Monday, April 29, 2013

আমাগো একজন আইনপ্রণেতা!

ডিয়ার স্যার, আপনি ব্লগারদের কান ধরে ছবি তোলার কথা বলেছেন, রাইট, স্যার? কিন্তু অতি পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, একজন আইপ্রণেতা হয়েও আপনি হাইকোর্টের এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে জানেন না! হলি কাউ!
কাউকে ধরলেই মিডিয়ার সামনে কান ধরানো দূরের কথা, দাঁড় করিয়ে ছবিও তোলা যাবে না। একজন আইনপ্রণেতা হয়ে আপনি নিজেই আইন লংঘন করছেন এই কারণে আমরা কী আশা করতে পারি না, আপনি নিজেই কানে হাত দেবেন, নাকি...?

মাননীয় সংসদ সদস্য আন্দালিব, তৃতীয় মাত্রায় আপনার বক্তব্যটা দেখলাম। কেবল বক্তব্য! আপনার শরীরের ভঙ্গি, সবই দেখলাম। আপনাকে দেখে মনে হলো, কে বলে নগ্নগাত্রই কেবল অশ্লীল?
আহা, আপনার নেত্রীর কথা আবার টানলেন কেন, স্যার! ওনাকে নিয়ে তো আমাদের নতুন করে জানার-বলার কিছু নাই। উনি 'ক্যাতনা বাড়া' আস্তিক তা আর আমাদের জানার বাকী নাই! ওনার কথা বাদ দেন বরং আপনার কথাই শুনি, স্যার।

অবশ্য এও সত্য, যেমন নেত্রী তেমনি তার অনুসারী! স্যার, ইসলাম ধর্ম, নাস্তিকতা এবং ব্লগ বিষয়ে আপনার যে প্রভূত জ্ঞানের নমুনা দেখলাম এতে করে মনে হচ্ছে, আপনার কাছ থেকে এই দুইটা বিষয়ে জ্ঞান না-নিয়ে মরে যাওয়াটা কোনো কাজের কাজ হবে না।
তবে...। মুশকিলটা হচ্ছে কী জানেন, স্যার; আপনার জ্ঞান, গ্রে মেটার, আপনার ইয়েলো-মেটার সব মিলে একাকার হয়ে গেছে, বুঝলেন। 'ছেড়াবেড়া' এক অবস্থা- আহা, আলাদা করাটা ভারী জটিল হয়ে পড়বে যে!

ছেলেপেলেরা তো দেখি আপনাকে 'ধুমায়া' গালি দিচ্ছে কিন্তু আমি আপনাকে গালি দিতে চাই না। আমিও গ্রামের পোলা, ... বলা আমার জন্য কঠিন কিছু না। কিন্তু স্যার, কোনো প্রকারেই আমি আপনার পর্যায়ে নামতে চাই না। কারণ আপনি চাচ্ছেনই এটা, সবাইকে আপনার পর্যায়ে নামিয়ে নিয়ে আসতে। এ তো আপনার জয় কিন্তু আমার যে পরাজয়! আমার নিজেকে পরাজিত দেখতে ভাল লাগে না।

আপনার মত হওয়ার চেয়ে পেট চিরে হারিকিরি করাও যে বড় সহজ। বা জীবনানন্দ দাদার সঙ্গে ট্রামের তলায় পড়ে যাওয়া...। মোদ্দা কথা, আপনার মত হওয়ার চেয়ে মরে যাওয়াটাই শ্রেয়...।
...
'ডিগবাজি আন্দালিব', ভুল ব্যবচ্ছেদ এবং একজন অপরাধী!

সাংসদ আন্দালিবকে নিয়ে প্রায় সবাই, এমনকি মিডিয়াও মূল বিষয়টা এড়িয়ে যাচ্ছে। গতকাল বিডিনিউজ২৪ প্রতিবেদন প্রকাশ করে:
"আন্দালিবের বক্তব্যে 'সোস্যাল মিডিয়ায়' সমালোচনার ঝড়।"
এখানে এরা একবারও এই সাংসদের কাছে জানতে চাইলেন না, হাইকোর্টের নিষেধ থাকার পরও ব্লগারদেরকে যেভাবে মিডিয়ার সামনে উপস্থাপিত করা হয়েছে তা কতটুকু আইনসঙ্গত?
অথচ যে ভুলটা পুলিশও স্বীকার করেছে, খানিকটা ঘুরিয়ে। এরা বলেছে, কোর্টে নেওয়ার সময় মিডিয়া চাল করে ছবিটা উঠিয়েছে। যদিও আমরা জানি, এটা নির্লজ্জ একটা মিথ্যা। তবুও পুলিশ তো অন্তত অপচেষ্টাটা করেছে!

অথচ সাংসদ আন্দালিব কেবল যে এটাকে সমর্থণ করছেন এমনই না, মিডিয়ার সামনে কান ধরে বসিয়ে রাখার কথা বলে আরেকটা অন্যায় করার জন্য প্ররোচিতও করছেন।

বিডিনিউজ২৪-এর সঙ্গে সাংসদ আন্দালিব বলেছেন:
"...আর ফেসবুকে ভিডিও ক্লিপটিতে বক্তব্য কাটছাট করে প্রকাশ করা হয়েছে...।"


আমরা যারা এই ভিডিওটি দেখেছি তারা এটা বিলক্ষণ জানি তার এই অভিযোগ অপরিণতবুদ্ধি-অপরিণামদর্শী-পরিণতবয়স্ক এক বক্তব্য। একটা শিশুও এই ভিডিও ক্লিপটা দেখে এটা বুঝতে পারবে।
শিশুরা ভাল ডিগবাজি খায়, দেখে চোখের আরাম হয় কিন্তু একজন সাংসদ-ব্যারিস্টার যখন ডিগবাজি খাওয়ার চেষ্টা করেন তখন দেখতে ভাল লাগে না। তার উপর...।
ভাল কথা, আজকাল লুঙি নিয়ে দেশে খুব হইচই। জানি না এই সাংসদ মহোদয় লুংঙি পরেন কিনা। অভ্যাস থাকলে ডিগবাজি খাওয়ার পূর্বে লুঙি না-পরার জন্য আমি কাতর পরামর্শ দেব।

যাই হোক, আমার কাছে যেটা মনে হয়েছে, একজন সাংসদ, একজন আইনপ্রণেতা হয়ে তিনি আইনের প্রতি অবজ্ঞাই না, উচ্চ-আদালতের প্রতি স্পষ্টত অশ্রদ্ধাও দেখিয়েছেন। এই মানুষটি দৃষ্টান্তমুলক অপরাধ করেছেন, আইনের মানুষ হয়েও। অতএব সুআইন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমি উচ্চ আদালতের কাছে এই আবেদন জানাই, যথাসম্ভব দ্রুত যেন এই মানুষটিকে আইনের আওতায় আনা হয়...।

No comments: