Monday, April 29, 2013

আমাগো একজন আইনপ্রণেতা!

video
ডিয়ার স্যার, আপনি ব্লগারদের কান ধরে ছবি তোলার কথা বলেছেন, রাইট, স্যার? কিন্তু অতি পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, একজন আইপ্রণেতা হয়েও আপনি হাইকোর্টের এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে জানেন না! হলি কাউ!
কাউকে ধরলেই মিডিয়ার সামনে কান ধরানো দূরের কথা, দাঁড় করিয়ে ছবিও তোলা যাবে না। একজন আইনপ্রণেতা হয়ে আপনি নিজেই আইন লংঘন করছেন এই কারণে আমরা কী আশা করতে পারি না, আপনি নিজেই কানে হাত দেবেন, নাকি...?

মাননীয় সংসদ সদস্য আন্দালিব, তৃতীয় মাত্রায় আপনার বক্তব্যটা দেখলাম। কেবল বক্তব্য! আপনার শরীরের ভঙ্গি, সবই দেখলাম। আপনাকে দেখে মনে হলো, কে বলে নগ্নগাত্রই কেবল অশ্লীল?
আহা, আপনার নেত্রীর কথা আবার টানলেন কেন, স্যার! ওনাকে নিয়ে তো আমাদের নতুন করে জানার-বলার কিছু নাই। উনি 'ক্যাতনা বাড়া' আস্তিক তা আর আমাদের জানার বাকী নাই! ওনার কথা বাদ দেন বরং আপনার কথাই শুনি, স্যার।

অবশ্য এও সত্য, যেমন নেত্রী তেমনি তার অনুসারী! স্যার, ইসলাম ধর্ম, নাস্তিকতা এবং ব্লগ বিষয়ে আপনার যে প্রভূত জ্ঞানের নমুনা দেখলাম এতে করে মনে হচ্ছে, আপনার কাছ থেকে এই দুইটা বিষয়ে জ্ঞান না-নিয়ে মরে যাওয়াটা কোনো কাজের কাজ হবে না।
তবে...। মুশকিলটা হচ্ছে কী জানেন, স্যার; আপনার জ্ঞান, গ্রে মেটার, আপনার ইয়েলো-মেটার সব মিলে একাকার হয়ে গেছে, বুঝলেন। 'ছেড়াবেড়া' এক অবস্থা- আহা, আলাদা করাটা ভারী জটিল হয়ে পড়বে যে!

ছেলেপেলেরা তো দেখি আপনাকে 'ধুমায়া' গালি দিচ্ছে কিন্তু আমি আপনাকে গালি দিতে চাই না। আমিও গ্রামের পোলা, ... বলা আমার জন্য কঠিন কিছু না। কিন্তু স্যার, কোনো প্রকারেই আমি আপনার পর্যায়ে নামতে চাই না। কারণ আপনি চাচ্ছেনই এটা, সবাইকে আপনার পর্যায়ে নামিয়ে নিয়ে আসতে। এ তো আপনার জয় কিন্তু আমার যে পরাজয়! আমার নিজেকে পরাজিত দেখতে ভাল লাগে না।

আপনার মত হওয়ার চেয়ে পেট চিরে হারিকিরি করাও যে বড় সহজ। বা জীবনানন্দ দাদার সঙ্গে ট্রামের তলায় পড়ে যাওয়া...। মোদ্দা কথা, আপনার মত হওয়ার চেয়ে মরে যাওয়াটাই শ্রেয়...।
...
'ডিগবাজি আন্দালিব', ভুল ব্যবচ্ছেদ এবং একজন অপরাধী!

সাংসদ আন্দালিবকে নিয়ে প্রায় সবাই, এমনকি মিডিয়াও মূল বিষয়টা এড়িয়ে যাচ্ছে। গতকাল বিডিনিউজ২৪ প্রতিবেদন প্রকাশ করে:
"আন্দালিবের বক্তব্যে 'সোস্যাল মিডিয়ায়' সমালোচনার ঝড়।"
এখানে এরা একবারও এই সাংসদের কাছে জানতে চাইলেন না, হাইকোর্টের নিষেধ থাকার পরও ব্লগারদেরকে যেভাবে মিডিয়ার সামনে উপস্থাপিত করা হয়েছে তা কতটুকু আইনসঙ্গত?
অথচ যে ভুলটা পুলিশও স্বীকার করেছে, খানিকটা ঘুরিয়ে। এরা বলেছে, কোর্টে নেওয়ার সময় মিডিয়া চাল করে ছবিটা উঠিয়েছে। যদিও আমরা জানি, এটা নির্লজ্জ একটা মিথ্যা। তবুও পুলিশ তো অন্তত অপচেষ্টাটা করেছে!

অথচ সাংসদ আন্দালিব কেবল যে এটাকে সমর্থণ করছেন এমনই না, মিডিয়ার সামনে কান ধরে বসিয়ে রাখার কথা বলে আরেকটা অন্যায় করার জন্য প্ররোচিতও করছেন।

বিডিনিউজ২৪-এর সঙ্গে সাংসদ আন্দালিব বলেছেন:
"...আর ফেসবুকে ভিডিও ক্লিপটিতে বক্তব্য কাটছাট করে প্রকাশ করা হয়েছে...।"


আমরা যারা এই ভিডিওটি দেখেছি তারা এটা বিলক্ষণ জানি তার এই অভিযোগ অপরিণতবুদ্ধি-অপরিণামদর্শী-পরিণতবয়স্ক এক বক্তব্য। একটা শিশুও এই ভিডিও ক্লিপটা দেখে এটা বুঝতে পারবে।
শিশুরা ভাল ডিগবাজি খায়, দেখে চোখের আরাম হয় কিন্তু একজন সাংসদ-ব্যারিস্টার যখন ডিগবাজি খাওয়ার চেষ্টা করেন তখন দেখতে ভাল লাগে না। তার উপর...।
ভাল কথা, আজকাল লুঙি নিয়ে দেশে খুব হইচই। জানি না এই সাংসদ মহোদয় লুংঙি পরেন কিনা। অভ্যাস থাকলে ডিগবাজি খাওয়ার পূর্বে লুঙি না-পরার জন্য আমি কাতর পরামর্শ দেব।

যাই হোক, আমার কাছে যেটা মনে হয়েছে, একজন সাংসদ, একজন আইনপ্রণেতা হয়ে তিনি আইনের প্রতি অবজ্ঞাই না, উচ্চ-আদালতের প্রতি স্পষ্টত অশ্রদ্ধাও দেখিয়েছেন। এই মানুষটি দৃষ্টান্তমুলক অপরাধ করেছেন, আইনের মানুষ হয়েও। অতএব সুআইন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমি উচ্চ আদালতের কাছে এই আবেদন জানাই, যথাসম্ভব দ্রুত যেন এই মানুষটিকে আইনের আওতায় আনা হয়...।

Sunday, April 28, 2013

গুড-বাই না, 'ব্যাড-বাই', প্রথম আলো!

ছবি: সংগ্রহ
মেরিল-প্রথম আলোর যে 'নাচাগানা' জাঁকালো অনুষ্ঠানটা হয়ে গেল এটা নিয়ে গুছিয়ে লিখতে পারার ক্ষমতা আমার নাই, থাকলে ভাল হতো!
আমি মোটা বুদ্ধি, মোটা চিন্তার মানুষ। অল্প কথায় বুঝি, পেটের ক্ষিধা বড়ো ক্ষিধা, এই শ্লা পেটের জন্যই আমরা কত কিছুই না করি! লাশ সামনে নিয়েও খাবার খাই!
কিন্তু যখন লাশ সামনে নিয়ে ভাতের সঙ্গে তরকারি নাই কেন? থাকলেও, তরকারিতে লবন কম কেন; এই নিয়ে হইচই করি তখন বুঝতে হবে এখানে সমস্যা কেবল পেটের ক্ষিধা না। সমস্যাটা অন্যত্র, মস্তিষ্কের নিতল অন্ধকারে লুকিয়ে আছে সেই সমস্যাটা যা থাকে কেবল অদেখা পশুর মস্তিষ্কে।
আমি অদেখা পশুকে বড়ো ভয় পাই, এড়িয়ে চলি! কারণ আমার ভেতরে লুকানো পশুটার সঙ্গে যদি এর মারামারি বেঁধে যায়, তখন এদের থামাবে কে?

শুনতে পাই, প্রথম আলো নাকি ৫৪ লক্ষ টাকা উঠিয়েছে অনুদান হিসাবে। কিন্তু তাতে কী আসে যায়! এই যে লাশের মিছিলের সঙ্গে আলোকিত (!) মানুষদের মিছিল- এতে করে কী এদের এই অতি কুৎসিত অন্যায়টা মিটে যায়! বসুন্ধরা গ্রপের কালের কন্ঠের আহমেদ সোবহান এবং সানবির, পিতা-পুত্র, খুন এবং খুনের সহায়তার অভিযোগে অভিযুক্ত। এরা ৫৪ কোটি টাকা কোথাও দিয়ে দিলেই কী আমি এদের খুনের কথাটা বিস্মৃত হব, না আইনে এর ছাড় আছে? নাকি এরা যাকে খুন করেছে সেই মানুষটা বেঁচে উঠবেন বা ওঁর পরিবারের হাহাকার বাতাসে মিশে যাবে?

এ সত্য, প্রথম আলো খুন করেনি। কিন্তু এরা এমন একটা সময়ে কেবল যে এক অশ্লীলতা, অমানবিক, নির্দয় আচরণ করেছে এমনই না, এই আলোকিত মানুষদেরকেও(!) এদের সঙ্গে জড়াজড়ি করে রাখতে সমর্থ হয়েছে। কী বিপুল ক্ষমতা- আমি হতভম্ব, হতবাক হই!
ডিয়ার লতিফুর রহমান, আপনাকে একজন সজ্জন মানুষ হিসাবে জানি। জানি না আপনি এখনও এই পত্রিকার সঙ্গে জড়িত আছেন কিনা! জড়িত থেকে থাকলে আপনি পত্রিকা বোঝেন, কান্না বোঝেন না? আপনার সন্তানের মৃত্যুতে নাহয় রুমাল চেপে কেঁদেছিলেন আর এই সমস্ত মানুষেরা হাউমাউ করে কাঁদে- তাতে চোখের জলের কী পার্থক্য হয়, কে জানে!
আপনি তো ভারী সৌভাগ্যবান, আপনার প্রিয়মানুষের শব ধরে অন্তত কাঁদতে পেরেছেন কিন্তু অসংখ্য মানুষ তাদের প্রিয়মানুষের শব ধরে কেঁদে যে বুকটা খানিক হাল্কা করবে সেই সুযোগও তো পায়নি!

আমার এই সমস্ত অনুষ্ঠান দেখা হয়ে উঠে না কিন্তু যখন সাভারের সর্বশেষ তথ্যের জন্য এ-চ্যানেল, ও-চ্যানেলে ঘুরপাক খাচ্ছিলাম। সম্ভবত মাছরাঙায়, তখন অনুষ্ঠানটা প্রায় শেষ পর্যায়ে। মাহমুদুজ্জামান বাবুর গানের সঙ্গে অনেকগুলো 'নাচুনি' বেদম নাচলেন। তারপর তিশা এবং চঞ্চল আর মোশারফ দুর্দান্ত ভাঁড়ামি করছিলেন। আহ, সে এক দৃশ্য বটে! হা হা, হি হি, হো হো, কত মজা-কত আনন্দ! ক্ষণিকের জন্য ক্যামেরা জুম করল, দর্শকের সারিতে দেখলাম, ফারুকি তার 'ইস্তারি সাহেবার' প্রতিভায় বিমুগ্ধ। (আমার কেবল এই পাঁচজনের নামই মনে আছে। আমার স্মৃতিশক্তির কুখ্যাতি আছে- একজনের চেহারার সঙ্গে অন্যজনের চেহারা গুলিয়ে যায়। এদের মধ্যে কারো নাম ভুল লিখে থাকলে আগাম ক্ষমা প্রার্থনা)

আর যারা-যারা এই অনুষ্ঠানটায় গিয়েছেন তাদের একটা তালিকা পেলে বেশ হতো! তালিকাটা থাকলে ভাল হতো, কখনও যদি এই সব মানুষেরা মানবতা নিয়ে 'বক্তিমা' দেন, আগেভাগে জানা থাকলে বমি চেপে রাখার চেষ্টা করব। নইলে হড়হড় করে নিজের উপর বমি করে দিলে সে-এক বিরাট কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে! লজ্জা-লজ্জা!

সবাই 'একই ঝাকের কৈ' না- অনেকেই আছেন যারা নিমন্ত্রণ পেয়েও যাননি, সেই সমস্ত মানুষের কথাও জানতে বড়ো ইচ্ছা করে। এতে ওইসব মানুষদের কী আসে যায় এটা বিষয় না, আমাদের জন্য জরুরি এটা। অন্তত আমাদের সন্তানদের তো বলতে পারব, দ্যাখ ব্যাটা, পারলে ওই মানুষটার মত হওয়ার চেষ্টা করিস।

অনেক হয়েছে, এখন থেকে আর প্রথম আলো রাখব না, পড়ব না। (তবে এর অর্থ এই না যে প্রথম আলোর অসঙ্গতি নিয়ে আর লিখবো না) আমার মত 'তেলিবেলি' একজন পাঠক না-পড়লে এদের যে কিছুই যায় আসে না সে আমি বিলক্ষণ জানি। কিন্তু এটা আমার জন্য এটা জরুরি, সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলতে হয় এমন কোনো জিনিসে আমার এলার্জি আছে।

এ সত্য, সিদ্ধান্তটার জের অনেকখানি কঠিন হয়ে পড়বে। অনেক কটা বছরের অভ্যাস। একই চেয়ারে বসে খাবার খেলে সেই চেয়ারটার প্রতি একটা অজানা টান (আসলে অভ্যস্ত হয়ে পড়া) পড়ে যায়। কিন্তু এখন এটা না-করলে আমার ওপর যে চাপ পড়ছে সে চাপ আমি নিতে পারব না। এখন থেকে প্রথম আলো বাদ দিলাম, ছাপার অক্ষরে বলি, বর্জন করলাম।
আহ, সিদ্ধান্তটা নিতে পেরে ভারমুক্ত লাগছে...।

সো, 'ব্যাড-বাই', প্রথম আলো।

Friday, April 26, 2013

মাওলানা মাঈনুদ্দিন রুহী, পরম করুণাময় যেন আপনাকে করুণা করেন...

সাভারের এই লাশের মিছিল নিয়ে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মাঈনুদ্দীন রুহী বলেছেন, "সরকার আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। তারই পরিণাম এ গজব।
...তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘রানা প্লাজার ৫ম তলায় বুধবার হেফাজত বিরোধী ২৭ এপ্রিল নারী সম্মেলন এবং আমাদের ঢাকা অবরোধ কর্মসূচী বানচাল করতে ভবনের মালিক, যুবলীগ নেতা সোহেল রানা ‘বাছাইকৃত’ সন্ত্রাসীদের সঙ্গে মিটিং করছিল। এর কিছুক্ষণ পরে ‘আল্লাহর গজবে’ ভবনটি ধসে পড়ে’।" [১]

জনাব রুহী, "...যুবলীগ নেতা সোহেল রানা ‘বাছাইকৃত’ সন্ত্রাসীদের সঙ্গে মিটিং করছিল। এর কিছুক্ষণ পরে ‘আল্লাহর গজবে’ ভবনটি ধসে পড়ে..."।
'আল্লাহর গজবে’ ভবনটি ধসে পড়ার পর, এতে করে সোহেল রানার মৃত্যু হয় এবং সঙ্গে তার সন্ত্রাসীদেরও। ঠিক বলেছি, না?

