখন 'জেফকট', 'ডেভিডসন'-পড়া লোকজনেরাও এমনটা মনে করেন তখন আমরা শংকিত হই। আর যখন আমাদের দেশের অন্যতম কবি আল মাহমুদ [১] বলেন, "আমি ইসলামে বিশ্বাস করি। জামায়াতে ইসলাম দেশের নানান ঘটনায় নানা রকম রাজনৈতিক প্রক্রিয়া চালায়, এটার সাথে ইসলামের সম্পর্ক থাকতেও পারে। নিশ্চয় থাকবে, কারণ তারা তো ইসলামী দলই।"
তখন আমরা বড়ো অসহায় হয়ে পড়ি কারণ তখন আমাদের এই প্রজন্মের সামনে কেবল নিতল অন্ধকার!

এটা তো গেল আমাদের দেশের অপরাধীদের কথা কিন্তু  জামাতে ইসলামের বাপ মওদুদির তার আপন ছেলের বক্তব্য কী আমরা একটু শুনি: 

ভিডিও ১ [*]:

এখানে সাক্ষাৎকারে মওদুদীর ছেলে হায়দার ফারুক মওদুদি বলছেন, "...আমরা নয় ভাই-বোন। কিন্তু আমার বাবা (মওদুদি) কখনই চাননি আমরা কেউ জামাতে ইসলামীর সঙ্গে যুক্ত হই। একজন ড্রাগ ডিলার যেমন তার ড্রাগের প্যাকেট বাড়ির বাইরে রেখে আসে তেমনি আমার বাপও জামাতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো ধরনের যোগসূত্র বাসায় ভেতরে আসতে দিতেন না।..."
সোজা কথা, সবাই বিষ-ফরমালিন দেয়া ফল খাও কিন্তু আমার সন্তানদের খেতে দেব না!
video
ভিডিও ২ [*]:
জামাতে ইসলামীর জনক মওদুদীর ছেলের সাক্ষাৎকার থেকে আমরা আরও জানতে পারি, "জামাতের কার্যক্রম ধর্মের নামে এরা কেমন করে দাঙ্গা বাঁধিয়েছিল এবং এখনও এরা এই সবই করে যাচ্ছে। এবং কেমন করে আইএসআই এর সহায়তায় এই দেশে আল-বদর আল-শামস সৃষ্টি করা হয়েছিল। ওরা কেমন হিংস্র ছিল!
খুররম মুরাদের প্ররোচনায় একেক লাইনে ১৫জন করে বাঙালিকে দাঁড় করিয়ে কেমন করে পাখির মত গুলি করে মারা হয়েছিল! এবং স্বয়ং মওদুদী নিজেও কতটা হিংস্র ছিলেন। তিনি মাওলানা ভাসানীর মুখে আঘাত করেছিলেন, দাড়ি ছিঁড়ে ফেলেছিলেন। ভাসানীর চোখে মরিচের গুড়োও নিক্ষেপ করেছিলেন।"...

video
সহায়ক সূত্র:
১. মুক্তিযোদ্ধা (!), একজন কবি আল মাহমুদ!: http://www.ali-mahmed.com/2013/07/blog-post_234.html

*মূল ভিডিওটি ইউটিউবে আপলোড করেছিলেন: KashifHKhan

গুন্টার গ্রাস এবং তাঁর নাৎসি কানেকশন!

জার্মানির লেখক গুন্টার গ্রাস। চমৎকার একজন লেখক এবং মানুষ, গুন্টার গ্রাস। ২০০১-এ এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, '...ইসরাইল যেভাবে প্যালেস্তাইনের জমি দখল করেছে, তা রীতিমতো অপরাধ। ইসরাইলের উচিত ওই সব এলাকা ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া...'।

ছবি ঋণ: নাসির আলী মামুন
এমনিতে এই ভদ্রলোক যখন বাংলাদেশে এসেছিলেন তখন বলেছিলেন, 'নোবেল হচ্ছে এক বস্তা গু'!

 
রুচিশীল পাঠকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি, ভদ্রলোক যে বাক্যটাই ব্যবহার করেছিলেন তা বাংলায় অনুবাদ করলে তাই দাঁড়ায়। পাঠকের গা গুলালে 'গু'-এর স্থলে পড়বেন, 'সু'।
কিন্তু বিদেশী এই সাহেবকে যখন সত্যি সত্যি নোবেল দেয়া হলো তখন তিনি সবগুলো দাঁত বের করে, বউকে বগলদাবা করে ফটোসেশনও করলেন! যাই হোক, সে ভিন্ন প্রসঙ্গ।

নোবেল বিজয়ী গুন্টার গ্রাস, জীবনের শেষ সময়ে এসে ধিকৃত হচ্ছিলেন। কেন? তাঁর নাৎসি কানেকশনের জন্য। কেউ তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেনি কিন্তু তিনি তাঁর আত্মজীবনীতে নিজেই স্বীকার করেছিলেন, নাজির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৭! তিনি ছিলেন নাৎসি বাহিনী 'ভ্যাফেন-এসএস'-এর সদস্য।
কিন্তু তারপরও পৃথিবীব্যপী সমালোচনার ঝড় বয়ে গেল! তাঁর নোবেল প্রাপ্তিও জলে ভেসে গেল। এমনি-কি তাঁর নিজের শহরের লোকজনেরাও তাঁকে ক্ষমা করেনি, ছাড় দেয়নি!

আরেক নোবেল বিজয়ী লেচ ওয়ালেসা বলেছিলেন: গুন্টার গ্রাস যখন ২য় বিশ্বযুদ্ধে তার ভূমিকার কারণে বিতর্কিত, গুন্টারের উচিত হবে পোলিশ শহর গদানস্কের সম্মানসূচক নাগরিক এই খেতাবটি স্ব-ইচ্ছায় ছেড়ে দেয়া। ১৯২৭ সালে গুন্টার গ্রাস পোলিশ শহর গদানস্কে জন্মগ্রহন করেছিলেন...।

*এর আগে লিখেছিলাম, নাজির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত একটা পোশাক পরার কারণে প্রিন্স হ্যারিকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হয়েছিল: https://www.facebook.com/photo.php?fbid=10151542048122335&set=a.10151298132117335.465193.723002334&type=1
*আর আমাদের বাংলাদেশে? বাংলাদেশের একজন অন্যতম কবি আল মাহমুদ প্রকাশ্যে বাং-নাৎসিদের সমর্থনই দেন না পারলে তাদের জন্য প্রাণও বিলিয়ে দেন! আবার লেখাপড়া জানা মানুষ, একজন চিকিৎসক Afm Tareq Bhuiyan এসে আমাকে নসিহতও দেন, "...standard ektai rakhun: good and evil..." 
কী আস্পর্ধা! এদের দুঃসাহস দেখে হাঁ হয়ে যাই।
সহায়ক সূত্র:
১. মুক্তিযোদ্ধা (!), একজন কবি আল মাহমুদ!: http://www.ali-mahmed.com/2013/07/blog-post_234.html
 

Thursday, July 25, 2013

নাৎসি এবং 'বাং-নাৎসি'!

হ্যারি নাৎসিদের পোশাক পরে এক পার্টিতে গেলে ভারী গোলমাল শুরু হয়ে যায়। ইংল্যান্ডের 'দ্য সান' ম্যাগাজিন খবরটা প্রথম ফাঁস করেছিল। কাগজে বড়-বড় করে ছবি। হ্যারির এক হাতে ধরা মদের গ্লাস আর অন্য হাতে সিগারেট। হ্যারির হাসিমুখ ছবি। হাতের বাজুতে বাঁধা ব্যান্ডে স্বস্তিকার চিহ্ন। কলারে ব্যাজও আঁটা রয়েছে জার্মান ভারমাখট অর্থাৎ নাৎসি প্রতিরক্ষা বাহিনীর। পাশে হেডলাইন 'হ্যারি দ্য নাজি'।
প্রথমে যে জ্যাকেট পরে গিয়েছিলেন তিনি, তাতে ছিল নাৎসিদের পতাকা। আর জ্যাকেট খুলতেই ভেতরে খাকি শার্টে নাৎসি ব্যাজ আর আর্মব্যান্ড।

সান লিখেছিল: "...HAS Prince Harry lost all sense of reality? He will be joining the British Army in five months - the same Army that lost thousands fighting the Nazi menace..."

বিচিত্র জাতি এরা! সামান্য পোশাকে কি আসে যায়! এই নির্বোধরা আমাদের দেখে শেখে না কেন? 'বাং-নাৎসিদের' গাড়িতে পতপত করে উড়ানো পতাকায় আমরা স্যালুটও করেছি! আর আমাদের আল মাহমুদ [১] নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের একজন দাবী করে অমর হবার বাসনা পোষণ করেন আবার 'বাং-নাৎসিদের' চেরাগ ঘষেন, অবিরাম!

তো, হ্যারীর কুকীর্তির জন্য ইহুদিদের ক্ষুদ্ধ হওয়াই স্বাভাবিক। কারণ ব্রিটিশদের কাছে হিটলারের সময়ে এই নাৎসি প্রতীক ছিল অত্যন্ত ঘৃণার। প্রিন্স হ্যারির পোশাকটি ছিল জেনারেল এরউইন রোমেলের মরুযুদ্ধের ইউনিফর্মের অনুকরণে তৈরি। নাৎসি রোমেলকে বলা হতো 'মরুশৃগাল। তার 'আফ্রিকা করস'-এর হাতেও ব্রিটিশ সেনাবাহিনীসহ প্রচুর লোক মারা যায়।

সেই রোমেলের পোশাক পরে হ্যারির পার্টিতে যাওয়াটাকে নিয়ে তখন ব্রিটেনের রাজ পরিবারও বিব্রত-বিরক্ত হয়েছিল। তাছাড়া ওই সময়ে উদযাপন করবার কথা অসউইটজ কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প থেকে মুক্তির ষাটতম বার্ষিকী। এই কুখ্যাত ক্যাম্পটিকে রাশিয়ার রেড আর্মি এসে জার্মানদের হাত থেকে মুক্ত করে পোল্যান্ডকে। রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ ২৭ জানুয়ারী, ২০০৭ সালে সেন্ট জেমস প্যালেসে আহবান করেছিলেন তাঁদের, যাঁরা কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প থেকে বেঁচে ফিরেছিলেন। এ ছাড়াও আমন্ত্রিত ছিলেন সেই সময়কার ব্রিটিশ সেনারাও।

জার্মানি চেকোস্লাভাকিয়া আক্রমণ করার পরই আরম্ভ হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। সব মিলিয়ে চার কোটি লোক মারা যায়। তার মধ্যে আনুমানিক ষাট লক্ষ ইহুদি। কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের নৃশংস, ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। শুধু ইহুদি নয়, বেছে বেছে অত্যাচার করা হয়েছিল রুশ সৈনিক এবং পোলদের উপরেও। এর সমাপ্তি ঘটে ১৯৪৫ সালে।

হ্যারির এই কর্মকান্ডের কারণে রাজ-পরিবারের পক্ষ থেকে ক্লারেন্স হাউসের প্রেস অফিস তখন হ্যারির ক্ষমা চেয়ে লেখা একটি চিঠি প্রকাশ করেছিল। তাতে হ্যারি লিখেছিল, 'সরি, আমার পোশাকের নির্বাচন অত্যন্ত বাজে হয়েছিল। যদি এতে কারও কষ্ট হয়ে থাকে, তা হলে আমি ক্ষমা প্রার্থনা করি'।


সহায়ক সূত্র:
১. আল মাহমুদ: http://www.ali-mahmed.com/2013/07/blog-post_234.html

ছবি ঋণ: 'দ্য সান'

Wednesday, July 24, 2013

দুপেয়ে ছাগ-মানবের পা বনাম লুটেরার ছা!

লুটেরা একটি দেশ, বৃটেন। যে দেশটি এই গ্রহের কোথাও বাদ রাখেনি লুটতরাজ করতে। এখনও এদের জাদুঘরগুলো ভরে আছে লুটের মালে। রাজমুকুটে যখন লুটের অলংকার, কোহিনুর হীরা শোভা পায় তখন নির্লজ্জ বেশ্যাও লজ্জায় মরে যায়।
লুটেরার এক তাঁবেদার ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন এক সফরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, '...১০৫ ক্যারেট ওজনের কোহিনুর হীরাটি ফেরত দেওয়া হবে না'।

যে দেশের পাঁচজনের একজন নিরক্ষর, যারা ওষুধের গায়ে লেখা নির্দেশনাও পড়তে পারে না, এমনকি চেকবইয়ের অংকও। এরা নাকি আমাদেরকে কেতাদুরস্ত হওয়া শেখাবে!
সেই দেশের এক মহিলা একটি জিনিস প্রসব করেছেন। এই নিয়ে দুপেয়ে ছাগ-মানবদের উত্তেজনায় বাথরুম পর্যন্ত আটকে গেছে। এই ছাগ-মানবদের সবই আছে কেবল দুইটা পায়ের অভাব- এই কারণে ছাগলাদ্যঘৃত খান নিয়মিত!

'দ্য সান' পত্রিকা তাদের মাষ্টহেড বদলে 'দ্য সন (son)' করে দিয়েছে। আমাদের নির্বোধ পত্রিকাগুলো পিছিয়ে থাকবে কেন? তারাও প্রথম পৃষ্ঠায় ঘটা করে এই সব ছাপিয়েছে! প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন বলেন, এটা 'বিস্ময়কর খবর'। 'বিস্ময়কর খবর' কেন কে জানে! ক্যাটের জায়গায় কী উইলিয়াম এই কর্ম করেছেন!
আর আমরাই বা পিছেয়ে থাকব বুঝি! আমরা এমন লেখাও দিয়েছি, 'হে আল্লাহ, তুমি আমাদের নতুন রাজাকে হায়াত দাও। আমিন'।

কেন নয়? আমরা কেমন করে আমাদের প্রভুকে ভুলে যাব! আমরা কেমন করে ভুলে যাব আমাদের বাপ-দাদারা উবু হয়ে থাকত। সাহেব-মেম তাদের পিঠে পা রেখে ঘোড়ায় চড়ত। এই স্মৃতি কী ভোলা যায়? আমাদের রক্তে খেলা করে যে। আমাদের ডিঅক্সিরিবোনিউক্লিক এসিডে এমন মিশে গেছে যে জেনেটিক কোডের প্যাঁচানো সিড়ি বেয়ে এই স্মৃতি তরতর করে উঠানামা করে।

আহ, কেমন করে ভুলি আমরা...!

মুক্তিযোদ্ধা (!), একজন কবি আল মাহমুদ!

দৈনিক সমকালের (৫ জুলাই, ২০১৩)সঙ্গে আল মাহমুদ এক সাক্ষাৎকারে বলেন, "...'বাংলাদেশের সূচনা পর্বের যে বড় দুটি ঘটনা, ভাষা আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধ সেখানেও আমার কিছু অবদান আছে। অমরত্ব লাভের আশায় তো করিনি কিছু। কিন্তু এভাবেও তো কিছু সময় মরেও অমর হওয়া যায়'।...