আচ্ছা, আপনার কাছে জানতে চাই, আল্লাহর বিরুদ্ধে কেমন করে যুদ্ধ ঘোষণা করা যায়? প্যারালাল ইউনিভার্স না, ইউনিভার্স না, ন্যানো ডটের সমান পৃথিবী নামের অতি ক্ষুদ্র একটা গোটা গ্রহও না, ন্যানো ডটের চেয়েও অতি অতি ক্ষুদ্র একটা দেশের সরকারপ্রধান কেমন করে আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করার সক্ষমতা-যোগ্যতা রাখে?
অসীম ক্ষমতাধর শক্তির সঙ্গে আপনি তাঁরই সৃষ্টি অতি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র মানুষের তুলনা করার ধৃষ্টতা কোথায় পেলেন? এই ক্ষমতা আপনাকে কে দিল!

অত্যাধুনিক অস্ত্র বিক্রি-তেলের কারণে, একজন উম্মাদ বুশ এবং তার পোষা কুত্তা ব্লেয়ার এবং তাদের সহযোগী লোভী মানুষের কারণে যখন ইরাকে লক্ষ-লক্ষ লোকের মৃত্যু হয়; দুগ্ধপোষ্য শিশু ভাঙ্গাচোরা পুতুলের মত মরে পড়ে থাকে তখন আপনার মত লোকেরাই বলেন, এটা তাদের পিতা-মাতার কর্মফল!

যখন সোহেল রানার মত অতি লোভী মানুষের লোভের কারণে সাভারে শত-শত মানুষের মৃত্যু হয়, হাজার-হাজার মানুষ বিকলাঙ্গ হন তখন আপনার মত ইসলাম ধর্মের ধারক-বাহক বলেন, 'এটা আওয়ামিলীগ সরকারের আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধের ফল, গজব'!

যে মানুষগুলো মরে গেছেন, তাঁরা মরে বেঁচে গেছেন কিন্তু যারা আটকে ছিলেন, আছেন। একটু অক্সিজেনের জন্য (ওহো, আপনি তো আবার অক্সিজেন বুঝবেন না, ওটা মুরতাদের ভাষা) আহা, গজব বোঝেন, অক্সিজেন বোঝেন না! বাতাস বোঝেন তো? গুড! এবার জোরে শ্বাস নিন, নিয়েছেন। ঘড়ি ধরে কেবল দুই মিনিট শ্বাস আটকে রাখুন। পেরেছেন রাখতে? ভেরি গুড! কেমন লাগছে, মজা, না?

তো, ওই অভাগা মানুষগুলোর কেবল মনে হচ্ছে, এই পৃথিবীতে এতো বাতাস-এতো বাতাস, একটা ফোঁটা বাতাস, স্রেফ এককিনি বাতাস...। এক ফোঁটা অক্সিজেনের জন্য এরা যে কী অবর্ণনীয়, অসহ্য, অন্য ভুবনের কষ্ট সহ্য করছেন এখন খানিকটা বুঝতে পারছেন কী!
এই বাতাসের অভাবের মধ্যে যে শিশুটি ভূমিষ্ট হয়েছে [২] সে শিশুটি এক বিন্দু বাতাসের জন্য মুখ হাঁ করে রেখেছিল। ছোট্ট বাবুটার অপরিণত ফুসফুসে কতটুকু আর বাতাসের প্রয়োজন, বলুন? আপনি গজব-গজব বলে যে বাতাসের অপচয় করেছেন তারচেও অনেক কম!

এই শিশুগুলোর চোখে চোখ রাখার ইচ্ছা স্বয়ং পরম করুণাময়ের আছে কিনা কে জানে অথচ তার অতি তুচ্ছ সৃষ্টি আপনি, অন্যের অন্যায়ের কথা বলে, 'গজবের' নামে এই শিশুগুলোর চোখ গেলে দিতে চাইছেন!

জনাব রুহী, এই নিরপরাধ, অসহায় মানুষ-বাচ্চাগুলোর অভিশাপ আপনাকে তাড়া করবে, করবেই, করতেই থাকবে...। এক ফোঁটা বাতাসের জন্য আপনার ফুসফুস যখন আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকবে না, মনে হবে গরম শিশা, ফুসফুসে আগুন ধরে গেছে; আধজবাই পশুর মত ছটফট করবেন, যখন আপনার শ্বাসটা আটকে থাকবে তখন পরম করুণাময় যেন আপনাকে করুণা করেন...।


সহায়ক সূত্র:
১. গজব: http://www.banglamail24.com/index.php?ref=ZGV0YWlscy0yMDEzXzA0XzI1LTEwNS0zNDk1OA%3D%3D
২. নবজাতক: http://banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=8c6b50885da7101bab5fff5ed86987d7&nttl=25042013191705

বেচারা জনগণ!

বিএনপি এবং আওয়ামিলীগ এই দুইটা দল কোটি বার এই কথাটা বলে এসেছ, 'জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে'। আছে তো, এই দেশের জনগণ বছরের-পর-বছর ধরে এই দুইটা দলকেই ক্ষমতায় এনেছে।
এটাও এই জাতির এক দূর্ভাগ্য যে, এই দুই দলই বিলক্ষণ জানে, এদের কোনো বিকল্প নাই। গোটা দেশ এই চক্রে আটকা পড়েছে এবং এই নিয়ে কারো কোনো বিকার আছে বলে আমার মনে হয় না।

১. সমস্ত দেশে আজও বিএনপির হরতাল চলছিল। সকাল নয়টায়, সাভারের এই মৃত্যুর মিছিলের ঘটনা ঘটার পর (এখন পর্যন্ত অন্তত ২৩৪-এর উপরে মারা গেছেন, আহত হাজার ছাড়িয়েছে!) বিএনপির উচিত ছিল অন্তত আজকে সমস্ত দেশে সঙ্গে সঙ্গে হরতাল প্রত্যাহার করা।
(একজন আমাকে জানালেন, প্রধানমন্ত্রী নাকি অনুরোধও করেছিলেন হরতাল প্রত্যাহার করার জন্য।) কে অনুরোধ করলেন, কে করলেন না সেটা এখানে জরুরি কিছু না। সকালেই বিএনপির অবশ্যই হরতাল প্রত্যাহার করাটাই আবশ্যক, সমীচীন ছিল।
জানি-জানি, অনেকে বলবেন, হয়েছে তো! সাভার এবং আশেপাশে এলাকায়, হেন-তেন।
তা আপনারা আমাকে একটু বুঝিয়ে বলুন তো, যে মানুষটার মৃতদেহ পড়ে আছে, তাঁর স্বজন সন্দীপ-চট্টগ্রাম-বগুড়া থেকে আসবে কী হেলিকপ্টারে করে? নাকি বিএনপি নেতাদের কাঁধে চড়ে?

২. আজ রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান ছিল। আমি জানি, এই বিপুল আয়োজনটা, এটা আগে থেকেই পরিকল্পনা করে ঠিক করে রাখা। কিন্তু দেশের এমন একটা বিপর্যয়ে এই অনুষ্ঠানটা পিছিয়ে দিলে কী সংবিধান পাল্টে যেত? কোনো উপায়ই কী ছিল না? ঠিক কতটা লাশ পড়লে এই অনুষ্ঠান পিছিয়ে দেয়ার ভাবনাটা কাজ করত? ধরা যাক, গোটা দেশের সমস্ত লোকজন ভেসে গেছে তবুও কী এই অনুষ্ঠান হতই? দেশে সাধারণ লোকজন নেই কিন্তু শপথ অনুষ্ঠান চলছে, এমন...! ভাল...।

আর এমন একটা অনুষ্ঠানের হওয়ার মানে কী এটা বোঝার জন্য খুব একটা বুদ্ধিমান হওয়া লাগে না। এই দেশ যারা চালান তারা সবাই আজ ব্যস্ত ছিলেন গোটা আয়োজনটাকে ঘিরে। আমরা দেখেছি, সাধারণ একজন এমপি এলাকায় গেলে থানা বলুন বা অফিসে কোনো কাজ হয় না। সবাই কাজ ফেলে এমপিকে ঘিরে ঘুরপাক খান। আর এই দেশের মাথায় যারা বনবন করে ছড়ি ঘোরাচ্ছেন তারা সবাই আজ ঘুরপাক খেয়েছেন এই শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে। লাশের মিছিল, এই বিষয়ে সমস্ত মনোযোগ দেয়ার অবকাশ কোথায় এদের!

আমি এটা বলতে চাই না, এই অভাগা মানুষগুলো, এদের স্বজনদের হাহাকার তাড়া করুক এঁদেরকে ... অবধি। কেবল যেটা বলতে চাই, হরতাল প্রত্যাহার করে বিএনপি যেমন একটা সু-উদাহরণ স্থাপন করতে পারত, তেমনি আওয়ামিলীগও।

এবং জনগণও বলতে পারত, নেতারা আছেন আমাদের সঙ্গে...।

Thursday, April 25, 2013

এঁরা কেবল একেকটি সংখ্যা...।

সাভারে ভবন ধসে এখন পর্যন্ত ১০০ ছাড়াচ্ছে। ১০-২০-৩০-৪০-৫০-৬০-৭০-৮০-৯০-১০০-১১০... এভাবে ক্রমশ বাড়ে একেকটি সংখ্যা! সরকারী, বিরোধীদল, মিডিয়া, আমি- বিশ্বাস করেন, আমাদের সবার কাছেই কেবল এটা একটা সংখ্যাই মাত্র!

কিন্তু যে মেয়েটির হাত  থেকে এখনও মেহেদির দাগ মুছে যায়নি তার স্বজন কাঁদবে গড়াগড়ি দিয়ে। একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেটির মা কাঁদবেন স্বার্থপরের মত কারণ এখন তাঁকে যে মানুষের কাছে হাত-পাতা ব্যতীত তাঁর কোনো বিকল্পই থাকবে না।
আহ, আমরা কেন যে এটা বিস্মৃত হই, আমরা টবের গাছ না, নারকেল গাছ- আমাদের শেকড় ছড়িয়ে থাকে বহুদূর! এঁরা কেবল একটা সংখ্যাই না, এই সংখ্যাটার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অনেকগুলো মানুষ।

যারা মরে গেল তাঁরা তো বেঁচে গেল। কিন্তু যারা বিকলাঙ্গ হয়ে বেঁচে থাকবেন (বলা হচ্ছে, সংখ্যাটা হাজারের উপর) এদের গতি কী! প্লিজ, আমাকে এটা বলবেন না এদের চিকিৎসার দায়িত্ব দেশ নেবে। কয়েকটা দিন, ব্যস...এরপর এদের খোঁজ রাখার সময় কোথায় আমাদের! আবারও অন্য এক সংখ্যার মিছিল...।

তাজরিন গার্মেন্টসে কতজনের মৃত্যু হয়েছিল এখন আমার মনে নেই! ইচ্ছা করলে ওই ঘটনা নিয়ে আমার পূর্বের লেখায় চোখ বুলিয়ে নিশ্চিত হতে পারি বা গুগলে সার্চ দিয়ে...। কী লাভ! কেউ না-জানুক কিন্তু আমি তো জানি, আমি নিজেকেই ফাঁকি দিচ্ছি। ওই যে বললাম, সবই সংখ্যা।

বা তাজরিনের আগুনে আহতরা এখন কোন অবস্থায়, কেমন আছেন আমরা কী জানি? জানি না! আচ্ছা, এই দেশে কত ঘটনাই তো ঘটে, দুই মাথাওয়ালা বাছুর, পাঁচ পাওয়ালা ছাগলের জন্ম হয় তেমনি একটা চমৎকৃত ঘটনা তো ঘটতেই পারত, যে তাজরিনের মালিককে গ্রেফতার করা হয়েছিল? আমরা কী জানি এই মানুষটা এখন কোথায়? জানি না কারণ এটা আমাদের জানার প্রয়োজন নাই। 

ছবি: সংগ্রহ (কে প্রথম আপলোড করেছেন কোনো সহৃদয় জানালে নামটা এখানে যোগ করে দেব।
এই ভবন 'রানা প্লাজার' মালিক যুবলীগ নেতা সোহেল রানা নাকি আটকা পড়েছিলেন। পরে সাংসদ মুরাদ জংয়ের সহায়তায় উদ্ধার হয়ে পালিয়ে যান। আপাতত প্রাণে বেঁচে গেছেন। ভাল...!

প্রকৃতির শোধ বলে একটা কথা আছে। প্রকৃতি হয়তো-বা আরও বড় কোনো খেলার জন্য তাকে বাঁচিয়ে রেখেছে।
আবার কেউ বলছেন, চ্যানেল ৭১-এ নাকি এর সাক্ষাৎকার দেখিয়েছে! একে গ্রেফতার করা হবে না, এ নিশ্চিত! সরকারী দল করলে আর চিন্তার কোনো কারণ নাই। গ্রেফতার হবে না। বাই এনি চান্স, গ্রেফতার হলেও পিজিতে ভর্তি থাকবে। খোদা-না-খাস্তা, শাস্তি হয়ে গেলেও চিন্তার কিছু নাই। আমাদের দয়াবান প্রেসিডেন্ট বলে উঠবেন, 'ম্যায় হু না'...। আজ আবার আমাদের প্রেসিডেন্ট সাহেবের শপথ হচ্ছে। শপথ বলে কথা, যায় যদি যাক প্রাণ...।

একটা সত্য ঘটনা বলি, গান-পাউডার দিয়ে গাড়িতে আগুন দিয়ে যে নেতা মানুষ পুড়িয়ে দিলেন তার কাছেও ওই মানুষগুলো ছিল কেবলই সংখ্যা, ১-২-৩-৪-৫-৬-৭-৮-৯। ওই মানুষগুলোর স্বজনদের আকাশ ফাটানো কান্না শোনার সময় কোথায় ওই নেতার? কিন্তু তার নিজের তরুণ সন্তানের যখন অপমৃত্যুতে মৃত্যু হলো তখন কান্নায় তার বুক ফেটে যাচ্ছিল কিন্তু তার কান্না আমাকে মোটেও স্পর্শ করেনি! কারণ এটাও আমার কাছে একটা সংখ্যা...।

বরাবারের মত এ অভিযোগও উঠেছে, লাশ গুম করে ফেলা হচ্ছে। আমি জানি না এর পেছনে কতটুকু সত্যতা আছে! সত্যতা না-থাকলেও রাষ্ট্রের উচিত এমন সন্দেহের বীজ আমাদের মধ্যে ঢুকিয়ে না-দেয়া...।
তবে আমরা বড়ো দূর্ভাগা। এ সত্য, এটা হচ্ছে আমাদের দেশের খুব পরিচিত একটা নমুনা। পূর্বেও যে এমনটা হয়নি এমন না। কী অভাগা আমরা, কখনও-কখনও স্বজনের লাশ ধরে কেঁদে যে বুকটা হাল্কা করব সেই সুযোগও থাকে না...।

এদিকে চ্যানেল 'টোয়েন্টি ফোর' নামের ইলেকট্রনিক মিডিয়া এক্সক্লুসিভের নামে যা দেখাচ্ছে আমার মনে হচ্ছে, একপাল কুত্তা, একপাল নেকড়ের কর্মকান্ড দেখছি!
এদের প্রতিবেদক ফাঁকফোকরে 'বুম' (মাইক্রোফোন) ঢুকিয়ে দিচ্ছে। মৃতপ্রায় এক মহিলার কাছে জানতে চাইছে, ওঁর নাম। মহিলা বারবার বলছেন, 'আমাকে বাঁছান, বাবা, আমাকে বাছান', অরেকজন বলছেন, 'ও আল্লা আমার জীবন ভিক্ষা দাও'।

কে শোনে কার কথা...! এই কুত্তাগুলোর কারণেই উদ্ধারকার্য আরও ব্যহত হয়। এদের কাছে আবেগ বিক্রিই একমাত্র মিশন। আবেগ একটি বিক্রয়যোগ্য পণ্য!
...
আমাদের দায়িত্বশীল লোকজনেরা এই বিষয়ে যা বলছেন তা আমরা একটু শুনি:

বিবিসিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: "...স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর বিবিসিকে বলেছেন, আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে ইমারত নির্মাণের নিয়ম কানুন যথাযথ অনুসরণ করা হয়নি বলেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।তবে একইসাথে মন্ত্রী বলেন, কিছু হরতাল সমর্থক ভবনটির ফাটল ধরা দেয়ালের বিভিন্ন স্তম্ভ এবং গেট ধরে নাড়াচাড়া করেছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তিনি বলেন, ভবনটি ধসে পড়ার পেছনে সেটাও একটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে।" [১]

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন: সাভারে সব লোককে আগেই সরিয়ে নেয়া হয়েছিল।
"...সাভারে ধসে পড়া নয় তলা ভবন থেকে আগেই সব লোককে সরিয়ে নেয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, হতাহতরা পরে জিনিসপত্র আনতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়েছে।...[২]"

আমাদের মন্ত্রী বাহাদুরদের কথাবার্তা শুনে এই মুহূর্তে যেটা আমার মনে হচ্ছে, 'হে পরম করুণাময়, এই গ্রহে এতো দেশ থাকলে এই দেশেই পাঠালে কেন...'!

*অনেক তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন, Md Abdul Halim (https://www.facebook.com/profile.php?id=100005440173740), তাঁর প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা।

সহায়ক সূত্র:
১. প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য: http://www.rtnn.net//newsdetail/detail/1/3/62736#.UXgLyK46Dbp
২. স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য, বিবিসি বাংলা, অডিও লিংক: http://www.bbc.co.uk/bengali/multimedia/2013/04/130424_saalamgir.shtml

Tuesday, April 23, 2013

সুন্দরবন-রামপাল: দাদা গো দাদা, মোরা যে বড়ো হাঁদা!

"...ভারতের বিদ্যুত সচিব পি উমা শংকর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যুত সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। উমা শংকর বলেন, 'রামপালে (সুন্দরবনের কাছে) কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত কেন্দ্র স্থাপন করলে পরিবেশের কোন ক্ষতি হবে না ...বাংলাদেশের বিদ্যুত সচিব মনোয়ার ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের অংশে কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ভারত বিদ্যুত কেন্দ্র স্থাপন করতে বাংলাদেশের ট্রানজিটের ক্ষেত্রে যে কর সুবিধা চেয়েছে তা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে বিবেচনাধীন আছে বলে সচিব জানান।" (ইত্তেফাক, ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩)

Suicidal deal with Indian company must be scrapped:
"Language does not always express the truth. It also hides the truth and even glorifies falsehood. For example, Bangladesh and India have recently taken up a joint venture to set up a $1.5 billion 1, 320MW coal-fired power plant at Rampal near the Bangladesh part of Sundarban while the joint venture has been named as Bangladesh-India Friendship Power Company..." (NEW AGE, 10.03.13)

"... সরকারের বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানের এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে তারা বলেন, 'বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য জমি অধিগ্রহন ও নানা চুক্তির পর জনমত জরিপ করা একটি প্রহসন’।
বিদ্যুৎ বিভাগ ও পিডিবির যৌথ উদ্যোগে রামপাল এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিবেশগত প্রভাব নিরূপনের (ইআইএ) বিষয়ে জনমত পর্যালোচনা সভায় এসব অভিযোগ করা হয়।
...রামপাল এলাকার বাসিন্দা মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, 'হাজার বছর চেষ্টা করেও একটি সুন্দরবন হবে  না। তাই এ এলাকায় বিদ্যুত কেন্দ্র না করে অন্য স্থানে করা উচিত'।
...জ্বালানি সচিব মোজাম্মেল হক খান বলেন, 'এই প্লান্টটি আমাদের জন্য জরুরি, তাই পরিবেশের বিষয়গুলো আপোষযোগ্য'।" (bdnews24.com, 12.04.13)

এই যে প্রজাতন্ত্রের বেতনভুক্ত কর্মচারী বললেন, '...তাই পরিবেশের বিষয়গুলো আপোষযোগ্য', আচ্ছা আপনি পরিবেশের কী বোঝেন? না, আমি স্কুলে পড়া 'পরিবেশ পরিচিতি' বইটার কথা বলছি না...।
এলাকাবাসী মুজাহিদুল ইসলাম যে বললেন, 'হাজার বছর চেষ্টা করেও একটি সুন্দরবন হবে না।" এটা আমরা বুঝি কিন্তু আমাদের বেতনভুক্ত কর্মচারীরা বুঝল না! এটাও একটা কারণ হতে পারে- আমরা এই দেশেই থাকব কিন্তু এরা এই দেশে থাকবে না...।

আর উমা শংকর, আপনি যে বললেন, 'রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত কেন্দ্র স্থাপন করলে পরিবেশের কোন ক্ষতি হবে না...'।
ও দাদা, আপনারা আর কত চালবাজি করবেন আমাদের সঙ্গে, হা? আমাদের অপারেশনের ক্ষত তো এখনও শুকায়নি! আমরা কী ভুলে গেছি এই বিদ্যুতের নাম করে বছরদেড়েক পূর্বে [১] আমাদেরকে কী ঘোলই না খাইয়েছিলেন! তিতাস নদীকে স্রেফ দু-ভাগ করে ফেলেছিলেন। বিনিময়ে বিদ্যুতের নাম করে আমাদেরকে কী দিয়েছিলেন, আ বিগ জিরো!

তা এই নদীতে বাঁধ দিয়ে আরেকটা রাস্তা কেন করতে গেলেন? এটা করা হয়েছে আপনাদের ১২০ চাকার ট্রেইলরগুলো চালাবার জন্য। আগরতলায় বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে, ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভারী যন্ত্রপাতির জন্য।

আমাদেরকে বলা হয়েছিল, ভারতের আগরতলার ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৭২৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে। এখান থেকে আমরা ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাব। চরম বিদ্যুৎসংকটে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া চাট্টিখানি কথা না। ভারতের ওই ওই বিদ্যুত প্রতিষ্ঠানের নাম ছিল পালাটানা। বাংলাদেশ হয়ে পালাটানা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালসামান এখান দিয়ে পরিবহণ হওয়ায় বাংলাদেশ ত্রিপুরা থেকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আশা করেছিল। এই নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়েও আলোচনাও হয়েছিল। ত্রিপুরার মূখ্যমন্ত্রীরও এতে আপত্তি নেই বলেও জানিয়েছিলেন।

কিন্তু ভারতের পত্রিকাটি থেকে যেটা জানা গেল, বানরের পিঠা ভাগাভাগির মত এরা নিজেরাই সব নিয়ে নিয়েছিল।
তাহলে বাংলাদেশের জন্য কী ছিল? ছিল, লাড্ডু ওয়াট। ছিল টিকটিকির ডিম...!

*"...ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আমদানীকৃত এই কয়লা বোঝাই বড় বড়জাহাজ সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে পশুর নদীতে চলাচল করবে ৫৯ দিন আর অগভীর অংশে কয়লা আনার জন্য ছোট লাইটারেজ জাহাজ চলাচল করবে বছরে ২৩৬ দিন। এর অর্থ হচ্ছে বিদ্যুতকেন্দ্রটি তাত্ত্বিকভাবে নিরাপদ স্থানে হলেও এই কেন্দ্র সচল রাখতে সার্বিককার্যক্রম চলবে সুন্দরবনের বুকের উপর দিয়েই।..." [২]
দাদারা আমাদেরকে বলেছেন, আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হবে; এটা জেনে নিশ্চিন্ত হচ্ছি। এরা হয়তো পানির জাহাজে কয়লা না-নিয়ে হাওয়াই জাহাজ বা আমাদের টাকায় কেনা হেলিকপ্টারে করে কয়লা আনা-নেওয়া করবেন। জয় হো, দাদা গো।

**"কিন্তু আরো ভয়ংকর ব্যাপার হলো , একদিকে বলা হয়েছে এই বিষাক্ত ছাই পরিবেশে নির্গত হলে ব্যাপক দূষণ হবে(পৃষ্ঠা ২৮৭) অন্যদিকে এই ছাই দিয়েই প্রকল্পের মোট ১৮৩৪ একর জমির মধ্যে ১৪১৪ একর জমি ভরাট করার পরিকল্পনা করা হয়েছে! (পৃষ্ঠা ২৬৩) এই বর্জ্য ছাই এর বিষাক্ত ভারী ধাতু নিশ্চিত ভাবেই বৃষ্টির পানি সাথে মিশে, চুইয়ে প্রকল্প এলাকার মাটি ও  মাটির নীচের পানির স্তর দূষিত করবে যার প্রভাব শুধু প্রকল্প এলাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।..."[৩]

সহায়ক সূত্র:
১. তিতাস, এবং বানরের পিঠা ভাগাভাগি: http://www.ali-mahmed.com/2011/12/blog-post_23.html
২. চলুন রচনা করি সুন্দরবনের এপিটাফ: http://tinyurl.com/bu35lds
৩. কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিবেশগত প্রভাব নিরুপন: http://tinyurl.com/c6hfefw

Sunday, April 21, 2013

ছিনতাইকারী!

"ওরে, ও ব্যাটা পাজি তস্কর,
তোদের কর্ম বোঝা বড় দুস্কর।"


ইন্টারনেট জিনিসটা কী! এটা কী একটা পাইপমানুষদের মত ('পাইপমানুষ' হচ্ছে যাদের উপরেও আবর্জনা, নীচেও আবর্জনা) পাইপ? একদিকে তথ্য ঢালা হয় হয় অন্যদিকে তা পত্রিকা আপিসে গিয়ে জমা হয়!
৭ ফেব্রুয়ারির, ২০১৩-এর দৈনিক daily sun তাদের পত্রিকার সঙ্গে চকচকে একটা সাপ্লিমেন্টারি দিয়েছে, ফাউ-বোনাস। পাঠকের জন্য অতি আনন্দের খবর এ নিয়ে দ্বিমত নাই। কিন্তু...।

এই সাপ্লিমেন্টারির পাতায়-পাতায় যে সমস্ত তথ্য ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে তার উৎস হিসাবে দয়া করে এরা লিখে দিয়েছেন, Source: Internet
এখানে আমি কেবল পাঁচটা পৃষ্ঠা স্ক্যান করে দিলাম। আসলে প্রতিটা পৃষ্ঠার জন্য হবে দুই পাতা করে, অর্থাৎ ১০ পৃষ্ঠা। এই ১০ পৃষ্ঠার সোর্স হচ্ছে, আমাদের ইন্টারনেট সাহেব।

যেটা লেখার শুরুতেই বলেছিলাম, ইন্টারনেট জিনিসটা আসলে কী! ইন্টারনেট দিয়ে ব্লগ লেখে শুনেছিলাম এখন দেখছি ইন্টারনেট দিয়ে তথ্যও লেখে!
ইন্টারনেট কী তথ্য নিজে নিজে পয়দা করে যা পত্রিকা আপিসের লোকজনেরা অফিসে বসে বসে প্রসব করেন? ইশ, এই প্রসবে বড় কষ্ট হয়, না! এই নির্বোধদের এটা কে বোঝাবে এরা 'সোর্স: ইন্টারনেট' লিখে যে দায়টা সারছেন, ওই সমস্ত লেখার সঙ্গে একেকজন মানুষের কী প্রাণান্তকর পরিশ্রমই না জড়িত। একেকটা লেখার পেছনে আছে উপোস-ক্ষিধার কষ্ট, রাতজাগা ভোর, প্রিয়মানুষের চোখের জল। আর এরা চোখের নিমিষে তা হাপিস করে দেন।

কোন সাইটের লেখা বিনা অনুমতিতে ছাপানো অন্যায়, অন্তত বানিজ্যিক ভাবে তো মহা অন্যায়। তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম, সর্বদা অনুমতি নেয়াটা দুস্কর হয়ে পড়ে।
তাহলে অন্তত সেই ওয়েবসাইটের ঠিকানাটাও প্রকাশ করলেও তো খানিকটা মন্দের ভাল হয়। সেই সাইটটার লেখক খানিকটা ভাল লাগায় মাখামাখি হয়ে থাকলেন, যে তাঁর সাইটটার নাম তো পত্রিকায় গেছে। আর পাঠক ওই লেখা পড়ে উৎসুক হয়ে ওই সাইটটা ভিজিট করলে সাইটটার মান, ট্রাফিকও বাড়ল। এ এক মন্দের ভালো...।

আরেকটা বিষয়, এটা হলো 'ট্যাকাটুকার' বিষয়টা। প্রিন্ট মিডিয়ার সম্ভবত ধারণা, কেবল তাদেরই নগ্নদেহ ঢাকার জন্য আচ্ছাদনের প্রয়োজন হয়, 'কুতুয়াপেট' ভরাবার জন্য খাবার। আর ইন্টারনেটে যারা লেখালেখি করেন তাদের কেবল হাওয়া খেয়ে দিন পার করলেই চলে...

অনেকের কষ্টের ধন যেমন ছিনতাইকারি নিমিষেই ছিনতাই করে নিয়ে যায় তেমনি এই সমস্ত পত্রিকাওয়ালারাও ছিনতাই করেন। 'শব্দ ছিনতাই'...।


সূত্র: daily sun
  

Saturday, April 20, 2013

হাসনাত আবদুল হাই-এর ল্যাঞ্জা

এটা তো আমরা বিলক্ষণ জানি, লুৎফর রহমান রিটন একজন প্রথিতযশা ছড়াকার। কিন্তু এটা তো আর আমরা সবাই জানি না, গদ্যে তাঁর যে কী এক অসাধারণ হাত! [১] আজ অবশ্য তিনি আর গদ্য লিখেননি। আজকের অতিথি লেখক, লুৎফর রহমান রিটন:

"চেনো নাকি হাসনাত আবদুল হাইরে?
তার মতো চুতিয়া এ দুনিয়ায় নাইরে।
সাবেক আমলা এই ব্যাটা দেখি মদনা
তার হাতে শোভা পায় হেফাজতি বদনা!
বিনা ঢিলা কুলুখেই করে এস্তেঞ্জা
রিয়্যেলি আ টাফ থিং হাইড এনি ল্যাঞ্জা...

দেশে দেখি বেড়ে গেছে ছাগলের চাষটা
কাহাদের জন্ম এ ধেড়ে বদমাশটা?
সারাটা জীবন খেয়ে সর আর মুড়োটা
কী গল্প লিখিয়াছে পারভার্ট বুড়োটা!
নোংরা কাণ্ডে সবে শুধু ছিছি ছি করে
প্রথম আলোতে এটা ছাপা হলো কী করে?

‘জানিবার সাধ হলে হাত দাও শিকড়ে’..."
 

সহায়ক সূত্র:
১.  তন্তুপাড়ার জন্তুগুলোর জন্যে মাতমের একটি মুসাবিদা: http://www.ali-mahmed.com/2012/11/blog-post_27.html

Friday, April 19, 2013

ফেসবুককথন!