স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নিয়েও রয়েছে অনেক প্রশ্ন। এই বিষয়ে জানতে চাইলে রাগের সঙ্গে তিনি বললেন- আমি আগেও বলেছি, এখনও বলছি- আমি রাজনৈতিক নই। আমি একজন কবি। লিখে যাওয়াই আমার কাজ।...।"

তিনি বলছেন, আমি রাজনৈতিক নই। বেশ! কিন্তু জামাতে ইসলামী নামের একটা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাঁর তীব্র কাছাকাছি-মাখামাখি আমরা দেখেছি। তারা তাঁকে মুক্তিযুদ্ধের সনদ দেয়। সেই সনদ তিনি শিউলি ফুলের মত বুকে তুলে নেন।
জামায়েতে ইসলামীর জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ আল মাহমুদকে সম্মাননা দেয়ার সময় আল মাহমুদ বলেন, "'এ সম্মাননা গ্রহণকে নিজের জন্য ন্যায়সংগত ভেবেছি'। তিনি আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, 'এ সংবর্ধনা ইতিহাসের অনিবার্য'।" (প্রথম আলো ২৮ ডিসেম্বর, ২০০৯)

ডিয়ার আল মাহমুদ, আপনার অনেক বয়স হয়েছে। বয়স্ক একজন মানুষকে নগ্নগাত্র দেখতে ভাল লাগে না! গায়ে একট কিছু দিন, প্লিজ।

আর তিনি যে বলছেন, "...অমরত্ব লাভের আশায় তো করিনি কিছু। কিন্তু এভাবেও তো কিছু সময় মরেও অমর হওয়া যায়।..."
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আমার যে অল্প পড়াশোনা- মুক্তিযুদ্ধে আল মাহমুদের বিষয়ে আমি তো এমন কোনো দুর্ধর্ষ কিছু পাইনি যে তিনি অমর হয়ে থাকবেন। আল মাহমুদের মুক্তিযুদ্ধে অমর হওয়ার মত কোনো ঘটনা থেকে থাকলে, এই সম্বন্ধে কারো জানা থাকলে একটু জানান তো, প্লিজ...।
(Rasel Pervez জানিয়েছেন, "স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে লেখক হিসেবে আল মাহমুদ এনলিস্টেড, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের স্মরণিকায় এবং বিভিন্ন ব্যক্তির স্মৃতিচারণে তার উপস্থিতি আছে")।

Afm Tareq Bhuiyan আপত্তি জানিয়ে মন্তব্য করেছেন:
"amar bondhu zahid chatrashibir korto.jodio tar moto manus shadhinotar shopokkher shokti te ami dekhini.tar bondhu howay jodi amra jodi deshbirodhi hoye jai tahole bujhte hobe hatemonger ra shofol.amader pitamoho, propitamoho ei matir shontan howa shotteo amra kar potrikay likhlam,kar kach theke ful nilam ota amader identity hoye thakbe.al mahmud ke apni nognogatro dekhte paan ota ekta chauvinistic approach bole mone hocche."

আমার উত্তর:
"amar bondhu zahid chatrashibir korto..."
আপনার ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ নিয়ে আলাপ করতে চাচ্ছি না কারণ এটা আপনিই ঠিক করবেন কার সঙ্গে উঠবেন, কার সঙ্গে বসবেন। আমি কেবল আপনার শেষ অংশটা নিয়ে খানিক আলোচনা করব:
"...al mahmud ke apni nognogatro dekhte paan ota ekta chauvinistic approach bole mone hocche..."

ভাগ্যিস, দেশটা বাংলাদেশ! নইলে...।
জার্মানিতে কোনো শিশুর নাম 'হিটলার' রাখা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। নাৎসি বাহিনী কেবল নিষিদ্ধই না- এই গ্রহের যেখানেই তাদের পাওয়া যাচ্ছে ধরে এনে বিচার করা হচ্ছে। নাৎসির সঙ্গে যুক্ত এমন কেউ মুক্ত ঘুরে বেড়ায় এমনটা আমার জানা নেই- পালিয়েই কূল পায় না আবার...।
নোবেল বিজয়ী গুন্টার গ্রাস, জীবনের শেষ সময়ে এসে ধিকৃত হচ্ছেন। কেন, তাঁর নাৎসি কানেকশনের জন্য। তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন কিন্তু পৃথিবীব্যপী সমালোচনার ঝড় বয়ে গিয়েছিল! আরেক নোবেল বিজয়ী লেচ ওয়ালেসা বলেছেন, গুন্টার গ্রাস যখন ২য় বিশ্বযুদ্ধে তার ভূমিকার কারণে বিতর্কিত, গুন্টারের উচিৎ হবে পোলিশ শহর গদানস্কের সম্মানসূচক নাগরিক এই খেতাবটি স্ব-ইচ্ছায় ছেড়ে দেয়া। ১৯২৭ সালে গুন্টার গ্রাস পোলিশ শহর গদানস্কে জন্মগ্রহন করেন। গ্রাসের এটা মেনে না-নিয়ে উপায় ছিল না।

আর আমাদের দেশে বাং-নাৎসিদের গাড়িতে কেবল পতাকাই উড়ে না, আমাদের মাথার উপর তাদের ছড়িও ঘোরে! এরা আবার মুক্তিযুদ্ধের সনদও বিতরণ করার সীমাহীন স্পর্ধা দেখায়! আবার সেই সনদ নেওয়ার জন্য মুক্তকচ্ছ হয়ে ছোটেন আমাদের মুক্তিযুদ্ধে অবদান রেখে অমর হওয়ার খায়েশ হওয়া একজন, আল মাহমুদ!
আল মাহমুদের বাং-নাৎসিদের সঙ্গে যে কানেশন এতে করে অন্য দেশ হলে তাকে কারাগারে থাকতে হতো!
এই মানুষটার অনেক প্রলাপ শুনে আমার কাছে মনে হয়, একটা উম্মাদ, বদ্ধ উম্মাদ! উম্মাদের বাহ্যেজ্ঞান থাকে না, তার আবার কাপড়! তাই এই মানুষটাকে আমার কাছে স্রেফ একটা নগ্ন মানুষ মনে হয়। আমি মানুষটার উপকার করতে চেয়েছি বলেই গায়ে কাপড় দিতে বলেছি...।

আমি খানিক অন্য উদাহরণ ব্যবহার করব। আল মাহমুদের মত অসাধারণ মানুষদের সঙ্গে আমাদের মত অতি সাধারণ মানুষদের পার্থক্য সুস্পষ্ট। আল মাহমুদের মাকে যখন কেউ চরম অপমান করবে তখন তিনি প্রথমে ছুটবেন লন্ড্রির দোকানে। ছফেদ পাঞ্চাবিটা কড়া ইস্তারি দেওয়ার পর তিনি যাবেন থানায়। ওখানে গিয়ে তিনি বিস্তর কান্নাকাটি করায় বিষম হেঁচকি উঠবে, হেঁচকি থামলে চিঁ চিঁ করে বলবেন, 'চার-চার, ওরা না আমার মাকে অফমান কইচ্ছে'।
এরপর ফিরে গিয়ে মাকে নিয়ে চমৎকার একটা কবিতা লিখবেন, যে কবিতা পড়ে চোখের জলে পাঠকের তহবন ভিজে যাবে। এরপর মাকে নিয়ে সিরিজের-পর-সিরিজ কবিতা প্রসব করবেন।

আমার মত অতি সাধারণ মানুষ, আমার মাকে নিয়ে যখন কেউ কুৎসিত কথা বলবে, ওই মৃত মহিলার জন্যই হিংস্র পশুর মত লড়ব। হয় ওই মানুষটা খুন হবে, ক্ষমতায় না-কুলালে আমি নিজে। এখানে কোনো জেনেভা আইন নাই, কেবল জঙ্গলের আইন!
এখন এটাকে আপনি fanatical patriotism. বললে সেটা আপনার বক্তব্য, আমার না। বাঁচোয়া, বলি-বলি করেও বলেন নাই, আমি ফ্যানাটিক! আমাকে ফ্যানাটিক বললেও তাও সই!
কিছুই করার নাই, এটা রক্তের দোষ! তাই সাদাকে সাদা, গাধাকে গাধা, নগ্নকে নগ্ন বলিব...।

...
Afm Tareq Bhuiyan নামের মানুষটা আবারও মন্তব্য করেন:
"guntar grass er 2nd WW er activity jodi asolei nazi der pokkhe hoye thake tahole tar shonge Al Mahmud er 71 shongslistotar ki kono mil ache.uni ki rajakar chilen?

amar jana mote manus dui dhoroner hoy: good ar evil.al mahmud ke jevabe evil er katare fele dilen sei standard nazi rao apply korse.jemon dhoren ami shothvabe bolchi ami deshprem shobdotake opochondo kori. mone kori deshprem ekta banijjik brand.dinsese deshprem ekta protarona purno obastobota. tar mane ei na , je deshpremik ra protarok, tara ekta vukhondo ke valobashen itihaser kono eksomoy jei vukhondo ta tader nao theke thate parto. emono bortoman deshprsmik er bohu ager purbopurus gon ei elakar odhibasider tariye jayga dokhol kore.israeli ra deshpremik je desh tader na, american rao jodio oi tao native der theke chiniye neya.amader ei shadhin desh 71 a jonmo.ekdin ekhan theke aro rastro jonmo nibe.nibei.parbotto shadhin vumi protistito hobe, ami mene nebo.karon desh kono absolute bisoy na.apni valoi janen ekta jinis e absolute seta holo manobota.tai manobota birodhi der bichar korte giye al mahmud er moto ekjon tibro manobik manus keo nogno kore felben.standard ektai rakhun : good and evil. desh, kataterer bera ba faith kono standard hote parena.amar boktobbo ta bisrinkhol hocche hoyto, kintu ekbakke ja bolte chai ta `al mahmud eta deserve koren na.apne je jongole thaken amio sei jongole thaki.kintu al mahmud se jongole thaken na.karon ami bujhte pari, apni je rastay hatchen al mahmud emon bohu rasta par hoye onek bishal mohashoroke uponito. amra onek myopic, tar dristi prosarito.ai digonto bistrito dristi shokti orjon korte taake onek jontronar moddho diye jete hoyeche.nischit thakun, apnio jaben ei poth dhore."

আমার উত্তর:
"guntar grass er 2nd WW er activity jodi asolei nazi der pokkhe hoye thake tahole tar shonge Al Mahmud er 71 shongslistotar ki kono mil ache.uni ki rajakar chilen?"
আমি কেবল আপনার প্রথম মন্তব্যের উত্তর দেব। পরেরটার দেব না, কেন? এর ব্যাখ্যা পরে দিচ্ছি।
গুন্টার গ্রাসের উদাহরণটা দেয়া হয়েছিল এই কারণে যে পাপের দায় কেউ এড়াতে পারে না, সময় এখানো কোনো বিষয় না।
আর আল মাহমুদ রাজাকার ছিলেন এমনটা কোথাও বলা হয়নি। এমনিতে তিনি নিজেকে মুক্তিযুদ্ধে তার অবদানের কারণে অমর হওয়ার স্বপ্ন দেখেন।
কিন্তু আমার মত হচ্ছে, তিনি রাজাকার ছিলেন না তবে রাজাকারেরও অধম! কারণ রাজাকার হয়তো খোঁড়া একটা যুক্তি দাঁড় করাবার অন্তত চেষ্টা করবে: ইয়ে...মানে ওই সময়...।
কিন্তু আল মাহমুদ এখন যা করছেন তা ঠান্ডা মাথায়। উদাহরণটা অনেকটা এমন, রাগের বশে খুন করা আর ঠান্ডা মাথায় কুপিয়ে টুকরা-টুকরা করা!

আল মাহমুদের কথাবার্তার অল্প কিছু উদাহরণ দেই:
ওই তথ্যগুলো নেয়া হয়েছে, http://www.nirpata.com/post/43260568255 থেকে:
.. "এখন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সম্বন্ধে একটু বলি। আমি এদের ভালোবাসি। কারণ আমার জানামতে ইসলামী ছাত্রশিবির একমাত্র ছাত্রসংগঠন যারা এখনও নৈতিক বল ও ঈমানের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। আমি মনে করি এরা বিজয়ী হবে, ইনশাল্লাহ।"

"...মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের অবস্থান বিষয়ে আবারও প্রশ্ন করলে আল মাহমুদ বলেন, 'কারা বিরোধিতা করেছে, এখনো এটা স্থির হয় নাই'।"

"...জামায়াতে ইসলাম ইসলামী রাষ্ট্র, ইসলামী শরিয়ত প্রচলনের জন্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে। আমি একজন সাংস্কৃতিক কর্মী, আমি একজন কবি। কোথাও যদি তাদের সাথে আমার মিল হয় সেটা তো ভালো কথা আমি মনে করি, অসুবিধা কী? এবং তারা যদি সে-কারণে আমাকে খানিকটা পৃষ্ঠপোষকতা দেয় তাহলে সেটা আমার লভ্য; এটাকে বলি না যে এটা দোষনীয়।..."

"আমি ইসলামে বিশ্বাস করি। জামায়াতে ইসলাম দেশের নানান ঘটনায় নানা রকম রাজনৈতিক প্রক্রিয়া চালায়, এটার সাথে ইসলামের সম্পর্ক থাকতেও পারে। নিশ্চয় থাকবে, কারণ তারা তো ইসলামী দলই।"

রাজু আলীম আল মাহমুদের একটা সাক্ষাৎকার নেন:
"রাজু: এখানে আমি একটু বলি: সেভেনটি ওয়ানে ওদের ভূমিকা কেবল আওয়ামী লীগের, শেখ মুজিবের বিপক্ষে নয়, ওটা প্রকারান্তরে গোটা জাতির স্বার্থের বিপক্ষে চলে গেছে।
আল মাহমুদ: এটা আমি...ঠিক...সম্পূর্ণভাবে সঠিক মনে করি না।...তখনকার জামায়াতে ইসলামীর...আমার যেটা ধারণা; আমি কিন্তু রাজনীতির লোক নই আগেই বলে নিচ্ছি। আমার ধারণা যেটা পাকিস্তানের যে-ঐক্য, যে ভাব-কল্পনা...এটার অনুসারী ছিলো তারা, সেটা তারা রক্ষা করতে চেয়েছে। এবং সেই জন্যে শেখ মুজিবের রাজনীতির বিরোধিতা করেছে। এবং বিরোধিতার পরিণাম তারা ভোগ করেছে।...
রাজু: কী পরিণাম ভোগ করেছে? আমি তো কোনো পরিণাম দেখি না।
আল মাহমুদ: তাদের অসংখ্য লোক মারা গেছে।
রাজু: আর তারা যে অসংখ্য লোক হত্যা করছে, অসংখ্য নারীকে ধর্ষণে সহযোগিতা করছে, অনেক লুটপাট করছে?
আল মাহমুদ: এ বিষয়ে আমাকে প্রশ্ন না করাই ভালো...।"

আল মাহমুদ একটা অপরাধী দলের পক্ষে যে-সব কথা বলার সাহস পেয়েছেন তা কেবল বাংলাদেশেই সম্ভব। অন্য দেশে এই কারণে তাকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হতো।

অজস্র উদাহরণ থেকে কেবল একটা বলি:
প্রিন্স হ্যারি হাতের বাজুতে কেবল হিটলারের স্বস্তিকার একটা চিহ্ন বেঁধেছিল। পত্রিকায় ছেয়ে গেল, হেডলাইন 'হ্যারি দ্য নাৎসি'। এই কারণে রাজপরিবার বাধ্য হলো প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে। এখন আপনি যদি আমাকে জিজ্ঞেস করেন, হ্যারি কী নাৎসি। এই প্রশ্নের উত্তর দেয়ার কোনো মানে হয় না!

এই প্রজন্ম নিজের বাপকে ছাড় দিয়ে কথা বলে না আর আল মাহমুদ! হাহ...।

পরের মন্তব্যের উত্তর আমি দেব না কারণ...।
"standard ektai rakhun: good and evil." আপনার এই পরামর্শ দেয়ার স্পর্ধা দেখে আমি মুগ্ধ! আমার standard ঠিক করার জন্য আপনার পরামর্শ আমার কাছে দু-পয়সা দাম আছে বলে আমি মনে করি না। আমি শুনি কেবল আমার নিজের মনের কথা। কোথাকার কোন জ্ঞানী কোন জ্ঞান কপচালেন তাতে আমার কী!
আর আপনার এই মন্তব্যে আপনি আল মাহমুদকে দেবতার পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। আমি মানুষ নিয়ে কথা বলতে ভালবাসি, দেবতাকে না। দেবতা থাকবে আকাশলোকে, এখানে কী কাজ!
আপনার সঙ্গে এই প্রসঙ্গে কথা বলাটা এখন আমার কাছে শব্দের অপচয় মনে হচ্ছে! অপচয় বিষয়টা আমার পছন্দ না বিধায় আপনার সঙ্গে এই প্রসঙ্গে আলাপচারিতার এখানেই সমাপ্তি টানছি...।    

সুব্রত শুভ, অতি সাহসী এক মানুষের কথা!

'গোলাম আজম: ১ এবং সেইসব দিন!' [১] নামে যে লেখাটা আমি লিখি তার মূল তথ্যগুলো নিয়ে ঠিক এই দিনই Subrata Shuvo এই লেখাটাই স্ট্যাটাস দেন, নিজের নামে। যে লেখা ওনার ওয়াল থেকে ১৫৯ বার লেখাটা শেয়ার হয়েছিল। এর বাইরে যারা এই লেখাটা কপি-পেস্ট করেছেন তারা courtesy হিসাবে @Subrata Shuvo -এর নাম দিয়েছেন এবং তাকে ট্যাগ করেছেন। এমন বেশ কিছু লেখা আমি তার ওয়ালে দেখেছি। তিনি কিন্তু তাদেরকে একবারও বলেননি যে লেখাটা তার নিজের না!

তার ওই স্ট্যাটাসে [২] মন্তব্য আকারে আমি জানতে চাই তার এই লেখার উৎস কি (আমার যে লেখাটা তিনি নিজ নামে চালিয়ে দিয়েছিলেন, সেটা সম্বন্ধে!) প্রথমে বেশ কিছু হাবিজাবি কথা বললেও পরে তিনি বলেন, তার নাকি জানা ছিল না যে লেখাটা আমার। এবং একজন নাকি লেখাটা তাকে দিয়ে শেয়ার করার জন্য বলেছিলেন আর তিনি আর দেরি না-করে ওটা নিজের নামে দিয়েছেন। অতি হাস্যকর যুক্তি!
পরে, যে মানুষটা তাকে শেয়ার করার জন্য বলেছিলেন বলে সুব্রত দাবী করেছিলেন সেই মানুষটা সম্বন্ধে জানতে চাইলে একপর্যায়ে সুব্রত জানান, ওই মানুষটা নাকি তাকে ব্লক করেছেন।
ভাল...।

ইতিমধ্যে তিনি আমার ইনবক্সে কিছু কাতর কিছু কথা বললেন। নীতিগত কারণে আমি ওই ম্যাসেজটা এখানে দিচ্ছি না।
গোটা বিষয়টায় আমি প্রচন্ড ক্রদ্ধ হয়েছিলাম তার এই আচরণে। কারণ আমার কাছে যেটা মনে হচ্ছিল, তিনি একটা ক্ষমাহীন অন্যায় করেছেন। কেন বলছি...।

তিনি বলেছিলেন, তিনি নাকি জানতেন না যে এটা আমার লেখা। অথচ ওই লেখায় তার লাইক দেওয়া আছে [*]। এর অর্থ তিনি আমার ওই লেখাটা পড়েছিলেন। ওই লেখায় প্রথমেই আমি উল্লেখ করেছিলাম সেই ২০০৬ সালে এই সমস্ত লেখা লিখতে আমার কী অমানুষিক কষ্ট-যন্ত্রণাই না-হয়েছে। ওখানে এটাও লিখেছিলাম, এই সব লেখার সঙ্গে মিশে আছে রাতজাগা ভোর, প্রিয় মানুষের চোখের জল...।
ওই লেখায় আরেকটা প্রসঙ্গও ছিল, সেটা হচ্ছে সামহোয়্যারে 'তৌহিদ' নামের এক চোর ওই লেখাটাই হুবহু পোস্ট করেছিল তার নিজের নামে এবং ওটাও আমি ওই লেখায় সূত্র সহ উল্লেখ করেছিলাম। তার সেটাও পড়ার কথা।
সব কিছু জেনেও তিনি লেখাটা নিজের নামে চালিয়ে দিয়েছিলেন। এটা অসম্ভব সাহসী একজন মানুষের কাজ! এমন বুকের পাটা সবার থাকে না!

তার পক্ষে এমন একজন মানুষ তাকে ক্ষমা করে দেওয়ার জন্য বলেছিলেন যিনি আমার উপর প্রচন্ড প্রভাব খাটাতে পারেন। কিন্তু ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো কাজ আমি করতে পারি না। বারবার আমাকে বলা হচ্ছিল, একটা অন্যায় করে ফেলেছে হেনতেন, ইত্যাদি-ইত্যাদি...। তীব্র ক্রোধ চেপে আমি তাকে বলেছিলাম, আমার ওই পোস্টে তিনি যেন তার অন্যায়টা স্বীকার করেন।
তিনি ওখানে লিখেছিলেন, 'আপনার কাছে সত্যিই দুঃখিত, দুঃখ প্রকাশ ছাড়া আর কিছুই করার নেই। আপনার লেখাটা যে আরেকজন চুরি করেছে তা আমি জানতাম না।.......তারপরও সরি.....ভবিষ্যতে চোরদের ব্যাপারে আরো সর্তক হবো। ক্ষমা করবেন।'
এখানে তিনি লিখেছিলেন, "...ভবিষ্যতে চোরদের ব্যাপারে আরো সর্তক হবো।..."
তিনি নিজের দায়টা অন্যের কাঁধে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। যদিও আমি স্পষ্ট জানতাম, তিনি নিজেই লেখাটা ছিনতাই করেছেন! তারপরও আমি দাঁতে দাঁত চেপে চুপ থেকেছি।

তারপরও, কিন্তু...। তাহলে এই লেখাটা কেন লিখছি?
এক সপ্তাহের মাথায় তিনি প্রায় একই ভঙ্গির আরেকটা কাজ করলেন। Nuruzzaman Manikএর কর্ণেল তাহেরকে নিয়ে একটা লেখা তিনি নিজের নামে স্ট্যাটাস দেন [৩] অথচ এই লেখাটাই @Nuruzzaman Manik সামহোয়্যারে লিখেছিলেন, ২১ জুলাই ২০০৯-এ [৪]!
@Nuruzzaman Manik এর প্রতিবাদে [৫] একটা পোস্ট দিলে তা আমার চোখে পড়ে।

সুব্রত শুভ নিজের নামে দেওয়া ওই লেখাটায় আমি মন্তব্য আকারে জানতে চেয়েছিলাম, এই অভিযোগের পেছনে ভিত্তি কী!
ওখানে আমি লিখেছিলাম, '...আপনার প্রতি কঠিন একটা অভিযোগ আনা হয়েছে। আমি আপনার কাছ থেকে এর একটা সদুত্তর আশা করছি। আমি আপনার উত্তরের অপেক্ষায় আছি...'।
যদিও তখন আমার মনে কোনো প্রকারের সন্দেহই ছিল না যে তিনি আবারও একই কান্ড করেছেন, মাত্র ৭ দিনের মাথায়!
তবুও আমি খুব আশায় ছিলাম, কোনো-না-কোনো প্রকারে অলৌকিক একটা ব্যাপার ঘটবে এবং তিনি এই দায় থেকে বেরিয়ে আসবেন। এমনটা হলে আমার চেয়ে খুশি আর কেউ হতো না। অন্তত তাকে নিয়ে এই লেখাটা আমাকে লিখতে হতো না।

তার কাছে কিছু সুযোগ ছিল- তিনি এই দায় খন্ডাবার চেষ্টা করলেই পারতেন। তিনি তার কোনোটাই ব্যবহার না-করেই স্ট্যাটাসটাই গায়েব হয়ে গেল [**]! তাতে করে কি দায় খন্ডন হলো? আর এটা হওয়ায় আমার কাছে স্পষ্ট হয়ে গেল যে তার মনে কু আছে।
এবং...এটাও মনে হলো তার এমন সাহসের কথা না-জানালে অন্যায় হয়! কারণ নইলে তিনি আবারও ৩ দিনের মাথায় আরেকটা এমন কর্মকান্ড করবেন এবং আবারও হাস্যকর যুক্তি দেখাবেন। কালে-কালে তিনি এই দেশের সবচেয়ে সাহসী মানুষে রূপান্তরিত হবেন।
কারো লেখা তিনি পড়েননি, কারো লেখা তার কাছে কবিতা মনে হয়! ভবিষ্যতে কারো লেখা ছবি মনে হবে!
এবং আমি জানি না এ পর্যন্ত তিনি লেখা ছিনতাই করে, এমন কতজনের কাছে এই সমস্ত অতি হাস্যকর যুক্তি দিয়েছেন...?

লিংক:
১. গোলাম আজম: ১ এবং সেইসব দিন!: https://www.facebook.com/ali.mahmed1971/posts/10151522707652335
২. গোলাম আজমকে নিয়ে @Subrata Shuvo-এর পোস্ট: https://www.facebook.com/Subrata.Shuvo/posts/10201435011467687
৩. @Subrata Shuvo-এর পোস্ট যেটা এখন গায়েব হয়ে গেছে: https://www.facebook.com/Subrata.Shuvo/posts/10201475764086477
৪. @Nuruzzaman Manik-এর সামহোয়্যারের লেখা: http://www.somewhereinblog.net/blog/nuruzzamanmanik/28981320 
৫. @Nuruzzaman Manik-এর প্রতিবাদ লেখা: https://www.facebook.com/nuruzzaman.manik/posts/10151824720099954

ছবি:
* আমার পোস্ট, গোলাম আজমের লেখায় @Subrata Shuvo-এর লাইক দেয়ার স্ক্রিণশট
** @Nuruzzaman Manik-এর লেখা নিয়ে @Subrata Shuvo -এর যে স্ট্যাটাসটা উধাও, তার স্ক্রিণশট (গায়েব হয়ে গেছে বলে মন খারাপ করার কিছু নাই। এর পুরোটাই আমার কাছে পিডিএফ করা আছে।)
*** @Subrata Shuvo-এর স্ট্যাটাসটা দেখাচ্ছে না, এর স্ক্রিণশট।
...
আমার যা বলার লেখাতেই বলে দিয়েছি। কিন্তু আপনি জানতে চেয়েছেন সেই দায় থেকে লিখছি...।
আপনি লিখেছেন:
"...নিজের নামে দিয়েছি। ওটা আমার নাম ছিল নাকি রনির নাম ছিল? রনি অনুরোধ করেছে তাই তার স্ট্যাটাস তার নামে শেয়ার দিলাম। আমার নাম আসল কোই থেকে।..."
আমার যে লেখাটা আপনি স্ট্যাটাস হিসাবে দিয়েছিলেন সে লেখার নীচে আপনি লিখেছেন, 'ধন্যবাদ Johorul Islam Rony আবার মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য'।
এই লেখাটা যে রনির, কোথায় রনির নাম! এখানে কিন্তু আপনি কোথাও এটা বলেননি যে এটা রনির লেখা। কেবল লিখেছেন, 'রনি আপনাকে মনে করিয়ে দিয়েছে'। কী মনে করিয়ে দিয়েছে? আজ মেঘলা দিন নাকি সবাই গেছে জঙ্গলে?

ঠিক এই লেখাটাই কোথাকার কোন রনি আপনাকে অনুরোধ করে শেয়ার করার জন্য (এটা আপনার দাবী)। উত্তম! আপনি বিন্দুমাত্র দেরি না করে এই লেখাটা স্ট্যাটাস হিসাবে দিয়ে দেন। অতি উত্তম!
অথচ আপনি আমার লেখাটা পড়েছেন। লাইকও দিয়েছেন। আবার অবিকল আমার এই লেখাটাই যখন কোথাকার কোন রনি (সে আবার ঠিক ওই সময়ই আপনাকে ব্লকও করে দেয়!) আপনাকে শেয়ার করার জন্য বলে তখন আপনি তা শেয়ার করে ফেলেন! অথচ আপনি আমাকে এটাও বলেছিলেন, আপনি জানতেন না লেখাটা আমার...।
আমার তো মনে হয় আমি একটা শিশু-শিক্ষার আসরে আছি!

"...আমি তো তাকে বলেই স্ট্যাটাস অনলিমি করেছি।..."
স্ট্যাটাস আপনার, এর দায়-দায়িত্ব আপনার। আপনি কাকে বলে 'অনলি মি' করেছেন এটা তো আমার জেনে কাজ নেই। আপনার যে কোনো লেখা আপনি যা-খুশি তা করতে পারেন। কিন্তু...একটা কিন্তু থেকে যায়।
আপনার ওই স্ট্যাটাসে আপনার প্রতি যে কঠিন অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছিল (৭ দিনের মাথায়!) তার ব্যাখ্যা পাঠক আপনার কাছ থেকে চাইতেই পারে। আপনি আপনার অবস্থান পরিষ্কার করবেন, এটাই যুক্তিযুক্ত ছিল কিন্তু তা না-করে আপনি সেটাকে 'অনলি মি' করে ফেলবেন, এক অর্থে লেখাটা সরিয়ে ফেলবেন! এর তো কোনো প্রয়োজনই পড়ে না। ওখানে আপনার যথার্থ ব্যাখ্যা থাকলেই চুকে যেত। স্বাভাবিক আচরণ এটাই হতো...।
...
ইনবক্সে একজন জানালেন যে @Subrata Shuvo , আপনি হালে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছেন: https://www.facebook.com/Subrata.Shuvo/posts/10201491500839886। সেই সূত্রে আপনার লেখাটা দেখার সুযোগ হলো। ওখানে আপনি ইনিয়ে-বিনিয়ে-ফেনিয়ে অনেক কথাই লিখেছেন। আপনি সেই লেখাটা শেষ করেছেন এভাবে:
"...আমাদের দেশটা তো ছোট তাই এই দেশের অনলাইন লেখকদেরও মনটা ছোট।..."