আমার ফেসবুক আইডির বয়স বেশ ক-বছর হলো। এখানে লেখালেখি করা হতো না। কেবল আমি নিজের যে সাইটটাতে লিখি ওখানকার লেখার লিংক এখানে শেয়ার করতাম, ব্যস!  ফেসবুকে নিয়মিত হয়েছি মাসখানেক হবে। নিয়মিত হওয়ার পেছনে একটা কাহিনী আছে:
আমি যে সাইটটাতে লিখতাম, ওখানে নিরিবিলিতে থাকতাম। ভালই ছিলাম- নিজে লিখে নিজেই পড়তাম। ওখানকার লেখা যে আমি ব্যতীত আরও দুয়েকজন পড়েন এর নমুনা পেলাম। কুৎসিত নমুনা! এক বা একাধিক মানুষ গালি দিয়ে ভয় দেখিয়েছিলেন। লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, কাদের মোল্লা, গোলাম আযমকে নিয়ে লেখাতেই কেবল। লেজটা দেখতে আমার সমস্যা হয়নি!

কিন্তু সমস্যাটা হয়েছিল যেখানে, আমাকে গালি দিলে আমি হাঁসের মত পানি ঝেড়ে ফেলার মত ঝেড়ে ফেলতাম। কিন্তু আমার বাবা-মাকে জড়িয়ে কেন দিল? থু, এ তো স্রেফ কাপুরুষতা, পেছন থেকে ছুঁরি মারা।

ভাগ্যিস, এ সামনে বলেনি নইলে হয় এ খুন হয়ে যেত, এর সঙ্গে ক্ষমতায় না-কুলালে আমি নিজেই খুন হয়ে যেতাম। এখানে কোনো যুক্তি নাই- জঙ্গলে কেবল জঙ্গলের আইন।


তো, আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, ভয় যখন দেখিয়েছ, বাছা, বেশ! এখন থেকে মুক্তিযুদ্ধের পোস্টগুলো একে একে ফেসবুকে দেয়া শুরু করব। এরপর মুক্তিযুদ্ধের লেখা দেওয়ার পাশাপাশি হাবিজাবি অন্য লেখাও ক্রমশ চলে আসতে থাকল। এভাবেই শুরু...।

এমনিতে ফেসবুকে আমার বন্ধু সংখ্যা খুবই কম। এই নিয়ে আমার বিকার নাই কারণ জুকারবার্গ 'ট্যাকাটুকা' দেয় না যখন! এর কার‌ণ এমন না যে আমি যখন-তখন আনফ্রেন্ড করতে থাকি। আর কী-এক সংকোচে জানি না কাউকে আমার রিকোয়েস্ট পাঠানো হয় না, বড় বাজে এক আচরণ!
তবে একটা বিষয়ে আমার কোনো বাছ-বিছার নাই। কেউ রিকোয়েস্ট পাঠালে দেখামাত্র আমি এক্সেপ্ট করি। আমি দেখি বাড়ানো হাত, হাতের নোখ না। কারো প্রোফাইল দেখার আগ্রহ, সময় আমার নাই। আমি তো ফেসবুক-গবেষক না যে এই নিয়ে থিসিস জমা দেব।

মাঝেমধ্যে দেখা হয় এমন একজন কাল বলছিলেন, 'ভাই, ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাইলাম, গ্রহন করেন নাই কষ্ট পাইছি'। আমি খানিক থমকে গেলাম, এ আবার কবে আমাকে পাঠাল! কী জানি, ব্যাটা জুকারবার্গের কোনো বাগ-টাগ হবে হয়তো!
আমার সমস্ত ফেসবুক জীবনে সম্ভবত দুইটা রিকোয়েস্ট বাতিল করেছি। একটায় আদেশের ভঙ্গি ছিল। আমি আর দেরি করিনি নামটা দেখতে, লোকটা জরিনা নাকি ওবামা। কারণ দুজনের বেলায় সিদ্ধান্ত একই হত।
দ্বিতীয়টার বিষয় খানিকটা অন্য রকম! একবার বন্ধুসম একজনকে আমার এক কষ্টের কথা লিখেছিলাম ব্যক্তিগত মেইলে, তিনি আমাকে উত্তরটা দিয়েছিলেন অফিসিয়াল মেইলে। ভঙ্গিটা আমার পছন্দ হয়নি...। আমি তো আমার বন্ধুর কাছে লিখেছিলাম অফিসের কোনো কর্তার কাছে না।
এর বাইরে কেউ সাড়া না-পেয়ে থাকলে ধরে নেবেন এর জন্য আমি দায়ী না, দায়ী ব্যাটা জুকারবার্গ।

তো, ফেসবুকে নিয়মিত হওয়ার পর কেউ-কেউ রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে আবার ইনবক্সে বিস্তারিত লিখেন। এর আদৌ প্রয়োজন নাই। যার ইচ্ছা হবে সরাসরি পাঠিয়ে দেবেন। কারণ আমি তো হেভিওয়েট-ওভারওয়েট ফেসবুকার না যারা হরদম বকে যান, 'কমরেডস, ডান পা তোল, এবার বাঁ পা; গুড। এবার তাহলে দু পা তুলে ফেল, গুড জব'। বা আমার কোটা শেষ অতএব তোমাদের কোনো আশা নাই, দূর হও। অথবা তোমার চেহারা এমন কেন, যাও, খেলা থেকে বাদ...।


অনেকেন কিছু আচরণ বড় বিরক্ত লাগে। ওদিন দেখলাম এক ছেলে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছে। কাঁপাকাঁপি টাইপের স্ট্যাটাস। কী ঘটনা! কোনো এক হেভিওয়েট ভাই ওনার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট এক্সেপ্ট করেছে। বেচারা জন্য আমার মায়াই হচ্ছিল, এ না শেষে ফেইন্ট হয়ে যায় বা কোমাতে চলে যায়, তাহলে তো মরলে আর বাঁচবে না! 

তবে যারা আমার কাছ থেকে ট্রাকের দূরত্ব বজায় রাখবেন, দয়া করে রিকোয়েস্ট পাঠাবেন না বা আমার ফ্রেন্ডলিস্টে থাকবেন না:
১. যারা মনে করে, 'আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম, পাকিস্তান আমলে ভালই তো ছিলাম', তারা। কেন? এটা বোঝাবার জন্য লক্ষ শব্দ ব্যয় না-করে অল্প কথায় বলি, কেউ হয়তো লাখ টাকার ভাড়া বাড়িতে জৌলুশপূর্ণ জীবন-যাপন করেন কিন্তু শতবর্ষ পুরনো ঝরঝরে আমার বাড়ির সঙ্গে এর তুলনা কোথায়! ভাড়া বাড়িতে একটা পেরেক ঠুকলে তা গিয়ে সরাসরি বাড়ির মালিকের মগজে গিয়ে লাগবে। আমার নিজের বাড়িতে পেরেক না, প্রয়োজনে হ্যামার ঠুকব। ঠুকে-ঠুকে বাড়ির দেয়াল ক্ষত-বিক্ষত করে ফেলব। দেওয়ালে আস্ত লাঙল সেটে দেব। প্রয়োজনে বাড়ির ভেতর গরুর গোয়ালঘর করব। কারো কোনো সমস্যা?
এই নিয়ে বাড়তি কথা শেষ। একটি অক্ষর- একটি যুদ্ধ- একটি পতাকা- একটি দেশ, ব্যস।

২. কেউ দল করেন এটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু যারা দল করতে গিয়ে যখন গ্রে মেটার আর ইয়েলো মেটারে জড়াজড়ি হয়ে মাখামাখি হয়ে পড়ে থাকেন, তারা।

এখানে আমার সাফ কথা, ভাল করলে তালি, মন্দ করলে গালি।

৩. জ্ঞান গড়িয়ে পড়বে এমন জ্ঞানী, যারা হাঁটেন সোজা হয়ে। কাত হলে জ্ঞান গড়িয়ে পড়ে যদি, এমন! কারণটা ঈর্ষা-ঈর্ষা! এই জিনিস আমার নাই। থাকবে কেমন করে? এখনও যে লক্ষ-কোটি বই পড়াই হয়নি! আহা, পড়ব কেমন করে? আমি তো আর কচ্ছপের আয়ু নিয়ে আসিনি যে ৪০০ বছর পানিতে পিঠ ভাসিয়ে পড়তে থাকব, পড়তেই থাকব।
আর এও সলাজে স্বীকার যাই, আমি কোনো ভাষা জানি না। কেবল আমার মা যেভাবে কথা বলেন তা বলতে পারি, খানিকটা গুছিয়ে লিখতে পারি, ব্যস।

৪. তর্ক বিষয়টা আমি একেবারেই পারি না। যারা সমস্ত শরীরে ত্যানা প্যাঁচাতে থাকেন, খোলেন, আবার প্যাঁচান, তারা। দু-কলম গুছিয়ে লিখি বলে যে তুষার সাহেবদের মত তার্কিক হয়ে যাব এটা দূরাশা মাত্র।

এমনিতে আমরা যারা এখানে লেখালেখি করি। প্রিন্ট মিডিয়ার মত এই সুযোগ আমাদের নাই যে কারো-না-কারো চোখে ভুল ধরা পড়বেই। অনেকে ভুল ধরিয়ে দিলে অপমানিত বোধ করেন। আমার মান-অপমান কম, আমার লেখায় কেউ ভুল ধরিয়ে দিলে তাঁর প্রতি  আমার অশেষ কৃতজ্ঞা...।

ফেসবুক জায়গাটা আমার ভারী অপছন্দের ছিল। কারণ আছে, এখানে নিরিবিলিতে কিছুই করার যো নাই। আপনি প্রোফাইলের ছবি পরিবর্তন করবেন, তাও ঢাকঢোল পিটিয়ে। সবাই জানবে, জানবেই। আবার ঘটা করে লাইকও দেবে। মেয়ে হলে ন্যাকামো করে বলবে, হায় আল্লা, আপু আপনাকে যা সোন্দর লাগছে না...।

একবার হলো কী, আমি লক্ষ করলাম, আমার প্রোফাইলে 'বিবাহিত' এটা দেয়া নাই। আমি ভাবলাম, আরে, কী কান্ড! পরে হয়তো দুষ্টুরা বলবে, কি মিয়া, বিষয় কী! একটা ভাব নিয়ে আছো নাকি যে এখনও বিবাহ হয় নাই।
তো, আমি ভাল মনে 'বিবাহিত' বসিয়ে দিলাম- এটাও যে জানাজানি হয়ে যায় এটা আমার জানা ছিল না। ওয়াল্লা, পোলাপানেরা শুরু করল, 'আলহামদুলিল্লাহ, বিবাহ করলেন, দাওয়াত তো পাইলাম না'। কেউ লিখল, 'আপনের আগের পক্ষের ইস্তারি সাহেবা কি আপনাকে ছেড়ে চলে গেছে'! ইত্যাদি। কী লজ্জা-কী লজ্জা!

কিন্তু ক্রমশ এখন এখানে আমার ভাল লাগছে। আমি অনেকটা আমার আগের সেই সময়টাতে ফিরে গেছি- সেই ২০০৫/৬ সাল! ব্লগিং-এর সোনালি সময়। আহ, সেইসব দিন! অবশ্য তখন আমরা এখনকার মত দলবাজ ছিলাম না। ১৪ ইঞ্চি স্ত্রিণে মনে হতো গোটা বিশ্বটা হাতের মুঠোয়। যেন হাত বাড়ালেই অন্যজনকে ছুঁয়ে দিতে পারি, 'এই পাগলা, তোকে ছুঁয়ে দিলাম'।

কেউ যদি আমাকে জিজ্ঞেস করেন, আপনার নিজের সম্বন্ধে ধারণা কি? আমি সঙ্গে সঙ্গেই যে উত্তরটা দেব সেটা হচ্ছে, আমি হচ্ছি এই গ্রহের সবচেয়ে বড়ো নির্বোধ কারণ আমি স্মোক করি। (এটা কেবল আমার জন্য প্রযোজ্য, অন্য স্মোকারদের জন্য না) একটা সময় প্রচুর স্মোক করতাম কিন্তু বিভিন্ন জটিলতা, ডাক্তারদের লাল চোখের কারণে একবারে ছেড়ে দিলাম না তবে খুব নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসলাম, দিনে একটা।
ফেসবুকে নিয়মিত হওয়ার কারণে আবারও আমার স্মোক করার পরিমাণ বেড়ে গেছে। কেন, এর উত্তর আমার কাছে নাই। ওই যে বললাম, আমি এই গ্রহের সেরা নির্বোধ।

স্মোক করার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টায় আমি আতংকিত! আর কেবল এই একটা কারণে আমার এই জায়গাটা ছাড়তে হবে, যত দ্রুত সম্ভব :(  । ভাবলেই মনটা বিষণ্ণ হয়, উদাস হয়...।

Thursday, April 18, 2013

শাক দিয়া মাছ ঢাকেন, ক্যান?

আমি বারবার যেটা বলে আসছি, ওয়েবসাইটে যারা লেখালেখি করেন তাঁদের অনেকের লেখার হাত দেখে আমাদের প্রথিতযশা অনেক লেখক মহোদয়গণ বিব্রত বোধ করবেন, লজ্জিত হবেন। তেমনি একজন লেখক 'দূর্যোধন দূর্যোধন'! ঘুরে বেড়ান ছুঁরি নিয়ে- শব্দের ছুঁরি! যে ছুঁরিতে ফালা ফালা করে ফেলেন অন্ধকারকে।

আজকের অতিথি লেখক 'দূর্যোধন দূর্যোধন'। তিনি লিখছেন:
"নারীদের জন্য মতিভাই ও প্রথম আলোকে অন্তপ্রাণ মনে হইলেও আমি কিন্তু ভুইলা যাই নাই 'পারসোনা' ইস্যুতে মতি ভাইয়ের রোল! সেই নারী কি নারী ছিলো না? তখন তো তারা বলে নাই, সিসিটিভি পুরুষ কেন হ্যান্ডেল করবে?
ভিকারুন্নিসার মেয়েগুলা যখন তাদের সহপাঠী ধর্ষণের প্রতিবাদে নামছিল, তখন মতি ভাই রিপোর্ট করছিলেন, ধর্ষিতা মাইয়া স্কার্ট পইড়া কোচিং করতে গেছিল! যেনো স্কার্ট পরছস, তাই তোরে ধর্ষন করা জায়েজ হইছে! আইন কী তখন স্কার্ট আর লুঙির ডিফারেন্স খুঁজতেছিলেন!

কয়েকদিন আগেই শাহবাগের লাকীকে নিয়া নোংরা লেখা ছাপাইলো মতি ভাইয়া। ভার্চুয়াল ধর্ষণ শেষে ক্ষমায় কি আসে যায়, নারীবাদী মতি ভাইয়া? আইন তখন ব্যস্ত নিজেদের বেতন বৃদ্ধি নিয়া। আর ২ লক্ষ ধর্ষিতা মা-বোনের ছিন্ন বস্ত্র যাদের হাতে, সেই ইসলামী ব্যাংকের বিজ্ঞাপন ছাপান প্রথম আলো আয়েসে। আর মুখে বলেন, আমরা নারীর কল্যাণ চাই !

সারা দুনিয়াতে ডাক্তারেরা রোগীর শরীর পরীক্ষা করতেছে। আর আজ নারী অবমাননার দায়ে পাবলিকের হাতে পাছার ছাল তুইলা ফেলা মতিভাই বাইছা নিছেন ডাক্তার নামের একটা প্রাণীকে, যারে সবাই গাইল দিয়া মজা পায়। দ্যাশে নারী ডাক্তার ফরেনসিকে কম থাকলে সেইটাও ডাক্তারের দোষ? কসমেটিক সার্জারী করতে করতে কত নারী পুরুষ ডাক্তারের টেবিলে চইলা যাইতেছে, সেই ডাক্তারেরা ধর্ষক?