জ্বী, অনলাইনের লেখকদের মন ছোট। ছোট না-হলে আপনি যে কাজ করেছেন এই কাজ করার জন্য 'ব্লগেস্ট তৌহিদ' নামের একজনকে, আমার গোলাম আযম নিয়ে লেখাটার কারণে সামহোয়্যারের তার লেখায় গিয়ে আমি বলেছিলাম, 'আপনি একটা চোর'। তার কোনো ব্যাখ্যা শোনার প্রয়োজন দেখিনি কারণ সমস্ত প্রমাণ তার বিরুদ্ধে ছিল। এবং গোলাম আযমের ওই পোস্টেও 'ব্লগেস্ট তৌহিদ' নামের মানুষটার প্রতি অতি কঠিন কথাও বলেছি।

কিন্তু আপনি ওই 'ব্লগেস্ট তৌহিদ'-এর চেয়েও মন্দ কাজ করেছেন। সব জেনেও আপনি ওই কাজটা করেছেন যেটা আমি আমার এই স্ট্যাটাসে বিস্তারিত বলেছি। সেটার আর চর্বিতচর্বণ করি না।
অথচ আপনার বেলায় অনেক সহনীয় আচরণ করা হয়েছিল এই কারণে আপনার বয়স কম এবং আপনি একটা ট্রমার ভেতর দিয়ে গিয়েছেন। কিন্তু আপনি সেটার পুরোপুরি অপব্যবহার করেছেন! কেবল অপব্যবহারই করেননি, উদ্ধত আচরণও করেছেন।
এবং আপনার নির্লজ্জতা আমাকে লজ্জা দেয়! আমার স্মৃতিশক্তি দুর্বল তারপরও আপ্রাণ চেষ্টা করেও মনে করতে পারছি না শেষ কবে আপনার মতো নির্লজ্জ মানুষ দেখেছি! আপনি আমার এখানে এসে এমন অনেক কথাই বলেছেন যা দুর্বিনীত আচরণ।
আপনার এই আচরণ দেখে আমার ভাষায় বলি, 'এক কাপ চায়ে দু-কাপ চিনি'!

আমি আপনার অপরাধ ভুলেই গিয়েছিলাম কিন্তু আপনি ৭ দিনের মাথায় আবারও বিতর্কিত কর্মকান্ড করলেন। এটাকে হালকা করে দেখলে আপনি সাড়ে ৩ দিনের মাথায় আবারও একটা কর্মকান্ড করতেন এতে অন্তত আমার কোনো সন্দেহ নেই! যেটা আমি পূর্বেও বলেছি...।
@Nuruzzaman Manik বুঝতে পেরেছিলেন আপনি কাজটা ইচ্ছাকৃত ভাবে করেছেন। কারণ তিনি স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছেন:
"...যদিও সামু ব্লগে ইটালিক, আমুতে ইনভাইটেড কমা ও মুক্তমনায় বোল্ড করা ঐ চার লাইন এবং বাকি আমার লেখাটি সহজেই আলাদা করা যায় ।..."
অথচ আপনি নাকি পুরো লেখাটাই একটা কবিতা ভেবেছেন- এটা তো একটা শিশুরও বোঝার কথা! যথারীতি @Nuruzzaman Manik -ও আমার মতই আপনাকে ক্ষমা করার চেষ্টা করেছেন।
আমাদের এই সব তো অবশ্যই 'মন ছোট' লক্ষণ এতে আর সন্দেহ কী!

রাষ্ট্র আপনার প্রতি অন্যায় করেছিল এই কারণে অনেকেরই আপনার প্রতি আলাদা মমতা আছে। আমারও ছিল। আর 'মন ছোট'র কথাই যখন বললেন তখন খানিকটা না-বলে পারছি না। এবেলা এটা বলে রাখি, আপনি যখন কারাগারে তখন আপনার পক্ষে বলার জন্য কারো কোনো প্রকারের কন্ট্যাক নাম্বার- মিডিয়া, বিশেষ করে আন্তুর্জাতিক মিডিয়া তখন পাচ্ছিল না। ক্যামেলিয়ার ফোন নাম্বার আমিই যোগাড় করে দেই, এটা সেই সময়ের কথা যখন অনেক 'সেলিব্রেটি ফেসবুকার' গর্তে লুকিয়েছিলেন। তখন তেমন কেউ টুঁ-শব্দও করতে চাচ্ছিলেন না। আপনি জেলে অথচ আপনার আইডি একটিভ- এটাকে ট্র্যাক করা। এই সমস্ত কাজগুলো আমার মত অল্প কিছু মানুষ ঝুঁকি নিয়ে করেছিল। ওটার স্ক্রিণশট দীর্ঘ দিন আমার ওয়ালে ঝুলেছে অথচ আমি আমি আমার ওয়ালে অসম্ভব গুরুত্বপূর্ণ না-হলে কারো কোনো বিষয় রাখি না।
এও সত্য আপনি সুব্রতের জায়গায় সলিমুল্লা-কলিমুল্লা হলেও একই কাজ করা হতো, এটা কোনো আলাদা বিষয় না...। কিন্তু তাই বলে আপনি যা-খুশি করবেন আর এটা উপেক্ষা করা হবে এমনটা ভাবার কোনো অবকাশ নাই।  

গতকালও আমার ইনবক্সে আপনার জন্য অনেকেই অনুরোধ করেছেন। কিন্তু  আপনি মানুষের মমতার পুরোপুরি অপব্যবহার করছেন। লোকজনের এই মমতার কারণে আপনি 'ক্ষুদে গানরাজের' মত নিজেকে স্টার ভাবা শুরু করেছেন। আকাশলোকের বাসিন্দা।
আর আমি আপনার কারণে যেসব মানুষ আমাকে আপনার জন্য একের-পর-এক অনুরোধ করেছেন তাদের কাছে হৃদয়হীন হিসাবে পরিচিত হয়েছি। এ আমার জন্য বড়ো কষ্টের!

ডিয়ার সুব্রত, অনেক শুনেছি আপনার প্রলাপ! আপনার সম্বন্ধে এখন আমার ধারণা অনেকটাই পাল্টেছে। আপনার আচরণ একজন চোরের মত না, একজন ডাকাতের মত! আমি ডাকাতদের ভয় পাই, নিরাপদ দুরত্ব বজায় রাখি।

আপনার সঙ্গে আলাপচারিতার এখানেই সমাপ্তি। কারণ আপনার সঙ্গে বাক্য ব্যয়ের অর্থ হচ্ছে মর্মান্তিক বেওকুফি! আর আমার ভাষায় 'শব্দের অপচয়'- অপচয় বিষয়টা আমার পছন্দ না।

আমি আমার এখানে আপনার আর কোনো মন্তব্য দেখতে চাচ্ছি না। এখানে আর কোনো মন্তব্য না-করার জন্য আগাম ধন্যবাদও আপনাকে জানিয়ে রাখছি...।




Monday, July 22, 2013

Deutsche Welle (DW.DE): brutal discriminatory organisation!

I have written few articles about Daud Haidar. For nearly 4 decades he is in exile in Germany after Government expelled him from Bangladesh for a poem published in the  newspaper. Before coming to Bonn (2010) I never had the chance to meet him in person but though I wrote about him because I felt myself in his shoes.
I tried to understand the trauma of an exile, no matter what happens I would not have the chance to visit my motherland, I would never be able to see those near and dear ones for the rest of my life. These very feeling is like a nightmare to me. For me, the very thought that I would not be able to set my foot in my motherland, is enough to cause a nervous breakdown.

How would I ever forget this rare affection, when those living in Bonn did not bothered to even say Hi, he had traveled all the way from Berlin to Bonn just to meet me. I had to catch the flight back home in the next morning, He decided to stay over and we talked all night. After I went to bed late in that night, he remained awake to finish his report for Germany's international broadcaster, Deutsche Welle (DW.DE).

I have no idea when he went to bed but in that night I woke up hearing an unfamiliar sound. It is like a suppressed lament hidden deep in his heart, those pains he tried to hide but in his dreams those laments somehow found a way to break free. Is it the emptiness in his soul crying out loud? Does this emptiness engulf him in his sleep every night? Is it his childhood memory chasing him in his dream? Those childhood memories long forgotten, the air bypassing the sail, the sweet tender sound of breeze passing through the leaves, are they calling him back? I don't know, but I did not waked him up, I quietly went back to sleep.

Next morning when I start for the airport, he was deep in sleep; I did not wake him up. I left a note 'Stay well, I am leaving. Hope to meet you in Bangladesh.' I have no idea why I wrote that last line, it is rare for our government to accept its mistakes and it is certainly impossible that Government will decide to lift the prohibition and allow him to visit his motherland. I don't know why I gave him this false assurance? Deep in my heart I believed someday government would realize its mistake. Still I regret for those words.

I did not call him for a long time, after I finished my blog about him I decided to call him. Hoped he was doing well in Germany, but he gave me shocking news, I went completely dumb. He was the Berlin correspondence of Germany's international broadcaster, Deutsche Welle (DW.DE) for the last 23 years but recently they decided to sack him. Duad Haidar filed a case against this, but fighting a legal battle with a corporation is hard and it only forces you bankrupt in the end. So after a long fight, he has to surrender from this legal battle.

There was nearly ten Bangladeshi staff in the Deutsche Welle Bengali service and most of them were sacked on the same ground, economic recession. One of them was Sagar sarwar, he was brutally killed in Bangladesh along with his wife, Mehrun Runi, and their only son now lives with his grandmother. They would have been alive if Deutsche Welle (DW.DE) did not sacked them on the ground of economic recession, as it was broadcast ed in a language that is spoken by nearly 250 million people and ranked 6th in the list of most spoken languages.

I have some question regarding Deutsche Welle (DW.DE). So far they had sacked only the staff of Bangladeshi origin, even though after the liberation war of Bangladesh, German government decided to give this regional broadcasting service to Bangladesh as a gift and as per rule this regional services would be head by a native speaker. Head of Bengali regional service is from West Bengal, India, even though he introduces himself as of Bangladeshi origin!

Of 250 million Bengali speaking people, nearly 160 million of them lives in Bangladesh and it would be fair if the staffs were distributed accordingly to this proportion. But that was not the case, only staff of Bangladeshi origin has suffered the axe of recession. This discriminatory sacking policy reflects the internal politicization of the regional service where Indians are playing upper hand.
Now my question is Why there is so many Bengali speaking Indians are in this regional service? Is it broadcast solely for the Bengali speaking people of west Bengal?

So far I know Deutsche Welle (DW.DE) have 30 regional services. Does every other regional service suffer the same or is it only this Bengali regional service that suffered in this discriminatory cost cutting staff reduction?
Are they decided to take this gif back and handed it over to Indians? Are you planning to put Bengali regional service in auction? Speak it up, state it clearly. If you decide so, we would put a bid on it...

Translated by: Rasel Pervez (https://www.facebook.com/rasel.pervez)

*মূল লেখা, এখানে: http://www.ali-mahmed.com/2013/07/deutsche-welle.html
**facebook: https://www.facebook.com/ali.mahmed1971/posts/10151535207267335?notif_t=like

Sunday, July 21, 2013

Deutsche Welle: নিষ্ঠুর, একচোখা এক প্রতিষ্ঠানের নাম!


দাউদ ভাইকে নিয়ে কিছু লেখা লিখেছিলাম [১, ২, ৩]। তখন আমার সঙ্গে তাঁর কোনো পরিচয়ই নেই কিন্তু আমি ওই লেখাগুলোর লিখেছিলাম কেবল এই কারণে যে কেবল আমার মনে হচ্ছিল, ওই মানুষটার জায়গায় আমি নিজে। আমি আমার দেশের মাটি স্পর্শ করতে পারব না এটা ভাবলেই অসম্ভব অস্থির লাগত- মাথা এলোমেলো হয়ে যেত!

এটা আমি কখনই ভুলব না, আমার মত অতি সামান্য একজন মানুষের সঙ্গে দেখা করার জন্য তিনি বার্লিন থেকে বন-এ চলে আসলেন! তাঁর এই মমতার কথা বিস্মৃত হই কেমন করে! অথচ বন-এ আমার পরিচিত কিছু মানুষ থাকার পরও তখন এরা আমার কোনো খোঁজই নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেননি!

তাঁর সঙ্গে যখন দেখা হলো, কথা কী শেষ হয়, ছাই! তিনি আমাকে সঙ্গ দেওয়ার জন্য রাতে থেকে গেলেন। কথায় কথায় রাত গভীর হয়- কতশত কথা!
আমাকে আবার ফ্লাইট ধরার জন্য সকাল-সকাল ছুটতে হবে। বড়ো অনিচ্ছা নিয়ে আমি ঘুমিয়ে পড়ি। দাউদ ভাই লেখালেখির কাজ করছিলেন- কখন ঘুমাতে গিয়েছিলেন আমি জানি না। কিন্তু রাতে যখন মাঝে-মাঝে আমার ঘুম ভেঙ্গেছে আমি শুনছিলাম, ঘুমের মধ্যে মানুষটা কেমন যেন একটা 'হু-হু' করে বিচিত্র শব্দ করেন। শব্দটা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। শুনলেই মনের গভীর থেকে অজানা এক বেদনা পাক খেয়ে উঠে। তিনি কী দুঃস্বপ্ন দেখছিলেন- প্রতি রাতেই কী তিনি এমন দুঃস্বপ্ন দেখেন? দোহারপাড়ায় তাঁর শৈশবের নদী কী তাঁকে আয়-আয় করে ডাকে? জানা হয় না এটা।

সকালে আমি যখন বের হবো তখনও মানুষটা গভীর ঘুমে! লেখালেখির কারণে মানুষটা ঘুমিয়েছেন অনেক রাতে তাই আমি আর ঘুম ভাঙ্গাই না। লেখার খসড়া কাগজে উপর তাঁর বইটা চাপা দেওয়া। সেই বইয়ের উপর আলাদা কাগজে ছোট্ট একটা নোট লিখে রেখে এসেছিলাম, 'দাউদ ভাই, যাচ্ছি। ভাল থাকবেন। আপনার সঙ্গে দেখা হবে, দেশে'।
এই শেষ লাইনটা কেন লিখেছিলাম আমি জানি না! তবে লিখেছিলাম তীব্র বিশ্বাস থেকে। কিন্তু এটা তো আমার অজানা থাকার কথা না যে এটা কী অসম্ভব এক চাওয়া! কেন আমি তাঁকে এই মিথ্যা আশ্বাসের কথা লিখলাম? আজও নিজেকে বড়ো অপরাধী মনে হয়। কেন, এই মিথ্যা আশ্বাসের কথা লেখা, কেন-কেন...?

যাই হোক, একজন 'দাউদ হায়দার' [*] লেখাটা লেখার পর মনে হলো এরপর তো আর মানুষটার সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি। এ অন্যায়-এ অন্যায়! আমি ফোনে কথা বলি মানুষটার সঙ্গে। কথা বলে আমি হতভম্ব-হতবাক! আমি জানতাম, মানুষটা প্রবাসে অন্তত ভাল আছেন। তিনি ডয়চে ভেলে (Deutsche Welle)-এর বার্লিন প্রতিনিধি ছিলেন। এখন তাঁর কাছে শুনলাম, ডয়চে ভেলের ওই চাকরিটা নাকি নেই! আরে, তিনি এই সব কী বলছেন! তাঁর কাছ থেকেই এটা জানা হয়, প্রায় ২৩ বছর তিনি ডয়চে ভেলেতে কাজ করেছেন। প্রায় দুই যুগের উপর!
ডয়চে ভেলে নাকি আর্থিক মন্দার কারণ দেখিয়ে তাঁকে ছাঁটাই করেছে!

চাকরি যাওয়ার পর তিনি ডয়চে ভেলের বিরুদ্ধে মামলাও করেছিলেন। মামলার রায় তাঁর পক্ষে যাওয়ার কথা কিন্তু অতি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মামলা করে সাধারণ মানুষ পারে কেমন করে? ফল যা হওয়া তাই হয়। খরচ চালাতে না-পেরে এক সময় তিনি মামলার হাল ছেড়ে দেন।

ওখানে সাগর সরওয়ার, আবদুল হাইকে আরও ক-জনকে দেখে এসেছিলাম, সবার নাম মনে পড়ছে না। আমার দুর্বল স্মৃতিশক্তি প্রতারিত করে না-থাকলে তখন সম্ভবত ওখানে ১০ জনের মতো বাংলাদেশি কর্মরত ছিলেন। এদেরকেও নাকি একে-একে আর্থিক মন্দার দোহাই দিয়ে ছাঁটাই করা হয়েছিল।
সাগর সরওয়ারের সঙ্গে মৃত্যুর পূর্বে এই নিয়ে আমার সঙ্গে কথাও হয়েছিল, তিনি দেশে ফেরার পর। তিনিও তখন আমাকে জানিয়েছিলেন, তাঁর ছাঁটাইয়ের পেছনেও এরা কারণ দেখিয়েছিল আর্থিক মন্দা!

অনেকগুলো 'যদি' এসে ভিড় করে। 'যদি' সাগর সরওয়ারের চাকরি না যেত তিনি দেশে ফিরতেন না- 'যদি' তিনি দেশে না-ফিরতেন তাহলে তাঁর এমন নিষ্ঠুর মৃত্যু হতো না। এই গ্রহের অল্প অভাগা মানুষ একজন তিনি, যার সন্তান, পরিবারের লোকজন এখনও জানেই না তাঁর এবং তাঁর স্ত্রীর মৃত্যুর জন্য দায়ী কে?
এরা একে অপরকে খুন করেছেন এটা বলা ব্যতীত আর কোনো যুক্তিই আমার মাথায় কাজ করে না...! 

ডয়চে ভেলেকে নিয়ে এখানে কিছু প্রশ্ন মনে আসছে আমার। আমি জানি না এ পর্যন্ত কতজনের চাকরি গেছে? তার মধ্যে কতজন বাংলাদেশি? আর কতজন ভারতীয়?
গ্লোবাল ভয়েস-এর মতে, ২৩ কোটি মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলেন তার মধ্যে প্রায় ১৬ কোটি বাংলাদেশে। তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম, ১ কোটি বাংলাদেশি পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছেন। তবুও তো ১৫ কোটি! বাংলা বিভাগে তো ওই অনুপাতে লোকজন থাকার কথা। দাউদ ভাইয়ের কাছ থেকে যেটা জানলাম একে-একে বাংলাদেশিদেরই চাকরি গেছে। এটা সাগর সরওয়ারও আমাকে বলে ছিলেন।
এতে যে ভারতীয় দাদাদের দাদাগিরি, কলকাঠি নাড়ানাড়ি আছে এ আর বলার অপেক্ষা রাখে না!

এখানে আমার যে প্রশ্ন:
১. বাংলা বিভাগে ভারতীয়দের এতো আধিক্য কেন? বাংলা অনুষ্ঠান কী কেবল ভারতের লোকজনেরাই শোনে?
২. আমি যতটুকু জানি, ডয়চে ভেলে ৩০টি ভাষায় ব্রডকাস্ট করে থাকে। সব ভাষার বিভাগেই কি এমন ছাঁটাই চলছে? নাকি আর্থিক মন্দা কেবল বাংলা বিভাগে? ওহো, তাহলে আমি বড়ো দুঃখিত হই যে!
তা, বাংলা বিভাগের মালিকানা কী আলাদা নাকি? এমনটা হয়ে থাকলে বাংলা বিভাগ এভাবে আর কদ্দিন চালাবেন? ডিয়ার ডয়চে ভেলে, বাংলা বিভাগটা আপনাদের কি বিক্রি করে দেয়ার মতলব আছে? থাকলে, ঝেড়ে কাশেন- এতে লজ্জার কিছু নাই। এমনটা হলে আমরা কিনে নেব। আরে, না-না, আমি না, আমি এতো টাকা পাব কোথায়, বাপু! বাংলাদেশে কারো কাছে গছানো যায় কিনা চেষ্টা করে দেখলুম আর কি। এই বেচা-কেনায় কিছু কমিশন পাওয়া গেলে মন্দ কি...।

*একজন দাউদ হায়দার: https://www.facebook.com/photo.php?fbid=10151521056367335&set=a.10151298132117335.465193.723002334&type=1

**ফারজানা কবির খান স্নিগ্ধা, ডয়চে ভেলেতে চাকুরি করার সুবাদে একটি লেখা লিখেছেন: http://www.banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=27f48a1f868ca2b9f4ee1d2cf9e2e509&nttl=17072013211133
তথ্যবহুল একটা লেখা। সেখান থেকে খানিকটা তুলে দেই এখানে:
"...জার্মান সরকার, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ জয়ের পরে তখনকার বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর অনুরোধে যে বাংলা ডিপার্টমেন্টটি উপহার স্বরূপ বাংলাদেশকে দেওয়া হয়োছিলো; তার বর্তমান বিভাগীয় প্রধান একজন ভারতীয় বাঙ্গালী। তার পাসপোর্ট ভারতীয় হওয়া সত্ত্বেও নিজেকে বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দেয় বর্তমান বিভাগীয় প্রধান। এর কারন হলো, ডয়েচে ভেলের নিয়মানুযায়ী প্রতিটি বিভাগের প্রধান হতে হবে সেই দেশের একজন নাগরিককে।...
"...আমাদের সাহিত্যিকরা তাদের (ভারতীয়) কাছে কোন সাহিত্যিকই নয়, এমনকি ছ্যা.. ছ্যা.. শব্দ উচ্চারণ করে তারা বাংলাদেশের বাংলাকে অপমান করে থাকে।..."


*এখানে মামলা করতে ৬০০ ইউরো করে লাগে প্রতিটি ডেটে। এটা শুধু উকিলের একদিনের কাজের খরচ। তারমানে যতবার কোর্টে ডাকবে ততবার ৬০০ ইউরো করে দিতে হবে। আর কোর্টের খরচ তে আছেই।


১. দাউদ হায়দার, শুভ জন্মদিন বলি কোন মুখে?: http://www.ali-mahmed.com/2009/02/blog-post_21.html
২. দাউদ হায়দার, তোমার কাছে খোলা চিঠি: http://www.ali-mahmed.com/2010/03/blog-post_7633.html
৩. দাউদ হায়দার, তোমাকে, আবারো...: http://www.ali-mahmed.com/2010/04/blog-post_20.html

তালাচাবি-চাবিতালা!

আজকের অতিথি লেখক, Adil Abir (https://www.facebook.com/adil.abir.3)। তিনি লিখেছেন অতি বিচিত্র এক বিষয় নিয়ে:

"সারা সপ্তাহ পাথর-ভাঙা পরিশ্রম করে ঘনিষ্ট বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা মারার জন্য বাগানবাড়ী টাইপ ফ্ল্যাটের দিকে পা বাড়ালাম।
দুইটা রুম আমার নামে, ফ্লোরের অন্য ফ্ল্যাট ও রুমগুলো ব্যাচেলরদের কাছে ভাড়া দেয়া, বেশীর ভাগই ইয়ার দোস্ত। হৈ-হল্লা আড্ডাবাজির উপযুক্ত স্থান। যদিও খুব বেশী যাওয়া হয় না, বেশীক্ষণ থাকাও হয় না।

মূলগেটের তালায় চাবি ঢোকালাম, নাম্বার ও মেলালাম, অবাক কাণ্ড তালা খুলছে না! গোছার চাবিও ঠিক, নাম্বারগুলোও একটা একটা করে মেলালাম। উঁহু, সামথিং রং! উপরে ফোন দিলাম চরম বিরক্তি নিয়ে, নিশ্চয়ই কেউ তালাচাবির কোনো কেরামতি করেছে, ভাবছি কোনো অঘটন নয় তো! পাক্কা ৩০ সেকেন্ড রিং হয়ে থেমে গেল, ব্যাটা রিসিভ করল না। অন্য একটা নাম্বারে ট্রাই করলাম, বন্ধ। পরপর ছয়টা নাম্বার বন্ধ।
 

এবার গালাগাল দিতে লাগলাম জোরে জোরে, ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে খানখান, পাক্কা ১৭ মিনিট দাঁড়িয়ে। আশেপাশের যারাই আমার খিস্তিখেউড় শুনেছে জবাবে বিরক্তি আর ভ্রুকুটি দিয়ে, জবাবের সঙ্গে সশব্দে জানালা-দরোজা বন্ধ করে গালিটাও ফেরত দিল কিন্তু আমার তিন তলার কারো ছায়াটুকু ও নজরে পড়ল না।

দারওয়ানকে খোঁজা অর্থহীন কেবল রাতেই সে থাকে, থাকার কথা। তা ২০ ফুট উচু দেয়াল টপকানোর চিন্তা করতে করতে দেখি ল্যাপটপ হাতে, অভিজাত বেসরকারি সংস্থার কালো পোশাক পরে আমারই নিয়োগ করা দারওয়ান কর্পোরেট ল্যাঙ্গুয়েজে জানতে চাচ্ছে, আমি কাকে চাচ্ছি?
হারামজাদা, কষে গালি দিতে গিয়েও তাঁর স্থির দৃষ্টি দেখে সামলে নিলাম নিজেকে।
আমার মাথার ভেতরটা ফাঁকা হয়ে গেল, যেন স্বপ্নের ঘোরে আছি।

চোখ কচলে বাস্তবে আসতেই দেখি নৈশপ্রহরী ল্যাপটপের স্ক্রীন ধরে বলছে, 'স্যার, আগে প্রমাণ করুন আপনি এলিয়েন বা রোবট নন, যা লেখা আছে নিচের ফাঁকা জায়গায় টাইপ করুন'।
মাথা কাজ করছে না, সম্মোহিতের মত টাইপ করলাম। তালার ব্র্যান্ডের নাম, সিক্যুরিটি কোড , পাসওয়ার্ড সব দেয়ার পর প্রহরী একগাদা ফটো এ্যালবাম খুলে বেছে বেছে ৫ টা ফটো আলাদা করলো।
অবস্থা এমন দাঁড়াল যে আমিই আমাকে সন্দেহ করা শুরু করলাম! এটা কি আমি?

ভাবনার ডালপালা মেলার আগেই নৈশ প্রহরী মিয়া, 'ব্রাহ্মণবাড়িয়া মুন্নী সাহা ভাতের হোটেল'-এর সামনে দাঁড়ানো লেডী গাগার মত দেখতে এক বঙ্গললনার ছবি দেখিয়ে বলল, 'এই মেয়েটাকে চেনেন? ছবির নিচে এম.সি.কিউ'র মত ৬ জনের নাম লেখা। আমার বাবুর্চির নামটা ১ নম্বরে, দোতালার সদ্য বিবাহিতা সালমা, ৬ তলার আন্টি আর তিনজন অপরিচিত মেয়ের নাম। লেডী গাগারে সনাক্ত করতে পারলাম না।

আমি ভুলেই গেছি আসলে এখানে কি উদ্দেশ্যে কার কাছে এসেছি। দরদর করে ঘামছি, নৈশমিয়ারে আর বিরক্তিকর লাগছে না।
সে আমাকে ঠাণ্ডা একবোতল মাম দিয়ে বলল, 'আর ৪ টি সুযোগ আছে, সনাক্ত করতে না-পারলে এই বাড়ির দরজা চিরদিনের জন্যে বন্ধ। অবশ্য আপনি ২টা ছবিকে পালটাতে পারবেন উত্তর না-দিয়ে'।
দারোয়ানের মুখ দিয়ে দারোওয়ান সুলভ ভাষা শুনেও, কেন জানি কিছুটা ভাল লাগল। এই এপার্টম্যান্টে অন্তত ১০০ জন লোক বাস করে। কে কার শালা, কে কার ড্রাইভার, কে কাকে নিয়ে লিভ-টুগেদার করে, নতুন সাবলেট, বুয়া, শ্বশুর এই সব কী এই খন্ডকালিন পরিব্রাজকের পক্ষে জানা সম্ভব? দুই একজনকে যাও চেনা-চেনা লাগতেছিল, সেখানেও কনফিউশান।
আমি আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিলাম না। স্লো-মোশনে বিল্ডিংটাকে আমার মাথা বরাবর নেমে আসতে দেখে...।
Adil Abir

Saturday, July 20, 2013

সেরা সন্তান এবং একজন কুলাঙ্গার!

আজকের পত্রিকা থেকে জানলাম, গোলাম আজমকে হাসপাতালে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ডাবল বেডের রুমে রাখা হয়েছে। অতি উত্তম দেখভাল হচ্ছে।
গোলাম আজমকে নিয়ে একটা লেখা লিখেছিলাম ফান করে, 'একটি অবিচার(!) এবং আবেদন' (১)। যে তার প্রতি অবিচার হয়েছে তাই তাকে আরামপ্রদ চিকিৎসা দেওয়া হোক। কিন্তু এটা যে সত্যি-সত্যি হবে এটা আমার কল্পনারও বাইরে ছিল।

গোলাম আজম যে হাসপাতালে চিকিৎসা করাচ্ছেন সেই হাসপাতালেই আমি আমার মার চিকিৎসা করাতে ব্যর্থ হয়েছিলাম। কেবিন দূরের কথা একটা বিছানারও ব্যবস্থা হয়নি! হয়তো তখন আমার মাকে এই হাসপাতালের বারান্দায় ফেলে রাখতে পারতাম। তাহলে কী চিকিৎসা হতো? না, কোনো-না-কোনো এক দিন হয়তো চিকিৎসা করাবার সুযোগ মিলতেও মিলতে পারত! কিন্তু আমার কাছে সেই সময়টুকু ছিল না, ২৪ ঘন্টার মধ্যে অপারেশনটা করাতে হবে।

আজ গোলাম আযমের চিকিৎসা সংক্রান্ত লেখাটা পড়ে দুম করে দু-বছর পেছনে চলে গেলাম। আমার মার কঠিন অসুখ, বড় ধরনের একটা অপরেশন লাগবে। আমার তখন খুব দুঃসময়। একটা বহুজাতিক কোম্পানির সঙ্গে আইনি লড়াই চলছিল, ফতুর অবস্থা। ঝামেলাটা হয়েছিল সংক্ষেপে এমন, আমি এদেরকে বোঝাতে চেয়েছিলাম, শ্লা, তোমরা ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি না আর আমিও তোমাদের অধীনস্থ 'ব্লাডি নেটিভ' না।
তো, হাতে টাকা-পয়সা নাই। কী করি, কোথায় যাই!