একজন ধর্ষিতা মহিলা ডাক্তার চাইতেই পারেন, এখন মহিলা ডাক্তার না থাকলে সেই দায় কি ডাক্তার সমাজের? আমি আইনের কাছে জানতে চাই, আপনে মেডিকেল সায়েন্স জীবনে দুই পাতা উল্টায়া দেখছেন? একটা ধর্ষিতার ফরেনসিক করতে গেলে নারী ডাক্তার না থাকলে নারী এটেনডেন্ট থাকতে হবে। নারী এটেনডেন্ট না থাকলে সেইটার ব্যবস্থা কি আইন করবে নাকি মতি ভাই করবেন? এইসব সাম্বাদিক কোইত্থিকা আনেন ধইরা? নাকি ডাক্তারদের বিরুদ্ধে লিখলেই পাবলিকে খাইবো আর আপনাদের হাসনাত হাইয়ের কাহিনী ধামাচাপা পড়বো ভাবছেন ?

বিচারপতি বা মতি ভাইয়ার বেপারে আর কি বলবো, অসুস্থ হইলে দেশের বাইরে চইলা যান আপনেরা। মতি ভাইয়া দেশের ডাক্তারদের নিয়া আউলফাউল দুই কলম লিখতেই পারেন। হু গিভস এ ড্যাম?

খাইয়া না-খাইয়া যে পোলাপানগুলা সেবা দেয়, গালি তারা খায়! ধর্ষিতা নারীর নায্য বিচারের জন্য তারা পরীক্ষা করতে গেলে 'ধর্ষক' উপাধি জোটে। গরীব রোগীর জন্য নিজেরা ব্লাড যোগাড় করবে তারাই এবং যাওয়ার সময় কেউ-কেউ বইলা উঠবে, 'শালা রক্তচোষা ডাকাইত'! আর ইসলামি ব্যাংকের 'টেকাটুকা' খাওয়া তুষারের মতন বুদ্ধিজীবী আপনেরা পালেন। আপনেরাই আধ-হাত লম্বা বিজ্ঞাপন ছাপেন।

চইলা আসেন ডি এম সি বা সরকারী হাসপাতালে, দেখেন আইস্যা! দেখেন এইখানে নারীর ডেলিভারী করতেছে পুরুষ। পুরুষের হাইড্রোসিল দেখতাছে নারী ডাক্তার।
আপনারা এক কাজ করেন, নরনারীর গোপনাঙ্গ দেখাদেখি বন্ধ কইরা দেন, দেন বন্ধ কইরা হেলথ সার্ভিস! দেন বন্ধ কইরা পুরুষদের জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী নারীদের দ্বারা বিতরন! হৈয়া যাক সব অন্ধকার! গর্ভবতী যন্ত্রণা নিয়া অপেক্ষা করুক নারী ডাক্তারের!

আহা রে, দেশে নারী ডাক্তার বানাইতে পারেন, সিকিউরিটি দিতে পারেন না! কিন্তু কিল মারার গোসাই সব! ডাক্তার মানেই লোলুপ কামুক, নারী দেখলেই খামচায়, বন্ধ কইরা দেন সব মেডিকেল!

লাস্ট একটা কথা। মতি ভাইয়ের পেপারে 'সাজিয়া' নামের এক নারীর কথা চাইপাচুইপা যাইতে দেখছিলাম। ধর্ষিতা হইতে যাওয়া সেই সাজিয়া কি নারী ছিলো, নাকি ডাক্তার? তার বিষয়ে আইন, মতি ভাই কিছু বলছিলেন?" (
দূর্যোধন দূর্যোধন)

Tuesday, April 16, 2013

একজন হাসান, একটি ইন্টারভিউ ও রসময়গুপ্তের গল্প

আজকের অতিথি লেখক, Mahadi Hasan Sumon

"(এই গল্পের সকল চরিত্র বা বিষয়বস্তু পুরোটাই কাল্পনিক। কারো নাম বা বিষয়বস্তুর সঙ্গে বা মৃত, অর্ধ-মৃত কোনো লাশের সঙ্গেও গল্পটা মিলে গেলে সেটা ফাঁকতালে এক কাকতাল মাত্র। এর জন্য কোনোক্রমেই এর রচয়িতাকে দায়ী করা চলবে না।)

হাসান সাহেবের বয়স চুয়াত্তর। চশমা পরেন, মাথার সামনের দিকে চুল কমে যাওয়ায় চকচকে টাকে তাকে বেশ বুদ্ধিজীবী-বুদ্ধিজীবী মনে হয়! যদিও তিনি নিজেকে পরজীবীই বলে মনে করেন। কারণ চুয়াত্তর বছরের এই বর্ণাঢ্য জীবনে পরের উপর ভর করে ও অনেক গ্রুপিং-লবিং করে তিনি এতোদূর পর্যন্ত আসতে পেরেছেন।
আজ তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারভিউ দিতে এসেছেন। আজকের ইন্টারভিউয়ের সঙ্গে তার বাকি জীবনের কর্মপরিকল্পনা নির্ভর করছে। হাসান সাহেব কর্মীপুরুষ। তিনি মৃত্যুর আগদিন পর্যন্ত কাজ করে যেতে চান।


ইন্টারভিউ টেবিলের ওপাশে যিনি বসে আছেন, তিনি দুই বাংলার অতি বিখ্যাত মানুষদের একজন। সর্বজন শ্রদ্ধেয় রসময়গুপ্ত। এই মানুষটির সঙ্গে কথা বললে কেমন করে যেন নিস্তেজও সতেজ হয়ে উঠে। হাসান সাহেব অনেকদিন পর নিজের ভেতরে এক ধরনের উত্তেজনা অনুভব করলেন। তার টাকে বিন্দু বিন্দু ঘাম তৈরী হচ্ছে।

চটি-সম্রাট ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় শ্রী রসময়গুপ্ত নিজের চেয়ারে বসে অনেক্ষণ ধরে খুঁটিয়ে-খুঁটিয়ে এই বৃদ্ধ ভদ্রলোককে দেখছিলেন। নিজের ভেতরে তিনি এক ধরনের গভীর হতাশাও বোধ করছেন। ইন্টারনেট আসার পর চটি বইয়ের কাটতি কমে গেছে। চটির সর্ববৃহৎ টার্গেট গ্রুপ কিশোর ছেলেপেলে আগে রুমালে মুখ ঢেকে তাদের আউটলেটগুলো থেকে চটি সংগ্রহ করে নিয়ে যেত। এখন তারা এইসব পড়াশোনা অন লাইনেই সারছে।
বিনা পয়সায় রগরগে গল্পের সঙ্গে রঙিন ছবি, সঙ্গে ফাউ ভিডিও ক্লিপ। আলমারির মাথায়, বালিশের কাভারের ভেতর বা স্কুল ব্যাগে চটি লুকিয়ে বাবা-মায়ের হাতে ধরা খাওয়ার ভয় নেই। ফলে তার প্রিন্ট ব্যবসায় বেশ ধস নেমে এসেছে। টাকা কম দেন বলে আগের লেখকরা অনেকেই সটকে পড়েছেন।

এই অবস্থায় তিনি নতুন লেখক চেয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। কিন্তু মনে হয় বিজ্ঞাপনে কোনো কাজ হয়নি। হাজার টাকা জলে গেছে। এই 'চুয়াত্তারাবৃদ্ধ' ব্যতীত তার ডাকে আর কেউই সাড়া দেয়নি! তবে গুপ্ত সাহেব এই বৃদ্ধের ক্ষুদ্র প্রতিভাও পরিমাপ করতে চাচ্ছেন। তাছাড়া এই ভদ্রলোক সকল নিয়ম মেনেই ইন্টারভিউ বোর্ডে হাজির হয়েছেন। এখন ইন্টারভিউ না-করাটা অভদ্রতা হয়ে যায়।

তাদের মধ্যে নিম্নলিখিত কথাবার্তা হলো:
রসময়গুপ্ত: হাসান সাহেব।
হাসান সাহেব: জ্বী স্যার।
র.গু. : আগে কখনো লিখেছেন?
হা. :  লিখেছি তো...২২ টা উপন্যাস, ৬ টা ভ্রমণ কাহিনি, ৪ টা গল্পগ্রন্থ...।
র.গু. : না, মানে বলছিলাম, আমরা যে ধরনের লেখা ছাপি আরকি। সে ধরনের কিছু কি লিখেছেন কি?

হা. : জ্বী স্যার। ছদ্মনামে। যৌবন জ্বালা ডট কমে আমার প্রায় ১৫ খানা গল্প আছে। এর মধ্যে 'ভাবীর কাছে দাবী' এটা বেশ পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছিল।
র.গু. : ওখানে কি ছদ্মনামে লেখেন?
হা. : কামুক পুরুষ নিকে।
র.গু. : বাহ! ভালো নিক নিয়েছেন তো। আপনাকে বেশ গুণী লোক বলেই মনে হচ্ছে।
হা. : এছাড়া স্যার ফেসবুকে একটা গ্রুপ আছে বাংলা চটি (১৮+)। সেখানেও আমার দুটো গল্প আছে।

র.গু. : বাহ-বাহ, বেশ-বেশ! তা আপনি এই বয়সে এইসব লিখতে শুরু করলেন কেন। এই সব তো ছেলে-ছোকরারা লেখে?
হা. : সে চলে যাওয়ার পর থেকে লিখি। সে চলে যাওয়ার পর থেকে এগুলো লিখলে এক ধরনের মানসিক আরাম হয়।
র.গু. : সে মানে ?
হা. : সে মানে স্যার, ইয়ে মানে...।
র.গু. : আহা, লজ্জা পাচ্ছেন কেন!
হা. : ইয়ে মানে, ওই বিশেষ ক্ষমতা, হে হে হে।

হাসান সাহেবের কথা শুনে রসময় গুপ্ত বেশ আগ্রহ বোধ করলেন। এই ধরনের লোক খুব চমৎকার করে নারী শরীরের বর্ণনা দিতে পারে। মা-ছেলেকে বা বৌ-শ্বশুরের অবৈধ সম্পর্কে বেঁধে দেয় অবলীলায়। শুরুতে এই লোককে যতটা মনে হয়েছিলো এ তার চেয়েও অনেক কাজের লোক। রসময়গুপ্ত তার গলার স্বর খানিটা উঁচু করে বললেন, হাসান সাহেব, আপনার কোন একটা লেখা থেকে খানিকটা পাঠ করে শোনান তো।
হা. : গত পরশু একটা লিখেছি, সেখান থেকে পাঠ করবো স্যার?
র.গু. : করুন।

গল্পের শিরোনাম হচ্ছে, 'গভীরে যাও, আরো গভীরে যাও'। হাসান সাহেব পড়তে শুরু করলেন:
‘‌এইচ এস সির পর অনেক দিন ওর সঙ্গে আমার কোন যোগাযোগ হয়নি। প্রতিদিনকার মতো সেদিনও মেস থেকে বের হয়ে ভার্সিটি যাচ্ছিলাম এমন সময় মুঠোফোন পকেটে সগৌরবে তাঁর অস্তিত্ব জানান দিল। পকেট থেকে মুঠোফোন বের করে দেখলাম, অপরিচিত একটা নাম্বার, রিসিভ করতেই অপর প্রান্ত থেকে একটি নারী কন্ঠ চিকন গলায় বলে উঠলো, হেলু, ঝান...’

র.গু. : প্রথমেই এমন ত্যানা প্যাঁচাচ্ছ কেন? একজন আদর্শ চটি লেখকের কাজ হচ্ছে, প্রথমেই ত্যানা খুলে ফেলা, ত্যানা প্যাঁচানো নয়। বুঝেছ।
উত্তেজনায় গুপ্ত সাহেব কখন আপনি থেকে তুমিতে নেমে এসেছেন খেয়াল করেননি। হাসান সাহেব উৎসাহিত হলেন।
হা. : অবশ্যই স্যার। আপনি স্যার আমার গুরুস্থানীয়। সেই ছোটবেলা থেকেই আপনার বই পড়ে পড়ে কত কিছু শিখেছি। কত ঘাম ঝরিয়েছি। আপনার কল্যাণে আমার হাতের কত খারাপ রেখা উঠে গেছে। আমার তালিকাতে আপনি স্যার শ্রেষ্ঠ ১০ বাঙালীর একজন। এখনো স্যার আপনার কাছ থেকে অনেক কিছুই শেখার আছে।

রসময়গুপ্ত অনেকসময় ধরে হাসানের দিকে তাকিয়ে বললেন, আগে আমলা ছিলেন, তাইনা ?
হা. : জ্বী স্যার, কী আচানক কথা। আপনি বুঝলেন কেমন করে, স্যার?
র.গু. : তোমার  তেল দেওয়ার নমুনা দেখে আঁচ করেছিলাম। হা ভগবান, ঢিলটা দেখি ঠিক জায়গাতেই লেগেছে!
হা. : হে হে হে, আপনি অতি বিচক্ষণ, স্যার।
গুপ্ত সাহেব এবার খানিক খুশি হয়ে বললেন, হাসান সাহেব। আপনার লেখায় শক্তি আছে। আপনি মেইনস্ট্রিমে এইসব নিয়ে লেখালেখি করুন। তাতে পাঠক বাড়বে। আমার ব্যবসা আবার চাঙ্গা হয়ে উঠবে। পারবেন না ?

হা. : মনে হয় পারবো, স্যার। আমার এক বন্ধু আছে মেথি মিয়া নাম, একটা পত্রিকা চালায়। ওকে বলে দেখতে পারি।
র.গু. : মেথি মিয়া! আরে, ওরে তো চিনি। ও তোমার মতই আমার জটিল এক ফ্যান। ওরে আমি বইলা দিলে ও তোমার ল্যাকা ছাইপা দিব। বড়ই ভালো ছেলে, অতিশয় ভালো। তেল পেলে ও খুব খুশি হয়। 
নতুন সম্ভাবনার দিক উন্মোচিত হওয়ায় গুপ্ত সাহেব বারবার আপনি তুমি আর কথ্য আঞ্চলিক শব্দ গুলিয়ে ফেলতে লাগলেন। আসলে বয়সের কারণেই এমনটা হচ্ছে।
হা. : জ্বী স্যার, জানি। পদক প্রাপ্তদের তেলে চুবিয়ে দিলে বেশি খুশি হয়।

র.গু. : এই তো, এটা তুমিও কম জানো না, বাওয়া। তা তোমার পদক-টদক আছে নাকি দু-একটা ?
হা. : আছে স্যার, একুশে পদক। আবেদন করতে হয় বলে মানহানি হয় এটা মনে করে অনেকে করে না, আমি আবেদন করেছিলাম...।
র.গু.    : বাহ বাহ। তুমিওতো দেখি বিরাট প্রতিভাবান ছেলে। লেখ-লেখ, তা মন দিয়ে লেখ।

হা. : ঠিক মতো তেল দিতে পারলে এমন পদক টদক আরও দু একটা, হে হে...।
র.গু : হুম। ঠিকই বলেছো।
হা. : কিন্তু স্যার, একটা সমস্যা আছে।
র.গু. : কি সমস্যা ?
হা. : মেথি যে পত্রিকাটা চালায়, সেটা তো মধ্যবিত্তদের পত্রিকা। এখানে গল্প লিখলে, চ-বর্গীয় কোনো শব্দ ব্যবহার করা যায় না। তাতে কি স্যার আমি যে তৃপ্তির জন্য লিখি সেই তৃপ্তি পাবো ? চ-বর্গীয় শব্দ ছাড়া চটি, ভাবা যায়, স্যার? আপনিই বলুন!