ডাক্তার সাদিয়া তখন পুরনো ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল ইন্সটিটিউট হাসপাতালে। তিনি অনেক দৌড়-ঝাপ করে আমার মাকে ওখানে ভর্তি করার ব্যবস্থা করে দিলেন। ওয়ার্ডে অনেক রোগির সঙ্গে আমার মাও শুয়ে থাকেন। কিন্তু আমার যে ঘুরেফিরে মার কাছে যেতে ইচ্ছা করে কিন্তু ফিমেল ওয়ার্ড বিধায় আমি বড়ো বিব্রত বোধ করি। কিন্তু এখানকার অন্য রোগিদের কেউ-কেউ বড়ো সদাশয় ছিলেন, এরা কেমন-কেমন করে যেন আমার এই বিব্রত ভাবটা বুঝতে পারতেন। দরোজায় আমি দাঁড়িয়ে থাকলে আমাকে এটা-সেটা বলে ভেতরে ডেকে নিতেন।

প্রায়শ, জায়গাটা আমার বাজার-বাজার মনে হতো। আমাদের এখানকার হাসপাতালে লোকজন দল বেঁধে চলে আসেন, একটা মচ্ছব-মচ্ছব ভাব!

আর হাসপাতালে যে খাবার দেয় তা খাওয়া দূরের কথা দেখলেই পেটের ভেতরের সব বেরিয়ে আসতে চায়। বাথরুমে যে-কেউ একবার গেলে দ্বিতীয়বার যেতে চাইবে না।
আমার মা এই পরিবেশের সঙ্গে অনেক সময় নিজেকে মানিয়ে নিতে পারতেন না- কখনও-কখনও বিরক্তি প্রকাশও করতেন।

আমি তাঁর ক্ষোভ-বিরক্তি বুঝতে পারতাম, যে মহিলার স্বামীর ১৯৭০ সালেই ব্যক্তিগত গাড়ি ছিল তার সন্তান তাকে কোথায় এনে ফেলে রেখেছে! আমি মার না-বলা কথাটা বুঝতে আমার সমস্যা হয় না: আমার পোলা একটা কুলাঙ্গার হইছে।
আবার কখনও তাঁর বড়-বড় চোখ অসহায় করে আমার দিকে তাকানোর ভঙ্গিটাও আমি বুঝতে পারতাম: খোকা-খোকা, আমাকে কবে বাড়ি নিয়ে যাবি?
ভালয়-ভালয় তাঁর অপারেশনও হলো। কিন্তু তারপরও তাঁকে বাঁচানো গেল না!

পরে তাঁকে নিয়ে একটা লেখা শুরু করেছিলাম, 'হাসপাতাল পর্ব', [*] সম্ভবত ১৩ পর্ব পর্যন্ত লিখেছিলাম। ওই লেখায়, যেখানে ডাক্তার সাদিয়া এখনও ছোটাছুটি করে বেড়াচ্ছেন, আমার মাও বাড়ি ফেরার অপেক্ষায়, হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আছেন।
...মনে হয়, থাক না, এই মহিলা বাড়ি ফেরার অপেক্ষায়। আহা বেচারি, বছরের-পর-বছর, যুগের-পর-যুগ ধরে তাঁর সাজানো সংসারে ফিরে যাবে...।
এরপর আমি আর লেখাটা লিখতে পারিনি, শেষ করতে পারিনি! এই দু-বছরে কত হাবিজাবি লেখাই না লিখেছি কিন্তু আমার মাকে নিয়ে ওই লেখাটা আর এগোয় না! কেন? আমি জানি না, মস্তিষ্কের একটা অংশ কী চাচ্ছে না আমার মার মৃত্যু হোক! সে কী আমার স্মৃতিতে তাঁকে বাঁচিয়ে রাখতে চায়! আমি জানি না, জানি আমি!

কপাল! আজ আবার এটা পড়লাম, জাফর ইকবালের লেখাটা, (২)। অনেকটা প্রায় এক রকম ঘটনা আমার বেলায়ও ঘটেছিল। শেষ সময়ে সদাশয় ডা. গুলজারের কল্যাণে আমার মাকে নিয়ে গিয়েছিলাম আয়েশা মেমোরিয়াল হাসপাতালে কারণ ন্যাশনালে 'ইনসেনটিভ কেয়ার ইউনিট' ছিল না।

'ইনসেনটিভ কেয়ার ইউনিট'-এ আমরা ভাই-বোন শক্ত করে হাত ধরে রেখেছি। অসংখ্য যন্ত্রপাতি তাঁকে বাঁচিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করে ব্যর্থ হচ্ছে। ...দ্রুত তাঁর ব্লাডপ্রেশার কমে যাচ্ছে। আমাদের মা বিদায় নিচ্ছেন। মনিটরের আঁকাবাকা রেখা ক্রমশ সোজা হয়ে আসছে।
পাশে দাঁড়ানো আমার দুই সুহৃদ ডা. গুলজার, ডা. মোস্তাফিজ আমাকে জানাচ্ছেন, সময় ঘনিয়ে আসছে।

এই গ্রহের সবচেয়ে বড়ো ম্যাজিসিয়ান তার সেরা ম্যাজিকটা দেখাবার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। 'দ্যা শো মাস্ট গো অন'- এই শো থামাবার ক্ষমতা কারো নাই, কারো না!

স্থির চোখে আমি পাথর হয়ে দাঁড়িয়ে আছি। তাকিয়ে আছে আমার মার পান্ডুর মুখের দিকে- রক্তশূণ্য তাঁর সাদা মুখ। কী তামাশা, মানুষটা এই আছে, এই নাই হয়ে যাবে! আমি জানি এ হওয়ার নয় তবুও আমি বিড়বিড় করি, আমার প্রাণের বিনিময়ে...।
আমার বোনটা আকুল হয়ে কাঁদছে। আমি তো কাঁদতে পারি না কারণ আমি জানি, আমি কেঁদে ফেললে আমার বোনটা ছাদ ফাটিয়ে গড়াগড়ি করে কাঁদবে। এ হতে দেয়া যায় না...।

আজও আমার মার কথা ভাবলেই আমার মাথায় সব কেমন জট পাকিয়ে পুরোপুরি এলোমেলো হয়ে যায়, এখনও। হাউমাউ করে কাঁদতে ইচ্ছা করে। পাগল, বললেই কী পা ছড়িয়ে বসে কাঁদা চলে! মরদের কাঁদার যে অনেক নিয়ম-কানুন আছে। চোখ ভরে এলে চট করে মুখ ঘুরিয়ে নিতে হয়। এক দৌড়ে বাথরুমে, পানির ট্যাপ খুলে দিতে হয়, পানি পড়ার তীব্র শব্দের সঙ্গে মিশে যায় হাহাকারের শব্দ, পানির স্রোতের সঙ্গে ভেসে যায় চোখের জল, নর্দমায়।
...
তখন এটা আমি মেনে নিয়েছিলাম, এদেশের লক্ষ-লক্ষ মানুষ আমার মত প্রাপ্য সুবিধা পান না কিন্তু আজ গোলাম আযমের এটা পড়ে আমি পারছি না, মেনে নিতে পারছি না।
হে রাষ্ট্র, গোলাম আযমের মত এই সব সেরা সন্তানদেরই জন্যই তোমার সমস্ত সুবিধা, আমার মত কুলাঙ্গারের জন্য না...।


* হাসপাতালপর্ব: http://tinyurl.com/boya6xk

১. একটি অবিচার (!) এবং গোলাম আজমের জন্য আবেদন: https://www.facebook.com/ali.mahmed1971/posts/10151523914857335
২. আমার বড় ভাই হুমায়ূন আহমেদ: http://www.samakal.net/2013/07/19/7252

Sunday, July 14, 2013

হাম্বল রিকোয়েস্ট!

প্রথমেই আমি আগাম ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি, কেউ যেন ভুলেও আমার এই ভাবনা-বক্তব্যকে অহংকার টাইপের কিছু মনে না-করেন! আমার মনে হয়েছে, আমার এই ভাবনার পেছনে যুক্তি আছে আর যেটা আমার কাছে যুক্তিযুক্ত মনে হবে সেটা আমি করবই।

আমি ফেসবুকের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি ২০০৭ সালে (অবশ্য নিয়মিত হয়েছি মাস তিনেক হবে, সে ভিন্ন প্রসঙ্গ)। তো ফেসবুকে মানেই বন্ধু-বন্ধু খেলা, বন্ধুতালিকা।
সেই ২০০৭ সাল থেকে অনেক পুরনো বন্ধু আছেন। কিন্তু এই ২০১৩ সালে এসেও বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করলাম, এদের অনেকের সঙ্গেই কখনই কোনো মন্তব্য চালাচালি, ফোনে কথা, সরাসরি দেখা হয়নি! নিদেনপক্ষে ভার্চুয়াল একটা সংযোগও হয়নি!

তা, এখানে, আমার বন্ধুতালিকায়, এরা  কী করছেন! বছরের-পর-বছর ধরে ঝিম মেরে আছেন কেন? আরে বাপু, আমি তো কোনো বিখ্যাত 'ফেসবুকার' নই যে আপনার বন্ধুতালিকায় আমি থাকলে ঝলমলে মুখে অন্যদের বলতে পারবেন: উই মা, জানিস, আমার ইয়েতে না ইয়ে আছে!
বছরের-পর-বছর ধরে এই ঝিম মেরে থাকা মানুষগুলো আমার কাছে স্রেফ একটা মৃত মানুষ! মৃত মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব দূরের কথা, কথা বলেও আরাম পাই না কারণ এরা আমার ভাষা বোঝে না।

আমার বন্ধুতালিকায় এই সমস্ত লাশ থাকার চেয়ে অল্পবয়সি সেই ছেলেটিকেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় যে অবলীলায় আমাকে জিজ্ঞেস করতে পারে, 'ভাই, এই ছফা মানুষটি কে ছিলেন'? একে অতি আনন্দের সঙ্গে উত্তর দিতে আমার কোনো ক্লান্তি নাই, 'তিনি (ছফা) কেবল এই দেশের প্রথিতযশা একজন লেখকই ছিলেন না, ছিলেন অসাধারণ একজন মানুষও'।
এমনিতে প্রায়শ এই প্রজন্মের জানার তীব্র আগ্রহ আমাকে মুগ্ধ করে!

তো, ঝিম মেরে থাকা এই সমস্ত লাশদের উদ্দেশ্য বলছি, আপনি আমার বন্ধু, এই সব রসিকতার আমার প্রয়োজন নাই। (আর যেখানে বন্ধুর সংখ্যা অধিক হলে ব্যাটা জুকারবার্গ যখন 'ট্যকাটুকা' দেয় না তাহলে এই পন্ডশ্রম অর্থহীন!) সেই সব ঝিম মেরে থাকা স্যারেরা, এখনই আপনাদের গাট্টি-বোঁচকা গোল করেন এবং আমার এখান থেকে সম্মানের সঙ্গে বিদায় হন, আমাকে দয়া করে আপনার বন্ধুতালিকা থেকে ছাঁটাই করে।

লাশের গন্ধ আমার সহ্য হয় না তাই এরপর লাশ নামের এরকম কাউকে দেখলেই সোজা ভাগাড়...। 

1971: খুন, সাদি মহাম্মদের ২৫ জন স্বজন!

সাদি মহাম্মদ বলছেন ১৯৭১ সালে কেমন করে তাঁর ২৫ জন স্বজনকে খুন করা হয়েছিল...।
video

*ভিডিও ক্লিপটির জন্য চ্যানেল আইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা। এবং সেই অজানা মানুষটি যিনি প্রথম আপলোড করেছিলেন। অনেক হাত ঘুরে এটা আমার কাছে এসেছে বিধায়, তাই নামটা এখানে দিতে পারলাম না বলে, অনিচ্ছাকৃত এই অপরাধের কারণে দুঃখ প্রকাশ করি।

Saturday, July 13, 2013

ইটিভি: এক অপদার্থ, ফাজিলের নাম!

গতকাল সকাল সাড়ে ১১টায় ইটিভিতে আমি যে স্কুলের সঙ্গে যুক্ত, 'আমাদের ইশকুল' [০, ১,২,৩], যেখানে সুবিধাবন্চিত শিশুরা বিনে-পয়সায় পড়তে পারে। সে স্কুলটা নিয়ে একটা প্রতিবেদন দেখানো হয়েছে- দেখে আমি হাঁ! আজ আবার সাড়ে ১১টায় এটা পুণঃপ্রচার হওয়ার কথা ছিল। অতি উত্তম!

এই প্রতিবেদন দেখে আমরা অনেক কিছুই জানলাম কিন্তু কেবল জানা হলো না এই 'আমাদের ইশকুলটা' চলছে কেমন করে, কারা চালায় নাকি এটা চাকা লাগিয়ে নিজে-নিজে চলে! এরা কেবল দয়া করে জানালেন, ব্যক্তি উদ্যেগে স্কুলটা চলছে। এই 'ব্যক্তিউদ্যোগ' জিনিসটা কী, আলকাতরা টাইপের কিছু?
ইটিভি নামের এই চু...(সংযমের মাস বলে চুতিয়া শব্দটা বলতে চাচ্ছি না)। একটা স্কুল চালাতে মাস্টারের বেতন দিতে হয়, স্কুল ঘরের ভাড়া দিতে হয়, শিক্ষার উপকরণ কেনা লাগে- এটার কোনো চাকা নেই যে আপনাআপনি গড়াতে থাকবে!

ইটিভির প্রতিবেদন দেখে মনে হয়েছে, এই স্কুলটা আগে নদীগর্ভে তলিয়ে ছিল, পানি সরে যাওয়ার পর চর জেগে উঠার মত এটাও গজিয়েছে। বা ইটিভি যারা চালান তারা বালকবেলায় এক সকালে আবিষ্কার করলেন তাদের ইয়েতে হালকা গোঁফ গজিয়েছে, এই টাইপ আর কী!
খানিক পূর্বে একজন আবার আমাকে নসিহত করলেন: আরে মিয়া, টিভিতে দেখাইছে এইটাই তো বেশি।
মানুষটা খুব একটা ভুল বলেননি আমাদের দেশে টিভি ক্যামেরা দেখলে পারলে লোকজনেরা প্যান্টও খুলে দেন।
মিডিয়া বলে কথা!

আমাদের দেশের মিডিয়া নিয়ে আমার স্মৃতি সুখকর না কারণ এরা পারে না এমন কোনো কাজ নেই। এক পত্রিকার একটা সাক্ষাৎকারের কথা খানিকটা বলি, আমি যা বলেছি তার অনেকটাই এরা ফেলে দিল। সে নাহয় মেনে নেওয়া গেল কিন্তু নতুন কিছু বাতচিত লাগিয়ে দিল- যা আমি বলিনি! যেমন ছোটবেলা থেকে আমার নাকি স্বপ্ন ছিল দেশ-বিদেশে আমার অনেক পাঠক থাকবে। শ্লা, আমি কী রাজনীতিবিদ নাকি যে ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন দেখে-দেখে ইয়ে বাঁধিয়ে বসব?

যদি এমনটা হতো আমাকে না-জানিয়ে ইটিভি এই প্রতিবেদনটা তৈরী করেছে তাহলে আমার বলার কিছু ছিল না। যেমনটা হয়েছিল 'দিগন্ত টিভি'র বেলায়। আমার সঙ্গে যোগাযোগ করার পর আমি সাফ না করে দিয়েছিলাম কারণ 'দিগন্ত টিভি' নিয়ে আমার নীতিগত সমস্যা আছে। এখন এরা যদি আমাকে না-জানিয়ে এই স্কুলের উপর প্রতিবেদন প্রস্তুত করে থাকে তাহলে আমার তো করার কিছু নাই। কী দেখালো, না দেখালো- কী বলল, না বলল তাতে আমার কী!
কিন্তু এবার ইটিভির এই অনুরোধের ছোট ঢেঁকি ওরফে 'বুম' গিলতে হয়েছিল।

পূর্বের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে প্রথমে গররাজি হলেও অনেক কথা চালাচালির পর ইটিভির কথায় আমি রাজী হয়েছিলাম। এরা যেটা আমাকে বোঝাবার চেষ্টা করছিলেন এটা দেখালে নাকি লোকজনেরা উদ্বুদ্ধ হবে, হেনতেন...।
আমি মনে মনে বলেছিলাম, আরে, রাখো মিয়া, লোকজনের আর 'খায়া-দায়া' কাজ নাই। লোকজনের কাজ হচ্ছে, ঘটা করে জানতে চাওয়া স্কুল চলছে কিনা, ব্যস দায়িত্ব শেষ!

তো, ইটিভি কয়েক দিন লাগিয়ে এই প্রতিবেদন তৈরী করল। যে শিক্ষক এই স্কুলে পড়ায় তাকে বলা দেওয়া হয়েছিল এদেরকে সব ধরনের সহযোগীতা করার জন্য। প্রয়োজনীয় সমস্ত তথ্য এদেরকে দেওয়া হয়েছে, বারবার। এই গোটা প্রক্রিয়া আমার যথেষ্ঠ বিরক্তি উদ্রেক করেছে কারণ ওই সময় জরুরি একটা বিষয় নিয়ে আমি খুব ঝামেলায় ছিলাম।

যাই হোক, এই স্কুলটার স্বপ্নদ্রষ্টাদের একজন 'সাদিক আলম'-ও। আমরা আসলে চেয়েছিলাম একটা বৃদ্ধাশ্রম করার জন্য যেখানে বয়স্ক লোকজন এবং নিরাশ্রয় শিশুরাও থাকবে। কিন্তু টাকার জন্য এটা করা সম্ভব হচ্ছিল না তখন আমরা ঠিক করলাম স্কুল করব। সে প্রায় বছর-চারেক আগের কথা।
এটা আমার জন্য অনেকখানি বিব্রতকর, কষ্টের; পূর্বে মিডিয়ার লোকজনেরা বিচিত্র কারণে কেবল আমার নামটাই দিয়েই দায় সেরেছে। এবার এটা আমি এদেরকে পইপই করে বলে দিয়েছিলাম, আমার নামটা বাদ যাক তবুও যেন এবার এই ভুলটা যেন না-হয়!
কিন্তু সব উধাও, প্রতিবেদনে কিসসু নাই। চরে একটা স্কুল গজিয়েছে, চাকায় ভর দিয়ে নিজে নিজে চলে এই টাইপ...।

তা, এরা এমনটা কেন করল? আসলে এটা এক ধরনের কুৎসিত ফাজলামি! লোকজনের প্রতি এক ধরনের অবজ্ঞা- ক্ষমতার দম্ভ! এরা এটা বিলক্ষণ জানে, এদের বিরুদ্ধে কেউ টুঁশব্দও করবে না। আর অনুষ্ঠান অন-এয়ার হয়েছে এতেই তো লোকজন পশ্চাদদেশে তিন চাপড় মেরে উল্লাস করবে, ক্ষোভ প্রকাশ করার আর ইচ্ছা কোথায়...।

তো, যে প্রতিবেদক এই প্রতিবেদনের জন্য এসেছিলেন তাকে ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, এই ফাজলামির মানে কীঁ! তিনি আমাকে জানালেন, তিনি ঠিকই সব গুছিয়ে পাঠিয়েছেন কিন্তু ইটিভির অফিস থেকে কী হয়েছে এটা তার জানা নাই। তিনি নিজেও এই বিষয়ে বিভ্রান্ত! তার সীমিত ক্ষমতা এটা আমি বুঝি তাই আমি বললাম, অফিসে আপনি এটা জানিয়ে দেবেন ইটিভির অপদার্থ কর্মকান্ড নিয়ে আমি বিরক্ত, ক্রদ্ধ। আমার বিরক্তির কারণে ইটিভির মত একটা অতি ক্ষমতাধর প্রতিষ্ঠান গুরুত্ব দেবে না কিন্তু পরবর্তী অন্তত আপনি নিরাপদ থাকবেন...।

video
সহায়ক সূত্র:
০. আমাদের ইশকুল: http://tinyurl.com/39egrtn
১. আমাদের ইশকুল, এক: http://tinyurl.com/3xpuov5
২. আমাদের ইশকুল, দুই: http://tinyurl.com/2fs9j4p
৩. আমাদের ইশকুল, তিন: http://tinyurl.com/327aky3

Friday, July 12, 2013

চোর-চোট্টা, মাথায় মারব গাট্টা!

'একালের দেবী তসলিমা নাসরিন', নামে একটা লেখা আছে আমার। http://www.ali-mahmed.com/2012/08/blog-post.html এই লেখাটা হুবহু যে কেবল কপি করা হয়েছে এমনই না। যেটা করা হয়েছে এটা স্রেফ চুরি। এরা একটা চোর! চোরের আস্তানাটা এখানে: http://www.newsagency24.com/component/content/article/30-sahitot/16619-2013-07-09-08-18-09

অথচ আমি আমার সাইটে স্পষ্ট বাংলায় লিখে রেখেছি, "আমার লিখিত অনুমতি ব্যতীত (www.ali-mahmed.com)-এর কোনো লেখা কোথাও প্রকাশ করা যাবে না।"
এরা অনুমতি দূরের কথা, পুরো লেখাটাই হুবহু কপি করেছে, দাঁড়ি-কমাসহ। কেবল বাদ পড়েছে আমার নামটা। কাজটা ইচ্ছাকৃত। এদের ভাবটা হচ্ছে এমন, এটা এরা নিজেরাই লিখেছে!

কাজটা হয়েছে চুতিয়ারও অধম! চুতিয়ারও অধমদের কী বলা হয় আমি জানি না তবে আপাতত 'কুতিয়া' দিয়ে কাজ চালিয়ে নিচ্ছি।
লেখকের নামের জায়গায় এরা লিখেছে, "নিউজ এজেন্সি টোয়েন্টিফোর ডেস্ক, ঢাকা"। এদের স্টাইল আছে আবার! ঘটা করে লিখেছে, বাংলাদেশ সময় : ১০৫৯ ঘন্টা, জুন ০৯,২০১৩, জাফ/সম্পাদনায়: টিই, নিউজরুম এডিটর। অনেক 'ছুমছাম' এদের, হিজিবিজি-হিজিবিজি!

ওয়াল্লা, এই newsagency24.com সাইটটার আবার একজন এডিটরও আছে দেখছি, Editor: Jahid Ikbal । এই ব্যাটা কোন চোরের ইশকুল থেকে ন্যাকাপড়া করেছে, কে জানে! এই তো দেখি আবার 'আংরাজিতে' নিজের নামও লিখতে পারে! 'শিকখিত' আছে ব্যাটা, কিন্তু এ তো দেখি গরুচোরেরও অধম...!

Saturday, July 6, 2013

যাত্রার প্রিন্স!

কপালের ফের, আমি যেটাতেই এখন হাত দেই তা কেমন-কেমন করে যেন ভন্ডুল হয়ে যায়, গণেশ উল্টে যায়! সুধিন্দ্রনাথের কবিতা ধার করে বলতে হয়, '...অকস্মাৎ স্বপ্ন গেল টুটি, দেখিনু সরমে চাহি...'।
কী গভীর আগ্রহ নিয়েই না আমাদের দেশের এই প্রিন্সের কথা লিখলাম, 'একজন প্রিন্স, মুসা বিন শমসের!':
https://www.facebook.com/ali.mahmed1971/posts/10151504510607335

এরপর জনে-জনে বলে বেড়িয়েছি আমাদের দেশেও প্রিন্স আছে, বাহে। দেশ-বিদেশের লোকজনেরা চোখ বড়-বড় করে অপার বিস্ময়ে স্বীকার যেতে বাধ্য হয়েছিলেন, সমীহের চোখে তাকিয়েছেন। কেন-কেন-কেন, কেন এমনটা হয়? এখন চিঁ চিঁ ব্যতীত আমার গলার স্বর বের হবে কেমন করে! এই পোড়া দেশে যাও একজন প্রিন্স পাওয়া গেল এখন দেখা যাচ্ছে আরেক কাহিনী!

দৈনিক জনকন্ঠ, প্রথম পৃষ্ঠায় এটা ছাপায় ২৪ মার্চ, ২০০১ সালে। ওখান থেকে খানিকটা এখানে তুলে দেই:
"ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকার মেয়ে কমলা ঘোষ। সবে বিয়ে হয়েছে তার। বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসে আটকা পড়ে যান কমলা! একদিন পাকিস্তানি মেজর কোরায়শী ও তিন জন সৈন্যসহ কমলাদের বাড়িতে আসে নুলা মুসা। এরপর যা হওয়ার তাই হয়, পাকিস্তানি সৈন্যরা চরম শারিরীক নির্যাতন করে কমলাকে।
...পরে কমলার স্বামী কমলাকে আর কখনই ঘরে ফিরিয়ে নেয়নি।

...ফরিদপুর শহরের মহিম স্কুলের সঙ্গে এক ধর্মশালা দেখাশোনা করতেন কেষ্টমন্ডল। কেষ্টমন্ডলের চার মেয়ে: ননী, বেলী, সোহাগী ও লতা। নুলা মুসার তত্ত্বাবধানে এই বেলী ও ননী মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময় পাকিস্তানি সৈন্যদের মনোরঞ্জনে বাধ্য হয়েছিলেন। পরে এই চার বোন এবং তাদের মা-র ঠাঁই হয়েছিল ফরিদপুরের পতিতাপল্লীতে।
...কেবল ননী, বেলীই নয় পাকিস্তানি সেনাদের হাতে অর্ধশতাধিক বাঙালি মা-বোনের সন্ভ্রম লুটের প্রধান নায়ক এই নুলা মুসা।

এখন তার নাম ড. মুসা বিন শমশের হলেও সার্টিফিকেটের নাম এডিএম মুসা। কিন্তু একটা হাত খানিকটা বিকলাঙ্গ থাকায় তার ব্যাপক পরিচিতি ছিল, 'নুলা মুসা' হিসাবেই। নিজেকে ডক্টর বলে দাবী করলেও, ১৯৬৮ সালে ঈশান স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করে রাজেন্দ্র কলেজে ভর্তি হয়েছিল মুসা। ১৯৮৬ সালে মুসার নামের আগে ডক্টর যুক্ত হলেও উচ্চ-মাধ্যমিক পাসের কোনো প্রমাণ মেলেনি কোথাও!

অভিযোগ আছে, একাত্তরের ২১ এপ্রিল পাকিস্তানি সৈন্যদের ফরিদপুরে ঢোকার ব্যাপারে মানচিত্র এবং পথনির্দেশনা দিয়ে সহযোগিতা করেছে এই মুসা। মেজর আকরাম কোরায়শীর সঙ্গে মুসার গভীর ঘনিষ্ঠতা ছিল! ফরিদপুরে পাকিস্তানি সৈন্য ঢোকার পরদিনই (একাত্তরের ২২ এপ্রিল) ফরিদপুর সার্কিট হাউজে মুসা এবং মেজর কোরায়শীকে খুবই অন্তরঙ্গ পরিবেশে দেখেন, মুক্তিযোদ্ধা একেএম আবু ইউসুফ সিদ্দিক পাখী।
একাত্তরে মুসা ছিল ফরিদপুরের এক মূর্তিমান আতঙ্ক। তার প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সহায়তায় পাকিস্তানি সেনারা অসংখ্য মানুষকে হত্যা, নারী নির্যাতন একং লুটতরাজ করেছে।
ফরিদপুরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ শহরের সমস্ত শহীদ মিনার মুসা পাকিস্তানি সেনাদের সহায়তায় ভেঙ্গে ফেলে!

মেজর কোরায়শীসহ অনেক পাকিস্তানি সেনা-সদস্যের অবাধ যাতায়াত ছিল মুসার বাড়িতে। মুসার পিতা তথাকথিত পীর শমসের মোল্লা পাকিস্তানি সেনাদের মনোবল বাড়াতে তাদের গায়ে ফুঁ দিত আর বলত, 'ইন্ডিয়া পাকিস্তান বন যায়েগা'।


দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ডিসেম্বরেই মুসা মুক্তিযোদ্ধাদের ভয়ে ফরিদপুর থেকে পালিয়ে চলে যায় পাবনায়। সেখানে বড় ভাইয়ের শ্যালিকাকে বিয়ে করে ঢাকা-চট্টগ্রামে ছুটাছুটি করে। ঢাকার এক অবাঙ্গালিকে পাকিস্তানে পাঠাবার নাম করে তাঁর সহায়সম্পত্তি আত্মসাতের মাধ্যমে একপর্যায়ে ঢাকায় 'শাহবাজ ইন্টারন্যাশনাল' নামে আদম ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলে। এরপর বিদেশে লোক পাঠাবার নাম করে উত্তরবঙ্গের কয়েকশ' লোকের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে বিদেশে উধাও হয়ে যায়। বছর তিনেক পর ঢাকায় ফিরে 'ড্যাটকো' নামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে আবারও শুরু করে আদম ব্যবসা! এরশাদ আমলে শুরু হয় তার উত্থান। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি মুসাকে...।"

*দৈনিক জনকন্ঠে এই প্রতিবেদন ছাপাবার পর প্রতিবাদ দূরের কথা এই প্রতিবেদনটি তৈরীর সময় বারবার তার সঙ্গে যোগাযোগের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল এমনটাই দাবী এই পত্রিকার।

দৈনিক জনকন্ঠ, (প্রথম পৃষ্ঠা) ২৪ মার্চ, ২০০১

রক্তের দাগ...।

আমি এক লেখায় লিখেছিলাম, ৭১, ৮১, ৯১, ২০০১, ২০১১ সালে কে খুন, অপরাধ করেছে এখানে সালটা মূখ্য না, আলোচ্য বিষয় হচ্ছে সেই অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে প্রচলিত আইনে শাস্তি দেওয়া হয়েছে কি না?

এক নব্য মুক্তিযোদ্ধা এটা নিয়ে অনেক 'ত্যানা' জড়ালেন। আমি নাকি বিচার চাই না বলেই ৭৫-এর কথা উল্লেখ করিনি! শোনো কথা, এদের ব্রেন কী সময়ে-সময়ে ড্রেন হয়ে যায়!
এখানে লম্বা একটা সময় বোঝাবার জন্য ১০ বছর পরপর একটা টাইম-ফ্রেম দাঁড় করানো হয়েছিল। সময়টা এখন ২০২১ হলে, ২০২১-ও এখানে চলে আসত। দাঁড়াত এমন: ৭১, ৮১, ৯১, ২০০১, ২০১১, ২০২১...।

এদিকে আবার অন্য এক মুক্তিযোদ্ধা গবেষক ওই নব্য মুক্তিযোদ্ধার সেই লেখার 'ত্যানা' ধরে অনেক টানাটানি করলেন- একবার জড়ালেন, একবার খুললেন, আবার জড়ালেন...। তাদের দলবল কেউ-কেউ সেই লেখায় পঞ্চতারকাও প্রদান করলেন। কেউ-বা আবার দাঁত কেলিয়ে হায়েনার হাসিও উপহার দিলেন!
আমি আর কী করব! আমার মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যে অল্প জ্ঞান, ওটার উপর ভরসা করে আর বাহাসে গেলাম না। তাছাড়া এদের যে অনেক অলৌকিক ক্ষমতা! নিমিষেই এরা মানুষকে ছাগলে, ছাগলকে মানুষে রূপান্তরিত করার বিচিত্র ক্ষমতা রাখেন!