র.গু. : কেন যাবে না। যাবে-যাবে। কৌশল আছে। কায়দা-কানুন আছে। আমি তোমাকে শিখিয়ে দেব নে।
হা. : আপনার দয়ার শরীর, স্যার।
রসময়গুপ্ত অজান্তেই খানিকটা কুঁকড়ে গেলেন। এই ব্যাটা শরীরের কথা আনছে কেন? আবার গায়ে হাত-টাত দিয়ে বসবে না তো! তিনি খানিকটা সরে বসলেন।
র.গু : তুমি মেইন-স্ট্রিমে যখন লিখবে তখন নিক ব্যবহার করবে না। নিজের নামে লিখবে। বর্ণনা ঠিক থাকলে বাকিটা পাঠক কল্পনা করে নেবে। আমার দরকার পাঠকের উত্তেজনা। মধ্যবিত্তের সংখ্যা বিশাল। তোমার লেখা পড়ে জিনিস, জিনিস এতোটাই পিওর যে... মাথায় উঠে যাবে। সেটা নামনোর জন্য তখন তারা হণ্যে হয়ে পিওর জিনিস খুঁজে বেড়াবে। সেটা পাবে তোমার আর মেথির কাছে। আমার কাটতি বাড়বে। প্রয়োজনে  আমি তোমাকে পে করবো।

হাসান সাহেব ঘামেভেজা মুখে একটা তেলতেলে হাসি হেসে বললেন, আপনার কাছ থেকে স্যার এখনো কত কিছু যে শেখার আছে।
রসময় গুপ্ত প্রশ্রয়ের হাসি হাসলেন। হাসান সহেব বুঝতে পারলেন, তার ইন্টারভিউ ভাল হয়েছে, বেশ ভালোই হয়েছে। আর সামনে যিনি বসে আছেন, তিনি অবশ্যই একজন  বিচক্ষণ জহুরী, রত্ন চেনেন।


কৃতজ্ঞতা ও দৃঢ়চিত্ততা নিয়ে ঘরে ফিরে আসলেন তিনি। সেই রাতেই হাসান সাহেব লিখে ফেললেন, চটির মধ্যবিত্ত এডিসান। 'মাইক্রোফোনের উপর মেয়েটি'। রসময় গুপ্তের কোনো হাত বা হাসান সাহেবের তেলের কোনো ভূমিকা ছিলো কি না জানি যায়নি তবে সেই গল্পটা কোনো এক থার্টি-টু ফাস্টে মেথি মিয়ার পত্রিকায় ছাপানো হয়েছিলো। এরপর মধ্যবিত্ত পাঠক মহলে ব্যাপক সাড়া পড়ে যায়। কারণ লেখাটি তিনি স্বনামেই দিয়েছিলেন। লেখাটা পড়ে দেশের মানুষ বিচিত্র কারণে অবিরাম হায়-হায় করতে থাকে।

সে..., সে চলে যাওয়ার অনেকদিন পর হাসান সাহেব ইয়ের ভরপুর তৃপ্তি পান। গুরুর প্রতি ভক্তিতে তার চোখে পানি চলে আসে। ৭৪ বছর, বয়সটা বড়ই বেয়াড়া। এই বয়সে অন্য অনেক কিছুর মতোই কিছুতেই নিজের চোখের উপর কন্ট্রোল রাখা যায় না, মানে চোখের পানির উপর আর কী!...।"
-Mahadi Hasan Sumon

Monday, April 15, 2013

সেই দিন আর নাই রে, প্রথম আলো, হাসনাত আবদুল হাই!

আগের এক লেখায় 'টিভি ক্যামেরার সামনে মেয়েটি' এটার একটা হাইপার-লিংক ছিল [১]। ওখানে এখন ক্লিক করে দেখছি হাসনাত আবুল হাইয়ের ওই লেখাটা দেখাচ্ছে না। আমি ভুল না-করে থাকলে প্রথম আলো লেখাটা সরিয়ে ফেলেছে। প্রথম আলো পূর্বেও অজস্র বার বিভিন্ন অন্যায় করেছে কিন্তু কখনও ভুল স্বীকার করেনি। এবারও করবে এমনটা আমি মনে করি না।
কারণ এদের মধ্যে তীব্র অহংকার কাজ করে। কোনো এক লেখায় আমি লিখেছিলাম, এই গ্রহে ডায়নোসর নাই, সোভিয়েট ইউনিয়ন নাই, আদমজী জুটমিল নাই...।

লেখাটা সরিয়ে ফেললেই কী এমন ক্ষমাহীন অন্যায় আমরা ভুলে যাব? এটা স্পষ্ট এক চোরের লক্ষণ। যেটা করাটাই সমীচীন ছিল কেন এমন একটা লেখা ছাপা হলো তার পরিষ্কার একটা ব্যাখ্যা পাঠকের সামনে তুলে ধরা। পাঠককে নতজানু হয়ে সরি বলা। লেখককে কালো তালিকাভুক্ত করা এবং এই পাতার দায়িত্বে যিনি আছেন তাকে পত্রপাঠ বিদায় দেয়া।
সুমন্ত আসলামকে যেমনটা বিদায় করা হয়েছিল অথচ মজার বিষয় হচ্ছে, সুমন্ত আসলামই কেবল ওটার জন্য দায়ী ছিলেন না। মূল দায় যার ছিল সেই চালবাজ মানুষটা এখনও বহাল তবিয়তে এই পত্রিকায় আছেন এবং কেয়ামতের আগ পর্যন্ত এই পত্রিকায় সঙ্গে থাকবেন এমনটাই আমরা আশা করি। কারণ আমরা জানি তিনি বাচ্চু ভাইয়ের খুব পেয়ারের 'লুক'!

অথচ আলপিনের যে কার্টুন নিয়ে তুলকালাম কান্ড হয়েছিল, যে কারণে কার্টুনিস্ট আরিফকে প্রথম আলো ফাঁসিয়ে দিয়েছিল অথচ সেই বেচারার কোনো দোষই ছিল না। প্রথম আলো মা-বাপছাড়া এই অল্পবয়সি ছেলেটির জন্য কিছুই করেনি, কিচ্ছু না- আইনগত সহায়তাও না। বাচ্চু মিয়া যখন তওবা সেরে আসলেন তখন তিনি অনেক কথাই সেখানে বিজবিজ করে বললেন, বললেন না কেবল এই অভাগা ছেলেটির কথা।
আরিফ নামের এই ছেলেটিকে গ্রেফতারের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে তার সময়টা কাটছিল অসহ্য, দুঃসহ।


ড. মো: আনোয়ার হোসেনের 'রিমান্ড ও কারাগারের দিনলিপিতে' আমরা পাই:
"...সেখানে আলপিনের কার্টুন আঁকিয়ে আরিফুর রহমানকে রাখা হয়েছিল। ...এখনও বড় ভীত, কারণ কারাগারে আসার পর একজন কয়েদি লাঠিতে পায়খানা লাগিয়ে তার মুখে আঘাত করেছে। হুমকিও দিয়েছে অনেক (সে নবীর অপমান করেছে এই কারণে)।
...আরিফ জানাল, যে কার্টুনের জন্য তার এই হেনেস্তা, তার সংলাপগুলোও তার নয়।
"(পৃ নং: ৩৮)
 
আর আমাদের লেখক শ্রদ্ধাভাজনেষু, শ্রদ্ধাস্পদেষু হাসনাত আবুল হাই, স্যার, আপনারা তো এই সবই লিখে লিখেই আমাদেরকে মুগ্ধ করেন, না? তবে এখন আপনারা এটা বিস্মৃত না-হলেই ভাল করবেন সেই দিন আর নাই। যেমনটা আপনাদের সেই টাইপ-রাইটারও আর নাই।
আমরা এই প্রজন্ম নিজের আপন বাপকে ছাড়ি না আপনি কোন লাটসাব? ছেঁড়া স্যান্ডেলের মত আপনাকে ছুঁড়ে ফেলতে আমাদের হাত কাঁপবে এমনটাই ভাবছেন বুঝি। ভুল! আপনাদের সময়ে লোকজনেরা বলত, বংশ। আমাদের সময়ে আমরা বলি, জেনেটিক কোড। আপনার কোডে ঝামেলা আছে। বড় রকমের ঝামেলা আছে।
আমরা এও জানি আপনি একজন আমলা ছিলেন। আমলা এবং গামলার মধ্যে খুব একটা ফারাক নাই। গামলার মাধ্যমে মানুষ যেমন নোংরা মোজা, নোংরা অর্ন্তবাস ধৌত করে; তেমনি আমলাকেও, যিনি যখন ক্ষমতায় থাকেন তিনি তার সমস্ত আবর্জনা তার মাধ্যমেই ধৌত করান।

ওহে প্রথম আলো, সেই দিন আর নাই রে, পাগলা। দিন বদলেছে। সফটকপি সরিয়ে ফেলেই বুঝি আমরা বিস্মৃত হব। হার্ডকপি থেকে আমরা সফটকপি করব। সযতনে ওয়েবে রেখে দেব। কেউ-কেউ ভুলে যাবে কিন্তু ব্যাটা গুগল ঠিকই মনে রাখবে।


*পরে জানা গেল প্রথম আলো ক্ষমা চেয়ে একটা বিবৃতি প্রকাশ করেছে:
"১৪ এপ্রিল ২০১৩ তারিখের প্রথম আলোর বাংলা নববর্ষের ক্রোড়পত্রে হাসনাত আবদুল হাই রচিত ‘টিভি ক্যামেরার সামনে মেয়েটি’ শীর্ষক ছোটগল্পে ব্যক্ত মতামত এই পত্রিকার নীতি ও আদর্শের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। অসাবধানতাবশত লেখাটি মুদ্রণের জন্য প্রথম আলো আন্তরিকভাবে দুঃখিত এবং পাঠকের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। []" 

মন্দের ভালো তবে এই অপরাধের জন্য কেবল এই উদ্যোগকেই আমি যথেষ্ট মনে করি না।

সহায়ক সূত্র:
১. লুঙ্গি-ছাগল-হাই-প্রথম আলো: http://www.ali-mahmed.com/2013/04/blog-post_15.html
২. প্রথম আলোর ক্ষমাপ্রার্থনা: http://www.prothom-alo.com/detail/date/2013-04-14/news/344974



**কৃতজ্ঞতা, লেখাটির স্ক্রিণশট দিয়ে সহায়তা করেছেন: Mohammad JF Shimul , Murad Hafiz, হিমাংশু মাহের

লুঙ্গি-ছাগল-হাসনাত আবদুল হাই-প্রথম আলো গং

বারিধারায় এক বিষম কান্ড ঘটে গেছে। ওখানকার দায়িত্বশীল (!) লোকজনেরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, কোনো রিকশাচালক লুঙ্গি পরে রিকশা চালাতে পারবেন না!
কেন তারা এহেন সিদ্ধান্ত নিলেন তা আমার বোধগম্য হচ্ছে না। সমস্যা কোথায়! রিকশাচালকেরা কী লুঙ্গি মাথায় বেঁধে রিকশা চালাতেন?

বেশ কিছু তরুণ সিদ্ধান্ত নিলেন এর প্রতিবাদ করা প্রয়োজন। তারা লুঙ্গি পরে সাইকেল চালিয়ে বারিধারায় যাবেন। গেলেনও কিন্তু তাঁদের পুলিশ আটকে দিল। কেবল তাই না, কয়েকজনকে থানাতেও নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরে মুচলেকা দিয়ে তাঁদের ছেড়ে দেয়া হয়। আমি হাসব, না কাঁদব বুঝে উঠতে পারছি না। আহাম্মকগিরির একটা সীমা থাকাটাই সমীচীন। গ্রে মেটার এবং ইয়েলো মেটার কী জড়াজড়ি হয়ে গেছে?
বাংলাদেশের কোন আইনে এদের বাঁধা দেয়া হলো? বাংলাদেশে কী সাইকেল চালানো নিষেধ, লুঙ্গি পরা নিষেধ? নাকি এঁরা কোনো প্রকারে ন্যুইসেন্স ভঙ্গ করার অপরাধে অপরাধি?

জাতিসংঘে বাংলাদেশের নবনিযুক্ত স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত হুমায়ূন কবীর লুঙ্গি ও পাঞ্জাবি পরে জাতিসংঘের মহাসচিব পেরেজ দ্য ক্যুয়েলারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর পরিচয়পত্র পেশ করেন। (দৈনিক বাংলা, ০১.০৮.১৯৯১)
কাজটা কতটা সমীচীন সে ভিন্ন প্রসঙ্গ। যাই হোক, এই ভদ্রলোক বেঁচে আছেন কিনা জানি না। বেঁচে থাকলে পুলিশ তাঁকে ধরে নিয়ে আসুক। খোদা-না-খাস্তা বেঁচে না-থাকলে অন্য ব্যবস্থাটাও বাতলে দেব।

বারিধারার যারা এই নিয়মটা করেছেন তাদেরকে কী বলব বুঝে উঠতে পারছিলাম না। চুতিয়া বলতে পারছি না কারণ চুতিয়া না-বলার জন্য আমার প্রতি নিষেধাজ্ঞা আছে। ছাগল বলতে মন সায় দিচ্ছে না কারণ ছাগল খুবই নিরীহ প্রাণী। বেচারা ছাগলকে অহেতুক টানাটানি-অপমানিত করার অর্থ হয় না! কিন্তু কিছু বলতে না-পারলে রাগ যে প্রশমিত হয় না। কীসের সঙ্গে এদের তুলনা করা যায়?
কী কাকতালীয়, পেয়েছি! বারিধারার ওই লোকজনের তুলনা চলে কেবল এদের সঙ্গে...।

হাসনাত আবদুল হাই আজকে প্রথম আলোয় 'টিভি ক্যামেরার সামনে মেয়েটি' [১] নামে একটি গল্প লিখেছেন। আমার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে, হাসনাত আবদুল হাইয়ের লেখা এটা? আমি খুঁটিয়ে-খুঁটিয়ে লেখাটা পড়েছি।
একজন লেখকের হাতে কেবল ছ-টা আঙুলই থাকে না, হাতে লুকানো থাকে অজস্র তাস। তিনি কোন তাসটা কেমন করে ফেলে কাকে শুইয়ে দেবেন এটা আগাম বোঝা মুশকিল হয়ে পড়ে। তিনি তত বড় মাপের লেখক যিনি যত সূক্ষ ভাবে তার তাসের প্রয়োগ করতে পারবেন। কিন্তু এই গল্পটা এতোটাই ভুল তাসে খেলা যে এই গল্পের মেয়েটিকে খুঁজে বের করার জন্য প্রাণান্তকর চেষ্টা করার প্রয়োজন পড়ে না। অতি সহজেই কুৎসিকতা প্রকট হয়ে পড়ে।

আমি হতভম্ব হয়ে ভাবছি, কেমন করে পারলেন হাসনাত আবদুল হাই এই ক্ষমাহীন অন্যায়টা করার জন্য? কেবল মাথায় ঘুরপাক খায়, লাশ পচে যায়, পোকায় ধরে- কেবল সময়ের ব্যবধান! আবদুল হাইয়ের মত মানুষেরাও নষ্ট হয়ে যান, সময়ের ব্যাপার মাত্র।


কিন্তু তারচেয়েও অবাক হচ্ছি, এই পত্রিকাটি কেমন করে পারল এই লেখাটা ছাপাতে? অনেকে বলবেন, গাফিলতি। উঁহু, আমি বলব, ইচ্ছাকৃত। এটা গাফিলতি হতেই পারে না! আমরা যারা ব্লগিং-এর নামে লেখালেখি করি, পাঠক ব্যতীত আমাদের ভুল ধরিয়ে দেয়ার কেউ থাকে না। কিন্তু পত্রিকায় অসংখ্য হাত ঘুরে একটা লেখা ছাপা হয়। জেনেশুনে এরা এই লেখাটা ছাপিয়েছে।

লেখাটা শুরু করেছিলাম যে বারিধারার ওই লোকগুলোর সঙ্গে ছাগলের তুলনা করা সমীচীন হবে না কেবল তুলনা চলতে পারে আবদুল হাই-প্রথম আলো গং-দের সঙ্গে। কিন্তু লেখাটার শেষে গিয়ে আমার কেবল মনে হচ্ছে এই তুলনাটা ঠিক হবে না। কারণ হাই-প্রথম আলো গং যেটা করেছে সেটা নির্বুদ্ধিতা না, সিরিয়াল কিলারের মত ঠান্ডা মাথায় শব্দের ছুঁরি দিয়ে আমাদের পরিচিত সেই মেয়েটিকে কুপিয়ে কুপিয়ে, রসিয়ে রসিয়ে শারীরিক নির্যাতন করে খুন করা।

ওহে, প্রথম আলো, একটি মেয়েকে এমন করে নির্যাতন করে খুন করলে কেমন লাগে আমি এর যুৎসই একটা উদাহরণ এখানে দিতে পারতাম কিন্তু আফসোস, তোমাদের পর্যায়ে নামার মত নষ্ট সম্ভবত এখনও হইনি...।


সহায়ক সূত্র:
১. সেই দিন আর নাই রে, প্রথম আলো-হাসনাত আবদুল হাই: http://www.ali-mahmed.com/2013/04/blog-post_2517.html

Sunday, April 14, 2013

ভেঙে পড়ে হুড়মুড় করে, সব...