যাই হোক, জার্মানিতে কোনো শিশুর নাম 'হিটলার' রাখা আইনত শাস্তিযোগ্য অপরাধ। নাৎসি বাহিনী যে ওখানেই কেবল নিষিদ্ধ তাই না, পৃথিবীর যেখানেই নাৎসি বাহিনীর সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো মানুষকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে তাকে ধরে এনে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। কারণ সে অপরাধী- কত বছর পূর্বে অপরাধ করেছিল এটা এখানে জরুরি বিষয় না। অপরাধ করেছে, শাস্তি পাবে- এই নিয়ে কারো বাড়তি কোনো কথা নাই।

অথচ আমাদের দেশে ৭১-এ খুন করে দিব্যি যে এরা ঘুরে বেড়িয়েছে এমনই না, কালে-কালে এদের গাড়িতে পতপত করে আমাদের পতাকাও উড়েছে। আফসোস, আমাদের দেশে এখনও পাকিস্তানের পতাকা নিয়ে মিছিল হয়, বড়ো বিচিত্র এ দেশ!
কখনও এরা বলে, ক্ষমা করা তো হয়ে গেছে। যদিও আমরা জানি সবাইকে ক্ষমা করা হয়নি। তারপরও যে কথাটা থেকে যায়, কে কাকে ক্ষমা করার অধিকার রাখে?

এমনিতে এরা কথায় কথায় ইসলাম ধর্মের বুলি কপচায় কিন্তু ইসলাম ধর্মে নরহত্যা বিষয়ে কোথায় ছাড় দেওয়া হয়েছে, এ নিয়ে টুঁ-শব্দও করে না!
"...কেউ অন্যায়ভাবে নিহত হলে তার উত্তরাধিকারীকে আমি প্রতিশোধ গ্রহনের অধিকার দিয়েছি...। (১৭ সুরা বনি-ইসরাইলঃ ৩৩)
"নরহত্যার ব্যাপারে তোমাদের জন্য বদলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে...।" (২ সুরা বাকারাঃ ১৭৮-১৭৯)
মোদ্দা কথা, যাকে খুন করা হলো তার উত্তরাধিকারীর উপরই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এই সিদ্ধান্তটা, কোনো রাজা-বাদশার উপর না।

১৯৭১ সালে সাদি মহাম্মদের পরিবারের ২৫ জন মানুষকে খুন করা হয়েছিল। যার বর্ণনা তিনি চ্যানেল আইয়ের একটা অনুষ্ঠানে বলেছিলেন। কেমন করে একেক করে তাঁর স্বজনদের জবাই করা হয়েছে, কোপানো হয়েছে। কেমন করে বাবাকে ফেলে তিনি পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন...। এই সমস্ত তীব্র কষ্টের কথা তিনি বুকে পাথর বেঁধে বলে গেছেন...।
ইচ্ছা ছিল এই লেখাটার সঙ্গে ওই ভিডিও ফুটেজটা এখানে জুড়ে দেওয়ার কিন্তু এটা কোনো কারণে আপলোড করতে পারছি না । এমন একটা ফুটেজ দেখার জন্য যে বুকের সাহস প্রয়োজন তা আমার নাই। আমি পুরোটা দেখতে পারিনি, এ বর্ণনাতীত!

হতাশায় আমরা নাহয় সব দেখেশুনে মুখ ফস্কে বলে বসি, ওই সব পুরনো জিনিস নিয়ে আর কত...। কিন্তু খুনের বিচার না-হলে আইন কোন কাজের? আইন তো কোনো খুনেরই বৈধতা দেয় না। ৭১ সালের খুন আমরা বিস্মৃত হলে ২০১৩ সালের খুন কী দোষ করল?
আর একজন সাদি মহাম্মদ কেমন করে বিস্মৃত হবেন তাঁর সেই অন্য ভুবনের কষ্ট! তিনি ব্যতীত কার এই ক্ষমতা আছে তাঁর স্বজনের খুনিকে ক্ষমা করার?

আমি যেটা মনে করি, ৪২ বছর গেল নাকি ৪২০ বছর তাতে কী- রক্তের দাগ মুছে ফেলা যায় না...।

Thursday, July 4, 2013

বাংলাদেশ শুধুই আমার বাবার কবরস্থান!

একজন প্রবীর সিকদার। তাঁর কাছ থেকে আমরা শুনি মুক্তিযুদ্ধের সময়কার কথা:
"বাবার পিঠে একশ' ঘামাচি মেরে দিলে পাওয়া যেত একটা ফুটবল। বড় কাকাকে দেড়শ' ঘামাচি ফোটানোর শব্দ শুনিয়ে পেতাম ক্রিকেট ব্যট-বল।
...পেছন ফিরে তাকালে মনে হয়, ওগুলো বুঝি গতকালের গল্প, আনন্দঘন স্মৃতি।

৮মে, ১৯৭১। সবকিছু ওলটপালট হয়ে গেল। রাজাকাররা কুপিয়ে-পিটিয়ে খুন করল বড় কাকাকে। রামদায়ের কোপে মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতেও বড় কাকা আমাকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলেন, 'দেশ ঠিকই স্বাধীন হবে। কিন্তু তোকে লেখাপড়া শিখিয়ে যেতে পারলাম না'।
 

আমার শার্ট রক্তে ভিজে গিয়েছিল বড় কাকার তাজা রক্তে। ওই সময়েই রাজাকারদের হাতে খুন হয়েছিলেন, ছোটকাকা, মামাসহ আমার আরো ১৩ স্বজন। অসহায় ও বোবার মতো সেদিন আমাকে ওই হত্যাযজ্ঞ প্রত্যক্ষ করতে হয়েছিল।
ওই রক্তভেজা শার্ট না-শুকাতেই খবর পেয়েছিলাম, ওরা বাবা আর দাদুকে ধরে নিয়ে গেছে। পরে বড়কাকার রক্তমাখা আমার শার্টটা মা কোথায় রেখেছেন তা যেমন জানা হয়নি, তেমনি আর জানা হয়নি ওরা আমার বাবা-দাদুকে কোথায় কিভাবে হত্যা করেছে?

...মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময়টা নিজেদের ভিটেবাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়ে ফরিদপুরেরই বিভিন্ন গ্রামে যাযাবরের মত জীবন কাটিয়েছি। খাদ্য আর নিরাপত্তার খোঁজে বাড়ি থেকে বাড়ি, গ্রাম থেকে গ্রামে ঘুরেছি।
 

পাক-রাজাকারদের ধাওয়ার মুখে পাড়ি দিয়েছি মাঠের পর মাঠ, বিলের পর বিল, নদীর পর নদী। চোখে পড়েছে কুকুরে-শুকুনে খাওয়া অজস্র লাশ। বাবা যেদিন হারিয়ে যান সেদিন তার পরনে ছিল নীল লুঙ্গি। ওই অজস্র লাশের কোনোটির সঙ্গেই নীল লুঙ্গি না-থাকায় চিহ্নিত করতে পারিনি বাবার লাশ। তবে ওই সময়ের ছোট্ট মনে এটুকু বুঝেছি, ওই লাশগুলোর কোনো একটির মতই দেশের কোথাও না কোথাও পড়ে আছে আমার বাবার লাশ।

...আর এভবেই কখন যেন পুরো বাংলাদেশ হয়ে উঠেছে আমার বাবার কবরস্থান। যেখানেই যাই সেখানেই এখন আমি শুধু আমার বাবার লাশের গন্ধ পাই; কেননা ওই মাটিতেই মিশে আছেন আমার বাবা। দেশ জুড়ে যতো মানুষ দেখি সকলকেই মনে হয় আমার পরম আত্মীয়; ওরা কিংবা ওদের কোনো স্বজন, নিশ্চয়ই একাত্তরে সৎকার করেছিলেন আমার বাবার লাশের।

...একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে লেখালেখির অপরাধে ঘাতকের বোমা-গুলিতে উড়ে গেছে আমার একটি পা, চাপাদির কোপে স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারিয়েছে আমার একটি হাত। অবশ্য এসব নিয়ে আমার ক্ষোভ-যন্ত্রণা নেই।
 

...অস্থির যন্ত্রণায় লীন গয়ে ভাবতাম, কেন যে ওরা একাত্তরে 'ঘামাচি মারার শর্তে ফুটবল' দেওয়া বাবাকে আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গেল? আমার সেই বাবা ডাকা, না ডাকার অসুস্থতা কেটেছে আমার ছেলের জন্মের পর। এখন আমি ছেলেকেই 'বাবা' ডাকি, ছেলের ভেতরেই একাত্তরে হারানো বাবার অস্তিত্ব খুঁজে পাই। এরই মধ্যে ছেলেকে বলেও দিয়েছি, 'তোমার চারপাশে যতো বড় বাংলাদেশ তার পুরোটাই তোমারই দাদুর কবরস্থান; কখনোই যেন দাদুর কবরস্থানের অমর্যাদা না হয়...।"

*একাত্তরের রাজাকারদের নিয়ে লেখার অপরাধে প্রবীর সিকদারকে গুলি করা হয়েছিল, বোমা মারা হয়েছিল। তাঁর শরীরে এখনও অসংখ্য স্প্লিন্টার, উড়ে গেছে ডান পা- এখন ক্রাচে ভর দিয়ে হাঁটেন।
চাপাতি দিয়ে কোপানোও হয়েছিল তাঁকে, বাম হাত প্রায় অকেজো।
তবুও এই মানুষটা বিন্দুমাত্র মনোবল হারাননি। আমি এখনও তাঁর সঙ্গে কথা বললে মনে বড়ো জোর পাই...।

**প্রবীর সিকদারের চমৎকার একটা বই আছে, 'আমি শালা রাজাকার'। এই বইটা থেকে খানিকটা তুলে দেই:
 
"...চারটা পায়ে একটা কুত্তা
আমার আছে দুই
আর দুইটা পা থাকতো যদি
আমিও কুকুর হই।"

...
"নিজামি আর মুজাহিদের
গাড়ি চলে উড়ে
লাল সবুজের ওই পতাকা
কাঁদে কিন্তু ওড়ে।"
 

Wednesday, July 3, 2013

লিমনের এক পা-র বিরুদ্ধে লড়ছে গোটা দেশ!

ছবি ঋণ: দৈনিক সমকাল, ২ জুলাই ২০১৩
ভাগ্যিস, র‌্যাব লিমনের একটা পা রেখে দিয়েছিল নইলে কী হতো এটা ভেবে আমি শিউরে উঠি। লিমনের এইটা পা নিয়েই সমগ্র দেশের আতংকের শেষ নেই দুই পা থাকলে আমার এই প্রিয় দেশটার কী হাল হতো এটা ভেবে শিউরে উঠি!

ঘটনার সময় লিমনের বয়স ছিল, ১৪ বছর! আমাদের দেশের আইন অনুযায়ী লিমনকে শিশু বলা হবে। Sailent features of the children act of 1974, Section 2 (F)-এ বলা হচ্ছে, "A child means a person under 16 years of age..."।
একটা শিশু এই দেশটাকে কাঁপিয়ে দিল!

আমার লেখালেখির শপথ, লিমনের সঙ্গে কোনো দিন দেখা হলে তার অবশিষ্ট ওই একটা পা ধরে সালাম করব। এমন একজন অসম্ভব শক্তিশালী মানুষকে এই সম্মান না-দেখিয়ে উপায় কীঁ! যার বিরুদ্ধে লড়ছে গোটা রাষ্ট্র, রাষ্ট্রযন্ত্রের সমস্ত শক্তি।
আমরা এই যে উষ্মা প্রকাশ করতাম, আমাদের ট্যাক্সের টাকায় প্রতিরক্ষাখাতে ১৪ হাজার কোটি টাকা কেন খরচ করা হবে? ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ হলে তো আমরা হাতাহাতি যুদ্ধ করব, তাহলে অস্ত্র কেন রে, বাপু! আজ বুঝি এর মর্তবা! আরে, অন্তত যে অস্ত্রগুলো কেনা হবে এগুলো তো কাজে  লাগবে, নাকি? এই যেমন, এখন সব অস্ত্র তাক করে আটকাতে হবে লিমন নামের এক দানবকে। অথচ ছবিতে [*] আমরা দেখতে পাচ্ছি, দানবটা কাঁদছে, কেন?

পত্রিকার খবর হচ্ছে, অস্ত্র মামলায় লিমনের বিরুদ্ধে অভিযোগ (আদালতের ভাষায় 'চার্জ') গঠন করা হয়েছে।
কাঁদতে কাঁদতে লিমন বলেন, "...র‌্যাব আমাকে নির্মম নির্যাতন করে (পা-ও হারাতে হয়েছে) উল্টো দুটি মামলায় আসামি করে হয়রানি করছে।
পুলিশের কাছ থেকেও ন্যায়বিচার পাইনি। আজ নিম্ন আদালতেও ন্যায়বিচার পেলাম না...।"

আইনের চোখে কেবল অপরাধিই না, পলাতক একজনকে প্রেসিডেন্ট সাহেব ক্ষমা করে দেন কারণ সেই অপরাধি হচ্ছে আমাদের সাজেদা চৌধুরির ছেলে। ফাঁসির আদেশ হওয়া এমন একজন মানুষকেও রাষ্ট্রপতি ক্ষমা করেন কারণ সেই বিপ্লবের বাপ ক্ষমতামীন দলের লক্ষীপুরের তাহের।
অথচ এই দেশের সমস্ত মানুষ জানেন, লিমন নিরপরাধ তবুও একজন রাষ্ট্রপতিও লিমনকে ক্ষমা করেন না!

এটা আমার নিজস্ব মত। আমি মনে করি, কিছু মৃত্যু খুব জরুরি হয়ে পড়ে যেমন লিমনের মৃত্যুটা! র‌্যাবের হাতে গুলি খাওয়ার পরই লিমনের মরে যাওয়াটাই সমীচীন ছিল বলে আমি মনে করি। কারণ লিমন বেঁচে থেকে যে কাজটা করছেন এটা কেবল অন্যায়ই না, ভয়ংকর অন্যায়। ১৬ কোটি মানুষকে নগ্ন করে দেওয়ার চেষ্টা- কাজটা মোটেও ঠিক না...।

কোথায় যাই কার কাছে যাই, একেক করে নিবে যাচ্ছে সব আলো...।
"...জনশূণ্য রঙ্গালয়ে নিবে গেছে সমস্ত দেওটি,
নিস্তব্ধ সকল যন্ত্র, মঞ্চপরে যবনিকা ঢাকা" (সুধীন্দ্রনাথ)