আগের এক লেখায় বলেছিলাম, আমাদের দেশে জাতীয় ফুল-ফল-পশু যেমন আছে তেমনি 'জাতীয় ভাই' থাকাটাও জরুরি। এটা তাঁকেই দেয়া হবে যিনি দলবাজিতে সবাইকে ছাড়িয়ে যাবেন।
কেউ দল করতেই পারেন এটা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু দল করতে গিয়ে যখন মানুষটার 'গ্রে মেটার' নিম্নগামী হয় তখন মানুষটাকে এই উপাধি না-দিয়ে উপায় কী!
(একটু আগে একজনের স্ট্যাটাস পড়ছিলাম, দলবাজির কারণে সহপাঠির চাপাতির কোপে কেমন করে বিছানার চাদর লাল হয়ে যায়...!)

তো, বিষাদের সঙ্গে এও বলতে হয়, ওই দলবাজ মানুষটাকে তখন করুণা করতেও করুণা হয়। সেই মানুষটা কয়টা ডিগ্রি, সেলিব্রেটি নাকি হেভিওয়েট-ওভারওয়েট-পেপারওয়েট ফেসবুকার তাতে কী আসে যায়!
আসলে এঁদের দোষ দিয়ে লাভ নাই। যেতে হবে গোড়ায়...। ইশকুলে যখন ঘটা করে শেখানো হয় কেমন করে দলবাজি করতে হয় (সিট পাওয়া, হল দখল, টেন্ডারবাজি, কথায় কথায় লেজ নাড়ানো, হালি-হালি শিশুর বাপ ছাত্রনেতা হয়ে যুগের-পর-যুগ ধরে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া ইত্যাদি)

অন্য একটা উদাহরণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক-পিতা হচ্ছেন ভিসি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। অনেক সময় তাঁর কথাবার্তা, কাজের নমুনা দেখে মনে হয় না তিনি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, মনে হয় দলের ভিসি। একটা উদাহরণ দেই:  
বাংলাদেশের সমুদ্রজয়ে অবদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে গণসংবর্ধনা দেয়ার উদ্দেশ্যে গত বছর, ২৮ এপ্রিল শেরাটন হালের রূপসি বাংলা হোটেলে এক সভার আয়োজন করা হয়।
পত্রিকার কল্যাণে জানা গেল, গণসংবর্ধনা কেমন করে দেওয়া হবে এটা ঠিক করার জন্য ৫০১ জনের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। শেরাটনে এটা নিয়েই ওই সভার আয়োজন। ওই সভায় নাগরিক কমিটির ৫০১ জন সদস্যের মধ্যে একজন, জনাব, আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকও ছিলেন!
আমাদের ভিসি সাহেবের একবারও মনে হয়নি গণসংবর্ধনা দেওয়াটা বা দেওয়ার জন্য ৫০১ জনের কমিটি করাটা কতটা হাস্যকর। আর তারচেয়েও কতটা খেলো হচ্ছে, তাঁর মত অতি উঁচুমাপের একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ভিসির এই কমিটিতে জড়াজড়ি করে থাকা। এই সব কী তাঁর কাজ! পিতাসম তিনি সন্তানতুল্য হাজার-হাজার শিক্ষার্থীর কাছে কী উদাহরণ সৃষ্টি করলেন?

তো, যেটা বলছিলাম, যেমন অভিভাবক-পিতা তেমনই তাঁর সন্তানেরা হবেন এতে অবাক হওয়ার কী আছে (এখানে সবার কথা বলা হচ্ছে না, কেউ-কেউ, যারা-যারা এই সব পিতাকে অন্ধ অনুকরণ করেন, করবেন)। একটা অংশের এভাবেই শুরু...।
এদিকে নির্বাচনের পরেই, আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসামাত্র আমরা জেনে গিয়েছিলাম তিনিই হচ্ছেন ভিসি। বাস্তবে তাই হয়েছিল! আমরা এও জানি, ক্ষমতার পট পরিবর্তন হলে তিনি আর ভিসি থাকবেন না। সেই ঘুরেফিরে আবারও একই কাহিনী হবে- আমরা একটা বৃত্তে আটকে গেছি! নতুন দলের নতুন কোনো ভিসি আসবেন। এ বি সি ডি কেউ একজন। তিনিও ১০০০ সদস্যের কমিটির একজন গর্বিত সদস্য হবেন।

'চেইন অভ কমান্ড' কেমন করে ধসে পড়ে তার আরেক উদাহরণ। বিডি নিউজে দেখলাম, "ব্লগারদের মুক্তির দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অফিস ঘেরাও"।

আমার তো মনে হয় এটা 'ভুল ঘেরাও'। উপাচার্য ইচ্ছা করলেই ব্লগারদের মুক্তি দিতে পারবেন না! আইন সম্বন্ধে যাদের ন্যূনতম ধারণা আছে তারা বিষয়টা আঁচ করতে পারবেন এখন এটা আর উপাচার্যের এখতিয়ারে নেই। যেটা তাঁর এখতিয়ারে ছিল, যেটা তিনি করেননি...!

এখন এটা না-করে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে ঘেরাও করলে সেটাই যথার্থ হত। কারণ সুব্রত অধিকারী শুভ নামের যে ছেলেটিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পুলিশ উঠিয়ে নিয়ে গেছেন, তা কোন আইনের বলে? এরা কী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসকদের অনুমতি নিয়েছিলেন?
আমি ভুল না-করে থাকলে প্রক্টরের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয় এবং তিনি প্রয়োজন বোধ করলে উপাচার্যের সঙ্গে পরামর্শ করবেন। সুব্রতের বেলায় এখানে কোনো নিয়মই মানা হয়নি।
এটা যে কী ভয়ংকর এক ঘটনা এটার তাৎপর্য বোঝার মত ক্ষমতা কী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নাই! পুলিশ আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনুমতি না-নিয়ে একজন ধরে নিয়ে গেছে, কাল কী আদালতের ভেতর থেকে অন্য একজনকে ধরে নিয়ে যাবে? একজন মানুষ হারিয়ে যায় না কারণ অনেকগুলো নিরাপত্তা বলয় কাজ করে। কাউকে বাজার থেকে নিয়ে গেলে বাজারের লোকজনেরা সাক্ষী থাকবে, অন্য কোথাও থেকে ধরে নিয়ে গেলে তার স্বজন অথবা বাড়িওয়ালা, কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ধরে নিয়ে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসক।
খোদা-না-খাস্তা, সুব্রতকে যদি মিডিয়ার সামনে বা আদালতে হাজির না-করা হত তাহলে এই দেশের লোকজনেরা জানতেই পারত না একজন সুব্রত কোথায় হারিয়ে গেল। এমন তো এই দেশে অনেকেই হারিয়ে যান, চিরতরে...।

সুব্রতের বেলায় এই দায় সবটাই উপাচার্যের উপর বর্তায়! তিনি একজন উপাচার্য, একজন পিতার দায়িত্ব পালন করলে এটা নিয়ে মাটি খুঁড়ে ফেলতেন। কিন্তু এটা তিনি করেননি, করতে পারবেন না! কারণটা আমরা জানি, তিনি একজন আওয়ামি লীগের মনোনীত সদস্য...।

খবরের পেছনের খবর।

পূর্বেও আমি লিখেছিলাম, মিডিয়া আমাদেরকে যা খাওয়াবে আমরা তাই খাব, সানন্দেই খাব। আমাদের দেশের ১০টা প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়া মিলে যদি ঠিক করে আজ আমরা দেশবাসীকে ইয়ে খাওয়াব, আমরা অজান্তে তাই খাব।
ছবি ঋণ: যায়যায়দিন
আগুন ধরাবার ভাল একটা ছবি কতটা আবেদন রাখে মিডিয়ার কাছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এবং আমি নিশ্চিত, কিছু ক্ষেত্রে তা ঘটে ফটোসাংবাদিকের ইন্ধনে। অন্তত এমন কিছু  ঘটনার কথা আমাদের জানা আছে। কিন্তু সেইসব খবরের পেছনের গল্পগুলো সামনে আসে না। আসে না সাজানো ফটোসেশনের গল্প!

যেমন আমরা সাংসদ ফারুকের উপর পুলিশের চড়াও হওয়াটা তীব্র নিন্দা জানিয়েছিলাম, আমি নিজেও এ নিয়ে কঠিন এক লেখা লিখেছিলাম। কাজটা অতি কুৎসিত এতে কোনো দ্বিমত নেই। কিন্তু আজ একটা ভিডিও দেখলাম, যেখানে সাংসদ ফারুক, তিনি যে কী উগ্র একজন মানুষ এবং তাঁর আচরণ কোনো প্রকারেই একজন সাংসদ দূরের কথা, বাজারের নেতারও শোভা পায় না! অন্তত একজন সভ্য মানুষের...।

এই সাংসদ ফারুকের মত প্রথম সারির নেতারা যখন হরতালে নিজ হাতে চলন্ত বাসে ঢিল ছোঁড়েন তখন তা আমরা খুব সমীহের দৃষ্টিতে দেখি। মিডিয়ায় ফটাফট ছবি ছাপা হয়, হরতাল সফল বলে দাবীও করা হয়। আমরা ...রা আবার এর নাম দিয়েছি পিকেটিং। এতে কার চোখ গেল, কোন গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে পড়ল এটা জানার আগ্রহ আমাদের নাই। একজন গর্ভবতীর মার গর্ভ নষ্ট হলো এতেও আমাদের খুব-একটা কিছু যায় আসে না। আল্লার মাল আল্লা নিয়ে গেছে। কেবল মার সেই অদেখা শিশুটি নিভে যাওয়া চোখে অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে রয়, এই-ই তাহলে গণতন্ত্র!


পৃথিবীর কোনো সভ্য দেশে চলন্ত গাড়িতে ঢিল ছোঁড়াটা গণতান্ত্রিক অধিকারে পড়ে বলে এমনটা অন্তত আমার জানা নাই। হয়ে থাকলেও সেই দেশটাকে আমি সভ্য বলতে নারাজ- সেটা সুইটজারল্যান্ড হোক বা কঙ্গো!
এটা মিডিয়ার কাছেও বছরের-পর-বছর ধরে খুবই প্রিয় একটা বিষয় ছিল, পিকেটিং। কিন্তু পিকেটিং-এ যখন মিডিয়ারই গাড়ির কাঁচ ভেঙে দেয়া হয় তখন আর ভাল লাগে না। তখন মিডিয়াকর্মীর হাহাকারভরা ফেসবুক স্ট্যাটাসও প্রসব হয়, 'উহারা কী মানুষ'!

গতকাল স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছি একজনের অপক্ষোয়। ওমা, ট্রেন ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে মিডিয়াকর্মীদের ছুটাছুটি শুরু হয়ে গেল। ঘটনা কী! ঘটনা অসামান্য। আজ থেকে রেল ট্রেনে নিরাপত্তা দেবে। ভাল তো, সমস্যা তো নেই।

ছবি ঋণ: প্রথম আলো, ১১ এপ্রিল ২০১৩
তো, এই নিরাপত্তা দেয়া নিয়ে এরা ফটোসেশন করবেন, অধিকাংশ মিডিয়াকর্মীকে খবর দিয়ে এনে জড়ো করা হয়েছে। বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরে ট্রেনের সামনে বুক চিতিয়ে পোজও দেয়া হলো। আমি হতভম্ব। পুরো বিষয়টার মধ্যেই এক ধরনের চালবাজি কাজ করছে এবং মিডিয়া জেনেশুনে এতে কেবল সায়ই দিচ্ছে না, অন্যায়টা উসকেও দিচ্ছে।

আমি অপেক্ষায় ছিলাম, হয়তো পত্রিকায় এই খবরটা ছাপা হবে না বা দায়সারা গোছের একটা খবর হবে। ওয়াল্লা, আজকের প্রথম আলোর প্রথম পাতায় দেখছি (অন্য এক স্টেশনের, চট্টগ্রাম) রেলে পুলিশ ভাইয়াদের নিয়ে বিশাল এক ছবি ছাপা হয়েছে। কালের কন্ঠও ছাপিয়েছে তবে পেছনের পাতায়। কিন্তু ছবির ভঙ্গি একই!


চট্টগ্রামে তোলা ওই ছবিটার ভঙ্গিটাই এমন, এই ছবিটা যে আয়োজন করে তোলা এটা অন্তত একটা বাচ্চারও বুঝতে সমস্যা হওয়ার কথা না। এটা দেখে আমার মনে পড়ে যাচ্ছে আগেকার দিনে মৃত বাঘের উপর পা রেখে ছবি উঠাবার একটা চল ছিল। পরে এলো, স্টুডিওতে টেলিফোন উঠিয়ে টেলিফোন করার পোজ, বা খানিক আধুনিক হলে গিটার নিয়ে। অন্য পত্রিকায়গুলো দেখার সুযোগ হয়নি, ওগুলোতেও এমন ছবি ছাপা হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
এটা যে আয়োজন করে উঠানো একটা ছবি এটা বোঝার জন্য রকেটবিজ্ঞানী হওয়ার প্রয়োজন নাই। অতি হাস্যকর একটা ছবি! আর এই সমস্ত আবর্জনা-মার্কা ছবি রেলপুলিশের নিজেদের বের করা সাময়িকীতে থাকলেই খানিক মানানসই হত। যেগুলো মানুষ বিনে পয়সায়ও নিতে চায় না। চালু দৈনিকগুলোতে কেন!

ছবিটা দেখে আমাদের কী এমনটা মনে হচ্ছে না, ওটা একটা লোকোমোটিভ (প্রথম আলোর ভাষ্য মতে, ট্রেনের ইঞ্জিন) না, আস্ত একটা ট্যাংক। বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরে অস্ত্র হাতে যে দু-জন যে ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছেন, মনে হচ্ছে যুদ্ধের ময়দানে আছেন। ঘোর যুদ্ধ চলছে। চারদিকে কেবল গুলির শব্দ, ঠা-ঠা-ঠা।

এই দুই বাহাদুর দুম-দুম করে গুলি ছুঁড়ছেন। কাকে? ফটোসাংবাদিককে কি না, কে জানে! ভাগ্যিস, ছবিটা প্রথম আলোর কোনো ফটো সাংবাদিককে তোলেননি, নইলে তিনি মরলে আর বাঁচতেন না (কারণ ফটোসাংবাদিকের জায়গায় লেখা আছে, ছবি: প্রথম আলো)। প্রবল আশা, প্রথম আলো আসলে কোনো ফটোসাংবাদিকের নাম না। তাহলে? তাহলে আমরা যে এটাও বুঝে উঠতে পারি না ছবিটা কী এই অফিসের চাপরাসি উঠিয়েছেন নাকি সম্পাদক বাচ্চু ভাই নিজে?

ভাল কথা, আমার জানার খুব আগ্রহ, যেভাবে রেল-পুলিশ দাঁড়িয়ে আছেন, এরা কি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা বা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম এভাবেই দাঁড়িয়ে  থাকবেন? আহা, ভাইজানেরা কী একবারও বসবেন না...

*প্রথম ছবিটা হচ্ছে এমন (যায়যায়দিন ২১.০৬.০৬): ধানমন্ডিতে কয়েকজন পিকেটাররা ঢিল ছোঁড়াছুঁড়ির পর্ব শেষ করে ফটোসেশন হচ্ছে।  

Wednesday, April 10, 2013

টাকার অংকটাই কেবল মূখ্য!

অবগতি: এই মতিউর রহমান সেই মতিউর রহমান না! ইনি পত্রিকার বিখ্যাত একজন সম্পাদক, প্রকাশক। কুখ্যাত মতিউর রহমান না।

প্রথমেই অবগতির প্রসঙ্গে আসি। আমাদের সবার শ্রদ্ধেয় মতি ভাইয়া নামের শেষে একটা কোপ দেন। যেমন ধরুন, আপনার নাম নুরুজ্জামান মানিক। তিনি কোপ দিয়ে মানিক ফেলে দেবেন। নামটা দাঁড়াবে, নুরুজ্জামান।
তো, মতি ভাইয়ার তরিকায় এখন কুখ্যাত মতিউর রহমান নিজামীর 'নিজামী' কোপ দিয়ে ফেলে দিলে ওই মানুষটাও হবেন, মতিউর রহমান।
আপনারা যেন অতি বিখ্যাত সম্পাদক মতিউর রহমানের সঙ্গে কুখ্যাত মতিউর রহমান নিজামীকে গুলিয়ে না-ফেলেন এই কারণেই অবগতি।

মতি ভাইয়ার এই 'কোপাকোপিতে' অন্যদের সমস্যা না-হলেও ব্লগারদের সমস্যা হয়ে যায়। ব্লগার ব্যতীত সবাই লেখালেখি করে এন্তার টাকা কামান। এখন বেচারা ব্লগারদের হয়েছে যত যন্ত্রণা- টাকাও নাই, ন্যূনতম সম্মানও নাই। অথচ মতি ভাইয়ার কোপাকোপির পর নতুন করে নামের আকিকা দিতে গেলে যে ছাগল লাগবে ব্লগারদের সেই ছাগল কেনারও পয়সা কই! অবশ্য মতি ভাইয়ার নিয়ন্ত্রণে ছাগলের স্টক থাকলে সহায়তা হিসাবে দিলে অনেকে বেঁচে যেত। আমি তাঁর কাছে আকুল আবেদন জানাই...। 

যাই হোক, একটা হেল্প চাচ্ছিলাম। 'একটা হেল্প চাচ্ছিলাম' এটা বলতে এখন সংকোচ হয়। কারণ আমার এই সাহায্য চাওয়াটা প্রায় নিয়মিত হয়ে দাঁড়াচ্ছে! অনেকটা এই রকম, ভাই, একটা 'পুইসা' দিবেন? ভিক্ষুক-ভিক্ষুক টাইপ। তথ্যভিক্ষুক।

যে তথ্যটা দরকার। আজ প্রথম আলোর প্রথম পৃষ্ঠায় যে বিজ্ঞাপনটা ছাপিয়েছে, তা এক 'দন্তবটিকার'। বিজ্ঞাপন না-দিলে পত্রিকা চলে না এটা যে আমরা বুঝি না এমন না। ভেতরে প্রয়োজনে ৪ পাতা বিজ্ঞাপন ছাপাক কিন্তু তাই বলে এই অবস্থা! এই কান্ড দেখে আমার কাছে মনে হচ্ছে, কেবল নগ্নগাত্রই অশ্লীল, কে বলে...!
কারো কী জানা আছে এমন একটা বিজ্ঞাপন ছাপাতে মতি ভাইয়াকে কত টাকা দিতে হয়?

না-না, আমি কেবল হিসাবটা করতে চাচ্ছিলাম, এর দ্বিগুণ টাকা দিলেই মতি ভাইয়া পুরো পৃষ্ঠাব্যাপি বিজ্ঞাপন ছাপিয়ে দেবেন। তখন কেবল পত্রিকায় প্রথম আলোর লোগোটাই থাকবে। লোগো থাকুক, এই নিয়ে আর হুজ্জতে যাই না। ৮০০ পয়সা খরচ করে আমরা যে বিজ্ঞাপন পড়তে পারছি এটাও তো কম না!

Tuesday, April 9, 2013

নাস্তিক এবং...


সকাল-সকাল ঘুম ভাঙল, মাইকিং হচ্ছে, 'নাস্তিক ব্লগারদের ফাঁসি চেয়ে আজকের হরতাল সফল করুন'।
১৩ দফা-টফার কথা এখন আর নাই। নাস্তিক ব্লগারই মূখ্য। আমি একটা বিষয় বুঝতে পারছি না, আলেম সমাজের কী নাস্তিক ব্লগার নিয়ে সমস্যা, নাকি কটূক্তিকারী ব্লগার নিয়ে? আমার তো মনে হয়, তাঁরা কটূক্তিকারী ব্লগার বললেই যথার্থ, মানানসই হত।
আমি পূর্বেও লিখেছিলাম, একজন নাস্তিক হলেই তিনি নবীজীকে নিয়ে কটূক্তি করবেন, করবেনই এমনটা কেমন করে বলা যেতে পারে!

আর কেউ নিজেকে নাস্তিক বলে ঘোষণা না-দেয়া পর্যন্ত একজনকে কেমন করে নাস্তিক বলা যায়? নাস্তিক শব্দটা এখন মনে হয় বাদামের খোসার মত হয়ে গেছে! আমরা এও দেখেছি, অতি কুৎসিত জীবনযাপন করেন এমন মানুষও অবলীলায় যাকে খুশি তাকে নাস্তিক বলে দিচ্ছেন!
কে নাস্তিক হবেন, কে হবেন না এটা তো তার নিজস্ব সিদ্ধান্ত- যার দায় তিনিই বহন করবেন। নাস্তিকতা নিয়ে আমার বাড়তি আবেগ, বিরাগ নাই কিন্তু আমার যেটা মনে হচ্ছে, নাস্তিক শব্দটা অহেতুক অন্যায় ভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এ কেবল বিপুল ক্ষমতার অপচয়ই না, এক ধরনের ধৃষ্টতাও।

কেউ এটা বলতেই পারেন, ধর্মঅবমাননাকারী, কটূক্তিকারী ইত্যাদি। সে ভিন্ন প্রসঙ্গ...। 

বাংলা একাডেমীর অভিধান মতে, নাস্তিক শব্দের অর্থ হচ্ছে, 'অবিশ্বাসী, স্রস্টা ও পরকালে বিশ্বাস নেই এমন'। কেউ নিজেকে নাস্তিক-অবিশ্বাসী বলে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না-দেয়া পর্যন্ত অন্য কোনো মানুষ এটা বলেন কেমন করে, কী উপায়ে?

হেফাজতে ইসলামের ঢাকা সভায় মাওলানা সুলতান যউক নদভী বলেন, "ইসলাম ছাড়া আর কোনো ধর্ম আল্লাহর কাছে গ্রহনযোগ্য নয় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টানরা নিজ নিজ ধর্ম নিয়ে বসবাস করতে পারবে। কিন্তু নাস্তিকদের জায়গা নেই।" (প্রথম আলো, ০৭.০৪.১৩)

এটা তিনি কোন আলোকে বললেন কে জানে, তিনি যদি বলতেন, কটূক্তিকারীদের জায়গা নেই তাহলেও নাহয় ধরে নিতাম তিনি তাঁর যুক্তি মতে দাবী জানিয়েছেন।
যাই হোক, কোরান শরীফে আমরা যেটা পাই,
"তোমার প্রতিপালক ইচ্ছা করলে পৃথিবীতে যারা আছে সকলেই বিশ্বাস করত। তাহলে কি তুমি বিশ্বাসী হওয়ার জন্য মানুষের ওপর জবরদস্তি করবে?
(-১০ সুরা ইউনুস: ৯৯)

"তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে খলিফা (প্রতিনিধি) করেছেন। তাই কেউ অবিশ্বাস করলে তার অবিশ্বাসের জন্য সে নিজেই দায়ী হবে।..."
(-৩৫ সুরা ফাতির: ৩৯)

যে অবিশ্বাস করে অবিশ্বাসের জন্য সেই দায়ী।
(-কোরান শরিফ, ৩০ সুরা রুম: ৪৪)

এখন 'হেফাজতে ইসলাম' কী জোর করে অবিশ্বাসীকে বিশ্বাসী করাতে চাচ্ছেন? এবং যারা বিশ্বাসী না তাঁদেরকে নিজের দেশ থেকে বিতাড়িত করবেন? আমাদের নবীজী কী করেছিলেন?

নবীজীর সময় তিনি নাস্তিক-অবিশ্বাসীদের প্রতি কেমন আচরণ করেছিলেন বা নাস্তিক বলা নিয়ে তাঁর কিছু নমুনা আমরা দেখি:
(মুসলমান হয়েও সে মন্দ কাজ করতে পারে, কাফের (অবিশ্বাসী) হয়েও সে ভাল কাজ করতে পারে এবং প্রত্যেকে প্রত্যেকের কাজের ফল ভোগ করবে। এটাই ইসলামের বিধান।)
১. আবদুল্লাহ-বিন-উবাই হযরতের সঙ্গে অনেক মুনাফিকি করেছিলেন। কিন্তু হযরত কোনও দিন তাঁকে কাফের বলেননি বা ঘোষণা দেননি। তিনি মারা গেলে হযরত তাঁর কাফনের জন্য নিজের গায়ের চাদর পাঠিয়ে দেন। হযরত তাঁর জানাজা পড়েন। কেবল তাই নয়, তিনি তাঁর আত্মার কল্যাণে আল্লাহর কাছে প্রার্থনাও করেছিলেন।
(বিশ্বনবী, ২য় খন্ড, পৃ: ১৪৩/ ১৬৫)

২. হযরতের পিতৃব্য আবু তালিব মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কোনো দিন ইসলাম গ্রহন করেননি। কিন্তু হযরত এই কারণে কখনই তাঁকে অশ্রদ্ধা করেননি। মৃত্যুর সময় তাঁর জন্য আল্লাহর কাছে দোয়াও চেয়েছিলেন।
(বিশ্বনবী, ২য় খন্ড, পৃ: ১৪৩)



৩. এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে নাস্তিক (কাফের) বলবে না। বললে, যাকে বলা হলো সে নাস্তিক না-হয়ে থাকলে, যে বলেছে তার দিকে ফিরে আসবে।
-বোখারী শরীফ, কিতাবুল আদাব, ৩৫১২
 

৪. এক মুসলমান অন্য মুসলমানকে  নাস্তিক (কাফের) বললে তাদের যে-কোনো একজন কাফের হয়ে গেল।
-বোখারী শরীফ, কিতাবুল আদাব, ৩৫৪৭


কে নাস্তিক এই ঘোষণায় না-গিয়ে, আমাদের ধর্মীয় শিক্ষকগণ এই দাবী জানালে খুবই যুক্তিসঙ্গত হতো, যে আমরা চাই, কেউই যেন কোনো ধর্ম নিয়েই কটূক্তি না করে...।

Monday, April 8, 2013

আমার দেখা অতি কুৎসিত এক দৃশ্য!

যে বিষয়টা আমাদেরকে সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ, ব্যথিত, ক্রুদ্ধ করেছিল সেটা হচ্ছে এই তিন ব্লগারকে মিডিয়ার সামনে দাঁড় করিয়ে যে ভঙ্গিতে ফটোসেশন করা হয়েছে [১]। এখন আমরা জানতে পারছি, দোষটা আসলে পুরোটাই মিডিয়ার। মিডিয়ার চালাকিটা আমরা বুঝতে পারতাম না যদি না পুলিশ আমাদেরকে জানাত।

মিডিয়া যখন এটা পুলিশের কাছে জানতে চাইল, আদালতের নিষেধ থাকার পরও কেন এভাবে তাঁদেরকে গণমাধ্যমের সামনে হাজির করা হলো?

ইনসাফ

জর্জ বুশ তখন ক্ষমতায়। বিশ্ববাসী একটা সংবাদে চমকে উঠল। বিষয় কী! বিষয় আর কিছু না, পত্রিকার শিরোনাম ছিল এমন, "জর্জ বুশ আজকাল পত্রিকা পড়েন"।
তেমনি এই সংবাদেও আমি চমকে গেছি, আমাদের দেশের আলেম সমাজও আজকাল ব্লগ পড়েন। তাঁরা সরকারকে যে কেবল উদ্যোগ নিতেই বলেছেন এমনটাই না, নিজেরাই ব্লগারদের তালিকা করেছেন। ­এ যে অভূতপূর্ব! অতি আনন্দের সংবাদ। কেন, বলছি।


Thursday, April 4, 2013

আমার নিজেকে যে পরাজিত দেখতে ভাল লাগে না...

New Age-এর প্রথম পাতায় পাশাপাশি যে দুইটা খবরের ছেপেছে তার শিরোনাম এমন:
"3 bloggers arrested, remanded in custody..."
"Defaming of prophet, Islam won't be tolerated: PM" (৩ এপ্রিল, ২০১৩)

আমি অন্য এক লেখায় লিখেছিলাম, দেশ হচ্ছে মা- আর রাষ্ট্র পিতা। মা যেমন অনেক সময় যুক্তিহীন, আবেগী, অবুঝ হন তেমনি দেশও তার সন্তানদের বেলায়। কিন্তু রাষ্ট্র নামের পিতা খানিকটা অন্য রকম। অনেকটাই যুক্তিনির্ভর, আবেগহীন।

অন্য মন্ত্রীরাও

Tuesday, April 2, 2013

ব্লগ-ব্লগিং, একজন রাসেল পারভেজ এবং...

আমি যখন খবরটা শুনি, বিশ্বাস করতে পারিনি। কিন্তু ছবিটা যখন দেখলাম তখন আমার সমস্ত ভুবন এলোমেলো হয়ে গেল।

Monday, April 1, 2013

ওয়েটিং ফর গডো- মৃতদেহের জন্য অপেক্ষা।

এই গ্রহের সবচেয়ে বড়ো কষ্ট- ক্ষুধার কষ্ট। আমার কাছের লোকজনেরা এটা বিলক্ষণ জানেন, যখন আমার পেটে আগুন ধরে যায় তখন  মনে হয়, এই গ্রহ রসাতলে গেলেও আমার কিসসু যায় আসে না।

ঘন্টার-পর-ঘন্টা চলে যাচ্ছে, পেরিয়ে যাচ্ছে দিন। শহীদ 'রুমী স্কোয়াডের' যারা অনশনে অভুক্ত আছেন তাঁদের কথা ভেবে আমার ভাবনা এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। কী কষ্ট-কী কষ্ট! এর শেষ পরিণতি কী! এও কী সম্ভব? জামাত নিষিদ্ধ হবে, এখুনি? আহা, এর পেছনে যে আছে অনেক হিসাব-কিতাব, সবারই। তাহলে